রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাৎসরিক লটারী
    মূল গল্প – শার্লি জ্যাকসনভাবানুবাদ- ঋতম ঘোষাল "Absurdity is what I like most in life, and there's humor in struggling in ignorance. If you saw a man repeatedly running into a wall until he was a bloody pulp, after a while it would make you laugh because ...
  • যৎকিঞ্চিত ...(পর্ব ভুলে গেছি)
    নিজের সঙ্গীত প্রতিভা নিয়ে আমার কোনোকালেই সংশয় ছিলনা। বাথরুম থেকে ক্যান্টিন, সর্বত্রই আমার রাসভনন্দিত কন্ঠের অবাধ বিচরণ ছিল।প্রখর আত্মবিশ্বাসে মৌলিক সুরে আমি রবীন্দ্রসংগীত গাইতুম।তবে যেদিন ইউনিভার্সিটি ক্যান্টিনে বেনারস থেকে আগত আমার সহপাঠীটি আমার গানের ...
  • রেজারেকশান
    রেজারেকশানসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পব্যাঙ্গালুরু এয়ারপোর্টে বাসু এতক্ষণ একা একা বসে অনেককিছুই ভাবছিল। আজ লেনিনের জন্মদিন। একটা সময় ছিল ওঁর নাম শুনলেও উত্তেজনায় গায়ে কাঁটা দিত। আজ অবশ্য চারদিকে শোনা যায় কত লক্ষ মানুষের নাকি নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-১মন্টু ছুটছিল।যেভাবে সাধারণ মানুষ বাস ধরার জন্যে ছোটে তেমনটা নয়।মন্টু ছুটছিল।যেভাবে ফাস্ট বোলার নিমেষে ছুটে আসে সামনে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিপক্ষের পেছনের তিনটে উইকেটকে ফেলে দিতে তেমনটা নয়।মন্টু ছুটছিল।যেভাবে সাইকেল চালানো মেয়েটার হাতে প্রথম ...
  • আমিঃ গুরমেহর কৌর
    দিল্লি ইউনিভার্সিটির শান্তিকামী ছাত্রী গুরমেহর কৌরের ওপর কুৎসিত অনলাইন আক্রমণ চালিয়েছিল বিজেপি এবং এবিভিপির পয়সা দিয়ে পোষা ট্রোলের দল। উপর্যুপরি আঘাতের অভিঘাত সইতে না পেরে গুরমেহর চলে গিয়েছিল সবার চোখের আড়ালে, কিছুদিনের জন্য। আস্তে আস্তে সে স্বাভাবিক ...
  • মৌলবাদের গ্রাসে বাংলাদেশ
    বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার হেফাজতে ইসলামের একের পর এক মৌলবাদি দাবীর সামনে ক্রমাগত আত্মসমর্পণ করছেন। গোটা উপমহাদেশ জুড়ে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক শুধু তীব্রই হচ্ছে না, তা সংখ্যাগুরু আধিপত্যর দিকে এক বিপজ্জনক বাঁক নিচ্ছে। ভারতে মোদি সরকারের রাষ্ট্র সমর্থিত ...
  • নববর্ষ কথা
    খ্রিস্টীয় ৬২২ সালে হজরত মহম্মদ মক্কা থেকে ইয়াথ্রিব বা মদিনায় যান। সেই বছর থেকে শুরু হয় ইসলামিক বর্ষপঞ্জী ‘হিজরি’। হিজরি সন ৯৬৩ থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু করেন মুঘল সম্রাট আকবর। হিজরি ৯৬৩-র মহরম মাসকে ৯৬৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাস ধরে শুরু হয় ‘ তারিখ ই ইলাহি’, যে ...
  • পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা কেমন আছেন ?
    মুসলিমদের কাজকর্মের চালচিত্রপশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের অবস্থা শীর্ষক যে খসড়া রিপোর্টটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে আমরা দেখেছি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে গরিষ্ঠ অংশটি, গোটা জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক দিন মজুর হিসেবে জীবিকা অর্জন করতে বাধ্য হন। ৪৭.০৪ শতাংশ মানুষ ...
  • ধর্মনিরপেক্ষতাঃ তোষণের রাজনীতি?
    না, অরাজনৈতিক বলে কিছু হয় না। নিরপেক্ষ বলে কিছু হয় না। পক্ষ নিতে হবে বললে একটু কেমন কেমন শোনাচ্ছে – এ মা ছি ছি? তাহলে ওর একটা ভদ্র নাম দিন – বলুন অবস্থান। এবারে একটু ভালো লাগছে তো? তাহলে অবস্থান নিতেই হবে কেন, সেই বিষয়ে আলোচনায় আসি।মানুষ হিসাবে আমার ...
  • শত্রু যুদ্ধে জয়লাভ করলেও লড়তে হবে
    মালদা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে পুকুরিয়া থানার অন্তগর্ত গোবরজনা এলাকায় অবস্থিত গোবরজনার প্রাচীন কালী মন্দির। অষ্টাদশ শতকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির বিরুদ্ধে লড়বার সময়ে এক রাতে ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরাণী কালিন্দ্রী নদী দিয়ে নৌকা করে ডাকাতি করতে ...

প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

রৌহিন

গত তিনদিন ধরে ফেসবুকের আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই অমোঘ বানী – অমর্ত্য সেন বলেছেন তালাকের ফলে মাত্র ১.৩% মুসলিম মহিলা বিচ্ছিন্না এবং ক্ষতিগ্রস্ত, অতএব তিন তালাক কোন সমস্যাই নয়। অমর্ত্য বামপন্থী (পড়ুন বামৈস্লামিক) বুদ্ধিজীবি বলেই এমন অসংবেদী কথা বলতে পারেন। এতেই প্রমাণ হল বামেরা কেবল মুসলিম তোষণকেই ধর্মনিরপেক্ষতা বোঝেন। তারা সিউডো সেকুলার। ইত্যাদি, প্রভৃতি।
প্রথমে একটু বিষয়টা বোঝা প্রয়োজন। কতটা সত্যি, কতটা জল, ইত্যাদি। ঘটনা হল প্রাতীচী ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই স্টাডি লিঙ্কটি নেই। সেটা সম্ভবত: প্রাতীচীরই গাফিলতি – ওএবসাইটটি আপডেটেড নয়। অতএব আমাদের ভরসা এ বিষয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট। http://m.timesofindia.com/city/kolkata/Death-not-talaq-does-them-part-
in-Bengal/articleshow/55934400.cms

এই রিপোর্ট ফার্স্ট হ্যান্ড নয় কিন্তু কয়েকটা ব্যপার এখান থেকে বোঝাই যায়। প্রথমত: প্রাতীচী ট্রাস্ট শুধু তার অবজার্ভেশনটুকু প্রকাশ করেছেন – নিরীক্ষার ফলাফল। এটা সমস্যা কি না এ নিয়ে বক্তব্য রাখেননি। রেখে থাকলে সেটা এমনিতেও পদ্ধতিগত ভুল ধরা হত কারণ এই ধরণের সমীক্ষা থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয় – তা করাও হয় না। দ্বিতীয়ত:, অমর্ত্য এ বিষয়ে আদৌ কিছু বলেনি, তার সংস্থা একটা সমীক্ষা প্রকাশ করেছে মাত্র। এটাকে অমর্ত্যর বক্তব্য বলে প্রচার করলে এরপর থেকে দিলীপ ঘোষের কথাও মোদীর বক্তব্য হিসাবে প্রচার পেতে পারে। তৃতীয়ত:, ১.৩% র হিসাব কোন ডেটা সেটে সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সমীক্ষার বাইরেও একটা বিরাট বড় সমাজ আছে। তাতে মুসলমান বলে একটা সম্প্রদায় আছে। গরীব বলেও একটা সম্প্রদায় আছে। তাদের নিয়ে শহুরে বাবুদের, শাইনিং পরহিতাকাঙখী মধ্যবিত্তদের, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগুরু সমাজের বিপুল পরিমাণ মাথাব্যথাও আছে। তিন তালাকের ফলে গরীব মুসলমান নারী কত কষ্টে আছে সে কথা ভেবে কয়েক পুকুর জল এদের চোখ দিয়ে গড়িয়েও গেছে। তা সেই সমাজকে আমরা কে কে দেখেছি কাছ থেকে? আমার নিজের দেখা খুব কম – আমি সমাজসেবক কোনদিন ছিলাম না – বিপ্লবী হবার শৌখিন মজদুরির শখও বহুদিন হল ঘুঁচেছে। তবে আমাদের পৈতৃক বাড়ি, যা এককালে গন্ডগ্রামই ছিল এখন কালের চাকায় চড়ে মফস্বলের দোরগোড়ায় উপনীত, সেখানে আমাদের বাড়ির পরেই শুরু হয় মুসলমান পাড়া। চেনা খুব সহজ। পাকা রাস্তা এবং ইলেক্ট্রিকের পোল, এখনো, আমাদের বাড়িতে এসেই শেষ হয়ে যায়। আগে মুসলমান পল্লী। গরীব মুসলমান পরিবার সব। আর কাজের সূত্রে কিছু গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ফিরে দেখা কিছু পরিবার। তাদের দুয়েকজনের ঘরে পাত পেড়ে খেতেও হয়েছে কখনো সখনো বাধ্য হয়ে। আমার ভদরলোকি উঁচু নাক সিঁটকে রেখে। তা এটুকুই চেনা জানা। তালাকপ্রাপ্তা কারোর সাথে আলাপ হয়নি। নির্যাতিতা অসহায় নারী অনেক দেখেছি। এগুলো তথ্য হিসাবে অকিঞ্চিৎকর।
গুণীজনেরা বলবেন এত সারকাজম লেখার মান নষ্ট করে – এতটার প্রয়োজন ছিল না। আমার মতে ছিল। ছিল কারণ শাইনিং মধ্যবিত্ত এবং হিন্দুত্ববাদীদের এই হঠাৎ করে তালাক দরদী হয়ে ওঠায় আমি নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা আদৌ দেখতে পাচ্ছি না। এটা নেহাৎই একটা রাজনৈতিক বক্তব্য, কারণ তাদের নিজেদের মহিলাদের জন্য এভাবে তাদের প্রাণ কাঁদে না। তাদের ঘরে এখনো “পরম্পরা”র নামে, “ভারতীয় সংস্কৃতি”র নামে নারী নির্যাতনের চাষ। এবং এই অছিলায় তিন তালাকের বিরোধিতা করার নামে একই সাথে একটু ইসলামকে গালিও দেওয়া গেল আবার অভিন্ন দেওয়ানী আইনের হয়ে একটু দালালীও করে নেওয়া গেল। চালনি বলে ছুঁচকে ---
বামপন্থীদের এই প্রসঙ্গে কী অবস্থান, এটা এই মুহুর্তে বেশ জটিল প্রশ্ন। কারণ বামপন্থী কারা, বামপন্থাই বা সঠিক কোনটা, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ধন্ধ অব্যাহত। আমি আমার মত করে বামপন্থার সংজ্ঞা স্থির করেছি এবং সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী আমি নিজেকে বাম বলে মনে করি। অতএব এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অবস্থানটুকু বলব যা আমার ধারণানুযায়ী বামপন্থার বক্তব্য। এই বক্তব্যের দায় অন্য কোন বামপন্থী নাই নিতে পারেন।
১। তিন তালাক প্রথা সমর্থন করিনা। কারণ তা বর্তমান রূপে লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়, নারীবিরোধী। এই প্রথার পরিবর্তন চাই। যে মুসলিম মহিলারা এবং তাঁদের যেসব সহযোগীরা এজন্য মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং ভারতীয় আইন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়ছেন তাঁদের সমর্থন করি।
২। অভিন্ন দেওয়ানি আইন সমর্থন করিনা। কারন ভারতীয় আইন বর্তমান রূপে প্রচুর অসঙ্গতিপূর্ণ এবং নিজেই লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়। এই আইনের আমূল সংস্কার না হওয়া অবধি অভিন্ন দেওয়ানী আইন আসলে হিন্দু আইনই। তা সমদর্শী নয়।
৩। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, হিন্দু আনডিভাইডেড ফ্যামিলি এক্ট, ম্যারেড উওম্যান এক্ট – এগুলির বিলুপ্তি চাই। পরিবর্তে এগুলির নতুন বিকল্প চাই যারা আধুনিক আইন ব্যবস্থা ও জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।
৪। আদিবাসীদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা বা সালিশী সভার বিলুপ্তি চাইনা। কিন্তু সেই সভায় কোন বহিরাগতের কোনরকম প্রভাব থাকা চলবে না। কৌমের বাইরের কারো বিচার সালিশী সভায় চলবে না।
৫। সমাজের সমস্ত স্তরে সব রকম লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের অন্ত চাই। শুধু নারীর ওপর নির্যাতন নয়, সমকামী, রূপান্তরকামী, রূপান্তরিত, উভকামী, হিজড়া, ইত্যাদিদের প্রতি সহমর্মী এবং সমতাপূর্ণ আইন চাই।
এগুলো আমার চাওয়া – আমার মতে বামপন্থী হিসাবে। অবস্থান। সংখ্যাগুরুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। শাইনিং ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে। আমার দেশের মানুষের পক্ষে।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 61 -- 80
Avatar: রোবু

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

এভাবে লিখি।
আমাদের তো একটাই গ্রহ। তার সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে না কেন? সমান বিচার ব্যবস্থা সবার জন্য দাবি করাটা কি অন্যায়?
Avatar: ranjan roy

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

হোল্ড! হোল্ড!
"রাজস্থানে রূপ কানোয়ারকে যখন সহমরনে যেতে বাধ্য করা হয় তখন আমরা কেন হস্তক্ষেপ করতে চাই, ওদের সমস্যা ওরাই সমাধান করুক নাহয়। যেসব পরিবার পণ দিতে বাধ্য করেন আর যাঁরা পণ দিতে বাধ্য হন তাঁরাও নাহয় নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করুক!"
--সিভিলে আর ক্রিমিনালে গুলিয়ে ফেলেচেন।
সিভিল হল ব্যক্তি বনাম ব্যক্তি বা গ্রুপ, আর ক্রিমিনাল হল রাষ্ট্র বনাম ব্যক্তি/দল/গ্রুপ/
ক্রিমিনাল ল সবার জন্যে সমান ভাবে প্রযোজ্য। হিন্দু/মুসলিম/শিখ/ইসাই নির্বিশেষে।
তাই হত্যা/আত্মহত্যার জন্যে উসকানো/ দাঙ্গা/রেপ --সবতেই আশা করব
রাষ্ট্র অ্যাকশন নেবে, ধর্মের নামে কোন ছাড় চলবে না।
সিভিল ল হল সম্পত্তির অধিকার, বিয়ের নিয়ম, ইত্যাদি। আর বিজনেস এর ক্ষেত্রে কন্ট্র্যাক্ট অ্যাক্ট, সেলস এন্ড গুডস অ্যাক্ট, পারট্নার শিপ অ্যাক্ট, ল্যান্ড রেভিনিউ --ইত্যাদি সবার জন্যেই সমভাবে প্রযোজ্য। বরং হিন্দু অভিভক্ত পরিবার কর দিতে বেশ ছাড় পায়, অন্যেরা পায় না।
হিন্দুদের মধ্যেও কি সব সম্প্রদায়ের বিয়ের খুঁটিনাটি একই রকম? আদিবাসী বিয়ে দেখেছেন? মুসলিম বা মারাঠিদের বিয়ে?
সবাইকে বাটা কোম্পানির সাতনম্বর জুতো পরতে হবে কেন?
Avatar: paka chele

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

মুসলমান (প্লেস হোল্ডার, হিন্দু, সাঁওতাল, বৌদ্ধ যা খুশি হতে পারে) হয়ে জন্মের দোষে কোন মেয়েকে (আবার প্লেঅসহোল্ডার) ডিসক্রিমিনেশন সহ্য করতে হবেই বা কেন? আপনারা একেবারে সিপিএমের মত কথা বলেন। আগে বিপ্লব কর, তবে সুখ পাবে। আগে তোমাদের সমাজ বদলাও, তবে ইকুয়াল প্রোটেকশন পাবে।

যদি মানবাধিকারে বিশ্বাস করেন, তাহলে সেটা তো সিলেকটিভ হতে পারে না, এক যদি ওরা মানুষ নয় বলে বিশ্বাস না করেন।
Avatar: রৌহিন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

মন্তব্যগুলো পড়ে মনে হচ্ছে হয় আমি বাংলা লিখতে পারিনা, অথবা এখানে অন্য কোন ভাষায় আলোচনা হচ্ছে। রঞ্জনদা এবং রোবু কথাগুলো বলেই দিয়েছেন - তবু দু-একটি টুকরো টাকরা জবাব (ধরে ধরে জবাব দিতে এবার সত্যিই ক্লান্ত লাগছে) - "সব ভারতীয়ের জন্য এক আইন" - কোন আইন? বর্তমান সিভিল কোড? (সিভিল কোড মানে দেওয়ানী আইন, ফৌজদারী নয়, খুন, রেপ, দাঙ্গা প্রভৃতি তার মধ্যে পড়ে না - আরেকবার হাতুড়ি ঠুকিলাম) এই সিভিল কোড সারা ভারতের বিভিন্ন জনজাতীর জন্য বিভিন্ন ভাবে আলাদা। এই দেওয়ানী বিধিকে অভিন্ন করার দাবী বিভিন্ন মহল থেকে উঠছে যা আমি সমর্থন করিনা (মূল লেখায় বলা আছে), কারণ তা অভিন্ন হবার মতন নিরপেক্ষ তো নয়ই, সম্পূর্ণ বিপ্রতীপে অসংখ্য ত্রুটিমুক্ত। এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়েই বলেছিলাম যে বিভিন্ন আলাদা আইনের (যেমন হিন্দু আনডিভাইডেড ফ্যামিলি, ম্যারেড ওম্যান এক্ট, মুসলিম পার্সোনাল ল, এই ধরণের বিভিন্ন আইনের আমূল সংস্কার চাই তাদের যুগোপযোগী করে তোলার জন্য। এবং এই একই কথার রেশ টেনে বলেছিলাম আদিবাসীদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা (আদিবাসী বিচার আর খাপ পঞ্চায়েত এক নয়, দয়া করে মনে রাখুন) থেকে বেটার কোন আইন যেহেতু আমাদের হাতে নেই, তাই তাদের জবরদস্তি ওই দেওয়ানী আইনের আওতায় আনার কোন যুক্তি দেখি না। কোথাও বলিনি যে আদিবাসী আইন দারুণ ভালো বা তাদের কোন সমস্যা নেই, লিঙ্গবৈষম্য নেই। এ কথাও কোথাও বলা হয়নি যে ডাইনী পোড়ানোও সমর্থন করা হবে।
আর হ্যাঁ, রূপ কানোয়ারকে পোড়ানো পার্টিরা নিজেরাই নিজেদের আইনকে "মূলস্রোতের আইন" হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে এবং সেই সুবাদে সেটিকেই "অভিন্ন দেওয়ানী আইন" হিসাবে চালাতে ব্যতিব্যস্ত।
Avatar: রৌহিন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

*ত্রুটিযুক্ত
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

রঞ্জনদাকে-
"বরং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার..." এটা কেন লিখলেন? পরিষ্কার হল না। মানে বলতে চাচ্ছেন যে দেশটা হিন্দুদের? ওরা-আমরা টাইপ শোনাল সেন্টেন্সটা। ধর্ম নিরপেক্ষ আইন বানাতে এত বিরোধিতা কেন? কার কোন ধর্ম তার ওপর ভিত্তি করে সেই ধর্মের মানুষদের অধিকার তৈরি হচ্ছে- সেটা সমর্থন করেন? ফিউডাল সমাজে ধর্মের ওপর বেস করে আইন হয়। ভারত কি ফিউডাল রাষ্ট্রের পরিকাঠামোয় থেকে যাবে সেটা চান?

রৌহীনকে-
বাংলা বুঝতে পেরেছি। পরিষ্কার করেই লেখা। লেখায় কোন গলদ নেই। দেওয়ানি আইন। সম্পত্তি বিবাহ উত্তরাধিকার এসবের আইন। সেটা সারা দেশবাসীর জন্য অভিন্ন হবে না কেন? ফৌজদারি আইন যদি অভিন্ন হয়, তবে দেওয়ানি আইন আলাদা হবে কেন? পনপ্রথা, তিন তালাক, বহুবিবাহ, ইত্যাদি কি খুব প্রোগ্রেসিভ? তবে তো নরনারীর সমানাধিকারের ব্যাপারেও কিছু বলবার থাকে না। তাই না?

রোবুকে- উঁহু, এক গ্রহ হলেও নানান দেশ। সব দেশের সমান আইন থাকলে তো চুকেই যেত। কিন্তু একই দেশের সব নাগরিকের কেন সমানাধিকার থাকবে না সেটা কিন্তু বোঝা গেল না। যদি কথার খেলা হয় তবে খেলছি। কিন্তু ঠিকঠাক যুক্তি চাই।
Avatar: রোবু

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

দেশটা মারকার কেন?
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং বিবাহ/ডিভোর্সকে ধর্মের আইনের আওতায় রাখার আমি বিরোধী। এতে করে শুধুযে সমধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অসাম্য জারি থাকছে তাই ই নয়, দুজন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও বিভেদ তৈরী হবার সম্ভাবনা।
একজন মুসলমান মেয়ে শুধু জন্মসূত্রে মুসলমান বলেই তার বিয়ের পর তিন তালাকের সম্ভাবনা থাকছে। বা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য কোন ধর্মের মেয়েকেও বিয়ের পর তিন তালাকের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
আন্তর্ধর্ম বিয়ের পরে, যদি একজনের মৃত্যু হয় তবে উত্তরাধিকারের আইন জটিল হয়ে যায়। এক ধর্মের আইন বলছে মৃত্যুর পরে স্পাউস ও সন্তানেরা সম্পত্তি পাবে, অন্য ধর্মে অংশীদারের পরিধি বিশাল, কোথাও পুত্র বেশি পাচ্ছে কন্যা সন্তান কম, কোথাও ভাই তুতোভাই কাকা জেঠা সবাইকে ভাগ দেবার পর বিধবা অল্প একটু পেল কি পেল না। ডিভোর্সের পর নাবালক সন্তানের ওপর কার কতটা অধিকার সেসমস্তও একেক আইনে একেকরকম। বহুবিবাহের কথা তো ছেড়েই দিলাম। হিন্দু ধর্মে আইন করে বহুবিবাহ বন্ধ করা হয়েছিল। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে করা হয় নি। বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে তো সিভিল আইন মেনে নেওয়া হয়েছে বলেই জানি, হয়ত ভুল জানি। কিন্তু বিয়ের জন্য ন্যূনতম বয়ঃসীমা বেঁধে দেওয়াটারও তাহলে বিরোধিতা করা হোক।
সমস্ত ধর্মসমপ্রদায়েরই সিবিল আইন মধ্যযুগের ফিউডাল ব্যবস্থা থেকে এসেছে। কোথাও কোথাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার সংস্কার হয়েছে বেশি, কোথাও কোথাও কম। নারীপুরুষের অধিকারের বৈষম্য রয়ে গেছে কম বেশি, এই বৈষম্য সিবিল কোডে রয়েছে তা দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় এসব কারনে সিবিল ও ক্রিমিনাল আইন একটা অন্যটার সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
পন প্রথা নির্মূল হলে বধূহত্যা বধূনির্যাতন হয়ত কমত। ধর্ষণের ভিক্টিমকে বাধ্য করা হত না ধর্ষককে বিয়ে করে ব্যাপারটা মিটমাট করিয়ে নিতে। লোকে ধর্মান্তরিত হয়ে বহুবিবাহের সুবিধা নিত না। ডিভোর্স দেবার অধিকার দুপক্ষেরই সমান থাকত। সেসব তো এখনো অবধি সেভাবে নেই। একজন মুসলমান নারী তিন তালাক দিতে পারেন কি স্বামীকে?
মুসলমান নারীর একই সঙ্গে একাধিক স্বামী থাকতে পারে কি? এসব আমরা জানি, তবু এগুলোর সংস্কার চাই না।
ধরে নিচ্ছি (সঠিক জানি না, আন্দাজে) এগুলো মোদীর ইনিশিয়েটিভ। তাই গেল গেল রব তোলা হচ্ছে। যদি বামপন্থী কোন প্রধানমন্ত্রী এইরকম ইনিশিয়েটিভ আনতেন তবেও সমানভাবেই গেল গেল রব উঠত? মোদী খুব খারাপ লোক, জেনোসা করেছে, গোরুর মাংস খেলে ঝামেলা করে, টাকার নোট বাতিল এবং ডিমানিটাজেশনের মত আরো অনেক ভুলভাল কাজ করেছে সেসব মেনে নিয়েও, বায়াস হয়ে যদি এই ইনিশিয়েটিভটাকে খারাপ বলি সেটা মনে হয় ঠিক হবে না। এবং অভিন্ন দেওয়ানি আইনে ঠিক কী কী লেখা আছে? সবাইকে হিন্দু দেওয়ানি আইনের আওতায় আনা হবে গোছের কিছু কি? বিয়েতে সপ্তপদী মাস্ট করে দিচ্ছে? পন বাধ্যতামূলক করে দিচ্ছে? বোধয় না। মোদীর ওপর রাগ করে মাটিতে ভাত খাবার মানে হয় না।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

দেশটাতো মারকার হবেই। পাসপোর্ট যেমন। নাগরিকত্ব যেমন। দেশের সীমানা যেমন। বার্থ সার্টিফিকেট যেমন। এগুলো সবকটাই মারকার। দেশের মধ্যে একটা আইডেন্টিটি কার্ড যেমন। সমস্ত দেশেই মারকার থাকে। দেশের মধ্যে খাজনা দিতে হয়। জন্ম মৃত্যু বিবাহ নথিকরণ করতে হয়।
ফিউডাল যুগে মারকার ছিল না। যেটুকু ছিল অস্পষ্ট ছিল। পরের প্রশ্নটা?
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

জেনোসাইড*
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

মূল লেখাটার মধ্যে যে লিংকটা আছে পড়লাম। মাথা মুণ্ডু বোঝা গেল না। ডিভোর্স এবং বৈধব্য এদুটোর স্ট্যাটিসটিক্স আছে। মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় বলছে ডিভোর্স কম। ধরে নিচ্ছি তিন তালাক কম। এ দিয়ে কী বোঝানো হচ্ছে?
যদি দুপক্ষের সমান অধিকার থাকত, তাহলে হয়ত ডিভোর্স রেট বেড়ে যেত। যাদের অধিকার কম তারা তো এমনিতেই কুঁকড়ে আছে ভয়ে, ডিভোর্স দেবার সাহসটুকুও অনেকসময় থাকে না।
Avatar: Atoz

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

এ আলোচনা বেশ জমে উঠেছে। তবে জিলিপি ভাজা আরম্ভ হয়ে গেলেই সব গোল গোল ঘুরতে থাকবে। ঃ-)
Avatar: রোবু

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

মূল রিপোর্ট যে আদৌ কিছু বোঝাচ্ছে না, সেটাই তো লেখাটা বোঝাচ্ছে।
লেখাটায় তিন তালাকের সমর্থন আছে, এরকম-ও মনে হয়নি।
"১। তিন তালাক প্রথা সমর্থন করিনা। কারণ তা বর্তমান রূপে লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়, নারীবিরোধী। এই প্রথার পরিবর্তন চাই। যে মুসলিম মহিলারা এবং তাঁদের যেসব সহযোগীরা এজন্য মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং ভারতীয় আইন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়ছেন তাঁদের সমর্থন করি।"
ফলস বাইনারি তইরি করার চেষ্টা জারি থাকলে আমি খান্ত দিলাম :-)
দেশ কেন সিভিল আইনের ক্ষেত্রে মারকার হবে সেটা বুঝিনি, তাই পরের প্রশ্নে যাচ্ছি না। দেশ মানে একটা সমসত্ব ব্যাপার এ বল্কানাইজড দেশের ক্ষেত্রে সত্যি হলেও আমাদের দেশে নয়।
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সমসত্ত্ব কোথায় লিখলাম রে বাবা?
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

পলিগ্যামি ব্যাপারে কী মত? ওটা সিবিল কোড না ক্রিমিনাল?

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Legal_status_of_polygamy
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আইন সব দেশের সব মানুষের জন্যেই এক হওয়া উচিত। দেশটাকে বাউণ্ডারি মানতে হবে কারণ দেশের বাইরে আইন বলবৎ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। কিছু দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ, তা সে সবার জন্যেই। কিছু দেশে হোমো সেক্স অপরাধ, তা সে সবার জন্যেই। রাজ্যভিত্তিক আলাদা আইন আমেরিকায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে চলে, কিন্তু ভারতে সেটা প্রযোজ্য নয়। সুতরাং দেশটাই বাউণ্ডারি।

সুতরাং আমি মনে করি এক দেশ এক আইন হওয়া উচিত - রেপ, খুন, সতীদাহ, অনার কিলিং, বহুবিবাহ, ট্যাক্স, কালোটাকা সব ক্ষেত্রেই। মুসলমানদের আইনকেও মডিফাই করতে হবে না, হিন্দুদের আইনকেও না, আদিবাসীদের আইনকেও না। যাস্ট সব আইন সবার জন্যে সমান করে দিন। চীনে যখন ওয়ান কাপল ওয়ান চাইল্ড চালু হয়েছিল সেটা সবার জন্যেই ছিল, হিন্দু বৌদ্ধ আলাদা করে নি। এবং সেখানেও দেশটাকেই বাউণ্ডারি মানতে হয়েছিল, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দরকার হলেও ভারতে সে নিয়ম চালু করা সম্ভব ছিল না।
Avatar: রোবু

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

কী হয়েছিল তা নয়, কী হতে পারে বা হলে ভাল হয় তাই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তো!
চীনের উদাহরণটা ভাল বা আদর্শ এটাই বা ভাবা হচ্ছে কেন?
Avatar: ছোটোলোক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

এখানেই লিখে দিচ্ছি চাড্ডিত্ব ব্যাপারে। এর সঙ্গে সিবিল আইনের যোগ বিয়োগ আছে কি না জানিনা। গত মঙ্গলবার সন্ধেবেলা যেদিন বের্লিনে ট্রাক চালিয়ে খুন হল, আমাদের শহরেও একটা মসজিদে গুলি চালিয়ে খুন হল। ঘটনাচক্রে সেই সময়টায় ঐ মসজিদ থেকে একশ কি দেড়শো মিটার দূরত্বে একটা লেবানিজ রেস্টুরেন্টে আমি ডিনার সারছিলাম চেনাঅচেনা মেশানো একটা দলের সঙ্গে। সেই দলে একজন (বা একাধিক) চাড্ডি ছিল বলে সন্দেহ হচ্ছে। এর আগে চাড্ডি দেখিনি সরাসরি। এই প্রথম দেখলাম। একজন ভারতীয় ছেলে। তিন বছর এখানে থেকে কাজ করে গেছে আইবিএমের হয়ে। তারপরে ফিরে গেছল, আবার নতুন করে এসেছে। অনেকগুলো জিনিস লক্ষ্য করতে না চাইলেও চোখে পড়ছিল। এ ছেলে পুরো হায়ারার্খি মেনে লোকজনের সঙ্গে কমিউনিকেট করে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে হোয়াইট মেল কে(দের), তারপরে হোয়াইট ফিমেল, কালার্ড মেল, এইভাবে নামতে নামতে হায়ারার্খির তৃণমূলে আমার স্থান হল। সে আমাকে পাত্তা দিচ্ছিল না, তবে দূর থেকে অবজার্ভ করছিল। খুবই অল্প বয়স তার, ৩২। নিজেই বলছিল। ক্রমাগত ইন্ডিয়ার নিন্দা করে গেল এবং পশ্চিমের জয়গান। "পশ্চিম" বললাম কারন ঐ দলে একজন বাদে আর কেউ সুইস নয়, কিন্তু অধিকাংশই ইয়োরোপিয়ান ছিল। ছেলেটি খুবই ছোটোখাট গড়নের এবং প্রচুর ঢপ দিচ্ছিল ভারতের ব্যাপারে, যেমন বৈদিক যুগে নাকি তিব্বত ভারতের টেরিটোরি ছিল এবং রিসেন্টলি ওদের দখল করে নিয়েছে চায়না, বাস্টার্ড শব্দটা প্রায় সব বাক্যেই ব্যবহার করছিল এবং বলে যাচ্ছিল যে নিজে সে মারোয়াড়ি হলেও সর্বভুক, খুব লিবারাল, এবং একটু পরেই সে হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডারদের প্রসঙ্গ তুলল। ঐ দলে একমাত্র ইন্ডিয়ান হবার কারনে সে ভারতের হিজড়াদের নিয়ে অনেক কিছু বলে গেল। আরেকজন ছিল এই আসরে, একজন কাজাখ মহিলা, তিনি আবার ভারতে বেংগালুরু মুম্বাই কেরালা ইত্যাদি জায়গায় চাকরিসূত্রে ২০১০ থেকে ২০১২ কাটিয়েছেন, তিনিও ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান হিজড়াদের নিয়ে নিজের শোনা গল্প এবং ওপিনিয়ন জানালেন। আমার পাশে এক জার্মান ছেলে বসে ছিল, সে বলল হোমো বা লেসবিয়ানদের সে তবু মোটামুটি মানতে পারি, কিন্তু রূপান্তরকামি? এঃ ইঃ, ভাবলেই গা ঘিনঘিন করে।
সবাই তাতে সায় দিল। ভারতীয়টি অবশ্য কিছু বলেনি তখন। আমি ঐ জারমান ছেলেটির কথায় প্রতিবাদ করতে যেতেই সভাভঙ্গ হয়ে গেল। যে যার বাড়ির দিকে পা বাড়ালাম। ঘটনাচক্রে ছেলেটা ও আমি একই দিকে থাকি। ঐ মসজিদটার কাছেই আমাদের বাস ধরতে যেতে হবে (যদিও খুনের খবরটা তখনো জানি না, কিন্তু রাস্তা অদ্ভুত রকম শান্ত, মাত্র রাত সাড়ে দশ)। আমরা আলাদা পথে একসঙ্গে হাঁটতে শুরু করবার পরেই ছেলেটা আমার সঙ্গে খুব কথা বলতে শুরু করেছে, কতদিন ধরে আছি, এখানে ফ্যামিলি আছে কিনা, বাড়িতে কে কে আছে, ইত্যাদি প্রশ্ন করে যাচ্ছে, এবং আমি দেখছি রাস্তা বড্ড বেশি শান্ত মনে হচ্ছে অন্যদিনের তুলনায়, সেটা বলতেই বলল, আমাকে একটা পাবে নিয়ে চল তোমার সঙ্গে বসে মদ খাব, আমার হাত ঠান্ডা, হাত গরম করতে হবে।
আমরা সবাই শীতের জ্যাকেট পরেছিলাম, সে কিন্তু কেবল কোট চাপিয়ে গেছে, গরম কোট নয়। আমি পাত্তা দিলাম না। বাসে করে কিছুটা যাবার পরে ছেলেটা বকরবকর করতে করতে বারবার জিগ্যেস করছে আমি কোথায় থাকি, তারপর বলছে আমার বাড়ি যাবে, আমার সঙ্গে রাত্রে থাকবে। আমি শুনে ঠিক নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। রাগব না কাঁদব বুঝতে পারিনি। সে আবার বলছে আমার সঙ্গে শোবে। ততক্ষণে তার স্টপ এসে গেছে, সেখান থেকে আরেকটা ট্রাম নিতে হবে তাকে। আমি সেখানে নামব না, আমার রাস্তা বাঁদিকে বেঁকে গেছে ঐ বাসেই আরো চার পাঁচ স্টপ গিয়ে ফের বদলাতে হবে। সেই ছেলে ঐ স্টপে নামবে না, বলছে আমার সঙ্গে যাবে। একবার মনে হল টেনে চড় মারি একটা। জোর গলায় বললাম, নেমে যা। তখন নেমে গেল।
এই হচ্ছে চাড্ডির গল্প। বোম্বের ছেলে।
Avatar: Abhyu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

"কী হতে পারে বা হলে ভাল হয় তাই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তো!"

সারা দেশের সব মানুষের জন্যে এক আইন হলে ভালো হয়, সেটাই তো আমি বলছি। ভারতের আইন অনুসারে আজ মুসলিম হয়ে গিয়ে আমি তিনটে বিয়ে করতে পারি (সম্ভবতঃ), সেটা ভালো নয় বলেই আমি মনে করি।

"চীনের উদাহরণটা ভাল বা আদর্শ এটাই বা ভাবা হচ্ছে কেন?"

ভালো বা আদর্শ সেটা ঠিক মীন করতে চাই নি, দেশ কেন সারা পৃথিবী জুড়ে এক আইন নয় কেন তুই বলছিলি না, সেই সূত্রে লিখলাম যে ম্যাক্সিমাম যেখানে আইন ইম্প্লিমেন্ট করা সম্ভব সেটা হল রাষ্ট্র।
Avatar: b

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আমি দুজন হিন্দু বাঙালীকে চিনি যাঁদের দুটো বিয়ে, এবং উভয় স্ত্রী বর্তমান। দুজনের ক্ষেত্রেই দুই বোন। এনাদের মধ্যে একজন আমার মাস্টারমশাই ছিলেন, সরকারী কর্মচারী এবং সম্প্রতি সরকারী ইস্কুলের হেডমাস্টার হয়ে রিটায়ার করেছেন (খোলাপাতায় নাম লিখলাম না)। অপর একজন দিল্লির ব্যবসায়ী।

বহুবিবাহ ইল্লিগ্যাল হলে এনাদের জেল হয় নি কেন? কেউ অভিযোগ করে নি বলে?





মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 61 -- 80


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন