রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লড়াকু ভীমরতি
    লড়াকু ভীমরতিঝুমা সমাদ্দার- কেমন লাগে ? এইবার ? পই পই করে বলেছিলুম , "ওরে ,আমায় জ্বালাসনি , আমায় জ্বালাসনি । রেগে গেলে কিন্তু আমি বাপের কুপুত্তুর ।" তা না, তেনারা নাকি আমায় টেষ্ট করে দেখবেন , আমি তাঁদের গাইদের গর্ভিনী করবার উপযুক্ত কি না !! হুঁঃ !! কী আমার ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # চার
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • ভূমিকম্পে বেরিয়ে আসে অজগর সাপ
    “আপনি কি স্বাধীনতা কী বুঝেন?”ভদ্রলোক আমার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটি করলেন।আমি বললাম, “বুঝব না কেন? স্বাধীনতা হচ্ছে নিজের মত থাকার বা কিছু করতে পারার সুযোগ।”ভদ্রলোক সামান্য হেসে ফেললেন। তিনি তার মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা কাঁচাপাকা দাড়ি হালকা চুলকাতে চুলকাতে ...
  • বিজাতীয় ভীমরতি
    বিজাতীয় ভীমরতি ( বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাবু' অবলম্বনে )ঝুমা সমাদ্দারজনমেজয় কহিলেন,হে মহর্ষে! আপনি কহিলেন যে, কলিযুগে রিয়্যালিটি শো নামে একপ্রকার জয়ঢাক পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন। তাঁহারা কি প্রকার জয়ঢাক হইবেন এবং পৃথিবীতে আবির্ভুত হইয়া কি কার্য্য ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # তিন
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • সেনাবাহিনী ও মানবাধিকার
    বেশ কিছুদিন আগে গুরুচন্ডা৯ সাইটের একটা লেখার সূত্রে আলোচনা হচ্ছিল, সেনাবাহিনীর অত্যাচার নিয়ে আমরা এত কিছু বলি, কিন্তু তারা নিজেরা কী পরিবেশে থাকেন, কী সমস্যার সামনে দাঁড়ান, তা কখনোই তেমনভাবে আলোচিত হয় না। সেনাবাহিনীতে (পুলিশ, বি এস এফ বা বিভিন্ন আধা ...
  • আমার আকাশ
    আমার আকাশঝুমা সমাদ্দারএক টুকরো আকাশ ছিল আমার । দূ..উ..রে , ওই যে মাঠ…. মাঠের ও পারে সেই যে গাছটা …. কি যেন নাম ছিল সে গাছটার ….কি জানি…. কোনো নাম ছিল কি গাছটার ? কোনোদিন জানতাম কি তার নাম ? ….না, জানতাম না বোধহয় । জানতে চাই-ই নি কোনো দিন…. ওটা তো আমার গাছ ...
  • জিওরদানো ব্রুনো—সত্যনিষ্ঠার এক অনির্বাণ জাগপ্রদীপ # দুই
    [আগামি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বিজ্ঞান শহিদ জিওরদনো ব্রুনোর ৪১৭-তম মৃত্যু বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ব্রুনো সম্পর্কে আমার একটি লেখা এখানে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। যাঁরা ওই দিন বা ওই সময়ে ব্রুনো চর্চা করবেন, তাঁদের কাছে আনুষঙ্গিক এই সব তথ্য থাকা দরকার। যাঁরা ...
  • অ-খাদ্য ভীমরতি
    অ-খাদ্য ভীমরতিঝুমা সমাদ্দারযত্ত আদিখ্যেতা আর ন্যাকামো । যেন চা দিয়ে পরোটা খেতে এতই খারাপ , হোলোই বা তা একখান পরোটা । আমাদের গরিব বেচারা দেশ , কতো কতো লোকের বলে এ-ই জোটে না । কি চাই ? না বাটার, জ্যাম, আচার ! আহা ! আল্হাদে মরে যাই । আবার দুপুরে ডাল-রুটি ...
  • কারফিউ
    [এক-এগারোর (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) পর সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্ত্ববধায়ক সরকার সারাদেশে বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করেছিল। এর দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছিল সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র, দিনমজুরসহ সাধারণ জনতাকে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে সে সময়ের একটি ব্লগ নোট। ...

প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

রৌহিন

গত তিনদিন ধরে ফেসবুকের আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই অমোঘ বানী – অমর্ত্য সেন বলেছেন তালাকের ফলে মাত্র ১.৩% মুসলিম মহিলা বিচ্ছিন্না এবং ক্ষতিগ্রস্ত, অতএব তিন তালাক কোন সমস্যাই নয়। অমর্ত্য বামপন্থী (পড়ুন বামৈস্লামিক) বুদ্ধিজীবি বলেই এমন অসংবেদী কথা বলতে পারেন। এতেই প্রমাণ হল বামেরা কেবল মুসলিম তোষণকেই ধর্মনিরপেক্ষতা বোঝেন। তারা সিউডো সেকুলার। ইত্যাদি, প্রভৃতি।
প্রথমে একটু বিষয়টা বোঝা প্রয়োজন। কতটা সত্যি, কতটা জল, ইত্যাদি। ঘটনা হল প্রাতীচী ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই স্টাডি লিঙ্কটি নেই। সেটা সম্ভবত: প্রাতীচীরই গাফিলতি – ওএবসাইটটি আপডেটেড নয়। অতএব আমাদের ভরসা এ বিষয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট। http://m.timesofindia.com/city/kolkata/Death-not-talaq-does-them-part-
in-Bengal/articleshow/55934400.cms

এই রিপোর্ট ফার্স্ট হ্যান্ড নয় কিন্তু কয়েকটা ব্যপার এখান থেকে বোঝাই যায়। প্রথমত: প্রাতীচী ট্রাস্ট শুধু তার অবজার্ভেশনটুকু প্রকাশ করেছেন – নিরীক্ষার ফলাফল। এটা সমস্যা কি না এ নিয়ে বক্তব্য রাখেননি। রেখে থাকলে সেটা এমনিতেও পদ্ধতিগত ভুল ধরা হত কারণ এই ধরণের সমীক্ষা থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয় – তা করাও হয় না। দ্বিতীয়ত:, অমর্ত্য এ বিষয়ে আদৌ কিছু বলেনি, তার সংস্থা একটা সমীক্ষা প্রকাশ করেছে মাত্র। এটাকে অমর্ত্যর বক্তব্য বলে প্রচার করলে এরপর থেকে দিলীপ ঘোষের কথাও মোদীর বক্তব্য হিসাবে প্রচার পেতে পারে। তৃতীয়ত:, ১.৩% র হিসাব কোন ডেটা সেটে সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সমীক্ষার বাইরেও একটা বিরাট বড় সমাজ আছে। তাতে মুসলমান বলে একটা সম্প্রদায় আছে। গরীব বলেও একটা সম্প্রদায় আছে। তাদের নিয়ে শহুরে বাবুদের, শাইনিং পরহিতাকাঙখী মধ্যবিত্তদের, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগুরু সমাজের বিপুল পরিমাণ মাথাব্যথাও আছে। তিন তালাকের ফলে গরীব মুসলমান নারী কত কষ্টে আছে সে কথা ভেবে কয়েক পুকুর জল এদের চোখ দিয়ে গড়িয়েও গেছে। তা সেই সমাজকে আমরা কে কে দেখেছি কাছ থেকে? আমার নিজের দেখা খুব কম – আমি সমাজসেবক কোনদিন ছিলাম না – বিপ্লবী হবার শৌখিন মজদুরির শখও বহুদিন হল ঘুঁচেছে। তবে আমাদের পৈতৃক বাড়ি, যা এককালে গন্ডগ্রামই ছিল এখন কালের চাকায় চড়ে মফস্বলের দোরগোড়ায় উপনীত, সেখানে আমাদের বাড়ির পরেই শুরু হয় মুসলমান পাড়া। চেনা খুব সহজ। পাকা রাস্তা এবং ইলেক্ট্রিকের পোল, এখনো, আমাদের বাড়িতে এসেই শেষ হয়ে যায়। আগে মুসলমান পল্লী। গরীব মুসলমান পরিবার সব। আর কাজের সূত্রে কিছু গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ফিরে দেখা কিছু পরিবার। তাদের দুয়েকজনের ঘরে পাত পেড়ে খেতেও হয়েছে কখনো সখনো বাধ্য হয়ে। আমার ভদরলোকি উঁচু নাক সিঁটকে রেখে। তা এটুকুই চেনা জানা। তালাকপ্রাপ্তা কারোর সাথে আলাপ হয়নি। নির্যাতিতা অসহায় নারী অনেক দেখেছি। এগুলো তথ্য হিসাবে অকিঞ্চিৎকর।
গুণীজনেরা বলবেন এত সারকাজম লেখার মান নষ্ট করে – এতটার প্রয়োজন ছিল না। আমার মতে ছিল। ছিল কারণ শাইনিং মধ্যবিত্ত এবং হিন্দুত্ববাদীদের এই হঠাৎ করে তালাক দরদী হয়ে ওঠায় আমি নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা আদৌ দেখতে পাচ্ছি না। এটা নেহাৎই একটা রাজনৈতিক বক্তব্য, কারণ তাদের নিজেদের মহিলাদের জন্য এভাবে তাদের প্রাণ কাঁদে না। তাদের ঘরে এখনো “পরম্পরা”র নামে, “ভারতীয় সংস্কৃতি”র নামে নারী নির্যাতনের চাষ। এবং এই অছিলায় তিন তালাকের বিরোধিতা করার নামে একই সাথে একটু ইসলামকে গালিও দেওয়া গেল আবার অভিন্ন দেওয়ানী আইনের হয়ে একটু দালালীও করে নেওয়া গেল। চালনি বলে ছুঁচকে ---
বামপন্থীদের এই প্রসঙ্গে কী অবস্থান, এটা এই মুহুর্তে বেশ জটিল প্রশ্ন। কারণ বামপন্থী কারা, বামপন্থাই বা সঠিক কোনটা, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ধন্ধ অব্যাহত। আমি আমার মত করে বামপন্থার সংজ্ঞা স্থির করেছি এবং সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী আমি নিজেকে বাম বলে মনে করি। অতএব এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অবস্থানটুকু বলব যা আমার ধারণানুযায়ী বামপন্থার বক্তব্য। এই বক্তব্যের দায় অন্য কোন বামপন্থী নাই নিতে পারেন।
১। তিন তালাক প্রথা সমর্থন করিনা। কারণ তা বর্তমান রূপে লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়, নারীবিরোধী। এই প্রথার পরিবর্তন চাই। যে মুসলিম মহিলারা এবং তাঁদের যেসব সহযোগীরা এজন্য মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং ভারতীয় আইন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়ছেন তাঁদের সমর্থন করি।
২। অভিন্ন দেওয়ানি আইন সমর্থন করিনা। কারন ভারতীয় আইন বর্তমান রূপে প্রচুর অসঙ্গতিপূর্ণ এবং নিজেই লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়। এই আইনের আমূল সংস্কার না হওয়া অবধি অভিন্ন দেওয়ানী আইন আসলে হিন্দু আইনই। তা সমদর্শী নয়।
৩। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, হিন্দু আনডিভাইডেড ফ্যামিলি এক্ট, ম্যারেড উওম্যান এক্ট – এগুলির বিলুপ্তি চাই। পরিবর্তে এগুলির নতুন বিকল্প চাই যারা আধুনিক আইন ব্যবস্থা ও জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।
৪। আদিবাসীদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা বা সালিশী সভার বিলুপ্তি চাইনা। কিন্তু সেই সভায় কোন বহিরাগতের কোনরকম প্রভাব থাকা চলবে না। কৌমের বাইরের কারো বিচার সালিশী সভায় চলবে না।
৫। সমাজের সমস্ত স্তরে সব রকম লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের অন্ত চাই। শুধু নারীর ওপর নির্যাতন নয়, সমকামী, রূপান্তরকামী, রূপান্তরিত, উভকামী, হিজড়া, ইত্যাদিদের প্রতি সহমর্মী এবং সমতাপূর্ণ আইন চাই।
এগুলো আমার চাওয়া – আমার মতে বামপন্থী হিসাবে। অবস্থান। সংখ্যাগুরুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। শাইনিং ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে। আমার দেশের মানুষের পক্ষে।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: অর্ঘ্য চৌধুরী

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আমাদের একটা সংবিধান আছে। মৌলিক অধিকারও আছে। আবার তা নিশ্চিত করতে অনুচ্ছেদ ৩২ ও আছে। প্রশ্ন হল কটা মানুষ তা জানে!!
দুঃখিত, প্রশঙ্গান্তরে যাওয়ার জন্য।
Avatar: সৌভিক

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আদিবাসীদের আইন/বিচার আর রাষ্ট্রের আইন/বিচার পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়ালে, বিশেষ করে বিচারের ভিক্টিম রাষ্ট্রীয় আইনের সাহায্য চাইলে তার মীমাংসার জন্য মিলিত বেঞ্চ তৈরি হতে পারে।
Avatar: রৌহিন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

প্রসঙ্গান্তর নয় এটা যথেষ্টই প্রাসঙ্গিক।
Avatar: গৌতম

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সহমত
"সংখ্যাগুরুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। শাইনিং ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে। আমার দেশের মানুষের পক্ষে।"
Avatar: ranjan roy

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

অনেকটা সহমত, একই কারণে।
কিন্তু আদিবাসীদের (গাওতা ইত্যাদি) নিজস্ব কৌমী সভাগুলো এতবেশি পিতৃতান্ত্রিক আর শাস্তিগুলো সেই খপ পঞ্চায়েতের মত।
কাজেই এগুলোর বিলুপ্তি চাই, আইনের শাসন চাই। এর জন্যে চাই তৃণমূল স্তরে ধৈর্য ধরে কাজ, বোঝানো, প্রচার, লিগ্যাল লিটারেসি ক্যাম্পেন, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি। যদিও এত সহজ নয়।
Avatar: somen basu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আরে, কাল তন্নতন্ন করে খুঁজলাম জানেন। কোথায় পাওয়া যাবে অরিজিনাল রিপোর্টটা। আপনাকেও ট্যাগ করেছিলাম। পেলাম না। মনে হয়, রিপোর্টটার কোনও ওয়েব ভার্সনই বেরোয়নি। যাই হোক, এই খোঁজাখুঁজিতে যে জিনিসগুলো জানলাম...
১. রিপোর্টটা আদৌ প্রতীচীর নয়। প্রতীচী আছে সার্ভেতে। স্ন্যাপ এবং আরও একটা এনজিওর সাথে যৌথভাবে।
২। ২০১৪ থেকে এটা নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়। শঙ্খ ঘোষ এবং অমর্ত্য সেনের উপস্থিতিতে প্রাথমিক খসড়া প্রকাশিত হয়েছিল। এবং সে খবর সমস্ত বাংলা, ইংরাজি লিডিং কাগজে বেরিয়েছিল ইনক্লুডিং টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
৩। সেই সব রিপোর্টে কোথাও তিনতালাক বা বৈধব্য নিয়ে কোনওরকম কথাবার্তা নেই।
৪। বিষয়টাই শুরু হল টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এই রিসেন্ট রিপোর্টটা থেকে। যার হেডিংটা ওরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত করে দিল।

যাই হোক, লেখাটা দারুণ লিখেছেন, এবং সম্পূর্ণ সহমতও বটে। কিছু লাইন কোট করতে পারি, যদি এ নিয়ে কিছু লিখি তাহলে। আগাম অনুমতি চাইলাম। যদি আপত্তি থাকে বলবেন...
Avatar: রৌহিন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সোমেনবাবু অবশ্যই। আমার কোন শর্ত নেই।
আদিবাসী সমাজ বিষয়ক ব্যখ্যা পরে লিখছি
Avatar: রৌহিন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সোমেনবাবু অবশ্যই। আমার কোন শর্ত নেই।
আদিবাসী সমাজ বিষয়ক ব্যখ্যা পরে লিখছি
Avatar: Prativa Sarker

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সত্যি মুসলিম রমণীদের এতো হিতাকাঙ্ক্ষীরা মোদী শিবিরে রয়েছেন দেখে ব্যাপারটা আসলে কি আগেই বোঝা যাচ্ছিল।
প্রত্যেকটি পয়েন্টে সহমত।
Avatar: Prativa Sarker

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

শুধু আদিবাসী সমাজ ও তার আইন নিয়ে লেখকের বক্তব্য আর একটু পরিষ্কার হওয়া দরকার।
Avatar: Atoz

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

৪ নং টা একটু অসঙ্গত ঠেকল। আদিবাসীদের ক্ষেত্রে সালিশী সভায় বিচারের অধিকার থাকলে তো দেশের অন্য নাগরিকদের সঙ্গে তফাৎ হয়ে গেল ।
Avatar: অঞ্জলি দাশ

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

4 নং কে সরিয়ে রেখে দারুনভাবে সহমত ....ধন্যবাদ যথার্থ যুক্তিসঙ্গত মতামতটুকু স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করার জন্যে
Avatar: শান্তনু

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আমার মতে বাঙালি হিন্দু মধ্যবিত্ত যে বিচার ব্যাবস্থার মধ্যে আছে সেটাও তার নিজস্ব নয় । পদ্ধতিগত দিক থেকে অনেকাংশে অ্যাংলো স্যাক্সন । আমরা কম বেশী তার জটিলতাকে স্বীকার করে নিয়েছি অনেকাংশে আধুনিক এবং যুক্তিপূর্ণ এবং যুক্তিগ্রাহ্য বলেই । এই বিচার ব্যাবস্থার পেছনে একটা নৈতিক বা আদর্শগত দিক আছে যা মানবতাবাদের সাথে সাযুজ্যপূর্ণ । এক্ষেত্রে যদি প্রশ্ন করা হয় কজন হিন্দু বাঙালি তার নিজস্ব গ্রামীণ মনুবাদী ব্রাহ্মণ্যবাদী বিচারের দিকে ফিরে যেতে চান? কেউই চাইবেননা । সেটি নিজস্ব হলেও চাইবেননা ।

আদিবাসীদের বিচার ব্যাবস্থার পেছনে সামাজিক অখণ্ডতা বা স্বাতন্ত্র রক্ষার একটা আদর্শ কাজ করে । সেটা সবক্ষেত্রে আধুনিক ব্যাক্তিস্বাতন্ত্রর ধারনাকে ইরোড করেই । ব্যাক্তির ওপরে একটা নিরঙ্কুশ সামাজিক আধিপত্য কায়েমের প্রচেষ্টা আছে বলেই জানি । যেটুকু দেখেছি বা শুনেছি । এটা কতটা সমর্থন করা যায় ভেবে দেখতে হবে ।
Avatar: pi

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

সোমেনবাবু , রিপোর্টটা দিলীপদা গ্রুপে দিয়েছেন দেখুন।
Avatar: রৌহিন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আদিবাসী বিষয়ক চতুর্থ পয়েন্টটা নিয়ে কিছু ব্যখ্যা প্রয়োজন - এখানে এবং ফেসবুকে অনেকেই এই পয়েন্টটায় একমত হননি।
পয়েন্টটা ছিল, "আদিবাসীদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা বা সালিশী সভার বিলুপ্তি চাইনা। কিন্তু সেই সভায় কোন বহিরাগতের কোনরকম প্রভাব থাকা চলবে না। কৌমের বাইরের কারো বিচার সালিশী সভায় চলবে না।" যে প্রশ্নগুলো বিভিন্ন জায়গায় উঠেছে মূলতঃ - ১। সালিশী সভা বা খাপ পঞ্চায়েতের বিচার অনেকসময়েই গ্রহনযোগ্য হয় না। বরং তাতে জোর করে চাপিয়ে দেবার সুযোগ থাকে। সেটা মেনে নেওয়া হবে কেন? ২। সালিশী বিচারব্যবস্থা বহুলাংশে পিতৃতান্ত্রিক - তাকে মেনে নেওয়া মানে তো আদিবাসী সমাজকে পিছিয়ে দেওয়া ৩। বহিরাগত কারা? কেউ যদি কোন আদিবাসীকে বিবাহ করেন, বা কারো মা বা বাবার মধ্যে একজন আদিবাসী হলে তিনি কৌমভুক্ত বলে গণ্য হবেন কি না, এগুলো কিভাবে স্থির হবে? ৪। কেউ যদি সালিশী সভার বিচার না মানতে চান তার ক্ষেত্রে কী হবে?
আলাদা করে উত্তর দেওয়া যায় - তাতে শুধু শুধু লেখার কলেবর বড় হবে। আমার উত্তর মূলতঃ একমুখী। আদিবাসী সমাজের ভালো-মন্দের বোধ, সঠিক বেঠিকের বিচার আমাদের চেয়ে আলাদা। আমরা আমাদের শিক্ষার ভিত্তিতে মূল্যবোধের একটা মাপকাঠি তৈরী করে নিয়েছি - সেই সংস্কৃত মাপকাঠিকেই চরম ধরে আমরা ভালো মন্দের বিচার করছি। ভারতের বেশ কিছু জনগোষ্ঠীর বিচার এই মাপকাঠির সাথে মেলেনা - তারা তাদের মত করে ভালো-মন্দ বিচার করেন। আমরা কী মনে করলাম সেটা এক্ষেত্রে ইম্পর্ট্যানটই নয়। এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে শুনেছি (দেখেছি বলাটা বাড়াবাড়ি হবে) আদিবাসী সমাজ আদৌ পিতৃতান্ত্রিক নয় - উত্তরপ্রদেশের খাপ পঞ্চায়েতের সঙ্গে বস্তারের গোন্ড বা মুরিয়া অথবা ঝাড়খন্ডের সাঁওতালদের গ্রামসভার চরিত্রে অনেক তফাৎ। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় এটুকু বলতে পারি, এই মুসলিম সমাজে তিন তালাকের প্রশ্নে দেখেছি, অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষটি আর্থিকভাবে মেয়েটির পরিবারের তুলনায় পিছিয়ে থাকলে মেয়ের পরিবার তাদের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তালাকের ক্ষতিপুরণ হিসাবে এমন দাবী করেন যে তালাক আর কার্যকর হয়ে ওঠে না। এটা আদিবাসীদের ক্ষেত্রেও অনেকাংশে সত্যি। এবং কেউ যদি সেই গ্রামসভার সালিশী না মেনে আইনের দ্বারস্থ হন তো তিনি সেই আইনের আওতায় চলে আসবেন - আইন তো তাদেরও। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে ইগো ত্যাগ করতে হবে বই কি। কাদের বহিরাগত ভাববেন সেটাও সহজেই বলা যায় - সেই সমাজ যাদের নিজ সমাজভুক্ত ভাবেন তারা বাদে সবাই বহিরাগত। কে কতটা আদিবাসী ইত্যাদি ব্যতিরেকে।
আরেকটা জরুরী কথা বলার বাকি। আদিবাসীদের জীবন অবশিষ্ট ভারতের জীবন যাপনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের কোনটা ভালো কোনটা মন্দ, তা ঠিক করবেন তাদের নিজেদের মানুষই - আমরা যেমন রাষ্ট্র হিসাবে তা জোর করে চাপিয়ে দিতে পারিনা, তেমনি সমাজসেবী বা বিপ্লবের অগ্রদূত হয়েও না। আমরা আলো এনে দেব তবে তারা উন্নততর সমাজ হবে - এই অহঙ্কার ত্যক্ত হওয়া প্রয়োজন।
Avatar: মাধব

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

এগুলো তো খাপ পনচায়েতের জন্যও খাটে। খাপ সমাজ মনে করে বাকি ভারতের থেকে তাদের জীবন আলাদা। তার গোমাতাকে পুজো করে, মেয়েদের সহমরনে বিশ্বাস করে। তাহলে আদিবাসীদের ওপর রাষ্ট্র যদি জোর করে ভালোমন্দ চাপিয়ে দিতে না পারে তাহলে খাপের ওঅপ কেন এতো চাপাচাপি? হিন্দুরাই বা কি দোষ করলো? যে হিন্দুরা সহমরন প্রথা সমর্থন করেন কেন তাদের ওপর রাষ্ট্র আর আমরা কোনটা ভালো কোনটা মন্দ চাপিয়ে দেব?
Avatar: somen basu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

একদমই সঠিক রৌহিন। আমারও তাই মনে হচ্ছে, আদিবাসীদের কৌমের ধারণাকে বোধহয় খাপ পঞ্চায়েত ইত্যাদির সাথে গুলিয়ে ফেলে সমস্যা হচ্ছে। সাঁওতালদের মধ্যে নারীদের সম্মান প্রবলভাবে স্বীকৃত। এখনও সেখানে প্রতীকী কন্যাপণ চালু দেখেছি। হ্যাঁ, অনেক জায়গায় দিকুদের প্রভাবে সাইকেল জাতীয় কিছু বরপণের প্রচলন হলেও সেটা হয় সম্পূর্ণ পাত্রীপক্ষের সদিচ্ছায় এবং অলিখিতভাবে। সমাজ সেটা অনুমোদন করে না প্রকাশ্যে। যদি পাত্রীপক্ষ মাঝিয়ারাম বা দশের কাছে অভিযোগ করে যে এর জন্য তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে, তক্ষুণি সেই ছেলের পরিবার সমাজ থেকে বহিষ্কৃত হবে। এসব ব্যাপারে আমাদের তথাকথিত সভ্য, সংস্কৃত, শিক্ষিত সমাজ ওঁদের কাছে হাঁটুগেড়ে শিখতে পারে। হ্যাঁ, ডাইনিপ্রথার মতো কিছু কুসংস্কার সেখানে আছে। কিন্তু এছাড়া সামাজিক বিচারে তাঁদের কোনওভাবেই রিগ্রেসিভ হতে দেখিনি।
Avatar: somen basu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

একটাই কারণে মাধব। খাপটা রিগ্রেসিভ, আদিবাসীরা তা নয়, তাই।
Avatar: somen basu

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

আর পাই (জানি না উচ্চারণটা ঠিকঠাক হল কিনা) কাল ইপ্সিতা ট্যাগ করাতে দিলীপবাবু যে লিংকটা দিয়েছিলেন, ওটা তো রিপোর্ট নয়। রিপোর্টটার ওপরে একটা আর্টিকল, ইসলামিক নিউজে বেরনো। ওটা ছাড়া আর কিছু দিয়েছেন কি?
Avatar: রৌহিন

Re: প্রসঙ্গ তিন তালাক: প্রতীচী ট্রাস্ট: অমর্ত্য সেন: এবং চাড্ডিত্ব

"তাহলে আদিবাসীদের ওপর রাষ্ট্র যদি জোর করে ভালোমন্দ চাপিয়ে দিতে না পারে তাহলে খাপের ওঅপ কেন এতো চাপাচাপি? হিন্দুরাই বা কি দোষ করলো? যে হিন্দুরা সহমরন প্রথা সমর্থন করেন কেন তাদের ওপর রাষ্ট্র আর আমরা কোনটা ভালো কোনটা মন্দ চাপিয়ে দেব?" - চাপিয়ে কেউ কারো ওপর কিছু দিতে পারে এটা মনে করিনা। গোমাতা পূজা বা সহমরণ সমর্থন করা হিন্দুরা আদিবাসীদের মতন নিজেদের মূল সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন না - তেমন যাপনেও তাদের আগ্রহ নেই। বরং তাদের দৃঢ় ধারণা তারাই মূল সমাজ এবং বাকি সমাজের তাদের অনুসারী হওয়া প্রয়োজন। দল ভারী করার চেষ্টা। রাজনৈতিক হবার চেষ্টা - এসব থেকেই আর এস এসের মত সংগঠন, বিজেপির মত রাজনৈতিক দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মত ধর্মীয় সংগঠনের উৎপত্তি এবং রমরমা। বর্তমান আইন তাদের দ্বারা পরিচালিত এবং তাদের স্বার্থের রক্ষক। তারা আবার সালিশীর সুবিধাটাও চাইলে সেটাকে গাছেরও খাওয়া তলারও কুড়ানো বলে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন