ফরিদা RSS feed

প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • এবং আফস্পা...
    (লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-৩স্নেহের বরেণ, মানিকচকের বাজারসরকার মারফৎ সংবাদ পেলাম তোমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বংশের পিদিম জ্বালাবার লোকের যে অভাব ছিল তা বুঝি এবার ঘুঁচলো। সঙ্গে একটি দুঃসংবাদে হতবাক হলাম।সন্তান প্রসবকালে তোমার স্ত্রী রানীর অকাল মৃত্যু। তুমি আর কি করবে বাবা? ...
  • পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!
    একটা দুষ্টু পরিবারের বাড়িতে পুঁটিরা ভাড়া থাকত। নেহাত স্কুল কাছে হবে বলে বাড়িটা বাছা হয়েছিল, নইলে খুবই সাদামাটা ছিল বাড়িটা। ২৭৫ টাকা ভাড়ায় কেজি টুতে ঐ বাড়িতে চলে আসে পুঁটিরা। ও বাড়ির লোকেরা কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে বড্ড ঝগড়া করত, যার মধ্যে নাকি খারাপ খারাপ ...
  • WannaCry : কি এবং কেন
    "স্টিভেন সবে সকালের কফি টা হাতে করে নিয়ে বসেছে তার ডেস্ক এ. রাতের শিফট থাকলে সব সময়েই হসপিটাল এ তার মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে। উপরন্তু রেবেকার সাথে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঝগড়া টাও তার মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বাড়ি ফিরেই আজ তার জন্যে কিছু একটা ভালো কিছু ...
  • কাফিরনামা...(পর্ব ২)
    আমার মতন অকিঞ্চিৎকর লোকের সিরিজ লিখতে বসা মানে আদতে সহনশীল পাঠকের সহ্যশক্তিকে অনবরত পরীক্ষা করা ।কোশ্চেনটা হল যে আপনি কাফিরনামা ক্যানো পড়বেন? আপনার এই দুনিয়াতে গুচ্ছের কাজ এবং অকাজ আছে। সব ছেড়ে কাফিরনামা পড়ার মতন বাজে সময় খুদাতলা আপনাকে দিয়েছেন কি? ...
  • #পুঁটিকাহিনী ৭ - ছেলেধরা
    আজ পুঁটির মস্ত গর্বের দিন। শেষপর্যন্ত সে বড় হল তাহলে। সবার মুখে সব বিষয়ে "এখনও ছোট আছ, আগে বড় হও" শুনে শুনে কান পচে যাবার জোগাড়! আজ পুঁটি দেখিয়ে দেবে সেও পারে, সেও কারো থেকে কম যায় না। হুঁ হুঁ বাওয়া, ক্লাস ফোরে কি আর সে হাওয়া খেয়ে উঠেছে!! রোজ মা মামনদিদি ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-২ঝাঁ-চকচকে শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল বহুতলের ওপরে, সৌর বিদ্যুতের অসংখ্য চাকতি লাগানো এ্যান্টেনার নীচে, একটা গুপ্ত ঘর আছে। সেটাকে ঠিক গুপ্ত বলা যায় কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। যাহা চোখের সামনে বিরাজমান, তাহা গুপ্ত হয় কেমনে? ভাষা-বিদ্যার লোকজনেরা চোখ ...
  • পুঁটিকাহিনী ৬ - পারুলদি পর্ব
    পুঁটির বিয়ের আগে শাশুড়িমা বললেন যে, ওবাড়ি গিয়ে পুঁটিকে কাজকম্মো বিশেষ করতে হবে না। ওমা! তাও আবার হয় নাকি! গিয়ে কিন্তু দেখা গেল, সত্যিই তাই। পুঁটি সপ্তাভর আপিস করে আর সপ্তাহান্তে মাসতুতো-মামাতো দেওর-ননদ জুটিয়ে দিনভর আড্ডা- অন্তাক্ষরী-তাস খেলা এ সব করে। ...

হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

ফরিদা

কিছুটা আচমকাই দেখা হল আজ – কয়েকটা কাঠচাঁপা, একটি আমগাছ ঘেরা একচিলতে ঘাসজমি শহরের ব্যস্ত রাস্তার ধারে। কিছু বদন্যতা দেখিয়েছে পাশের কালো কাচে ঘেরা অফিস বাড়িটি। এমনকি দৈনিক বরাদ্দ জল নিয়মিত পায় বলে ঘাসেরা সবুজ থাকে। পাতাদের গায়ে ধুলো কিছু কম রাস্তার বাকি অংশের তুলনায়। তবু নিজস্ব ঋতুটিতে সে রীতি মেনে ঝরিয়েছে একরাশ পাতা। আকাশ পরিষ্কার ছিল আজ। তাই হাওয়া ছিল বেশি হয়ত। তাই খরাপাতার ফসল আজ কিছু বেশি –

“হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান ঘুরতে দেখেছি অনেক

তাদের হলুদ ঝুলি ভরে গিয়েছিল ঘাসে আবিল ভেড়ার পেটের মতো...”


পাতাগুলি উড়ে যাচ্ছিল, মালি তার পিছু পিছু ঝাড়ু হাতে যেন খেলার মাঠ থেকে ধুলোমাখা শিশুগুলি ফেরৎ নিয়ে যাবে তাঁর পাঠশালায়।

“আমি দেখেছি, কেবল অনবরত ওরা খুঁটে চলেছে বকের মতো নিভৃতে মাছ

এমন অসম্ভব রহস্যপূর্ণ সতর্ক ব্যস্ততা ওদের”।



হেমন্তের দিন এলে হয় বটে এমন। একটা আলগা ছেড়ে যাওয়া থাকে – প্রতিটি পাতার নিজস্ব গ্রন্থি থাকে যা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে – যা গত বসন্তের শুরু থেকে তাকে বড় করে তুলেছিল – সারা বছরের রোদ্দুর বৃষ্টি বিষাদ আনন্দগুলি ভাগ করে নিয়েছিল – স্বভাব-উদাসীন হেমন্ত তাকে রেয়াত করে না বড় একটা। রঙ বদলিয়ে দেয় তার – আঙুল ছেড়ে দেয় অনায়াসে। যেমন কবিতাটি বলে ওঠে –


“আমরা ক্রমশই একে অপরের কাছ থেকে দূরে চলে যাচ্ছি

আমরা ক্রমশই চিঠি পাওয়ার লোভে সরে যাচ্ছি দূরে

আমরা ক্রমশই দূর থেকে চিঠি পাচ্ছি অনেক

আমরা কালই তোমাদের কাছ থেকে দুরে গিয়ে ভালোবাসা ভরা চিঠি

ফেলে দিচ্ছি পোস্টম্যানের হাতে...”



যেন দুরে না গেলে তার সাধ মিটবে না, নাকি সে উপলব্ধি করতে চায় কাছে থাকার মুহূর্তগুলি আরো অন্য কোনও অমোঘ ভঙ্গিমায়? তা হলে “এরকমভাবে জামা খুলে রেখে আমরা একাকী ভেসে যাচ্ছি বস্তুত জ্যোৎস্নায়” বলার পরক্ষণেই বলা হল –



“অনেকদিন আমরা পরস্পর পরস্পরে আলিঙ্গন করিনি

অনেকদিন আমরা ভোগ করিনি চুম্বন মানুষের

অনেকদিন গান শুনিনি মানুষের

অনেকদিন আবোলতাবোল শিশু দেখিনি আমরা

আমরা অরণ্যের চেয়েও আরও পুরোনো অরণ্যের দিকে চলেছি ভেসে

অমর পাতার ছাপ যেখানে পাথরের চিবুকে লীন...”



অর্থাৎ, তার ছেড়ে যাওয়া অথবা ছেড়ে যেতে চাওয়াটি কি তার কাছাকাছি থাকাটিকে আরো কাছাকাছি আনতে চাওয়া হয় না? “ভেসে যাচ্ছি বস্তুত জ্যোৎস্নায়” বলেও জানান হল কোথায় – না সেই “অরণ্যের চেয়েও পুরোনো অরণ্যের দিকে”, “অমর পাতার ছাপ যেখানে পাথরের চিবুকে লীন”।



যেভাবে কাছাকাছি ছিল পাতাগুলি গাছের সঙ্গে গত বসন্ত থেকে ওতপ্রোত ভাবে সে আবার চলে যেতে গিয়ে পৌছে যেতে চায় দুরে – “অমর পাতার ছাপ যেখানে পাথরের চিবুকে লীন” – জানে, সেখানে একবার যেতে পারলেই হল, ব্যস, আর কোনও ক্ষয় নেই কোনও হেমন্ত এলেও তাকে চলে যেতে হবে না – ফিরতেও হবে না কোনও বসন্তে। দূরত্ব যা কিনা শুধুই ধারণামাত্র সেটা জানা হয়ে গিয়েছে কালেরও সীমানা জেনে নিয়ে লেখা হতে থাকে –



“কতকালে পুরোনো নতুন চিঠি খুঁজে পেয়েছে অই হেমন্তের অরণ্যের পোস্টম্যানগুলি

একটি চিঠি হতে অন্য চিঠির দূরত্ব বেড়েছে কেবল

একটি গাছ হতে অন্য গাছের দূরত্ব বাড়তে দেখিনি আমি।”





কবিতাটি অতদূর অবধি নিয়ে যায় আমাদের। হয়ত আরও দুরে নিয়ে যাবে পরবর্তী কোন পাঠ প্রক্রিয়ায় – হয়ত বা সম্পূর্ণ অন্য কোথাও। যেমন বিশ্বাস করি প্রকৃত কবিতা তার পাঠককে রাস্তায় নামিয়েই ছাড়ে – আমাকে যদি একটি কবিতা শিয়ালদা স্টেশনে দাঁড় করিয়ে চট করে ট্রেনে উঠে কেটে পড়ে অন্য কাউকে সেই কবিতাই হয়ত অন্ধকার নির্জনতম সৈকতে সারারাত কাউকে সঙ্গ দিয়েছে। তেমন ভাবে হঠাৎ আমার মনে পড়ে যায় প্রতিটি কবিতাই অনেকটা বা কিছুটা হলেও আত্মজৈবনিক। আর ঠিক সেই জায়গাটিতে উড়ে যাওয়া পাতাগুলি দেখে মনে পড়ে এখন হেমন্তকাল। তারপরে মনে পড়ে তারিখটা ২৫শে নভেম্বর। জন্মদিন।







Avatar: ফরিদা

Re: হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

জন্মদিন।
Avatar: b

Re: হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

অসাধারণ
Avatar: অনামী

Re: হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

কেন জানিনা কিন্তু যত বার এই কবিতাটা পড়ি, ততবার মনে হয় এতে লুকানো আছে এক রহস্যময় ইঙ্গিত|
Avatar: কান্তি

Re: হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

ভাল লাগল। খুব সহজ বিভংগে ভিতরে দোলা দিল।
Avatar: Atoz

Re: হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

ভালো লাগল, কবি।
Avatar: de

Re: হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

আহা! অপূর্ব!
Avatar: kumu

Re: হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

কবির জন্য কবির কথা--
Avatar: ranjan roy

Re: হেমন্তের অরণ্যে, তুমি

একশবার!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন