Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • চম
    চমসিরিয়ে লিওন - ২০১৬, ১ ডিসেম্বর************...
  • সম্পর্ক
    চিরকালই আমার মনে হয়েছে মৃত্যু কোন সীমারেখা, ভেদাভেদের পরোয়া করেনা। আর যে মৃত তার ওপর এই পৃথিবীর কোন লেনদেন, সম্পর্ক,লিঙ্গ,ধর্ম, সমাজ সংস্কৃতির কোন নিয়ম খাটে না। কারণ সে আর কোথাও নেই। আঙুলের ফাঁকে গলে পড়া জল যেমন, শুধু স্মৃতির আর্দ্রতা অনুভব করা যায়। এমন ...
  • অমৃতকুম্ভের সন্ধানে'
    অমৃতকুম্ভের সন্ধানে' ঝুমা সমাদ্দার ১"বিরিয়ানি ? সেটা কি বস্তু হে দেবরাজ ?" "আরে, 'পলান্ন' রে, 'পলান্ন', পুরনো বোতলে নতুন মদ ।"ইন্দ্রের রাজসভায় মেনকার প্রশ্ন শুনে শুরুতেই এক দাবড়ানিতে থামিয়ে দিলেন দেবাদিদেব মহাদেব । অমনি ...
  • ম্যাচ পয়েন্ট
    ম্যাচ পয়েন্টসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প: খবরদার, টাচ করবে না তুমি আমাকে!ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে তুতুল। সুন্দর মুখটা রাগে অভিমানে কাশ্মিরি আপেলের মতো লাল হয়ে আছে। পলাশ কিছুক্ষণ নিজের মনেই হাসল। তারপর জোর করে তুতলকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, রাগটা কি আমার ওপর, ...
  • সুরের ভুবনে
    সুরের ভুবনেসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পদশইঞ্চির স্কার্টটা হাঁটুর চার আঙুল ওপরেই শেষ হয়ে গেছে। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যাচ্ছিল পরমার। কোনরকমে হাঁটুতে হাঁটু চেপে মেক-আপ রুমে দাঁড়িয়েছিল সে। দীপ্তি ওকে বোঝাচ্ছিল।: দ্যাখ, আমাদের কাছে এই একটাই মূলধন, আমাদের গান। এই ...
  • আমেরিকা, আমি এসে গেছি
    আমেরিকা, আমি এসে গেছিআসলে কী --------------অ্যাকচ...
  • আতঙ্কিত ভীমরতি
    আতঙ্কিত ভীমরতিঝুমা সমাদ্দারপরিস্কার দেখতে পাচ্ছি দু' দু'খানা ইন্ডিয়া। দেশের ভিতর দেশ ।একখানা দেশ শপিংমলে গিয়ে খুঁজে খুঁজে ঢেঁকিছাঁটা চাল ( না হে , দিশী নাম নয় , নাম তার ‘ব্রাউন রাইস’), কিউয়ি-স্ট্রবেরীর মতো সাত-বাসী বিদেশী ফল(গাছ-পাকা পেয়ারা-কামরাঙায় ...
  • হালাল বইমেলায় হঠাৎ~
    অফিস থেকে দুঘণ্টা আগে ছাড়া পেয়েই ছুট। ঠিক দুবছর পর একুশের বইমেলায়। বলবেন, কেন? সে এক মেলা উত্তর, না হয় এইবেলা থাক। আপাত কারণ একটাই, অভিজিৎ নাই!ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেই মধুর কেন্টিনের কথা মনে পড়ে। অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেখানে ...
  • নিলামওয়ালা ছ'আনা
    নিলামওয়ালা ছ'আনাসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ছোটগল্পপাঁচতারা হোটেলটাকে হাঁ করে তাকিয়ে দেখছিল সুদর্শন ছিপছিপে লম্বা ছেলেটা। আইপিএল-এর অকশান হবে এই হোটেলেই দুদিন পর। তারকাদের পাশাপাশিই সেদিন ভাগ্যনির্ণয় হবে ওর মতো কয়েকজন প্রায় নাম না জানা খেলোয়াড়ের। পাঁচতারায় ঢোকার ...
  • এক যে ছিল
    ১অমাবস্যা-পূর্ণিমা নয়, বছরের এপ্রিল-মে মাস এলেই জয়েন্টের ব্যথায় কাবু হয়ে পড়ে হরেরাম। গত তিন বছর ধরে এটি হচ্ছে। ক্রনিক রোগ বাঁধলো নাকি! হরেরামের চিন্তা হয়। অথচ চিকিৎসার তো কোনো ত্রুটি নেই। ...

এস-আই রাবণ

Sarit Chatterjee

এস-আই রাবণ
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ছোটগল্প

সাব-ইনস্পেকটর রাবণ।
কড়েয়া থানার এই সদা হাস্যময় বেঁটেখাটো টাকমাথা ভুঁড়িওলা লোকটার নাম যে বেটাই রাবণ রেখে থাকুক তার রসবোধের বাহবা দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। পোশাকি নাম ঘনশ্যাম মোদক, যদিও আইজি সাহেব থেকে কনস্টেবল সুমন্ত্র আর ওঁর শালাবাবু থেকে বটগাছের নিচে ভোলেবাবার পেসাদ বেচে যে নিধিকান্ত, সবার কাছেই তিনি ওই রাবণ নামেই যারপরনাই উৎসাহের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ সাড়া দেন।

তবে, একটা মিল ছিল। ত্রেতাযুগের রাক্ষসরাজের হাসি যদিও স্বকর্ণে আজকের কেউ শোনে নি, তবুও লোকে বলত যে তিনি হাসলে নির্ঘাত এই কলিযুগের কলিকাতা নিবাসী এস-আই রাবণের মতোই হাসতেন।

হাসিটা শুরু হতো মন্দ্রসপ্তকের কড়ি মা থেকে। তারপর গমগম করে প্রবেশ করত মধ্যসপ্তকে। কোমল রেখাব গান্ধার পেরিয়ে দমকে দমকে পঞ্চম ছুঁয়ে ধৈবতে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কাঁপত হাসিটা। আবার ফিরে যেত নিচের নিষাদে। বারদুয়েক এভাবেই আরো ওঠানামা করে শেষে আবার সেই কড়ি মা'তে এসে চারিপাশের দেওয়ালে প্রতিধ্বনি তুলে কম্পমান শ্রোতার বুকে দ্রিমি দ্রিমি মাদলের রেশ মাখিয়ে মিলিয়ে যেত হাসিটা।

সেদিন সবে খবরের কাগজের চতুর্থ পাতায় চোখ বুলিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিতে যাচ্ছিলেন রাবণ যখন ফোনটা এলো। সুমন্ত্র শশব্যস্ত হয়ে দৌড়ে এসে বলল, রাবণদা, এক জোড়া খুন!
- অ! তা অত লাফাও ক্যান সুমন্ত? জোড়া ইলিশ হইলে নাহয় তাও .... আর ইলিশ এ দ্যাশে তোমরা আর কী ...
- দাদা, কী বলছেন! মার্ডার! ডবল! সেনসেশানাল কেস!
- তা কেডা খুন করসে?
- সে জানা যায় নি। তবে হেভি ইন্টারেস্টিং কেস দাদা! গৃহবধূ উইথ লাভার! কিল্ড ওয়াইল ইন অ্যাকশন!
- বড় অসভ্য কতা কও হে তুমি, ছোকরা! আমারে না জ্বালায়ে অহন যাও দেহি! দেহ গিয়ে, অর স্বামীই খুন করসে।
- আরে বরটা তো কলকাতাতেই নেই। মুম্বাইতে কাজে গেছে।
- তোমার মুণ্ড! কিস বুঝো?
- অ্যাঁ! চুমু! এখনো তো বিয়েই হয় নি ...
- কিস। অ্যানাগ্রাম। ফর, কিপ ইট সিম্পল, ইস্টুপিড! লিইখ্যা লও, অই স্বামীই খুনি।
- আরে, বলছি তো কলকাতায় ছিল না!
- আহাম্মক! বেশ চল, গিয়া দেইখ্যা আসি। আচ্ছা কও দেহি, তোমাগো পুলিসে চাকরি কেডা দিল?

দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীতে হঠাৎ কেন যে রূপঙ্কর ওই পেল্লায় আয়না দেওয়া ঢাউস ড্রেসিং টেবিলটা কিনে দিয়েছিল, তৃষা সত্যিই জানত না। জিজ্ঞেস করায় বলেছিল, তোমায় আদর করার সময় নিজেদের দেখব ওটাতে।
ধ্যাৎ! বলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তৃষা।
সে আজ মাসখানেক আগের কথা।

বিকেল চারটের ফ্লাইটটা দেড়ঘণ্টা দেরিতে উড়ল। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই সৌমেনকে ফোন করল তৃষা।
- ওর দু'দিনের সেমিনার, মুম্বাইতে। আজ আসতে পারবে?
- দেরি হবে।

রূপ জানে তৃষার চোখে সে সাধারণ। খুব বেশি সাধারণ। ওর রূপের আগুনে পুড়ে যায় রূপ। আজকাল ওর মুখের দিকে তাকাতেও ভয় করে।

সৌমেন পৌঁছল প্রায় পৌনে এগারটায়। কম রাস্তা তো নয়!
অনেকদিনের জমানো আবেগ যন্ত্রণায় মোমের মতোই গলে পড়ছিল তৃষা। আজ যেন ক্ষেপে উঠেছিল ওর গোটা শরীর!

ছায়ামূর্তিটা ল্যাচ-কি ঘুরিয়ে নিঃশব্দে প্রবেশ করে। চাবিটা কথা মতো সিঁড়ির টবের নিচে রাখা ছিল। ঘড়িতে তখন এগারোটা বাজতে পাঁচ। কয়েক মিনিট শোওয়ার ঘরের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে লোকটা কান পেতে শোনে গাঢ় নিঃশ্বাসের শব্দ, অস্ফুট শীৎকার।
তারপর প্রায় অন্ধকার বেডরুমে ঢুকেই পরপর দুটো গুলি চালায় সে। নিখুঁত হেড-শট। কয়েক সেকেন্ড লাগে মৃত্যু সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হতে। পুরো ঘরটা একবার তন্নতন্ন করে খোঁজে সে। তারপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে আঙুল চালিয়ে ঠিক করে নেয় চুলের সেটিংটা।

পরদিন ঠিকে কাজের লোক খবর দেয় পুলিসে। রূপঙ্কর মুম্বাই থেকে ফোন পেয়ে পরের ফ্লাইটেই চলে আসে।

বিকেল পাঁচটা। ফ্ল্যাট থেকে মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে রাবণ। রূপঙ্করকে ঘণ্টাখানেক জেরা করে, মুম্বাই আইআইটির দু'জন প্রফেসরের সাথে কথা বলে ওরা নিশ্চিন্ত হয় যে রূপঙ্করের অ্যালিবাই অকাট্য। সে যে গতকাল থেকে মুম্বাইতেই ছিল তার একাধিক সাক্ষী আছে।

হঠাৎ রূপঙ্কর চমকে ওঠে। কী একটা যেন মনে পড়তেই শোওয়ার ঘরে ছুটে যায়। তারপর ড্রেসিং টেবিলটাকে দেওয়াল থেকে টেনে অল্প সরিয়ে আনে। পিছনের কাঠটা কয়েকটা স্ক্রু খুলতেই ডালার মতো খুলে যায়। ভেতরে দেখা যায় এক অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির প্যানেল।
সেখানে একটা ছোট এলসিডি স্ক্রিন-এ কী একটা দেখতে থাকে রূপঙ্কর। সুমন্ত্র লক্ষ্য করে ক্রমশ চোয়ালটা শক্ত হয়ে উঠছে ওর। ঘাড়ের ওপর থেকে উঁকি মেরে ও যা দেখতে পায় তা'তে চোখগুলো বড় বড় হয়ে যায় সুমন্ত্রর। তারপর রূপঙ্কর একটা সুইচ টিপতেই ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় ফুটে ওঠে চলচ্চিত্রের মতো কিছু চলমান ছবি। গুলির শব্দ। সুমন্ত্র আয়নার সামনে আসতেই দেখে সৌমেনের ওপর বসা তৃষার মাথায় গুলি লেগেছে, টলে পড়ে যাচ্ছে সে। পরক্ষণেই আততায়ী সৌমেনের মাথায় গুলি করছে। আততায়ী তৃষার ক্যারোটিড-এ আঙুল দিয়ে দেখে নিচ্ছে যে সে মৃত কিনা। দুটি মৃতদেহ অশ্লীলভাবে একে অপরের ঘাড়ে পড়ে আছে, আর আততায়ী ঘরের এদিক সেদিক কী যেন খুঁজছে।
আর শেষে আততায়ী সরাসরি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে।
- আরে! এ তো গগন মিত্তির! সুমন্ত্র চমকে বলে ওঠে।
- চেনেন মনে হচ্ছে?
- বিলক্ষণ! সুপারি কিলার। দু'বার অ্যারেস্ট হয়েছে, কিন্তু প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে গেছে। কিন্তু আশ্চর্য! এভাবে ক্যামেরাবন্দী করলেন কী করে?
- আমার সন্দেহ ছিল। এই ড্রেসিং টেবিলটা কিনে আমিই এই রিমোট কন্ট্রোলড ক্যামেরাটা লাগিয়ে ছিলাম। ফিস আই লেন্স। পুরো ঘরটাই ধরা পড়ে। আই ওয়ান্টেড এভিডেন্স। কনক্রিট অ্যাডমিসিবল এভিডেন্স।
- কী করে বানালেন এটা?
- এটাই আমার ফিল্ড অফ রিসার্চ। ক্যামেরা প্রোগ্রাম করা আছে তিরিশ মিনিটের ক্লিপ নেওয়ার জন্য।
- কিন্তু মুম্বাইতে বসে আপনি জানলেন কী করে যে প্রেমিক ভদ্রলোক ঠিক কখন আসবেন? আর সেখান থেকে ক্যামেরা অন-ই বা করলেন কী করে?
- ওটা একটা পার্টিকুলার সাউন্ড ফ্রিকুয়েনসি তে নিজে থেকেই চালু হয়ে যায়।
- কোন শব্দে? চুমু খাওয়ার?
- না। ডোর-বেলের।
- মার্ভেলাস! আপনার বুদ্ধি আছে দাদা!

রাবণ টাক চুলকাতে চুলকাতে উঠে দাঁড়ান।
- এক মিনিট খাড়ান দেহি, আফনার কথা তো আমি কিসুই বুইঝা উঠতে পারতেসি না। কেমনে কী হইল? আপনার কথা অনুযায়ী আপনার বাড়ির কলিং বেল বাজলেই অই ক্যামেরা অন হইয়া যাইত?
- হ্যাঁ।
- অ! আপনি মুম্বাইতে বইসা আসেন। আপনার ওয়াইফ বাসায় একেলা। উনার বয়ফ্রেন্ড আইসা এই এমনি কইরা বেল বাজাইল। আর তৎক্ষণাৎ ওদিকে ক্যামেরা রেকর্ড কইরতে শুরু কইরা দিল। তাই তো?
- হ্যাঁ।
- ওহে সুমন্ত! এ যে পুরা বব বিশ্বাস কেস!
- ও বেটা পাঁকাল মাছ স্যর।
- এবার ধরা পড়ব। সুমন্ত, এই চাদরখানা সরাও তো, অই রক্ত দেখলে আমার আবার মাইগ্রেন শুরু হইব। আচ্ছা রূপঙ্করবাবু, আফনে বুঝতে পারসেন তো যে সন্দেহের কাঁটাখান আফনার দিকাই পয়েন্ট করতাসে?
- আমার দিকে! কিন্তু আমি তো ছিলামই না শহরে।
- তা সত্য। তবে ওই গগন মিত্তিররে কনট্র্যাক্ট দিয়া এ কাজ আফনে করাইতেই পারেন। ক্লিয়ার মোটিভ রইসে।
- আমার অ্যালিবাই এয়ারটাইট। কোনোমতেই কিচ্ছু প্রমাণ করতে পারবেন না।
- তা হয়ত পারুম না। বা হয়ত পারুম! ওই বব বিশ্বাসেরে বিশ্বাস কইরা হয়ত ভুল করসেন। লকআপ-এ থার্ড-ও লাগব না, সেকেন্ড ডিগ্রিতেই গগন মিত্তির মনের সুখে গান গাইবে, গ্যারান্টি দিইতেসি।
হোহো করে হেসে ওঠে রূপঙ্কর। বলে, ও বেচারা কিছুই বলতে পারবে না। কনট্র্যাক্ট পেয়েছে ফোনে, সিম-টা মুম্বাইয়ের হোটেলের কমোডে ফ্লাশ হয়ে গেছে। টাকা পেয়েছে ই-মানি-অর্ডারের থ্রু। অ্যাকাউন্টটা ফেক, প্রেরকের কোনো ট্রেস পাবেন না।
- জিনিয়াস রূপঙ্করবাবু! কিন্তু ও জানল কী করে যে কখন ঢুকতে হবে?
- আন্দাজ ছিল আজ রাতেই আসবে। আর ক্যামেরা চালু হলেই ওর মোবাইলে নোটিফিকেশন চলে যাবে এমন ব্যবস্থা করে রেখেছিলাম।
- কেয়া-বাৎ, কেয়া-বাৎ, বলেই সেই জগতবিখ্যাত হাসিটা হাসলেন রাবণ। সুমন্ত্র ঘড়ি দেখছিল; ঠিক আটচল্লিশ সেকেন্ড চলল হাসিটা। তারপর তিনি ওর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে ইশারা করে বললেন, আর দেরি কেন? এইবার তাইলে অতিথি সৎকারডা সাইরা ফেলো সুমন্ত!
হাতে হাতকড়া পরাবার সময়ও রূপঙ্কর হাসছিল। হাসতে হাসতেই সে বলল, ভুল করছেন স্যর, কোনো লাভ হবে না। কালকের মধ্যে বেল পেয়ে যাব। কোনো প্রমাণ নেই। খামোখা ম্যাজিস্ট্রেট-এর কাছে হ্যাটা খাবেন।
এস-আই রাবণ একটু দোটানায় পড়ে গেলেন। মানে, আগে হাসবেন না পরে, সেটা নিয়ে। শেষে হাসাটাই বেটার হইব, নিজের মনেই বললেন তিনি। তারপর আয়নাটার ঠিক সামনে গিয়ে পকেট থেকে চিরুনি বার করে অবষিষ্ট ক'গাছা চুলকে শায়েস্তা করতে করতে বললেন, ব্যাপারটা হইল কী রূপঙ্করবাবু, প্রমাণ আসে। প্রমাণ তো আফনেই আমাগো দিয়াসেন, তাই না?
- মাই ওয়ার্ড আগেনস্ট ইওরস। কোর্টে টিকবে না।
- আহা সুমন্ত, ইনি দেহি অহনও বোঝেন নাই। আমি বেল বাজাইতেই তো আফনার এই যন্ত্রটি রেকর্ড করা আরম্ভ কইরসে, করে নাই? আর অহনো তো আধঘণ্টা হয় নাই। আফনেই তো কইলেন, কনক্রিট অ্যাডমিসিবল এভিডেন্স! আরে কী হইল? অমন করতাসেন ক্যান? ও সুমন্ত, এট্টু চোখে-মুখে জল দেওনের ব্যবস্থা কর দিকি। হাহাহাহাহাহাহাহাহা .....

সুমন্ত্র গুনেছিল। পাক্কা একমিনিট চলেছিল হাসিটা।

১৮১০২০১৬


Avatar: Soumyadeep Bandyopadhyay

Re: এস-আই রাবণ

প্রায় অন্ধকার ঘরে বন্দুক এবং সি সি টিভি এতো ভালো লক্ষ্য ভেদ করলো কি ভাবে ?তবে শেষ টা ভালো

Avatar: Blank

Re: এস-আই রাবণ

এগুলো সাউন্ড রেকর্ড করে নাকি !
Avatar: সিকি

Re: এস-আই রাবণ

আজকালকার সিসিটিভি সাউন্ডসমেত রেকর্ডিং করে। ক্যামেরার সাথে পুঁচকে হাই গেনের মাইক্রোফোনও থাকে।
Avatar: Blank

Re: এস-আই রাবণ

তাহলেতো আপিসের সিসিটিভির সামনে দাড়িয়ে কোনো ষঢ়যন্ত্র করা যাবে না।
Avatar: Sarit Chatterjee

Re: এস-আই রাবণ

সৌমদীপ
আততায়ী বাইরে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করেছিল নিজের চোখ অন্ধকারে অ্যাডাপ্ট করার জন্য।
দ্বিতীয়ত, ক্যামেরাটা সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। রূপঙ্কর বলেছে ওটা ওর ফিল্ড অফ রিসার্চ, তাই না?
সরিৎ
Avatar: Atoz

Re: এস-আই রাবণ

কিন্তু রেকর্ডেড ভিডিও চালিয়ে দেখাচ্ছিল তো সন্দেহে থাকা আসামী! তখন ক্যামেরা অফ করে নেয় নি? সব অন রেখে হড়বড় করে বলে গেল সব বৃত্তান্ত? ই কী?????
Avatar: AP

Re: এস-আই রাবণ

রাবণ স্যার তো 'হাসতে হাসতে' ই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ক্লাস নিতে পারেন, পুলিশ হবার দরকার কি !
তবে যা বুঝলাম রূপঙ্কর তো মোটেই সাধারণ নয়, একে ঐ রকম ডিভাইস ডিজাইন করা, তারপর নিজের বৌকে একেবারে খুনের সুপুরী দিয়ে দিল ! কিন্তু পুলিশ কে ডেকে ডেকে নিজের কৃতিত্ব খুলে দেখন তাও আবার মেশিন চালু রেখে... জিনিয়সরা এই রকম কাঁচা ভুল করলে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাই !
Avatar: Sarit Chatterjee

Re: এস-আই রাবণ

হা হা হা। এটা কৌতুকরসের গপ্প। আর জিনিয়াসরা প্রায়সই দু'পায়ে দুটি ভিন্ন পাটির মোজা পরিয়া আপিস-কাছারি যান, এমন কিন্তু নিন্দুকেরা বলে থাকে। 😅


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন