Ashoke Mukhopadhyay RSS feed

Ashoke Mukhopadhyayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৫
    http://bigyan.org.in...
  • সেখ সাহেবুল হক
    শ্রীজগন্নাথ ও ছোটবেলার ভিড়-----------------...
  • মাতৃত্ব বিষয়ক
    এটি মূলতঃ তির্যকের 'রয়েছি মামণি হয়ে' ও শুচিস্মিতা'র 'সন্তানহীনতার অধিকার'এর পাঠপ্রতিক্রিয়া।-----...
  • ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা
    ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা ও সেই সংক্রান্ত ফান্ডিং ইত্যাদি নিয়ে কিছুদিন আগে 'এই সময়' কাগজে একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। http://www.epaper.ei...
  • কেমন হবে বেণীমাধব?
    - দিস ব্লাডি ইউনিয়ন কালচার ইস ক্র্যাপ। আপিস ফেরত পথে চিলড্ বিয়ারে চুমুক দিয়ে বলেছিল অসীম। কেতাদুরস্ত মাল্টিন্যাশন্যালে প্রজেক্ট ম্যানেজার অসীম। ব্যালেন্স শিট, ডেটা মাইনিং, ক্লায়েন্ট মিটিং’র কচকচানি, তার উপর বিরক্তিকর ট্রাফিক, আর গোদের উপর বিষ ফোড়া ...
  • ইফতার আর সহরির মাঝে
    কলকাতার বুকের মধ্যে যে কত অগুন্তি কলকাতা লুকিয়ে আছে! রমজান মাসে সূর্য ডুবে গিয়ে রাত ঘনিয়ে এলে মধ্য কলকাতার বুকে জেগে ওঠে এক আশ্চর্য বাজার। যে বাজার শুরু হয় রাত দশটার থেকে আর তুঙ্গে ওঠে রাত বারোটা একটা নাগাদ। ফিয়ার্স লেন, কলুটোলা, জাকারিয়া স্ট্রিট, সাবেক ...
  • #বাহামণিরগল্প
    অনেক অনেক দূরে শাল বনের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একটা লাল মাটির পথ ছিল আর পথের শেষে ছোট্ট একটা গ্রাম। সেই গ্রামে একটা ছোট্ট মেয়ের বাড়ি। জানি এ পর্যন্ত পড়েই আপনারা ভুরু কুঁচকে ভাবছেন, এ আর নতুন কথা কি? পথের শেষে গ্রাম থাকবেই আর সে গ্রামে যে একটা না একটা মেয়ে ...
  • হেতিমগঞ্জ বাজার
    নিলয় সেইদিন আমাদের আইসা বলে যে বিজনপুর নামে একটা জায়গা আছে এবং সেখানে অতি অদ্ভুত একটি ঘটনা ঘটে গেছে, একটি মেয়ে আচানক মাছে পরিণত হইছে। তাও পুরা মাছ না, অর্ধেক মাছ। আমাদের জীবন সমান্তরালে বইতে থাকা নদীর প্রবাহ বিশেষ, এতে কোন বিরাট ঢেউ কিংবা উথাল পাতাল ...
  • জলধরবাবুর ভগ্নাংশ
    ম্যাঘে ম্যাঘে ব্যালা গড়িয়ে আসে। নয় নয় করেও পঞ্চাশের ধাক্কা বয়েস হতে চলল জলধরবাবুর। তবে আজকাল পঞ্চাশ-টঞ্চাশ নস্যি। পঁচাশি-নব্বই পার করে দিচ্ছে লোকে হাসতে হাসতে। এ তো আর শরৎবাবুর আমলের নাটক-নবেল নয় যে চল্লিশ পেরোলেই পুরুষমানুষ সুযোগ্য ছেলের হাতে সংসারের ...
  • গর্ব
    গর্ব----------------...

বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

Ashoke Mukhopadhyay

[গ] বিজ্ঞানমনস্কতা বলতে কী বোঝায়

এপর্যন্ত পড়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, বিজ্ঞান-মনস্কতার কথা বলতে বসে আমি স্রেফ ভূগোল আর ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম কেন? বিজ্ঞান নিয়ে এখন অবধি একটাও কথা তো পাড়িনি। বিজ্ঞান বাদ দিয়ে বিজ্ঞান-বোধ হয় নাকি? বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান যা পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর প্রতিষ্ঠিত—এই সব কথা তো বলছি না। বিজ্ঞান মানে সব কিছুকে যুক্তি তর্ক করে বিচার বিশ্লেষণ করে তবে গ্রহণ করতে হবে—সেই সব পুরনো কাসুন্দির কথা তুলছি না তো? ধান ভানতে বসে শিবের গীত গাইছি কেন?

সেই কথাই এবার বলব। তারও কারণ আছে।

বিজ্ঞান-মনস্কতা মানে নিছক বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সচেতনতা নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষতা বা সপ্রতিভতা নয়। বিজ্ঞান-মনস্কতা মানে হল বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তি, যুক্তিশীল মননচর্চা, বৈচারিক চিন্তাকৌশল। ব্যাপারটা এমন নয় যে শুধু বিজ্ঞানের ছাত্রদেরই বিজ্ঞান-মনস্ক হওয়া প্রয়োজন, অন্য বিষয়ের ছাত্রদের বিজ্ঞান-বোধ না থাকলেও চলবে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে পড়ি বা না পড়ি, শিক্ষকতা গবেষণা করি বা না করি, সবাইকেই সব কিছু বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তির আধারে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। বিজ্ঞান আর বৈজ্ঞানিক মানসিকতা পরস্পর সম্পর্কিত হলেও দুটো ঠিক এক জিনিস নয়। একটা হলেই আর একটা হয় না। আপনা আপনি হয় না। একজন বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে, গবেষণা করে, চর্চা করে, ছাত্র পড়ায়—কিন্তু হাতের আঙুল ভর্তি আংটি; একটা হয়ত মঙ্গলকে ভয় দেখাচ্ছে, আর একটা হয়ত আবার ভাইরাস ব্যাকটিরিয়াদের শাসন করার কাজে ব্যস্ত, তৃতীয়টার উদ্দেশ্য কোনো জটিল মামলা জেতা, ইত্যাদি—এমন তো আকছারই দেখা যায়। যারা এইরকম আংটি পরে, ধাতুরত্ন ধারণ করে, তার পক্ষে তারা আবার কত বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেয়! বস্তুর উপর বস্তুর কি ক্রিয়া নেই? জীবাণুদের সম্পর্কে রসায়ন-শাস্ত্র রাসায়নিক অস্ত্র ধারণ করতে বলছে না? কিংবা, সব শেষে একখানা মোক্ষম প্রশ্ন, “বিজ্ঞান কি সব জানে?” আর অন্যরা জানুন বা না জানুন, বিজ্ঞানের লোকেরা তো জানেই—যে বিজ্ঞান এখনও সব জানে না, আর কখনও সব জানবে বলে মনে করে না। সুতরাং . . .

এমন অনেককেই দেখা যায়, যারা ভগবান মানে না কিন্তু যাদের ভূতের ভয় আছে। কিংবা তাদের হয়ত ভূত-প্রেতে ঘোর অবিশ্বাস, অথচ ছেলেমেয়ের কোনো সময় কঠিন অসুখ-বিসুখ হলে মা কালীর থানে বা রাস্তার মোড়ের শনিঠাকুরের বেদীতে দু টাকার বাতাসা মানত করে রাখে। আবার এমনও বহু লোক আছে, যাদের পড়াশুনো কলা বিভাগে, কিন্তু খাদ্যাখাদ্য বিচারে রান্নার উপকরণে ছেলেমেয়ের পোশাক বা স্বাস্থ্যের প্রশ্নে তারা অত্যন্ত যুক্তিশীল এবং বিজ্ঞান-মনস্ক।

ধরুন, বিজ্ঞাপনে দেখাচ্ছে, কমপ্ল্যান খেলে একটি ছেলে বা মেয়ে দ্বিগুণ তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে, লম্বা হবে। বহু লোক বিশ্বাস করছে। তারা বেশিরভাগ লক্ষই করছে না, যে স্কেল দিয়ে বৃদ্ধিটা দেখানো হচ্ছে, তাতে চার ফুট পর্যন্ত উচ্চতার মাপটা ফুটে দেখিয়ে বৃদ্ধির পরিমাপ দেখানো হচ্ছে সেন্টিমিটারে। কেন? এরকম স্কেল বাজারে হয় নাকি? কারোর উচ্চতা আপনি কি বলবেন চার ফুট পাঁচ সেন্টিমিটার? তার মানে বিজ্ঞাপনটায় গোলমাল আছে। বা কোনো গূঢ় মতলব আছে। কজন সাধারণ মানুষ এটা খেয়াল করেছে? এই ধরনের একটা সাধারণ চালাকি বোঝার জন্য কি বিজ্ঞান পড়ার বিশেষ দরকার আছে? রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অ্যাকাউন্টেন্সিতে অনার্স নিয়ে পড়লে এটা বোঝা যাবে না? বরং বাস্তবে আমরা দেখছি, বিজ্ঞানের ছাত্ররাও এটা ধরতে পারছে না। তাদেরও একটা বিরাট অংশ এই সব বিজ্ঞাপনী চালাকিতে ভিরমি খেয়ে যাচ্ছে। এবং লম্বা হওয়ার জন্য রোজ রোজ কমপ্ল্যান খাচ্ছে। অথবা তীক্ষ্ণবুদ্ধি পাওয়ার জন্য শক্তি সঞ্চয় করার জন্য অন্য কিছু খাচ্ছে। এই প্রশ্নটা তারা করছে না, স্বাস্থ্যবান হওয়া বা লম্বা হওয়ার যে জৈবিক প্রক্রিয়া, এই ধরনের কৌটোবন্দি খাদ্য বা পানীয় তার উপরে কীভাবে প্রভাব ফেলে। অথবা আদৌ ফেলতে পারে কিনা।

রাজশেখর বসু তাঁর একটি বৈজ্ঞানিক মনোভাব সংক্রান্ত প্রবন্ধে দেখিয়েছিলেন, বিজ্ঞাপনে কীভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঠকানো হয়। কোনো একটি মাথার তেলের কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপনে লিখেছিল, “ইহাতে পারদ নাই।” যেন, অন্য সব প্রস্তুতকারকের তেলে ভেজাল হিসাবে পারদ থাকার কথা। আজ বেঁচে থাকলে তিনি দেখতে পেতেন, সেই সাবেকি কায়দাটা আজও মরেনি। আজ আবার কোনো এক তেল উৎপাদকের হয়ে একজন বিখ্যাত ফিল্মি নায়ক বলছেন, তাঁদের বিজ্ঞাপিত তেলে নাকি অ্যামোনিয়া নেই। এই রকম অসংখ্য বিজ্ঞাপনী চালাকি ধরতে না পারার পেছনেও আছে বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব।

[ঘ]
এবার কয়েকটা কাজের কথা পাড়া যাক।

বিজ্ঞান-মনস্কতার প্রধান প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?

অবিশ্বাস, ভয়, কৌতূহল, সংশয়, প্রশ্ন, . . . ।

সে কি? কী বলছেন মশাই? এসব তো নেতিবাচক লক্ষণ।

ঠিক তাই। বিজ্ঞান-মনস্কদের যে লোকে নাস্তিক বলে জানেন নিশ্চয়ই। সেটা এই কারণেই বলে। সব ব্যাপারেই শুরুতে তারা খালি বলে—না, না, না, নাস্তি, নাস্তি, নাস্তি, . . .। এতে বিশ্বাস করতে পারছি না, ওটা বলতে ভয় পাচ্ছি পাছে ভুল প্রমাণ হয়ে যায়, অমুক তত্ত্বটায় ঘোরতর সন্দেহ আছে ঠিক হবে কিনা, . . ., ইত্যাদি। আর কেবলই বলেন, জানি না, খানিকটা জানা গেছে, অনেক কিছু এখনও জানায় বাকি আছে, অল্প অল্প করে জানা যাচ্ছে, এই রকম আর কি। সহজে কোনো প্রস্তাবে কিছুতেই হ্যাঁ বলতে পারেন না বিজ্ঞান জগতের লোকেরা। একেবারে বলেন না তা নয়, তবে না-এর তুলনায় হ্যাঁ-এর সংখ্যা খুব কম। মাইকেল ফ্যারাডে এক সময় একটা গড় হিসাবে বলেছিলেন, বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের দশটা প্রস্তাবের নটাতেই নাকি ওনারা না বলে দেন। একটাতে অতি কষ্টে হ্যাঁ বলেন। সায় দেবার ব্যাপারে বড্ড কিপটে। বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যান। দেখবেন, প্রতিটি ব্যাপারে খালি প্রশ্ন, প্রশ্নের পর প্রশ্ন। কী ভয়ানক সন্দেহবাতিক ভাবা যায় না। কারোর সঙ্গে কারোর ঝগড়াঝাঁটি আছে, ব্যাপারটা এমন নয় কিন্তু। হয়ত বাইরে গলায় গলায় ভাব। কিন্তু বিজ্ঞানের সমস্যা এলে, পরীক্ষার ফলাফলের কথা উঠলে অমনি তক্কাতক্কি শুরু হয়ে যায়। তাঁদের শুধু ভীষণ ভয়, পাছে কিছু একটা ভ্রান্ত তত্ত্ব সম্মেলনে গৃহীত হয়ে যায়।

তুলনায় একটা ধর্মের জলসায় গিয়ে দেখুন। কোনো একজন বড় ধার্মিক সাধুর বচনামৃত পাঠ করুন। বারবার কী দেখতে পাবেন? বিশ্বাস, নির্ভাবনা, নিঃসন্দেহ, নিস্তর্ক, মেনে নেবার আগ্রহ, . . . । যেমন এদেশে তেমনই ওদের দেশে। আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন বলতেন, “বিশ্বাসে মিলায় কৃষ্ণ তর্কে বহুদূর”, লাতিনে ওরা বলত “Credo ut intelligam” (বিশ্বাস করলে তবেই আমি বুঝতে পারব)। এগুলো সবই হচ্ছে ইতিবাচক লক্ষণ। সব কিছুতেই হ্যাঁ বলবার ঝোঁক বা ইচ্ছা। এই জন্যই ধর্মে বিশ্বাসীদের লোকে আস্তিক বলে। তারা সব কিছু সহজে মেনে নেয়, বিশ্বাস করে, তাদের কোনো ব্যাপারেই খুব একটা সন্দেহ হয় না, প্রশ্নও জাগে না। তাদের মনে কোনো কিছুই গভীরে গিয়ে জানার খুব একটা ইচ্ছা নেই। ধর্মগুরুরা আবার মানা করেও দেন। যেমন, রামকৃষ্ণ রূপক ছলে বলে দিয়েছিলেন, “বাগানে আম খেতে এয়েছ খেয়ে যাও; বাগানে কটা গাছ, গাছে কটা করে আম—এত খোঁজে তোমার দরকার কী?”

শিবদুর্গার তিনটি ছেলে মেয়ে স্বাভাবিক, কিন্তু গণেশের বেলায় হাতির মুন্ডু। তা-ই কোটি কোটি লোক দু তিন হাজার বছর ধরে মেনে এসেছে। সন্দেহ করেনি, প্রশ্নও তোলেনি। গণেশের একটা মাথা থাকা দরকার, আছে। তা হাতির না কিসের, অত খোঁজে দরকার কী বাপু আমাদের?

আচ্ছা, সে না হয় পুরা কালের কথা। কিন্তু এই সেদিন যে পাথরমূর্তি গণেশের শুঁড় দিয়ে দুধ পানের গল্প দেশময় ছড়িয়ে গেল, শুধু সাধারণ পিকলু-ন্যাবলা-পাচি নয়, বহু ডক্টরেট, অফিসার, ম্যানেজার, আইনজ্ঞ তথা ভিআইপি যে গ্লাশে দুধ আর হাতে চামচ নিয়ে রাস্তায় লম্বা লাইনে আম আদমিদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়লেন, সারা দেশে কম বেশি বাহাত্তর লক্ষ লিটার দুধ মাটিতে খেল, তার পেছনেও তো সেই আদি অকৃত্রিম বিশ্বাস। প্রশ্ন বা সন্দেহ নেই। মেনে নেবার কী অসীম আগ্রহ। প্রত্যকেরই বক্তব্য, গনেশের ধাতব বা পাথরের মূর্তি দুধ যদি না-ই খাবে, এত এত লোকে তাহলে ছুটে এল কেন? সকলেই কি বোকা?

বিজ্ঞান-মনস্কতা এই অন্ধ বিশ্বাসকেই বদলাতে চায়। আগেভাগেই বিশ্বাস না করে, প্রথমে প্রশ্ন কর, নানা দিক থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বুঝবার চেষ্টা কর, সমস্ত সন্দেহ মোচন হলে তবে মানবে। তথ্য যুক্তি প্রমাণ ও প্রয়োগ—এই হল বিজ্ঞান তথা বিজ্ঞান-মনস্কতার প্রধান চারটে স্তম্ভ। নানাভাবে পর্যবেক্ষণ করে বাস্তব তথ্য যোগাড় কর, তার মধ্যে তুলনা করে হিসাবনিকাশ করে মাপজোক করে যুক্তি দিয়ে সাজিয়ে মূল পরিঘটনাটিকে দেখার চেষ্টা কর। হাতে কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করা যায় কিনা দেখ। যে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসছে তাকে কোন জায়গায় কীভাবে প্রয়োগ করা যায় দেখ, অর্থাৎ, তাকে কাজে লাগানো যায় কিনা দেখ। তারপর সেই সিদ্ধান্তকে গ্রহণ কর।

আমার অবশ্য মাঝে মাঝে মনে হয়, আস্তিক নাস্তিক শব্দ-জোড়ার অন্য রকম অর্থও থাকা সম্ভব। যে বিচারের ধারায় যুক্তিবুদ্ধি স্বভাবগতভাবে অস্তমিত হয়ে যায় তাই হল আস্তিক দর্শন। পক্ষান্তরে, যে ধরনের চিন্তাধারার মধ্যে যুক্তিতর্ক প্রমাণ ও প্রয়োগের বুদ্ধি আবশ্যিকভাবে ন্যস্ত রয়েছে, তাকে বলা হয় নাস্তিক দর্শন। এইভাবে ভাবলেই বা ক্ষতি কী?

[ঙ]
এই পার্থক্যটা ঠিকমতো বোঝার দরকার আছে। কেন না, অনেক সময়ই কিছু লোককে বলতে শুনি, ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের নাকি কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ নাকি দুই তরফেরই কট্টরপন্থীদের মধ্যে। সত্যিকারের ধর্মের সারকথা যে মেনে চলে সে নাকি সত্য জানতে কখনও আপত্তি করে না, বরং জানতেই চায়। সত্যিকারের বড় বিজ্ঞানীদেরও নাকি ধর্মের প্রতি কোনো অসহিষ্ণুতা নেই, তাঁরা নাকি ধর্মকে বুঝতে চান, অনেকে নিজেরাই ধর্মপ্রাণ হয়ে থাকেন। ইত্যাদি।

এই বক্তব্যে আমার দ্বিবিধ আপত্তি আছে। আপত্তিটা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় গিয়ে নয়। যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ধর্মে বিশ্বাস করেন কিন্তু বিজ্ঞানের কাজটা বিজ্ঞানের নিয়মেই করেন, তাঁদের এই বিশ্বাস-আচরণের দ্বিভাজন (dichotomy) নিয়েই আমার আপত্তি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বিজ্ঞান চর্চা করা যায় না বলেই তাঁদের জোড়াতালি দিতে হয়। অক্ষয় কুমার দত্তের ফরমুলা অনুযায়ী বলতে পারি, জ্বর হলে আপনি মা কালীর নাম করতে পারেন, প্যারাসিটামল খেতে পারেন, আবার মা কালীর নাম নিতে নিতে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। জ্বর কমার হলে ওই ওষুধেই কমবে। মা কালীর নামের মাহাত্ম্যে নয়। বীজগণিতের সমীকরণের আকারে লিখলে কালীনামের ফলাফল শেষ অবধি শূন্যই হবে।

হ্যাঁ, এর মধ্যে ফরাসি যুক্তিবাদী দার্শনিক ভোলতেয়ারের সেই বিখ্যাত রসিকতারও ছাপ আছে। কে একজন তাঁকে বলেছিল, “আচ্ছা মশাই, মন্ত্র দিয়ে কি কাউকে মেরে ফেলা যায়?”

“যায়, অবশ্যই যায়। তবে সঙ্গে আর একটা জিনিসও লাগবে।”

“আর কী লাগবে?”

“তেমন কিছু নয়, উপযুক্ত পরিমাণে কিছুটা সেঁকো বিষ। তাহলে মন্ত্রের কাজ ভালো হবে।”

বিজ্ঞানের সাথে যে কোনো প্রকারের অন্ধ বিশ্বাসের একমাত্র এরকম “সেঁকো বিষ যুক্ত” সমন্বয়ই করা যায়। ধর্মের ক্ষেত্রেও এটা সত্য।

সুতরাং, কোনো বড় বিজ্ঞানী হয়ত বলতে পারেন, অনেক কিছু জানার পরেও আমাদের এত জানতে বাকি যে জগতের রহস্য যেন আরও নিগূঢ় হয়ে উঠছে। জগতের এই শৃঙ্খলা, এত জটিলতা—এসবের ব্যাখ্যা হয় না একজন সুপারপাওয়ারের কথা ধরে না নিলে। তখনও আমাদের প্রশ্ন থেকেই যাবে, ধরে নিলেই কি সমস্ত রহস্যের ব্যাখ্যা হয়? সকলেই জানেন, হয় না। একটি বাস্তব পরিঘটনার পেছনে আর একটি কোনো আরও মৌলিক ও বাস্তব পরিঘটনাকে খুঁজে পেলে দ্বিতীয়টার সাহায্যে প্রথমটার ব্যাখ্যা হয়। মেঘ কীভাবে উৎপন্ন হয় জানলে বৃষ্টির একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অন্যত্র সেই জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব হয়। কিন্তু ভগবান আমাদের বৃষ্টি দেন বললে নতুন কী জানা যায়? বৃষ্টি সম্পর্কে আমাদের এক দানাও জ্ঞান বাড়ে না। সেই জানা কাজেও লাগে না। যা জানি না, ঐশী শক্তি ঘটাচ্ছেন ধরে নিলেও তা অজানা এবং অধরাই থাকে। আবার অক্ষয় কুমারের ফরমুলায় বলতে হবে, জ্ঞানের জগতে একজন সুপারপাওয়ার আছে ধরে নেবার ফলও সেই শূন্যই। তবে আর তা ধরে নিয়ে কাম কী? অর্থাৎ, প্রশ্নটা ঝগড়ার নয়, ফলাফলের।

জ্ঞানের সাথে জ্ঞানের সমন্বয় হয়। জ্ঞানের সাথে অজ্ঞতার কোনো সমন্বয় হয় কি? হয় না বলেই বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের সমন্বয় সম্ভব নয়। যুক্তিবাদের সাথে কুসংস্কারের সমন্বয় সম্ভব হয় না। একটা চাইলে আর একটাকে ছাড়তে হবেই। ধর্ম হিন্দুকে বলে, গোমাংস ভক্ষণ করিও না, উহাতে মহাপাপ; ধর্ম মুসলমানকে বলে, কদাচ ভুলিও না, শুয়রের মাংস ভয়ানক হারাম। আর খাদ্য সংক্রান্ত বিজ্ঞান থেকে জানা যায়, রক্তচাপ হৃদরোগ ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদির সমস্যা না থাকলে বাল্য কৈশোর যৌবনে এই দুই (এবং আরও নানা) প্রকারের মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে শুধু ভালো নয়, অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অশিক্ষিত ধর্মান্ধ গোঁড়া হিন্দু-মুসলমানের কথা ছেড়ে দিন, শিক্ষিত উদার মনস্ক কতজন এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে আগ্রহী হবেন? বা আদৌ হয়ে থাকেন? এইভাবে দেখলে বোঝা যাবে, জীবনের সর্বক্ষেত্রেই বিজ্ঞান মনস্ক হতে চাইলে ধর্মমনস্কতাকে ছাড়িয়ে আসতে হবে। তা না হলে যেটা হবে সেটা আরও হাস্যকর। ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি তাঁদের শিক্ষার মালমশলা কাজে লাগিয়ে সেই ধর্মান্ধতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করবেন। অশৌচ পালনের সাথে ব্যাক্টিরিয়া নিধন, দাড়ি রাখলে গালে মশার কামড়ের হাত থেকে অব্যাহতি, ইত্যাদি . . . ।

উল্টোটা তাঁরা কেউ করবেন না। কোনো বিজ্ঞানশিক্ষিত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিই কখনও বলবেন না, অন্তত এযাবত আমি কাউকে বলতে শুনিনি, “আমাদের ঈশ্বর ভক্তির সঙ্গে আমরা কে কী খাই তার কোনোই সম্পর্ক নেই। ঈশ্বর মুরগিও দিয়েছেন, কলাও দিয়েছেন; গরুও দিয়েছেন, লেটুস পাতাও তৈরি করেছেন; ফুলকপিও বানিয়েছেন, শুয়রও পয়দা করেছেন। যিনি আল্লাহ তিনিই ভগবান তিনিই তো গড। নামে ভিন্ন হলেও আসলে তো এক। তা না হলে দুনিয়ায় অনেক ভগবানের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হত; সেটা সমস্ত ধর্মের পক্ষেই অস্বস্তিকর হয়ে যেত। সবই যখন সেই তাঁরই সৃষ্টি, তাঁর একটা জিনিস খেলে ভালো আর অন্য একটা খেলে দোষ হবে কেন? বিশেষ করে যখন এক ধর্মের নিষিদ্ধ খাদ্যগুলো অন্য ধর্মের ঈশ্বর বিশ্বাসীরা খেয়েদেয়ে দিব্যি হাজার হাজার বছর ধরে হজমও করেছে, টিকেও রয়েছে?” এইভাবে তাঁদের কেউ বলতে পারলে, ঈশ্বরব্যঞ্জনার কথাটা সত্য না হলেও একটা সমন্বয়ের আভাস অন্তত পাওয়া যেত। সেটুকুও আজ অবধি পাইনি।

আরও একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ দিই। ভারতে প্রতিবছর সাগরমেলায় বা প্রতি চার বছর অন্তর কুম্ভমেলায় লক্ষ লক্ষ লোক জড়ো হয়ে যে পবিত্র গঙ্গাস্নান করে তাতে সংশ্লিষ্ট জায়গায় ব্যাপক পরিবেশ দুষণ হয়। এই অসংখ্য মানুষের ফেলে যাওয়া বর্জ্য থেকে নদী সমুদ্র ও মেলার চারপাশের জল মাটি বায়ুর দীর্ঘমেয়াদি অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। অনেক সময় ব্যাপক দুর্ঘটনাটা ঘটে, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়। আরবে যারা হজ করতে যায় তাদের ক্ষেত্রেও এই একই কথা প্রযোজ্য। আজ পর্যন্ত কোনো একজন ধর্মপ্রাণ শিক্ষিত চিন্তাশীল মানুষকে বলতে শুনেছেন কি কেউ, “না, এরকম জমায়েত ভালো নয়। ব্যক্তি স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য—কোনোটার পক্ষেই ভালো নয়”? কেউ কি বলেছেন, “ভগবান বল, আল্লাহ বল তিনি সর্বত্র বিরাজমান; তাঁকে খুঁজতে বা পেতে এত ক্লেশ স্বীকার করে কোনো একটা বিশেষ জায়গাতেই বা যেতে হবে কেন? তুমি যেখানে আছ, সেখানেও তিনি আছেন। সেখানেই তাঁর পূজাপাঠ আরাধনা সেজদা কর”? আমার জানা নেই।

যদি ধর্মে বিশ্বাসী একজনও কেউ সাহস করে এসব কথা বলতে পারতেন, তাহলে বুঝতাম, সমন্বয়ের সামান্য হলেও সম্ভাবনা আছে। কিন্তু না। ধর্মে বিশ্বাসী কেউই তা বলতে পারেন না। পারেন না কেন না, তাঁরাও জানেন, শুধু একজন আপনভোলা ঈশ্বর নিয়ে ধর্ম হয় না। বাকি সমস্ত আচার বিচার প্রথা প্রকরণ গরু শুয়র টিকি দাড়ি আলতা সিঁদুর বোরখা মিলিয়েই ধর্ম। হিন্দুদের ক্ষেত্রে জাতপাত ছোঁয়াছুঁয়ি বজায় রেখেই ধর্ম। অন্তত বৃহত্তর জনসমষ্টির জন্য ধর্ম মানে তাই।

এই অবস্থায় বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করার একটাই মানে। তা হল, ধর্মবিশ্বাসীরা তাঁদের বিশ্বাস ও আচরণ থেকে এক চুলও নড়বেন না; বিজ্ঞান অনুরাগী যুক্তিবাদীদেরই তাঁদের জায়গা থেকে সরে আসতে হবে। মেনে নিতে হবে, হ্যাঁ, ধর্মে কিছু কিছু সত্য থাকলে থাকতেও পারে। ঈশ্বর বিশ্বাস থাকলে বিজ্ঞানের তো আর তেমন কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। অতএব আপাতত না হয় এরকম একটি প্রতিপাদ্যকে মেনে নেওয়াই যাক। আমার মনে হয়, বিজ্ঞানমনস্কতার তরফে এরকম ছাড় দেবার কোনো প্রয়োজন সপ্তদশ শতকে দকার্তের সময়ে থাকলেও আজ আর নেই। আমাদের পক্ষ থেকে এই সত্যটা স্পষ্ট উচ্চারণে বলতে পারা উচিৎ।

[চ]
পরিশেষে এ-ও দেখা দরকার, মানুষের জ্ঞান কোন রাস্তাতে বাড়ছে। যতদিন মানুষ শুধু ধর্মে গুরুতে মান্যগ্রন্থে বিশ্বাস করেছে ততদিন তার জ্ঞানের বিকাশ কতটা হয়েছে, আর যবে থেকে মানুষ জিজ্ঞাসার পথে, সংশয়ের পথে জানতে শুরু করেছে তখন থেকে তার জ্ঞানের বৃদ্ধি ও বিকাশের হার কী। এই তুলনায় গেলেই বোঝা যাবে কোনটা সত্যিকারের জানার পথ, আর কোন পথে হাঁটলে বিহারের ঘটনায় গিয়ে পৌঁছতে হবে। শুধু পদার্থবিজ্ঞান রসায়ন গণিত জ্যামিতি জীববিদ্যা ভূতত্ত্ব নৃতত্ত্ব ইত্যাদি নয়, ইতিহাস ভূগোল পুরাতত্ত্ব ভাষাতত্ত্ব অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রে প্রশ্ন করে করে উত্তর খুঁজতে খুঁজতে, একের পর এক সন্দেহ নিরসন করতে করতে, মানুষ জানছে। মানুষের জ্ঞান সমৃদ্ধতর হচ্ছে। এই পথ ছেড়ে দেওয়ার মানে হল এযাবত যা জেনেছেন তাকে একটা গুদামঘরে ঢুকিয়ে দরজায় তালা মেরে চলে আসা।

আমাদের দেশের ছাত্রদেরও তাই প্রশ্ন করতে শেখাতে হবে। শুধু বিজ্ঞানের বিষয় নয়, ইতিহাস ভূগোলও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শেখাতে হবে। সূর্য চন্দ্রকেও চেনাতে হবে। দিক চেনাতে হবে। ছোটবেলা থেকেই যেন দিকভ্রষ্ট হয়ে না যায়। ইতিহাসের শিক্ষককেও ক্লাশে সংশ্লিষ্ট ভূগোলের মানচিত্র নিয়ে ঢুকতে হবে। শিক্ষার মধ্যে আরও অনেক কিছু করতে হবে, করা যায়। বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রেই শুধু নয়, শিক্ষার সমস্ত প্রকোষ্ঠেই বিজ্ঞানকে নিয়ে যেতে হবে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তিকে নিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞান-মনস্কতা বৃদ্ধির আর কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই।

পুনশ্চ: এই প্রবন্ধে কোনো ধর্মবিশ্বাসীর ব্যক্তিগত বিশ্বাসে আঘাত দেবার কোনো অভিপ্রায় ছিল না। তথাপি যদি কেউ আহত বোধ করেন তার জন্য আমি আমার অসহায়তা প্রকাশ করে রাখছি। বিহারের ঘটনাটি জানার পর ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ে বিজ্ঞানমনস্কতার পক্ষ থেকে উপরোক্ত কথাগুলি উচ্চারণ না করে আমিও পারছিলাম না।



মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 121 -- 140
Avatar: π

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

টি, সোশিওবায়োলজির কাজকর্মগুলো দেখিস। আর এটা বিজ্ঞান বলেই অনেকে মনে করেন। ঐ রেপ নিয়ে স্টাডিও এই সোশিওবায়োলজিতেই পড়ে।
Avatar: cm

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

এখানে ক্যাচ হচ্ছে ঐ বুঝে ফেলার ব্যাপারটাতে। এই বোঝা বলতে আমরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতির সাথে মেলে এমন কিছুর কথা বলি। সিম্বলের ভাষায় যা প্রকাশ পাবে তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নাও হতে পারে। কম্পিউটার যে ভাষা বোঝে।
Avatar: T

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

পাইদি, খেয়াল করো আমি কিন্তু একটা প্যাটার্নের উল্লেখ করেছি। যেখানে ইমপ্লায়েড থিয়োরীর স্কোপ বেশী মানে ইন জেনারেল সেক্ষেত্রে সেটির বিজ্ঞানে (এগেইন পপারিয়ান সেন্সে) পর্যবসিত হতে কোনো অসুবিধে নেই তো। এইবার উলটো দিকের স্কুলের মতামত অনুযায়ীও (মানে যারা বেসিয়ান ফিলোজফার) বিজ্ঞান হতেই পারে। প্রবাবিলিস্টিক সেন্সে। না হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ফলসিফিকেশন একটা দূর্দান্ত ইয়ার্ডস্টিক বলেই মনে হয়, কারণ অবশ্য অনেকবারই লেখা হ'ল।
Avatar: একক

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

"এখানে ক্যাচ হচ্ছে ঐ বুঝে ফেলার ব্যাপারটাতে। এই বোঝা বলতে আমরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতির সাথে মেলে এমন কিছুর কথা বলি। সিম্বলের ভাষায় যা প্রকাশ পাবে তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নাও হতে পারে। কম্পিউটার যে ভাষা বোঝে।"

এক্স্যাক্টলি সো ! ভারতীয় দর্শন বা এককথায় প্রাচীন দর্শনের লোকেরা "প্রত্যক্ষ " বলতে যা বোঝেন সেটা অনেকটা ওই "আঁখো দেখি " সিনেমাটার মত । ওটা কিন্তু ফেলে আসা মডেল । আদৌ বিজ্ঞান নয় ওটা । ওই বৃদ্ধকে কোনো প্যারালাক্স ডায়াগ্রাম যদি দেখানো হত যেখানে তিনি যেটা দেখছেন সেটা সত্য নয় তাহলেই ওই সো কল্ড যুক্তির জগৎ মুহুর্তে ভেঙ্গে পড়ত । এবং সিনেমাটার ইন্টিগ্রিটি এই কারণেই ভাললেগেছিল যে লোকটি জীবন শেষ করছে পাহাড় থেকে ঝাঁপিয়ে বা তার নিজের ব্যখ্যায় উড়তে উড়তে । প্রাচীন যুক্তিবাদের নিয়তি এটাই । প্রত্যক্ষ জিনিষটা গুরুত্ব পেয়ে যাওয়ায় মরীচিকায় শেষ হয় । একই কারণে ওই ওই দর্শনভিত্তিক রাজনীতিও যদিও এপারেন্টলি দেখে মনে হয় বিজ্ঞান ।

এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার সীমা থেকে বেড়িয়ে পারস্পরিক যুক্তির মডেল টা বিজ্ঞান । বিজ্ঞান "ঠিক " না :) বিজ্ঞানের একটা প্রয়োগ ঠিক না ভুল সে নিয়ে পাঁচ পাতা তক্কো হতে পারে । বিজ্ঞান জাস্ট একটা থটমেশিন।
Avatar: π

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

স্কোপ বেশি কথাটাই তো ট্রিকি। কত কিছু মেজার করে বলা হচ্ছে বেশি ?

এই মুহূর্তে এই নিয়েই দিনরাত লেকচার শুনে যাচ্ছি। কোন স্টাডি তে সব্কিছু মেজার করা সম্ভব নয়, সেই সবকিছু কনসিডার করা হলে কোনটা রিক্স ফ্যাক্টর বেরোত কোনটা না, বলা কঠিন। তাও রিস্ক ফ্যাক্টর বলছি, কজেশন না। একেবারে র‌্যাণ্ডম কন্ট্রোল ট্রায়াল করল তবেই এই নন মেজারড ফ্যাক্টরগুলোকে কিছুটা কন্ট্রোল করা সম্ভব। কোন অবজার্বেশনাল স্টাডিতেই সম্ভব নয় ( আর আমি হার্ড সায়েন্সের কথাও বলছি না)। কিন্তু এগুলো সবই বিজ্ঞান বলেই চলে।
সেজনয়ই মেটা আনালিসিস করতে গেলে দেখা যায় কী পরিমাণে ইনকনসিস্টেন্সি আছে।
Avatar: T

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

স্কোপ কথাটা কেন ট্রিকি হতে যাবে। ওটা একশো শতাংশ নির্দিষ্ট। একটা থিয়োরী বা থিয়োরেমের প্রাথমিক অ্যাসাম্পশন গুলো নির্ধারিত করে সেই থিয়োরী বা থিয়োরেমের স্কোপ। সমস্ত কালো বেড়ালদের জন্য কেউ থিয়োরী বার করলে সেই থিয়োরী দুনিয়ার সমস্ত কালো বেড়ালের জন্য প্রযোজ্য। তার স্কোপ অনেক বেশী। বাংলার কালো বেড়ালদের জন্য বার করলে সেই অনুযায়ী স্কোপ। এই তো ব্যাপার। গোলটাতো বাধে একটা দিয়ে আরেকটা মাপতে গেলে। 'স্টাডি' বা এম্পিরিক্যাল অবজার্ভেসন ঠিক আছে, তা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। বস্তুতঃ তর্কটা সেগুলো নিয়ে হচ্ছেও না।
Avatar: π

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

বিজ্ঞানের অমুক স্টাডি তমুক রেজাল্ট দিয়েছে, অতএব উহা সত্য, এই নোশনটা নেই নাকি ?
Avatar: T

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

স্টাডি হচ্ছে স্টাডি, আগেই বলেছি, এটা কিছু এম্পিরিক্যাল অবজার্ভেশন। 'বিজ্ঞানের অমুক স্টাডি' বলতে কি বোঝাচ্ছ। বিজ্ঞান নামক একটি বৃহৎ ছাতার তলায় সব ঢোকালে কি করে হবে। এটা ভাষাগত সমস্যা। 'অতএব উহা সত্য' এই পার্টটাই তো গোলমালের সৃষ্টি করছে। দ্যাখো, এম্পিরিরক্যাল অবজার্ভেশন থেকে কেউ 'থিয়োরী' বানালে (বেইজিয়ান স্কুল বা ফ্রিকোয়েন্টিস্টস ) সেইটে তখন অন্য স্কুলের ব্যাপার। তাতে সমস্যা নেই কিছু।

পপারের অ্যাঙ্গেলটা বিভিন্ন আর্গুমেন্টকে একই এরিনায় টেস্ট করছে। এই আর্গুমেন্ট কালেকশনের মধ্যে সবকিছুই ধরা হচ্ছে। তুমি বাইবেল মারফত সমস্ত ভৌত ঘটনার এক্সপ্ল্যানেশন দাও, একই ইয়ার্ডস্টিক দিয়ে সেগুলো মেপে দেখা হবে। তুমি এমপিরিক্যাল অবজার্ভেশন থেকে ধ্রুব সত্য বার করলে তাকেও টেস্ট করা যেতে পারে। নিউটনকেও। সেইজন্যই এই মডেল ধরা হচ্ছে।

না হ'লে তো বলাই যায় যে, সেভেন্টি পার্সেন্ট বৃষ্টি। বা একত্রিশ পার্সেন্ট লোক চাড্ডি। স্টাডি মারফত এই, স্টাডি মারফত ঐ। এতে আমাদের কোনো অসুবিধে নেই। কারণ প্রচুর কন্ট্রাডিক্টিং স্টাডি রিপোর্ট সাবজেক্টটাকেই হয়তো আরো বেশী কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখবে। ;) কিন্তু তোমাদেরকেই ঠিক করতে হবে যে, ম্যাও কিভাবে সামলাবে। আইদার তোমরা প্রমাণ করে দাও আনপ্রেডিক্টেবিলিটির ঈশ্বর আরো মহার্ঘ জিনিস, এবং একধাক্কায় ডেমোক্রিটাস বনাম এপিকিউরাস ডিবেটের মীমাংসা হয়ে যাক, অথবা আফ্রিকার সেউ ফল সংক্রান্ত স্টাডি দিয়ে বাংলাদেশের কুমড়োফুলের চাষকে পোস্ট মডার্ন অ্যাঙ্গেল থেকে রিজনেবল এক্সপ্ল্যানেশন, সোশিওবায়োলজি, বিস্তর মারামারি, চা ধূমপান, ও সবশেষে কেষ্টার প্রবেশ।
Avatar: ঈশান

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

সোশিওবায়োলজি আমার পছন্দের জিনিস না। ওটা সায়েন্স না হলে আমি বেঁচে যাই। অলরেডি রেপ এর ট্রেট নিয়ে অজস্র রাবিশ পড়েছি। :-)

কিন্তু হোয়াট অ্যাবাউট বিবর্তনবাদ? সেটাও তো একই রকম দোষে দুষ্ট। দুইখানা সূত্রঃ প্রাকৃতিক নির্বাচন, আর যোগ্যতমের উদ্বর্তন। ল্যাঙ্গুয়েজ একদম ভিতরে ঢুকে বসে আছে। 'যোগ্য', 'নির্বাচন' এইসবের মধ্য দিয়ে। সে কি বিজ্ঞান? টি কী বলে?
Avatar: dc

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

টি বেসিয়ান ফিলজফি উল্লেখ করে ভালোই করেছেন, কারন প্রোব্যাবিলিস্টিক স্টেটমেন্ট সমূহ পপারিয়ান ফলসিফিকেশান মডেলের আরেকটা লিমিটেশান - উহাদের ফলসিফাই করা যায়্না।

পাই ম্যাডাম আর ঈশান বোধায় "সায়েন্স" অ্যাস আ প্র্যাকটিস আর "সায়েন্স" অ্যাস এ মডেল (বা স্ট্রাকচার) এর মধ্যে গুলিয়ে ফেলছেন। "সায়েন্স" অ্যাস অ মডেল যখন দেখা হয় তখন তার কিছু আন্ডারলাইং রুলস থাকে আর কিছু অ্যাসাম্পসানস বা অ্যাক্সিওমস থাকে - যেকোন মডেলেই থাকে, "রিলিজিয়ন"এও থাকে। কিন্তু সায়েন্স অ্যাস এ প্র্যাক্টিস যে সবসম্যেই অক্ষরে অক্ষরে সেই রুলস মেনেই হয় তা তো না। বিশেষ করে সোশ্যাল স্টাডিজ, মেডিসিন, অ্যানথ্রোপোলজি ইত্যাদি ফিল্ডগুলোয় যখন অনেকগুলো অবসার্ভেশানের ওপর বেস করে ইন্ডাকটিভ রুল বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন যে পৃথিবীর সমস্ত স্টাডি রিগর মেনে করা হচ্ছে তা তো একেবারেই না! এই পুরো প্রসেসটাই যথেষ্ট কেঅটিক, ভুলে ভরা, নানারকম ইন্টারেস্ট গ্রুপ ইনফ্লুএন্স করার চেষ্টা করে, এগুলো সবকটাই ঠিক। কিন্তু তাও কোথাও একটা চেষ্টা করা হয় যাতে ইন দ্য লং টার্ম অবজেক্টিভিটি যতোটা সম্ভব বজায় থাকে। সেজন্যই, যেমন আপনি বল্লেন, নানারকম মেটাস্টাডিও হয়, কোহর্ট স্টাডিও হয়, নতুন মাপকাঠিও উঠে আসে (যেমন এফেক্ট সাইজ কনসিডারেশান)। পুরোটাই তো চলমান প্রসেস। "বিজ্ঞানের অমুক স্টাডি তমুক রেজাল্ট দিয়েছে, অতএব উহা সত্য" - এটা হয়ত কিছুটা মিডিয়া আরোপিত, অ্যাক্চুয়ালি অ্যাকাডেমিক সার্কলে এভাবে খুব একটা তো দেখা হয়না। স্টাডিকে স্টাডি হিসেবেই দেখা হয়, উইথ অল ইটস লিমিটেশানস, অ্যান্ড উইথিন ইটস ডিফাইনড বাউন্ডারিস। নাহলে আর এক্সটার্নাল ভ্যালিডিটি নিয়ে এতো তর্ক হয় কেনো?
Avatar: প্রত্যখহ

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

উঃ মাইরি ! স্রেফ একটা প্যারালাক্স ডায়াগ্রামের অভাবে একটা দর্শনের জগৎ এতকাল দাঁড়িয়ে আছে । ছো-ও-ও কিউট ।
Avatar: T

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

আরে বিবর্তনবাদ নিয়ে আমার খুবই ভাসা ভাসা আইডিয়া। সেই নাইন টেন না কবে পড়িচি। বেসিক্যালি বায়োলজির কণামাত্র আছে এইরম কেস আমি কিসুই বুঝি না। একইঞ্চির মোটা বইপত্তর দেখলেই সরে পড়ি। এসব নির্লজ্জ ভাবে স্বীকারও করছি।
কিন্তু আমি কি বলি তা দিয়ে তো কিচ্ছু হচ্ছে না। তুমি বিবর্তনবাদ নাও। পপারের স্ট্রাকচারে ফেলো। ফেলার আগে আগে ঠিক ভাবে ফর্মুলেট করো যাতে ভাষার গল্প না থাকে। দ্যাখো সে পাশ করল কিনা। করলে ঐ, না করলে হৈহয় সংঘ।
Avatar: T

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

কিন্তু কালকের আপেলের উদাহরণটা যে জলে গেছে সেটা স্বীকার করছ তো।
Avatar: ashoke mukhopadhyay

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

আমি আলাদা করে বিতর্কে না গিয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলির দু একটিতে আমার মত জ্ঞাপন করতে চাই।

[১] প্রথমত, প্রমাণ সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণার সঙ্গে প্রাক-আধুনিক (প্রাক-কোপারনিকাস) বিজ্ঞান ও দর্শনের বিরাট ফারাক। কোন সিদ্ধান্ত কোন পর্যবেক্ষণ ও তথ্যের উপর দাঁড় করানো হয়েছে, এই নিয়েই অনেক সমস্যা ছিল। যাকে পর্যবেক্ষণ বলে ধরা হত, তাকেই আবার প্রমাণ বলেও মনে করা হত। ধোঁয়া থাকলে আগুন—এই সিদ্ধান্তটা আগুন থাকলে ধোঁয়াও থাকে, এরকম পর্যবেক্ষণের উপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ, পর্যবেক্ষণটাই ঘুরে গিয়ে প্রমাণ হয়ে বসছে।

আধুনিক বিজ্ঞানে শুধু পর্যায়ক্রমিক পর্যবেক্ষণই নয়, আগুনের সাথে ধোঁয়ার সম্পর্কও দেখা হয়, বোঝার চেষ্টা করা হয়। কোন ক্ষেত্রে আগুন থাকলেও ধোঁয়া হবে না, কোথায় ধোঁয়া হবে আগুন ছাড়াই—এগুলোও বিচারের মধ্যে চলে আসে। একমাত্র এইভাবে কোনো বিশেষ ধরনের ধোঁয়া দেখে আগুনের অস্তিত্ব অনুমান করাটা যুক্তিসিদ্ধ হয়।

এইভাবে বিচার করলে বোঝা যাবে, তলেমি-র সিদ্ধান্তের প্রমাণ আসলে নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের মধ্যেই ঘুরপাক। তার থেকে আর এগোনো যায় না। গ্যালিলেওর প্রমাণ মানে তা নয়। সেই জন্য তলেমি থেকে আর এক পাও এগোনো যায়নি প্রায় এক হাজার বছর ধরে। বরং গ্রহগুলির গতি বুঝতে গিয়ে জটিলতা বেড়েছে। আর, কোপারনিকাস থেকে গ্যালিলেওর আবিষ্কারে আসতে পঞ্চাশ বছরের সামান্য বেশি লেগেছিল। সৌর পরিবারের এক বিরাট অদেখা অংশ একে একে উদ্ঘাটিত হয়েছিল।

শুধু পৃথিবী আর সূর্য বা চন্দ্র ধরলে তলেমি আর কোপারনিকাসের তত্ত্বের মধ্যে কোনো তফাত হয় না। কিন্তু যে মুহূর্তে একই সঙ্গে বুধ বা বৃহস্পতির কক্ষপথ বোঝার চেষ্টা করা হয়, দুটোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা দেয়।

[২] ধর্ম আর বিজ্ঞান—দুই জায়গাতেই প্রামাণ্য গ্রন্থের অস্তিত্ব আছে। কিন্তু একটা ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান দুই ক্ষেত্রে। ধর্মগ্রন্থের বেলায় যত পুরনো, তত শাশ্বত, তত মূল্যবান, তত বেশি “জ্ঞানগর্ভ”। বিজ্ঞানের গ্রন্থের বেলায় যত পুরনো তত মূল্য কমতে থাকে, জ্ঞানের ভার হ্রাস পায়। ধ্রুপদী বলবিদ্যা পড়ার জন্য আজকাল কেউ নিউটনের “প্রিন্সিপিয়া” পড়ে না। আধুনিক বই পড়ে। তাতে নিউটনের তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতর জ্ঞানের খবর থাকে। পক্ষান্তরে গীতা, কোরান, বা বাইবেল—আধুনিক যে কোনো ধর্মগ্রন্থের তুলনায় অনেক বেশি জ্ঞানবান বলে ধর্মবিশ্বাসীর কাছে প্রতিভাত হয়। এই কারণেই এই দুইয়ের মধ্যে কোনো তুলনা হয় না।

আর ঠিক এই কারণেই ধর্ম একটা মতাদর্শ হলেও বিজ্ঞান আর একটা মতাদর্শ নয়। বিজ্ঞান হচ্ছে সত্য জ্ঞানের একটা বিশেষ ধরনের অবিকল্প সংগঠন।

Avatar: Rit

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

'আফ্রিকার সেউ ফল সংক্রান্ত স্টাডি' --- হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

" বিজ্ঞান হচ্ছে সত্য জ্ঞানের একটা বিশেষ ধরনের অবিকল্প সংগঠন।" ঠিক কেন ? কেননা " আধুনিক বিজ্ঞানে শুধু পর্যায়ক্রমিক পর্যবেক্ষণই নয়, আগুনের সাথে ধোঁয়ার সম্পর্কও দেখা হয়, বোঝার চেষ্টা করা হয়। কোন ক্ষেত্রে আগুন থাকলেও ধোঁয়া হবে না, কোথায় ধোঁয়া হবে আগুন ছাড়াই—এগুলোও বিচারের মধ্যে চলে আসে। একমাত্র এইভাবে কোনো বিশেষ ধরনের ধোঁয়া দেখে আগুনের অস্তিত্ব অনুমান করাটা যুক্তিসিদ্ধ হয়।" অর্থাৎ সেই পপার " theories that are either not falsifiable or falsifiable and falsified have no place in science. রিজিড এবং গোঁড়া ।

কিন্তু বিজ্ঞানের বৈপ্লবিক থিয়োরি গুলির অনেকগুলোই এই " clear, unambiguous, precisely formulated" পথে আসেনি বরং উল্টো পথে এসেছে । বিজ্ঞান হচ্ছে সত্য জ্ঞানের অবিকল্প সংগঠন বলবার অর্থ ইতিহাস অস্বীকার করে এক গোঁড়া মতাদর্শ প্রচার । " A look at history shows that science hardly ever gets its results in this way. When Copernicus introduced a new view of the universe, he did not consult scientific predecessors, he consulted a crazy Pythagorean such as Philolaos. He adopted his ideas and he maintained them in the face of all sound rules of scientific method. " Mechanics and optics owe a lot to artisans, medicine to midwives and witches. জ্ঞান আহরণের অসংখ্য পন্থা এবং সেই পন্থার অন্যতম পন্থা বিজ্ঞান এই মাত্র ,তাকে বাকি মতাদর্শের মতই দেখা উচিৎ ,খুব বেশী উচ্চ স্থান দেওয়ার প্রয়োজন নেই ।

The only principle that does not inhibit progress is: anything goes. বিজ্ঞানই জ্ঞানের একমাত্র অবিকল্প পথ - মতাদর্শ প্রচার মাত্র ।
Avatar: pi

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

ওঃ, ডিসির পোস্ট এই দেখলাম। উত্তর দেবার আছে, পরে লিখছি।
Avatar: dc

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

এই তর্কটা আরেকটা টইতেও হচ্ছে, সেটাও দেখে নিতে পারেনঃ

http://www.guruchandali.com/guruchandali.Controller?portletId=8&po
rletPage=2&contentType=content&uri=content1473918572063

Avatar: ashoke mukhopadhyay

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

To Debabrata Chakraborty: তথ্যটা এবং উদাহরণ—দুটোই ভুল। প্রথমত কোপারনিকাস শুধু পিথাগোরাস সম্প্রদায় নয়, তার বাইরেও আরও অনেকের থেকেই (যেমন অ্যারিস্তার্কাস) ইনপুট নিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, সেই সব ইনপুট নিয়ে কোপারনিকাস কী করলেন? তিনি কি একটা মতবাদ শুধু মাত্র দিলেন? আর কে কে তলেমির বিকল্পে আর কী কী মতবাদ দাঁড় করাল? গ্যালিলেও থেকে ফেয়েরাব্যান্ড পর্যন্ত আর কে কে অন্য কার কার থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্য কী কী ধারণা (মতবাদ) নিয়ে অন্য কত রকম মতবাদ প্রতিষ্ঠা করলেন—এইটা সুনির্দিষ্ট উদাহরণ সহ বলুন। না হলে এ শুধু মুখের কথা হয়ে রইল, যুক্তি নয়। তথ্য তো নয়ই।

বিজ্ঞানের বিকল্পে (তথ্য যুক্তি প্রমাণ ও প্রয়োগ বাদ দিয়ে) অন্য কোন কোন পন্থায় কী কী জ্ঞানের বিকাশ হল সেটাও উদাহরণ সহ বলা দরকার। অন্তত দু চারটে। না হলে এ শুধু ফেয়েরাব্যান্ডের মুখের কথার প্রতিধ্বনি, সলিড কোনো যুক্তি নয়। তথ্য তো নয়ই। নিছক মন্তব্য।

Avatar: মহসিন

Re: বিজ্ঞান-মনস্কতার অ-আ-ক-খ # দুই

মানুষের সমস্ত জ্ঞানই মানুষের নিজ অর্জন । একদিন এমন সময় আসে , জীবনে- যখন সব ভাল মানুষেরাই নিঃসঙ্গতায়, বিপদের আশঙ্কায় ভুগে থাকেন শেষ মেশ । তখনও কিন্তু অজানা ধর্ম দর্শনই কেবল নিরাময় হয়ে থাকে, বিজ্ঞানও অবসলুট বোধ হয়তে থাকে। বিজ্ঞান সুধু চালক পিছনের সিটের, কিন্তু নিরামক অনাগত সময়; না, কোনদিনই না। ধর্ম অজানাই হতে হবে কিন্তু অযাচিত হওয়াটাও বোধহয় উচিৎ না; দেশ ও কাল তাইতো ধর্মের সত্যিটাকে জানিয়ে যাচ্ছে যুগে যুগে, মিথ্যেটুকু বাদ দিয়ে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 121 -- 140


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন