রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    আমাদের পাশের পাড়ায় একটা কালিপুজো হত আদর্শ বালক সঙ্ঘের নামে।আমার জন্মের বহু আগে থেকে সেই পাড়ার কাকা জ্যাঠারা তারা যখন বালক ছিল সেই সময়ে ওই পুজোটা চালু করে।সেই জন্যই নাম ছিল আদর্শ বালক সঙ্ঘ বা এবিএস।তো বালকরা কালের নিয়মে কৈশোর পার করে যৌবনে উপনীত হল, তাতেও ...
  • বৃত্ত
    ১)এখনসকাল থেকেই বাড়িটায় হুলুস্থুলু, কি না কাজের লোক হার চুরি করে ধরা পড়েছে। "গত দুবছর ধরে তোকে খেতে পরতে দিচ্ছি, কাজ করতেও শিখিয়েছি, তার এই প্রতিদান?"ঘোষগিন্নীর গলাটা প্রায় পাড়ার মুখ থেকে শোনা যাচ্ছিল।"আসলে বৌদি, ছেলেটার অপারেশন করতে হবে, তোমাকে তো বলেছি, ...
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    বারো তেরো বছর আগেকার কথা।তখন হৈ হৈ করে দুর্গা পুজো কালি পুজোর চাঁদা তুলতাম।একবার হয়েছে কি যে যে বাড়ির কোটাগুলো ছিল সেই সব কটা বাড়ির চাঁদা তোলা হয়ে গেছে।হাতে আরো কয়েকদিন সময়ও আছে।তো নতুন মার্কেট ধরার জন্য আমরা পাড়া থেকে একটু দূরে গেলাম।যদি কিছু চাঁদা আরো ...
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    বারো তেরো বছর আগেকার কথা।তখন হৈ হৈ করে দুর্গা পুজো কালি পুজোর চাঁদা তুলতাম।একবার হয়েছে কি যে যে বাড়ির কোটাগুলো ছিল সেই সব কটা বাড়ির চাঁদা তোলা হয়ে গেছে।হাতে আরো কয়েকদিন সময়ও আছে।তো নতুন মার্কেট ধরার জন্য আমরা পাড়া থেকে একটু দূরে গেলাম।যদি কিছু চাঁদা আরো ...
  • বিসর্জন
    বিসর্জনঝুমা সমাদ্দারপড়ে রইল রাফখাতার শেষ পৃষ্ঠার এলোমেলো আঁকিবুকি... হলুদ প্লাস্টিকের ঝুটো দুল... চুলের তেলের গন্ধওয়ালা মাথার বালিশ...বেলতলার লাল কাঁকুড়ে পথ ... পড়ে রইল স্কুল ... আমগাছের নীচের বাঁধানো বেদী... পড়ে রইল হাসি-গল্প- ঝগড়া- খুনসুটি... বেগুনী ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৩
    http://bigyan.org.in...
  • বেতারে ‘অপারেশন সার্চলাইট'
    #MyStory #WarCrime #Joy71 #FFবিপ্লব রহমান, ঢাকা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কারফিউ জারি করে বিদ্রোহ দমন করার নামে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, এর সামরিক অভিধা ছিল— ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে মুক্তিকামী ...
  • জ্যামিতি: পর্ব ২
    http://bigyan.org.in...
  • আমি যারে ভালবাসি, তারে আবার বাসি না...
    আটের দশকে এসএসসি পরীক্ষার পর আমার স্কুলের বন্ধুরা কেউ স্পোকেন ইংলিশ, কেউ বেসিক ইংলিশ, কেউ বা শর্টহ্যান্ড-টাইপরাইট...
  • চড়াই ঠাকুমা
    আজকে তো বিশ্ব চড়াই দিবস। এই প্রসঙ্গে আমার ছোট বেলার চেনা চড়াইদের কথা মনে পড়ছে। অসমে তখন ব্রিটিশ আমলের বাংলো বাড়ী নেই নেই করে ও ছিলো। ঠান্ডা গরমে সমান আরামের হতো বলে সেগুলোর এবং অন্য অনেক বাড়ীর চাল হতো সোনালী খড়ের, আঞ্চলিক ভাষায় আমরা বলতাম ছনের চাল। এরকম ...

সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

রৌহিন

সিঙ্গুরের রায় বেরোনোর পর থেকে চারদিকে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। সুপ্রীম কোর্ট জানিয়েছেন, সিঙ্গুরের জমির অধিগ্রহন অবৈধ ছিল এবং হাজার একর জমিই তার মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে আগামী বারো সপ্তাহের মধ্যে। পক্ষে, বিপক্ষে, এখন যারা পক্ষে আছেন তাদের মধ্যে কয়জন ডিগবাজি খেয়েছেন, সত্যিই এই রায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি করল না লাভ – এসব নানা প্রশ্নে, নানা দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, নানা পথে আলোচনা চলেছে।। আমি এই আলোচনায় বেশী অংশ নিই নি – কারণ আমার কিছু ভাবার ছিল। ইন্সট্যান্ট রিয়াকশন দিতে পারিনি। নিজেকে জাস্টিফাই করার দরকার হয়েছিল। আমি কোনদিকে, নিজেও সংশয়ে ছিলাম। তারপর মাঝে বাউ এর একটা পোস্টে লিখলাম, “আগে যারা শিল্প চলে গেল বলে কেঁদেছিল, যাদের অনেকেই এখন সিপিএমকে তেড়ে গাল দিচ্ছেন – তাদের মধ্যে আমিও একজন – এই ওপেন ফোরামে স্বীকৃত ও লজ্জিত হলাম” বলে। কিন্তু মনে হয়েছিল, তারপরেও কিছু বলার থেকে গেল। সেটা এবার বলি।
প্রসঙ্গতঃ এই বলাটা শুধু সিঙ্গুর প্রসঙ্গে নয় – বা বলা ভালো সিঙ্গুর প্রসঙ্গে আদৌ নয় – ওটা উপলক্ষ মাত্র। আমার বক্তব্য আমার নিজের একটা জার্নি বিষয়ে – গত ছয় / সাত বছরের। যে সময়টার আগে পর্যন্ত সিঙ্গুর প্রশ্নে বুদ্ধবাবুকে সমর্থন এবং তীব্র মমতা বিরোধিতা করে গেছি নির্দ্বিধায়। এবং যে সময়টার পরে, মমতার সমর্থক হয়ে না গিয়েও, বুদ্ধবাবুর সমর্থকও আর থাকতে পারিনি। গত ছয় সাত বছরে কিছু ক্ষেত্রে যে আমূল পালটি খেয়েছি, এটা তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবতঃ।
যখন তৃণমূল আন্দোলন করছে, ধর্ণা দিচ্ছে, এবং আমরা তাদের রাজনীতির সমালোচনা করছি, তখন যে কটা বিষয়ে খুব জোর দিয়েছিলাম –
প্রথমতঃ, বিশ্বাস করেছিলাম, এখানেই এই শিল্পের সেরা জায়গা – অন্যত্র, বাঁকুড়া বীরভূমের অনাবাদী জমি কিংবা হাওড়ায় বন্ধ কারখানার জমি উপযুক্ত নয়, কারণ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার এসব জায়গায় নেই – এসব না দিলে শিল্পপতিরা শিল্প করতে আসবেন না। কী করে বিশ্বাস করেছিলাম তা জানিনা, বোধ হয় বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম বলেই করেছিলাম।
দ্বিতীয়তঃ বিশ্বাস করেছিলাম, সিঙ্গুরের ন্যানো কারখানা পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প মাণচিত্রে উপরের দিকে এনে দেবে। এই বিশ্বাস করায় বিশ্বাস করুন, সিপিএমের চেয়ে তৃণমূলের কৃতিত্ব বেশী – তারা এত তীব্র বিরোধিতা না করলে এটা হওয়া যে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিশ্বাসটা মনের মধ্যে এঁটে বসত না।
তৃতীয়তঃ মেনে নিয়েছিলাম যে কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। "নিয়েছিলাম"। অতীতকাল।
চতুর্থতঃ বিশ্বাস করেছিলাম যে চাষীদের যে ক্ষতিপুরণ দেওয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট ভালো – দেশের সেরা প্যাকেজগুলোর মধ্যে একটা
এবারে, ওই সমর্থন করা কালীন যে দুটো বিষয় খুব ভাবিয়েছিল, যাকে আমরা বিশ্লেষণের ভাষায় এনোমালি বলি, তাদের কথা বলি –
প্রথমতঃ, আশেপাশে যাদেরকে চিনি, ভদ্রলোক, চিন্তাভাবনা করেন, তারা সবাই প্রায় দেখেছি এ ব্যপারে বুদ্ধবাবুর সমর্থক, মমতাকে বিধ্বংসী রাজনীতির কারবারী বলছেন, অথচ সেই লোকসভা ভোট থেকেই শুরু হল তৃণমূলের জয়জয়কার। এই ভোটগুলো তাহলে কারা দিচ্ছে? এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার পুরোটাই কি রিগিং, নাকি আমি এত মানুষের সঙ্গে কথা বলেও এই সংখ্যাগরিষ্ঠকে চিনিই না? এই প্রশ্নটা বারে বারে হন্ট করেছে।
দ্বিতীয়তঃ তিনটে নাম। মমতার “বুদ্ধিজীবি সেলে” এমনিতে যারা ছিলেন বা আছেন, তারা অধিকাংশই মিডিওকার – কেন স্রোতে ভাসছেন, তার সহজ ব্যখ্যা হয়। ব্যখ্যা পাইনি তিনজনের ক্ষেত্রে – মহাশ্বেতা দেবী, মেধা পাটেকর আর কবীর সুমন। এঁদের কারোই কিছু প্রমাণ করার ছিল না – কিছু তেমন পাবারও না – তা সত্ত্বেও ওই অবস্থান মঞ্চে এরা কেন? এমনও তো নয় যে এঁদের জোর করে ধরে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনজনেই বেশ এক্টিভ – কেন?
কিন্তু এই দুটো এনোমালি উপেক্ষা করেই সমর্থন জারি ছিল। তাহলে গত তিন চার বছরে কী এমন ঘটল? যার জেরে পালটে গেল আমার সমর্থন, দৃষ্টিভঙ্গী? ঘটল – আমার জীবনে। আমার বৌদ্ধিক চর্চায়। যার জন্য শুরুতেই বলেছি – সিঙ্গুর এখানে উপলক্ষ মাত্র – এই বক্তব্য আসলে আমার ব্যক্তিগত জার্ণি বিষয়ক। গত ছয় সাত বছরে আমার মননের জগতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা সম্ভবতঃ গুরুচন্ডালীতে যোগদান। এখানে এসেছিলাম কিছু নামের টানে – আর নিজেকে একটু জাহির করব ভেবে। কিন্তু এখানে আরো অনেককে পেলাম – যাদের সামনে জাহির করা দূরে থাক, নিজেকে নেহাৎ ই চুণোপুঁটিতুল্য বলে চিনে নিতে সময় লাগলো না। এখান থেকে পেতে লাগলাম নতুন দৃষ্টিভঙ্গী – বহুত্ববাদের নতুন ব্যখ্যা। সেই সঙ্গে আরো দু-একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা – এই সময়কালে আমি ভারতের দু-তিনটি বিশেষ অঞ্চলকে কাছ থেকে চিনলাম – ওড়িশা, ত্রিপুরা এবং ছত্তিশগড়। আর এই সময়েই পড়ে ফেলা কিছু আন্তর্জাতিক সাহিত্য - যা নতুন করে চিনতে শেখালো আমার চারিদিকটাকে। এই কাছ থেকে দেখা, এবং তার সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গীর, এপ্রোচের পরিবর্তন আমার ভাবনায় প্রভাব ফেলতে শুরু করল। আগের ভাবনার এনোমালিগুলো বড় হতে হতে আর উপেক্ষণীয় রইল না।
প্রথম এনোমালি – সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে চিনি কি না – ক্রমশঃ নিশ্চিত বোঝা গেল, সত্যিই চিনতাম না। ততদিন অবধি যাদের বক্তব্য মূল্যবান মনে করেছি, এবং যাদের বক্তব্য টিভিতে বা কাগজে বিদগ্ধদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হতে দেখেছি – তারা সবাই মূলতঃ মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক সম্প্রদায়ের প্রতিভূ। এর আগে যখন ছাত্রাবস্থায় বা প্রথম যৌবনে বামপন্থী রাজনীতি করতে গিয়ে গরীব মানুষের মধ্যে গিয়ে থেকেছি, কাজ করেছি, তখন নিজের অজান্তেই, পরিবার এবং শিক্ষার প্রভাবে, তাদের সংগে একটা দূরত্ব থেকেই গেছিল। অর্থাৎ এরা গরীব গুর্বো মানুষ, আমাদের এদের জন্য কিছু করা উচিৎ - নইলে বেচারাদের কী হবে এরকম একটা মানসিকতা। ঠিক প্রকটভাবে এরকমটাই নয় – কিন্তু প্রচ্ছন্নভাবে যে এরকমটাই ছিল, সেটা তখন না বুঝলেও এখন দিব্যি বুঝি। আর এই দূরত্বটার কারণেই তাদের কোনদিন ঠিকমতো চিনিনি আমি, আমরা। মধ্যবিত্ত বামপন্থী কর্মীরা। সিপিএম / ডি ওয়াই এফ আই / এস এফ আই এর “ক্যাডার”রা। নব্বই এর দশক এবং তার পরের। কারণ তখন সেই পারস্পেক্টিভ আমাদের ছিলনা – যা পেয়েছি গুরুচন্ডালী এবং তার বিভিন্ন চিন্তকের সূত্রে। সব রকম মতবাদের চিন্তকেরাই এর মধ্যে আছেন – বাম, অতি বাম, মধ্য, দক্ষিণ, চরম দক্ষিণ।
আর দ্বিতীয় খটকা – ওই তিনটে নাম। এরা কিন্তু কেউ নিজেদের কাজের বাইরে যাননি – অস্বাভাবিক কিছু করেননি। মেধা নর্মদায় যা করেছেন, মহাশ্বেতা পুরুলিয়ায়, সুমন তার গানে – এখানে সেই ধারাবাহিকতাই তাঁরা বজায় রেখেছেন (কবীর সুমন নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে – কিন্তু ক্রনোলজিকালি, সুমনের পদস্খলন এর অনেক পরের ঘটনা)। তারা সেই সব মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, যাদের জমি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের “উন্নয়নে”র চাকার তলায় চাপা পড়েছেন। আমরা তখন বুঝেছিলাম, নিজেদের মগজ বন্ধক রেখেই বুঝেছিলাম এটা আসলে তাদের “ভালো”র জন্যই – কারণ তখনো ভাবতাম তাদের ভালো আমরা ছাড়া কে-ই বা করবে।
তাহলে দাঁড়ালো কি? সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে তখন সমর্থন করতাম, এখন করছি না। কেন করছি না? কারণ এখন আমার কাছে বিষয়টা অন্য পরিপ্রেক্ষিতে ধরা দিয়েছে। এখন আমি আর মনে করি না, সিঙ্গুরের (বা নন্দীগ্রাম, বা হরিপুর, বা দান্তেওয়াড়া, বস্তার, কালাহান্ডি, রায়পুর, বালুরঘাট এবং এবং এবং --) মানুষের ভালো বা মন্দ করা আমাদের দায়ীত্ব। সেটা তাদের দায়ীত্ব, এবং সে দায়ীত্ব নিতে তারা যথেষ্ট সক্ষম, যদি বাইরে থেকে অবিরত নাক গলানো বন্ধ করা হয়। সিঙ্গুরের জমি, অধিগ্রহণের আগে তিন ফসলী ছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রে – এই জমিতে কারখানা করার কোন জাস্টিফিকেশন দেখি না। হয়তো যে সব অংশে কন্সট্রাকশন হয়ে গিয়েছিল, জমি সংস্কার করলেও তারা আর আগের মত উর্বর থাকবে না (আমি কৃষিবিদ নই – সঠিক জানি না), তবুও এ জমি চাষীদের ফেরৎ পেতে দেখে আমি খুশী। তাঁরা যথেষ্ট কুশলী এবং পরিশ্রমী – আজ না হলেও কয়েক বছর পরে ওই জমি আবার তার আগের চরিত্র ফিরে পাবে বলেই আমার ধারণা।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ণ দরকার আছে বলে মনে করি কি না? শিল্পায়ণ হলে কর্মসংস্থান হবে, বেকার যুবক যুবতীরা কাজ পাবে, রাজ্যের মেধা ভিনরাজ্যে পাড়ি দেবে না – এগুলি চাই কি চাই না? ছয় বছর আগে হলে নির্দ্বিধায় বলতাম হ্যাঁ চাই এসব। এখন আর বলতে পারিনা ততটা জোরে। কারণ, যারা এসব বলেন, তারা প্রায় সবাই একটা ভাসা ভাসা ধারণা থেকে কথাগুলো বলেন। শিল্পায়ণ হলে কী ধরণের কর্মসংস্থান কতটা হবে তার পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই । যাদের আছে, তারা জোর দিয়ে বলতে পারেন না, সেই কর্মসংস্থানের সঙ্গে জমি অধিগ্রহণের কী সম্পর্ক? কেন কৃষিজমিতেই শিল্প হতে হবে? কেন বন্ধ কারখানার জমি অধিগ্রহণ করে নতুন শিল্প করা যাবে না? কেন বাঁকুড়া পুরুলিয়া অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত অনুর্বর, পতিত জমিতে শিল্প হবে না এবং তার প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা হবে না? এবং সব শেষে আরেকটা প্রশ্ন ছোট্ট করে রেখে যাই – “মেধা ভিন রাজ্যে চলে গেলে” ক্ষতি কি? মেধা মানে তো প্রকৃত মেধাবী নিয়ে মাথা ঘামানো হচ্ছে না – এখানে “মেধা” বলতে সেই মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকের পাশ করা ছেলেমেয়েদের কথা বলা হচ্ছে। তারা পাশ করেছে, ভালো চাকরি করবে বলে – যেখানে পাবে, সেখানেই যাবে। যেখানে যাবে সেখানকার অন্ন ধ্বংস করে আয়েশ করবে – কেউ কেউ লোকদেখানো চ্যারিটি করবে। এরা বাড়ির ভাত খেতে পেলো কি না, তাতে অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের, অবশিষ্ট ভারতের কী যায় আসে?
বস্তার থেকে রায়পুরে দেখেছি, কালাহান্ডি থেকে ভূবনেশ্বরে দেখেছি, সোনাই থেকে আগরতলায় দেখেছি, কাঁথি থেকে কলকাতায় দেখেছি – কিভাবে “উন্নয়নে”র নামে সর্বত্র নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষকে উৎখাত করে, তাদের পেশা থেকে, জীবনযাত্রা থেকে, সংস্কৃতি থেকে উচ্ছেদ করে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে আরো আরো প্রান্তে – যাতে সুবিধাভোগী শ্রেণীর জন্য আরো সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা যায়। তা তাদের প্রাণের মূল্যেই হোক না কেন। এই দেখার পর আর সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে শাইনিং পশ্চিমবঙ্গের কোন কথা বিশ্বাস করিনা। সিঙ্গুর রায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনাকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেয় নি – কৃষিজীবি দরিদ্র মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে। বামপন্থী আন্দোলনকে দিশা দেখিয়েছে – আয়রনিকালি হলেও।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 135 -- 154
Avatar: PT

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

কথা তো ছিল পরিবর্তনের ধ্বজা ওড়ানোর। বাম আমলের শাক দিয়ে ৬ বছরের পচা মাছ ঢাকার দুরূহ প্রচেষ্টা দেখে মনে হচ্ছে সেসব বিশেষ কিছু হয়নি। আর লিং তো দেওয়াই যায়ঃ
"TMC driving away industries from Bengal"
http://www.sunday-guardian.com/news/tmc-driving-away-industries-from-b
engal


তবে সত্যি কথাটা বেরিয়ে এল দেখছিঃ নারী পাচারের সঙ্গে কন্যাশ্রীর কি সম্পর্ক? আম্মো তো সেই সম্পর্ক খুঁজছি!! তার মানে বছরে ৫০০/৭০০ টাকা আর ১৮ বছর হলে বিয়ের পণের টাকার খানিকটা দিয়েও মেয়েদের স্কুলে এবং বাড়িতে ধরে রাখা যাচ্ছে না।

ফাঁকা তক্ক করার আগে অনেকে নজর করেনি যে পব-তে পূর্ব মেদিনীপুর স্বাক্ষরতায় এক নম্বরে আর মেয়েদের স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৭১%। কিন্তুঃ
‘গত বছর দুয়েক যাবত্ পশ্চিমবঙ্গে নদীয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ১৪ -১৭ বছরের মেয়েদের বেশি করে টার্গেট করা হচ্ছে ৷ স্কুলছাত্রীদের অনেক বেশি করে টার্গেট করছে দালালরা ৷ আগে এই ধরনটা ছিল না৷" http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=25947&boxid=14195233
3

অর্থাৎ কিনা কন্যাশ্রীর কারণে যাদের স্কুলে থাকার কথা তাদের পাচার করা বেড়েছে?
আর কি আশ্চর্য, নন্দীগ্রাম, যেখানে চাকরী সৃষ্টির কথা বলা হয়েছিল একদা সেটা পূর্ব মেদিনীপুরে না?
Avatar: এলেবেলে

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

আজ্ঞে না, মৃতপ্রায় টইকে বাঁচিয়ে বা ভাসিয়ে তোলার তেমন ইচ্ছা নেই । তবে হাজার হাজার হাজরা ... থুড়ি চাকরির টোপ বা স্বপ্ন দেখানো গুজরাতের অবস্থাটা কী হয়েছিল দেখা যাক — “… the state government in Gujarat would lend Rs. 97,500 million virtually interest free (at the interest rate of Re 1 per Rs 1,000) repayable over 20 years. Public land worth Rs 11,000 million would be handed over to them free of any stamp duty and other transfer charges. Payment for the land was to be made in 8 installments at 8% interest. Many knowledgeable people … have claimed that the Modi government incurred a loss of Rs 180,000 million in its effort to attract the Tata-Nano project worth Rs 150,00 million to Rs 200,000 million”. কী কী শর্তে টাটাদের জমি দেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেই নিরুপম সেন বেদজ্ঞ ঋষির মত নিমীলিত নেত্রে ‘ট্রেড সিক্রেট’ এই কারণেই বলতেন নাকি ? ওঁর দলেরই একদা মন্ত্রী অশোক মিত্র এ ব্যাপারে ৮৫০ কোটির ঘাপলা না কীসব উল্টোপাল্টা যেন বলেছিলেন না ?

সিঙ্গুর ছেড়ে যাবার সময় টাটা বলেন (নাকি লেখেন?) “Unfortunately, the confrontation by Trinamool Congress led by Mamata Bannerjee and supported by vested interests and certain political parties, opposing the acquisition of land by the state government, have caused serious disruptions to the progress of the Nano plant”. আগের প্যারাটা পড়লে গন্ধটা খুব সন্দেহজনক মনে হচ্ছেনা ?

এহ বাহ্য ! ওঁর প্রশ্ন — “Would they (people and youth of WB) like to support the present government of Buddhadeb Bhattacharjee to build a prosperous state with the rule of law, modern infrastructure and industrial growth, or would they like to see the state consumed by a destructive political environment of confrontation, agitation, violence and lawlessness?” কিষেণজির মমতা-বন্দনা এর পরে না ? আর এই সব বলার কিছুদিন বাদেই উনি ওঁর বহুপ্রার্থিত গুড এম-কে পেয়ে গিয়েছিলেন না ? আর টাটা স্টিলের এম ডি না কে যেন সদ্য মিউনিখে গিয়ে মমতার হয়ে দাঁত কেলিয়ে এলেন না ? আর হর্ষ নেওটিয়া এবং সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এখন পাল্টি খেয়েছেন না ? আর ...

আসলে বয়সের কারণে সব কিছু ছাতা মনেও থাকে না !!!

Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

" কথা দিয়েছিলাম জমি ফিরিয়ে দেবো।কথা রেখেছি"-মমতা

পিটি দা বাইটস প্লিজ
Avatar: PT

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ঝড়ে বক মরে/ফকিরের কেরামতি বাড়ে!!
Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

এই রকম সিরিয়াস ব্যাপারে এ কী রকম বাইটস

সিঙ্গুর আন্দোলন বলে কিছু হয় নি?
Avatar: PT

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

বাইট দিতে বলেছিলে, দিলাম -আবার ফুটনোট চাইছ কেন?

তবে চাইলেই যখন, দিই। আন্দোলন নয়-লোক ক্ষ্যাপানো হয়েছিল। কিন্তু সে যাই হয়ে থাকুক, যারা ফয়দা ৫ বছর আগেও তুলেছে আর এখনো তুলছে তারা পরে উড়ে এসে জুড়ে বসে। আমি ভীড়ের মধ্যে ২১ দলের প্রতিনিধিদের খুঁজছিলাম........

এমনটা হয়েই থাকে!! (সম্ভব্তঃ) মডার্ন টাইমসের একটা দৃশ্যের মত। চ্যাপলিন অভিনীত চরিত্রটি উদ্ভ্রান্তের মত হাঁটতে হাঁটতে একটি রাস্তায় ঢুকে এসে শ্রমিকদের একটা মিছিলের সামনে পড়ে যায়। সবাই, একটু পরে পুলিশও তাকে মিছিলের নেতা ঠাউরে ফেলে........
Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

😊😊😊
Avatar: DKG

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

আজ Telegraph এ পড়লাম যে 1000 একর জমি-ই নিতে বলা হচ্ছে মেদিনীপুর-এ ? তাহলে কি হলো - গাড়ি কারখানার ও অনুসারী শিল্পের জন্য 1000 একর জমি দেওয়া এই সরকারের কাছেও খুব অবাস্তব কিছু নয় ?
Avatar: PT

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

কিংবা শেষ পর্যন্ত মেনে নেওয়াই হল যে গাড়ীর কারখানার জন্যে সত্যি সত্যিই ১০০০ একর জমি লাগে?
Avatar: amit

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

আপনারা বড়ো শোরগোল করেন। বামেদের 1000 একর আর দিদির 1000 একর কি এক হলো ? দুই আর দুই তে কি সব সময় চার হয় ?
Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

" পিটি দ আর সিপিএম একসর ইয়ে বাঁতে করতে হ্যায় .... আগর তুম হো তে তো ক্যায়সা হোতা, তুম ইস বাত পে কিতনা মুশকুরাতে,তুম ইস বাত পে কিতনা হয়রান হো যাতে।

পর হামে ভি মালুম হ্যায় তুম( সিপিএম) কহি বেহি হো। পর মুঝে লাগতা হ্যায় তুম এহি কয়ি হো"

☺☺☺
Avatar: sm

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

কিংবা শেষ পর্যন্ত মেনে নেওয়াই হল যে গাড়ীর কারখানার জন্যে সত্যি সত্যিই ১০০০ একর জমি লাগে?
-----
এখানে অন্তত কেউ মানেনি। আপনি মানেন কি ?
প্রথমত,গাড়ির কারখানার জন্য এখন ও কোনো জমি দেওয়া হয়নি।
যদি দেওয়া হয়, তাহলে সবচেয়ে কম কত জমি লাগতে পারে সেই ভেবেই দেওয়া উচিত।
শিল্পপতি চাইলো আর সেইমতো দিয়ে দিলাম আর অতিরিক্ত কিছু বোনাস এমন টা হবেনা বলেই মনে হয়। হলে সেটা অবাস্তব ই হবে।
Avatar: PT

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

তাহলে আগেও যেমন এখনো তেমন লুস টক যাকে বলে সে রকমই চলছে আর কি.......
BMW তো বলেই দিয়েছে যে ভারতে তাদের দ্বিতীয় দোকান কেনার কোন চিন্তা নেই....তাও বাজার গরম রাখার জন্যেই কি তাদের নামোচ্চারণ করা হল?

বোতিনঃ বাংলায় বল-বাংলার "দাদা" হিন্দিতে "দ' হয়েছে দেখছি!!
Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

পিটি দা তোমাকে নিজের ভেবে একটু ঠ্যাং টানলুম।আশা করি কিছু মনে করো নি।
Avatar: PT

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

আরেন্নাঃ, আমি কিছু মনে করিনি।
Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ধন্যবাদ পিটি দা।
Avatar: Bratin

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

ধন্যবাদ পিটি দা।
Avatar: DKG

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

Quoted from The Telegraph - link
http://www.telegraphindia.com/1160915/jsp/frontpage/story_108281.jsp#.
V9ovkU197Dc


extract
"I am saying this here today. I give you one month. Think a little. In a month's time, I will give you 1,000 acres of land. In Goaltore, we have such land in the land bank. Would you do it? It is our land, the government's, not snatched away forcibly from the people," said Mamata.
Avatar: amit

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

একেই বলে কনফিডেন্স। দিদি দেখিয়ে দিলো গোটা দুনিয়া কে। কোথায় লাগে রজনীকান্ত? হয় আমার রাস্তা, নাহলে ন্যাশনাল হাইওয়ে (আবার বন্ধ হবে)।
Avatar: de

Re: সিঙ্গুর রায়ঃ আমি কেন পালটি খেলাম

সিঙ্গুর পুরোটাই রয়ে গেলো শুধু দেখানোরই খেলা হয়ে - কখনো এরা, কখনো ওরা - শুধুই ইগোর লড়াই!

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 135 -- 154


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন