বিপ্লব রহমান RSS feed

biplobr@gmail.com
বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • এক অজানা অচেনা কলকাতা
    ১৬৮৫ সালের মাদ্রাজ বন্দর,অধুনা চেন্নাই,সেখান থেকে এক ব্রিটিশ রণতরী ৪০০ জন মাদ্রাজ ডিভিশনের ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে রওনা দিলো চট্টগ্রাম অভিমুখে।ভারতবর্ষের মসনদে তখন আসীন দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঔরঙ্গজেব।কিন্তু চট্টগ্রাম তখন আরাকানদের অধীনে যাদের সাথে আবার মোগলদের ...
  • ভারতবর্ষ
    গতকাল বাড়িতে শিবরাত্রির ভোগ দিয়ে গেছে।একটা বড় মালসায় খিচুড়ি লাবড়া আর তার সাথে চাটনি আর পায়েস।রাতে আমাদের সবার ডিনার ছিল ওই খিচুড়িভোগ।পার্ক সার্কাস বাজারের ভেতর বাজার কমিটির তৈরি করা বেশ পুরনো একটা শিবমন্দির আছে।ভোগটা ওই শিবমন্দিরেরই।ছোটবেলা...
  • A room for Two
    Courtesy: American Beauty It was a room for two. No one else.They walked around the house with half-closed eyes of indolence and jolted upon each other. He recoiled in insecurity and then the skin of the woman, soft as a red rose, let out a perfume that ...
  • মিতাকে কেউ মারেনি
    ২০১৮ শুরু হয়ে গেল। আর এই সময় তো ভ্যালেন্টাইনের সময়, ভালোবাসার সময়। আমাদের মিতাও ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে নবমীর রাত্রে আমাদের বন্ধু-সহপাঠী মিতাকে খুন করা হয়। তার প্রতিবাদে আমরা, মিতার বন্ধুরা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সোচ্চার হই। (পুরনো ...
  • আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি- ২
    আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে বেঁধে রেখেছ তুমিমায়া নামক মোহিনী বিষে...অনেক দিন পরে আবার দেখা। সেই পরিচিত মুখের ফ্রেস্কো। তখন কলেজ স্ট্রিট মোড়ে সন্ধ্যে নামছে। আমি ছিলাম রাস্তার এপারে। সে ওপারে মোহিনিমোহনের সামনে। জিন্স টিশার্টের ওপর আবার নীল হাফ জ্যাকেট। দেখেই ...
  • লেখক, বই ও বইয়ের বিপণন
    কিছুদিন আগে বইয়ের বিপণন পন্থা ও নতুন লেখকদের নিয়ে একটা পোস্ট করেছিলাম। তারপর ফেসবুকে জনৈক ভদ্রলোকের একই বিষয় নিয়ে প্রায় ভাইরাল হওয়া একটা লেখা শেয়ার করেছিলাম। এই নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে বেশ কিছু মতামত পেয়েছি এবং কয়েকজন মেম্বার বেক্তিগত আক্রমণ করে আমায় মিন ...
  • পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর
    পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি আদিবাসী গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো ...
  • আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি
    The long narrow ramblings completely bewitch me....The silently chaotic past casts the spell... অতীত থমকে আছে;দেওয়ালে জমে আছে পলেস্তারার মত;অথবা জানলার শার্শিতে নিজের ছায়া রেখে গিয়েছে।এক পা দু পা এগিয়ে যাওয়া আসলে অতীত পর্যটন, সমস্ত জায়গার বর্তমান মলাট এক ...
  • কি সঙ্গীত ভেসে আসে..
    কিছু লিরিক থাকে, জীবনটাকে কেমন একটানে একটুখানি বদলে দেয়, অন্য চোখে দেখতে শেখায় পরিস্হিতিকে, নিজেকেও ফিতের মাপে ফেলতে শেখায়। আজ বিলিতি প্রেমদিবসে, বেশ তেমন একখান গানের কথা কই! না রবিঠাকুর লেখেন নি সে গান, নিদেন বাংলা গানও নয়, নেহায়ত বানিজ্য-অসফল এক হিন্দি ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️গঙ্গাপদ একজন সাধারণ নিয়মানুগ মানুষ। ইলেকট্রিকের কাজ করে পেট চালায়। প্রতিদিন সকাল আটটার ক্যানিং লোকাল ধরে কলকাতার দিকে যায়। কাজ সেরে ফিরতে ফিরতে কোনো কোনোদিন দশটা কুড়ির লাস্ট ডাউন ট্রেন।গঙ্গাপদ একটি অতিরিক্ত কাহিনির জন্ম দিয়েছে হঠাৎ করে। ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমার মা সিরাজী বিটি~

বিপ্লব রহমান

সেদিন ছুটির দিনে সকালে আমার ৭৪ বছর বয়সী মা’র ঘরটা গুছিয়ে দিচ্ছিলাম। বাসার সকলে যে যার কাজে ব্যস্ত। বিছানার চাদর-বালিশের কাভার বদলে দেয়া, ঘরের মেঝে পরিস্কার ইত্যাদি।

মা তখন বাথরুমে। দরজা ভেড়ানো। আটকা পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কায় তার দরজায় ছিটকিনি তোলা নিষেধ। সেখান থেকেই কথা হলো দু-একটি। জানালেন স্নান করবেন না। আজ নাকি শরীরটা তেমন ভালো নেই। ইত্যাদি। এরপর ঘন্টা দুয়েক পর আমি চা করে নিয়ে ডাকতে গিয়ে দেখি তখনো তিনি বাথরুমে। স্নান করারও কোনো শব্দ নেই।

আমি যতোবারই ডাকি ওনাকে, উনি সাড়া দেন, এই এখনই বেরুচ্ছি। বেরুচ্ছি তো। এমনি করে আরো ১০-১২ মিনিট কাটলো। শেষে আমি থাকতে না পেরে লজ্জা-শরম বাদ দিয়েই বাথরুমে ঢুকে পড়লাম। দেখি হাই কমোড থেকে ওঠার চেষ্টা করেও বুড়ি আর উঠতে পারছেন না। খানিকটা ভর দিয়ে উঁচু করে উঠে আবার বসে পড়ছেন। শরীরে হাল্কা জ্বর। আমি তাকে ধরে ধরে বিছানায় এনে শুইয়ে দেই।

ডাক্তারের পরামর্শে তাকে জ্বরের অষুধ দেই। মাথাটা পানি দিয়ে মুছে দেই। রান্নার খালাও ওনার পরিচর্যা করেন। ডাক্তারের পরামর্শে তার জন্য পঙ্গু হাসপাতালের সামনে থেকে হাল্কা পাইপের একটি লাঠি কিনে আনি। সেই থেকে আমার মা’র লাঠি এখন সার্বক্ষণিক সঙ্গী। আর প্রায়ই সময়ই জ্বর থাকে তার। সব সময় ঘর অন্ধকার করে শুয়ে থাকেন। গৃহকর্মে আর আগের মতো মন নেই।

অথচ এই কিছুদিন আগেও এই বয়সে সব কাজ এক হাতে সামলেছেন। কাজ না করলে নাকি তার ‘ভাল লাগে না’ এমন কথা সব সময় বলতেন। ছিলেন হিন্দি-বাংলা টিভি সিরিয়াল দেখার পোকা। এখন সব পাট বুঝি চুকেছে। কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছেন। অনেক তল্লাসী করেও ডাক্তার তার তেমন অসুখও খুঁজে পান না। অরুচিটুকু ছাড়া। সেই থেকে বুকের ভেতর কাঁটা বিঁধে আছে। অষ্টপ্রহর চিনচিনে এক ব্যাথা। দুঃস্বপ্ন দেখে বার বার জেগে ওঠা। কোনো বছরই মা দিবস আমার কাছে কোনো অর্থ বহন করে না। এবারও তাই। তবু এবার ফেসবুকে বন্ধুজনের মা’কে নিয়ে করা নানান পোষ্ট আমাকে বিষন্ন করে।

অথচ সেই ছোটবেলায় দেখছি, আমার রেডিও অফিসের কেরানী মা সৈয়দা আসগারী সিরাজী খুব ভোরে উঠে পাঁচটি ছেলেমেয়ের নাশতা, দুপুরের খাবার-- সব তৈরি করে ছুট লাগাতেন কর্মস্থলে। এরপর বিকেলে এসে আবার সবার জন্য দুই চুলায় বড় বড় হাঁড়িতে রান্নাবান্না। বালতি ভর্তি কাপড় ধোয়া। ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা ইত্যাদি। জ্ঞান হওয়া পরে বুঝেছি, আমার মা বাস ভাড়ার সামান্য পয়সা বাঁচানোর জন্য খর রোদের ভেতর হেঁটেই অফিস যাতায়ত করতেন। বাসায় ফেরার সময় বাজার করেও ফিরতেন। সে এক কঠিন লড়াই হে।

আমার মা’র পরিবারটি শিক্ষা-দীক্ষা, গান-বাজনায় খুব অগ্রসর। নানু সৈয়দ ইসাহাক সিরাজী ছিলেন সিরাজগঞ্জের নামকরা স্কুল মাস্টার। তার বড়ভাই-- কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। তিনি ছিলেন কাজী নজরুলের বন্ধু। আর আমার নানু বাড়ির নাম ‘বাণীকুঞ্জ’ নামটিও নজরুলের দেয়া। দুজনেই তুরস্ক যুদ্ধে একসাথে লড়েছিলেন। আর ইসমাইল সিরাজীর ছেলে, মা’র চাচাতো ভাই আসাদুল্লাহ সিরাজীও ছিলেন কবি, গীতিকার। অনেক সুন্দর গজল লিখেছেন তিনি।

একসময় আমার মা ছিলেন ডাক সাইটের সুন্দরী। তখনকার সিনেমা নায়িকা মধুমালা’র সঙ্গে মিলিয়ে মা’র নাম রাখা হয় ‘মধু’। আমার নানি আদর করে মা’কে ‘সিরাজী বিটি’ (সিরাজীর মেয়ে) বলে ডাকতেন। নানু’র উৎসাহে আমার মা স্কুল-কলেজে পড়ার সময় গান-বাজনা করতেন। পাকিস্তান আমলে মঞ্চ নাটকও করেছেন। এই করতে গিয়েই আমার বাবার সঙ্গে তার পরিচয়। আমার বাবা বিয়ের পর কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে মা’কে মডেল করে অনেক সাদাকালো ছবি তুলেছিলেন।

আমার বাবা আজিজ মেহের (৮৪) সব সময় কৃষক রাজনীতি নিয়ে কাটিয়েছেন ব্যস্ত সময়। বহু বছর জেল খেটেছেন। এক সময় বিখ্যাত নকশাল নেতা ছিলেন। সারাদেশ চষে বেড়িয়েছেন। সংসারে কখনো মন দেননি। আর পুরো সংসারের ঘানি টেনেছেন মা একাই। বাবা এখন সারাক্ষণ বই পড়ে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। এই বয়সেও তার মাথাটি খুব পরিস্কার।

ছোটবেলায় দুষ্টুমীর জন্য, পড়ায় ফাঁকি দেয়ার জন্য, এমনই সব বিবিধ কারণে মা’র কাছে অনেক বেতের বাড়ি খেয়েছি। কখনো হাত পাখার বাড়ি। আবার কখনো ভাত রান্নার কাঠের হাতা’র বাড়িও (স্থানীয় ভাষায় – নাকড়)। সেই সব কথা মনে করলে এখনো চোখ ভিজে যায়।

আমার মা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন ছেলেমেয়েদের জন্য। বিনিময়ে পাননি কিছুই। আমরা সকলেই কেমন নিখুঁত স্বার্থপর, যন্ত্র মানুষ। আসলে মায়েরা বোধহয় এমনই হন। আর যুগ যুগ ধরে তার ছেলেমেয়েরাও।…

---
মূল লেখাটি এখানে: http://biplobcht.blogspot.com/2016/05/blog-post_11.html


শেয়ার করুন


Avatar: প্রতিভা

Re: আমার মা সিরাজী বিটি~

লেখাটি আমাকে নিজের কাছেই বড় লজ্জিত করলো। মা একদম পঙ্গু। এই কঠিন ব্যস্ততার জীবনে কিছু অবহেলা নিশ্চয়ই হয়।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আমার মা সিরাজী বিটি~

লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার মাকে বিনম্র শ্রদ্ধা


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন