Sakyajit Bhattacharya RSS feed

Sakyajit Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস
    এই লেখাটি চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওয়েবম্যাগে প্রকাশিত। এইখানে আবারও দিলাম। যাঁরা পড়েন নি, পড়ে দেখতে পারেন। বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যেসবিষাণ বসু“সোমপ্রকাশ। - স্বয়ং হার্বাট স্পেন্সার একথা বলেছেন। আপনি হার্বাট স্পেন্সারকে ...
  • অতীশ দীপংকরের পৃথিবী : সন্মাত্রনন্দের নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা
    একাদশ শতকের প্রথমদিকে অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধধর্ম ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানভাণ্ডার নিয়ে বাংলা থেকে তিব্বতে গিয়েছিলেন সেখানকার রাজার বিশেষ অনুরোধে। অতীশ তিব্বত এবং সুমাত্রা (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) সহ পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃর্ণ ভূভাগে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের ...
  • the accidental prime minister রিভিউ
    ২০০৫ সালের মে মাসে ইউপিএ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে হঠাৎ একটা খবর উঠতে শুরু করল যে প্রধাণমন্ত্রী সব ক্যাবিনেট মিনিস্টারের একটা রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবেন।মনমোহন সিং যখন মস্কোতে, এনডিটিভি একটা স্টোরি করল যে নটবর সিং এর পারফর্মেন্স খুব বাজে এবং রিপোর্ট কার্ডে ...
  • উল্টোরথ, প্রসাদ ও কলিন পাল
    ছোটবেলা থেকেই মামাবাড়ির 'পুরোনো ঘর' ব'লে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ঝিমধরা দুপুরগুলি অতিবাহিত হতো। ঘরটি চুন সুরকির, একটি অতিকায় খাটের নীচে ডাই হয়ে জমে থাকত জমির থেকে তুলে আনা আলু, পচা গন্ধ বেরুত।দেওয়ালের এক কোণে ছিল বিচিত্র এক ক্ষুদ্র নিরীহ প্রজাতির মৌমাছির ...
  • নির্বাচন তামসা...
    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এবার হচ্ছে একাদশ তম জাতীয় নির্বাচন। আমি ভোট দিচ্ছি নবম জাতীয় নির্বাচন থেকে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখার সুযোগ পেয়েছি বেশ কয়েকবার। আমার দেখা নির্বাচন গুলোর মাঝে সবচেয়ে মজার নির্বাচন ...
  • মসলা মুড়ি
    #বাইক_উৎসব_এক্সরে_নো...
  • কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর
    ক্লাস ফোরে যখন পড়ছি তখনও ফেলুদার সঙ্গে পরিচয় হয়নি, পড়িনি হেমেন্দ্রকুমার। কিন্তু, যথাক্রমে, দুটি প্ররোচনামূলক বই পড়ে ফেলেছি। একটির নাম 'শয়তানের ঘাঁটি' ও অপরটি 'চম্বলের দস্যুসর্দার'। উক্ত দুটি বইয়ের লেখকের নাম আজ প্রতারক স্মৃতির অতলে। যতদূর মনে পড়ে, এই ...
  • যোজনগন্ধা
    ভূমিকা এই উপন্যাসের শুরু জানতে গেলে সময়ের স্রোতকে বলতে হবেএকটু উল্টোবাগে চলো। আইন করে নীল চাষ বন্ধ হয়েছে সদ্য সদ্য। তার কিছু আগের থেকে এ উপন্যাসের কুশীলবদের পথচলা শুরু। সুন্দরবন লাগোয়া ভবানীপুর গ্রামে রামতনু মুখার্জ্জীর পারবারিক প্রথা পুত্রবধূর প্রথম ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য"মা " এই শব্দ টার সাথে, আমরা যারা লিভিং উইথ অটিজম একজনের মা ,তখন আমাদের নামের আগে একটা লড়াকু শব্দ দেয়াই যায়। আমরা একটা নিরস্ত্র যুদ্ধ করি।সকাল থেকে রাত।কাউকে ছোট করছিনা,মা মাত্রই তাই করেন বিশেষ করে যদি কর্মরতা ...
  • ভাসানের গল্প এবং
    ভাইফোঁটার স্মৃতির জোয়ারে চাপা পরে গেল ভাসানের গল্প. আমার ছোটবেলার সিঁথির গায়ে তখনো নকশাল আমলের দগদগে ঘা. বাঙ্গাল উদ্বাস্তুর সর্বহারানোর শেষে ফিরে-দাঁড়ানোর লড়াইতে সঙ্গী এপার বাংলার বিভিন্ন জেলার থেকে আসা মানুষেরা. কলকাতায় উড়তে থাকা সোনার টুকরো খপ করে ধরে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

যে বল মারতে নেই

Sakyajit Bhattacharya

টি-২০ আসার পর ক্রিকেট দেখা সম্বন্ধে সব উৎসাহ হারিয়ে গেছে। কাল যে ইডেনে ম্যাচ ছিল সেটাও কাল দুপুরবেলা জেনেছি। কিন্তু ইডেনের ম্যাচ থাকলেই আমার ১৯৯৬ সালের এক বিকেলের কথা মনে পড়ে যায়। তখন আমি ১৪, এবং ভারতের যে কোনো টেস্ট ম্যাচ হলেই টিভির সামনে বসে যেতাম বাধ্য ছাত্রের মত। মায়ের বকাবকি পরীক্ষার চাপ সব কিছু অগ্রাহ্য করেই।


টেস্ট-ম্যাচটা ছিল ইন্ডিয়া বনাম সাউথ আফ্রিকা্র। আমার ম্যাচটার কথা মনে আছে হ্যান্সে ক্রোনিয়ের জন্য। সেই ম্যাচে ক্রোনিয়ে খুব খারাপ খেলেছিলেন। ফার্স্ট ইনিংসে সম্ভবত দশের নিচে করেছিলেন। সেকেন্ড ইনিংসে ৩৪। এবং ৩৪-এর মত একটা অকিঞ্চিৎকর রান যে আমি মনে রেখেছিলাম তার একটা বিশেষ কারণ ছিল।


তখন ছিল শীতকাল, এবং গংগার দিক থেকে বিপজ্জনক হাওয়া আসছিল। অজয় বসু বলেছিলেন বিকেলে ব্যাট করতে নামলে বোলারের আগে হাওয়া সামলাতে হবে। ঠিক এরকম সময়েই ২৭ রানে ক্রোনিয়ে ক্রিজে ছিলেন। বাইরে তখন আস্তে আস্তে আলো মরে আসছে এবং চামড়া কেটে দাঁত গেঁথে দিচ্ছে মারণ হাওয়া। একটা দুটো করে পাড়ার দোকানগুলোতে আলো জ্বলে উঠছে । হালকা কুয়াশার চাদর ধীরে ধীরে তার সাম্রাজ্য বিস্তার করছিল গোটা শহরটার ওপর। এবং তখন জাভাগাল শ্রীনাথ তাঁর মারণ-বাণ ছুঁড়লেন। বলটা অফে পড়ে বিপজ্জনকভাবে সুইং কেটে ধেয়ে গেল ক্রোনিয়ের দিকে।


ক্রোনিয়ে পেছনের পায়ে ভর করে ব্যাট তুলেছিলেন। বলটা তাঁর কাঁধ বরাবর আসছিল। কাঁধটা ছড়িয়ে দিয়ে ব্যাট এগিয়ে দিলেন। এবং তারপর, একদম শেষ মুহূর্তে বল ছোঁবার আগে আস্তে করে ব্যাট ওপরে তুলে দিলেন। বল হাওয়া কেটে বেঁকে সাঁ করে জমা হল মোংগিয়ার হাতে।


হা হা শীতের বিকেলের ইডেন ঠিক এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনর্গল কথার ফাঁকে অজয় বসুও চুপ। দর্শক বা ফিল্ডার, কেউ শব্দ করছিল না। এক মুহূর্ত বাদে পুষ্পেন সরকার ছোট্ট করে বললেন, “জাজমেন্ট দিলেন”।


ক্রিকেটের টেকনিকাল দিক ভাল বুঝি না। দেখে মনে হয়েছিল বলটা চাইলেই হয়ত মারতে পারা যেত। কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক, ক্রোনিয়ের মনে হয়েছিল যে মারার বল দেখলেই মারতে নেই। না মারতে শেখাটাও জরুরী।


তার কয়েক ওভার বাদেই সেই শ্রীনাথের বলেই ক্রোনিয়ে আউট হন।


বহু বহুকাল এই ম্যাচ এবং ক্রোনিয়েকে মনে রেখেছি শুধু ঐ একটা বল ছাড়ার জন্যে। আজ সর্বগ্রাসী পারফরমান্সদের ভিড়ে প্রতি বলেই ছয় মেরে দর্শক টানার জোশ চুঁইয়ে পড়ছে ক্রিকেটবাণিজ্যের চকচকে মেদবহুল গা বেয়ে। টি-২০ আইপিএল-এর চটকের বন্যায় টেস্টম্যাচ মৃতপ্রায়। এমন অবস্থা যে ব্যাটসম্যান চার মারতে না পারলে আম্পায়ার নেমে হয়ত চার মেরে দেবেন যদি তাতে চ্যানেলের টিআরপি, ম্যাচের স্পনসর এবং মাঠে দর্শকসংখ্যা বাড়ে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে ক্রোনিয়ের ঐ জাজমেন্টাল কলের কথা বেশি করে মনে পড়ে। মনে পড়ে, ঠিক শেষ মুহূর্তে গিয়ে ব্যাটটাকে ওপরে তুলে দেওয়া। মারতে জানার আগে ছাড়তে জানতে হয়। চলতে জানার আগে থামতে জানতে হয়।


আবার সেই ক্রোনিয়েকে পরে দেখেছি জাজমেন্ট দিতে পারেননি। তাঁর স্বচ্ছ সৎ জামায় দুর্নীতির কালো ছিটে লেগেছে। তাঁর হাত ধরে একদা হতমান সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল তা ধাক্কা খেয়ে গুঁড়িয়ে গেছে। সেই ক্রোনিয়ে বীমারের পেছনে ধাওয়া করে বিপক্ষের প্লেটে ম্যাচ তুলে দেওয়া ক্রোনিয়ে। সর্বগ্রাসী লোভের বশে তিনি তখন ভুলে গেছেন কোন বল মারতে নেই।


স্বচ্ছ পোষাকে দুর্নীতির ছিটে লাগলে যত বড় প্লেয়ার-ই হোক, মাঠ ছাড়তেই হয়। তখন সেই অডিয়েন্স-ই রক্ত দেখতে চায়, যারা একদা বিভোর ছিল পরিবর্তন এবং নতুন সকালের স্বপ্নে।


জীবন ক্ষমা করে না। ভুল বল তাড়া করে আউট হবার পর ম্যাচ জিতলেও সেটা আউটই থাকে।


851 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 179 -- 198
Avatar: S

Re: যে বল মারতে নেই

আগের থেকে অনেক খারাপ।

১৯৮৮ অলিম্পিক (সোনা টোটাল মেডেল)ঃ
১) রাশা ৫৫ ১৩২
২) জিডিআর (পুর্ব জার্মানী) ৩৭ ১০২
৩) আম্রিগা ৩৬ ৯৪
৪) দক্ষিন কোরিয়া (আয়োজক) ১২ ৩৩
৫) পস্চিম জার্মানী ১১ ৪০
অনেক পরে
১১) চীন ৫ ২৮

আর এখন?
Avatar: দ্রি

Re: যে বল মারতে নেই

অভিবাবুর আবার হাঁড়ির খবরে বেশী লোভ।
Avatar: avi

Re: যে বল মারতে নেই

আহা, রাঁধুনির হাঁড়ির খবরে আগ্রহ তো থাকবেই। :) এসব নিয়েই তো দিন কাটে।
সিরিয়াসলি, লিখুন। এসবে লেখা বড্ডো কম।
Avatar: দ্রি

Re: যে বল মারতে নেই

এস যেটা দিলেন তাতে ১৯৮৮ সালে বিভিন্ন দেশের ড্রাগ রিসার্চের একটা চিত্র পাওয়া গেল।

এখন হয়ত সেই ব্যালেন্সটা কিছুটা বদলেছে।
Avatar: S

Re: যে বল মারতে নেই

ঃ)) হা হা হা। বলছেন তখন প্রোলেতেরিয়েত ড্রাগস বেশি ছিলো?

দ্রি আপনার এই সব ব্যাপারেই কন্সপিরেসি দেখাটা বেশ মজার লাগে। আমি অস্বীকার করছি না যে পারফরমেন্স এনহ্যান্সমেন্ট ড্রাগ্স ব্যবহার করা হয়েছে হচ্ছেও, শারাপোভা রিসেন্ট কেস। আর সাইক্লিঙ্গের কথা তো বললামই না। তবে এগুলো সবই জানা ড্রাগস, অজানাও আছে অনেক - ল্যাব মেটেরিয়াল - সেগুলো কতটা ইউজ হয় তা আপনাকে জানাতে হবে। তবে কিরিকেটে?
Avatar: Rit

Re: যে বল মারতে নেই

মারাদোনা, ওয়ার্ন, ল্যান্স আর্মস্ট্রং থেকে মাশা। ধরা পড়ার লিস্টটাও বেশ রোমাঞ্চকর।

আচ্ছা দাবাতেও কি ড্রাগ কাজে দেয়?
Avatar: Tim

Re: যে বল মারতে নেই

হ্যাঁ দারুন কাজ দেয়। মেইনলি অপোনেন্টের ওপর ঃ-))
Avatar: Abhyu

Re: যে বল মারতে নেই

আহা দাবা। গবাও নাকি ভালো দাবা খেলত। কিন্তু অনেকদিন প্র্যাকটিস নেই বলে রিকোয়েস্ট করেছিল অপোনেন্ট (ইলেভেনের নতুন ছাত্র, খুব ভালো দাবাড়ু) যেন বাঁ হাতে খেলে।
Avatar: avi

Re: যে বল মারতে নেই

খ্যাক খ্যাক খ্যাক। :)
Avatar: Rit

Re: যে বল মারতে নেই

দিয়ে অপোনেন্ট বাঁ হাতে খেলেছিল?

ন'পুরে পড়িনি, কিন্তু গবার এতো গল্প এতো জায়গায় শুনেছি যে মুখস্ত হয়ে গেছে।
Avatar: b

Re: যে বল মারতে নেই

নানা সে তো সর্দারের গল্প শুনেছিলাম।

এক সর্দার, সে বংশানুক্রমে পাঞ্জাবের চেস চ্যাম্পিয়ন, প্লেনে উঠে দ্যাখে পরের সিটে কাসপারভ বসে আছেন। সে কাসপারভকে অনুরোধ করে তার সাথে খেলতে (প্লেনে বসেই), কিন্তু কাসপারভ যেহেতু খুব ভালো প্লেয়ার, সেহেতু তিনি যেন বাঁ হাতে খেলেন। কাসপারভ মুচকি হেসে রাজি হন ও দশ চালে সর্দারকে মাত করে দ্যান।

সর্দার বিমর্ষ হয়ে নিজের বাবাকে (ইনিও ভূতপূর্ব চ্যাম্পিয়ন) বললঃ পাপা ম্যাঁ নু হার গয়ে। কাসপারভ লেফ্ট হ্যান্ড নাল খেলিয়া, উস্কা বাবজুদা ম্যাঁয় নু হারে।
বাবা বললেন, পুত্তর, তু মুরখ! তেরেকো পাতা নেহি কি কাসপারভ লেফ্ট হ্যান্ডেড হ্যায়!
Avatar: Abhyu

Re: যে বল মারতে নেই

ঋত, গবা কে প্রশ্নটার উত্তর ছিল স্বামী বিবেকানন্দের পরে সবচেয়ে বিখ্যাত সন্ন্যাসী, সুতরাং আপনি গল্প শুনবেন তো বটেই!

এই গল্পগুলোর কোনটা যে সত্যি কোনটা বানানো বোঝা সম্ভব নয়, নিজের চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটতে দেখেছি সেগুলো অন্য কলেজের হোস্টেলে হয়েছে বললে আমি বলতাম - জল মেশানোর একটা সীমা থাকবে!
Avatar: Rit

Re: যে বল মারতে নেই

অভ্যু,
একটা গবা নিয়ে টই শুরু করুন না প্লিজ। এটা সময়ের দাবী। নইলে এইসব অমূল্য রত্নাবলী হারিয়ে যাবে।
Avatar: Rit

Re: যে বল মারতে নেই

থেংকু।
Avatar: avi

Re: যে বল মারতে নেই

লিঙ্ক নেই, সত্যি এটা বললে ভদ্রলোকের তারিফ করতেই হচ্ছে। প্রফেট হওয়ার লোভ সামলানো কঠিন সাধারণত।


"দেশের তুলনায় ক্রিকেট অতি ক্ষুদ্র একটা ব্যাপার। একটা দেশের অনেক ছোট ছোট মাধ্যমের একটা হতে পারে খেলাধুলা; তার একটা অংশ ক্রিকেট। ক্রিকেট কখনও দেশপ্রেমের প্রতীক হতে পারে না। সোজা কথায়-খেলাধুলা হলো বিনোদন"

"খেলা কখনও একটা দেশের প্রধান আলোচনায় পরিণত হতে পারে না। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে যা সমাধান বাকি। সেখানে ক্রিকেট নিয়ে পুরো জাতি, রাষ্ট্র এভাবে এনগেজ হতে পারে না। আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় তারকা বানানো হচ্ছে, বীর বলা হচ্ছে, মিথ তৈরি হচ্ছে। এগুলো হলো বাস্তবতা থেকে পালানোর ব্যাপার"

"আমি ক্রিকেটার, একটা জীবন কি বাঁচাতে পারি? একজন ডাক্তার পারেন। কই, দেশের সবচেয়ে ভালো ডাক্তারের নামে কেউ তো একটা হাততালি দেয় না! তাদের নিয়ে মিথ তৈরি করুন, তারা আরও পাঁচজনের জীবন বাঁচাবেন। তারাই তারকা। তারকা হলেন লেবাররা, দেশ গড়ে ফেলছেন। ক্রিকেট দিয়ে আমরা কি বানাতে পারছি? একটা ইটও কি ক্রিকেট দিয়ে বানানো যায়? একটা ধান জন্মায় ক্রিকেট মাঠে? যারা ইট দিয়ে দালান বানায়, কারখানায় ওটা-ওটা বানায় বা ক্ষেতে ধান জন্মায়, তারকা হলেন তারা"

"বীর হলেন মুক্তিযোদ্ধারা। আরে ভাই, তারা জীবন দিয়েছেন। জীবন যাবে জেনেই ফ্রন্টে গেছেন দেশের জন্য। আমরা কি করি? খুব বাজে ভাবে বলি--টাকা নেই, পারফর্ম করি। একটা অভিনেতা, গায়কের মতো পারফর্মিং আর্ট করি। এর চেয়ে এক ইঞ্চি বেশিও না। মুক্তিযোদ্ধারা গুলির সামনে এইজন্য দাঁড়ায় নাই যে জিতলে টাকা পাবে। কাদের সঙ্গে কাদের তুলনা রে! ক্রিকেটে বীর কেউ থেকে থাকলে রকিবুল হাসান, শহীদ জুয়েলরা"

"রকিবুল ভাই ব্যাটে জয় বাংলা লিখে খেলতে নেমেছিলেন, অনেক বড় কাজ। তার চেয়েও বড় কাজ, বাবার বন্দুক নিয়ে ফ্রন্টে চলে গিয়েছিলেন। শহীদ জুয়েল ক্রিকেট রেখে ক্র্যাক প্লাটুনে যোগ দিয়েছিলেন। এটাই হলো বীরত্ব। ফাস্ট বোলিং সামলানার মধ্যে রোমান্টিসিজম আছে, ডিউটি আছে। বীরত্ব নেই"

"আমি বলি, এই যারা ক্রিকেটে দেশপ্রেম দেশপ্রেম বলে চিৎকার করে, এরা সবাই যদি একদিন রাস্তায় কলার খোসা ফেলা বন্ধ করত, একটা দিন রাস্তায় থুথু না ফেলত বা একটা দিন ট্রাফিক আইন মানত, দেশ বদলে যেত। এই প্রবল এনার্জি ক্রিকেটের পেছনে ব্যয না করে নিজের কাজটা যদি সততার সঙ্গে একটা দিনও সবাই মানে, সেটাই হয় দেশপ্রেম দেখানো। আমি তো এই মানুষদের দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটাই বুঝি না!"

"কিছু হলেই আমরা বলি, এই ১১ জন ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। আন্দাজে! তিন কোটি লোকও হয়ত খেলা দেখেন না। দেখলেও তাদের জীবন-মরণ খেলায় না। মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজনীতিবিদেরা, তাদের স্বপ্ন ভবিষ্যত অন্য জায়গায়। এই ১১ জন মানুষের ওপর দেশের মানুষের ক্ষুধা, বেঁচে থাকা নির্ভর করে না। দেশের মানুষকে তাকিয়ে থকতে হবে একজন বিজ্ঞানী, একজন শিক্ষাবিদের দিকে"

(দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক বইয়ে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বিন মুর্তজা: Bornali Chowdhury কর্তৃক ৭ মার্চ 2016 পোস্টকৃত)
Avatar: aranya

Re: যে বল মারতে নেই

বাঃ, মাশরফি খুব ভাল বলেছেন তো
Avatar: Abhyu

Re: যে বল মারতে নেই

ভালো লাগল
Avatar: S

Re: যে বল মারতে নেই

খুব ভালো লাগলো। এইটার লিন্ক আছে।
Avatar: দ্রি

Re: যে বল মারতে নেই

অভি, বক্সিংএ এই ড্রাগগুলো পাওয়া যাচ্ছে। ওস্টারিন, ডাইমিথাইল্যামিল্যামিন, মেল্ডোনিয়াম। এইগুলোর কোনটার কি এফেক্ট লিখুন তো হাত খুলে।

https://www.rt.com/sport/370620-povetkin-positive-test-boxing/

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 179 -- 198


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন