Sakyajit Bhattacharya RSS feed

Sakyajit Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমার প্রতিবাদের শাড়ি
    আমার প্রতিবাদের শাড়িসামিয়ানা জানেন? আমরা বলি সাইমানা ,পুরানো শাড়ি দিয়ে যেমন ক্যাথা হয় ,গ্রামের মেয়েরা সুচ সুতো দিয়ে নকশা তোলে তেমন সামিয়ানাও হয় । খড়ের ,টিনের বা এসবেস্টাসের চালের নিচে ধুলো বালি আটকাতে বা নগ্ন চালা কে সভ্য বানাতে সাইমানা টানানো আমাদের ...
  • টয়লেট - এক আস্ফালনগাথা
    আজ ১৯শে নভেম্বর, সলিল চৌধুরী র জন্মদিন। ইন্দিরা গান্ধীরও জন্মদিন। ২০১৩ সাল অবধি দেশে এটি পালিত হয়েছে “রাষ্ট্রীয় একতা দিবস” বলে। আন্তর্জাতিক স্তরে গুগুল করলে দেখা যাচ্ছে এটি আবার নাকি International Men’s Day বলে পালিত হয়। এই বছরই সরকারী প্রচারে জানা গেল ...
  • মার্জারবৃত্তান্ত
    বেড়াল অনেকের আদরের পুষ্যি। বেড়ালও অনেককে বেশ ভালোবাসে। তবে কুকুরের প্রভুভক্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ালের কাছে আশা করলে দুঃখ লাভের সম্ভাবনা আছে। প্রবাদ আছে কুকুর নাকি খেতে খেতে দিলে প্রার্থনা করে, আমার প্রভু ধনেজনে বাড়ুক, পাতেপাতে ভাত পড়বে আমিও পেটপুরে ...
  • বসন্তবৌরী
    বিল্টু তোতা বুবাই সবাই আজ খুব উত্তেজিত। ওরা দেখেছে ছাদে যে কাপড় শুকোতে দেয়ার একটা বাঁশ আছে সেখানে একটা ছোট্ট সবুজ পাখি বাসা বেঁধেছে। কে যেন বললো এই ছোট্ট পাখিটার নাম বসন্তবৌরী। বসন্তবৌরী পাখিটি আবার ভারী ব্যস্তসমস্ত। সকাল বেলা বেরিয়ে যায়, সারাদিন কোথায় ...
  • সামান্থা ফক্স
    সামান্থা ফক্সচুপচাপ উপুড় হয়ে শুয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়েছিলাম। মাথায় কয়েকশো চিন্তা।হস্টেলে মেস বিল বাকি প্রায় তিন মাস। অভাবে নয়,স্বভাবে। বাড়ি থেকে পয়সা পাঠালেই নেশাগুলো চাগাড় দিয়ে ওঠে। গভীর রাতের ভিডিও হলের চাম্পি সিনেমা,আপসু রাম আর ফার্স্ট ইয়ার কোন এক ...
  • ইংরাজী মিডিয়ামের বাংলা-জ্ঞান
    বাংলা মাধ্যম নাকি ইংরাজী মাধ্যম ? সুবিধা কি, অসুবিধাই বা কি? অনেক বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে! তারপরেও সংশয় যেতে চায় না। ঠিক করলাম, না কি ভুলই করলাম? উত্তর একদিন খানিক পরিস্কার হল। যেদিন একটি এগার বছরের আজন্ম ইংরাজী মাধ্যমে পড়া ছেলে এই ...
  • রুশ বিপ্লবের ইতিহাস
    রুশ বিপ্লবের ইতিহাসরাশিয়ায় শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকেই বলা হয় রুশ বিপ্লব। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘দুনিয়া কাঁপানো দশদিন’ সময়পর্বের মধ্যে এই বিপ্লবের চূড়ান্ত পর্বটি সংগঠিত হয়েছিল।অবশ্য দুনিয়া কাঁপানো এই দশ ...
  • হিজিবিজি
    শীত আসছে....মানে কোলকাতার শীত আর কি। কোলকাতার বাইরে সব্বাই শুনে যাকে খিল্লি করে সেই শীত। অবশ্য কোলকাতার সব কিছু নিয়েই তো তামাশা চলে আজকাল, গরীব আত্মীয় বড়লোকের ড্রয়িংরুমে যেমন। তাও কাঁথার আরামের মতোই কোলকাতার মায়া জড়িয়ে রাখে, বড় মায়া হে এ শহর ছাড়িয়ে মাঠ ...
  • আমার কালী....... আমিও কালী
    কালী ঠাকুরে আমার খুব ভয়। গলায় মুন্ডমালা,হাতে একটা কাটা মুন্ডু থেকে রক্ত ঝরে পড়ছে, একটা হাড় জিরজিরে শেয়াল তা চেটে চেটে খাচ্ছে, হাতে খাঁড়া, কালো কুস্টি, এলো চুল,উলঙ্গ দেহ, সেই ছোট বেলায় মন্ডপে দেখে এমন ভয় পেয়েছিলাম সেই ভয় আমার আজও যায়নি। আর আমার এই কালী ...
  • নভেম্বর ২০১৭
    ষাট বা সত্তর সম্পর্কে প্রত্যক্ষজ্ঞান নেই, তবে আশির দশক মোটামুটিভাবে ছিল শ্রেণীসংগ্রামের যুগ। মানে ভারতের বামঘরানার লোকজনের চিন্তনে। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের বিপ্লব প্রচেষ্টা তখন অতীত। সেসব উত্তাল সময়ে অদ্ভুত তত্ত্বের জন্ম হয়েছে জানা ছিল। কিন্তু সেগুলো খায় না ...

জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

Sakyajit Bhattacharya

এই জে এন ইউ কাণ্ডের সময় ফেসবুকে এখানে ওখানে কিছু লেখা লিখেছিলাম। পাইদি বলল সব একজায়গায় করে তুলে রাখতে। তো রইল।
**********************************************

সত্যজিৎ রায় মারা যাবার পর পশ্চিমবংগ সরকার থেকে ওনার ওপর একটা বিশেষ সংখ্যা করা হয়েছিল। সেখানে একটা লেখায় উৎপল দত্ত একটা ইন্টারেস্টিং গল্প শুনিয়েছিলেন। যখন হীরক রাজার দেশে শুটিং হচ্ছে, উৎপল দত্ত-র প্রথম দিনের শুটিং-এ কয়েকটা ডায়ালগ থ্রো করার পর মাণিকবাবু ওনার কানে কানে বললেন “উচ্চারণে একটু গ্রাম্যতা আর অশিক্ষার ছাপ আনো। ‘করেছিল’ না বলে বলো ‘কইরেছিল’”।
উৎপল জিজ্ঞাসু চোখে তাঁর দিকে তাকাতে দীর্ঘদেহী মানুষটি একটু ঝুঁকে পড়ে বললেন “আসলে এই জোতদার ধরণের লোক বেশ ক্রুড আর অশিক্ষিত হয়। নাহলে অন্য লোকেদের অপ্রেস করবার চিন্তা এদের মাথায় আসত না। তাই এই ধরণের লোককে ডিমীন করে দাও। যাতে ভয় পাবার বদলে লোকে তোমায় দেখে হাসাহাসি করে”।
উৎপল তারপর লিখছেন “আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে পড়ছিল চেয়ারম্যান মাও-এর কাগুজে বাঘের তত্ব। শত্রুকে সবসময় হাস্যকর করে খড়ের সৈনিকের স্ট্যান্ডার্ডে নামিয়ে আনতে হবে। এই তত্বের এরকম প্রয়োগ যে হতে পারে আমি ভাবতে পারিনি এর আগে”।
এই মুহূর্তে ভারতে যে ব্যাটল অফ আইডিয়াজ চলছে সেখানে কাগুজে বাঘেদের লাফালাফি দেখে হীরক রাজের কথাই মনে পড়ছিল। এই ব্যাটলের একদিকে মেধাবী ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবিরা। অন্যদিকে রাইটিস্টরা যাদের উপন্যাস পড়ার দৌড় চেতন ভগত এবং বিজ্ঞানচর্চার দৌড় গণেশের শুঁড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কারীকুরী আবিষ্কারেই জিভ বার করে হ্যা হ্যা হাঁপাতে থাকে। একদিকে চমস্কি, পামুক, প্রভাত পটনায়েকরা, অন্যদিকে সাদ্ধ্বী ঋতাম্ভরা, বাবা রামদেব এবং যোগী আদিত্যনাথেরা। এরকম অ্যাবসার্ড ব্যাটল অফ আইডিয়াজ যখন স্ট্রিট ফাইটিং-এর পর্যায়ে নেমে আসে এবং উজ্জ্বল ছেলেমেয়েরা ব্যারিকেড রক্ষার্থে ছুটে যায়, সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কাগুজে বাঘেদের রিঅ্যাকশন দেখার মত হয়। ‘আমার ট্যাক্সের টাকায় কেন ইউনিভার্সিটিতে দেশদ্রোহী স্লোগান দেওয়া হবে’, ‘জেএনইউ তে পর্ন ফিল্ম তোলা হয়’, ‘কোনো আইআইটি ছাত্র কেন আর্মীতে যোগদান করে না’, ‘ইউনিভার্সিটির ছেলেরা মহিষাসুরের পুজো করে তাই তাদের বিরুদ্ধে সিডিশন অ্যাক্ট আনা উচিত’ এরকম অসংখ্য পেটফাটা কমেডির ডায়লগ বেরিয়ে আসতে থাকে। অশিক্ষিত, ক্রুড এবং অসংস্কৃত রাইটিস্টদের হাতে দেশের সরকার থাকলে ভয়ের পাশাপাশি এরকম হাসির জিনিসপত্র-ও আসার সম্ভাবনা আছে আজ বুঝছি। দেশপ্রেমকে ইন্সটিটিউশনালাইজ করতে গেলে যে মিনিমাম শিক্ষা এবং রুচি লাগে সেটা এদের নেই। তাই দেশজোড়া ইন্টেলিজেনশিয়ার ডিসকোর্সে এদের অবস্থান গ্রাম্য ভাঁড় হয়েই থেকে গেল।
আজকের এই ২০১৬ সালে দেশজুড়ে যে হীরক রাজার সিনেমা অভিনীত হচ্ছে, সেখানে উৎপল দত্তদের তাই আর আলাদা করে নিজ-অভিনীত চরিত্রকে ভাঁড় সাজাতে হয় না। হীরক রাজ বাস্তব জীবনে যা যা বলছেন হুবহু সেইগুলো রিপীট করে গেলেই দর্শকদের পেটে খিল ধরে যায়।

*********************************************************************************************

১৯৬৮ সালে প্যারিসে ছাত্র-বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে জাঁ পল সাঁর্ত্র অ্যারেস্ট হয়েছিলেন। সেই বিক্ষোভের একটা বড় স্লোগান ছিল 'রাষ্ট্র ধ্বংস হোক, ক্ষমতা ধ্বংস হোক'। ক্ষমতায় তখন সার্ল দ্যু গলের দক্ষিণপন্থী সরকার। সাঁর্ত্র সেই সরকার এবং রাষ্ট্রকে ছুঁড়ে ফেলার ডাক দিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। পার্লামেন্টে তুমুল ক্ষোভ-বিক্ষোভ হহয় সাঁর্ত্র-র এই রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের জন্য এবং দাবী ওঠে তাঁকে জেলে পোরার। তার উত্তরে দ্যু গল সাঁর্ত্রকে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে এই উক্তি করেন "রাষ্ট্র কখনো তার ভলতেয়ারকে জেলে পোরে না"।
আমাদের দেশের দক্ষিণপন্থীদের সমস্যা হোল সকলেই বামন। তাদের মধ্যে দ্যু গল উচ্চতার কোনো দানব নেই। এত মিডিওকার, এত নিম্নমেধার মানুষজন থাকলে যা হয়, রাইটিস্টদের কোনও হেজিমনি তৈরী হয়নি। তাই আমাদের দক্ষিণপন্থী শিল্পীদের দৌড় শংকর বা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়তেই শেষ হয়ে যায়। বামপন্থী উৎপল দত্ত বা সলীল চৌধুরীর দানবিক ক্ষমতার পাশে তাঁদের জাস্ট ধুলোবালির মতন উড়িয়ে দেওয়া যায়। বাংলার বাইরেও এটা সত্যি। আর এর-ই প্রতিফলন দেখা যায় রাষ্ট্র শাসনেও। মেধাবী ছেলেপুলের দল দেশ জুড়ে ভারত রাষ্ট্রের পতন চাইছে তার উত্তরে দক্ষিণপন্থীরা কোনো ম্যাচিওরড পলেমিক নামাতে পারে না, উলটে 'এদের মেরে ফেলো, জেলে পোরো" অথবা মেয়ে হলে "এ বেশ্যা, এ খানকি মাগি" এসবের বাইরে আর কোনো স্ট্যান্ড-ই নামাতে পারে না। বাঁদরের মস্তিষ্কে পাঁচ টেরাবাইটের হার্ড ডিস্ক পুরলে তা আইনস্টাইনের মস্তিষ্ক হয়ে যায় না এটা এবার দক্ষিণীদের বোঝার সময় এসেছে।
রাষ্ট্র যেদিন থেকে তার ভলতেয়ারদের জেলে পুরবে সেদিন আর আলাদা করে স্লোগান দেবার দরকার পড়বে না, এমনিতেই পতন ঘটবে।

***************************************************************************************************

অশোক মিত্র-র ক্যালকাটা ডায়রিজে পড়েছি, এবং সম্ভবত তাল বেতালেও লিখেছিলেন, যে সত্তর দশকে ইমার্জেন্সির সময় যখন সমস্ত সরকার ও রাষ্ট্রের সমালোচনা করা কাগজ ও ম্যাগাজিনগুলি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল, এবং সুব্রত মুখার্জী সদম্ভে রাইটার্সে বসে বলছিলেন ‘সব সেন্সাস করে দিলাম’ (দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুব কংগ্রেস জানত না যে কথাটা ‘সেন্সর’), সেইসময়েও বহুদিন সমর সেনের ‘ফ্রন্টিয়ার’ ম্যাগাজিনের গায়ে হাত পড়েনি। যদিও ‘ফ্রন্টিয়ার’ নিয়মিত আগুন ঝরানো সরকারবিরোধী লেখা লিখে যাচ্ছিল। তার কারণ সমর সেনের ওই অভিজাত সুললিত ইংরেজি বোঝার ক্ষমতা সুব্রতবাবুর ছিল না। না বুঝলে আর কেমনভাবে সেন্সাস করবে !
আজ যখন সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট বলছে যে নেগেটিভ নিউজ পোর্টাল বা ব্লগগুলোকে ট্র্যাক করবে, বারবার মনে হচ্ছে, কোনটা নেগেটিভ কোনটা পজিটিভ সেটা বোঝার মত ক্ষমতা এই দেশের রাইটিস্টদের আছে?যারা ফেকিংনিউজের লিংককে নিজেদের সপক্ষে সত্যি খবর বলে চালায় আর অ্যানার্কিস্টদের পতাকা দেখে বলে ‘আমায় কালো পতাকা দেখানো হয়েছে’ তাদের সত্যি কি শিশুর মস্তিষ্ক থেকে বিকাশ ঘটেছে?
এবং অবধারিতভাবে সমস্ত জায়গাতেই দক্ষিণপন্থীরা এরকম-ই অশিক্ষিত ভাঁড়। প্রত্যক্ষদর্শীর মুখে শোনা- কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের শেষ বয়েসে, যখন মমতা বন্দোপাধ্যায় তাঁর ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন, সেই সময়ে একদিন সুভাষের বাড়িতে গিয়ে দেখেন তাঁকে ঘিরে মমতা, মদন এরকম আরো কেউ কেউ বসে আছেন। সুভাষের তখন খুব আর্থিক টানাটানি চলছিল। কথা হচ্ছে কেমনভাবে সুভাষদাকে হেল্প করা যায়। দুম করে মমতা বলে বসলেন “আচ্ছা সুভাষদা কয়েকটা উপন্যাস লিখেছেন না? যে কোনো একটা নিয়ে বাংলা সিরিয়াল বানালেই তো পার এপিসোড অনেক টাকা উঠে আসবে !”
তো, এদের হাতে যদি সংস্কৃতির ভার যায়, বা ব্লগ কাগজ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের দায়ীত্ব পড়ে, তাহলে কি হবে সেটা বলাই বাহুল্য। সম্প্রতি কাশ্মীরের এক বিজেপি কর্মী শুনলাম ‘আ কান্ট্রি উইদাউট পোস্ট অফিস’ কবিতাটির বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর ছড়ানোর মামলা করেছে, কাশ্মীরে কোন জেলায় কতগুলো পোস্ট অফিস আছে সেই হিসেব দেখিয়ে। অন্তত শিক্ষা-সংস্কৃতির আংগীনায় দক্ষিণপন্থীরা সার্কাসের ক্লাউনের ভূমিকা দক্ষভাবে পালন করে চলেছে বলতেই হবে।

***************************************************************************************************
আজ ভাষা দিবসে কয়েকজন দেশদ্রোহীর গল্প শুনুন।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিযুদ্ধ যখন তুংগে, সেইসময় একটি ছোট্ট গ্রামে খবর আসল খানসেনারা হানা দিয়েছে। তারা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। যাকে পাচ্ছে তাকেই গুলি করে মারছে। শিশু বৃদ্ধ জোয়ান কাউকেই ছাড়ছে না। গ্রামের সব লোক ভয়ে পালাতে লাগলো। গ্রামে একটি গীর্জা ছিল। গীর্জার ফাদার-ও পালিয়ে গেলেন। রয়ে গেল শুধু এক বৃদ্ধ মানুষ ডেসমণ্ড যে গীর্জার দেখাশোনা করত। কিছুদিন পর কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা যখন এসে আশ্রয় চাইল তার গীর্জায়, ডেসমণ্ড সেখানে ওদেরকে থাকতে দিল। সেই মুক্তিযোদ্ধারা উজ্জ্বল তরুণ। হাসি গান গল্পে তারা ভরে তুলল নিঃসংগ গীর্জা। ডেসমন্ড ওদের খাওয়াল, যত্ন নিল। আর ওরা এখান থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে লাগলো।
এরপর একদিন এক যুদ্ধ শেষে ফেরার পথে সেই তিনজন মুক্তিযোদ্ধা পাক-বাহিনীর হাতে ধরা পড়ল। গির্জার কেয়ারটেকার ডেসমন্ডকে সামনে পেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় জানতে চাইল পাক-বাহিনী। তারা বলল, ‘দেশদ্রোহীর শাস্তি দেওয়া আমাদের পবিত্র কর্তব্য’। কিন্তু ডেসমন্ড নিজের প্রাণ বাঁচাতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি অস্বীকার করল। পালিয়ে গেল গির্জার ভেতরে। পাক আর্মি গির্জার সামনে রাখা যীশুর ক্রুশবিদ্ধ মূর্তি দেখে অনুরূপভাবে ক্রুশবিদ্ধ করে এই তিন মুক্তিযোদ্ধাদের মাঠের মধ্যে টানিয়ে দিল। মৃত্যুর সময়ে যীশু বিড়বিড় করে বলে উঠেছিলেন “ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর!” আর্মি চলে যাবার পর ডেসমণ্ড হামাগুড়ি দিয়ে চলে এসেছিল সেই মৃতপ্রায়, অত্যাচারে ছিন্নভিন্ন দেশদ্রোহীদের কাছে। তাদের ঠোঁটের কাছে কান নিয়ে গিয়ে শুনেছিল তারা বিড়বিড় করছে, “স্বাধীনতা, আমার স্বাধীনতা!” হাহাকার আর্তনাদে ভেংগে পড়েছিল ডেসমণ্ড।
এরপর কয়েক রাত সে গীর্জা থেকে বেরয়নি। গুমরে গুমরে মরেছিল আর হাউ হাউ কান্নায় মাথা ঠুকেছিল পাথরের গায়ে। তারপর আবার এক ঝড়জলের রাত্রে তার গীর্জার দরজায় টোকা পড়েছিল। দরজা খুলে দেখেছিল, তিনজন উজ্জ্বল তরুণ। নতুন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের সারা গায়ে বর্ষার জল, আর মুখে হাসি। তারা বলেছিল “আমরা এসেছি”।
এটা কোনো সত্যিকারের ঘটনা নয়, যদিও বাস্তবে এরকম হাজার হাজার ঘটেছিল। উপন্যাসটির নাম “একাত্তরের যীশু”। লেখক শাহরীয়ার কবীর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা এই উপন্যাসের শেষে গিয়ে দেশদ্রোহীরা বিশ্বের প্রথম মানবতাবাদী মানুষটির সংগে এক আসনে বসে গিয়েছিল।
একটা ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন। আজ থেকে বহু বছর বাদে আপনার সন্তান-সন্ততিরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবেই, যে, যখন সরকার, পুলিশ, কোর্ট, এবং মিডিয়া মিলে উমর খালেদ, কানহাইয়া কুমার, সোনি সোরী সহ সমস্ত দেশদ্রোহীদের ক্রুশে চড়াচ্ছিল, আপনি তখন কোন পক্ষ নিয়েছিলেন।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4]   এই পাতায় আছে 45 -- 64
Avatar: শাক্যজিৎ

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

অমিতাভ, আপনি কি অন্য নামে এখানে আছেন? কারণ এই নামের কাউকে আমার মনে পড়ছে না। Sakyajit.bhattacharya@gmail.com এ মেইল পাঠাতে পারেন। ব্যক্তিগত আলাপ আলোচনাগুলো না হয় ওখানেই হবে :)

অন টপিক, বুদ্ধদেব বসু এবং আবু সয়ীদ আইয়ুব বেশ বাম-বিরোধী অবস্থানে ছিলেন।ওনাদের কোয়েস্ট পত্রিকা সিআইএ-র টাকায় চলে এরকম অভিযোগ হাওয়ায় ভেসে ওথার পর আইয়ুব রিজাইন করেন।

অম্লান দত্ত, গৌরকিশোর ঘোষ, শিবনারায়ণ রায়- দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে আর শ্রদ্ধাভাজন কোনও নাম বিশেষ মনে পড়ছে না। যদিও শেষজনকে দক্ষিণপন্থী বলা চলে কি না তা নিয়ে একটু সন্দিহান
Avatar: Pinaki

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

একটা কথা বলার ছিল। শাক্য র মত স্ট্রঙ্গ লেখকরা ফেবুতে এই বিষয়ে ইঙ্গরিজিতে লেখে না কেন? এটা তো শুধু বাঙ্গলার ব্যাপার নয়।
Avatar: Sakyajit Bhattacharya

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

আমি ইংরিজিতে ভাল নই, তাই। অন্যদের কথা জানি না
Avatar: pinaki

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

ধুর, ভালো নই আবার কি! এতবছর বিদেশে পড়াশুনো করলি। সাহিত্য হতে হবে এমন তো নয়, কিন্তু মেসেজগুলো তো যেত। অনেক অবাঙালি লোকজনের সাথে ডায়ালগে তো যাওয়া যেত।
Avatar: Ekak

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

টিপিকাল বাঙালিপনা করিস না। লেখার উদ্দেশ্য সাধন করতে যেটুকু ইংলিশ দরকার সেটা তুই জানিস। কেও কোথাও রাজনৈতিক লেখায় এস্থেটিক্স খোঁজার জন্যে বসে নেই। ইংলিশে লিখলে অনেক বেশি ফিডব্যাক পাবি । নিজেও বুঝবি ভিন্নমত কোথায় কী আছে। লেখ লেখ :)
Avatar: pi

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

এটা কেউ দেখলেন ? সময় পেলে দেখবেন।


https://www.youtube.com/watch?v=zQLoj5DGhjM
Avatar: pi

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

এই মোহন দুবের বক্তব্য কেমন একটু ঘাঁটা না ? পলিটিক্যাল ওরিয়েন্টেশন কী ?


যাহোক, আরেকটা ইন্টারেস্টিং ডিবেট রইলো।

https://www.youtube.com/watch?v=lKL1RNu-Vyc&ebc=ANyPxKqOwYIMOZTBUR
hsumQxw2gn2uBW9b-2tfUu4sfRXJifHVBQswvJNUh6_4YHcsUEJ7oNLJgVPFqRBqtuIaS8
ItdZhMj_1A


এই সম্বিত পাত্র কি রাইটিস্টদের মধ্যে কিঞ্চিৎ ব্যতিক্রম। ইন্টেলেকচুয়ালি দারুণ কিছু, এরকম না হলেও বেশ ধূর্ত, পাঁকাল মাছ টাইপ। সরাসরি প্রশ্নবাণের সামনে পড়লে ঠিক পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যান। সেই রাজ্যসভা টিভিতে বহুবার দেখেছি। সরকারের নানা কাজকর্ম , ঘোষণা নিয়ে একেবারে সোজাসুজি প্রশ্ন তুললে, মানে যেগুলো এককথায় খারাপ কাজ, সেগুলোও ডজ করে যেতে পারেন। ওষুধের দাম বাড়া নিয়ে বিতর্কটা ভাল উদাহরণ।

তবে যোগেন্দ্র যাদবকে শুনুন। এরকম লোককেও কীভাবে ডিল করেন। এবং এমনিতেও , বক্তব্য বেশ ভাল লাগল।

তবে একটা জিনিস মনে হচ্ছে, ওখানকার দর্শকদের প্রতিক্রিয়া থেকেও। মূল আপত্তির জায়গা, ভারতের বরবাদি সংক্রান্ত স্লোগান। সেটায় সাবস্ক্রাইব না করলে কিন্তু বাকি কথাগুলো শোনানো, বা তাই নিয়ে ডায়লগে যাওয়া সম্ভব।



Avatar: অনেস্টলি,

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

সম্বিত পাত্রকে আমার বেশ ধুর লাগে। দু একবার শোনার চেষ্টা করেছি। স্পেশালি এই ডক্টরড ভিডিও নিয়ে ওর শেষদিকের গলাবাজি দেখে থেকে লোকটাকে আরও অসহ্য লাগে এখন। এমনিতেই কেমন একটা কাতলা মাছের মত অ্যাপিয়ারেন্স।
Avatar: Sakyajit Bhattacharya

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

সম্বিত পাত্র বাল।।

নির্মলা সীতারামণ বাদে বিজেপি-র সত্যি কথা বলতে কি টিভি তে খুব প্রেজেন্টেবল ফেস এই মুহূর্তে আর নেই।
Avatar: রৌহিন

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

S এর বক্তব্যের সমর্থন। ভারতীয় মিডিয়ায় এঙ্করেরা কিভাবে সাংবাদিক বলে নিজেদের পরিচয় দেয় বুঝি না - প্রায় সবাই গেস্টকে বলতে না দিয়ে নিজের বক্তব্য নিয়েই চেঁচিয়ে যায়। আজ আমরা অর্ণবকে বলছি - কিন্তু রাজদীপ, বরখা দত্ত, সুমন মুখার্জী প্রমুখ সবাইকেই এটা কম বেশী করতে দেখেছি - সে যে পক্ষের হয়েই চেঁচাক না কেন। এটা খুব অদ্ভুত লাগে।
ইংরেজিতে লেখার প্রশ্নে পিনাকী এবং এককের সাথে একমত - এই লেখাগুলো লিখতে যতটুকু ইংরেজি দরকার সেটা তুই ভালই জানিস শাক্য
Avatar: ranjan roy

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

"তবে একটা জিনিস মনে হচ্ছে, ওখানকার দর্শকদের প্রতিক্রিয়া থেকেও। মূল আপত্তির জায়গা, ভারতের বরবাদি সংক্রান্ত স্লোগান। সেটায় সাবস্ক্রাইব না করলে কিন্তু বাকি কথাগুলো শোনানো, বা তাই নিয়ে ডায়লগে যাওয়া সম্ভব।"
--- পাই, এই কথাটাই বলতে চেষ্টা করছি; এই লাইনটাকে কন্ডেম না করে মেজরিটির সঙ্গে ডায়লগ সম্ভব নয়। কানহাইয়া ও তার বন্ধুরা সেটা বুঝেছে ও ঠিকমত পজিশন নিচ্ছে।

Avatar: S

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

সম্বিত পাত্র জে এন ইউ স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলো। তাই নিজেও একটু ঘেঁটে আছে - জে এন ইউ বন্ধ করে দাও, বা ট্যাক্সের পয়সায় ছেলেদের পলিটিক্স এসব কথা নিজে বলতে পারছেনা। কিন্তু এমনিতে খুব ধুর্ত, বেশিরভাগ সময়ে প্রশ্নের উত্তর দেয় না।
Avatar: pi

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

রঞ্জনদা, আবারো বলছি, এই লাইন কন্ডেম করা মানে আফজল গুরুর বিচার নিয়ে কথা বলা যাবে না বা কাশ্মীরের আজাদি নিয়ে বলা যাবেনা , এটা নয়। ভারতের বরবাদির সাথে এগুলোকে ইক্যুয়েট করাতে চাইছে বিজেপি, অর্ণব এট আল, আমরা কেন সেই ফাঁদে পা দেব ?

আর এছাড়াও মিছিলে স্লোগান ( মানে আফজল গুরু বা কাশ্মীর ইস্যুতে) এক, আর এমনি ডায়লগের চেষ্টাও একটু আলাদা বলে মনে হয়।
Avatar: Sakyajit Bhattacharya

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

পুরন্দরের লেখা। এখানের কিছু আলোচনার সাথে যায় বলে রাখলাম। ডায়লগের কথা হচ্ছিল। এই আপ্রোচটা ভাল লাগল।

্‌্‌্‌্‌্‌্‌্‌

"জো রাম রাম আউর জয় শ্রী রাম মে ফরক কর সকতে হেয় উনকো সাথ মে লানা হোগা"

এনডিটিভি সাংবাদিক রভিশ কুমারকে দেওয়া সাক্ষাতকরে কানহাইয়া বলেছেন। ছেলেটির রাজনৈতিক পরিপক্কতা দেখে হয়তো অনেকে তাজ্জব হবেন আমি হবো না। জেএনইউর ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্টের থেকে এরকম রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধিই আশা করি। যাই হোক, মূল বিষয়ে ফেরা যাক। বাংলার মানুষের কাছে রাম কোনো ভগবান নয় ঠিকই কিন্তু উত্তর ভারতে রামকে নিয়ে বহু মানুষের আবেগ রয়েছে এই কথা অস্বীকার করা যায় না। দুজন মানুষের দেখা হলে "রাম রাম" অথবা "জয় সিয়া রাম" বলার চল বিহার এবং উত্তর প্রদেশের সর্বত্র। এই সম্ভাষণ একে অপরের কুশল বার্তা জানবার জন্যে ব্যবহৃত করা হয়ে থাকে। এই সম্ভাষণের অর্থ হলো রামজির কৃপায় সব কিছু কুশল মঙ্গল হোক, উর্দু বা আরবি তে খুদা হাফেজ বা আল্লাহ হাফেজের মতোই। যারা উত্তর ভারতে থেকেছেন, সেখানকার মানুষের সাথে মেলামেশা করেছেন তারা জানবেন যে রামের মাহাত্ম শুধুই উচ্চবর্ণ হিন্দুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বহু দলিতের পদবি অথবা নাম "রাম" হয়। কাঁসি"রাম" বা "রাম"মনোহর লোহিয়া বা "রাম"বিলাস পাসওয়ান এরকম বহু উদাহরণ পাবেন। এবং এই "রাম রাম" সম্ভাষণে কিন্তু বর্ণভেদ নেই, একজন উচ্চবর্ণ এই সম্ভাষণ একজন দলিতকে করতে পারেন এবং একজন দলিত উচ্চবর্ণকে। এবং এই কারণেই আরএসএস রামজন্মভূমি আন্দোলনকে বেছে নেয় তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্যে। তারা জানতো যে রামকে নিয়ে অনুভূতি সমস্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই আছে হিন্দি বলয়তে, তাকে ব্যবহার করে দলিত ব্রাহ্মণকে একসাথে করা যাবে। হিন্দুত্ববাদীরা তাই স্লোগান হিসেবে বেছে নেয় "জয় শ্রী রাম"-কে। "জয় শ্রী রাম" ধ্বনির সাথে কিন্তু "রাম রাম" অথবা "জয় সিয়া রাম" (জয় সীতা রাম)-এর পার্থক্য রয়েছে, "জয় শ্রী রাম" একটা রাজনৈতিক স্লোগান, এক যুদ্ধের অথবা বিরুদ্ধতার ঘোষণা, তাতে মঙ্গলময় কোনো কিছু নেই। কানহাইয়া বলছে যে এই পার্থক্য যারা অনুধাবন করতে পারে এবং প্রথমটার সঙ্গে যারা দাঁড়াতে রাজি নন, তাদেরকে সঙ্গে নিতে হবে অর্থাৎ সেই সমস্ত মানুষ যাঁরা ভগবান রামকে ভালোবাসেন কিন্তু তাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহৃত হতে দিতে চান না তাদেরকে সাথে নিতে হবে। এই বক্তব্য কিন্তু সাবেকি বামপন্থী ভাষ্যের থেকে আলাদা। সাবেকি বামপন্থা চিরকালই মানুষের ধর্মানুভূতিকে দরজার বাইরে জুতোর মতো খুলে রাখতে বলে এসেছে, ধর্মানুভূতির সাথে বামপন্থী রাজনীতির সম্পর্ক চিরকালই অস্বস্তিকর। কানহাইয়া সেটাকে বদলানোর কথা বলছে। আমার কাছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজে ধর্মাবলম্বী নই, আমার বাবা মাও নন, কিন্তু ধর্ম যে বহু মানুষের জীবনে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ তা আমি বুঝতে পারি। এই সমস্ত মানুষের অধিকাংশই গরিব, খেটে খাওয়া মানুষ। এরা যে সবাই ধর্মান্ধ এমন একদমই না, অনেকেই ধর্ম ও রাজনীতিকে আলাদা করে রাখতে চান। কিন্তু এইসব মানুষকে সঙ্গে আনতে হলে ধর্ম সম্পর্কে আরো নমনীয় মানসিকতা রাখা প্রয়োজন।

এ ছাড়াও কানহাইয়া বলেছে যে পার্টির মধ্যে বিউরোক্রাসি ভাঙ্গতে হবে এবং পার্টির নিজের স্বার্থের ওপরে "বিচারধারা"-কে রাখতে হবে কারণ সাধারণ মানুষ বিচারধারা দেখেই আকৃষ্ট হন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি। এটাও ভীষণ সত্যি। একজন সাধারণ মানুষ আরএসপি, ফরোয়ার্ড ব্লক, সিপিএই, সিপিএম এবং নকশালপন্থী সংগঠনের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য বোঝেন না। তাঁর এলাকায় যে দল বেশি শক্তিশালী হবে এবং তাঁর স্বার্থের জন্যে লড়াই করবে মানুষ তার পক্ষেই যাবে, সাধারণ মানুষের কাছে লাল পতাকার রং একটাই। তাই নিজেদের মধ্যে তফাৎ করবার জন্যে চুলচেড়া বিশ্লেষণে অযথা সময় নষ্ট করার বিরোধী আমিও কারণ এতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ নেই। এ ছাড়াও কানহাইয়া বলেছে "মিনিমাম ইউনিটি চাহিয়ে, ম্যাক্সিমাম ইউনিটি নেহি।" এটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। সব মতের মিল হতে হবে জোট বাঁধতে গেলে এরকম ভাবলে কোনোদিন জোট হবে না। বিচারধারা এবং কর্মসূচির ভেতর যদি সামান্য কিছু মিল থাকে তাহলে সেই মিলের ভিত্তিতেই জোট বাঁধা দরকার। দেশের সংবিধানে মানুষের যে অধিকারের কথা বলা আছে যদি সেই অধিকারের জন্যেই একমত হউ তাহলেই জোট বেঁধে আন্দোলনে নামা যায়, সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার দাবি করার দরকার হয়না।

কানহাইয়া আরো বলেছে যে সকলকে রাস্তায় নেমে রাজনীতি করবার প্রয়োজন নেই, নিজের জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রেও মানুষ লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। একজন সাংবাদিক সংবাদপত্রে চাকরি করতে করতেও সত্য অনুসন্ধানী হওয়ার লড়াই করতে পারেন নিজেকে বিকিয়ে না দিয়ে, একজন ডাক্তারও ডাক্তারি করতে করতে ওষুধের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারেন অথবা সস্তায় চিকিত্সা পৌঁছে দেওয়ার লড়াই করতে পারেন। এই সমস্ত মন্তব্যের সাথে আমি একমত। আশা করবো কানহাইয়ার কথাগুলো মূল ধারার বামপন্থী দলগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিচার করবে, তাদের অভ্যন্তরীণ বিউরোক্রাসিতে এগুলো হারিয়ে না যায়।
Avatar: Sakyajit Bhattacharya

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

আরে এটা কী বাগ রে বাবা। আমাকে নাম লেখার জায়গস দিচ্ছে না। শাক্যর নামে পোস্ট হচ্ছে। ওপরের পোস্টটা আমার।
Avatar: Sakyajit Bhattacharya

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

আরে এটা কী বাগ রে বাবা। আমাকে নাম লেখার জায়গস দিচ্ছে না। শাক্যর নামে পোস্ট হচ্ছে। ওপরের পোস্টটা আমার।
Avatar: Sakyajit Bhattacharya

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

আমি মানে পাই।
Avatar: dc

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

লেখাটা ভালো লাগলো, খুব প্র্যাক্টিকাল ভিউপয়েন্ট থেকে লেখা।
Avatar: xyz

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

.মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন : ফেসবুক ও হোয়াটস্ অ্যাপে ঘুরে বেড়াচ্ছে ---

Roopa Ganguly
1 hr · Tollygunge, India ·
On JNU matter some Questions to be answered:

1. Apparently Kanahiya is 29 yrs old. Even a Phd program or even MBBS gets done by 29 yrs. Wonder what course he is doing which is never ending or does not intend finishing?

2. Students coming from middle class families get down to working by 25 or latest by 28 yrs. This guy comes from such a poor background wonder how he can afford it not to work and earn?

3. Now he hires the country's best lawyers to defend him, wonder who is footing the bill and why ?

4. Most of these so called students register in universities to avail subsidised hostel stay & subsidised canteen food. Why should our tax money be used for such students who occupy the hostel permanently and deserving students have to look for PG accommodations. Why the tax payer be burdened with tax for these politically ambitious students.
Let the respective political party fund their fun

5. He went for 3 months canpaigning for Bihar elections. Wonder what happenned to classes and who funds this?

6. Please realise these are not students. They are politicians in making , let them fight it out.
Why is India being punished by their rubbish news on TV & newspaper.
Only for TRP.
And ndtv, Indiatoday is no different

7. All they want is to destabilise the growth story in vested political interest of the opposition.

8. They do not appear innocent students by any stretch of imagination. Nor do they genuine...!!
Avatar: robu

Re: জে এন ইউ নিয়ে এখানে ওখানে যা লিখেছিলাম

এ বাবা কী সব বলছে!
http://scroll.in/article/804296/why-are-there-so-many-hindutva-trolls

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4]   এই পাতায় আছে 45 -- 64


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন