বিপ্লব রহমান RSS feed

biplobr@gmail.com
বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিজয় দিবস
    ১৬ ডিসেম্বর,১৯৭১ সালে আসলে কি হয়েছিল? পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল মিত্র বাহিনীর কাছে, মেজর জেনারেল জ্যাকব আত্মসমর্পণের সমস্ত আয়োজন করেছিলেন,লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্পণ করেন। মোটামুটি ১৬ ...
  • বুড়ু'র পাখপাখালী'রা
    বুড়ু'র পাখপাখালী'রাঝুমা সমাদ্দার।"জানিস, আজ এখানে আকাশ'টা কুয়াশার কাছে দশ গোল খেয়ে বসে আছে।" সক্কাল বেলাতেই ফোনের ওপারে বন্ধু।মনের জানালা খুলতেই স্পষ্ট ফুটে উঠল , সে দেশের ‎মেঘলা আকাশ,ঝিরঝিরে বৃষ্টি, পাগলা হাওয়ায় শিরশিরে শীত ।বাবা বলতেন - "অঘ্রানে ...
  • মুনির অপটিমা থেকে অভ্র: জয় বাংলা!
    শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে উদ্ভাবন করেন ‘মুনীর অপটিমা’ টাইপরাইটার। ছাপাখানার বাইরে সেই প্রথম প্রযুক্তির সূত্রে বাংলা পেল নতুন গতি। স্বাধীনতার পর ইলেকট্রনিক টাইপরাইটারেও যুক্ত হয় বাংলা। পরে আটের দশকে ‘বিজয়’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সম্ভব ...
  • সুইডেনে সুজি
    আঁতুরঘরের শিউলি সংখ্যায় প্রকাশিত এই গল্পটি রইল আজ ঃদি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল সুইডেনে সুজি#############পিও...
  • প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজঃ সর্বজয়া ভট্টাচার্য্যের অভিজ্ঞতাবিষয়ক একটি ছোট লেখা
    টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভারসিটির এক অধ্যাপক, সর্বজয়া ভট্টাচার্য্য একটি পোস্ট করেছিলেন। তাঁর কলেজে শিক্ষকদের প্রশ্রয়ে অবাধে গণ-টোকাটুকি, শিক্ষকদের কোনও ভয়েস না থাকা, এবং সবথেকে বড় যেটা সমস্যা, শিক্ষক ও ছাত্রদের কোনও ইউনিয়ন না থাকার সমস্যা নিয়ে। এই পর্যন্ত নতুন ...
  • চিরতরে নির্বাসিত হবার তো কথাই ছিল, প্রিয় মণিময়, শ্রী রবিশঙ্কর বল
    "মহাপৃথিবীর ইতিহাস নাকি আসলে কতগুলি মেটাফরের ইতিহাস"। এসব আজকাল অচল হয়ে হয়ে গেছে, তবু মনে পড়ে, সে কতযুগ আগে বাক্যটি পড়ি প্রথমবার। কলেজে থাকতে। পত্রিকার নাম, বোধহয় রক্তকরবী। লেখার নাম ছিল মণিময় ও মেটাফর। মনে আছে, আমি পড়ে সিনহাকে পড়াই। আমরা দুজনেই তারপর ...
  • বাংলা ব্লগের অপশব্দসমূহ ~
    *সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: বাংলা ব্লগে অনেক সময়ই আমরা যে সব সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করি, তা কখনো কখনো কিম্ভুদ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন ব্লগার বা সাধারণের কাছে এসব অপশব্দ পরিচিত নয়। এই চিন্তা থেকে এই নোটে বাংলা ব্লগের কিছু অপশব্দ তর্জমাসহ উপস্থাপন করা হচ্ছে। বলা ভালো, ...
  • অ্যাপ্রেজাল
    বছরের সেই সময়টা এসে গেল – যখন বসের সাথে বসে ফর্মালি ভাঁটাতে হবে সারা বছর কি ছড়িয়েছি এবং কি মণিমুক্ত কুড়িয়েছি। এ আলোচনা আমার চিরপরিচিত, আমি মোটামুটি চিরকাল বঞ্চিতদেরই দলে। তবে মার্ক্সীস ভাবধারার অধীনে দীর্ঘকাল সম্পৃক্ত থাকার জন্য বঞ্চনার ইতিহাসের সাথে আমি ...
  • মিসেস গুপ্তা ও আকবর বাদশা
    এক পার্সি মেয়ে বিয়ে করলো হিন্দু ছেলেকে। গুলরুখ গুপ্তা তার নাম।লভ জিহাদ? হবেও বা। লভ তো চিরকালই জিহাদ।সে যাই হোক,নারীর ওপর অবদমনে কোন ধর্মই তো কম যায় না, তাই পার্সিদেরও এক অদ্ভুত নিয়ম আছে। ঘরের মেয়ে পরকে বিয়ে করলে সে স্বসম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ ...
  • সমবেত কুরুক্ষেত্রে
    "হে কৃষ্ণ, সখা,আমি কীভাবে আমারই স্বজনদের ওপরে অস্ত্র প্রয়োগ করবো? আমি কিছুতেই পারবো না।" গাণ্ডীব ফেলে দু'হাতে মুখ ঢেকে রথেই বসে পড়েছেন অর্জুন আর তখনই সেই অমোঘ উক্তিসমূহ...রণক্ষেত্...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

​​বৃষ্টির বিকেলের বিবরণ

বিপ্লব রহমান

খুব গুমট গরম পড়েছে। কয়েকদিন ধরেই যেন জ্বলছে ঢাকার আকাশ। অহর্নিশি লেপ্টে থাকে চিটচিটে ঘাম। পত্রিকায় পড়ছিলাম, শিশু রোগ বাড়ছে। ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকে শিশু মৃত্যুর খবরও আসছে কতিপয়।

ভ্যাপসা গরম অবশেষে কাটলো এই বিকেলের বৃষ্টিতে। দুপুর থেকেই আকাশ ছিল অংশত মেঘলা। সিএনজি চালিত অটো রিকশা (শর্টে বলি, সিএনজি) ধরে অফিস যাই। উত্তরার শ্যাওড়ায় ফ্লাই ওভারের গোড়ায় গাড়ি বিগড়ালো। ওপারে বাংলো প্যাটার্ণের পাঁচ তারা হোটেল- র‌্যাডিসন ব্লু। আর আমার ১১০ টাকা সিএনজি ভাড়া গচ্চা। মন ভালো হয় আকাশের দিকে তাকিয়ে। নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া...

আরেক সিএনজি ধরে অফিসে পৌঁছাতেই ঝুম বৃষ্টি। আছে মেঘের হাঁকডাকও। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কি আর ছাই অফিসে মন বসে? জানালা দিয়ে বার বার চোখ যায় বাইরে। বিকেল বেলাতেই যেন সন্ধ্যা। নিউজ ডেস্কের বাইরে অফিস পাড়া ঘেষেঁ একটি প্রাক্তন খাল। আবর্জনায় প্রাণ যায়, এমন। রাজ্যের নর্দমা জুড়েছে খালে। বৃষ্টিতে খলবল করে ওঠে সেই জলাধার। নারকেল গাছের পাতা ভেঙে পড়ে। বিজলির চমকে হঠাঁৎ আলোকিত চারপাশ।

চিফ রিপোর্টার এসে আবহাওয়া সংবাদের কথা বলেন। ওয়েব সাইট ডাউন লোড দেই। আধ ভেজা হয়ে সহকর্মী এসে বলেন পরিস্থিতির সিক্ত বিবরণ। আবহাওয়ার পূর্বাভাষও আরো ঝড়বৃষ্টির কথা বলে। সবই নাকি কালবৈশাখী।

আর এই ইটকাঠের পাষানপুরী তো সেই রকম, বিজ্ঞাপনের ভাষায়-- সিরাম! কান টানলেই মাথা আসবে সূত্রে বৃষ্টি মানেই জলযট। জলযট মানেই যানযট। ফিনলে ইংলিশ চা'য়ের কাপে ঝড় ওঠে। লেখা হতে থাকে বৃষ্টিবিবৃত নগর জীবন।

ইনবক্সে আপডেট গুরুগৃহ সংবাদ। পঞ্চম শ্রেণীর মীরা এসে রোমানে টোকা দেয়। কেমন আছো আংকেল? বিজি? অভ্রে লিখি, হু, ওহ, এই আছি। ভালো আছি গো মা। নেচে ওঠে সাংবাদিকের মন, -মা গো, তোমাদের রাজশাহীতে কি এখন বৃষ্টি হচ্ছে? মীরা বলে, কই না তো! এখানে তো সিরাম গরম!
-তাই? আমাদের এখানে তুমুল বৃষ্টি হইতেসে। বাজটাজও পড়তেসে বোধহয়। আল্লা মিয়া ফ্ল্যাাশ লাইট মারতেছে গো মা। বিজলি চমকায় খালি। হা হা হা...
বলো কি আংকেল! তুমি বৃষ্টিতে ভিজো না?
- না গো মা। আমার তো ঝালমুড়ির ঠোঙ্গা হাতে নিয়ে বৃষ্টি দেখার সুখ কাপালে নাই। বৃষ্টি নিয়ে খালি নিউজ লিখি!
ঞঁ! তোমার অফিস তো খুব পঁচা। শুক্রবারেও কাজ করায়।
-সংবাদের কি বার থাকে গো মা? দিনরাত্রি? শনি, রবি, বার বেলা?

আমি একথা সেকথা বলে মীরাকে কাটাই। রক্তিম হৃদয় একেঁ জানান দেই অগাথ মায়া।

আমাদের ছেলেটি এই বৃষ্টিতেই নাকি ফুটবল নিয়ে মাঠে গেছে। বাছাই করা অল্প কয়েকজন বন্ধু। তাদেরই টানটা বেশী। মার কথা শোনেনি। বৃষ্টিতে ভিজলেই তার দুরদার জ্বর ওঠে। আকাশ পাতাল জ্বর। ১৬ বছর বয়সেই কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। গায়ে গতরে সিরাম গালিভার। কিন্তু আসলে নিতান্তই বালক। নিজেই ফেসবুকে নাম লিখেছে-- অস্থির।

শান্তনা দিয়ে বলি, এতো চিন্তা করো না। বাসায় ফিরলে গা হাত-পা মুছে শুকনো কাপড় দিও। আর গরম জলের গামলায় পা ডুবিয়ে রেখ কিছুক্ষণ। সব ঠিক হয়ে যাবে।

অস্পষ্টভাবে মনে পড়ে সেই কোনকালের ছেলেবেলা। পুরনো ঢাকার ওয়ারিতে দোতলা লাল ইটের বাড়ি। ৪ নম্বর র‌্যাংকিন স্ট্রিট। ব্রিটিশ আমলের সাবেকি ব্যাপার। গেটের সামনেই এক বেল গাছ। ঘাসে ছাওয়া এক টুকরো লন। বৃষ্টি হলেই ভাইবোনরা সকলে মিলে জলকাদার ভেতরে খুব দাপাদাপি। ঝুল বারান্দা থেকে ভেসে আসে মা'র চিল চিৎকার। পই পই করে উজাতে বারণ কর্লাম কিন্তু! এখন ঠিক সক্কলের জ্বর আসবে! ...

সেই মা জননী এখন ৭৩। রেডিও অফিসের সাবেক করনিক কাম আপার ক্লার্ক আসগারী সিরাজীর ডান চোখে ছানি পড়েছে। এ মাসে টাকার খুব টান। চিকিৎসকের পরামর্শমতে, সামনের মাসে অস্ত্রপচার অবশ্যই।

আজকাল মাইনস সিক্স বাই ফোকালে নিজেও ভালো দেখি না। সংবাদপত্রের পাতা খুব চোখে লাগে। অফলাইনে কন্ট্রোল + নাই তো! লো নাইট ভিশনে হ্যাভারশেকের ভেতরে থাকে টর্চ। আগে কিনতাম টাইগার ব্রান্ড, দু ব্যাটারি, স্টেনলেস স্টিল। এখন সেটি বদলে চাইনিজ চার্জেবল প্লাস্টিক হয়েছে।

বৃষ্টির কথায় আবার কালা পাহাড়ের কথা মনে পড়ে। কতোদিন জংগলের ধারে বাশেঁর মাচাং ঘরে পা ঝুলিয়ে বসেছি। কাকজোছনার ভেতর ঝুমঝুম বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে চরাচর। ঝুপড়ি ঘরের ভেতর হলুদ হেরিকেনের আলো।

আমি আর বুদ্ধজ্যোতি চাকমা। দুজনে মিলে প্রাইং (আদিবাসী পানীয়, ভাতের রস থেকে তৈরি) খাওয়ার ধুম। কাঁচা বাশেঁর চোঙ কেটে তৈরি পানপাত্র। বুনো বরাহ ঝলসানো অনুপান। কাঁচা মরিচ পেঁয়াজ দিয়ে বানানো সেদ্ধ সিমের বিচি। তরমুজ কেটে ফালি করা আছে কয়েকটি থালায়।

দূর পাহাড়ে ম্রো বুড়ো বাজাচ্ছেন 'প্লুং' নামের বাঁশি। ছোট লাউয়ের খোলের ভেতর কয়েক রকম বাশেঁর নল পুরে তৈরি হয় প্লু। ব্যাগ পাইপের মতো এক বাশিতেঁই হয় নানান শব্দ। বৃষ্টি ভেজা বাতাসে ভেসে আসে উনোনের আগুনে পোড়া কাঠের মিষ্টি গন্ধ।

আমি কেবলই হচ্ছি নিমজ্জিত। বার বার চলে আসি। বার বার ফিরে যাই।...

শেয়ার করুন


Avatar: শঙ্খ

Re: ​​বৃষ্টির বিকেলের বিবরণ

লাস্ট চারটে প্যারা মারকাটারি। অনবদ্য লাগল।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন