বিপ্লব রহমান RSS feed

বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    আমাদের পাশের পাড়ায় একটা কালিপুজো হত আদর্শ বালক সঙ্ঘের নামে।আমার জন্মের বহু আগে থেকে সেই পাড়ার কাকা জ্যাঠারা তারা যখন বালক ছিল সেই সময়ে ওই পুজোটা চালু করে।সেই জন্যই নাম ছিল আদর্শ বালক সঙ্ঘ বা এবিএস।তো বালকরা কালের নিয়মে কৈশোর পার করে যৌবনে উপনীত হল, তাতেও ...
  • বৃত্ত
    ১)এখনসকাল থেকেই বাড়িটায় হুলুস্থুলু, কি না কাজের লোক হার চুরি করে ধরা পড়েছে। "গত দুবছর ধরে তোকে খেতে পরতে দিচ্ছি, কাজ করতেও শিখিয়েছি, তার এই প্রতিদান?"ঘোষগিন্নীর গলাটা প্রায় পাড়ার মুখ থেকে শোনা যাচ্ছিল।"আসলে বৌদি, ছেলেটার অপারেশন করতে হবে, তোমাকে তো বলেছি, ...
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    বারো তেরো বছর আগেকার কথা।তখন হৈ হৈ করে দুর্গা পুজো কালি পুজোর চাঁদা তুলতাম।একবার হয়েছে কি যে যে বাড়ির কোটাগুলো ছিল সেই সব কটা বাড়ির চাঁদা তোলা হয়ে গেছে।হাতে আরো কয়েকদিন সময়ও আছে।তো নতুন মার্কেট ধরার জন্য আমরা পাড়া থেকে একটু দূরে গেলাম।যদি কিছু চাঁদা আরো ...
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    বারো তেরো বছর আগেকার কথা।তখন হৈ হৈ করে দুর্গা পুজো কালি পুজোর চাঁদা তুলতাম।একবার হয়েছে কি যে যে বাড়ির কোটাগুলো ছিল সেই সব কটা বাড়ির চাঁদা তোলা হয়ে গেছে।হাতে আরো কয়েকদিন সময়ও আছে।তো নতুন মার্কেট ধরার জন্য আমরা পাড়া থেকে একটু দূরে গেলাম।যদি কিছু চাঁদা আরো ...
  • বিসর্জন
    বিসর্জনঝুমা সমাদ্দারপড়ে রইল রাফখাতার শেষ পৃষ্ঠার এলোমেলো আঁকিবুকি... হলুদ প্লাস্টিকের ঝুটো দুল... চুলের তেলের গন্ধওয়ালা মাথার বালিশ...বেলতলার লাল কাঁকুড়ে পথ ... পড়ে রইল স্কুল ... আমগাছের নীচের বাঁধানো বেদী... পড়ে রইল হাসি-গল্প- ঝগড়া- খুনসুটি... বেগুনী ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৩
    http://bigyan.org.in...
  • বেতারে ‘অপারেশন সার্চলাইট'
    #MyStory #WarCrime #Joy71 #FFবিপ্লব রহমান, ঢাকা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কারফিউ জারি করে বিদ্রোহ দমন করার নামে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, এর সামরিক অভিধা ছিল— ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে মুক্তিকামী ...
  • জ্যামিতি: পর্ব ২
    http://bigyan.org.in...
  • আমি যারে ভালবাসি, তারে আবার বাসি না...
    আটের দশকে এসএসসি পরীক্ষার পর আমার স্কুলের বন্ধুরা কেউ স্পোকেন ইংলিশ, কেউ বেসিক ইংলিশ, কেউ বা শর্টহ্যান্ড-টাইপরাইট...
  • চড়াই ঠাকুমা
    আজকে তো বিশ্ব চড়াই দিবস। এই প্রসঙ্গে আমার ছোট বেলার চেনা চড়াইদের কথা মনে পড়ছে। অসমে তখন ব্রিটিশ আমলের বাংলো বাড়ী নেই নেই করে ও ছিলো। ঠান্ডা গরমে সমান আরামের হতো বলে সেগুলোর এবং অন্য অনেক বাড়ীর চাল হতো সোনালী খড়ের, আঞ্চলিক ভাষায় আমরা বলতাম ছনের চাল। এরকম ...

​​বৃষ্টির বিকেলের বিবরণ

বিপ্লব রহমান

খুব গুমট গরম পড়েছে। কয়েকদিন ধরেই যেন জ্বলছে ঢাকার আকাশ। অহর্নিশি লেপ্টে থাকে চিটচিটে ঘাম। পত্রিকায় পড়ছিলাম, শিশু রোগ বাড়ছে। ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকে শিশু মৃত্যুর খবরও আসছে কতিপয়।

ভ্যাপসা গরম অবশেষে কাটলো এই বিকেলের বৃষ্টিতে। দুপুর থেকেই আকাশ ছিল অংশত মেঘলা। সিএনজি চালিত অটো রিকশা (শর্টে বলি, সিএনজি) ধরে অফিস যাই। উত্তরার শ্যাওড়ায় ফ্লাই ওভারের গোড়ায় গাড়ি বিগড়ালো। ওপারে বাংলো প্যাটার্ণের পাঁচ তারা হোটেল- র‌্যাডিসন ব্লু। আর আমার ১১০ টাকা সিএনজি ভাড়া গচ্চা। মন ভালো হয় আকাশের দিকে তাকিয়ে। নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া...

আরেক সিএনজি ধরে অফিসে পৌঁছাতেই ঝুম বৃষ্টি। আছে মেঘের হাঁকডাকও। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কি আর ছাই অফিসে মন বসে? জানালা দিয়ে বার বার চোখ যায় বাইরে। বিকেল বেলাতেই যেন সন্ধ্যা। নিউজ ডেস্কের বাইরে অফিস পাড়া ঘেষেঁ একটি প্রাক্তন খাল। আবর্জনায় প্রাণ যায়, এমন। রাজ্যের নর্দমা জুড়েছে খালে। বৃষ্টিতে খলবল করে ওঠে সেই জলাধার। নারকেল গাছের পাতা ভেঙে পড়ে। বিজলির চমকে হঠাঁৎ আলোকিত চারপাশ।

চিফ রিপোর্টার এসে আবহাওয়া সংবাদের কথা বলেন। ওয়েব সাইট ডাউন লোড দেই। আধ ভেজা হয়ে সহকর্মী এসে বলেন পরিস্থিতির সিক্ত বিবরণ। আবহাওয়ার পূর্বাভাষও আরো ঝড়বৃষ্টির কথা বলে। সবই নাকি কালবৈশাখী।

আর এই ইটকাঠের পাষানপুরী তো সেই রকম, বিজ্ঞাপনের ভাষায়-- সিরাম! কান টানলেই মাথা আসবে সূত্রে বৃষ্টি মানেই জলযট। জলযট মানেই যানযট। ফিনলে ইংলিশ চা'য়ের কাপে ঝড় ওঠে। লেখা হতে থাকে বৃষ্টিবিবৃত নগর জীবন।

ইনবক্সে আপডেট গুরুগৃহ সংবাদ। পঞ্চম শ্রেণীর মীরা এসে রোমানে টোকা দেয়। কেমন আছো আংকেল? বিজি? অভ্রে লিখি, হু, ওহ, এই আছি। ভালো আছি গো মা। নেচে ওঠে সাংবাদিকের মন, -মা গো, তোমাদের রাজশাহীতে কি এখন বৃষ্টি হচ্ছে? মীরা বলে, কই না তো! এখানে তো সিরাম গরম!
-তাই? আমাদের এখানে তুমুল বৃষ্টি হইতেসে। বাজটাজও পড়তেসে বোধহয়। আল্লা মিয়া ফ্ল্যাাশ লাইট মারতেছে গো মা। বিজলি চমকায় খালি। হা হা হা...
বলো কি আংকেল! তুমি বৃষ্টিতে ভিজো না?
- না গো মা। আমার তো ঝালমুড়ির ঠোঙ্গা হাতে নিয়ে বৃষ্টি দেখার সুখ কাপালে নাই। বৃষ্টি নিয়ে খালি নিউজ লিখি!
ঞঁ! তোমার অফিস তো খুব পঁচা। শুক্রবারেও কাজ করায়।
-সংবাদের কি বার থাকে গো মা? দিনরাত্রি? শনি, রবি, বার বেলা?

আমি একথা সেকথা বলে মীরাকে কাটাই। রক্তিম হৃদয় একেঁ জানান দেই অগাথ মায়া।

আমাদের ছেলেটি এই বৃষ্টিতেই নাকি ফুটবল নিয়ে মাঠে গেছে। বাছাই করা অল্প কয়েকজন বন্ধু। তাদেরই টানটা বেশী। মার কথা শোনেনি। বৃষ্টিতে ভিজলেই তার দুরদার জ্বর ওঠে। আকাশ পাতাল জ্বর। ১৬ বছর বয়সেই কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। গায়ে গতরে সিরাম গালিভার। কিন্তু আসলে নিতান্তই বালক। নিজেই ফেসবুকে নাম লিখেছে-- অস্থির।

শান্তনা দিয়ে বলি, এতো চিন্তা করো না। বাসায় ফিরলে গা হাত-পা মুছে শুকনো কাপড় দিও। আর গরম জলের গামলায় পা ডুবিয়ে রেখ কিছুক্ষণ। সব ঠিক হয়ে যাবে।

অস্পষ্টভাবে মনে পড়ে সেই কোনকালের ছেলেবেলা। পুরনো ঢাকার ওয়ারিতে দোতলা লাল ইটের বাড়ি। ৪ নম্বর র‌্যাংকিন স্ট্রিট। ব্রিটিশ আমলের সাবেকি ব্যাপার। গেটের সামনেই এক বেল গাছ। ঘাসে ছাওয়া এক টুকরো লন। বৃষ্টি হলেই ভাইবোনরা সকলে মিলে জলকাদার ভেতরে খুব দাপাদাপি। ঝুল বারান্দা থেকে ভেসে আসে মা'র চিল চিৎকার। পই পই করে উজাতে বারণ কর্লাম কিন্তু! এখন ঠিক সক্কলের জ্বর আসবে! ...

সেই মা জননী এখন ৭৩। রেডিও অফিসের সাবেক করনিক কাম আপার ক্লার্ক আসগারী সিরাজীর ডান চোখে ছানি পড়েছে। এ মাসে টাকার খুব টান। চিকিৎসকের পরামর্শমতে, সামনের মাসে অস্ত্রপচার অবশ্যই।

আজকাল মাইনস সিক্স বাই ফোকালে নিজেও ভালো দেখি না। সংবাদপত্রের পাতা খুব চোখে লাগে। অফলাইনে কন্ট্রোল + নাই তো! লো নাইট ভিশনে হ্যাভারশেকের ভেতরে থাকে টর্চ। আগে কিনতাম টাইগার ব্রান্ড, দু ব্যাটারি, স্টেনলেস স্টিল। এখন সেটি বদলে চাইনিজ চার্জেবল প্লাস্টিক হয়েছে।

বৃষ্টির কথায় আবার কালা পাহাড়ের কথা মনে পড়ে। কতোদিন জংগলের ধারে বাশেঁর মাচাং ঘরে পা ঝুলিয়ে বসেছি। কাকজোছনার ভেতর ঝুমঝুম বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে চরাচর। ঝুপড়ি ঘরের ভেতর হলুদ হেরিকেনের আলো।

আমি আর বুদ্ধজ্যোতি চাকমা। দুজনে মিলে প্রাইং (আদিবাসী পানীয়, ভাতের রস থেকে তৈরি) খাওয়ার ধুম। কাঁচা বাশেঁর চোঙ কেটে তৈরি পানপাত্র। বুনো বরাহ ঝলসানো অনুপান। কাঁচা মরিচ পেঁয়াজ দিয়ে বানানো সেদ্ধ সিমের বিচি। তরমুজ কেটে ফালি করা আছে কয়েকটি থালায়।

দূর পাহাড়ে ম্রো বুড়ো বাজাচ্ছেন 'প্লুং' নামের বাঁশি। ছোট লাউয়ের খোলের ভেতর কয়েক রকম বাশেঁর নল পুরে তৈরি হয় প্লু। ব্যাগ পাইপের মতো এক বাশিতেঁই হয় নানান শব্দ। বৃষ্টি ভেজা বাতাসে ভেসে আসে উনোনের আগুনে পোড়া কাঠের মিষ্টি গন্ধ।

আমি কেবলই হচ্ছি নিমজ্জিত। বার বার চলে আসি। বার বার ফিরে যাই।...


Avatar: শঙ্খ

Re: ​​বৃষ্টির বিকেলের বিবরণ

লাস্ট চারটে প্যারা মারকাটারি। অনবদ্য লাগল।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন