রৌহিন RSS feed

রৌহিন এর খেরোর খাতা। হাবিজাবি লেখালিখি৷ জাতে ওঠা যায় কি না দেখি৷

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৫
    http://bigyan.org.in...
  • সেখ সাহেবুল হক
    শ্রীজগন্নাথ ও ছোটবেলার ভিড়-----------------...
  • মাতৃত্ব বিষয়ক
    এটি মূলতঃ তির্যকের 'রয়েছি মামণি হয়ে' ও শুচিস্মিতা'র 'সন্তানহীনতার অধিকার'এর পাঠপ্রতিক্রিয়া।-----...
  • ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা
    ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা ও সেই সংক্রান্ত ফান্ডিং ইত্যাদি নিয়ে কিছুদিন আগে 'এই সময়' কাগজে একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। http://www.epaper.ei...
  • কেমন হবে বেণীমাধব?
    - দিস ব্লাডি ইউনিয়ন কালচার ইস ক্র্যাপ। আপিস ফেরত পথে চিলড্ বিয়ারে চুমুক দিয়ে বলেছিল অসীম। কেতাদুরস্ত মাল্টিন্যাশন্যালে প্রজেক্ট ম্যানেজার অসীম। ব্যালেন্স শিট, ডেটা মাইনিং, ক্লায়েন্ট মিটিং’র কচকচানি, তার উপর বিরক্তিকর ট্রাফিক, আর গোদের উপর বিষ ফোড়া ...
  • ইফতার আর সহরির মাঝে
    কলকাতার বুকের মধ্যে যে কত অগুন্তি কলকাতা লুকিয়ে আছে! রমজান মাসে সূর্য ডুবে গিয়ে রাত ঘনিয়ে এলে মধ্য কলকাতার বুকে জেগে ওঠে এক আশ্চর্য বাজার। যে বাজার শুরু হয় রাত দশটার থেকে আর তুঙ্গে ওঠে রাত বারোটা একটা নাগাদ। ফিয়ার্স লেন, কলুটোলা, জাকারিয়া স্ট্রিট, সাবেক ...
  • #বাহামণিরগল্প
    অনেক অনেক দূরে শাল বনের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একটা লাল মাটির পথ ছিল আর পথের শেষে ছোট্ট একটা গ্রাম। সেই গ্রামে একটা ছোট্ট মেয়ের বাড়ি। জানি এ পর্যন্ত পড়েই আপনারা ভুরু কুঁচকে ভাবছেন, এ আর নতুন কথা কি? পথের শেষে গ্রাম থাকবেই আর সে গ্রামে যে একটা না একটা মেয়ে ...
  • হেতিমগঞ্জ বাজার
    নিলয় সেইদিন আমাদের আইসা বলে যে বিজনপুর নামে একটা জায়গা আছে এবং সেখানে অতি অদ্ভুত একটি ঘটনা ঘটে গেছে, একটি মেয়ে আচানক মাছে পরিণত হইছে। তাও পুরা মাছ না, অর্ধেক মাছ। আমাদের জীবন সমান্তরালে বইতে থাকা নদীর প্রবাহ বিশেষ, এতে কোন বিরাট ঢেউ কিংবা উথাল পাতাল ...
  • জলধরবাবুর ভগ্নাংশ
    ম্যাঘে ম্যাঘে ব্যালা গড়িয়ে আসে। নয় নয় করেও পঞ্চাশের ধাক্কা বয়েস হতে চলল জলধরবাবুর। তবে আজকাল পঞ্চাশ-টঞ্চাশ নস্যি। পঁচাশি-নব্বই পার করে দিচ্ছে লোকে হাসতে হাসতে। এ তো আর শরৎবাবুর আমলের নাটক-নবেল নয় যে চল্লিশ পেরোলেই পুরুষমানুষ সুযোগ্য ছেলের হাতে সংসারের ...
  • গর্ব
    গর্ব----------------...

চিঠি

রৌহিন

চিঠি লেখার স্বভাব ছোটবেলায় খুবই ছিল - বহু ধরণের চিঠি৷ প্রতি বছর বিজয়া দশমী পার হলেই ওফ সে কি যন্ত্রণা - বাধ্যতামূলক আইন৷ আমার ঠাকুর্দাকে আবার ইংরেজিতে লিখতে হত - বাংলা মিডিয়ামে পড়ে প্রতি মাসে একটা গোটা চিঠি ইংরেজিতে লেখা যে কি যন্ত্রণার সে যারা ভুক্তভোগী তারা ছাড়া আর কে-ই বা জানবেন৷ আমি অবশ্য প্রতি তিন-চার মাস অন্তর কপি পেস্ট মারতাম প্রথম থেকেই - তখন তো জানতাম না যে ভবিষ্যতে এটা একটা অমূল্য শিক্ষা হয়ে থাকবে৷ ঠাকুর্দার চিঠিগুলো অবশ্য কপি পেস্ট হত না - ইংরেজিতে লেখা সেই গোটা চিঠিটা পড়া এবং তার মানে বোঝার হাত থেকে আমাকে কেউ বাঁচাতে পারে নি৷ কিন্তু ঠাকুর্দার চিঠিতে আরেকটা ব্যপার ছিল - প্রতিটি চিঠির প্রথম এক চতুর্থাংশ (ফুল স্কেপ কাগজের) জুড়ে থাকতো জল রঙএ ঠাকুর্দার নিজের হাতে আঁকা একটি করে ছবি (তিনি আর্ট কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং মাধ্যম হিসাবে মূলতঃ জলরঙই ব্যবহার করতেন)৷ এখন ভাবি কতটা ভালোবাসা থেকে তিনি প্রতিটি চিঠিতে ওই শ্রমটা দান করতেন! যাই হোক, ঠকুর্দার ছবির গল্প অন্য কোন সময়ে করব - আপাততঃ চিঠির কথা বলি৷ আসলে চিঠির সঙ্গে আমার ঠাকুর্দা এত ওতপ্রোত জড়িয়ে আছেন যে তাঁকে ছাড়া এ গল্প শুরু করা অসম্ভব৷ ক্লাস নাইনে যখন পাখা গজালো, তখন থেকে আর তাঁর চিঠির জবাব নিয়মিত দিতাম না - বললে এটা ওটা অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে যেতাম৷ ঠাকুর্দা মেনে নিতেন৷
তারপর বন্ধুদের লেখা চিঠি - বন্ধুত্বের কথা, সুখ দুঃখের প্যাঁচালি, প্রেমে পড়ার গপ্প - এবং প্রেমপত্র অবশ্যই৷ বন্ধুর জন্য এবং নিজের জন্য৷ বন্ধুর জন্যই বেশি অবশ্য৷ প্রেমপত্র লেখার ব্যপারে আমার বেশ নাম ছিল৷ সে লেখা আবার কাস্টমাইজড হত৷ সংশ্লিষ্ট প্রেমিক চিঠি থেকে ঠিক কি ধরণের ফলাফল চাইছেন অথবা যাকে লেখা হচ্ছে তার আর্থ-সামাজিক ইত্যাদি অবস্থান কি ইত্যাদি প্রভৃতি বহুবিধ বিষয় জেনে নিয়ে চিঠি লেখা হত৷ ক্যাশ পেমেন্ট না হলেও ইন কাইন্ড হত - আস্ত সিগারেটের প্যাকেট ছিল সর্বোচ্চ মূল্য৷ এবং হ্যাঁ, অবশ্যই বিফলে মূল্য ফেরৎ৷
কিন্তু আসল মজা হল একটা অ-প্রেমপত্র লিখতে গিয়ে৷ নায়ক আগেই "এনগেজড" এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত৷ ওদিকে নায়িকা নাছোড়বান্দী৷ অতএব বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন৷ বিফলে মূল্য ফেরৎ৷ উদ্দেশ্য কন্যাকে নিরস্ত করা - এথিকসের মামাসিমানুস৷ সুতরাং রচিত হল পত্র - তিনপাতার চূড়ান্ত মেলোড্রামাটিক প্রেমপত্র৷ শুধু একটাই সূক্ষ্মতা - গোটা চিঠিতে কোথাও মেয়েটির নাম উল্লেখ নেই - বরং প্রথম প্যারার দ্বিতীয় লাইনেই লেখা "তোমার বাবা মা তোমার যে নাম দিয়েছেন তা তারাই রাখুন, আমি তোমাকে নীলা বলেই ডাকব - কারণ তুমি আমার সৌভাগ্যের চাবি - আমার রক্তমূখী নীলা৷" এরপর দীর্ঘ পত্র৷ নীল রঙের খামে সেই পত্র ভরে ওপরে পরিষ্কার করে লেখা হল নীলা - তারপর কেয়ার অফ মেয়েটির বাবার নাম ও ঠিকানা৷ মনে রাখা ভাল সেটা আশির দশকের শিলিগুড়ি৷ পরবর্তী প্রায় এক বছরের জন্য মেয়েটি গৃহবন্দিনী ছিল৷ মনে মনে ক্ষমা চেয়েছি বহুবার - আজ লিখিত হরফেও চেয়ে রাখলাম, যদিও তা ডিজার্ভ করি না৷
আরেকটা পত্র-অপরাধ ঘটিয়েছিলাম তার বছর দুয়েক পরে - যদিও সেটা ঠিক চিঠি লেখার গপ্প নয়৷ এটাও শিলিগুড়ি - একাদশ শ্রেণী৷ শিলিগুড়ি বইমেলা চলছে - প্রতিদিন কোনমতে স্কুল শেষ করেই (শেষ দু'তিনটে ক্লাসকে আমরা কোনদিন ধর্তব্যের মধ্যেই আনিনি) ছোটা আর বন্ধ হয়ে যাবার পর সিকিউরিটির তাড়া খেয়ে বেরোনো৷ তা এক সন্ধ্যায় আমরা দুই বন্ধু আরও তিন বান্ধবীর সাথে আড্ডায় বিভোর, পাশ দিয়ে ইংরাজির স্যার সত্যবাবু হেঁটে গেছেন আমরা দেখেও দেখিনি৷ পরে সঞ্জীব বলল, কাল স্কুলে শোধ তুলবে বুড়ো৷ তা যথারীতি, পরদিন ক্লাসে টেক্স্ট বই কেন নেই (আরে মশাই ক্লাস ইলেভেন - টেকস্ট বই নিয়ে স্কুল যাব? একটা প্রেস্টিজ নেই?) সেই অপরাধে পুরো ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকলাম দুই মক্কেল - আমাদের পাপে আরো দু-চারজনকেও অপদস্থ হতে হল৷ অপমানটা বড়ই গায়ে লাগলো৷ এর দিন দুয়েক বাদে হেডস্যারের ঘরের দরজার সামনে একটি নীল রঙের ইনল্যান্ড লেটার কুড়িয়ে পেলাম - তার ওপরে সত্য স্যারের নাম ঠিকানা৷ চিঠিটি পকেটস্থ করে বিকালে সোজা সঞ্জীবের বাড়ি - পরামর্শ সভা৷ শেষে দুজনের পুরো মাসের পকেটমানি একত্র করে উত্তরবঙ্গ সংবাদের পাত্রী চাই কলমে সত্যবাবুর নামে (তাঁর ছেলে আমাদের চেয়ে বয়সে বড়) বিজ্ঞাপন৷ এর পরের এক সপ্তাহ যা যা ঘটেছিল, এখন হলে দুটো মেগা সিরিয়াল নেমে যেত৷ অপরাধীরা আজও ধরা পড়েনি (আজ্ঞে না, এটা পুলিশের অপদার্থতা নয়, বিচক্ষণ স্যার বুঝেছিলেন এটি কোন ছাত্রেরই অপকর্ম - জানিনা প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্তও করে ফেলেছিলেন কি না, পুলিশে স্যার আদৌ যান নি - তখন অত চট করে শিক্ষকদের প্রাণের ভয়ে পুলিশ ডাকার ফ্যাশন হয়নি৷ অভিজিত তখনো গোকুলে বাড়ছে)৷
আমার বাবার ছিল বদলীর চাকরী৷ চার-পাঁচ বছর পরপরই বন্ধু-বান্ধব স্কুল-কলেজ, প্রেমিকা - ভালোলাগা ছেড়েছুড়ে ছিন্নমূল৷ আর চিঠির জোয়ার - বছর দেড়েক লাগতো সে জোয়ার থেকে ভাটায় পৌঁছতে৷ শেষবার এরকম ছিন্ন হলাম বিএসসি দেবার পর - কোচবিহার থেকে কোলকাতা৷ চিঠি চাপাটি তখনো বেশ চালু - নব্বই এর দশকের প্রথমার্ধ৷ ই-মেল বলে একটা বস্তুর কথা শুনেছি কারণ আমি একটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত যারা কাটিং এজ সায়েন্স নিয়ে কাজ করে৷ কিন্তু নিজের ই-মেল আই ডি তখনো প্রায় চার বছরের দূরত্বে৷ কিন্তু তবু বছর দুয়েক পর থেকে কমে এলো চিঠি লেখার ফ্রিকোয়েন্সি৷ শেষ লেখা চিঠিটার কথা কিন্তু মনে আছে - তিন লাইনের, "তোমায় ভালোবেসেছিলাম তাই হাসিমুখে বিদায় দিলাম৷ আবার কোনদিন দেখা হয়ে যাবে কোন প্রান্তে৷ ভালো থেকো আর পারলে মনে রেখো৷" ততদিনে আমার প্রথম রেডিফ মেল আইডি ক্রিয়েট হয়ে গেছে (সেটার পাসওয়ার্ডটা ভুলে গেছি বেমালুম)৷



Avatar: Arindam

Re: চিঠি

"ক"! অনেক্গুলো!!!

Avatar: de

Re: চিঠি

কি ভালো! ঠাকুর্দার সেই চিঠিগুলো প্রিজার্ভ করেছেন নিশ্চয়ই!
Avatar: প্রত্যুৎপন্নমতি

Re: চিঠি

আহা সেই সত্য স্যর! তিনি যদি প্রত্যুৎপন্নমতি হতেন তবে ঐ মওকায় দ্বিতীয় বিবাহ করে ফেলতেন স্পেশাল কোনো পার্মিশন নিয়ে।
ঃ-)
Avatar: সিকি

Re: চিঠি

আহা। বড় ভালো।

চিঠি লেখালেখি আমার বড় হয়ে ওঠার সময়ের একটা বড়সড় অংশ জুড়ে আছে। অনেক কিছু মনে পড়ল।

রৌহিনের যেটা পাঁচ বছর অন্তর ছিল, আমার ছিল সেটা তিন বছর অন্তর। "আমার স্কুল" কনসেপ্টটা কোনওদিন গড়েই ওঠে নি তাই।

ইত্যাদি।
Avatar: Tim

Re: চিঠি

ভালো লাগলো খুব!

আমায় চিঠি লিখতে হতো জেঠুকে। ইনল্যান্ড লেটারে বাবা দরকারী কথাবার্তা লিখে শেষে আমায় দিতো। আকাশ পাতাল ভেবে, বহু বিবেচনার পর এক একটা কথা লিখতাম। বেফাঁস কিছু বললেই হয়েছে। সে যে কি কষ্ট!
Avatar: Nina

Re: চিঠি

এই চিঠি লেখা একটি আর্ট হারিয়ে যাচ্ছে অজকের দুনিয়ায়--
খুব ভাল লাগল রৌহিন
তোমার নামটিও ভারি সুন্দর -- মানে কি?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন