গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

বইমেলাঃ গুরুর গাইড


২০১৮ – গুরুর চটি


দিনগুলি, রাতগুলি - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

"গঙ্গার পাড়ে, বোটানিকাল গার্ডেনের পাশে সেই ক্যাম্পাসে মাঠের নাম লর্ডস ও ওভাল, পুকুরের নাম বিদিশার ঝিল। ক্যাম্পাসের ঠিক মাঝখানে কবরখানা, একদিকে মুচিপাড়া, অন্যদিকে সায়েবপাড়ার মাঝখানে 'রহস্যময় মেয়েদের হল'। এখানে আছে 'লাভার্স লেন', যেখানে চাঁদের আলোয় হাত ধরাধরি করে প্রেমিক-প্রেমিকারা হাঁটে।
....
সৈকত ভাল লেখেন, কী খারাপ লেখেন, তা আমার ভাবার এক্তিয়ারে পড়েনা। এ তো আর 'চুপ, আদালত জারি আছে'র মতো ব্যাপার নয়। এখানে গণেশ পাইনের 'আততায়ী'র মুখ আলো-অন্ধকার ফাঁসিয়ে মাঝে মাঝে জেগে ওঠে। পিটার স্যাফারের নাটকে সতেরো বছরের অ্যালান কেন পাঁচটি ঘোড়াকে অন্ধ করে দিয়েছিল? ড. ডিমার্ট কোনোদিন কি তা জানতে পারবে? আমরা জানতে পারব?
'দিনগুলি রাতগুলি' চোরাস্রোতে আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। কোথায়? সেই হদিশ জানা থাকলে এ লেখা তো আর উপন্যাস হতনা। মিথ্যার চেয়েও সত্যের বড় বিপজ্জনক শত্রু আত্মবিশ্বাস। সৈকতের উপন্যাস এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিস্পর্ধী সত্যের হিরণ্ময় মুখ।"
-- এই বইয়ের ভূমিকায় লিখেছিলেন, রবিশঙ্কর বল।

তক্কোগুলি, চরিতাবলী ও আখ্যানসমূহ – কল্লোল

"মানবচরিত্র এক বর্ণালীর সমন্বয়। কাল বিশেষে সেইসব বর্ণের উপর দুটি বিশেষণ আরোপিত হয়, ভালো ও মন্দ। বর্ণগুলি কোনো জলবিভাজিকায় বিভক্ত নয়। প্রায়শঃই তারা একে অন্যের সঙ্গে মিশে নতুন বর্ণের জন্ম দেয়। কালান্তরে এক একটি বর্ণের সাথে যুক্ত থাকা বিশেষণ দুটি স্থান বদল অক্রে মাত্র, কিন্তু আশ্চর্যভাবে ভালো ও মন্দ থেকেই যায়, তাদের ভালোত্ব ও মন্দত্বে মিশেই থেকে যায়, তৃতীয় বিশেষণ জন্ম নেয়না। তাই হয়তো কোনোকালেই মানুষ ব্যক্তি ও সামূহিকভাবে পুরোপুরি ভালো বা মন্দ হয়ে উঠবেনা। ফলে ভালো থাকার স্বপ্নটি, সকলে মিলে ভালো থাকার স্বপ্নটি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে হয়তো।
এই অসম্পূর্ণতার হাত ধরে এক আশ্চর্য আকাঙ্খার। এইসব ছোটোবড়ো আখ্যানসকল গেঁথে গেঁথে একটি মহোপাখ্যান গড়ে তোলার আকাঙ্খা। জানি, পণ্ডিতরা নিদান হেঁকেছেন মহোপাখ্যানের দিন ফুরিয়েছে, কিন্তু শেষ বিচার কে কবে করেছে?"
কারাগার ও মধ্যভূমির আখ্যানকার লিখছেন, তাঁর দ্বিতীয় আখ্যানটি। লিখছেন, "একটি মহোপাখ্যানের অকিঞ্চিতকর অংশ হয়ে থাকার স্বপ্নে লিখতে থাকি। স্বপ্ন না পূরণ হলেই বা ক্ষতি কী?"

কাশ্মীর, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণতন্ত্র ও জনমত – মিঠুন ভৌমিক

কাশ্মীরের আখ্যান এক অদ্ভুত আখ্যান। "পার্স্পেক্টিভ একটা অদ্ভুত ব্যাপার। বেড়ার এপারে যে সন্ত্রাসবাদী, ওপারে সে দেশপ্রেমী। ওপারে যে দখলদার, এপারে সে বেনেভোলেন্ট প্রশাসক। কিন্তু কোথাও কি কোনো অবজেক্টিভিটির অবকাশ নেই?
সম্ভবতঃ নেই। সম্ভবতঃ তা অবাস্তব, মতান্তরে অসম্ভব। জার্মান সাহেব নীটশে যেমন বলে গেছেন-'There are no facts,only interpretetions'।হাওয়ার্ড জিন যেমন বলে গেছেন ঐতিহাসিকের অবজেক্টিভিটি অনুচিত, অসঙ্গত। অপরপক্ষে ইতিহাসকে পুরোপুরি সাবজেক্টিভিটি'র হাতে ছেড়ে দিলে যে কী মারাত্মক ফল হতে পারে, তার ভুক্তভোগী আমরা, আর এস এস ছায়ামন্ডিত - ভারতবাসীরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি, আরো পাবো বলেই আশঙ্কা। আর টের পেয়েছিলেন নীটশের দেশের লোকেরা, তৃতীয় রাইখের পদানত জার্মান জাতি( বস্তুতঃ পৃথিবীর সর্বত্রই প্রবল, আধিপত্যকামী শাসকের ছায়ায় ঢাকা জনগণ এ সত্য টের পান অথবা পান না, পেতে চান না)। অতএব কোথাও একটা ব্যালান্সের প্রয়োজন অনস্বীকার্য-আদর্শ গ্যাসের মত আদর্শ অবজেক্টিভ ইতিহাস অসম্ভব জেনেও তার যথাসাধ্য কাছাকাছি পৌঁছোনোর একটা চেষ্টা।ইতিহাসচর্চার এই অবজেক্টিভিটি নিয়ে মিঠুন ভেবেছেন এবং এই বইটি জুড়ে মিঠুন তারই একটি প্রয়াস চালিয়ে গেছেন; সব্সময় সফল হয়েছেন কিনা তার উত্তর পাঠকরাই দেবেন। "
ভূমিকায় লিখেছেন ইন্দ্রনীল ঘোষদস্তিদার।

গোরা নকশাল – কল্লোল লাহিড়ি

টানা ন্যারেটিভের মাধ্যমে সময়ের পট-পরিবর্তনকে বুনে চলা বেশ মুনশিয়ানার পরিচয়। কল্লোল সেটুকু পেরেছেন। তাঁর লেখাটির পাঠ খুব সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। এক রম্য দুপুরের রোদে পিঠ ঠেকিয়ে এক নিঃশ্বাসে এই ছোট উপন্যাসটি পড়ে ফেলা সম্ভব নয়। ভাগ্যিস নয় ! ভাগ্যিস এখনো কিছু কিছু গল্প আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, যাদের কুড়িয়ে আনতে গেলে কেটে যায় বেশ কিছু শ্রমবহুল রাত! এভাবেই কিছু কিছু আখ্যান তাদের কাঠিন্যের অন্তরালে দিনবদলের হাতিয়ার হিসেবে অক্ষরের রাইফেলটিকে উদ্যত করে বেঁচে থাকুক ।

 

সর্ষেদানায়, ইচ্ছেডানায়ঃ অচল সিকির মোটরসাইকেল ডায়েরি – অচল সিকি

"অবশেষে সেই সকাল এসেই গেল, অনেকদিন পর যে সকালের জন্য আমি হাত কামড়াব। বছর বিশেক পর আত্মজীবনীর পাতায় স্বীকার করে যাব, এই একটা বই বার করা ভুল হয়ে গেছে বিলকুল। খাচ্ছিল-দাচ্ছিল, কী দরকার ছিল উসকানোর। মধ্যবিত্ত মানুষ দিব্যি সকালে আপিসে গাল খাচ্ছিল, বিকেলে চার আনার মাল। আফ্রিকা টাফ্রিকা, হনলুলু কি মেক্সিকো দেখতে হলে হাতের কাছে বোকা বাক্স ছিল। ন্যাশানাল জিওগ্রাফিক, আরও কত হাবিজাবি। আর এই ছোকরা শুধু সেসব রুলবুক ভেঙে একলা বাইক নিয়ে লাদাখ থেকে লখনৌ, গ্যাংটক থেকে গোবিন্দপুর করে বেড়াচ্ছে তাই না, সেসব লিপিবদ্ধ করেও ফেলেছে। সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করার মহতী প্রোজেক্টে ইন্ধন জোগানো ছাড়া আর কী? প্ররোচনার দায়ে এর জেল জরিমানা হওয়া উচিত।

হ্যাঁ, অচল সিকির বইয়ের কথাই বইছি। তার বাইক বগলে লাদাখ জয়ের হম্বিতম্বির কাহিনি। আজকে হুগলিতে সে বইয়ের উদ্বোধন আছে। সেখানেও সিকিবাবু আসছেন, দিল্লি থেকে নিজের বাহন হাঁকিয়ে। তা তিনি আসছেন আসুন, আপনি একান্তই যদি যান তো একটু সাবধানে। পারলে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করুন, একান্তই না পারলে চারচাকায়। বাইকে একেবারেই না। কারণ অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে ঠ্যাং ভাঙলে দায়িত্ব সিকিবাবু নেবেন না। গুরুচন্ডালি তো নয়ই। আর বইটা পড়ে লাদাখ কিংবা খাইবার পাসে লাফিয়ে লাফিয়ে দৌড়বেন না। বরং স্রেফ গপ্পোকাহিনি হিসেবে সোফায় বসে পড়ে ফেলে ডিসকভারি চ্যানেল দেখতে বসে যান। কারণ, বিপদ হলে আপনার হবে। সিকিবাবু বখে গেছেন, তাঁর আর কিছু হবার নেই। আর আমি যেখানে সুখে থাকি তার দুশো মাইলের মধ্যে কোনো সমুদ্র নেই। পাহাড় দেখতে গেলে মহাদেশ এফোঁড় ওফোঁড় করতে হবে। জানি দশ বছর পরে ভুল স্বীকার করেই খালাস হয়ে যাব। বিপদে পড়লে আপনি পড়বেন। তাই সাধু সাবধান। " – প্রকাশকের বিনীত নিবেদন।

এ লেখা ভ্রমণকাহিনি, কিন্তু শুধুই ভ্রমণকাহিনি নয়। এ বইতে আছে এক নেশার গপ্পো, যে নেশা অন্যদেরও নেশা ধরিয়ে দিতে পারে। জীবনে একটানা একশো কিলোমিটারের ওপর গাড়ি চালায় নি যে আগে কোনওদিন – সে হঠাৎ একদিন পথের নেশায় ভোররাতে বেরিয়ে পড়ল, ঘুরে এল তার স্বপ্নের গন্তব্য। তার পরে আবার, এবং আবারও। এ বই শুধু স্বপ্নপূরণের গল্প নয়, এ বইয়ে ধরা আছে নিজের সামনে নিজের রাখা চ্যালেঞ্জের কথা, আর তাকে জিতে আসার কথা। এ বইতে আছে আরও বড় স্বপ্ন দেখার গল্প। পাঠককে স্বপ্ন দেখার নেশা ধরিয়ে দেবার পক্ষে যথেষ্ট।

 

স্বাস্থ্য (অ)ব্যবস্থা – সম্পাদনাঃ পুণ্যব্রত গুণ

সারা বাংলা সবার জন্য স্বাস্থ্য প্রচার কমিটি এবং গুরুচণ্ডা৯ প্রয়াস।

স্বাস্থ্য ভারতীয়দের মৌলিক অধিকার নয়। তদুপরি '৪৭ পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যে কল্যাণকর ভূমিকা পালন করার উদ্যোগ ছিল, রাষ্ট্র তার থেকে সরে আসছে গত শতকের নব্বই-এর দশকের শুরু থেকে। স্বাস্থ্য এখন মূলত পণ্য, পুঁজির চারণক্ষেত্র এবং মৃগয়াভূমি।
এই অদ্ভুত ব্যবস্থায় নাগরিকের ক্ষোভ মেটাতে রাষ্ট্রের কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেই, পরিবর্তে আছে কেবল একের পর এক ফাঁপা ঘোষণা। আর স্বাস্থ্যকর্মীদের, বিশেষ করে চিকিৎসকদের জনগণের রোষের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। যেন একমাত্র তাঁদের দোষেই মানুষ যথাযথ পরিষেবা পাচ্ছেন না।
এই সংকলনে লিখেছেন চিকিৎসকরা, জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের কর্মীরা, নীতিনির্ধারকরা....যাতে বাস্তবটাকে বোঝা যায়, এবং সেই অনুযায়ী চলার পথ ঠিক করা যায়।

 

সবার জন্য স্বাস্থ্য-একটি স্বপ্ন যা সত্যি করা যায় – সম্পাদনাঃ পুণ্যব্রত গুণ
সারা বাংলা সবার জন্য স্বাস্থ্য প্রচার কমিটি এবং গুরুচণ্ডা৯ প্রয়াস।


ঘুণধরা স্বাস্থ্যব্যবস্থা, আজ রোগী এবং চিকিৎসকদের প্রায় একে অপরের সঙ্গে যুযুধান প্রতিপক্ষ বানিয়ে দিয়েছে। কোথাও মানুষ মারা যাচ্ছেন চিকিৎসা নামধারী মুনাফাযন্ত্রের চাপে। কোথাও চিকিৎসক বিপন্ন বোধ করছেন আক্রমনের আশঙ্কায়। অথচ শর্টকাটে এ সমস্যার সমাধান হবার উপায় নেই। দীর্ঘমেয়াদী কোনো সদুত্তরও কি আছে, এই সমস্যার? সে প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজেছেন দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা। এই বইয়ে।

'সবার জন্য স্বাস্থ্য' কথাটা এই বইয়ে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তার একমাত্র অর্থ সরকার সমস্ত নাগরিকের স্বাস্থ্যরক্ষার দায়িত্ব সরকারের।

আজ শুনতে অলীক লাগে, কিন্তু ১৯৭৮-এর আলমা আটা ঘোষণা পত্রে ভারত এই মর্মে স্বাক্ষরও করেছিল। সবার জন্য স্বাস্থ্যের লক্ষ্যে গঠিত উচ্চস্তরীয় বিশেষজ্ঞ দল হিসেব করে দেখিয়ে দিয়েছিল কি ভাবে এমনটা সম্ভব। যদিও দেশের সরকার সে দায়িত্ব নেয়নি। ফল? আজ সরকারি ব্যবস্থা অপদার্থ, বেসরকারি ব্যবস্থাও মুনাফার লোভে পাগল।

এ থেকে এখনও বেরোনোর উপায় এখনও অসম্ভব কিছু না। 'হেলথ ফর অল' এর উদ্যোগে আয়োজিত কনভেনশনে এই মর্মে বিশদ বক্তব্য রেখেছিলেন, ভারতের স্বনামধন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ বই সেই বক্তৃতাবলীরই সংকলন। লিখছেনঃ
পুণ্যব্রত গুণ
বিনায়ক সেন
অরুণ সিংহ
শ্রীনাথ রেড্ডি
রাহুল মুখার্জি
সত্য শিবরমন
অলকেশ মন্ডল
বঙ্কিম দত্ত

'সবার জন্য স্বাস্থ্য' শুধু একটি বই নয়। এটি সকলের জন্য আশু এবং জরুরি একটি বিষয়। সংকট সমাধানের জন্য জন সচেতনতা গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।

 

বাংলা স্ল্যাং, সমুচয় ঠিকুজিকুষ্ঠি – অজিত রায়

অজিত রায়ের গদ্যপ্রযুক্তি, প্রকাশদীপ্তি ও ব্লেডের মতন ক্ষুরধার চলিত শব্দপ্রয়োগে অভ্যস্ত পাঠকেরা তাঁকে ভালোবাসেন তাঁর একদম নিজস্ব এক চলমান গদ্যশক্তির জন্যে। অজিত রায় মানেই এক নিরন্তর অস্থবিরতা , এক শিল্পিত চলিষ্ণুতা। বাংলা স্ল্যাং নিয়ে উনি কাজ করছেন অনেকদিন।

'বাংলা স্ল্যাং, সমুচয় ঠিকুজিকুষ্ঠি' - বইএর ভাষা মোলায়েম বাঙলা গদ্যভাষা নয়। এ বইএর দুই মলাটের ভিতরে লেখক তুলে আনছেন বাংলা স্ল্যাং এর আগা ও গোড়া। তালিকা ও ইতিবৃত্ত। এবং অতি অবশ্যই স্ল্যাং অভিধান।

অজিত রায়ের গদ্য বাংলা ভাষার বিপুল গুরু ও চণ্ডাল সূত্রের বাহক। তৎসম, স্ল্যাং আর বাংলা-বিহারের চলিত শব্দের এক অদ্ভুত সমুচয় । এই ভাষাতেই তিনি লিখেছেন স্ল্যাং এর উপাখ্যান। স্ল্যাংকে শুধু অপভাষা বা শুধু খিস্তি, এর কোনোটাই বলা যায়না, বলেছেন লেখক। তাহলে স্ল্যাং কী? বাংলা স্ল্যাং কী কী? জানতে হলে বইটি অবশ্যপাঠ্য।


২০১৭ – গুরুর চটি


 

নির্বাচিত গল্পপাঠ – অপার বাংলার গল্পসংকলন, গল্পকারদের গল্পকথা(প্রথম, দ্বিতীয় খণ্ড)

“বাংলাদেশের সাহিত্য আলাদা হয়ে গেছে ক্রমশ। আলাউদ্দিন আল আজাদ-এর ‘বৃষ্টি’র মতো গল্প এপারে লেখা সম্ভব হয়নি। আবার দীনেশচন্দ্র রায়ের ‘কুলপতি’ কিংবা শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের “তেওট তালে কনসার্ট” এপারেই লেখা সম্ভব। দেশ আলাদা কিন্তু একই জাতি, তাতেও সাহিত্য একই রকম থাকে নি। দেশভাগ যেমন এপারের সমস্যা, দেশভাগজনিত দুঃখ, কষ্ট যেমন এপারের সাহিত্যকে দিয়েছে নতুন মাত্রা, ওপারে দেশভাগের যাতনার চেয়ে ভাষা আন্দোলন, ধর্মীয় মৌলবাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয়েছে প্রধান বিষয়। আবার বাংলাদেশের জন্মের পর মুক্তিযুদ্ধ, মানুষের আত্মত্যাগ হয়েছে সাহিত্যের প্রধান বিষয়। আবার ধর্মের নিগড় থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষাও হয়েছে বড় বিষয়।”

দুই বাংলার গল্প ধরে যাচ্ছে দুই মলাটের মধ্যে। ধরে যাচ্ছেন ৮৫ জন জীবিত গল্পকার, সাক্ষাৎকার সহ। সুবিশাল এরকম এক সংকলন দুই বাংলাতেই প্রথমবার।

 

এক ব্যাগ ৯০ – ১৯ টি কবিতার বই 

আস্ত নব্বইকে একটা ব্যাগে আঁটিয়ে দেওয়া সম্ভব না, যদিও ইচ্ছে ছিল সেটাই। পরিবর্তে আসছে নব্বইয়ের এক ঝাঁক কবির এক ঝাঁক বই। ১৯৯০ এর বদলে ১৯টি নব্বই। ১৯র ৯০। ১৯৯০। ৯০ এর রূপকথা। ভুলে যাওয়া ৯। ভুলে যাওয়া ৯০। পাচ্ছেন একই ব্যাগের ভিতরে। দেখতে থাকুন, এই জাদুব্যাগের ভিতর থেকে শহর আর শহরতলীর একঝাঁক খোলা জানালা দিয়ে উড়ে যাবে নষ্ট নব্বইয়ের পুরোনো পায়রারা।

যে কবিদের যে বইয়েরা ঠাঁই পেয়েছে এই ব্যাগেঃ 

  • অয়ন চক্রবর্তী – বিষণ্ণ রূপকথা
  • অংশুমান কর – সরে দাঁড়ালেন লেন্ডল
  • আর্যনীল মুখার্জি – জলতলের ফটোগ্রাফি
  • কল্পর্ষি বন্দোপাধ্যায় – যে গান শোনে না কেউ
  • চন্দ্রিল ভট্টাচার্য – সরুচাকলি
  • পারমিতা মুন্সি – কূর্মাবতার
  • প্রসূন ভৌমিক – উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা বান্ধবীকে
  • মিতুল দত্ত – উইকএন্ড
  • যশোধরা রায়চৌধুরী – সাক্ষরতা মিশন
  • রোশনারা মিশ্র – ১৯৮৯
  • শমিত রায় – উহ্য
  • শান্তনু রায় – পড় শুধু স্মৃতি
  • শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় – যে বয়েস হরিণের নয়
  • সার্থক রায়চৌধুরী – আত্মার আশ্চর্য সেলফি
  • সাম্যব্রত জোয়ারদার – যখন ফানুসেরা ওড়ে
  • সায়ন কর ভৌমিক – পাখিয়াল
  • সুমন মান্না – ফোনঘর
  • সোমনাথ রায় – রেলিং জড়িয়ে প্লাস্টিক
  • হিন্দোল ভট্টাচার্য – লেখো আলো, লেখো অন্ধকার
 

বস্টনে বংগে – বর্ন ফ্রি 

“গত বছর এই ডিসেম্বর মাসেই সুপ্রীম কোর্টের রায় আবার নতুন করে আমাকে ক্রিমিনাল করে দিয়েছিল। যবে থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই জেনে এসেছি এই ভারতে আমার বা আমাদের মত মানুষদের কোনো আইন্সন্মত জায়গা নেই। ঝোপের আড়ালে, পার্কের কোনায়, পাবলিক টয়লেটে অথবা ভিড় ট্রেনের কামরায় আমরা চাইলে থাকতে পারি কিন্তু তোমাদের নাটকে, গল্পে কবিতায় সিনেমার ডিসকোর্সে আমরা নেই। তোমাদের বেডরুমে আমরা সবসময় থেকেছি, কিন্তু তোমাদের ড্রয়িংরুমের আলোচনায় আমাদের ডাক পড়েনি। বরং বিভিন্ন সময়ে বন্ধুদের মুখে শুনেছি ‘ওইসব করতে হলে আমেরিকায় গিয়ে কর, ইন্ডিয়াতে করলে পুলিশে ধরবে’। তারা অনেক সময়েই কথাগুলো মজা করে বলেছে। আমি জানি, আমার যৌনপরিচয় না জেনেই বলেছে, কিন্তু কতটা ব্যথা দেওয়া সত্যি কথা বলে ফেলেছে সেটা তারা নিজেরাও বোঝেনি।”

বস্টন থেকে কলকাতা, আমেরিকা থেকে ভারতে, এক ‘অন্যরকম’ যুবকের অন্যরকম রচনা। ধারাবাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল গুরুচন্ডা৯তে। কিছু পরিবর্তিত পরিমার্জত রূপে এবার বই হয়ে।

 

কামান বেবি – বিপুল দাস

এই উপন্যাস আসলে জাদুবাস্তবতার আড়ালে এক আধুনিক পথের পাঁচালির আখ্যান নির্মাণের দিকে এগিয়ে গেছে, যেখানে ঘরপালানো বালক আবার উৎসের দিকে যাত্রা শুরু করে, হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ি খুঁজে নেয় নিজস্ব ঠিকানা। বিপুল দাস এক আশ্চর্য গদ্যকার। নরম, তুলোর মত উড়ে যায় তাঁর যে শব্দরা, তারাই আবার তেজি অশ্বের মতো মাটিতে সজোরে পা ঠোকে। হ্রেষাধ্বনিতে ভেসে যায় চরাচর।

 

অনুষ্ঠান প্রচারে বিঘ্ন ঘটায় দুঃখিত – শাক্যজিত ভট্টাচার্য 

কেমন ছিল ভুলে যাওয়া নব্বইয়ের দশক? তার সিনেমা, বাংলা সিরিয়াল, তার ফেলে আসা শুকিয়ে যাওয়া লাল পতাকা, তার বন্ধ কারখানা, তার প্রেম, বন্ধুতা আড্ডা?  চিলেকোঠার জঞ্জাল ঘেঁটে খুঁজে পাওয়া এক চিলতে পুরোনো কৈশোর, যেখানে ছাদভর্তি অ্যান্টেনার কাঁটাতার থেকে অন্যমনে ঝুলে আছে এক পশলা অন্য নব্বই।

 

আদালত-মিডিয়া-সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি – দেবাশিস সেনগুপ্ত, প্রবাল চৌধুরী, পরমেশ গোস্বামী

বারো বছর আগে রাজ্যে সর্বশেষ ফাঁসির ঘটনাটি ঘটেছিল আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে। চোদ্দো বছর সলিটারি সেলে রাখার পর ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ধনঞ্জয় আগাগোড়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। নাগরিক সমাজের একাংশও ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যাসত্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। সেই সংশয় আরও গভীর হয়েছে দেবাশিস সেনগুপ্ত, প্রবাল চৌধুরী, পরমেশ গোস্বামীর দীর্ঘ অনুসন্ধানে। প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়া নিয়েও। সেই অনুসন্ধানের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

 

ন্যানোপুরাণ – সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

এখানে একটা কনফিউশন তৈরি হতে পারে, যে, ন্যানো প্রসঙ্গে বারবার ১৯৯৬ সালের কথা আসছে কেন। ন্যানো তো ২০০৬ সালের কারবার, বিশুদ্ধ নিউজ চ্যানেল সিদ্ধান্ত মতে যখন সিঙ্গুরের ইতিহাসের সূচনা হল। সিঙ্গুর বাজার থেকে মাইল দুই দূরে শুরু হল যুগান্তকারী টাটা কারখানার কাজ। টাই পরা কর্পোরেট জেন্টলমেনদেরকে ঝাঁটা ও জুতো নিয়ে তাড়া করল বিক্ষুব্ধ কৃষককুল। তৎপরবর্তী দুইবছরে কড়ক্কড় বাজ পড়িল, কুকুর-বিড়াল বৃষ্টি হইল, বঙ্গের ভাগ্যাকাশে লোডশেডিং হল, একযোগে শুরু হল শিল্পবিপ্লব এবং কৃষকবিদ্রোহ। কৃষি থেকে শিল্প হল, টিভিচ্যানেল ফুলে কলাগাছ হল, রাজায়-রাজায় জোরদার পাঞ্জা লড়াই শেষে ঘুড়ি উড়ল বাঙালিটোলায়, বেড়াবেড়ি-বাজেমেলিয়া-গোপালনগর-ছআনি-রতনপুর ইত্যাদি অশ্রুতপূর্ব বিচিত্র নামে ভরে গেল জগৎ চরাচর, চ্যানেলে চ্যানেলে দেখা গেল লাল-নীল ন্যানো গাড়ি আর বেচারাম মান্নার মুখ। কলকাত্তাইয়া আঁতেলদের মতে, এই হল সিঙ্গুরের ইতিহাসের সূচনাবিন্দু। বিগ ব্যাং। প্রথম আদি তব সৃষ্টি। ইহার পূর্বে ছিল অন্ধকার। মধ্যযুগ। অবাঙ্‌মনসগোচর ইতিহাসহীনতা। ব্ল্যাকহোল ও সিঙ্গুলারিটি। এইসব।
পরিষ্কার বলে রাখা ভালো, এসব মূলত কলকাত্তাইয়া আঁতেলদের কনফিউশন। যাঁরা সমাজবিজ্ঞানী ও বিদেশফেরত, টিভিতে মুখ দেখান ও একে অপরের সঙ্গে ঝাড়পিট করেন, কলেজে ও ইউনিভার্সিটিতে দেদার লেকচার দেন, কিন্তু ইতিহাসের কিস্যু জানেননা তাঁরাই এই কনফিউশনের জনক। এই মেনলি নিজভূমে-পরবাসী স্পিসিসের জন্য ঝট করে জানিয়ে দেওয়া যাক, যে, ওসব শহুরে গুজবের এই লেখায় কোনো জায়গা নেই। ওসব আতুপুতু আদিখ্যেতা জানতে হলে খবরের কাগজ পড়ুন গে। এদিকে আসবেননা। এ হল লিমিটেড এডিশন ঠাকুরমার ঝুলি, বিশুদ্ধ ন্যানোপুরাণ, সিঙ্গুরবাসীদের জন্য লিখিত সিঙ্গুরবাসী বরদাচরণ রচিত সিঙ্গুরের ভূমিপুত্রের ইতিহাস, এ খাঁটি দিশি মাল টাগরায় জোর থাকলে তবেই খাওয়া যাবে।

শারদীয়া প্রতিদিনে প্রকাশিত উপন্যাস।


২০১৬ – গুরুর চটি


 

ওই মণিময়, তার কাহিনি – রবিশংকর বল

"ভয়াবহ ভালো লেখা। একমাত্র মেটাফার পেঁজা তুলোর মতন উড়ন্ত – ভাসমান – তবু স্বাধীন নয় – নিজে উড়তে পারে না – তবু মনে হয় নিজেই উড়ছে – আসলে নিজে উড়তে পারে না – হাওয়ায় ওড়ায় " – সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

এমনি এমনিই তো কেউ দেখে ফেলতে পারে গাছের পাতার উল্টোদিক। কোনো না কোনো ভাবে। বহুকাল ধরে পড়ে থাকা অনড় পাথরের বুকে মাথা রেখে শুয়ে শুনে ফেলতেও তো পারে ইতিহাসের শতশতশতজলঝর্ণার ধ্বনি। সেখান থেকে কলরোল হৃৎবদলও তো হয়ে যেতে পারে। তেমন স্রোতের থেকে নিঃসৃত শব্দসমাহার একটি চরিত্রের কারণও তো হয়ে উঠতেই পারে। কিংবা ফলাফল। অথবা বহমানতা। এই সবই হয়ে ওঠে। হয়ে উঠছে, এই বিন্যাসটিতে।

 

অ(ন)ন্য মহীন (১) – সংকলন

‘আমি আবার কাঁদব হাসব, এই জীবন জোয়ারে ভাসব, ... ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা’ – সলিলীয় এই গানটি, বাণীর দিক থেকে প্রায় যেন একই রকম কথা বলে। কিন্তু ভাব ও সুরে সলিলের এই গানে আছে তীব্র রোমান্টিক উদ্দীপনা, আর মহীনের ‘ফিরে আসব’তে সেই উদ্দীপনার জায়গা নেয় নিখাদ বিষণ্ণতা। এই বিষণ্ণতাই মহীন এবং সলিল চৌধুরির মধ্যের ছেদবিন্দু। এখানে দাঁড়িয়ে, ঠিক যেভাবে প্রায় একই কথা একদা সলিল নিজেই বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে, মহীন এবং তার পিতৃপুরুষ গৌতম চট্টোপাধ্যায় যেন সেই সুরেই সলিল চৌধুরিকে বলছেন, তুমি আমার পিতা, কিন্তু আমার পথ এবার আলাদা হল। কারণ আমার অন্ধকারের রঙও বদলে গেছে, আমার মধ্যে ঢুকে গেছে এই জীবনানন্দীয় বিষণ্ণতা। এখানে দাঁড়িয়েই জীবনানন্দ পরবর্তী সময়ে কাব্যের মধ্যে যে সুর, সেই সুর গানের মধ্যে ঢুকছে, তার কথার মধ্যে ঢুকছে। এর মধ্যে চিরন্তন ভালোবাসা, চিরন্তন বিচ্ছেদের সমস্ত দুঃখগুলো আছে, কিন্তু সেটা আর শুধু সাদা-কালোর দুঃখ নয়, এর মধ্যে আরও রং, অনেক শেড ঢুকে গেছে। এই উপচে পড়া বিষণ্ণতাই সেই জিনিয়াসের চিহ্ন, যার নাম মহীন।' 
-দেবজ্যোতি মিশ্র

আশালতা – অমর মিত্র 

এই বইয়ে আছে ১৯৮৪র কুলছুমের হাত। ওই সময়ে লেখা বছিরদ্দি ভূমি ধরিতে যায়, আর একটু পরের নদী ভূমি .....জমি নিয়ে বাঁচা মানুষের ইতিবৃত্ত। কুলছুম একটি বালিকা। তার বাবা ক্ষেত মজুর। কুলছুমের হাত ভাত না পেয়ে রেগে অগ্নিশর্মা বাবার মুখ চেপে ধরে তালাক উচচারণের মুহুর্তে। আশ্চর্য মানুষ আর জনজীবনের কথা এই বইয়ের সব গল্পে।

 

মহেঞ্জোদারো – সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

"সময়টাই ভুলভাল। স্বাধীনতা সংগ্রাম, হাংরি, ভিয়েতনাম, নকশালবাড়ি, পথের পাঁচালি, বার্লিন ওয়াল, তিয়েন-আন-মেন স্কোয়্যার, এমনকি ইন্টারনেট অব্দি সব শেষ। এখন শুধু খুঁটে খাওয়া। পেডিগ্রি ছাড়া আর কিছু হবার নেই। আমি সেখানেও গোল্লা। থাকি কেষ্টপুরে। ফিল্ম ইনস্টিউটের গণ্ডি মাড়াইনি, জেএনইউ চোখে দেখিনি, ইপিডাব্লু আমার কোনো প্রবন্ধ ছাপেনি। বন্ধুবান্ধবরাই পাত্তা দেয়না তো বাইরের লোক। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একবার এক ট্যাক্সিতে উঠেছিলাম। আর পাঁচ বছর বয়সে একবার জ্যোতি বসুর কোলে বসে ছবি তুলেছিলাম। ব্যস। পেডিগ্রি বলতে এই। কিন্তু সে ছবির নিচেও লিখে না দিলে আমাকে আমি বলে চেনা যাবে না।"

বিধিসম্মত সতর্কীকরণঃ এ কাহিনির সব ঘটনাই কাল্পনিক, কারণ, আয়নার মধ্যে কোনো জ্যান্ত মানুষ থাকেনা, আর মৃতের শহরে বেঁচে থাকে শুধু প্রত্নতত্ত্ব।


২০১৫ – গুরুর নতুন চটি


অবান্তর পাঠশালা – অনুবাদ: জয়া মিত্র

সত্তরের দশকে যখন সামাজিক ন্যায়ের দাবীতে উত্তাল আমাদের দেশ, তখন ওই একই দাবীতে একই রকম ঝড় আছড়ে পড়ছে লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনায়। হাজার তিরিশেক তরুণ-তরুণী 'নিখোঁজ' হয়েছিলেন ওই দেশে, নানারকম বন্দীশালায়। সেরকমই এক গোপন বন্দীশালার বিবরণ 'দা লিটল স্কুল'। লিখেছেন সেই নরকের এক অধিবাসিনী। যেন অন্য ভাষার আরেক হন্যমান, যা অনুবাদ করেছেন জয়া মিত্র।

নখদন্ত – মলয় রায়চৌধুরী

খুঁজে পাওয়া পুরোনো ডাইরির পাতায় তিনটি সমান্তরাল জবানিতে লিপিত হচ্ছে এই আখ্যান। ভারি বিক্ষিপ্তভাবে তার কিছু লেখা, খানিকটা যাত্রার বিবেকের মতন এসে পড়ছে বাকি ঘটনা পরম্পরার মধ্যে। ঘটনাক্রম মূলতঃ রতিক্রিয়াময়। এবং ক্রমশঃ দিয়েই শরীরী উচ্চারণ থেকে মননশীলতায় এসে পড়ছে এই আখ্যান, এবং আশ্চর্যভাবে হয়ে উঠছে সমসময়ের বিশ্বরাজনীতির কমেন্টারি।

মিছিলে বাদল সরকার – অদ্রীশ বিশ্বাস

এই সাক্ষাৎকার মূলত তাঁর দেশবিদেশে খ্যাতি অর্জনকারী নন-প্রসেনিয়াম থিয়েটার নিয়ে। অনেকে সহজ করে বলেন “থার্ড থিয়েটার”, উনি বলেন “অঙ্গনমঞ্চ”। সেই অঙ্গনমঞ্চ নিয়েই এই সাক্ষাৎকার। যার গুরুত্ব কখনওই দিইনি আমরা।

এটাই একমাত্র সাক্ষাৎকার, যেটায় কেবলমাত্র অঙ্গনমঞ্চ ও তার পশ্চাদপট, ভাবনার গড়ে ওঠা, রাজনীতি ও রাজনীতির ফাঁদে-পড়া নাটক ও স্বয়ং বাদল সরকার।

অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি – সম্পাদনা: তুষার ভট্টাচার্য

কেবল একটি দ্বীপের নাম মাত্র নয়, মরিঝঝাঁপি প্রাণ ও অধিকার হত্যার একটি নিকৃষ্টতম উদাহরণ। মরিচঝাঁপি মানে নিরন্ন, অনিকেত মানুষের নতুন করে গড়ে তোলার লড়াই। মরিচঝাঁপি মানে প্রকৃতি ও রাষ্ট্র, এই দুই প্রবলতম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। মরিচঝাঁপি মানে আক্রান্ত মানুষের জন্য বৃহত্তর জনসমাজের বরাদ্দ হওয়া নির্বিকার নীরবতা।

এইসব টুকরোটাকরা, নীরবতার ইতিহাস, লড়াই ও পরাজয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই এই বই। এর নাম 'অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি', কারণ, মরিচঝাঁপির সম্পূর্ণ ইতিহাস এখনও অপ্রকাশিতই।


২০১৪ – প্রকাশিত নয়টি চটি


অসুখ সারান – ঈপ্সিতা পালভৌমিক

সমকামিতা সারুক বা না সারুক, সঙ্গে রাখুন এই হ্যান্ডবুকটি। স্কেপটিক্যালদের কথাকে গুলি মেরে পড়তে থাকুন আমাদের সাজেশনাবলী, সঙ্গে থাকুন একদম শেষ অব্দি।

অরূপ তোমার এঁটোকাঁটা – মলয় রায়চৌধুরি

কাশী থেকে কলকাতা, বৈষ্ণবের খঞ্জনি থেকে জিমি হেনড্রিক্স। কেকাবউদি থেকে স্বর্ণকেশী ম্যাডলিন। এ এক অন্য আকাশে উড়ান, যা চেনা হলেও দূরবর্তী। কাল্পনিক হলেও বাস্তব।

খেরোবাসনা – সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

শুনে কাইন্ডলি আঁতকে উঠবেন না, যে, মোটে ২০১০ সালে জন্ম হলেও এই আধাখেঁচড়া কাহানিটি আদতে সেই মেগা উপন্যাসেরই সহোদর, যার নাম কারুবাসনা...

অন্য যৌনতা – সংকলন

পুরুষ এবং নারীর একমাত্রিক যৌন আখ্যানের আড়ালে অজস্র দৃশ্যের জন্ম হয়। জন্ম হয় পাওয়া, অপ্রাপ্তি,নিঃসঙ্গতা এবং বেদনার। "আমার যৌনতা"র এই দ্বিতীয় সংস্করণে আরও বড়ো আকারে নিজেদের এসব অভিজ্ঞতা, অনুভূতির কথা লিখেছেন এইসব মানুষরা, যাঁরা "স্ট্রেট" নন।

প্রসঙ্গ ধর্ষণ – সংকলন

অধিক বিবরণ নিষ্প্রয়োজন। ধর্ষিতা এবং ধর্ষিতদের (হ্যাঁ, পুরুষদেরও ধর্ষণ হয়), নিজস্ব উপলব্ধি, আর আরো কিছু অন্যান্য টুকরো-টাকরার সংকলন রইল এখানে।

বাংলা কাব্যগীতির অন্য ধারা – সংকলন

সোপা থেকে নগর ফিলোমেল। সলিল চৌধুরি থেকে প্রতুল মুখোপাধ্যায়। রঞ্জন প্রসাদ থেকে নাগরিক। এ হল কাব্যগীতির অন্যধারা। বাংলা গানের নতুন বাড়ি, যা শুধু ফুল ফল ও পাতা নয়। এ হল বাংলাগানের নতুন ঘরকন্না, নতুন এক ময়মনসিংহ গীতিকার ইতিবৃত্ত। 

আমার কারাবাস শাহবাগ এবং অন্যান্য – আসিফ মহিউদ্দীন

ফ্যাসিবাদ নয়, জরুরী অবস্থা নয়। ইতালি না, মধ্যপ্রাচ্য না। আন্তোনিও গ্রামশি নয়, নাজিম হিকমত নয়। জেলবন্দী ছিলেন আমাদের পাশের বাড়ির কজন। স্রেফ নাস্তিকতার "অপরাধ"এ। পড়ুন একবিংশ শতাব্দীর জেলখানার চিঠি।

বর্ণসংকর – বিপুল দাস

গল্পের মরে যাওয়া নদীর বাঁকে এক পঙ্গু রমণী হুইল চেয়ারে বসে - হাতে আশ্চর্য পুষ্পমঞ্জরী- প্রখর রোদে শুকিয়ে যায়, ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে অথবা রোদ মেদুরে নতুন মঞ্জরী ফুটে ওঠে। কথার ঢালে পাহাড় নাচে, ঢেউ ভাঙ্গে দ্বিধা। ক্যামেরা যার হদিশ পায় না।

বঙ্গমঙ্গল – প্রকল্প ভট্টাচার্য


২০১৩ – সাতখানি চটি


অলৌকিক প্রেম ও নৃশংস হত্যার রহস্যোপন্যাস – মলয় রায়চৌধুরী 

হাংরি বা অ্যাংরি নয়, লেখক চেয়েছিলেন, একটি রঙচঙে বটতলার বই। আকৃতিতে ডিটেকটিভ ও প্রকৃতিতে অন্তর্ঘাতী। বটতলার বিকল্প চটি ছাড়া আর কীইবা হতে পারে।

 

অন্য মহীন অন্য ধারার গান – তাপস দাস (বাপি), কল্লোল, রঞ্জনপ্রসাদ

ভাঙা আয়নাতেও তো কিছু ছবি আসে। শান্ত পুকুরে ঢিল ছুঁড়লে তৈরি হয় ভাঙাচোরা ছবির কোলাজ। এই টুকরো সংকলনে মহীনের ঘোড়াগুলি এবং/অথবা অন্যধারার গানের অন্য কোনো ভাঙাচোরা ছবি ভেসে উঠলেও উঠতে পারে। 
 
খান্ডবদাহন – সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় 

সবার উপরে, এ সেই ব্যক্তি-লেখকের ব্যক্তিগত আখ্যান, যে কিছুটা বিপ্লবী খানিকটা ক্রিকেট-বিশেষজ্ঞ, সামান্য শিশু ও বাকিটা কালাপাহাড়, স্লাইট আমেরিকান। প্রচুর আজগুবি জিনিস থাকলেও এখানে মিথ্যে কথা প্রায় নেই বললেই চলে। এই কাহিনির নায়ক নিরোও এই কাহিনীর কথক তাই পৃথক কিন্তু অভিন্ন। 
 
কাঠপাতার ঘর – কুলদা রায়

ডায়াস্পোরিক লেখালেখি বিষয়ে সলমন রুশদি এক জায়গায় বলেছিলেন – সীমান্ত পেরিয়ে আসা নতুন সমাজে আমাদের মনে হয় আমরা বুঝি দ্বৈত ভুবনের বাসিন্দা। কুলদা রায়ের লেখায় সেই যন্ত্রণা এসেছে একদম অন্য ভাবে। 
 

পেলেকার লুঙ্গী – আনোয়ার শাহাদাত 

এখানে জোয়ার আসে। ভাটা আসে। ধানের গর্ভ হয়। টিয়া পক্ষী আসে। আর কলসকাঠীর হাটে পেলেকার্ড লুঙ্গীর আলাপ ওঠে। এই পেলেকার্ড লুঙ্গী পরে ঈদ্গাহে যাবে কলম ফরাজী।
 
মহাভারত – শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ 

এমন দেশ গোটা পৃথিবীতে আর একটিও নেই যেখানে মহাকাব্যের চরিত্ররা দেবতা হয়েছে, অগণিত জনস্রোতের জীবন-মৃত্যুর অধীশ্বর থেকেছে আজকের সময় অব্দিও। এমন মহাকব্যিক প্রভাব এই পৃথিবীতে কোনো দেশের, কোনো জাতির জীবনে নেই।
 
কোনো এক – শ্রাবণী 

কোন বিশেষ একটি গল্প বলার উদ্দেশ্যে এ লেখা শুরু হয়নি, তবু কখন যেন গাঁয়ের কথার বিনিসুতোর মালা গাঁথা হয়ে কাহিনির রূপ ধরেছে। এক একটি চরিত্র সে মালার একটি পুঁতি বা ফুল যাই হোক না কেন, পাশাপাশি থেকেও প্রত্যেকে এরা স্বতন্ত্র ... কোন হারিয়ে যাওয়া জীবনের চিরচেনা লোকজন সব ... পশ্চিমবাংলার একদা সাধারণ, মাটির কাছের মানুষজনের সাধারণ গল্প। 

 


২০১২ নতুন চটি – আরও তিন পাটি


কারাগার বধ্যভূমি ও স্মৃতিকথকতা – কল্লোল

স্মৃতি। তার প্রতিবারের বয়ান সামান্য বদলে বদলে যায়। ঠিক ঠিক অমনটাই যে ঘটেছিলো তা হয়তো আজ আর বলা যাবে না, কিন্তু ঘটতেও পারতো কিংবা সংগোপনে ইচ্ছে ছিলো অমনটাই ঘটুক। বা হয়তো সেটা আদৌ স্মৃতিচারণ নয় -স্মৃতিকথকতা। তথ্য নয়, তত্ত্ব নয়, বিগত সত্তরের দশকের স্মৃতিকথকতা ধরা রইল এই দুই মলাটের মধ্যে।
আমার উন্মন বাদ্যকর – ইন্দ্রনীল ঘোষদস্তিদার

গল্প নয়, আখ্যান। আখ্যান নয়, উপকথা। উপকথাও নয়, আসলে এ এক ধোঁয়া-ঢাকা দ্বীপ, যেখানে আজও কোনো অভিযাত্রীর পা পড়েনি। যাঁরা কুয়াশা-ঘেরা বন্দর ভালোবাসেন, ভালোবাসেন ধাবমান অশ্বের সাবলীল ছন্দ, এই অলৌকিক নাগরিক উপকথাগুলি তাঁদের এক ভিন গ্রহে সেই নতুন দ্বীপের সন্ধান দেবে।
শিন্টু ধর্মাবলম্বী রাজা সবুজ ভদ্রমহিলা এবং একজন অভদ্র সামুকামী – আবু মুস্তাফিজ

লেখক বাংলাদেশের। আমরা প্রথমবার প্রকাশ করছি পশ্চিম পার থেকে। নামে সায়েন্স ফিকশান থাকলেও আদতে এটি কোনো সায়েন্স ফিকশনই নয়। তবে ফিকশন কীভাবে বাস্তবতা হয়ে ওঠে, বাস্তবতা কেমন করে হয়ে ওঠে প্রাকৃতিক, আর দুই বাংলা ঠিক কোনখানে জুড়ে যায়, সে রহস্য জানতে গেলে আপনাকে এই বই পড়তেই হবে।

২০১১র চটি – আরও দুই জোড়া


আমার যৌনতা – সংকলন

পুরুষ মাত্রেই নারীকে কামনা করেনা। বা নারী মাত্রেই পুরুষকে। পুরুষ এবং নারীর একমাত্রিক যৌন আখ্যানের আড়ালে অজস্র দৃশ্যের জন্ম হয়। জন্ম হয়, চাওয়া, পাওয়া, অপ্রাপ্তি, আঘাত, নিঃসঙ্গতা এবং বেদনার। সেসব নিয়ে কোনো মহৎ উপন্যাস রচিত হয়না। নির্মিত হয়না কোনো প্রেমগাথা। 

এসব দৃশ্যের কিয়দংশ রইল এই বইয়ে। নিজেদের অভিজ্ঞতা, অনুভূতির কথা সোজাসুজি লিখেছেন এইসব মানুষরা, যাঁরা "স্ট্রেট" নন। মিডিয়াব্যাপী পুরুষ এবং নারীর একমাত্রিক যৌন আখ্যানের ধামাকার পাশাপাশি এই লেখা গুলিও থাক না।

বন্দরের সান্ধ্যভাষা – সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় 

ডিসিপ্লিনারি পাওয়ারের থাবার বাইরে, পশ্চিমের সর্বব্যাপী মসৃণ ক্ষমতার ডিসকোর্সের বাইরে, কিছু খুঁত থেকেই যায়। পশ্চিম থেকে পুবে, বন্দর থেকে বন্দরে, মসৃণ চলাচলের মধ্যে থেকে যায় এক ধূসর ও বিস্তীর্ণ জলরাশি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে বন্দর-শহর জুড়ে শোনা যায় পাখিদের আর্তনাদ। এই সেই সান্ধ্যভাষা, যার প্রত্নতাত্বিক খননে পাওয়া যেতে পারে চিকচিকে অভ্র ও মেটেরঙ তামা, দ্বীপান্তরের বেদনা, শিল্পবিপ্লবের রহস্য। এই বইটি সেই সম্ভাব্য খননেরই উপক্রমণিকা।

লা জবাব দিল্লি – শমীক মুখোপাধ্যায়

এ বই কোনো গল্পের বই নয়, কাহিনির জালও বোনা নেই এখানে। নিতান্তই রোজকার পথ চলার ফাঁকে ফাঁকে একটা শহরকে যে ভাবে চিনে নেওয়া যায়, সেই চেনবার প্রচেষ্টাই করা হয়েছে এর প্রতিটা পর্বে। ভালো-মন্দ মিশিয়ে দিল্লি আর তার আশেপাশের উপনগরী, নয়ডা গাজিয়াবাদ গুরগাঁও ফরিদাবাদ ইত্যাদির বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন ঘটনাবলী, আড্ডার ছলে জড়ো করে দেওয়া এখানে। যাঁরা তেমন চেনেন না দিল্লিকে, তাঁদের জন্যে তো বটেই, যাঁরা চেনেন, থাকেন এই শহরে, তাঁদের জন্যেও আমার তরফে রইল এই ছোট্ট উপহার।

ঘেন্না পিত্তি – সোমনাথ রায় 

ওইটুকুই তো প্রতিশোধ নিতে পারি
উষ্ণীষে তোর ছুঁইয়ে আসবো ঘেন্নার তরবারি ।

বীতরাগ হওয়া সভ্যতা ভুলে সমবেত পথচারী 
ভারি উল্লাসে জ্বালিয়ে ফেলবে মানুষের ঘরবাড়ি,
রূপের চাঙারি, শস্যের গাড়ি, 
...পেয়ারিয়া শুকসারি- 
              ওইটা কিন্তু ...পারি।

২০১০ এর ফাটাফাটি তিনপাটি চটি


  হাম্বা – সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

আমরা পন্ডিতদের সম্মান করি, আঁতেলদের ভয় পাই, পুলিশকে স্যার বলি, ঝাঁকড়াচুলো ব্যান্ডবাদক আর ক্যাটখুকিদের ফাটবাজি দেখে কুঁকড়ে যাই। আমরা লেখালিখি বলতে মাস্টারের নোটবই বুঝি, আইন বলতে পুলিশের ধাতানি। আমরা উড়ালপুলকে উন্নয়ন বলি, মার্কসবাদকে প্রগতি। আঁতলামি বলতে গোদার বুঝি আর (সুইট ইংলিশে) হাউ-আর-ইউ-ডুয়িং বলাকে স্মার্টনেস। আমাদের যাপন মানে চর্বিত চর্বণ। জীবন মানে মেগা-সিরিয়াল। পরিশীলন মানে গরু রচনা।

এই পরিশীলন নামক গরু রচনার বিরুদ্ধে গরুদের এক নিজস্ব বিদ্রোহের বুলি হল হাম্বা। হাম্বা একই সঙ্গে নিপীড়িতজনের দীর্ঘশ্বাস এবং হৃদয়হীন জগতের হৃদয়। একই সঙ্গে অভব্যতা ও আকাটপনা। হাম্বা বিদ্রোহের এক গোপন কোড। আত্মাহীন অবস্থার আত্মা, জনতার আফিম। গরু রচনা আমাদের ভবিতব্য হলেও হাম্বাই আমাদের ভিত্তি। হাম্বা সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা হাম্বা।

  আমার সত্তর – দীপ্তেন

...না, দোষ দেই না কাউকেই। আমি নিজেই তো বালিতে মুখ গুঁজে। তবে সংস্কৃতির জগতে যারা খুব মন দিয়ে ঐ ইমেজগুলো ছড়াচ্ছিলেন তারাও ব্যবসায়ী। তাদের কবিতা,গান,নাটক এই সবের সাথে নোংরা পাজামা,কানে গোঁজা বিড়ি,অবিন্যস্ত চুল, সোনাগাছিতে উন্মত্ততা, মাদ্যিক কাল্ট - এরাও পণ্য। এমারজেন্সীর এক গুঁতো এদের সবাইকে ল্যাংটো করে দিয়েছিলো । মুখ গোঁজার জন্য অত বড় মরুভুমি আর ছিলো না...

ডান থেকে বাম, টিভি বিতর্ক থেকে দেয়াল লিখন, সকলেরই আছে নিজস্ব সত্তর। এই সত্তরটি লেখকের নিজস্ব।

 

আলোচাল – সুমন মান্না

কাঁচের গেলাস শব্দ করেনা – ভেঙে দিলে আওয়াজ হয় – টুংটাং বাজালে হয় ধ্বনি। সেই গেলাসকে উল্টোনো চশমায় দেখে বা না দেখে অনুভব করলে তবে না শব্দ হবে। শব্দই কথা বলে সে শুনি বা না শুনি – বাকি সবকিছু পারিনা এড়াতে – শুনে যেতে হয় বা হবে। জিভ তো একটাই সবার – সেই লকলক করে ওঠে, আর কখনো বা হাঁফাতে থাকে স্বেদগ্রন্থি আলগা করে। তোমাকে বলা কথাগুলো ওর, না বলাগুলো আমার – সেগুলো বলতে গিয়ে জিভ বেরিয়ে যায় – মাক্কালী!!


কোন বিভাগের লেখাঃ কাগুজে গুরু 
শেয়ার করুন


Avatar: গুরুচন্ডালি

Re: বইমেলাঃ গুরুর গাইড

ধরা যাক আরো কয়েকটি চটি এবার ..
Avatar: খালি পা

Re: বইমেলাঃ গুরুর গাইড

কই দিদি মাল ছাড়ুন ।
Avatar: দ

Re: বইমেলাঃ গুরুর গাইড

বাহ এটা নিয়মিত আপোডেটেড থাকছে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন