আমাদের কথা ৪


চমৎকার। বঙ্গীয় আঁতেলকুল নন্দনের ঠান্ডা ঘরে ফিলিম ফেস্টিভ্যালের সরকারি তকমায় রগরগে বিদেশি যৌনতা দেখবেন শিল্পের নাম দিয়ে, বাইরে বেরিয়ে এসে " জীবনই শিল্পের উপাদান' বলে গুচ্ছ ভাট দেবেন, আর আরেকটু দূরে পুকুরপাড়ে ততোটা-আঁতেল-নয় প্রেমিক-প্রেমিকাদের বসা নিষিদ্ধ হয়ে যাবে বড্ডো গা ঘষাঘষি করছে বলে, এই না হলে উত্তরাধুনিকতা? চাদ্দিকে মুড়ি-মুড়কির মতো তৈরি হবে শপিং মল আর মহার্ঘ নাইট ক্লাব, পয়সা ফেলে গায়ের গরম চাখতে যাবে নবাবজাদারা, আর কাঠ ফাটা রোদে ভিখিরির বাচ্চা প্রেমিক-প্রেমিকাদের ছাতা নিয়ে ঢোকা বন্ধ হবে পার্কে, এই না হলে মামার বাড়ির আব্দার?

এ কোনো নতুন কথা নয়, যে শহরের বেশিরভাগ উদ্যানেই প্রেমিক-প্রেমিকাদের প্রবেশ নিষেধ। সব্বাই জানে যে প্রেমিক-প্রেমিকারা পার্কে বসলে ক্লাবের ছেলেরা চাঁদা চাইতে আসে, যা আসলে এন্টি ফি, আমাদের এলাকায় এসে ফুর্তি মারাচ্ছিস, পয়সা দিবিনা মানে? এটাও ওপেন সিক্রেট, যে সন্ধ্যের পরে ছেলেমেয়েদের একসাথে পুকুরপাড়ে পেলেই পুলিশ ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেখাতে বলে। না দেখাতে পারলেই থানায় নিয়ে গিয়ে ইম্মরাল ট্রাফিক অ্যাক্টের গুঁতো। পুরুষ ও নারী একসাথে হলেই কি তাদের বিবাহিত হতে হবে? নাহলেই আইন ভঙ্গ? এসব কূট প্রশ্ন আইনের হাবিলদারদের কাছে তুলে কোনো লাভ নেই, সব্বাই জানে। এটাও সব্বাই জানে, যে রাজ্যের সংস্কৃতির নান্দনিক চত্বরে সন্ধ্যের পর মাঠে ঘাটে বসা কেন বারণ হয়েছে। ছেলেমেয়েদের বৃন্দাবন বসে যেত যে। পুকুরপাড়ে রেলিং এ হেলান দিয়ে বসা তো বন্ধই করে দিতে হল। এসব ছাড়াও ছিল চোরাগোপ্তা পুলিশি হানা, চান্স পেলেই ঝোপ থেকে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া। কিন্তু এসব করেও প্রেমিক-প্রেমিকাদের বেহায়াপনার হাত থেকে মহান বঙ্গীয় সংস্কৃতিকে বাঁচানো গেলনা। অগত্যা ছাতার উপর নিষেধাজ্ঞা।

এসব নিয়ে কেউ কক্ষণো কিচ্ছু বলেননি, বলবেননা, কারণ বলাটা ফ্যাশানেবল না। দক্ষিণ আফ্রিকার পার্কে কালো মানুষদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফাটাফাটি হবে, কিন্তু কলকাতা শহরের পার্ক থেকে বাটাম খেয়ে কোনো যুগলকে ফিরে আসতে দেখলে বুদ্ধিজীবীগণ একটু মুখ টিপে হাসবেন মাত্র। অশ্বমেধের ঘোড়া টোড়া জাতীয় দুএকটা গপ্পো-টপ্পো লেখা হবে মাঝে মধ্যে, ঐটুকুই। ইংরিজি বইতে যে এসব নিয়ে কিচ্ছু বলা নেই। বঙ্গীয় আঁতেলকুল ইংরিজি বই পড়ে শ্রমিক শ্রেণীকে নিয়ে ব্যস্ত, সমকামীদের আন্দোলনে যুক্ত, যৌনকর্মীদের লড়াইয়ে সামিল। এর একটাও খারাপ কাজ না, কিন্তু তার চেয়েও বড়ো কথা হল বিদেশিরা এগুলোকে সার্টিফিকেট দিয়েছে ভালো কাজ বলে। আর পশ্‌চিমে যেহেতু প্রেমিক-প্রেমিকাদের এজাতীয় কোনো সমস্যাই নেই, অতএব আমাদের দেশেও এসব কোনো সমস্যা নয়। হ্যাঁ, মার্ক্স বা নিদেনপক্ষে ফুকো বা লিওতার বাজারের ফর্দের নিচে লিখে রাখা কোনো ফুটনোট বা খুড়তুতো ভাইকে লেখা কোনো অপ্রকাশিত চিঠি যদি এই বাজারে বেরিয়ে আসে, যেখানে প্রান্তিক কোনো বর্গ হিসাবে প্রেমিক-প্রেমিকাদের থিওরাইজ করা হয়েছে, তাহলে কেসটা অবশ্য ঘুরে যাবে। তখন কোনো যুগলকে আর কিচ্ছু বলা যাবেনা, বললেই এক হাতে কলম আর অন্য হাতে তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে আসবেন বুদ্ধিজীবীবৃন্দ, আমরাও কাগজে-মিছিলে পড়তে/শুনলে পারব কিছু বা-লের কথা, অর্থাৎ কিনা বাঙালী-লেখকের কথা।

তা যতদিন না হচ্ছে, আসুন পাবলিক প্লেস থেকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের সেভাবেই মেরে তাড়াই যেভাবে ইট মেরে তাড়ানো হয় সঙ্গমরত কুকুর-কুকুরীকে। আসুন, দুহাত তুলে স্বাগত জানাই সেই তালিবানি ফতোয়াকে যা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, যে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া অসভ্যতা, পাড়ার দাদা আর রাতের পুলিশকে লাইসেন্স দিয়ে হল যে যা করছ বেশ করছ। একথা শুনে বিশ্বদুনিয়ার লোক ঠাঠা করে হেসে উঠলেও সরকারের তাতে কিছু যায় আসেনা। বোরখাহীন রমণীদের প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করতে তালিবানদের কিছু এসে গিয়েছিল কি? তারা তখন পাশ্‌চাত্তের অনুপ্রবেশ থেকে নিজেদের মহান সংস্কৃতিকে রক্ষা করার মহত্তর কাজে লিপ্ত। তাতে মানবাধিকারের দুচাট্টি শর্ত বেঘোরে মারা গেল কিনা দিয়ে আর কি যায় আসে?


Avatar: chudi

Re: আমাদের কথা ৪

বলের লেখ।।।একি দোর্কোচে কোথ বর্ত।।।
Avatar: চুদির ভাই

Re: আমাদের কথা ৪

বালের লেখা একি দরকচে কথা বার্তা।।।
Avatar: নাম নেই

Re: আমাদের কথা ৪

মারদাঙ্গা লেখা। লাইক বাটন থাকলে ১০০ টা লাইক দিতাম একাই।
Avatar: Alamgir Rahman

Re: আমাদের কথা ৪

ভালো লেখা । আমি লেখা দিতে চাইলে কি ভাবে দিব ?
দয়া করে জানাবেন
ধন্যবাদ
আলম
Avatar: আলকাজার ম্যাকমুর্ডো

Re: আমাদের কথা ৪

ও দাদারা আমিও কিছু লিখতে চাই গো , কিকরে লিখব বলো না গো
Avatar: ranjan roy

Re: আমাদের কথা ৪

বেশ; ভন্ডামি আমাদের উত্তরাধিকার।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন