এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই

  • তাজা বুলবুলভাজা...
    গুরুচণ্ডা৯-র কবিতাপাঠ - গুরুচণ্ডা৯ | ছবি: রমিতকবি সুমন মান্নার কাব্যগ্রন্থ নৈঃশব্দ্যের তর্জমা থেকে আজকের পড়া হয়েছে যথাক্রমে- এসো কথা বলি, গদাইলস্করি মেঘ, পূর্বপ্রস্তুতিবিহীন, বাবা, সুখবর, টানাপোড়েন, ও নৈঃশব্দ্যের তর্জমা। পাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। সোমনাথ রায়ের লেখা ‘পূর্বে আসো মেঘ' বই থেকে কবিতাপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। সায়ন কর ভৌমিকের লেখা রাধিকা সংবাদ - স্ফটিকে পতঙ্গশরীর থেকে কবিতা পাঠে - অমিতাভ চক্রবর্তী। ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।
    আলোকপাঠ - মানফ্রেড রোমেলের রসিকতা সঙ্কলন - হীরেন সিংহরায় | ছবি: রমিতমানফ্রেড রোমেলের রসিকতা সঙ্কলন সম্পাদনা উলরিখ ফ্রাংক-প্লানিতস এঙ্গেলহর্ন প্রকাশন স্টুটগার্ট১৯৯৯ এই এপ্রিল মাসে মিউনিকে কার্লস প্লাতসের একটি বইয়ের দোকানে চোখে পড়ল মানফ্রেড রোমেলের রসিকতা সঙ্কলন। সেটি আমার আজকের আলোক পাঠ। এরউইন রোমেলের কাহিনী মোটামুটি সর্বজন বিদিত; তিনি নাৎসি আমলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একমাত্র মানুষ যার নামে জার্মানিতে প্রায় তিরিশটা রাস্তা, স্কোয়ার, আর্মি ব্যারাক নামাঙ্কিত হয়েছে। তাঁর শেষ আবাসের বর্তমান ঠিকানা এরউইন রোমেল স্টাইগে ১৩। তবে তস্য পুত্র মানফ্রেডের নামটা হয়তো আমাদের কাছ তেমন পরিচিত নয়; তবে বইটির কথা বলতে গেলে প্রথমেই তাঁর পিতার সঙ্গে শেষ দেখার কাহিনী থেকে শুরু করতে হয়। প্রাক কথন পিতা পুত্র: শেষ ছ’টি ঘণ্টা হ্যারলিঙ্গেন, অক্টোবর ১৪, ১৯৪৪, সকাল ছ’টা হারলিঙ্গেন  স্টেশনকুয়াশা মোড়া সকালে ট্রেন থেকে নামল সামরিক ইউনিফর্ম পরিহিত এক কিশোর। গত সন্ধ্যায় তার বাবা ফোন করেছেন, মানফ্রেড যেন রিডলিঙ্গেনে তার বিমান বহরের সহায়কের কাজ থেকে দু দিনের ছুটি নিয়ে অতি অবশ্য আজ হ্যারলিঙ্গেনে তার বাবার কাছে আসে। তিন মাস আগে ফ্রান্সে তাঁর গাড়ির ওপরে ফাইটার বিমানের আক্রমণে তিনি ঘাড়ে ও কাঁধে চোট পেয়েছেন, বাঁ চোখের দৃষ্টি হয়েছে ক্ষীণ। কর্ম জীবনে প্রথম লম্বা ছুটি নিয়ে আগস্ট মাস থেকে রয়েছেন তাঁর গ্রামের বাড়িতে। ডাক্তারদের চিকিৎসা এবং স্ত্রীর শুশ্রূষায় তিনি ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছেন, চোখের জ্যোতি খানিকটা ফিরে এসেছে।এত কম সময়ের নোটিসে মানফ্রেডের ছুটি পাওয়া শক্ত হয়নি। তার বাবার নাম ফিল্ড মার্শাল এরউইন রোমেল।মাত্র তিন বছর আগে উত্তর আফ্রিকায় ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লিবিয়া, মিশরে তাঁর ঝটিকা আক্রমণ এবং যুদ্ধ চাতুরীর জন্য মরুভূমির শৃগাল – ডেজার্ট ফক্স - নামে খ্যাত হয়েছিলেন; তোবরুকের বিজয় গাথা রূপকথার পর্যায়ে পৌঁছেছে। মিশরের এল আলামেনে আফ্রিকা কর্পসের পরাজয়ের পরে জার্মানির জয়রথ থেমে গেছে, রোমেলের তারকা নিম্নগামী; স্তালিনগ্রাদে সিক্সথ আর্মি সহ ফিল্ড মার্শাল ফন পাউলুসের আত্মসমর্পণ, সিসিলিতে মিত্রশক্তির আক্রমণ এবং জুন মাসে মিত্র সেনার নর্ম্যান্ডি তটে অবতরণের পর এরউইন রোমেল ক্রমশ হিটলারের রণনীতির ওপরে আস্থা হারাচ্ছেন; এই যুদ্ধে পরাজয়কে আসন্ন মনে করেছেন। গত বছরে ভিয়েনার নয়স্টাড থেকে পারিবারিক বাসস্থান সরিয়ে এনেছেন উলমের কাছে হ্যারলিঙ্গেনে, যেটি তাঁর জন্মস্থান হাইডেনহাইম থেকে মাত্র পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে। তাঁর বাড়িটিকে ফিল্ড মার্শালের মর্যাদা মাফিক সাজানো গোছানোর ভার নিয়েছে উলমের পৌরসভা। রোমেল ভাবেন পূর্ব ফ্রন্ট, নর্ম্যান্ডি, ইতালি থেকে বহুদূরের এই ছোট্ট জনপদে তাঁর স্ত্রী লুসিয়া মারিয়া ও একমাত্র সন্তান মানফ্রেডের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত।ম্যানফ্রেড, লুসিয়া ও এরউইন রোমেলনর্ম্যান্ডি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিজের হেড কোয়ার্টারে যাবার পথে সাঁ ফয় দে মন্টগোমেরিতে যেদিন তাঁর স্টাফ কারের ওপরে ব্রিটিশ সুপারমেরিন স্পিটফায়ার গুলি চালায়, তার ঠিক তিন দিন বাদে কাউন্ট ফন স্টাউফেনবের্গের নেতৃত্বে পূর্ব প্রাশিয়ার রাস্টেনবের্গে (নেকড়ের আস্তানা, ভলফশান্তসে) হিটলার হত্যার ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে এরউইন রোমেল যে জড়িত ছিলেন এমন গুজবের পক্ষে কোন প্রমাণ সাবুদ কখনো মেলেনি। ১৯৪৩ সাল থেকেই তিনি প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে হিটলারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে ঠিক যে কি ঘটছে সেটা না বুঝে বা না জেনেই যে হিটলার লড়াইয়ের ছক কষেন, তিনি তার ঘোর বিরোধী! বিশে জুলাই হিটলারের ওপরে হামলার পরে তিনি এও বলেছিলেন, স্টাউফেনবের্গ কাঁচা কাজ করেছেন, আমাদের যে কোন সেনা এটা সহজে সারতে পারতো। আগস্ট মাসে তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, ‘নর্ম্যান্ডিতে যে ধ্বংস লীলা ও প্রাণহানি দেখলাম, তাতে আমার মনে হয় না এ যুদ্ধকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোন অর্থ আছে। যে ভাবে হোক, শেষ হলেই ভালো।’ হ্যারলিঙ্গেন ট্রেন স্টেশন থেকে তার বাড়ি ভিপিঙ্গার স্টাইগে ১৩ মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ। ভিলার দুয়োরে দাঁড়িয়ে ছিলেন পিতা, ছেলে আসতেই তাকে দোতলায় নিয়ে গেলেন; সেখানে পিতা পুত্রকে ব্রেকফাস্ট, ফ্রুইষটুক পরিবেশন করলেন মা লুসিয়া মারিয়া, এরউইন রোমেলের ‘লুতসি’। খাওয়া শেষে বললেন, চলো মানফ্রেড, বাগানে একবার হেঁটে আসি। এই পরিক্রমায় তিনি ছেলেকে বললেন, জানি না স্টেশন থেকে আসার পথে তুমি লক্ষ করেছো কি না, আমাদের ছোট গ্রাম গেস্টাপোয় ভরে গেছে, এই বাড়ির ওপরে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। মানফ্রেড বলল, হ্যাঁ, স্টেশন থেকে আসার পথে দেখলাম আমাদের বাড়ির গেটের সামনে, একটু দূরে কয়েকটা সামরিক গাড়ি পার্ক করা আছে, তার ভেতরে বন্দুকধারী অসামরিক পোশাকের মানুষ বসে। কিন্তু কেন? রোমেল বললেন, ‘ফুয়েরার মনে করেন আমি ভালকিয়েরির (২০শে জুলাই ১৯৪৪ হিটলার হত্যা প্ল্যান) সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, আমার চিফ অফ স্টাফ হান্স স্পাইডেল বলেছেন আমি সক্রিয় ভাবে যোগ না দিলেও দূর থেকে সমর্থন করেছি, আরেক ষড়যন্ত্রকারী জেনারেল স্টুলপনাগেল তাঁর মৃত্যুকালীন এক অসংলগ্ন বিবৃতিতে আমার নাম জড়িয়েছিলেন। অনেক বিষয়ে যে ফুয়েরার ও আমি একমত নই, কখনো ছিলাম না তা তিনি জানেন, সবাই জানেন। কিন্তু তাঁকে মেরে ফেলাটা আমি সমর্থন করতে পারি না, যদিও কোনো মহল আমার ভূমিকা সম্পর্কে অন্য মত পোষণ করেন। আজ বার্লিন থেকে ফুয়েরারের বার্তাসহ দু জন আসবেন, জেনারেল বুর্গডর্ফ ও জেনারেল মাইজেল। আমার আরোগ্যের পরে হয়তো বদলির আদেশ হবে, হয়তো পূর্ব ফ্রন্টে যেতে হবে, অথবা অন্য কোন আদেশ। তোমাকে জানাব কী ঘটতে যাচ্ছে। ভিপিংগার স্টাইগে ১৩ ১৯৪৪/ ডানদিকে এরউইন রোমেল স্টাইগে ১৩ ২০২৬ ঠিক এগারোটায় সামরিক ইউনিফর্মে সজ্জিত ভেরমাখটের সেই দুই জেনারেল এলেন। রোমেল তাঁদের নিয়ে লাইব্রেরি ঘরে বসে পঁয়তাল্লিশ মিনিট কথা বলার পরে আবার দোতলায় উঠে ছেলেকে ডেকে বললেন, ‘মানফ্রেড, ফুয়েরারের মতে আমি বিশ্বাসঘাতকতার (হোখফেরাত) অপরাধে অপরাধী। আমার সামনে দুটো শর্ত রাখা হয়েছে, স্বেচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিলে আমাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে সমাহিত করা হবে, তোমার মা আজীবন পেনশন পাবেন। অন্যথায় জনতার আদালতে আমার বিচার হবে। তুমি জানো গত তিন মাসে বিচারক রোলান্ড ফ্রাইসারের আদালতে কোন সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই কতজন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, পিয়ানোর তারে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আমি প্রথম পথ বেছে নিচ্ছি। এবার চলো তোমার মাকে গিয়ে জানাই পনেরো মিনিট বাদে আমার মৃত্যু হবে।’ বেলা একটা। রোমেল তাঁর সবচেয়ে গর্বের আফ্রিকা কর্পসের ইউনিফর্ম, টুপি পরে হাতে ফিল্ড মার্শালের ব্যাটন নিয়ে ভিলার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে পুত্র মানফ্রেড ও লুসিয়ার কাছ থেকে বিদায় নিলেন; তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী অ্যাডজুটেনট আলডিনগারকে বললেন, আপনার কাছ থেকেও বিদায় নিতে হবে (ইখ মুস আউখ ফন ইনেন আবশিড নেমেন) জেনারেল বুর্গডরফ ও জেনারেল মাইজেলকে ‘হাইল হিটলার’ বলে স্টাফ কারে (হরখ ৮৫৩) উঠে বসলেন এরউইন রোমেল, দু’পাশে দুই জেনারেল। মানফ্রেড ও লুসিয়া ছাড়া একমাত্র দীর্ঘদিনের একান্ত অনুগত সাথি আলডিনগার জানতেন রোমেল আর কখনো ফিরবেন না। এরউইন রোমেলের শেষ ছবিহ্যারমান আলডিনগার রোমেলকে বলেছিলেন, আরেকটা পথ আছে, চলুন আপনি আমি বন্দুক উঁচিয়ে এই গ্রাম থেকে বেরিয়ে যাই। কে আটকাবে আপনাকে? রোমেল রাজি হন নি। পরের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ পাওয়া যায় না। গ্রাম ছাড়িয়ে কোন নির্জন রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করানো হয়েছিল যেখানে হিটলারের পাঠানো সায়ানাইড ক্যাপসুল মুখে দিয়ে এরউইন রোমেল স্বেচ্ছা মৃত্যু বরণ করেন। জেনারেলদের সঙ্গে গাড়িতে ওঠার পনেরো মিনিট বাদে রোমেলের ভিলায় ফোন বাজলে হ্যারমান আলডিনগার সেটি ধরলেন। নিকটবর্তী শহর উলমের ভাগনার ফিল্ড হাসপাতাল থেকে এক ডাক্তার একান্ত দুঃখ ও সমবেদনার সঙ্গে জানাচ্ছেন বার্লিন যাওয়ার পথে আকস্মিক ব্রেন হেমারেজের কারণে মারা গেছেন ফিল্ড মার্শাল ইওহানেস এরউইন অয়গেন রোমেল।এক মাস বাদে তাঁর তিপ্পান্ন বছর বয়েস পূর্ণ হতো। সেদিন শনিবার, সময় দুপুর একটা বেজে পনেরো মিনিট। * চার দিন বাদে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সহিত স্বস্তিকায় মোড়া কফিন উলমে সমাধিস্থ করা হল। জেনারাল ফন রুনডস্টেড পড়লেন হিটলারের মর্মস্পর্শী বিদায় বার্তা।একদিন মানফ্রেড রোমেল মানফ্রেড রোমেলঅন্য অনেকের মতন দেশে থাকতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উত্তর আফ্রিকা ফ্রন্টে এরউইন রোমেলের খ্যাতি এবং হিটলারের আদেশে তাঁর স্বেচ্ছা মৃত্যুর কাহিনী আমার জানা ছিল; প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে জার্মানি এসে আবিষ্কার করলাম আরেক রোমেলকে, মানফ্রেড রোমেল।যদিও কোন দেশ প্রতিযোগিতায় নামেনি, কিন্তু সাতের দশকে ইউরোপের সবচেয়ে বোরিং টিভির গোল্ড মেডাল প্রাপ্য ছিল জার্মান (এবং ডাচ) টেলিভিশনের। দুটি মাত্র ন্যাশনাল চ্যানেল, সন্ধ্যে ছটায় শুরু, সাতটায় পনেরো মিনিটের বিজ্ঞাপন, এগারোটায় স্ক্রিন অন্ধকার। সেখানে খবর, খবরের আলোচনা শুরু হয় রাত আটটায় প্রাইম টাইমে! হন্যে হয়ে নিজের মুখের ভাষাটি পালিশ, মেরামত করার জন্য সেগুলোই শুনি, খানিক বুঝতে পারলে ভীষণ খুশি হই। একদিন সেখানে হের নোভোতনির বনার রুনডেতে (রাজনৈতিক আলোচনা) দেখা দিলেন জার্মানির পঞ্চম বৃহৎ জনপদ স্টুটগার্ট শহরের মেয়র, মানফ্রেড রোমেল। একটা শিহরন জাগল -এই সেই মানুষ যিনি পনেরো বছর বয়েসে তাঁর পিতাকে সরাসরি মৃত্যু মুখে যেতে দেখেছেন, তাঁর বাবা বলেছেন পনেরো মিনিট বাদে জানবে আমি মৃত? সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী ব্রেন হেমারেজ। এক বছর বাদে ফরাসি কারাগারে বন্দি পুত্র মানফ্রেড রোমেল প্রথম সত্যি কথাটা দুনিয়াকে জানালেন। মহাগুরু নিপাতের দুর্ভাগ্য আমাদের অনেকেরই হয়েছে কিন্তু তা বলে এই ভাবে? এই বোঝা নিয়ে বাকি জীবনটা কাটে? সব কথা বুঝতে পারলাম তা নয় তবে প্রথম দর্শনেই ভালো লেগে গেলো। গড়পড়তা জার্মান রাজনীতিকদের বক্তিমে বা ইন্টারভিউ অসম্ভব ক্লান্তিকর, কিন্তু মানফ্রেড রোমেলের মুখে খেলা করে একটা চাপা কৌতুক। তিনি যে শুধু হাসিমুখে পলিটিকালি ইনকারেক্ট কথা বলেন তাই নয়, সেটি বলেন তাঁর অননুকরণীয় শোয়বিশ অ্যাকসেন্টে! গোয়েথে ইনসটিটিউটে জার্মান শিক্ষার ক্লাসে কানে হেডফোন লাগিয়ে দেশের নানান আঞ্চলিক উচ্চারণের সঙ্গে পরিচয় করানো হতো আমাদের। মেসেজ ছিল - এগুলি চিনে রাখুন, অনুকরণ করবেন না! আমার গুরু মুজতবা আলী সায়েব বলেছেন চিড়িয়াখানায় বাঘ সিংহ দেখার পরে খাটাশটাকেও দেখে নেওয়া ভালো, কোন বাড়তি খরচা যখন নেই। এই পর্যায়ে সহজবোধ্য নয় কিন্তু শ্রুতিমধুর এবং আন্তরিক মনে হয়েছে বায়ারিশ (ব্যাভেরিয়ান) এবং শোয়েবিশ (শোয়েবিয়ান) উচ্চারণ, যা শোনা যায় যথাক্রমে মিউনিকে, স্টুটগার্টে, আমার কর্মক্ষেত্র ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ, ডুসেলডর্ফে নয়। লোকাল টান থাকলেও সকলে একটা স্ট্যান্ডার্ড জার্মান বলার চেষ্টা করে থাকেন, বিশেষ করে বিদেশির সঙ্গে। মানফ্রেড রোমেল পার্টি লাইন মাফিক হানোভার গোয়েটিঙ্গেনের হোখ ডয়েচ নয় গর্বের সঙ্গে জাতীয় স্তরে শোয়েবিশ বলেন। বুকের পাটা আছে বটে! খানিক খোঁজ খবর করে জানলাম পিতার মৃত্যুর পরে মানফ্রেড লুফতওয়াফের সহকারীর চাকরিতে ফিরে যান। কিন্তু কয়েক মাস বাদে, ১৯৪৫ সালের শুরুতে জার্মান বিমান বহরের অবস্থা সঙ্গিন, তাঁর কাজ গেল। ইতিমধ্যে ফরাসি বাহিনী স্টুটগার্ট পৌঁছেছে, মানফ্রেড তাঁদের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরউইন রোমেল যে ব্রেন হেমারেজে মারা যাননি হিটলারের চাপে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন সেই কাহিনীটি চাউর করেন তাঁর একটি সাক্ষ্যে। পরে লুসিয়া মারিয়া সেটি সমর্থন করে বিবৃতি দেন। ফরাসি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে, একটু দেরিতে, আঠারো বছর বয়েসে স্কুলের গণ্ডি পেরুলেন। টুইবিঙ্গেনে আইন পাশ করে বাদেন ভুরতেমবুরগ রাজ্যের সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন, কালে অর্থ সচিব এবং পরে ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটিক দলের টিকিটে রাজনীতিতে প্রবেশ। বারো বছর তিনি সমস্ত জার্মান শহরের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের অধ্যক্ষ ছিলেন। ১৯৭৪ সালে স্টুটগার্টের মেয়র নির্বাচিত হন, পরপর তিনবার ক্রমশ বিপুল হতে বিপুলতর ভোটে সেই পদে পুনঃনির্বাচিত হয়েছিলেন। চেকোস্লোভাকিয়া, সাইলেশিয়া হতে ছিন্নমূল জার্মানদের পুনর্বাসনে তাঁর ভূমিকা বিশাল, শুধু তাই নয়, পরবর্তীকালে তিনি একই ভাবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের আশ্রয় দেবার চেষ্টা করেছেন। স্পষ্ট বক্তা,জনপ্রিয় এবং জনদরদী মানফ্রেড রোমেলকে স্টুটগার্ট মনে রেখেছে অনেক কারণে।আমি যখন জার্মানি যাই, বাদের-মাইনহোফ গ্রুপ অথবা রোটে আরমে ফ্রাকতশিওন (রেড আর্মি ব্রিগেড) নামের একটি বামপন্থী জার্মান টেররিষ্ট দল সারা দেশে রীতিমত ত্রাসের সঞ্চার করেছে। মনে আছে ড্রেসনার ব্যাঙ্কে অফিসে ঢোকার সময়ে কি কঠোর খানা তল্লাসি হতো! স্টুটগার্ট-স্টামহাইম জেলে সেই দলের নেতারা দলবদ্ধ আত্মহত্যা করেন। এঁদের রীতি মাফিক সমাধিস্থ করার বিরুদ্ধে প্রবল নাগরিক প্রতিবাদ শোনা গেল- আশঙ্কা, সেটি কিছু মানুষের কাছে শহিদ বেদী হয়ে উঠতে পারে! সেই আপত্তি সত্ত্বেও (এমনকি নিজের দলেরও) মেয়র মানফ্রেড রোমেল তাঁদের যথাযথ অন্ত্যেষ্টি এবং সমাধির ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেছিলেন সমস্ত শত্রুতা কোন এক বিন্দুতে গিয়ে শেষ হয়, আমি মনে করি মৃত্যুই সেই বিন্দু। সেই একই স্পিরিটে যুদ্ধের শেষে পুরনো বিবাদ ভুলে গিয়ে মানফ্রেড রোমেল আজীবনের বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন যুদ্ধকালীন জার্মানির দুই প্রাক্তন শত্রুর সন্তানের সঙ্গে। ১৯৫৮ সালে আমেরিকান সপ্তম বাহিনীর কমান্ডার পদে স্টুটগার্টে এলেন ডাকসাইটে আমেরিকান জেনারেল জর্জ প্যাটনের ছেলে জর্জ স্মিথ প্যাটন। মানফ্রেড রোমেল তখন আঞ্চলিক রাজনীতিতে উঠতি তারকা, নিজে গিয়ে আলাপ করেন প্যাটনের সঙ্গে, আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করেন দুজনেরই জন্মদিন ২৪শে ডিসেম্বর (মানফ্রেড পাঁচ বছরের বড়ো), কয়েক বছর একত্রে পালন করেছেন দিনটি! যুদ্ধোত্তর জার্মানিতে বিজয়ী দখলদারি আমেরিকান বাহিনীর সঙ্গে জার্মানির হৃদ্যতা বর্ধনে এই বন্ধুত্বের অবদান অপরিসীম। আরেক চমক অপেক্ষা করছিল। ১৯৭৯ সালে স্টুটগার্টের মেয়র মানফ্রেড রোমেল ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে লন্ডন গেছেন, এক রিসেপশনে তাঁর হোস্ট একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ইনি সেকেন্ড ভাইকাউন্ট লর্ড মন্টগোমেরি অফ আলামেন। মানফ্রেড রোমেল তৎক্ষণাৎ বলেন, মি লর্ড, জানি কোনো মরুভূমিতে একদিন দুই ফিল্ড মার্শাল, আমার ও আপনার বাবার মধ্যে লড়াই হয়েছিল, আপনার বাবা জিতেছিলেন কিন্তু সেটা আমাদের বন্ধুত্বের পথে বাধা হতে পারে না! লর্ড মন্টগোমেরি হাত বাড়িয়ে বলেন, লর্ড নয়, আমি ডেভিড। পরে দুজনে জানলেন তাঁদের জন্মের বছর এক, ১৯২৮, ডেভিড চার মাসের বড়ো। এই দুজনের নিবিড় প্রীতির বন্ধন আমৃত্যু স্থায়ী হয়েছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের জন্য দায়ী আসামি নাম্বার ওয়ান জার্মানিকে সভ্য সমাজে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মানফ্রেড রোমেলের অবদান বিপুল। প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে কাইরো থেকে আলেকজান্দ্রিয়া যাওয়ার পথে চোখে পড়েছে এল আলামেনের রোড সাইন, মনে হয়েছে এখানেই তো মরুভূমির শৃগাল মুখোমুখি হয়েছিলেন ফিল্ড মার্শাল মন্টগোমেরির সঙ্গে! সেই যুদ্ধ বিজয়ের সম্মানে তাঁকে লর্ড আলামেন উপাধি দেওয়া হয়। চার্চিল বলেছিলেন, এল আলামেনের আগে আমরা কোন যুদ্ধ জিতি নি, এল আলামেনের পরে কোন যুদ্ধ হারিনি। ব্রিটিশ সরকার রোমেলকে ও বি ই (অর্ডার অফ দি ব্রিটিশ এম্পায়ার) সম্মানে বিভূষিত করেছেন, আমেরিকার মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পেয়েছেন ডক্টরেট, জার্মান- আমেরিকান বন্ডিং পুরস্কার, আপন দেশে পেয়েছেন জার্মানির উচ্চতম সম্মান, বুন্দেসফেরদিনস্টঅরডেন। শেষদিন পর্যন্ত মানফ্রেড রোমেল যে পদকের জন্য বিশেষ গর্বিত ছিলেন সেটি হল শোয়েবিয়ান ডায়ালেক্টের প্রতি আজীবন সেবার সম্মানে প্রদত্ত ফ্রিডরিখ ফোগট মেডাল। জার্মান জনজীবনে কৌতুকের যে একান্ত অভাব এমন কথা তাঁদের বন্ধু এবং শত্রু সমস্বরে বলে থাকেন। তাঁরা হাসতে জানেন না, অথবা পারেন না; এ বিষয়ে বিতর্ক থাকলেও জার্মান বৈঠক খানা, কফির আসরে, ট্রেনে বাসে, পার্লামেন্টের ভেতরে হাসির অভাব নিয়ে দ্বিমত দেখা যায় না। সম্ভবত মার্ক টোয়েন বলেছিলেন জার্মানরা হাসতে জানেন না সেটি অতিকথন মাত্র; প্রতি বছর কারনেভালের সময়, (ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে) তাঁরা প্রচুর পান আনন্দ উল্লাস অট্টহাস্য করেন এবং বাকি এগারো মাস এই উচ্ছ্বাস মুলতুবি রাখেন! বক্তাদের প্রতি এই বইটির ভূমিকায় মানফ্রেড রোমেল এই অভিযোগ মাথা পেতে মেনে নিয়েছেন। তিনি তাবৎ জার্মান বক্তিয়ার খিলজিকে উৎসাহিত করেছেন, আপনারা একটু হাস্যরস মিশিয়ে বলতে শিখুন, নীরস বক্তিমে না করে কৌতুককে তার সম্যক স্থান দিন। জ্ঞান অর্জন করার জন্য কোন জার্মান আপনাদের বক্তৃতা শুনতে আসে না, আপনি যা বলেন বা বলবেন তার সারাংশ তাঁরা অবগত আছেন। এছাড়া আপনারা তাই বলেন যা শ্রোতারা শুনতে চায়, তাতে না আছে কোন নতুনত্ব না আছে বাহাদুরি। আপনার বাগাড়ম্বরের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এই অনাগ্রহী মানুষদের জাগিয়ে রাখা। বেশির ভাগ সময়েই দেখা যায় মিনিট দশেকের পর শ্রোতা হাই তোলেন, কখনো হাত ঘড়ি ঝাঁকিয়ে দেখেন সেটা ঠিক চলছে কিনা, হলের আলোর সংখ্যা গুনতে আরম্ভ করেন অথবা ভুল জায়গায় হাততালি দিয়ে আশা করেন এবার বক্তা থামবেন। লক্ষ করবেন আপনারা যতো বকে যাচ্ছেন, শ্রোতারা তত ক্রুদ্ধ হতে থাকেন, এ ব্যাটা থামবে কতক্ষণে? তাঁদের অস্বস্তি, ক্রোধ নিরসনের দায়িত্ব আপনারই। মনে রাখুন বাইবেলে (সাম ১২৭:২) ঈশ্বর জানিয়েছেন, তিনি যাঁদের ভালবাসেন তাঁদেরই নিদ্রা উপহার দিয়ে থাকেন। মিনিটে মিনিটে শ্রোতার চেহারা -   মানফ্রেড রোমেলের আঁকা স্কেচতাহলে এঁদের জাগিয়ে রাখার উপায় কি?কৌতুক, হিউমর! এই বইতে তিনি কোন মহান জ্ঞান নয়, মাত্র কিছু টিপস দিতে চান যেগুলির জুতসই ব্যবহারে বক্তা শ্রোতাদের ঘুমিয়ে পড়া থেকে নিরস্ত করতে পারেন এবং দৈনন্দিন জীবনে তার সম্যক প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। মনে আছে ইংল্যান্ডে আসার কিছু পরে বায়ারিশে ফেরআইনসব্যাঙ্কের লন্ডন অফিসে এক রিসেপশনে মিউনিকের জনৈক ভদ্রমহিলার সঙ্গে আলাপ; তিনি বছর খানেক হল এ দেশে এসেছেন। জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি এই যে এক বছর লন্ডনে কাটালেন, কোন জিনিসটা সবচেয়ে মনে রাখার মতন? ভেসনা গ্রাপিচ উত্তরে বলেছিলেন, এ দেশে লোকে কারণে বা অকারণে প্রচুর হাসেন! চার দশকে যে ইংলিশ হিউমরকে প্রায় পাওনা বলে ধরে নিয়েছি, টেকেন ফর গ্রান্টেড, জার্মান জনজীবনে তা সুলভ নয়। মানফ্রেড রোমেল সেটি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে দ্বিধা বোধ করেননি। ইংল্যান্ডে টাং ইন চিক হিউমর কথাটা খুব চালু, তার বাংলা কি হতে পারে জানি না, তবে জার্মানিতে সেটি অমিল। প্রথমেই বলে রাখি, মানফ্রেড রোমেলের হাস্যরস কখনো অত্যন্ত শুষ্ক, কখনো ছুরির মত ধারালো। যে কোন পরিস্থিতিতেই অবহেলায় অফ দি কাফ মন্তব্য করেন, সে কৌতুক আপনার পছন্দ হোক বা নাই হোক; কোন পপুলারিটি পোলের ধার ধারেন না। মানফ্রেড একটু তোতলা ছিলেন, মাঝে মাঝে কথা জড়িয়ে যেতো, কিন্তু এই আপাত দুর্বলতাকে তিনি তাঁর ব্র্যান্ডে পরিণত করেন – ‘আমার নাম মানফ্রেড রোমেল, আমি তোতলা এবং কখনো ফিস ফিস করে কথা বলে থাকি’ এমন একটা প্রস্তাবনার পরে শ্রোতার প্রতিরোধ ভেঙ্গে যেতে বাধ্য! তাঁর অর্থ দফতরে সোমবারের মিটিং – একজন খুব ভয়ে ভয়ে জানালেন দু নম্বর ওয়ার্ডের ক্যাশিয়ারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মানফ্রেড অবলীলাক্রমে বললেন, ভল্টের ভেতরটা একবার খুঁজে দেখেছেন? হয়তো সেখানে ঘুমিয়ে পড়েছে। নিরালায় বসে মানফ্রেড রোমেল কোন রসিকতার সঙ্কলন লিখেছেন বলে জানা যায় না। তাঁর কৌতুকের ছটা বিকশিত হয়েছে, কোন না কোন প্রসঙ্গে; বিভিন্ন গল্প গুজবে, সাক্ষাৎকারে, বক্তৃতায়, ব্যক্তিগত আলাপচারিতে এই বইটির সম্পাদক সেগুলি একত্র করেছেন। ধরুন মদ্য পান করে স্টেজে নেমে অভিনেতা প্রম্পটারকে জিজ্ঞেস করছেন, এটা কোন নাটক? প্রসঙ্গ - এমন অনেক সরকারি বক্তা আছেন যারা বিষয় বস্তুকে সম্পূর্ণ ভুলে মেরে দিয়ে স্টেজে বাকতাল্লা করেন। আমলাদের বুদ্ধিমত্তা? ধরুন নির্মীয়মাণ বাড়ির ভারা খোলা মাত্র গোটা স্ট্রাকচার হুড়মুড় করে পড়ে গেল। অবিচলিত আর্কিটেক্ট বললেন, বাড়ির ভেতরে যখন দেওয়াল রং হবে তখনই ভারা খোলা উচিত ছিল। কিংবা গৃহকর্তা বাড়ির কাজ দেখতে এসে বললেন, একি উলটো পালটা কাজ হচ্ছে? এঞ্জিনিয়ার বললেন, আমাদের সাইট প্ল্যানটা বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল সার। মানফ্রেড রোমেলের শোয়েবিশ অ্যাকসেন্ট এবং অননুকরণীয় বাকভঙ্গিকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ কম্ম নয়। একদিন কোন সুযোগ্য জার্মান বেত্তা লেখক বাঙালির আসরে সমাদরে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করবেন, এ আশা রাখি। আপাতত আমার টুটা ফুটা জার্মান জ্ঞানের সম্বলে অনুদিত কিছু মণি মুক্তা পাঠকের কাছে পেশ করার লোভ সম্বরণ করা গেল না। এক। হাইডেলবের্গ।নেকার নদীর তীরে বিকেল বেলা একজন বয়স্ক মানুষ পায়চারি করছেন। এক ডুবন্ত মানুষের আর্তনাদ। - বাঁচান, ডুবে যাচ্ছি। নদীর ধারে দাঁড়ানো ভদ্রলোক জানতে চাইলেন: - আপনার নাম কি?- ক্রাউটলে। বাঁচান। - কোথায় থাকেন?- বাদে স্ত্রাসে। একটু হাত বাড়াবেন? - বাদে স্ত্রাসে কতো নম্বর?- চার।- ধন্যবাদ। অনেক দিন ঐ পাড়ায় ফ্ল্যাট ভাড়া খুঁজছি।দুই। নেকার নদীর তীর তীব্র আর্তনাদ শোনা গেল ‘জলে পড়ে গেছি, সাঁতার জানি না’তীর থেকে উত্তর - সাঁতার আমিও জানি না। কিন্তু তাই বলে আপনার মতন লোক ডেকে সেটা জানাই না। তিন। রাজধানী বন। ট্রেন স্টেশন।ব্যস্ত সমস্ত উপ মন্ত্রী ট্যাক্সিতে উঠেছেন - কোথায় যাবেন?- যেখানে হোক। সকলেই তো আমাকে চায়। চার। সুইমিং ক্লাবের ডিনার প্রেসিডেন্টের ভাষণ - সব শেষে বলি, যদিও এ বছর কোন প্রতিযোগিতায় আমাদের কেউ কোন মেডাল পায়নি, চ্যাম্পিয়নও কেউ হয় নি কিন্তু আনন্দের কথা এই যে কেউ জলে ডুবেও যায়নি। পাঁচ। হান্টিং ক্লাব দুই বিষণ্ণ শিকারি ফিরেছেন। মুখ গম্ভীর। একজনের স্ত্রী বললেন, এতো মন খারাপের কি আছে, তোমার রুকস্যাক বেশ ভারি দেখছি। উত্তর – চুপ, ওটা আমার কুকুর।ছয়। ডাক্তারখানা - আপনি আমার বউকে বলেছিলেন এই ওষুধটা খেলে সেরে যাবে। সে মারা গেছে গতকাল। - কতদিন যাবত তিনি এই ওষুধটা খাচ্ছিলেন?- পনেরো দিন। - আমি যে বলেছিলাম এক মাস ধরে খেতে?সাত। ইন্টারভিউ - নাম? - আলফ্রেড ফায়ারআবেনড (ফায়ারআবেনড - আক্ষরিক অর্থে দিনের ছুটি, কাজ শেষ)- কাজে রাখতে পারবো না। কেউ ফোন করলেই আপনি বলবেন ফায়ারআবেনড। লোকে ভাববে অফিস ছুটি হয়ে গেছে। পুনশ্চ: অন্য অনেক দেশের মতন জার্মানিতেও টেলিফোন এটিকেট হলো ফোন তুলেই আপন পদবী ঘোষণা করা। আমার ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রবাসের কালে হারডি-স্লোমান ব্যাঙ্কে সত্যি একজন ছিলেন যার পদবী ফায়ারআবেনড! আট। ভবিষ্যৎ - আপনি আমায় ভালো চেনেন, বলুন তো আমার কী হওয়া উচিত, কবি না শিল্পী?- কবি। - কেন আপনি কি আমার কবিতা পড়েছেন?- না, আমি আপনার আঁকা ছবি দেখেছি নয়। স্তালিন -এটা কি সত্যি স্তালিন তাঁকে নিয়ে কথিত সব জোক জমিয়ে রাখতেন?-হ্যাঁ, তার সঙ্গে ঐ জোক যারা ছড়াতেন তাদেরও। দশ। পোস্ট অফিস - আপনার ভাই কি করে?- পোস্ট অফিসে সারাদিন খামের ওপরে স্ট্যাম্প মারে। - খুব একঘেয়ে কাজ নয়?- কেন, রোজই তো তারিখ বদলে যায়। এগারো। গ্রিনজিং, ভিয়েনা ইওহান স্ট্রাউসের ওয়ালতসের আসর বসেছে,একের পর এক বাজে ব্লু ডানিউব, গেশিখটে আউস ভিনার ভালড, কাইজার ওয়ালতস। সামনে সারিতে স্বয়ং স্ট্রাউস বসে শুনছেন। অভিভূত স্ট্রাউস প্রোগ্রাম শেষে কন্ডাক্টরকে ধন্যবাদ জানাতে নিজে গেলেন ব্যাক স্টেজে। কন্ডাক্টর হের স্ট্রাউস, আপনি তো ওয়ালতসের নোট লিখেই খালাস। সেটা বাজানো যে কি শক্ত কাজ যদি জানতেন। বারো। অর্থনীতি - মিনিস্টার, ডলার ডুবে যাচ্ছে - ডুবুক, মানুষ বাঁচলেই হল। তেরো। পশ্চিম বার্লিন, দুই জার্মানির পুনর্মিলনের পরে আলদির (সস্তার সুপার স্টোর) সামনে বিরাট লম্বা লাইন। উত্তেজিত পূর্ব বার্লিনার - এ যে দেখি কমিউনিস্ট জার্মানির র‍্যাশনের দোকানের মতন লাইন পড়েছে পেছন থেকে পশ্চিম বার্লিনার - এখানে আপনাকে কেউ দাঁড়াতে বলেনি। চৌদ্দ। দোকানের সামনে দুজনে কথা হচ্ছে - আমি তিন মাস অন্তর তেল বদলাই। - কোন গাড়ি চালান যে তিন মাসে একবার তেল বদলাতে হয়?- আলু ভাজার দোকান চালাই। (পমেস ফ্রিতেস / ফরাসি ফ্রিতেরি) পনেরো। ট্রেন মহিলা - ট্রেনটা কি ছেড়ে দিয়েছে? টিকিট কলেকটর - আজ্ঞে হ্যাঁ, আপনি কি ভাবছেন দু’পাশের বাড়িগুলি টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?ষোলো। ট্রেন হন্ত দন্ত ধাবিত যাত্রী - উলমের ট্রেনটা কি ধরতে পারি?- যদি দৌড় লাগান; পাঁচ মিনিট আগে সেটা ছেড়ে গেছে। সতেরো। ট্রেন - ফরতসহাইম যাবার পরের ট্রেন কখন?- পাঁচ মিনিট বাদে ইন্টার সিটি, পনেরো মিনিট বাদে এক্সপ্রেস, আধ ঘণ্টা বাদে ধীরগতি প্যাসেঞ্জার ট্রেন। শেষেরটাই ধরে নিন। - কেন?- কারণ একমাত্র সেটা এখানে থামে। আঠারো। পথে মদ্যপ মাতাল হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেছেন - আহা, হাড় ভাঙেনি তো?- না, সেটা ভাঙবে পরের আছাড়ে। উনিশ। মদ্যপ অভিনেতা মঞ্চে নেমে অভিনেতা কথা খুঁজে পাচ্ছেন না, পাশ থেকে প্রম্পটার খেই ধরানোর দুর্বার চেষ্টা করে চলেছেন। অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে অভিনেতা বললেন, কানের কাছে ডায়ালগ শোনালেই হবে? এটা কোন নাটক সেটা বলবেন তো? কুড়ি। নাটক শেষে হ্যামলেট নাটকের অসম্ভব বাজে অভিনয় দেখে দর্শক ক্ষিপ্ত, হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তাই ছুঁড়ছেন মঞ্চের দিকে। হ্যামলেট চরিত্রাভিনেতা – জানি এ নাটকে খুন খারাবির শেষ নেই, নয় জন মরলেন। এতে আমার কি দোষ কী বলুন তো? এই বাজে গপ্প কি আমি লিখেছি? একুশ। চুল কাটার সেলুনে হান্স - পোপের দর্শন পেতে রোমে যাবো।নাপিত - কেন অনর্থক পয়সা নষ্ট করবেন? আমি হলে কখনো যেতাম না। পোপ এতোটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন যে তাঁকে প্রায় দেখাই যায় না।তবু হান্স গিয়েছে রোমে। নাপিত - পোপকে দেখতে পেলেন? অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকে না? ঠিক বলেছিলাম না?হান্স - মোটেও না। আমি পোপের একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলেছি। নাপিত - তা তিনি কী বললেন?হান্স - তিনি আমার মাথায় হাত দিলেন; বললেন ঈশ্বরের করুণা বর্ষিত হোক তোমার ওপরে, কিন্তু বলো দেখি এতো খারাপ চুল কাটাতে কার কাছে যাও? বাইশ। চুল কাটার সেলুনে কমিউনিস্ট পোল্যান্ড, আটের দশক। প্রেসিডেন্ট ইয়ারুইয়েলস্কির কঠোর রেজিমের বিরদ্ধে অগ্নিগর্ভ পোল্যান্ডের পথে ঘাটে তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতির বিবরণ সাক্ষাতে জানানোর জন্য প্রত্যেক মাসে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের ডাক পড়ে মস্কোতে। এই সুযোগে তিনি আরবাত পাড়ার একটি সেলুনে যান চুল কাটাতে। নাপিত দিমিত্রি জানতে চায় পোল্যান্ডে কী ঘটছে। মানুষজন যে সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ছেন সে খবর দিলেন রাষ্ট্রদূত। নাপিত বললে আমরা ভাবতেও পারি না কমিউনিস্ট সরকারের সঙ্গে এমন লড়াই সম্ভব হতে পারে, মাথার চুল দাঁড়িয়ে যায়। পরের মাসে রাষ্ট্রদূত আবার এসেছেন চুল কাটাতে। নাপিত আবার বলে, পোল্যান্ডের খবর বলুন, সবাই শুনুক। রাষ্ট্রদূত বললেন নতুন কিছু নয়, ঐ একই রকম। নাপিত বললে, আপনি একটু উঁচু গলায় বলুন না, সবাই শুনুক, চুল কাটতে আমার সুবিধে হবে। তেইশ। চুল কাটার সেলুনে রালফ দাড়ি কামাবেন। নাপিত - আপনি আগে কি কখনো আমার দোকানে দাড়ি কামিয়েছেন?রালফ - না, তবে আমার গালের যে কাটা দাগটা দেখেছেন সেটা গত যুদ্ধের। চব্বিশ। অটোবান মদ্যপান করে লোথার গাড়ি চালাচ্ছে উলটো মুখে। গাড়ির রেডিওতে শোনা গেল – সাবধান স্টুটগার্ট- কিরখহাইম অটোবানে একজন উলটো মুখে গাড়ি চালাচ্ছেন। লোথার – একজন? অগুনতি ড্রাইভার!পঁচিশ। লেভেল ক্রসিং গেট নামানো। এক বাইক আরোহী লাইন পার হতে যাচ্ছে। প্রহরী - একটু অপেক্ষা করুন, ট্রেনটা পার হয়ে যাক।বাইক আরোহী - আমার কিছু হলে আপনার কী?প্রহরী - আমাকে হাত নোংরা করতে হবে যে। ছাব্বিশ। বক্তা ও বক্তৃতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তা বিড় বিড় করছেন, কথা খুঁজে পাচ্ছেন না। সামনের সারি থেকে - কী এত ভাবছেন? যে টুকু জানেন, তাই বলে ফেলুন, এক মিনিটের বেশি লাগবে না।বক্তা - না, বরং আপনি ও আমি দুজনে যা জানি সেটাই বলি, তাতে তিরিশ সেকেন্ডও লাগবে না। সাতাশ। বক্তা ও বক্তৃতা অত্যন্ত নিচু কণ্ঠে বক্তা বলে চলেছেন। পেছনের সারি থেকে একজন একটু জোরে বলুন, কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। সামনের সারি থেকে একজন - আমি তো সব কথাই বুঝতে পারছি। তবে যদি চান আপনার সঙ্গে সিট বদল করে নিতে আমার কোন আপত্তি নেই। সবশেষে গ্র্যান্ড কাউন্সিল, বার্ন, সুইজারল্যান্ড - আমি এই বলে শেষ করতে চাই যে আমার আরও অনেক কিছু বলার ছিল। তবে যদি জানতাম সেটা কী! *সূত্র স্টুটগার্টের ফরাসি মিত্রশক্তির কাছে মানফ্রেড রোমেলের সাক্ষ্য, ২৭শে এপ্রিল ১৯৪৫ Manfred Rommels gesammelte Witze Zusammengestellt und herausgegeben von Ulrich Frank-PlanitzEngelhorn Bücherei Stuttgart 1999পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২৮ শব্দ সংখ্যা ১৩,০০০ পুনশ্চ আর দুটো কথা এরউইন রোমেলের মৃত্যুতে চার জন জেনারেলের ভূমিকা জেনারেল হান্স স্পাইডেল (১৮৯৭-১৯৮৪) - রোমেলের চিফ অফ স্টাফ, বিশে জুলাই হিটলার হত্যা প্লটের চক্রী, ধরা পরার পরে জবাবদিহিতে তিনি রোমেলের নাম জড়ান। নিজে গেস্টাপোর হাত থেকে পালাতে সক্ষম হন, পরে পশ্চিম জার্মান সেনা বাহিনীতে বিশাল পদ প্রাপ্তি। জেনারেল স্টুলপনাগেল (১৮৮৬- ১৯৪৪) - বিশে জুলাইয়ের প্ল্যানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত; এক জবানবন্দিতে তথ্য প্রমাণ ছাড়াই রোমেলের নাম উল্লেখ করেন। ফাঁসিতে চড়েন। জেনারেল মাইজেল (১৮৯৬-১৯৭৮) - যুদ্ধের পরে আমেরিকানদের হাতে ধরা পড়েন। কট্টর নাৎসি সহযোগী হওয়ার অপরাধে মাত্র দু বছরের সাজা হয়। তিনি স্বীকার করেন হিটলারের প্লট জানতেন, কিন্তু নিজের হাতে রোমেলকে সায়ানাইড দেননি। নির্জন জায়গায় গাড়ি থামিয়ে বুর্গডরফ তাঁকে ও ড্রাইভারকে নেমে যেতে বলেন, পাঁচ মিনিট বাদে এসে তিনি দেখেন রোমেল মৃত। জেনারেল বুর্গডরফ (১৮৯৫-১৯৪৫) - মাইজেলের বিবৃতিকে যিনি চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন সেই জেনারাল বুর্গডরফ বার্লিনের আত্মসমর্পণের দিন(২ মে ১৯৪৫) হিটলার বাঙ্কারে আত্মহত্যা করেন।  
    গুরুচণ্ডা৯-র গল্পপাঠ - গুরুচণ্ডা৯ | ছবি: রমিত‘পিরোবতির নাকছাবি’ গল্পটি শক্তি দত্ত রায়ের ‘পিরোবতি ও মুড়ির টিন’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। ‘হাজবপুরের কেচ্ছা' লেখকের 'অতিনাটকীয়’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। আজকের গল্প এস এস অরুন্ধতীর লেখা 'পাপ হে '। গল্পটি লেখকের 'চাঁপা ফুলের গন্ধে’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। সুনাগরিক রঞ্জন দত্তর মৃত্যুর দিন - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পটি লেখকের 'ছয়ে রিপু’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।আজকের গল্প জয়ন্তী অধিকারীর 'না হাঁচিলে যারে'। গল্পটি লেখিকার 'কুমুদির রোমহর্ষক গল্পসমূহ’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত।অমর মিত্রের লেখা 'কাশী মথুরা বৃন্দাবন '। গল্পটি 'আমার ভয় করছে’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।প্রতিভা সরকারের লেখা 'তালাও গ্রামের রূপকথা'। গল্পটি 'হে চিরসারথী’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত।দময়ন্তীর লেখা 'দুষ্কালের পদধ্বনি'। গল্পটি 'দুষ্কালের আখ্যানমালা’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।উপল মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'তিলবাড়ি'। গল্পটি 'ম্যাকলাস্কিগঞ্জ’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।মহারাজ মিত্রবর্মণের রাজ্যবিজয়, ঘেঁটুফুল ও ব্রহ্মকমলের গল্প, লিখেছেন রমিত চট্টোপাধ্যায়, পাঠ করেছেন অমিতাভ চক্রবর্তী।শক্তি দত্তরায়ের লেখা '৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড' বই থেকে নেওয়া ক্ষীরের পুতুল। গল্পপাঠে কেকে।স্মৃতি ভদ্রর লেখা 'রসুই ঘরের রোয়াক (দ্বিতীয় খণ্ড)' বই থেকে গল্পপাঠে পায়েল চ্যাটার্জী।চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস 'সীমানা' বই থেকে নেওয়া একটি পর্ব, নাম - দেশের কাজ। ২৫শে বৈশাখ পার হয়ে ১১ই জ্যৈষ্ঠ্যর এই বিশেষ সময়কালে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য, এই পর্বে ধরা হয়েছে সেই সময়ের দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের দেখা হওয়ার গল্প।গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।অ্যাবনর্ম্যাল - লিখেছেন কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পপাঠ - সোহিনী সেনগুপ্ত।ফোটোগ্রাফ - ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক, গ্রাফিক শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।কেকে-র 'ছায়ার পাখি' বই থেকে নেওয়া গল্প - জিহ্ব; পাঠ - পায়েল। চিত্রশিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।
  • হরিদাস পালেরা...
    এক বিপন্ন প্রজন্ম ও আমাদের ভবিষ্যৎ। - Somnath mukhopadhyay | এক বিপন্ন প্রজন্ম ও আমাদের ভবিষ্যৎ।  আমার বাড়ির সামনের রাস্তা বেয়ে প্রতিদিন নানান বয়সের শিশু থেকে কিশোর কিশোরী ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে যায়। সবার সঙ্গে না হলেও এদের জনাকয়েকের সঙ্গে টুকটাক কথার সূত্রে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। অবশ্য সে সম্পর্ক খুব যে গভীর,সে কথা বলবোনা। পথ চলতি সম্পর্কের সেতু কবে আর দীর্ঘস্থায়ী হয়? টানা গরমের পর্ব মিটিয়ে স্কুলগুলোতে আবার ছেলেপিলেরা যাতায়াত শুরু করেছে দেখে মনটা বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠে।সুতো ছেঁড়া ফেলে আসা দিনের কথা মনে পড়ে যায়। বছরের নানা সময়ে ওদের আসা যাওয়া দেখতে দেখতে কখন যেন পথচলতি ওদের রোদ জল শীতের আমেজ মাখা আনন্দ আর কষ্টের শরিক হয়ে যাই।  গরমের কারণে বেলার স্কুল সকালে উঠে আসে, বর্ষার ভেজা দিনগুলো জল থৈ থৈ হয়ে উঠতেই অনেকের বাড়ি থেকে বেরনো হয়না, বন্যার আঁচ পেতেই স্কুলবাড়ি ভরে ওঠে জলভাসি মানুষজনের ভিড়ে, শীতের দাপট খুব বেশি হলে প্রয়োজনীয় শীত পোশাকের অভাবে কুঁকড়ে থাকে নবীন শরীরগুলো। এভাবেই এক আশ্চর্য লড়াই করে বেড়ে ওঠে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চারাগাছেরা। খুব সম্প্রতি ইউনিসেফের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে পরিবর্তিত জলবায়ু নিয়ে এই দেশের শিশুদের কিছু বাস্তব সমস্যার কথা। তারা সবাই যে পাঠশালায় যায় হয়তো এমন নয়, ( গেলে তার থেকে আনন্দের কিছু হতোইনা ) – এদের মধ্যে কেউ কেউ মাঠে ঘাটে খেলে বেড়ায়,মা বাবার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে, গজিয়ে ওঠা দোকানে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে উদয়াস্ত ঘাম ঝরিয়ে কাজ করে। এরা সবাই পরিবর্তিত বাতাবরণের শিকার – স্বেচ্ছায় নয়, বাধ্য হয়েই। এদের নিরাপত্তার ঝুঁকি ক্রমশই বাড়ছে। সমীক্ষার ফলাফল থেকে জানা গেছে –  ১. এই মুহূর্তে আমাদের দেশের ৯৭% শিশু অন্যূন দুটি আবহাওয়া সংক্রান্ত বিপর্যয় বা সংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার। ২. দেশের ১৫৮ মিলিয়ন সংখ্যক শিশু তাপদাহ ও খরা পরিস্থিতির ফলে চরম ভুক্তভোগী। ৩. ভারতের ২৩৪ মিলিয়নেরও বেশি সংখ্যক শিশু কমপক্ষে তিনটি চরম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আবহিক বিপর্যয়ের সামনে পড়তে বাধ্য হচ্ছে যার ফলে বাড়ছে তাদের শারীরিক সুস্থতার সমস্যা, দেখা দিচ্ছে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি, পঠনপাঠন ও নিরাপত্তার সংকট। ৪. ইউনিসেফের পক্ষ থেকে অতি সত্বর শিশুদের সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে সচেতন করার সাথে সাথে তাদের সামাজিক প্রয়োজন ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে।সমীক্ষার বিস্তারিত আলোচনায় বলা হয়েছে যে ভারতের প্রায় প্রতিটি শিশুই কমপক্ষে একটি আবহিক বিপর্যয়ের দ্বারা পীড়িত, অন্যদিকে ৯৭% শিশুকে একাধিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। গত ১৬ জুন ২০২৬ প্রকাশিত এই রিপোর্টৈ পরিসংখ্যান তুলে বলা হয়েছে যে দেশের ৪১১.৬২ মিলিয়ন শিশু কমপক্ষে দুটি আবহাওয়া সংক্রান্ত অথবা বিপর্যয় সংশ্লিষ্ট বিপন্নতার শিকার হয়। এরমধ্যে রয়েছে প্রবল দাবদাহ, তীব্র খরা পরিস্থিতি, নদী ও সামুদ্রিক বন্যা, ক্রান্তীয় ঝড়, তাপপ্রবাহ, দাবানল, ধুলিঝড় ও বালি ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ। তালিকা যেন শেষ হতে চায় না। ভারতের মতো একটি সুবিশাল দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্নতার কারণে এক একটি অঞ্চল এক এক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বছরের নানা সময়ে। সেই অনুযায়ী বাড়তে থাকে বিপন্নতার বহর।দেশের ২৩৪ মিলিয়ন শিশু বা দেশের মোট শিশু জনসংখ্যার ৫৫% ন্যূনতম তিনটি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে বাধ্য হয়। এরফলে তাদের সর্বতোমুখী বিকাশের প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হয়ে থাকে যা পরিপূর্ণ বিকাশকে বিলম্বিত তথা বিঘ্নিত করে। ইউনিসেফের মতে তথাকথিত বিপর্যয়ের মধ্যে সবথেকে জোরালো ভূমিকা নেয় বৃষ্টিহীন শুখা পরিস্থিতি এবং প্রবল তাপদাহ। পরিসংখ্যান বলছে যে এই দুয়ের প্রভাবে ১৫৮. ৮ মিলিয়ন শিশু বর্ণনাতীত কষ্টের মুখে পড়েছে। এদের মধ্যে ৮৪.১ মিলিয়ন শিশু খরা, তাপপ্রবাহের সঙ্গে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত হতে বাধ্য হয়। এছাড়া ৩৮. ৫ মিলিয়ন শিশুকে রীতিমতো খরা, তাপপ্রবাহ ও প্রবল বন্যার সঙ্গে যুঝতে হয়েছে কেবলমাত্র প্রাণ টুকুকে টিকিয়ে রাখতে। লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যায়না। ওলটপালট হয়ে যাওয়া সবকিছুকে একটু স্বাভাবিক করে তুলতে না তুলতেই নতুন বিপর্যয়ের মুখে পড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। কি করুণ অথচ অনিবার্য পরিণতি! মৌসুমী বায়ুর খামখেয়ালিপনার কারণে গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ুর চরিত্রে বদল এসেছে বিগত কয়েক বছরে। খরার দাপট প্রথাগত এলাকার পরিধিকে অতিক্রম করে হাত বাড়িয়েই চলেছে অন্যতর পরিসরে। বৃষ্টিপাতের স্বল্পতার ফলে দাবদাহের দাপট বাড়লে তা শিশুদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। ভারতের ৪১০.২ মিলিয়ন শিশু,যা মোট শিশু জনসংখ্যার ৯৬%, আজ ভয়ঙ্কর খরা আর গরমের দাপট সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। এই দাপটের শিকার দেশের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসরত শিশুরা। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হ‌ওয়ায় খাদ্যের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তারা, পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টির অভাব কমিয়ে দিচ্ছে তাদের পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হবার সম্ভাবনাকে। জীবনের চেনা ছন্দটাকেই পাল্টে দিতে চলেছে এই অকল্পনীয় তাপীয় পরিবেশ। সমীক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে প্রায় ১৫৫.৭ মিলিয়ন শিশু প্রবল ঘূর্ণিঝড় প্রবণ অঞ্চলে বসবাস করে। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সারা পৃথিবীতেই ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে চলেছে। বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জীবনের মূল ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে স্কুলের পঠনপাঠন, স্বাস্থ্য পরিষেবা। বলা হয়ে থাকে যে বিপদ নাকি কখনো একা আসেনা। একের পর এক বিপর্যয়ের অভিঘাতে জীবনে সুস্থিত হবার সম্ভাবনা অঙ্কুরিত হবার আগেই নষ্ট হয়ে যায়।ভারতের প্রতি ৫ জন পিছু ১জন তাপপ্রবাহের দ্বারা প্রভাবিত হয় অর্থাৎ ৮৯. ৩ মিলিয়ন শিশু তাপ দগ্ধ হচ্ছে যা তাদের শরীরের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে প্রায় নিয়মিতভাবে বর্ষার জলে উপচে পড়া নদীর বন্যায় বানভাসি হতে হয় ৬৬.৯ মিলিয়ন শিশুকে যা মোট শিশু জনসংখ্যার ১৬%। একের পর এক প্রাকৃতিক ঘটনায় বিঘ্নিত হয় শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি। প্রকৃতির রাজ্যের যা স্বাভাবিক বিশৃঙ্খলা তা অনেক ক্ষেত্রেই উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে বিপর্যয়ের চেহারা নেয়, আর তখনই, বিপন্নতার হাহাকার ধ্বনিত হয় চারিদিকে। ইউনিসেফের মতে এই ক্রমিক প্রাকৃতিক ঘটনায় শিশুরা ৬ ধরনের পরিষেবা ব্যবস্থা থেকে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয় – স্বাস্থ্যসেবা বিকাশের জন্য অপরিহার্য পুষ্টি, পরিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা। মাথায় রাখতে হবে যে শৈশবকাল হলো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুবিকাশের পক্ষে সবথেকে উপযুক্ত সময়। এই সময় শিশুর বিকাশ ব্যাহত হলে মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়াই পথভ্রষ্টতার শিকার হয়। এমনটা কখনোই কাম্য হতে পারে না। এখানেই বিপর্যয়ের খতিয়ান শেষ হয়ে গেল এমন নয়। আমাদের কৃতকর্মের ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আজ বিষিয়ে গিয়ে প্রাণহর হয়ে উঠেছে। পরিশুদ্ধ জলের জোগান আজ আর সুনিশ্চিত নয়। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ধরনের vector borne disease এর প্রকোপ বাড়ছে, বাড়ছে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস ঘটিত শারীরিক সমস্যার দাপট। এই সব অচেনা অজানা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সামর্থ্য শিশুদের মধ্যে কম, সুতরাং আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা শিশুদের মধ্যে অনেক বেশি। বলাবাহুল্য এসব‌ই সমস্যা বাড়িয়েছে। এই সময়ের ভারতবর্ষের মহানগরগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা সহনীয়তার সীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। এমন পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছে আমাদের আগামী প্রজন্ম। দেশের ৯৯% শিশু অস্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে শ্বাসকষ্টসহ নানান রকম জটিলতায় ভুগতে হচ্ছে তাদের। এই মুহূর্তে ভারতের ভারতের air pollution risk score এর মান ১০ এর মধ্যে ৯.৯৪। বলতে দ্বিধা নেই যে আমাদের দেশের শিশুরা বিশেষ করে বৃহত্তর গ্রাম সমাজের শিশুরা এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিপালিত হচ্ছে। শৈশব অনিশ্চিত হলে ভাবী জীবনের অনেকটাই ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়ে যায়। প্রহেলিকাময় হয়ে ওঠে দেশের ভবিষ্যৎ।ইউনিসেফের তরফে বাস্তব পরিস্থিতির সাপেক্ষে ভারতের বর্তমান স্থিতির বিষয়ে যে সূচক মানের কথা বলা হয়েছে তাতে করে বলা যায় যে আমাদের দেশের ভাবী প্রজন্ম খুব ভালো অবস্থানে নেই। ভারতের শিশুদের ফুড পভার্টি স্কোর ৬.৩১, নিউট্রিশন রিস্ক স্কোর ৬.৪১ এবং স্টার্টিং স্কোর ৬.৫১।পরিস্থিতি মোটেই নিরাপদ নয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।আর এরফলে আমাদের শিশুরা প্রয়োজনীয় পরিমাণে খাবার খেতে পায়না যাতে করে বাড়ন্ত বয়সের খাদ্যের চাহিদা মেটে। খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে পুষ্টিকর খাবার মেলেনা, আর পুষ্টির অভাবে শরীরের বৃদ্ধি যথাযথ না হ‌ওয়ায় তারা বয়সের তুলনায় অনেক বেঁটে খাটো হয়ে থাকে। এও এক দুষ্ট চক্র যা একের অভাবে অন্যতর অভাব বা অপূর্ণতার হেতু হয়ে দাঁড়ায়। অথচ এসবের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের দেশের ভাবী নাগরিকদের ভবিষ্যৎ। দেশের শ্রীবৃদ্ধি। আলোচনার এমন অংশে পৌঁছে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে যে কীভাবে আমরা আমাদের দেশের শিশুদের এক নিরাপদ, সুস্থিত পরিবেশ পরিকাঠামোর মধ্যে বিকশিত হবার সুযোগ করে দিতে পারবো? পরিস্থিতি এতোটাই সংকটময় যে চটজলদি কোনো সমাধান সূত্র বের করে ফেলা হয়তো সম্ভব নয়। তবে হাল ছাড়লে চলবে না। আমাদের সকলকে এই বৈশ্বিক সমস্যার বাস্তবতার বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে, খুঁজতে হবে এর থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাব্যতা বিষয়ে। মাত্র কয়েক বছর আগে আমরা এক মহামারীর বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এলাম। ওই বিচ্ছিন্ন সময়ে আমাদের শিশুদের শিক্ষা দারুণভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই কয়েক বছরে শিক্ষা অবকাঠামোর সামান্য কিছু পরিবর্তন হলেও তার সিন্ধুতে বিন্দুসম। বলতে দ্বিধা নেই যে আমরা এক বৈষম্যমূলক সমাজে বাস করি। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের শিশুরাও জীবনের একেবারে সূচনা পর্ব থেকেই এই বৈষম্যের বাতাবরণের মধ্যে প্রতিপালিত হচ্ছে। যতদিন না এই অবস্থাকে আমরা বদলাতে পারবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের শিশুরা এটাকে বিধিলিপি বলে মনে করেই অসম্ভব কিছু হয়ে ওঠার কষ্টকর প্রয়াস করে যাবে। আরও ক্ষতি হয়ে যাবার আগে এই অবস্থা থেকে আমাদের শিশুদের উদ্ধার করতে উদ্যোগী হতে হবে। মনে রাখতে হবে – এই প্রজন্মের শিশুরাই আমাদের নিরাপত্তা, আমাদের সোনালী ভবিষ্যৎ।
    ভাগবত পুরাণ - ১/৭ - Kishore Ghosal | আপনি তাঁদের আশ্রয় এবং জীবিকা নিয়ে চিন্তিত হবেন না। কারণ, ভগবান সমস্ত জীবের জীবিকার সংস্থান করেই রেখেছেন। ছোট ছোট মাছ, বড়ো মাছের খাদ্য। তৃণ, শষ্প মৃগাদি ও গবাদির খাদ্য। মৃগাদি অন্যন্য প্রাণীও মানুষের খাদ্য। মহারাজ, এইভাবে সমস্ত জীবই একে অপরের জীবিকার স্বাভাবিক উপায়। যত ভোক্তা জীব আছে, ভগবান সকলেরই আত্মা। আবার যত ভোগ্য আছে, তাদেরও আত্মা একই ভগবান। এই জগতের কোন কিছুই ভগবানের থেকে আলাদা নয়। "ভাগবত পুরাণ" প্রথম স্কন্ধ - পর্ব ৭ ভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/৭ 
    পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদ ও চাড্ডিদের নানা ধানাইপানাই  - এলেবেলে | আজ অর্থাৎ ২০ জুন, আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাকে দু’টুকরো করা হয়েছিল। সৃষ্টি হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিমবঙ্গের। দেশভাগের এই অভিঘাতে সহসা বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন অগণিত মানুষ, সীমান্তের দুই পারে শরণার্থীদের আসা-যাওয়ার বেদনাবিধুর ঘটনাটি আজও পৃথিবীর বৃহত্তম অভিনিষ্ক্রমণ (largest exodus) হিসাবে অভিহিত। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের থেকে চোদ্দ হাত দূরে থাকা রাজনৈতিক দলটি লাখো লাখো নারী-পুরুষের ছিন্নমূল হওয়ার যাবতীয় যন্ত্রণা ও মৃত্যুকে তুচ্ছ করে এই দিনটিকে আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। এত দিন এই নিয়ে নানাবিধ ধানাইপানাই চলছিল, কিন্তু এবারে তারাসানাইটির সুর একেবারে সপ্তকে উঠেছে। এই সুবাদে দেখে নেওয়া যাক পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির পেছনে দল হিসাবে হিন্দু মহাসভা ও নেতা হিসাবে শ্যামাপ্রসাদের ঠিক কী ভূমিকা ছিল।   হুমায়ুন কবীর কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনাটির উল্লেখ করে বলেছেন, ১৯৩৭ সালেই ফজলুল হক তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর জন্য বরাদ্দ ছিল শিক্ষা দফতর। মনে রাখতে হবে, শ্যামাপ্রসাদ তখন কংগ্রেস থেকে আইনসভায় নির্বাচিত এবং তখনও পর্যন্ত সরকারে আসীন হওয়ার ব্যাপারে কংগ্রেস চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। শ্যামাপ্রসাদ যে মন্ত্রীত্ব নিতে গররাজি ছিলেন তেমনটা জানা যায় না, যদিও শেষ পর্যন্ত মুসলিম লিগের মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদের যোগ দেওয়ার ব্যাপারটি ঘটেনি। তবে ঘটলে তিনি হিন্দু মহাসভার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তর আজ আর মেলার সম্ভাবনা নেই। এই ঘটনার মাত্র দু’বছর পরে শ্যামাপ্রসাদ কেন হঠাৎই কংগ্রেস ছেড়ে দিয়ে হিন্দু মহাসভায় যোগ দিলেন, ‘যুক্তবঙ্গের স্মৃতি’ গ্রন্থে তার চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্নদাশঙ্কর রায়। কংগ্রেসের বদলে হিন্দু মহাসভায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে অন্নদাশঙ্কর তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে শ্যামাপ্রসাদ অকপটে স্বীকার করেন, “কংগ্রেসে আগে থেকে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা কি আমাকে এত সহজে এত উচ্চে উঠতে দিতেন?” হিন্দু মহাসভায় গিয়ে তিনি যে সঙ্গে সঙ্গে দলপতি হয়েছিলেন, সে কথা জানানোর পাশাপাশি অন্নদাশঙ্কর আরও লেখেন যে, কেবল সহজে নেতা হওয়ার জন্যই শ্যামাপ্রসাদের রাতারাতি দলবদল নয়। তিনি জানতেন “জেলে না গেলে, কেউ কংগ্রেস নেতা হয় না।” এই জেলযাত্রা এবং জেলে থেকে পচার বদলে তিনি হিন্দু মহাসভাকেই শ্রেয় বলে মনে করেন। অর্থাৎ হিন্দুদের স্বার্থরক্ষা নয়, তাঁদের জন্য আলাদা বাসস্থানের দাবি তোলাও নয় - শ্যামাপ্রসাদের হিন্দু মহাসভায় যোগদানের এক ও একমাত্র কারণ ছিল ব্যক্তিগত উচ্চাশা পূরণ। আরও একটা মজার কথা বলা যাক। ১৯৪৩ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত পাঞ্জাবের ক্যানেল কলোনির লায়ালপুরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এক সম্মেলনে শ্যামাপ্রসাদ তাঁর ভাষণে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন: “ভারত বিভাজন সাম্প্রদায়িক সমস্যার কোনও সমাধান নয়। আর্থিক ভাবে এটি অবাস্তব। অর্থনীতির দিক থেকে এটি বিপর্যয়কর। আর সামগ্রিক ভাবে ভারতের জন্য এটি সর্বনাশা।” হ্যাঁ, বর্তমানে হিন্দু বাঙালিদের মসিহা হিসাবে হাজির করা শ্যামাপ্রসাদ যে ১৯৪৩ সালেও অখণ্ড ভারতবর্ষের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন, এই ভাষণ তার প্রমাণ। প্রসঙ্গত মনে রাখা দরকার, তাঁর এই বক্তব্যের ৬ বছর আগে সাভারকর দ্বিজাতি তত্ত্বের অবতারণা করেন এবং ৩ বছর আগে পেশ হয় মুসলিম লিগের লাহোর প্রস্তাব। এবারে পাঞ্জাব থেকে বাংলায় আসা যাক। বাংলা যখন ভাগ হচ্ছে, তখন শ্যামাপ্রসাদ ও তাঁর দল হিন্দু মহাসভা কতটা শক্তিশালী? আমরা দেখতে পাই, ১৯৪৫-এর শেষের দিকে কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০, ২১৬ এবং ‘অমিতবিক্রম’ শ্যামাপ্রসাদ পেয়েছিলেন মাত্র ৩৪৬টি ভোট। এমনকি ওই নির্বাচনে শ্যামাপ্রসাদ-সহ হিন্দু মহাসভার প্রতিটি প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। শুধু তা-ই নয়, ১৯৪৬-এর প্রথম দিকে প্রাদেশিক নির্বাচনেও চিত্রটা খুব বেশি আলাদা ছিল না। অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু মহাসভা ২৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, কিন্তু একটি ছাড়া সব ক’টি আসনে তাদের সমস্ত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। সাধারণ নির্বাচনী এলাকায় মহাসভা সাকুল্যে পায় শতকরা ২.৭ ভাগ ভোট। এই হচ্ছে নেতা হিসাবে শ্যামাপ্রসাদ ও দল হিসাবে হিন্দু মহাসভার প্রতি তদানীন্তন বাংলার মানুষের মনোভাব। বস্তুতপক্ষে ১৯৪৬-এর নির্বাচনে বাংলার হিন্দু ভোটাররা যে হিন্দু মহাসভার বদলে কংগ্রেসকে বেছে নিচ্ছেন, এ বিষয়ে আক্ষেপের বিষয়টা শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরির পাতায় পাতায় চোখে পড়ে।এহেন শ্যামাপ্রসাদ বাংলা বিভাজনের জন্য নেহরু-প্যাটেলের দ্বারস্থ হন। ১৯৪৭-এর ১১ মে প্যাটেলকে তিনি লেখেন: “ঘটনার চাপে মিঃ জিন্না যদি [ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা] অবশেষে গ্রহণ করতে বাধ্য হন, তাহলে বাংলা ভাগের প্রশ্ন যেন পরিত্যক্ত না হয়, তা অনুগ্রহ করে দেখবেন। ...পাকিস্তান হোক আর না হোক, আমরা বর্তমান বাংলার সীমানার মধ্যে দুটো প্রদেশ গঠিত হোক, এই দাবি করি।” একই মর্মে তিনি নেহরুকেও একটি চিঠি পাঠান। আর এই দুই ঘটনার সামান্য আগে ১৯৪৭ সালের ২ মে, তিনি গোপনে ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে চিঠি লিখে ভারত অখণ্ড থাকলেও বাংলার বিভাজন দাবি করেন। এর উত্তরে প্রথমে নেহরু শ্যামাপ্রসাদকে লেখেন, “[ভারতীয়] ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন সার্বভৌম বাংলার ধারণা ব্যক্তিগতভাবে আমি মোটেই পছন্দ করি না। ...৩১ মে দিল্লিতে কংগ্রেস কাযনির্বাহী কমিটির বৈঠক হবে। ওই সময়ে আপনি দিল্লিতে উপস্থিত থাকলে সুবিধা হবে।” এর তিন দিন পরে অর্থাৎ ১৭ মে, শ্যামাপ্রসাদকে আশ্বস্ত করে প্যাটেল লেখেন: “কার্যকরী ও সুষ্ঠুভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য আপনি আমাদের ওপর নির্ভর করতে পারেন। বাংলার হিন্দুরা যতক্ষণ দৃঢ় থাকবেন এবং যে সাহায্য তাঁরা শুধু আমাদের দিতে পারেন সেই সাহায্য দেবেন, ততক্ষণ তাঁদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নিরাপদ।” কিন্তু মজার কথা এই যে, প্যাটেল ও নেহরুকে শ্যামাপ্রসাদের চিঠি লেখার বহু আগে নেহরু-প্যাটেল জুটির বাংলা বিভাজনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সারা। ১৭ ফেব্রুয়ারি (ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ‘ক্ষমতা হস্তান্তর’-এর ঘোষণা করার তিন দিন আগে এবং লিয়াকত আলির বাজেট পেশ হওয়ার মাত্র ১১ দিন আগে) প্যাটেল ওয়াভেলকে জানান যে, তিনি মুসলমানদের— যদি তাঁরা যোগ দিতে ইচ্ছুক হন— পশ্চিম পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং পূর্ব বাংলা ছেড়ে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন। এহ বাহ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ অ্যাটলির ঘোষণার পরের দিনই নেহরুও প্যাটেলের মতোই ওয়াভেলকে বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাজনের কথা বলেন।  অর্থাৎ বাংলা বিভাজনের জন্য শ্যামাপ্রসাদ যখন নেহরু ও প্যাটেলের দ্বারস্থ হচ্ছেন কিংবা গভর্নর বারোজ বা ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেনকে গোপনে চিঠি পাঠাচ্ছেন, তার অনেক আগে বাংলা ভাগের ব্যাপারে ভাইসরয় ও কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের চূড়ান্ত নীতি গৃহীত হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত, হিন্দু মহাসভা যখন ৪ থেকে ৬ এপ্রিল তারকেশ্বরে দ্বিখণ্ডিত বঙ্গের জন্য সভা করছে, তার প্রায় দেড় মাস আগে প্যাটেল ও নেহরু বাংলার ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেছেন, এমনকি ওই সভার এক মাস আগে এ ব্যাপারে ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। কাজেই লিয়াকত আলির বাজেট যেমন দেশভাগের সম্ভাব্য কারণ হিসাবে পরিগণিত হতে পারে না, ঠিক তেমনই শ্যামাপ্রসাদের চিঠিচাপাটি কিংবা সভা-সমিতি বাংলা বিভাজনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে বিবেচিত হতে পারে না। এবারে নির্দিষ্ট ভাবে ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের দিনটিতে আসা যাক। ওই বছরের ১০ জুন ভাইসরয় ঘোষণা করেন যে, দেশভাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যে ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভার অধিবেশন বসবে এবং এই অধিবেশনে মুসলিম ও অ-মুসলিম সদস্যরা পৃথক দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে ভোট দেবেন। সেই মোতাবেক ১২৬ জন সদস্য পাকিস্তানের নতুন গণপরিষদে যোগদানের পক্ষে এবং ৯০ জন সদস্য বিদ্যমান গণপরিষদে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দেন। পরবর্তীতে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোর সদস্যরা ৫৮ বনাম ২১ ভোটে দেশভাগের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের দাবি ওঠে এবং প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে একটি নতুন হিন্দু মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এই গোটা কার্যক্রমে হিন্দু মহাসভার সবেধন নীলমণি ভোটারটি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। একটা মাত্র ভোট সম্বল করে পাকিস্তানের কবল থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে আনা ‘চাড্ডি’খানি ব্যাপার নয়! এখানেই শেষ হলে বাঁচা যেত। কিন্তু পিকচার আভি বাকি হ্যায়। ব্রিটিশ সরকারের তরফে ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভাজন সম্পর্কিত যে বিবৃতি প্রকাশ করেন, তার সংযোজনী অংশে ১৯৪১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে এই দুটি প্রদেশের কোন জেলাগুলিকে মুসলিম-গরিষ্ঠ এলাকা হিসাবে গণ্য করা হবে, তার একটি তালিকা পেশ করা হয়। ৯ জুলাই সীমানা কমিশনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই সরকার কমিশনের প্রাথমিক কাজ চালানোর সুবিধার জন্য মুসলিম অধ্যুষিত ১৬টি জেলার তালিকা উল্লেখ করে ‘provisional boundary’ বা সাময়িক সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। ওই সরকারি তালিকায় ১৬টি জেলা ছিল চট্টগ্রাম ডিভিশনের চট্টগ্রাম, নোয়াখালি ও ত্রিপুরা; ঢাকা ডিভিশনের বাখরগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ; প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের যশোহর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া এবং রাজশাহী ডিভিশনের বগুড়া, দিনাজপুর, মালদহ, পাবনা, রাজশাহি ও রংপুর। এখানেও যে পরে নবগঠিত দুই দেশের মধ্য নদীয়া, যশোহর, দিনাজপুর, মালদহ ও জলপাইগুড়ি জেলা ভাগ হয়; সেখানে শ্যামাপ্রসাদের বিন্দুমাত্র ভূমিকা ছিল না। আর পরবর্তীকালে সংযোজিত কুচবিহার কিংবা পুরুলিয়ার উল্লেখ না করলেও চলে।  আদতে সেই সময়ে শ্যামাপ্রসাদ কিংবা তাঁর হিন্দু মহাসভার অন্তহীন ব্রিটিশ চাটুকারিতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিকে বাংলার মানুষ ভালো চোখে দেখেননি। হিন্দু মহাসভা স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ে সারা বাংলায় কতটা শক্তিশালী ছিল, তার উল্লেখ আগেই করা হয়েছে। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও সেই মনোভাবে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি, আর আসেনি বলেই ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনসংঘ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মাত্র ৪ শতাংশেরও কম আসনে জয়লাভ করে।এই শ্যামাপ্রসাদই এখন বাঙালির নতুন আইকন আর হুতোমের ভাষায় পশ্চিমবঙ্গ দিবস 'এই এক নতুন'!
  • জনতার খেরোর খাতা...
    মহাপরিনির্বাণ - পাগলা গণেশ | সূর্য অস্ত যাওয়ার ঠিক পরে,উন্নতশীষ বটগাছখানা ধ্বসে পড়ল হঠাৎ। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল,চারিদিক প্রকাশিত,অবকাশ ছিল অনেক,তার ঝরে পড়া,ধরা পড়ে যেত ফাঁকি,অবহেলা সওয়া। কিছুই ছিল না অবশেষ,ভেতরের গুঁড়িখানা জর্জর,জীর্ণ বহুকাল,শুধু বাইরের বাকলের আবরণ ছিল টিকে।তাতে ঝুরিগুলো আবছায়া নিয়ে,একটু একটু করে অনেকখানি আড়াল করেছিল কবে থেকে।স্নায়ু বিকল হল আজ দুপুরে - তারপর আর কিচ্ছু ছিল না বাঁচানোর,লজ্জা ছাড়া,আর একটু আশা -না এর পরেও ঠিক হয়ে যাবে।হল না।মরে যেতে হল।কাউকে দেখানোর নেই,চিৎকার,সমবেদনা,সহানুভূতি সব অসার।মুক্তি চাই শুধু,নিঃসঙ্গ,নিঃশব্দ মুক্তি।এরা দিতে পারবে না কেউ। তাই রাতের অপেক্ষা করা।
    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেটের সমালোচনামূলক আলোচনা  - বই পুরুষ | পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য বাজেটের প্রগতিশীল দিকগুলো নিয়ে অনেকে আলোচনা করছেন। তাই আমিও ভাবলাম একটু আলোচনায় আসা যাক। বিধানসভা ভোটের আগেই আমি আশঙ্কা করেছিলাম। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসলে জমি নীতিকে শিথিল করা হবে। বাজেট দেখে যা মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে সে রকমই কিছু হতে চলেছে। এবার অনেকে মনে করতেই পারে যে, ভালোই তো হয়েছে। রাজ্যে শিল্প আসবে। অসুবিধা কী? শিল্প এলে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কথা হল কোন দ্রব্য বা সেবা নির্ভর শিল্প আসবে? শিল্পের প্রকৃতি কী? একটু সোজা ভাবে বোঝা যাক।শিল্প কী? ব্যবসা বা ট্রেডিং করার জন্য, দ্রব্য উৎপাদনের স্বার্থে, উৎপাদন ব্যবস্থার নামই হল শিল্প। ব্যবসা কী? মানুষ তার নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্য বা সেবা সামগ্রী তার চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর স্বার্থে ক্রয় করে থাকে। কেউ যদি কোনো কিছু ক্রয় করে। তাহলে কেউ না কেউ তো সেই পণ্যটা বিক্রি করবে। আর যদি কেউ বিক্রি করে, তাহলে কেউ না কেউ সেটা উৎপাদন করবে। উৎপাদন থেকে শুরু করে ফাইনাল কনজিউমার, পুরো প্রক্রিয়াটাই হল ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া। উৎপাদক থেকে শুরু করে ক্রেতা। প্রতিটি ব্যক্তিই এই প্রক্রিয়ার অংশীদার। যদি সর্বশেষ ক্রেতা বা উপভোক্তা (কনজিউমার) না থাকে, তাহলে যত বড় কোম্পানিই হোক না কেন কেউ উৎপাদন করবে না। সুতরাং সব উৎপাদনের পিছনেই একটি চাহিদা কাজ করে।এবার বুঝতে হবে এই ব্যবসাটা বা এই বিশেষ পণ্য ও শিল্প প্রক্রিয়াটা কি আগে থেকে উপস্থিত ছিল? যেমন দই শিল্প। দই শিল্প বাংলায় আগে থেকেই ছিল। মিষ্টির দোকানদার ও ময়রারা দই বানাতো। সুতরাং বড় পুঁজি এই শিল্পে ঢুকলে, এই দ্রব্যটির জন্য কি কোনো নতুন বাজার তৈরি হবে? এক দমই না। কারন দইয়ের বাজার বা চাহিদা অনেক আগে থেকেই আছে। বাস্তব উদাহরন দিয়ে বুঝুন। যে ব্যক্তি সপ্তাহে এক কেজি করে দই খায়, আমূল দই বানানোর পর থেকে সে দুই কেজি করে দই খেতে আরম্ভ করবে না। কারন দই কেনার জন্য ঐ ব্যক্তির বাজেট সীমিত। এবং ঐ ব্যক্তির ভোগ করার ক্ষমতাও সীমাবদ্ধ। বরং ঐ ব্যক্তি স্থানীয় মিষ্টির দোকান থেকে দই কেনা বন্ধ করে আমূল থেকে দই কিনতে আরম্ভ করবে। ফলে কী হল? ছোট ময়রা বা মিষ্টির দোকানের ব্যবসাটা বন্ধ হয়ে গেল। তাহলে কোনো নতুন ব্যবসা তৈরি হল কী? যা দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। একে বারেই নয়। ব্যবসার হস্তান্তর হল।তাহলে বড় পুঁজি কি কোনো ব্যবসা করবে না? অবশ্যই করবে। যে কাজগুলো ছোট পুঁজি করতে পারে না, সেগুলো করবে। যেমন গাড়ি শিল্প, আই টি,টেক, ফিনান্স, ইত্যাদি। কিন্তু ঐ সব উচ্চমানের উৎপাদনের বদলে নিম্নমানের উৎপাদনে বড় পুঁজির আগমন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য ভালো নয়। এর ফলে অনেক মানুষের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। আর দই কারখানায় কাজ করে কত বেতন পাওয়া যায় বলে মনে হয়? কিন্তু পুঁজিমালিকদের লাভ আছে। কৃষি ভিত্তিক সব কটি পণ্যই অত্যাবশ্যক পণ্য। যেমন কেউ একটু খারাপ পোষাক পরে থাকতে পারবে। কিন্তু কেউ না খেয়ে বা কম খেয়ে থাকতে পারবে না। বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে পারবে না। সেজন্য এগুলো হল অত্যাবশ্যক পণ্য। বড় বেসরকারি পুঁজি যদি এই অত্যাবশ্যক পণ্য ব্যবসায় প্রবেশ করে, তাহলে তারা তাদের ইচ্ছা মতন বাজারকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। মনে করুন অনেক ছোট চাল ব্যবসায়ী আছে। একজন চাল ব্যবসায়ী যদি আপনাকে খারাপ চাল দেয় বা বেশি দাম নেয়। তাহলে আপনি ঐ দোকান থেকে চাল কিনবেন না। অন্য দোকানে চলে যাবেন। কিন্তু দুজন বড় ব্যবসায়ী যদি একটি এলাকার সব চাল কিনে নেয়। এবং দুজনেই যদি একই দামে একই মানের চাল বিক্রি করে, তাহলে আপনি ঐ দামে ঐ মানের চাল কিনতে বাধ্য হবেন। এইভাবে বাজারকে নিয়ন্ত্রন করে বড় পুঁজিপতিরা অত্যাবশ্যক পণ্য থেকে মুনাফা আদায় করে। এছাড়া এর অন্য একটি দিক রয়েছে। যেমন আই টি একটি উচ্চমানের আধুনিক পণ্য। একটা আই টি কোম্পানি বানাতে কতটা জমি লাগে? আর একটা কোল্ড স্টোরেজ বা গোডাউন বানাতে কতটা জমি লাগে? দেখা যাবে কোল্ড স্টোরেজ বানাতে অনেক বেশি জমি লাগে। একই ভাবে ডেটা সেন্টার বানাতেও অনেক জমি লাগে। এবার যে ব্যক্তি কোল্ড স্টোরেজে বিনিয়োগ করবে, সে তো ঐ জমিটাতেও বিনিয়োগ করবে। জমি নীতি শিথিল হলে সাধারন মানুষ জমির সঠিক দাম পাবে কি? না সস্তায় পুঁজিপতিদের জমি পাইয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশজুড়ে অর্থ-ব্যবস্থা ধসে পড়েছে, সেই অবস্থায় এই ধরনের ব্যবসা করে পুঁজি মালিকরা তাদের সম্পত্তির মূল্যকে ধরে রাখে। এর ফলে সাধারন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয় ও পুঁজিপতিরা লাভবান হয়। এই ধরনের ব্যবস্থা কোনো পুঁজিবাদী ব্যবস্থা না। এটা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা। মনে করে দেখুন ব্রিটিশ আমলে জমিদারি ব্যবস্থাও কিছুটা এই ধরনেরই ছিল। এখন ঐ জমিদারদের চেয়েও অনেক বড় পুঁজির আগমন হয়েছে।এই বিষয়বস্তু বা ধারনার উপর ভিত্তি করে বাকি বিষয়গুলি নিচে আলোচনা করা হল।১. কুটির শিল্প ভিত্তিক পণ্যের হাব: অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের মত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম যখন এসেছিলো তখন অনেকে বলেছিলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। সেটা কি হয়েছে? সেটা আদৌ কি হওয়া সম্ভব? যে ব্যক্তি কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা করে সে ক্রেতাকে বেশি ডিসকাউন্ট দিতে পারবে? না যে ব্যক্তি ছোট খাটো কোনো ব্যবসা করে সে বেশি ডিসকাউন্ট দিতে পারবে? অবশ্যই যে ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে সে বেশি ডিসকাউন্ট দিতে পারবে। কারন বেশি মাল কেনার জন্য সে নিজে বেশি ডিসকাউন্ট পায়। অথবা যে ব্যক্তি দ্রব্যটি তৈরি করবে সে নিজেই এই সব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রি করবে। তাহলে ক্রেতা আরও কম দামে জিনিস কিনতে পারবে। ফলে মাঝখানকার সব ধরনের ব্যবসায়ীদের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে। এর ফলে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠবে। এছাড়া বিদেশে এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এক্সপোর্ট করার মত সামর্থ আছে কি? না থাকলে সরকার কি তাদের সাহায্য করবে? না সেখানেও বড় পুঁজির হাত ধরতেই হবে। যে ব্যক্তির নিজের জাহাজ বা বিমান কেনা আছে। সে এক্সপোর্টে বেশি লাভবান হবে? না যে ব্যক্তির জিএসটি নম্বরটাও নেই সে বেশি লাভবান হবে? সুতরাং এখানেও শোষন এবং কুটির শিল্পেও বড় পুঁজির আগমন পরিলক্ষিত হচ্ছে।২. এম এস এম ই: ভোটের আগে শিল্পের যে ডাঙ্কা বাজানো হয়েছিল, সেটা পূরণ করতে পারবে না বলেই এমএসএমই র কথা বলা হচ্ছে। পোঁড়া মাটি, দই শিল্প এগুলোর জন্য জনতা ভোট দেয়নি। বরং এর একটা খারাপ প্রভাব আছে। যদি বড় পুঁজি দই, মিষ্টি, পোঁড়ামাটি বানাতে থাকে, তাহলে সাধারন মিষ্টির দোকানদার, ময়রা, ও শিল্পীদের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে। অনেকের ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যাবে। আর দই কারখানায়, পোড়ামাটি কারখানায় কাজ করে কত বেতন পাওয়া যেতে পারে বলে মনে হয়? এভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে? বড় পুঁজি যদি ছোট খাটো প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে শুরু করে। তাহলে সেটা কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য ভয়ঙ্কর। এটা ক্যাপিটালিজম নয়। এটাকে বলা হয় ফিউডালিজম। মানুষ ক্যাপিটালিজম চায়। ফিউডালিজম চায় না।৩. মূল অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান না করে অর্থের খয়রাতি: বর্তমানে পুরো দেশের মূল সমস্যাটা হল রিয়েল ইনকাম বা প্রকৃত আয় সংক্রান্ত। বাজারে মূল্যবৃদ্ধি যে হারে হয়েছে, সে হারে আয় বাড়েনি। সমস্যাটা সাপ্লাই সংক্রান্ত নয় সমস্যাটা ডিমান্ড সংক্রান্ত। যে সরকারি কর্মচারী পঞ্চাশ হাজার টাকা বেতন পায়, তার বেতন পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার হলে, সে অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা খরচ করে অতিরিক্ত দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করবে না। ফলে বিক্রয় বৃদ্ধি না পেলে, শিল্প ও বিনিয়োগ হবে কোথা থেকে? আর সে যদি ব্যাঙ্কে টাকা জমায়। তাহলে ব্যাঙ্ককেও তো কোথাও না কোথাও বিনিয়োগ করে সেই টাকার উপর সুদটা দিতে হবে এবং ব্যাঙ্কের নিজের খরচ চালাতে হবে। সুতরাং ব্যাঙ্কের কাছে সেটা অ্যাসেট নয় লায়াবিলিটি। এবং বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং যে কর্মচারীর বেতন পঞ্চাশ হাজার আছে, হয় তার বেতন বাড়িয়ে এক লক্ষ টাকা করতে হবে। যাতে সে বিলাসবহুল পণ্য কিনতে পারে। নতুবা যে সব হত দরিদ্র মানুষের হাতে টাকা দিলে যারা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করবে, তাদের হাতে টাকা দিতে হবে। তবে সরকারি অনুদানে বিশেষ কোনো লাভ হয় না। তার থেকে রিয়েল ইনকাম বাড়ানো ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রনের উপর নজর দেওয়া উচিৎ।৪. ব্যবসায় লিগাল বা আইনি কাজগুলোর কেন্দ্রীকরণ: বড় পুঁজির সব লিগাল কাজগুলো যদি এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়। তাহলে কালোবাজারির আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। কাজগুলো অনেক জায়গায় ছড়ানো থাকলে রি-ভেরিফিকেশন বা পুনর্মূল্যায়নের জন্য সুবিধাজনক। এছাড়া যেসব সিএ, উকিল, অ্যাকাউন্ট্যান্টরা আছেন তাদের উপরও এর খারাপ প্রভাব পড়বে বা তাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।সবশেষে এটাই বলার যে আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল নিয়ন্তা কেন্দ্র সরকার। তাই কেন্দ্রীয় স্তরে ম্যাক্রোইকোনমিক লেভেলে যতক্ষণ না পর্যন্ত নীতিগত সংস্কার করা হচ্ছে। দেশের অর্থব্যবস্থা যে তিমিরে আছে সেই তিমিরেই থেকে যাবে।
    আবহপাত  - শ্রীমল্লার | খোলামেলা পাখি তুমি। বন্ধ জানলা। আমাকে ভাবিয়ে তুমি, কিনে আনলা। খোলামেলা মনে আজ, ডেকে আনলা। তোমাকে শনাক্ত করি, ঘাসে আর ফুলে। জীবন বন্ধ। তবু, মেঘ নামে স্কুলে।খোলামেলা মন তুমি। রূপমুগ্ধ চুলে... আমাকে শনাক্ত ক’রে, গিয়েছ না-ব’লে—আমার তফাত নেই জলে আর স্থলে।
  • ভাট...
    commentsyandi | মানলিকে অসংখ্য ধন্যবাদ বইটা নিয়ে মতামত দেওয়ার জন্য। তবে প্রণামটা গ্রহণ করছি না, কারণ প্রণাম নেওয়ার মত মহাত্মা হতে পারি নি বা ভবিষ্যতেও হয়ে ওঠার চান্স নেই।
    commentManali Moulik | আমি কাটিতং। এখেনে আমি কীটস‍্য কীট
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত