এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই

  • তাজা বুলবুলভাজা...
    আরশোলার ধর্নায় একদিন - শুভদীপ মণ্ডল | অলংকরণ: রমিত‘কোথা থেকে আসছেন?’ ‘নাম কী?’ ‘কী করা হয়?’হাসিমুখে, আলাপ জমানোর ভঙ্গিতেই একের পর এক প্রশ্নগুলো আসতে থাকলো, অবশ্যই হিন্দিতে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জানালেন, এত লোকজনের জমায়েত হচ্ছে, নিরাপত্তার দায়িত্ব তো ওনাদের উপরেই – তাই একটু বাড়তি সতর্কতা। স্থান – দিল্লির যন্তরমন্তর-সংলগ্ন ককরোচ জনতা পার্টির ধর্না ও অনশন মঞ্চ, আর উপরোক্ত প্রশ্নকর্তা খাকি উর্দিধারী দিল্লি পুলিশ। ধর্নার জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ডাইনে-বামে দেওয়াল আর সামনে-পিছনে পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা। পিঠের ব্যাগ স্ক্যান করিয়ে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্যে দিয়ে হেঁটে তারপর ভিতরে ঢোকা গেল। শুধু পুলিশ নয়, সঙ্গে প্যারা-মিলিটারি ফোর্স আর র‍্যাফ মিলিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ‘পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ’ পুরো চত্বর [১]। শুধু পাহারা দেওয়া নয়, দিল্লি পুলিশ-নিযুক্ত ফোটোগ্রাফাররা ক্যামেরা হাতে টহল দিচ্ছেন চারিদিকে। ছোটোখাটো সমস্ত ঘটনা, জটলা, কলেজপড়ুয়াদের আলাপচারিতা, গান-বাজনা এবং প্রতিবাদীদের সমর্থনে হাজির হওয়া প্রতিটি মানুষ দিল্লি পুলিশের ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন। বিশেষ করে, যে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবাদকারীদের জন্য জল, খাবার, ওষুধ এসব নিয়ে আসছেন – তাঁদের রীতিমতো মুখের সামনে ক্যামেরা ধরে জেরা করা হচ্ছে। এ-ও জানা গেল, কিছু স্বেচ্ছাসেবীর বাড়িতেও হানা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে তাদের টাকার সোর্স জানতে। দুঃখের ব্যাপার এই, যে, এখনো অবধি জর্জ সোরোস, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ – কোনো লিঙ্কই খুঁজে পাওয়া যায়নি। জেরায় জানা গেছে, কিছু লোকজন নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করেই প্রতিবাদকারীদের টিকে থাকার রসদ জুগিয়ে যাচ্ছেন। এসব গালগল্প অবশ্য দিল্লি পুলিশ কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছে না। তদন্ত এবং নজরদারি চালু আছে চব্বিশ ঘণ্টা। আশা করা যায়, বলিউডের দেশপ্রেমী ডাইরেক্টররা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁদের হাত ধরে সত্য নিশ্চয়ই একদিন উন্মোচন হবে এবং সেদিন কোনো মাল্টিপ্লেক্সের বড় পর্দায় পপকর্ন খেতে খেতে দেশের জনসাধারণ জানবে – কীভাবে এইসব দেশদ্রোহী বেকার ছেলেমেয়েদের দল দেশের ভিতর থেকে দেশকে টুকরো টুকরো করার ষড়যন্ত্র করেছিল আর কীভাবে দিল্লি পুলিশের ধুরন্ধররা নিজেদের মগজাস্ত্র প্রয়োগ করে সেই রহস্য ভেদ করেছিলেন। [৭ - ৮] সে যাই হোক, আগামীর আচ্ছে দিনের স্বপ্ন সাইডে সরিয়ে রেখে আপাতত ডিসেম্বর মাসের রেকর্ড-ব্রেকিং AQI আর জুন-জুলাইয়ের হিটওয়েভের দিল্লিতে ফেরা যাক। জনপথ মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে মোটামুটি পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ। তাতেই ধর্না মঞ্চ অবধি পৌঁছানোর আগেই পুরো টি-শার্ট ঘামে জবজবে। এই আবহাওয়ায় ককরোচদের অবস্থানের সেদিন দশম দিন। পৌঁছে জানলাম – শুধু সোনম ওয়াংচুক নন, অনশনে আছেন দিল্লি, জওহরলাল নেহরু এবং এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত কিছু ছাত্রছাত্রী-সহ জনা পনেরো [৭]। প্রাথমিক দাবি – NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আরও বৃহত্তরভাবে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা। সমবেত মানুষজনের কথায় আরও অনেক বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটলেও, মূল দাবী ওইটুকুই। এঁদের মধ্যে কয়েকজন সোনম ওয়াংচুক আসার আগে থেকেই অনশনে রত এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার বেশ খানিকটা অবনতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। এর কোনো খবরই বাইরে বিশেষ বের হয়নি, তার কারণ – সামগ্রিকভাবে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনকে বয়কট করেছে। অবশ্য ধর্না চত্বরে ক্যামেরার অভাব নেই। কিছু ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া হাউস ছাড়াও অনেকেই নিজেদের ইউটিউব বা ইন্সটাগ্রাম ভিডিও বানাচ্ছেন এবং শেয়ার করছেন। বড়সড় ইনফ্লুয়েন্সাররা অবশ্য অনুপস্থিত। সে নিয়েও ক্ষোভ আছে বোঝা গেল। রাস্তার ধারে অস্থায়ী টেবিল পেতে জল আর খাবার-দাবারের জোগান দিচ্ছেন উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা থেকে আগত বিভিন্ন ধর্ম আর ভাষার মানুষজন [১০]। তার পাশেই চোখে পড়ল মেডিসিন কাউন্টার। জনৈক ডাক্তার নিজেই এসেছেন First-Aid Kit, ORS, Paracetamol-সহ বিভিন্ন ওষুধের পসার নিয়ে [৯]। এক বাম ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে খোলা হয়েছে অস্থায়ী লাইব্রেরি। অবস্থানরত মানুষজন বই নিচ্ছেন, পড়ছেন, আবার ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন। এই লেখা যেদিন লিখছি, তার ৩-৪ দিন আগে হঠাৎ সেই লাইব্রেরি বন্ধ করতে উদ্যোগী হয় দিল্লি পুলিশ। এ নিয়ে ধস্তাধস্তি হয় এবং ছাত্রদের তরফ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে গালাগালি ও ধমকধামক করার অভিযোগ আসে [১১]। স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, লাইব্রেরি নিয়ে তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অবশ্য অভিযোগ ঠিক কী আর কারা সেই অভিযোগ করেছেন – সে প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যায়নি। [৯ - ১১] সরাসরি বলপ্রয়োগ না করে, নিজেদের বিপুল সংখ্যায় উপস্থিতি, ক্যামেরার নজরদারি আর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আন্দোলোনকে কক্ষচ্যুত করার চেষ্টা চলছে প্রশাসনের তরফে। মাঝে মাঝে লাউডস্পিকারে ঘোষণা করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে – এই ধর্নার সময়সীমা প্রথমদিন বেলা পাঁচটাতেই শেষ হয়ে গেছে, তাই সবাই যেন স্ব-স্ব-গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। এছাড়াও গত রবিবার (৫ই জুন) একসঙ্গে আরও পাঁচটি সংগঠনকে ওই একই জায়গায় অন্যান্য ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়, খুব সম্ভবত একটা গোলমাল পাকানোর উদ্দেশ্য নিয়ে, যাতে একটা অজুহাত খাড়া করে অবশেষে ককরোচদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা যায়। আমার ব্যক্তিগত ধারণা – সোনম ওয়াংচুক এসে পড়ায় পরিস্থিতি একটু জটিল হয়ে গেছে, নাহলে এত ছলাকলার আশ্রয় না নিয়ে, সরাসরি বলপ্রয়োগ করে এই আন্দোলন হয়তো আরও আগেই থামিয়ে দেওয়া হত। প্রশাসন মোটের উপর নিষ্ক্রিয় থাকলেও উনিজির ভক্তকূল কিন্ত বসে নেই। প্রথমদিন থেকেই টুকটাক চেষ্টা চলছে উপস্থিত আন্দোলোনকারীদের উত্যক্ত করে গোলমাল সৃষ্টি করার – সে ‘সাংবাদিক’ বা ‘আমজনতার প্রতিনিধি’ সেজে ট্যাঁড়া-ব্যাঁকা প্রশ্ন করেই হোক, বা ‘আন্দোলোনকারী’ সেজে ক্যামেরার সামনে সাজানো ইন্টারভিউ দেওয়ার নাম করে উত্তেজক কথাবার্তা বলে। সরাসরি গুন্ডামির ঘটনাও একটা দুটো ঘটেনি এমন নয়, তবে সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনাই। অভিজিৎ দিপকে বারবার আন্দোলোনকারীদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন – শত প্ররোচনাতেও এদের ফাঁদে পা না দিতে এবং এখনও অবধি তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। সমাজমাধ্যমে বিজেপির আইটি সেল আন্দোলনকে বদনাম করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে – সোনম ওয়াংচুক বোতল থেকে জল নয়, চিকেন স্যুপ পান করছেন [৮], আবার কখনও বলা হচ্ছে অনশনকারী ছাত্রছাত্রীরা নাকি টয়লেটে গিয়ে চেটেপুটে খাবার-দাবার খেয়ে আসছেন। কয়েকজনকে ক্যামেরা হাতে টয়লেটের আশেপাশে ঘুরঘুর করতেও দেখা গেছে। ধন্য তাদের অধ্যবসায়। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলোনকারীদের ‘ভাইরাস’ এবং ‘আতঙ্কবাদীদের বি-টিম’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও উপাধি হিসাবে ‘দেশবিরোধী’, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ – এসব উপরি পাওনা তো আছেই। অবশ্য ভক্তকূল ছাড়া এসব বস্তাপচা হেটস্পিচ আর কেউ গিলছে বলে মনে হয় না। বরং সংহতির দৃশ্য চোখে পড়েছে অনেক বেশি। কৃষক নেতারা এসেছেন, মঞ্চের উপর উঠে সমর্থন জানিয়ে গেছেন। প্রবীণ স্বাধীনতাসংগ্রামী পণ্ডিত রামকিষণ এসেছেন। বয়স ১০১ বছর, ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকে শুরু করে আজীবন আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন। জেল খেটেছেন স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তীকালে, এমারজেন্সির সময়। এই বয়সেও প্রতিবাদ-মঞ্চে এসে অনেকটা সময় কাটালেন। বক্তব্য রাখলেন, ধৈর্য্য ধরে আন্দোলোনকারীদের কথা শুনলেন, উৎসাহ দিলেন, উপস্থিত জনতার প্রশ্নের উত্তরও দিলেন। প্রশান্ত ভুষণ, যোগেন্দ্র যাদব, সঞ্জয় সিং, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, বৃন্দা কারাত – প্রমুখেরাও হাজিরা দিয়েছেন/দিচ্ছেন একে একে। এসেছেন অরুন্ধতী রয় ও আরও অন্যান্য সমাজকর্মীরা। সাধারণ মানুষজন আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে [৩]। তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অন্যায় এবং তার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে কীভাবে প্রশাসনিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন – সেইসব ঘটনা তুলে ধরছেন। তাঁদের কথায় উঠে আসছে কিছু কমন ফ্যাক্টর – বিজেপি-শাসিত রাজ্য, বিবিধ দুর্নীতি, আতঙ্কের পরিবেশ, আর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা ক্ষেত্রবিশেষে অতি সক্রিয়তা। ক্ষমতাবানের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে ক্লান্ত হলেও, হাল ছাড়েননি তাঁরা। দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন এই ধর্না মঞ্চে, আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাতে। এগিয়ে আসছেন – NEET-কেলেঙ্কারি যেসব ছাত্রছাত্রীদের ঠেলে দিয়েছে আত্মহত্যার পথে, তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনেরা [১২]। যেটুকু সময় থাকছেন, স্বেচ্ছাসেবীরা আগলে রাখছেন এঁদের সবাইকে। কাঠফাটা রোদ, ধুলোর ঝড়, মুষলধারায় বৃষ্টি – সবকিছুই সহ্য করতে হয়েছে, হচ্ছে। অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের অস্থায়ী ছাউনি কোনোভাবেই পর্যাপ্ত ছিল না। বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেছে তাদের সবকিছু। তেরপল নিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। তার জন্যও নাকি অনুমতি আসতে হবে ‘উপর’ থেকে [২, ১৪]। প্রধান মঞ্চের উপর অভিজিৎ ও আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীদের দেখা গেল – একটা বড়সড় ব্যানার মাথার উপর ধরে সোনম ওয়াংচুককে প্রবল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে। ম্যাগসেসে পুরষ্কারজয়ী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী... তাঁর মতো মানুষ যে কোনো দেশের সম্পদ। ভাবছিলাম, আমার দেশের সংখ্যাগুরু নাগরিকের সেই বোধটুকুও কী আছে? প্রশ্ন এখানে দায়বদ্ধতার। পদ যত উঁচু, সেই পদের দায়বদ্ধতাও তত বেশি। কারণ সেইসব পদাধিকারীর একটা ভুল অগুনতি মানুষের জীবন ছারখার করে দিতে পারে—যা এক্ষেত্রে হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর অযোগ্যতা, অক্ষমতা – যাই বলুন না কেন, তা ২০-২২টা ছেলেমেয়েকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। অগুনতি ছেলেমেয়েকে হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে। আর এটা তো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, গত কয়েকবছরে এতগুলো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে – এ যেন গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে আমাদের। চলতি বছরেই অভিযোগ এসেছে UPSC এবং NET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়েও। Hanlon’s razor বলে, “Never attribute to malice that which is adequately explained by stupidity”, আবার Grey’s law অনুযায়ী, “Any sufficiently advanced incompetence is indistinguishable from malice”. যা ঘটে গেছে, তা স্রেফ অযোগ্যতার নিদর্শন, বা ইচ্ছাকৃত অনিষ্টসাধনের চেষ্টা... যে সিদ্ধান্তেই আপনি উপনীত হন না কেন, ক্ষমা-ঘেন্না করে দেওয়ার সময় অতিক্রান্ত। আর এই বিপুল ক্ষতির সামনে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াকে ‘এমন কিছু বড় ঘটনা নয়’ প্রমাণ করতে বাজারে নেমেছেন। আশা করি তাঁদের বিবেক, মনুষ্যত্ব একদিন জাগবে। বছর বছর স্কুলে ছেলেমেয়েদের ঘাড় ধরে বসিয়ে যে প্রধানমন্ত্রীর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র বাণী গিলতে বাধ্য করা হয়, পরীক্ষা নিয়ে এত বড় একটা কেলেংকারির পরও তা নিয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। অথচ দ্বিতীয়বার NEET পরীক্ষা সফল’ভাবে পরিচালনা করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে দেরি হয়নি একটুও। সাফল্যের কৃতিত্বের ভাগ নিতে সদা তৎপর। আর ব্যর্থতা এলে দেশবাসীর জন্য বরাদ্দ হিরন্ময় নীরবতা। [৫, ৬] আশার কথা, কিছু দক্ষিণপন্থী সমর্থকও অবশেষে জেগে উঠছেন এবং অন্তত এই একটি বিষয়ে সরকারকে সমর্থন করছেন না [৪, ১৩]। যন্তর-মন্তরে লোকজনের ভিড় বাড়ছে, কমছে। এক একদিন তিল ধারণের জায়গা থাকছে না, আবার কোনওদিন মেরেকেটে ৫০-১০০ জন। তাতে অবশ্য ককরোচদের উৎসাহে ভাটা নেই। রোদ, বৃষ্টি, ধুলোর ঝড় উপেক্ষা করে ওরা রোজ স্লোগান দেয়, গান গায়, একে অন্যের মনোবল বাড়ায়, ক্লান্ত হয়ে রাস্তার ধারেই একটু ঘুমিয়ে নেয়, আবার নতুন উদ্যমে দিন শুরু করে। আমিও যাচ্ছি মাঝেসাঝে। স্লোগান দিতে বা অনশন করতে নয়, স্রেফ হাজিরা দিতে। গত বেশ কয়েকবছর ধরে দিল্লি থেকে সামান্য দূরে থাকি চাকরির সূত্রে। যাদের মাঝে ওঠাবসা, তাদের অনেকের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে অদ্ভুত উদাসীনতা বা নারকীয় উল্লাস দেখে প্রায়শই নিরাশায় ভুগি। এই কমবয়সী ছেলেমেয়েগুলোর দৃপ্ত চেহারা, মুষ্টিবদ্ধ হাত, প্রাণখোলা হাসি আর লড়াকু স্লোগানে আমার মনের অন্ধকার যেন একটু ফিকে হয়ে আসে। দিল্লির অসহ্য গরমও আর অতটা টের পাই না। দেখি – এদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মাঝবয়সীরাও আসছেন। অফিস-ফেরতা, পিঠে বা হাতে ব্যাগ আর চেহারায় একরাশ ক্লান্তি নিয়ে। এঁরা সেই শ্রেণীর মানুষ, যাঁদের অনেককিছু হারানোর ভয় – স্থায়ী চাকরি, তিলে তিলে গড়ে তোলা সংসার, মাসিক কিস্তিতে কেনা গাড়ি, ফ্ল্যাটবাড়ি... যাঁরা খুব অতিষ্ঠ না হলে সচরাচর নিজেদের সযত্নে লালিত গণ্ডিবদ্ধ জীবনের বাইরে পা রাখেন না। এই আন্দোলন যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, এঁদের মতো আরও অনেকে আসবেন একটু একটু করে ভয় আর জড়তা কাটিয়ে। সেদিন মানুষের ভিড় যন্তর-মন্তর ছাড়িয়ে রাজপথে নেমে আসবে। আশা করবো – সেইদিন খুব দূরে যেন না হয়। সোনম ওয়াংচুক ইতিমধ্যেই প্রায় শয্যাশায়ী, তাঁর ওজন কমেছে ৭ কিলো। রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মান বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গেছে। অনশনরত এক ছাত্র আর এক ছাত্রীকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে [৫, ৬]। সোনম, অভিজিৎ, নেহা, আশুতোষ, জুনেইদ, সৌরভ আর তাদের সঙ্গীসাথীরা যে লড়াইয়ে নেমেছেন – তা আমাদের সবার লড়াই। জয়লাভ হবে কিনা জানা নেই, কিন্তু ময়দানে থাকতে হবে – এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। চরৈবেতি। [১] Youths rally in large numbers; bang plates, spoons to demand accountability at CJP protest - The Hindu[২] 'People falling sick': CJP's Dipke claims Delhi Police denied tarpaulin at protest site despite rain - Hindustan Times[৩] Fresh political support pours in on 15th day of CJP protest; student hospitalised - The Hindu[৪] Spoke to the AISA student activists about their hunger strike being ignored by the government - @PeekTVOfficial[৭] 6 Days Without Food Or Support From Parents - @PeekTVOfficial[৮] ‘Even If I D!e…’: Wangchuk’s Reply To Critics - @PeekTVOfficial[১২] Father Who Lost His Son Due to Paper Leak - @PeekTVOfficial[১৩] 58% NDA Voters Chahte Hain Dharmendra Pradhan Istifa Dein? | C-Voter Survey Mein Bada Khulasa - @official_cockroachjantaparty[১৪] CJP founder Abhijeet Dipke confronts Delhi police for not allowing tarpaulins at protest amid rains - @thenewindianxpress
    মধুবাতা ঋতায়তে - শারদা মণ্ডল | ছবি - Imagen 3এক ঘুমে রাত কাবার। ভোর রাতে ওঠা। ছোট মাতাজী ভার নিয়েছেন সকলকে ঘুম থেকে ডেকে দেবেন। পড়ি কি মরি কি করে রেডি হয়ে বাইরে এসে দেখি - সেই আবছা কুয়াশা ঘেরা মাঠাবুরুর জঙ্গলের মাঝে ফাঁকা জায়গায় সারি বেঁধে প্রার্থনা শুরু করেছে মেয়েরা। আহা সেই ব্রহ্ম মুহূর্তে ওই সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ আর প্রার্থনা সঙ্গীত এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করেছিল। সে যে না দেখেছে, না শুনেছে তার পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়। প্রার্থনার পর মর্নিং ওয়াকে নিয়ে যাবেন ট্রেনার। মেয়েরা চলে গেছে আগে, আমি টুকিটাকি কাজের জন্য পিছিয়ে পড়েছিলাম। ভোররাতে বনের গন্ধ, হাওয়া সব কিছু আলাদা। সারা জীবনে যা ফিল্ড সার্ভে করেছি, গুণলে হয়তো একশো পার হয়ে যাবে। তরাই বা সুন্দরবন, মালভূমি, রাঢ় বা হিমালয়ের বরফে ঢাকা পাইনের সারি - সব জঙ্গলের আলাদা আলাদা ভাষা আছে, ভিন্ন ভিন্ন রং, গন্ধ, রূপ আছে - আর এই সবকিছু দিনের বিভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ঋতুতে বদলে বদলে যায়। সূর্য ওঠার আগে ঊষার নরম আলো, সেই শিশিরে ভেজা বন, পাখির ডাক সব মিলিয়ে এক অপার্থিব তান যেন আমার অবয়ব ভেদ করে চরাচরে ছড়িয়ে পড়ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে মনতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় - প্রাকৃতিক ভূগোলের এক প্রবাদ প্রতিম অধ্যাপক আমাদের বলতেন - প্রকৃতির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই ও দুহাত বাড়িয়ে দেয়, গল্প করে, ছবি দেখায়, ও কী বলছে শোনার মন তৈরি কর। সবার কপালে মনের চোখ আছে - ওটা খুলে তাকানোর চেষ্টা কর। তাঁর কথাগুলি তো কেবল কথা ছিলনা, তা ছিল বেদ - যা আমরা শ্রুতিতে বহন করে চলেছি। হবিট হাউস থেকে লাল মাটির উঁচু নিচু অপরিসর পথ গিয়েছে বেঁকে, চলেছি আমি একলা পথিক স্বপ্ন চোখে এঁকে। বন কিন্তু খুব গভীর নয়, মাঝে মাঝেই কিছুটা করে ঘাস লতাপাতা ঢাকা ফাঁকা জায়গা - মাঠের মত, পাশে কিছু ঝোপঝাড়ও আছে। কিন্তু এমন তো হবার কথা নয়। আমি ঐ ফাঁকা জায়গাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। হুম, ঘাসের মধ্যে পায়ের চাপে তৈরি হওয়া পথের মত মনে হল - একটা নয়, বেশ কিছু পায়ে চলা পথ রয়েছে নানা দিশায়। তবে আর কী - ফাঁকা জায়গাগুলি যে মানুষের নিষ্ঠুর বন কাটার ফল সেটায় কোন সন্দেহ নেই। তবে স্বীকার করছি যে শিশির ভেজা বুনো মাটির সোঁদা গন্ধে তখন আমি এতটাই মশগুল যে বন কাটা হচ্ছে বুঝেও খুব একটা মনোকষ্ট হলনা। আর একটা মজার ব্যাপার হল, যখনই বনের মধ্যে ঢুকছি, ঠাণ্ডা হাওয়ায় দোলা লেগে পাতার খসখস, নবীন আলোয় জেগে ওঠা, পশুপাখি, পোকামাকড়ের ডাক - সব মিলিয়ে এমন একটা যেন হৈ চৈয়ের আওয়াজ আর সঙ্গে একটা কেমন যেন খিল খিল আবার কখনও হা হা করে হাসির আওয়াজ - বার বার ধাঁধা লেগে যাচ্ছিল আমার মেয়েরা কি খেলাধুলো করছে? এ কি তাদেরই হাসির আওয়াজ? কিন্তু যতবারই ঐ শব্দ লক্ষ্য করে এগিয়ে যাচ্ছি, ততবারই দেখছি অরণ্য গভীর হচ্ছে, এবারে দিক হারাব। তাড়াতাড়ি সতর্ক হয়ে সেই লাল মাটির পথে ফিরে আসতে হয়েছে। রহস্যময় মাঠাবুরু এখনও তার কুয়াশার ওড়না মুখ থেকে সরায়নি। অবগুন্ঠনের আড়াল থেকে ও আমায় এ কি যাদু শব্দ শোনাল - ও যে এখনও আমার কানে বাজছে।তখন কিছু মনে হয়নি, পরে মনে হল আমি কি হায়নার হাসি শুনলাম নাকি সত্যি সত্যি! একা একা এ কী সর্বনাশ করতে যাচ্ছিলাম। অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গলে হায়না থাকে বটে, মাঠাবুরুতে থাকায় আপত্তি কি? পরে ওই কলেজের একজন স্টাফ বললেন, ‘জানেন, রাতে একদম ঘুমোতে পারিনি, খালি মনে হচ্ছে বাইরে কেউ খিল খিল করে হাসছে, ঠিক মানুষের মত নয়, ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’ শুনে তো আমার আক্কেল গুড়ুম। রাতে হায়না এসেছিল হয়তো দেখা করতে, আমি ঘুমোচ্ছি বলে চলে গেছে। ভোরে একা পেয়ে আমার সঙ্গে আড়াল থেকে বাৎচিত করে গেছে। ফিল্ডে আসার এই হচ্ছে মজা, বিপদ চারিদিকে থাকে বটে, তবে পান থেকে চুন খসলেই হা রে রে রে বারণ শোনার আপদ থাকেনা। যাকগে খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে মেয়েদের খুঁজে পেলাম। তারা তখন মাঠাবুরুর এক উত্তুঙ্গ শিখরের সামনে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আদেশানুসারে মহানন্দে খালি হাতের ব্যায়াম করছে। দূর থেকে দেখে ভারি মজা লাগে আমার। তখনও জানিনা আরও কী অপেক্ষা করে আছে সবার জন্য। ব্যায়াম শেষে মেয়েরা যখন হুড়োহুড়ি করে ছোট মাতাজীর ফোনে পোজ দিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত, হঠাৎ একটা লাল আভা এসে লাগে চোখের পাতায় - তীক্ষ্ণ তবু মধুর। চমকে পিছনে তাকিয়ে দেখি মাঠাবুরুর সেই চেতানো বুকের পিছে পিঠের দিক থেকে সুয্যিমামা উঁকি দিয়েছে। এই ভৌগোলিক জীবনে ভারত জুড়ে কতবারই তো দাঁড়ালাম কত সান রাইজ আর সান সেট পয়েন্টে। তবু যুগ যুগান্ত ধরে চলা এই অরুণোদয়, যতবার আসে যেন চিরনূতন। হেঁটে হেঁটে ফেরার পথে বড় মাতাজীর সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আমাদের ছাত্রীরা বেশিরভাগই শহুরে। কিছু কিছু মেয়ে আছে বটে যাদের গ্রামে বাড়ি, কলেজের হোস্টেলে থাকে। তবে যেখানেই থাকুক, এই জঙ্গলে মোবাইল ফোন ছেড়ে সত্যিকারের প্রকৃতির সঙ্গে কাটানো ওদের জন্য এক দুরন্ত অভিজ্ঞতা, যা সারা জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। তবে শহর ছেড়ে এসেছি বললেই কী আর শহরের ছোঁয়া বাঁচানো যায়? এই যে হবিট হাউসে আমরা আছি, এও তো শহরের মানুষের বিনোদনের জন্যই বানানো - বলা যায় ঐ পাতালঘর নামক রিসর্টটি গ্রামীণ ল্যান্ডস্কেপের মধ্যে তৈরি হওয়া একটি ‘শহুরে স্পেস’ (Urban Outpost)। এই বিষয়টাকেই ভূগোলে বলে প্ল্যানেটারি আর্বানিজম (Planetary Urbanism)। বিখ্যাত ফরাসি চিন্তাবিদ অঁরি লেফেভার (Henri Lefebvre) এবং পরবর্তীতে নীল ব্রেনার (Neil Brenner) দেখিয়েছেন যে, আজকের দিনে শহর আর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে নেই। শহরের থাবা আজ গ্রামীণ সীমানাকে গ্রাস করে নিয়েছে। প্রযুক্তির জাল এতটাই ব্যাপক, আজ গ্রামের ছেলে বা মেয়ের হাতেও স্মার্টফোন, সেও শহরের ফ্যাশন দেখছে, এআই (AI) নিয়ে ভাবছে। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে গ্রাম আর শহর আলাদা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। তাই আজ আর সেই গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার ধারণা চলেনা। শহর আজ তার পুঁজি, প্রযুক্তি আর সংস্কৃতি দিয়ে গ্রামকে ঘিরেছে। এই উল্টো প্রক্রিয়াকে আমরা বলি ‘রারবানাইজেশন’ (Rurbanization)। তবে এই রারবানাইজেশন মানেই যে খুব খারাপ হচ্ছে তা কিন্তু নয়। হ্যারল্ড কার্টারের (Harold Carter) একটা বই আছে - ‘The Study of Urban Geography’। সেখানে তিনি মূলত কেভিন লিঞ্চের (Kevin Lynch) ‘Mental Map’ বা ‘Cognitive Mapping’ (স্থানিক জ্ঞান মানচিত্র)-এর ধারণাকে ব্যবহার করে শহুরে মানুষের স্থানিক সচেতনতা ব্যাখ্যা করেছিলেন। আমি যখন প্রথমবার বইটা পড়ি বেশ চমৎকৃত হয়েছিলাম। সেখানে অনেক পয়েন্টের মধ্যে মোদ্দা যে পয়েন্টটা তোলা হয়েছিল সেটা হল জঙ্গলের আদিবাসী মানুষ মেন্টাল ম্যাপের সাহায্যে বনের যে কোন জায়গায় আপনাকে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সেই পথটা এঁকে দেখাতে পারেনা। কিন্তু আমাদের এই শহুরে কলেজের মেয়েরা একটু চেষ্টা করে পাহাড়ের ওরিয়েন্টেশন শিখে নিলে তারা কিন্তু সেটাকে কাগুজে ম্যাপে পরিণত করতে পারবে। কারণ ছোট থেকে তারা আকার, আকৃতি, রেখা এসব বিষয়ে তালিম পেয়েছে। এ হল মানুষের মনে এক ধরণের মূর্ত অভিজ্ঞতা বনাম বিমূর্ত জ্যামিতির খেলা। কার্টার বা লিঞ্চের তত্ত্বে মেন্টাল ম্যাপের মূল উপাদান পাঁচটি: Paths (পথ), Edges (প্রান্ত), Districts (অঞ্চল), Nodes (সন্ধিস্থল), এবং Landmarks (চিহ্ন)। বনের আদিবাসী মানুষের মেন্টাল ম্যাপ তৈরি হয় বনের গন্ধ, মাটির স্পর্শ, গাছের ডালের বাঁক বা পাখির ডাকের মতো সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা দিয়ে। বলা যেতে পারে এ হল একধরণের Navigational Knowledge —যা ছোট থেকে বনের মাঝে ঘুরে ঘুরে বেঁচে থাকার তাগিদে তৈরি। তাঁরা বনে দিক হারান না, কারণ তাঁরা জঙ্গলকে বাইরে থেকে দেখেন না, তাঁরা জঙ্গলেরই অংশ। কিন্তু মানচিত্রের গ্রিড (X, Y কোঅর্ডিনেট) বা টপোগ্রাফিক্যাল চিহ্নের বিমূর্ত জ্যামিতিতে তা প্রকাশ করার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁদের নেই।অন্যদিকে আমাদের এই শহরের কলেজের মেয়েরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বড় হয়েছে। তারা যখন পাহাড়ে এসে ওরিয়েন্টেশন (ওরিয়েন্টিং ম্যাপ ও কম্পাস ব্যবহার) শেখে, তখন তারা তাদের চারপাশের বাস্তব স্থানকে (Physical Space) জ্যামিতিক স্কেল, দ্রাঘিমাংশ, অক্ষাংশ এবং চিহ্নে অনুবাদ করতে পারে। একে বলা হয় মনের মধ্যে কার্টোগ্রাফিক র‍্যাশনালিটি তৈরি হওয়া। এই র‍্যাশনালিটি আত্মস্থ হলে তারা অভিজ্ঞতাকে কাগজে প্লট করে একটি ‘অবজেক্টিভ ম্যাপ’ তৈরি করতে পারে। এই পারাটুকু খুবই ভালো। আমি বহুবার বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে এইরকম ম্যাপ বানিয়েছি, তা সে বিষ্ণুপুরের তাঁতীদের পাটরাপাড়াই হোক বা অন্ধ্র প্রদেশের আরাকু ভ্যালি। আরাকুতে তো একে ক্যাডাস্ট্রাল ম্যাপে লেখা ভাষা বা হরফ বুঝতে পারছিনা, আবার স্থানীয় লোক কিছু বলতেও পারছেনা। যাই হোক এইভাবে ম্যাপ বানাতে পারলে ছেলেমেয়েরা ভীষণ আনন্দ পায়, আমিও খুশি হই। তবে আধুনিক ক্রিটিক্যাল কার্টোগ্রাফি (Critical Cartography) বলে, মানচিত্র এতটাও মঙ্গলজনক, নির্দোষ বা নিরপেক্ষ নয়। মানচিত্র হলো ক্ষমতার ভাষা (Language of Power)। আদিবাসী মানুষের নেভিগেশনাল ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, ঔপনিবেশিক বা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তাঁদের জমি কেড়ে নিতে পেরেছে, কারণ তাঁদের কাছে ‘কাগুজে দলিল’ বা ‘ম্যাপ’ ছিল না।সভ্যতার মুদ্রার অন্য পিঠটা ঘুরিয়ে দেখলে চেনা ধারণার বদল হয়। আমাদের ছেলেমেয়েরা যে ওরিয়েন্টেশন শিখে সেটাকে কাগুজে ম্যাপে পরিণত করতে পারছে— সেই জ্ঞান আসলে যে কোন স্থানকে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার এক বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার। অ্যাকাডেমিক ভূগোলে আমরা এই কাগজের ম্যাপটাকেই ‘উচ্চ জ্ঞান’ বলে মান্যতা দিই, আর আদিবাসীর মেন্টাল ম্যাপ বা মনশ্চক্ষে ভাসমান পথকে ‘সহজাত প্রবৃত্তি’ বলে খাটো করি। কিন্তু ক্রিটিক্যাল জিওগ্রাফি বলে, দুটোই সমান দামী স্থানিক জ্ঞান (Spatial Knowledge), শুধু প্রকাশের মাধ্যম আলাদা। কলেজের স্টুডেন্ট পায় এক্সপ্লিসিট জ্ঞান যা একই সঙ্গে থিওরিটিক্যাল ও টেকনিক্যাল। আর বনের মানুষ অর্জন করে ইমপ্লিসিট জ্ঞান যা প্র্যাকটিক্যাল ও ইনটুইটিভ। ইমপ্লিসিট জ্ঞান আনে প্রকৃতির সাথে একাত্মতা আর ছাত্রের আছে কোন স্থানকে ডিকোড ও মেজার করার ক্ষমতা। এখন প্রশ্ন হল, সেই জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে তারা কি মানুষের লক্ষ লক্ষ বছরে অর্জিত আদিম ‘পর্যবেক্ষণ, ঘ্রাণ ও স্পর্শের’ দ্বারা মেন্টাল ম্যাপ তৈরি করার অনুভব হারিয়ে ফেলছে? কিছুটা তো হারাচ্ছে বটেই। আমাদের হাতের নাগালেই এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে ইন্টারনেট চলেনা অর্থাৎ প্রযুক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এখনকার ছাত্রছাত্রীদের এমন দশা ফোনটি না চললে তারা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে যায়। প্রযুক্তি নিয়ে সক্ষম হতে গিয়ে আজ তারা প্রযুক্তি ছাড়া অক্ষমে পরিণত হয়েছে। এই খামতি বা ফাঁকটুকু ভরাট করার জন্যই এই মোবাইল ফ্রি হয়ে পাহাড় চড়ার আয়োজন। নানান কথা ভাবতে ভাবতে, আলোচনা করতে করতে ফিরে এলাম হবিট হাউসে। গতরাতের পরিপূর্ণ ঘুমের পরে মন ভরা তৃপ্তি, নিজেদের রিনিউ আর রিসেট বাটন অন করে ফিরে এসেছি আস্তানায়। সামনে গামলায় ভেজানো ছোলা আর পাশের বাটিতে নির্ভেজাল আখের গুড়। চোখে পড়া মাত্র পেট গুড়গুড় - আরে এযে ভয়ানক খিদে পেয়ে গেছে - এতক্ষণ কিছু মালুমই হয়নি। কবি তো তবে ঠিকই বলেছিলেন - এই দুনিয়ার সকল ভালো, আসল ভালো নকল ভালো, কিন্তু সবার চাইতে ভালো পাঁউরুটি আর ঝোলাগুড় থুড়ি ভেজা ছোলা আর এখো গুড়। মুঠো করে নিয়ে কিছুটা পেটপূর্তির পরে পেলাম গরম ধোঁয়া ওঠা চা। পৃথিবীতে গুড়-ছোলা-দুধ চা যে অমৃত সেটা এতদিন কেন যে বুঝিনি কে জানে। এর পরে লুচি তরকারি, তার পরে সেই মোক্ষ, যার জন্য এতদূর আসা - সেই কাঙ্ক্ষিত রক ক্লাইম্বিং - মানে সত্যি সত্যি পর্বতারোহণের প্রথম ধাপ। রোদ উঠেছে ঝিলমিলিয়ে। ধড়াচুড়ো পরে লতাঝোপ সরিয়ে কাঁটা বাঁচিয়ে আর চোরকাঁটায় মাখামাখি হয়ে গিয়ে দাঁড়ালুম মাঠার এক নেড়া ঢালের সামনে।চলবে...
    দেখছে জনতা, বলছে সাবাস! - সুমন সেনগুপ্ত | অলংকরণ: রমিতনদীয়ার কালিগঞ্জে দলীয় বৈঠক চলাকালীন কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে বিজেপির গেরুয়া বাহিনী সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। সাংসদের সামাজিক মাধ্যমের হ্যান্ডেলে আমরা প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে এই তান্ডব প্রত্যক্ষ করলাম কীভাবে বিজেপির গুন্ডাবাহিনী দলীয় পতাকা নিয়ে সমবেতভাবে হামলা চালানোর বন্দোবস্ত করেছিল। পুলিশ প্রশাসনের একটি গাড়ি খবর দেওয়ার অনেক পর অকুস্থলে পৌঁছয়। উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ওই গুন্ডাদের উন্মত্ত ভীড়কে সরিয়ে দেওয়ার কোন চেষ্টা না করে কাঠের পুতুলের মতো আচরণ করে। যা স্পষ্ট করে দেয় যে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই কোনরকম হস্তক্ষেপ থেকে পুলিশকে বিরত রাখা হয়েছে। মহুয়া মৈত্রের সামাজিক মাধ্যমের পোষ্টগুলো এবং এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টগুলো যদি পরপর দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে এই মহিলা সাংসদ চিৎকার করছেন, যে তিনি আক্রান্ত। তিনি যে জায়গায় তাঁর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, সেই ঘরটা জাতীয় সড়কের ওপরে একটি বাড়ির তৃতীয় তলায়। তাঁর ফেসবুক লাইভ থেকে দেখা যাচ্ছিল, যে ঐ ঘরের জানলার বাইরে একদল মানুষ জড়ো হয়েছেন এবং তাঁরাই উস্কানি দিচ্ছে। তাঁদের মুখে সেই কুখ্যাত কিংবা বিখ্যাত ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান এবং কারো কারো হাতে বিজেপির পতাকা। তাঁরাই ঐ ৩ তলার ঘর লক্ষ্য করে ডিম এবং পচা সব্জি ছুঁড়ছেন, আর মহুয়া মৈত্র ঐ পরিস্থিতিতে ফেসবুক লাইভে নাম ধরে পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক, বিজেপির জাতীয় সভাপতি, লোকসভার স্পীকারের নাম ধরে ধরে বলছেন। প্রশ্ন করছেন একজন বিরোধী দলের মহিলা সাংসদের উদ্দেশ্যে কি এই ধরনের আচরণ করা যায়? প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে এই তান্ডব সারা দেশ শুধু নয়, সারা বিশ্ব দেখেছে অথচ আমাদের গোদী মিডিয়া এই ঘটনার বর্ণনা করার সময়ে শিরোনাম লিখেছে, ‘জনরোষের শিকার মহুয়া মৈত্র’। বিষয়টা এখানেই থামেনি। সেই গোদী মিডিয়ার চ্যানেলের পোষ্টে গিয়ে মহুয়া আবারও লিখেছেন, ‘আপনারা এটাকে জনরোষ বলে চালাতে চাইলেও, বিষয়টা পরিকল্পিত সন্ত্রাস’ তিনি আরও লিখেছেন যে এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসের কাছে তিনি মাথা নোয়াবেন না। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিদেশী খবরের চ্যানেলগুলো যেমন বিবিসি, আলজাজিরা, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং দি গার্ডিয়ানকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, যে ভারতে একজন মহিলা বিরোধী দলের সাংসদকে কী করে হেনস্থা করা হচ্ছে, তাঁরা যেন দেখে এবং খবর করে। এই ঘটনা সারা বিশ্বের সামনে বাংলার মাথা আরো নীচু করে দিলেও, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ তাচ্ছিল্য সহকারে এই ঘটনাকে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন। একজন মহিলা সাংসদ কে এইভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা তার কাছে অসুবিধার মনে হয়নি। তাঁর কথা অনুযায়ী, কেউ পকেটে ডিম নিয়ে ঘুরছেন কি না, পুলিশের পক্ষে কি জানা সম্ভব? মেটাল ডিটেক্টর আবিষ্কৃত হলেও, কোনও ডিম ডিটেক্টর এখনও পাওয়া যায়নি, সেইজন্য নাকি এই ধরনের আক্রমণ বন্ধ করা যাচ্ছে না। যেখানে একটি ডিমের দাম বাজারে এখন ৮ টাকা, সেখানে মানুষের হাতে এত ডিম যদি থাকে ছোঁড়ার জন্য তাহলে তো বলতে হয়, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে মানুষের আর্থিক অবস্থা বেশ সচল ছিল। কারণ এখনো তো এই সরকার ১.৩০ কোটি মহিলাকে সবে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুত ৩০০০ টাকা দিয়েছে। আগের সরকারের অসংখ্য মহিলাই নানান কারণে বাদ পড়েছেন। তাহলে মানুষ এত ডিম কিনছে কী করে? আবার যখন সেই মানুষদের হাতে আবার বিজেপির দলীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে, সেই লোকগুলোও নিশ্চিত নতুন বিজেপি, তাহলে তাঁদের চিহ্নিত করাটা যেমন পুলিশের কাজ, তেমন তো সেটা বিজেপির রাজ্য সভাপতিরও কাজ। তা না করতে পারলে, তিনি তো ব্যর্থ হিসেবেই চিহ্নিত হবেন। বুঝতে হবে তিনি বিজেপির তৃণমূলীকরণ আটকাতে পারছেন না। নাকি সচেতনভাবেই এটা করা হচ্ছে, যাঁরা বিজেপির কাছে মাথা নোয়াবে না, তাঁদের হেনস্থা করা হবে আর কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া বা সায়নি ঘোষদের মত যাঁরা মাথা নুইয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের ওপর কোনও আক্রমণ হবে না। এই অলিখিত নির্দেশ দেওয়া আছে। আজকের সময়ে বিরোধী রাজনীতিবিদ বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিকে ডিম ছুড়ে মারা হলে, তাঁদের সহযোগীরা কখনও কখনও নাটকীয়ভাবে হামলাকারীদের নাৎসি আমলের সঙ্গে তুলনা করছেন। বক্তব্য বা বয়ানটি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে এই ঘটনাকে নিছক দুর্বৃত্তপনা হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শন, রাজপথে সহিংসতা এবং ১৯৩০-এর দশকের জার্মানির কথা মনে করিয়ে দেয় এমন এক বাকস্বাধীনতা দমনের ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। যদিও আজকের বাংলার শাসকদল বিষয়টা মানতে রাজি নয়, তাঁরা বলছে এটা মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত জনরোষ, কিন্তু আদপে কি বিষয়টা তাই? বাংলার বিধানসভায় সদ্য পাশ হয়েছে বিজেপির আনা কুখ্যাত গুন্ডাদমন বিল। যেখানে যে কোনো কল্পিত 'গুন্ডামির' অভিযোগে যে কোন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে বিনা বিচারে এক বছর জেলবন্দী করার আইনি স্বীকৃতি রাখা আছে। অন্যদিকে, পূর্বতন শাসক, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীকে ডিম ছুঁড়ে সামূহিকভাবে প্রকাশ্যে হেনস্থা ও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আর বিজেপির সভাপতি এই ডিম্বাঘাত সংস্কৃতির প্রসঙ্গে মিঠে সুভাষিত প্রচার করে চলেছেন। এই ক্রমবর্ধমান গেরুয়া সন্ত্রাসের রাজনীতির প্রতিবাদ না জানালে আগামীদিনে কিন্তু এই আগুনে অনেককেই পুড়তে হতে পারে। যাঁরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরাও যে আক্রান্ত হবেন না, তা নিশ্চয়তা আছে কি? ঐ হামলাবাজদের ও তাদের সরাসরি উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জোরালো দাবি জ্জানানো উচিৎ সকল রাজনৈতিক দলের। তার জন্য তাঁকে তৃণমূলের সমর্থক হতে হবে না। গণতন্ত্রের স্বার্থেই এটা করা উচিৎ। সামাজিক মাধ্যমে হয়ত তা হচ্ছেও, কিন্তু শুধু বিবৃতি দিয়ে হবে না, এই বিষয়টা নিয়ে বেশী বেশী করে কথা বলার প্রয়োজন এবং তা কোনও ‘কিন্তু, এবং বা পর্যন্ত’ না ব্যবহার করেই বলতে হবে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্লোগান ছিল ‘বদলা নয়, বদল চাই’, তা সত্ত্বেও নানান জায়গায় বামপন্থী কর্মীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে এবং তা চূড়ান্ত সমালোচিতও হয়েছে। কিন্তু আজকে যখন কেন্দ্রে রাজ্যে একই দলের সরকার, তখন না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আসছে, না স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিরা আসছেন। বিষয়টা যেন ‘নিউ নরমাল’ বলে মেনে নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ প্রচলিত গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা। তাঁরা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার বদলে বিরোধী দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়েই ভাবিত বেশী মনে হচ্ছে। মনে পড়ে যাচ্ছে গুজরাটের কথা। ভারতের প্রাক্তন সংসদ সদস্য এহসান জাফরিকে উত্তেজিত হিন্দু জনতা তাঁর বাড়ি থেকে টেনে বের করে নৃশংসভাবে মারধর করে এবং পুড়িয়ে হত্যা করে। গুজরাটের আহমেদাবাদে গুলবার্গ সোসাইটি হত্যাকাণ্ডের সময় ২০০২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি তাঁর এই মৃত্যু ঘটে। সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বাড়ির বাইরে সমবেত ভিড়ের দিকে আত্মরক্ষার্থে জাফরি তাঁর রিভলবার থেকে গুলি চালানোর পরই সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করে এবং জনতা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও কোনো সাহায্য না আসায় শেষ পর্যন্ত তাঁর এবং আরও ৬৮ জন বাসিন্দার মৃত্যু ঘটে। বাংলায় মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন সেদিনের গুজরাটের ঐ নৃশংস ঘটনার একটা ছোট্ট অংশ। আগামীদিনে যে এই ঘটনা অন্য বিরোধী দলের ক্ষেত্রে বা যাঁরাই বিজেপি বিরোধী, তাঁদের বিরুদ্ধে হবে না, কে বলতে পারে? জনগণ তৃণমূলকে হারিয়েছে তাদের বহু সদস্যের বিপুল চুরি আর তোলাবাজির জন্য। অনেক বিধায়ক ও কাউন্সিলার এক শ্রেণীর সমাজ বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, সেই জন্যেই তাঁরা আজ পরাজিত। গত নির্বাচন যদি তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরায় হয়ে থাকে, তাহলে ওই তৃণমূলের সবচেয়ে বড় বড় রাঘব বোয়ালরা ও মস্তানেরা এখনও কীভাবে দিব্যি তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে? এদের মধ্যে অনেকে বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে অসাধু প্রমোটারদের প্রচুর বেআইনি বাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কোনও শাস্তি তো হচ্ছে না। তাঁদের কাউকে কাউকে বর্তমান শাসকদলের বিধায়ক-মন্ত্রীদের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে কেন? তাঁরা কি বিজেপির বি টিম গঠন করে হঠাৎ ধপধপে সাদা হয়ে গিয়েছেন? এর জন্যে কি কোনো অ্যাডমিশন ফিস দিতে হয়েছে? বাজারে কত রকমের কত কথা শোনা যাচ্ছে। বিজেপি কি বুঝতে পারছে না যে এঁদের সঙ্গে রফা করে তারা জনাদেশকে অপমান করছে ?তাঁদের রাজ্য সভাপতির কথা অনুযায়ী এরা সবাই তৃণমূল, যাঁরা মহুয়া মৈত্রকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল, তাহলে তাঁদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে কিছু কেন বলছে না সরকার, সেটা তো রাজ্য সভাপতি বলতে পারেন। অবশ্য তাঁর একটা যুক্তি আছে, এই সরকারকে কোনও নির্দেশ দিতে তিনি পারেন না, তিনি তাঁর দলকে নির্দেশ দিতে পারেন। অবশ্যই ঠিক বলেছেন, তাহলে সেটাই তিনি করুন, না হলে তাঁর সুললিত গলায় গম্ভীর ভাষণের তো কোনও মূল্যই থাকছে না। অনেকেই উচ্ছসিত হচ্ছিলেন যখন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের ডিম ছুঁড়ে মারা হচ্ছিল। বহু সিপিআইএম কর্মী খুব উল্লাসিত হচ্ছিলেন। বেশিদিন হয়নি এখন দেখা যাচ্ছে মীনাক্ষী মুখার্জির দিকেও ওই ডিম এবং পাথর তেড়ে আসছে। আসলে জনরোষের নামে বিজেপির পরিকল্পিত মবতন্ত্র কখন যে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হবে তা বোঝা যাবে না। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তো সরাসরি হুমকি দিয়েছেন, এবার বুদ্ধিজীবি ও কমিউনিষ্টদের ওপর ডিম ছুঁড়তে হবে। সে তো হবেই, ওঁদের যে কোনও বুদ্ধিজীবি নেই, তা না বলে দিলেও চলত। তবে বিষয়টা মোটেও আর হাসি ঠাট্টার পর্যায়ে নেই। বিষয়টা ক্রমশ জটিল হচ্ছে। সেই জন্যই এই ডিম ছোড়ার এবং এই মবতন্ত্রের বিরোধিতা করতে হবে। কবীর সুমন এক সময়ে একটা গান লিখেছিলেন ‘একখানা ইঁট যদি পাওয়া যেত, নোংরা মুখখানা করতাম থেঁত, ভাবতে ভাবতে গেল একজন, ক্ষত বিক্ষত ছেলেটার কাছে, যেন দু’জনের শ্ত্রুতা আছে... দেখছে জনতা বলছে সাবাস। মাঝে মধ্যেই এখানে ওখানে পিটিয়ে মারার ব্যস্ত শ্মশানে পুড়ছে কে? প্রশ্ন অনেক উত্তর নেই এই অসহ্য সময়টাকেই কাঁদতে দে ’ গণপিটুনি এক সময়ে ভয়ঙ্কর বেড়ে গিয়েছিল, সেই সময়ে কবীর সুমন এই গানটা তৈরি করেছিলেন। আজকে বহু সরকার এসেছে এবং গেছে, কিন্তু অবাক হতে হয় যে অপরাধীরা কী সহজ ভাবে এক দল থেকে নতুন সরকারের দলে চলে যায়। অপরাধ তো চলতেই থাকে। শুধু পৃষ্ঠপোষক আর পোশাক পাল্টে যায়। সরকার কি বুঝছে না এই গুন্ডাশ্রেণীই তাদের ডোবাবে? শেষ করা যাক একটা আশার খবর দিয়ে। এখন বাংলায় সাধারণ মানুষ ডিম ছোড়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে! দীঘায় এক সরকারি কর্মীর মাথায় ডিম ভাঙা হলে, তাঁর পাশের সাধারণ মানুষজন বিরোধিতা করে।এই খবরটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত যাতে এই জনতা বুঝতে পারে যে সভ্য সমাজে ডিমতন্ত্র বলে কিছু হয় না! কোনো ডিম শনাক্তকারী যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলছেন, পুলিশের কাছে ডিম শনাক্ত করার যন্ত্র নেই, আর ওদিকে বিজেপির নেতা বলছে, তার কাছে নাকি ডিম ছোড়ার নির্দেশ আছে। সরকার গুন্ডা দমন আইন আনছে, আর ওদিকে সরকারের মন্ত্রী গুন্ডাদের ভাষায় কথা বলছেন। দুটো তো একসঙ্গে চলতে পারে না। একমাত্র গণপ্রতিরোধই এই মব ভায়োলেন্স থামাতে পারে। ব্যস।
  • হরিদাস পালেরা...
    তিস্তার জলবালি - Amit Chatterjee | অলংকরণ: রমিততিস্তার জলবালি অমিত চট্টোপাধ্যায় মৃতপ্রায় নদী শুয়ে আছে বালি মেখে,ক্ষত আঁকা দেহ পথিকের পায়ে পায়ে।ভাঙা নৌকোরা জিরোয় তিস্তা চরে,সূর্য যখন গোধূলির গান গায়।এই অসময়ে তিস্তা ঘুমিয়ে থাকে।মজা দেহ জুড়ে জল আঁকে আলপনা।পাড়ে জেগে থাকা হিজল গাছের সারিশিশির কুড়িয়ে সেও আজ আনমনা।বুকের ওপর দাঁড়িয়ে মস্ত সাঁকো।ব্যস্ততা মাখা দিনভর চলাচল।নীচ দিয়ে বয় নদীধারা অতি ক্ষীণধু ধু বালুচরে ইতি উতি হাঁটুজল।শ্রাবণের চিঠি পাহাড়তলিতে এলে,বৃষ্টিতে ভেজা ঘাস দেয় হাততালি।জোৎস্না মাখতে পরি নামে নদীজলে,ঘুম ভেঙে জাগে তিস্তার জল-বালি।
    সুন্দর দেখতে বলেই আপনি ঠিক কথা বলছেন না  - সুকান্ত ঘোষ | তারা আপনাকে দেখেই ঠিক করে ফেলেছে১৯৯০ সালের কথা - স্যান্ড্রা ফরসাইথ নামে মায়ামি ইউনিভার্সিটির এক গবেষক একটা বেশ সাধারণ কিন্তু আবার চালাকি মেশানো পরীক্ষা করলেন। তিনি চারজন মহিলাকে ভিডিওতে রেকর্ড করলেন, যাঁরা একটা ম্যানেজমেন্ট পোষ্টের জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন। চারজনের প্রত্যেককে চার রকমের পোশাকে, যে পোশাকগুলো সাজানো হয়েছিল ‘পুরুষালি’ হবার মাত্রা অনুযায়ী। এক নম্বর পোশাক সবচেয়ে নরম, মেয়েলি; চার নম্বর সবচেয়ে কড়া, কাটা-কাটা, প্রায় পুরুষের স্যুটের মত। তারপর ব্যাঙ্কিং আর মার্কেটিং জগতের ১০৯ জন লোককে সেই ভিডিও দেখানো হল আওয়াজ বন্ধ করে। মানে, কে কী বলছেন তা শোনার উপায় নেই, শুধু দেখা যাচ্ছে। বলা হল যে মহিলারা ইন্টারভিউ দিয়েছেন তাঁদের সবার যোগ্যতা, ডিগ্রী, অভিজ্ঞতা সমান – এবার আপনারা নম্বর দিন। ফলাফল কি হল অনুমান করতে পারছেন? যাঁরা বেশী ‘পুরুষালি’ পোশাক পরেছিলেন, তাঁদের অনেক বেশী মাত্রায় দৃঢ়চেতা, আত্মনির্ভর, ক্ষিপ্র, আক্রমণাত্মক এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম বলে মনে করা হল। এবং তাঁদের চাকরী দেবার সুপারিশও বেশী এল। মজার ব্যাপার, ইন্টারভিউ যিনি নিচ্ছেন তিনি পুরুষ না মহিলা, ব্যাঙ্কার না মার্কেটিং-এর লোক, তাতে বিশেষ কিছু হেরফের হল না। মানে, সবাই একই ছাঁচে ভাবছে। এবার আপনি বলতেই পারেন, ভাই বড়ই সরলীকরণ করে ফেললে কেসটা। এমন ব্যাপার স্যাপার হলে তো সব কোম্পানীর বড় পোষ্টের লোকজনকে ব্র্যাড পিট হতে হবে! কিন্তু আমরা জানি তা তো হয় না। তার মানে ভিতরে থাকলে বা বাকিদের থেকে লক্ষণীয় ভাবে ভালো হলে এই সব পোষাক ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে হয় না। আর যদি গড়পড়তা লোক হয়ে বাকিদের সাথে ফাইট দিতে হয়, তাহলে একটা চান্স থেকে যায় পোষাক দিয়ে প্রভাব ফেলার বা প্রভাবিত হবার।ফরসাইথ-ও সেটা জানতেন না এমন নয়! তিনি নিজেও কিন্তু সৎ ভাবে লিখেছিলেন যে পোশাকের প্রভাব ব্যক্তির নিজের প্রভাবের তুলনায় ছোট – মুখ, ভঙ্গী, হাসি, হাত নাড়ার ধরণ, এ সবের ওজন বেশী। কিন্তু তারপরেই তিনি এমন একটা কথা লিখেছেন যা বেশ জোরালোঃ পোশাক জিনিসটা সহজে বদলানো যায়, মুখ বদলানো যায় না! এবং এই ‘সহজে বদলানো যায়’ বলেই গোটা একটা শিল্প গড়ে উঠেছে আমাদের ঘাড়ে চেপে। সেই পোষাক এবং ফ্যাশন ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে কথা পরে হবেক্ষণ।তবে কিনা এই নিয়ে গবেষণার লিষ্ট লম্বা, এবং প্রায় সবই এক দিকে ঝুঁকে আছে। ফর্ম্যাল জামা পরা টিচিং অ্যাসিষ্ট্যান্টদের ছাত্ররা বেশী বুদ্ধিমান ভাবে, কিন্তু কম ইন্টারেষ্টিং। ফর্ম্যাল পোশাক পরা থেরাপিষ্টের কাছে ক্লায়েন্ট দ্বিতীয়বার ফিরে আসে বেশী। হাই স্কুলের ছেলেমেয়েদের জামাকাপড়ের ধরণ দেখে বন্ধু এবং শিক্ষক – দু’পক্ষই ঠিক করে ফেলে ছেলেটি বা মেয়েটি পড়াশুনায় কেমন। আর সবচেয়ে বাজে তৈরী হওয়া ধারণাটি হল - উঁচু পদের চাকরীতে কোন মহিলা যদি একটু বেশী আকর্ষণীয় করে সাজেন, তাঁকে কম যোগ্য বলে মনে হয়। মানে মেয়েদের জন্য দড়িটা এত সরু যে হাঁটাই মুশকিল, বেশী মেয়েলি হলে অযোগ্য, বেশী পুরুষালি হলে ‘অ্যাগ্রেসিভ’, আর সুন্দরী হলে তো কথাই নেই! খুবই গুণী এবং তার সাথে প্রচন্ড সুন্দরী একজনাকে খুবই কাছাকাছি একছাদের তলায় দীর্ঘদিন দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আমরা এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতাম, এমনকি নিজেদের মধ্যে ছোটখাট পরীক্ষাও, সেই সব নিয়েও দীর্ঘ লেখা লিখে ফেলা যাক। তবে সে সবই কিন্তু বাকি প্রকাশিত স্টাডিগুলির সমর্থনসূচকই ছিল বেশীর ভাগ সময়।সুন্দর দেখতে বলেই আপনি ঠিক কথা বলছেন নাওদিকে চেহারার বাজারদর মাপার কাজটা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ড্যানিয়েল হ্যামারমেশ প্রায় গোটা কেরিয়ার এই নিয়ে খরচ করেছেন – ‘পালক্রোনমিক্স’ বলে ইয়ার্কি করে ডাকা হয় জিনিসটাকে, সৌন্দর্যের অর্থনীতি। তাঁর হিসেব অনুযায়ী আমেরিকায় এক জন সুশ্রী মানুষ গোটা কর্মজীবনে গড়ে প্রায় দুই লক্ষ তিরিশ হাজার ডলার বেশী রোজগার করেন গড়পড়তা-থেকে-কম-দেখতে সহকর্মীর তুলনায়। শতাংশের হিসেবটা ছোট – দু-তিন-চার শতাংশ – কিন্তু তিরিশ বছর ধরে জমলে আর ছোট থাকে না। সুন্দর লোকেরা চাকরী বেশী পান, প্রোমোশন বেশী পান, ব্যাঙ্কে লোন পান সহজে, সুদটাও তাঁদের দিতে হয় একটু কম। এ জিনিসও আমি নিজে সামনা সামনি দেখেছি – পৃথিবীর নানা দেশে ঘুরতে গিয়ে কত জিনিসের ডিসকাউন্ট পেয়েছি কেনার সময়, অনেক সময় না চাইতেই, কেবল সাথে সুন্দরী একজন ছিল বলে!এবার একটা ইনটারেষ্টিং পরীক্ষার কথা বলি, যেটা আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক পক্ষপাত নিয়েও একটু খোঁচা দিয়ে যায়! আগে থেকে জানা ছিল যে ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের ভোটাররা বেশী সুশ্রী বলে মনে করেন – অষ্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা – চার জায়গার নির্বাচনের ডাটাতেই এইরকম ফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল একসময়। এখন প্রশ্ন হল, কেন? দুটো ব্যাখ্যা সম্ভব। এক, ডানপন্থী লোকজন এমনিতেই দেখতে ভালো – কারণ সুন্দর লোকেরা বেশী রোজগার করেন, আর বেশী রোজগেরে লোকেরা সম্পদের পুনর্বন্টন কম পছন্দ করেন। একটা নিখুঁত গোল বৃত্ত। দুই, ডানপন্থী দলে প্রার্থী বাছাই করার সময়েই চেহারার উপর বেশী জোর দেওয়া হয়।হেলসিঙ্কি ইউনিভার্সিটির জান-এরিক লনভিষ্ট এই দুটোকে আলাদা করার জন্য এক দারুণ ভাবনা বেছে নিলেন। তিনি রাজনীতিবিদদের ছেড়ে ধরলেন বুদ্ধিজীবীদের – ডানপন্থী ও বামপন্থী পত্রিকায় যাঁরা লেখেন, সেই সব অধ্যাপক-লেখকদের ছবি। যুক্তিটা সহজ: বুদ্ধিজীবী হবার জন্য কেউ কাউকে সুন্দর হতে বলে না। ওই লাইনে সুশ্রী মুখের কোন বাজারদর নেই।ফল বেরুলো - বিচারকরা ছবি দেখে দিব্যি আন্দাজ করতে পারলেন কে বামপন্থী আর কে ডানপন্থী (মুখ দেখে রাজনীতি চেনা যায়, এ এক আলাদা অস্বস্তিকর গল্প)। কিন্তু সৌন্দর্য? ডানপন্থী বুদ্ধিজীবীরা মোটেই বেশী সুশ্রী নন। উল্টে, ছবির কোয়ালিটি আর ‘গ্রুমিং’-এর হিসেব বাদ দিয়ে দেখা গেল বেশী সুশ্রী মানুষরা বরং বামপন্থী পত্রিকাতেই বেশী লিখছেন। ডানপন্থীরা যেখানে এগিয়ে, সেটা সৌন্দর্য নয় – সেটা হল পরিপাট্য। চুল আঁচড়ানো, দাড়ি কামানো, জামার ভাঁজ। মানে, ঈশ্বরপ্রদত্ত মুখ নয়, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খরচ করা সময়।লনভিষ্টের পেপারটার নাম, যার থেকে ভালো নাম হতে পারত না, ‘Just because you look good, doesn’t mean you’re right’। দেখতে ভালো বলেই আপনার কথাটা ঠিক, তা নয়। ইংরেজীতে ‘right’ শব্দটার দুটো মানে – ‘ঠিক’ এবং ‘ডান’। লনভিষ্ট ভাষার সাথে একটু খেলা করেছেন আর কি!নোবেলজয়ী লেখক আইজ্যাক বাশেভিস সিঙ্গার এক জায়গায় লিখেছিলেন, পোশাকের ভিতরে এক অদ্ভুত ক্ষমতা লুকিয়ে থাকে। কথাটা কেবল কথার কথা নয়, ওটা মাপা যায় বা মাপার চেষ্টা অন্তত অনেকেই করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাই সেই নিয়ে গবেষণাও কম নেই। এখন এটা একটু কমেছে গত কিছু বছর হল, বিজনেস ক্লাসের লাইনে দাঁড়ালে (বিশেষ করে ভারতে), গেট খুলে বোর্ডিং-এর আগে একবার করে এসে টিকিট চেক করে যায়। এমন নয় যে আগে করত না, কিন্তু আগে মাঝে মাঝে ফট করে হয়ত লাইনে দাঁড়ানো কাউকে বলেই দিত, “আপনার লাইন এটা নয়, ওটা ওদিকে”। আমার সাথে অনেকবার হয়েছে এটা। টিকিট চেক না করে কি দেখে তারা বিজনেস ক্লাস বা ইকনমি ক্লাসের পার্থক্য করত তারা বলে আপনার মনে করেন? যেহেতু ট্রাভেল একটু বেশিই করতে হয় – তাই পরীক্ষাও চালিয়ে ছিলাম আগে কখন এরা আর জিজ্ঞেস করবে না আমি ইকনমি ক্লাসে কিনা। দেখেছিলাম হাতে ইংরাজি বই থাকলে প্রশ্ন কম করে। বহু আগে এই সব নিয়ে বেশ বিরক্ত হতাম। সুধা ম্যাডাম এই নিয়ে ফুটেজ দেবার বহু আগে থেকেই এই জিনিস চলে আসছে। তো এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই একদিন আবিষ্কার করলাম, আমি যা নিয়ে বিরক্ত হচ্ছি, গত পঞ্চাশ বছর ধরে দুনিয়ার সাইকোলজিষ্ট, সমাজতত্ত্ববিদ, আর ইকনমিষ্টরা তা নিয়ে রীতিমতন ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা চালিয়ে গেছেন। এবং তাঁদের ফলাফল আমার বিরক্তিকে সমর্থনই করে, আরো খানিকটা অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়ে। এবার উল্টো দিক – জামাকাপড় আপনাকে কী করে?এতক্ষণ যা বললাম তা হল, অন্যরা আপনাকে জামা দেখে বিচার করে। সেটা তো জানা কথাই, শুধু মাপজোখ হয়েছে। আসল চমকটা এল ২০১২ সালে। নর্থওয়েষ্টার্ন ইউনিভার্সিটির দুই গবেষক, হাইয়ো অ্যাডাম আর অ্যাডাম গ্যালিনস্কি একটা শব্দ বানালেন: ‘এনক্লোদ্‌ড কগনিশন’। বাংলায় বলা যেতে পারে ‘পরিহিত মনন’, যদিও তাতে জিনিসটার মজাটা মরে যায়। তাঁদের বক্তব্য এই যে জামাকাপড় শুধু অন্যের চোখে আপনাকে বদলায় না, জামাকাপড় আপনার নিজের মাথার ভিতরের ধারণাটাও বদলে দেয়। তাঁরা বেছে নিলেন সাদা ল্যাব কোট। প্রথমে ৩৮ জনকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হলেন যে হ্যাঁ, লোকে সাদা ল্যাব কোট দেখলে মনে করে – মনোযোগী, সতর্ক, দায়িত্বশীল, বৈজ্ঞানিক। তাহলে যদি আপনি সেই কোটটা গায়ে চড়ান, আপনার মনোযোগ কি বাড়বে?প্রথম পরীক্ষা করা হল স্ট্রুপ টেস্ট। যাঁরা জানেন না, ব্যাপারটা এই: স্ক্রীনে একটা শব্দ ভেসে উঠবে, ধরুন ‘লাল’ – কিন্তু লেখাটা নীল কালিতে। আপনাকে বলতে হবে কালির রঙ, শব্দটা নয়। শুনতে সহজ, করতে গিয়ে মাথা ঘুরে যায়, কারণ মস্তিষ্ক পড়া বন্ধ করতে পারে না। ১৯৩৫ সাল থেকে এই টেস্টকে মনোযোগ মাপার সোনার কাঠি বলা হয়। দেখা গেল, যাঁরা ল্যাব কোট পরে বসেছেন, তাঁরা কঠিন প্রশ্নগুলোতে প্রায় অর্ধেক কম ভুল করছেন সেই তুলনায় যাঁরা নিজের জামাতেই আছেন। এখানেই থামলে গল্পটা বিশ্বাসযোগ্য হবে না হয়ত। প্রশ্ন উঠতেই পারে, সাদা কোটটা তো নিছক ‘ডাক্তার’ কথাটা মনে করিয়ে দিচ্ছে, তাতেই কাজ হচ্ছে না তো? গায়ে চড়ানোর দরকার কী?তাই দ্বিতীয় পরীক্ষা। ৭৪ জন ছাত্রছাত্রীকে তিন ভাগে ভাগ করা হল। এক দলকে একই ডিসপোজেব্‌ল সাদা কোট পরানো হল, বলা হল এটা ডাক্তারের কোট। আর এক দলকে একদম হুবহু সেই একই কোট পরানো হল, শুধু বলা হল এটা শিল্পীর কোট, ছবি আঁকার সময় পরে। তৃতীয় দলকে কোটটা পরানো হল না, শুধু টেবিলে সাজিয়ে রাখা হল সামনে, বলে দেওয়া হল ওটা ডাক্তারের কোট। তারপর সবাইকে ‘দুটো ছবির মধ্যে চারটে তফাৎ খুঁজে বার করুন’ ধরণের কাজ দেওয়া হল – মনোযোগ ধরে রাখার পরীক্ষা।ফল: ডাক্তারের কোট গায়ে থাকা দলটা বাকি দুই দলকে হারিয়ে দিল। আর বাকি দুই দলের মধ্যে, শিল্পীর কোট পরা দল আর ডাক্তারের কোট দেখা দল, কোন তফাৎই নেই!অর্থাৎ কাপড়টা এক, সুতোটা এক, ওজন এক। বদলেছে শুধু নামটা। কোটের গায়ে যে অদৃশ্য লেবেলটা সাঁটা আছে – ‘ডাক্তার’ না ‘শিল্পী’ – সেটাই আপনার মনোযোগ ঠিক করে দিচ্ছে। এবং শুধু লেবেল যথেষ্ট নয়, গায়ে চড়াতেই হবে। দেখলে হবে না।অ্যাডাম আর গ্যালিনস্কি লিখলেন, এনক্লোদ্‌ড কগনিশনের দুটো শর্ত: এক, জামার প্রতীকী অর্থ; দুই, জামাটা সত্যি সত্যি গায়ে দেওয়ার শারীরিক অভিজ্ঞতা। দুটো একসাথে না হলে কিছু হয় না। এবং তারপর সেই পরীক্ষা ভেঙে পড়লঅ্যাডাম-গ্যালিনস্কির পেপারটা হইহই করে বিখ্যাত হয়ে গেল। ছ’বছরে দুশোর বেশী উদ্ধৃতি, খবরের কাগজে লেখালিখি, টেড টক-এর মালমশলা। এবং তারপর, ২০১৯ সালে, ডেভিন বার্নস আর তাঁর সহকর্মীরা কাজটা আবার করলেন। এবারে আগে থেকে সব কিছু ঘোষণা করে – কী মাপব, কতজনের উপর, কীভাবে হিসেব কষব, সব রেজিষ্টার করা, যাতে ফল দেখে পরে অঙ্ক পাল্টানো না যায়। অনেক বেশী লোক, অনেক বেশী ট্রায়াল।ভাবছেন কি পাওয়া গেল পরীক্ষায়? ল্যাব কোটের কোন প্রভাবই পাওয়া গেল না!বার্নস দেখালেন, তাঁদের যন্ত্রপাতি এতই সূক্ষ্ম যে সাত মিলিসেকেন্ডের তফাৎও ধরা পড়ছে। কাজেই ‘ভুলটা আমাদের যন্ত্রের’ – এ ওজর চলবে না। ল্যাব কোটের এফেক্ট যদি থেকেও থাকে, সেটা এত ছোট যে মূল পরীক্ষায় ওটা ধরা পড়ারই কথা নয়।এবার এই সময়েই বিজ্ঞানীদের সঠিক চরিত্র বোঝা যায়। অ্যাডাম আর গ্যালিনস্কি একই জার্নালে একটা উত্তর লিখলেন যা পড়ে উনাদের প্রতি সম্মান বেড়ে যেতে বাধ্য। তাঁরা লিখলেন, রিপ্লিকেশনের কাজটা যোগ্য হাতে হয়েছে, এবং তার ফল তাঁদের নিজেদের স্ট্রুপ-ফলাফল নিয়ে সত্যিকারের সন্দেহ তৈরী করছে। ঝগড়া নয়, গোঁজামিল নয়, ‘আমাদের বোঝোনি’ নয়। তারপর তাঁরা বললেন – কিন্তু মূল ধারণাটা, যে আমরা যা পরি তা আমাদের ভাবা-অনুভব-করা-আচরণকে প্রভাবিত করে, সেটা অন্য অনেক পরীক্ষাতেই দাঁড়িয়ে আছে।এবং সেটা মিথ্যে নয়। যেমন ধরুন মাইকেল স্লেপিয়ানের কাজ, পাঁচটা পরীক্ষায় তিনি দেখিয়েছেন, ফর্ম্যাল পোশাক পরলে মানুষ বেশী বিমূর্ত ভাবে ভাবতে শুরু করে। গাছের দিকে না তাকিয়ে জঙ্গলটা দেখে, ছোট ছোট বিশদের বদলে বড় ছবিটা ধরে। মাঝখানে যে জিনিসটা কাজ করছে তা হল ‘ক্ষমতার অনুভূতি’ – টাই বাঁধলে যেমন নিজেকে খানিকটা তফাতের, খানিকটা উপরের মানুষ মনে হয়, আর দূর থেকে দেখলে সব কিছুই বড়-বড় দাগে দেখা যায়।তার মানে, সাদা কোট পরে বসে থাকলেই আপনি খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করবেন - এই সহজ, লোভনীয়, ইনস্টাগ্রামে-ছড়ানোর-মত সিদ্ধান্তটা টেকে না। কিন্তু জামার সাথে মনের একটা যোগ আছে – সেটা একটা ঘটনা। সাঁতারের পোশাক এবং একটা অঙ্ক পরীক্ষাজামা যে কেবল আত্মবিশ্বাস বাড়ায় তা নয়। কখনো কখনো সে কেস কেলো-ও করে দেয়। ১৯৯৮ সালে বারবারা ফ্রেডরিকসন এবং তাঁর সহকর্মীরা একটা পরীক্ষা করেছিলেন যেটার কথা আমি প্রথমবার পড়ে বেশ ভেবেছিলাম। ছাত্রছাত্রীদের বলা হল, এটা ‘আবেগ এবং ক্রেতা-আচরণ’ নিয়ে একটা গবেষণা – তাদের কিছু জিনিসপত্র পরে দেখে মতামত দিতে হবে। তারপর প্রত্যেককে একা একা একটা ট্রায়াল রুমে ঢুকিয়ে দেওয়া হল, সামনে আয়না। অর্ধেককে দেওয়া হল একটা সোয়েটার। বাকি অর্ধেককে সাঁতারের পোশাক। সেই পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই তাদের কিছু প্রশ্নপত্র ভরতে দেওয়া হল, তারপর কিছু খাবার চাখতে দেওয়া হল, এবং শেষে একটা অঙ্ক পরীক্ষা। ঘরে আর কেউ নেই, কেউ দেখছে না। তবুও -মেয়েদের ক্ষেত্রে সাঁতারের পোশাক জন্ম দিল লজ্জা এবং একটা তীব্র আত্ম-বিতৃষ্ণার। তারা খাবার কম খেলো, নিজেকে সংযত করলো এবং অঙ্ক পরীক্ষায় খারাপ করলো সোয়েটার-পরা মেয়েদের তুলনায়। গবেষকদের ব্যাখ্যা: শরীরটাকে যখন বাইরের একজোড়া চোখ দিয়ে দেখতে শুরু করি, তখন মাথার একটা বড় অংশ ওই পাহারা দেওয়ার কাজেই খরচ হয়ে যায়। অঙ্ক করার জন্য যা পড়ে থাকে, তা কম।ছেলেদের ক্ষেত্রে? সাঁতারের পোশাক পরে তারা লজ্জা তো পায়নি বটেই বরং পেয়েছে তাদের হাসি। তারা লিখেছে নিজেদের ‘বোকা-বোকা’, ‘অস্বস্তিকর’, ‘হাস্যকর’ লাগছে। গবেষকরা রিপোর্টে লিখেছেন, ট্রায়াল রুমের বন্ধ দরজার ওপাশ থেকে কয়েকজনের হাসির আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। তাঁদের খাওয়ায় কোন হেরফের হয়নি। অঙ্কেও না, বরং সামান্য ভালোই করেছিলেন।একই ঘর, একই আয়না, একই কম কাপড়। একদলের কাছে সেটা ঠাট্টা, আর একদলের কাছে বিচারসভা।এটা আমাদের বাড়ির ভিতরেও রোজ ঘটে, শুধু আমরা নাম দিই না। মেয়েটির ‘এই জামায় আমাকে মোটা লাগছে না তো?’ আর ছেলেটির ‘যা হোক একটা গলিয়ে নিয়েছি’ – এই দুটো বাক্যের মধ্যে যে অসমান দূরত্ব, তার একটা মাপ আছে, এবং সেই মাপটা কারো তৈরী করা। বাজার এই পেপারগুলো পড়ে ফেলেছেভাবছেন এই যে সব গবেষণাপত্রের কথা লিখলাম, তারা শুধু জার্নালের পাতায় ধুলো খাচ্ছে? মোটেই না – মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টগুলো এগুলো আমাদের অনেক আগে পড়েছে। ‘অ্যাথলেজার’ শব্দটা শুনেছেন? অ্যাথলেটিক আর লেজার মিলিয়ে বানানো – ব্যায়ামের পোশাক, যা ব্যায়ামের বাইরেও পরা হয়। লেগিংস, জগার, হুডি, ইয়ো গা প্যান্ট। যে জিনিসটা জিমে পরার কথা ছিল, সেটা এখন অফিসে, ব্রাঞ্চে, মুদির দোকানে, বিমানবন্দরে। বাজারের মাপ? সমীক্ষা-সংস্থাগুলোর হিসেব একেক রকম, কিন্তু সবাই একমত যে ২০২৫ সালে এটা চারশো বিলিয়ন ডলারের [১ বিলিয়ন ডলার মানে মোটামুটি ১০০ কোটি টাকা] আশেপাশে দাঁড়িয়ে এবং আগামী দশ বছরে দ্বিগুণেরও বেশী হবে। একটা প্যান্টের ব্যবসা, যেটা কার্যত পঁচিশ বছর আগেও ছিল না।২০১৯ সালে সারা লিপসন এবং তাঁর সহকর্মীরা প্রথমবার এই ট্রেন্ডটাকে শরীর-ভাবনার আয়নায় ফেললেন – কুড়িজন নিয়মিত অ্যাথলেজার-পরা মহিলার সাথে দীর্ঘ কথাবার্তা। যা বেরিয়ে এল, তা প্রায় নিখুঁত এক ফাঁদের নকশা।এক, লেগিংস পরলে তাঁদের মনে হয় তাঁরা ফিট, স্বাস্থ্যসচেতন, আত্মবিশ্বাসী – পোশাকটা যেন একটা লাইফস্টাইলের সদস্যপত্র। এনক্লোদ্‌ড কগনিশন হাতেনাতে।দুই, একই পোশাক শরীরটাকে এমন ভাবে ধরে রাখে যে যেখানে যেখানে ‘সমস্যা’, সেগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। একজন বলেছেন, আঁটোসাঁটো জিনিস পরলে আমি ঠিক বুঝতে পারি কোথায় কোথায় কাজ করতে হবে। আর একজন আরো এগিয়ে গিয়ে বলেছেন, এই কারণেই তাঁর মাথায় প্লাষ্টিক সার্জারির কথা আসতে শুরু করেছে।তিন, তাই তাঁরা জিমে যান। জিমে গিয়ে শরীর বদলায়, বদলটা লেগিংসে দেখা যায়, দেখে ভালো লাগে, আরো জিমে যান।চার, এবং এটাই সবচেয়ে মনে হয় ইন্টারেষ্টিং – কুড়ি জনের মধ্যে উনিশ জনই স্পষ্ট বলেছেন যে এই গোটা ব্যাপারটা অবাস্তব, অসম্ভব, বিজ্ঞাপনের দুনিয়া বাস্তবের সাথে সম্পর্কহীন। তাঁরা জানেন, কিন্তু তবুও - এটাকে গবেষকরা বলেছেন ‘কগনিটিভ ডিসোন্যান্স’। আমি বলব, এটাকে বলে ভালো ব্যবসা। আমার পিসতুতো দাদা অরবিন্দ যেটা ভালো বোঝে খুব! যে পণ্যটা আপনার অভাববোধ তৈরী করে এবং সেই অভাব মেটানোর পথও দেখায়, এবং যার দাম আশি ডলার – সেই পণ্যের চেয়ে নিখুঁত জিনিস বাজারে খুব বেশী নেই। জিমের সদস্যপদটা পর্যন্ত এত ভালো কাজ করে না, কারণ জিমে না গেলে অন্তত ব্যাপারটা চোখে পড়ে না। লেগিংস রোজ সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হিসেব চায়!ইউনিফর্ম – ক্ষমতার সবচেয়ে সস্তা রূপএবার একটু অন্য দিকে তাকানো যাক। আমাদের হাউসিং সোসাইটির সিকিউরিটি গার্ডরা অনেকেই যেভাবে ডেলিভারী বয়-গুলোকে হ্যাটা করে সেটা দিনের পর দিন দেখার পর এই দিকটা নিয়ে না কিছু লিখলে আমার নিজেরই খারাপ লাগবে। ১৯৯৬ সালে আমেরিকার শিক্ষা দপ্তর হিসেব করে দেখল, মাত্র ৩ শতাংশ সরকারী স্কুলে ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক। প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন বললেন, ইউনিফর্ম ক্লাসঘরকে বেশী শৃঙ্খলাবদ্ধ, বেশী সুশৃঙ্খল করে তোলে – স্কুলগুলোর উচিত এটা চালু করা। ২০০৫ সালের মধ্যে সংখ্যাটা দাঁড়াল ১৪ শতাংশে। চারগুণেরও বেশী।কিন্তু সত্যিই কি এত পজিটিভ এফেক্ট পাওয়া যায় ?এলিসাবেতা জেন্টিলে আর স্কট ইমবারম্যান দক্ষিণ-পশ্চিম আমেরিকার এক বিশাল শহুরে স্কুল ডিষ্ট্রিক্টের তথ্য নিয়ে বসলেন। সুবিধেটা এই যে সেখানে প্রতিটা স্কুল নিজে ঠিক করে ইউনিফর্ম চালু করবে কিনা, এবং আলাদা আলাদা বছরে করে। ফলে একই ছাত্রকে ইউনিফর্মের আগে আর পরে দু’ভাবেই দেখা যায়।ফল? উঁচু ক্লাসে হাজিরা সামান্য বাড়ে, বছরে বাড়তি আধখানা দিন মত। শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কোন উল্লেখযোগ্য হেরফের নেই। পরীক্ষার নম্বরে কার্যত কিছুই না।তবে একটা জায়গায় বেশ বড় প্রভাব পাওয়া গেল, এবং সেটা প্রায় কেউ ভাবেইনি: প্রাথমিক স্কুলে ইউনিফর্ম চালু হবার পর শিক্ষকরা চাকরী ছেড়ে যাওয়া অনেক কমে গেল। গড়ে যেখানে পঁচিশ শতাংশ শিক্ষক প্রতি বছর চলে যেতেন, সেখানে পাঁচ শতাংশ কমে গেল।অর্থাৎ ইউনিফর্মে ছেলেমেয়েদের কিছু বিশেষ হল না। যা হল, তা হল শিক্ষকদের। একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্লাসঘরের চেহারা দেখলে শিক্ষকের নিজের মনে হয় জায়গাটা চালানোর মত। মজাটা এখানেই – ইউনিফর্ম শিশুদের বদলায় না, বদলায় শিশুদের দিকে তাকিয়ে থাকা লোকটাকে।এই বিভ্রম কতদূর যেতে পারে, তার একটা মোক্ষম উদাহরণ পাওয়া যায় বেসরকারী নিরাপত্তারক্ষীদের ইউনিফর্ম নিয়ে লেখাপত্রে। আমেরিকার প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের লোকেদের প্রায়-পুলিশ পোশাক পরিয়ে এসেছেন – গাঢ় নীল শার্ট, ব্যাজ, বেল্টে ঝোলানো সরঞ্জাম। কারণ? লোকে ভয় পাবে, কথা শুনবে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে এটা রীতিমতন নিষিদ্ধ – পোশাক এমন হতে পারবে না যাতে মনে হয় লোকটি সরকারী আইনরক্ষী।আর যাঁরা এই নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁরা বলছেন, আইন বাদ দিলেও ব্যাপারটা ব্যবসার দিক থেকেই বোকামি। কারণ পুলিশের পোশাক পরলে মানুষ পুলিশের মত সেবা আশা করে – যা এঁরা দিতে পারেন না, দেবার অধিকারও নেই। আবার পুলিশের প্রতি মানুষের যত রাগ, বিরক্তি, তিক্ত অভিজ্ঞতা – সে সবও ছিটকে এসে এঁদের গায়ে লাগে। ঠকানোর চেষ্টা ধরা পড়লে মানুষ ক্ষমা করে না। লেখকদের যুক্তিটা চমৎকার: কর্তৃত্ব আসে আইন থেকে, আর ব্যক্তিগত গুণ থেকে। পোশাকের রঙ থেকে নয়। পৃথিবীর নানা দেশে পুলিশের পোশাক সাদা, খাকি, বাদামী, সবুজ, কালো – সব রকমই আছে। তাহলে কর্তৃত্ব কোন রঙে? লাল স্নিকার এবং যাঁরা নিয়ম ভাঙার লাইসেন্স পানএতক্ষণ পড়ে যদি ভাবেন তাহলে সবাই স্যুট পরাই ভালো, তাঁদের বলি একটু সবুর করুন। আমি নিজে যেহেতু কোট, স্যুট ইত্যাদি পরি না, তাই সেগুলো না পরলেও তেমন কিছু পার্থক্য হয় না এমন কিছু স্টাডির প্রতি দুর্বলতা আছে। সিলভিয়া বেলেৎসা, ফ্রান্সেসকা জিনো আর অ্যানাট কেইনান, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের এই তিনজন এক অদ্ভুত জিনিস দেখালেন, যার নাম দিয়েছেন ‘লাল স্নিকার এফেক্ট’। ধরুন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ফর্ম্যাল মিটিং-এ ঢুকলেন লাল স্নিকার পায়ে। বা ধরুন এক ভদ্রলোক দামী বুটিকে ঢুকলেন জিমের পোশাকে। ছাত্র বা দোকানের বিক্রেতা কী ভাবে?গবেষণা বলছে – তাঁরা লোকটিকে বেশী উঁচু জাতের, বেশী ক্ষমতাশালী, বেশী যোগ্য বলে ধরে নেন। কারণ যুক্তিটা মাথার ভিতরে এই রকম চলে: এই লোকটা তো জানে নিয়মটা কী। তবুও ভাঙছে। মানে ভাঙার সামর্থ্য আছে। মানে ভয় পাবার কিছু নেই। মানে বড় লোক।এই যুক্তিটা দিয়েই সিলিকন ভ্যালির হুডি, স্টিভ জবসের কালো টার্টলনেক, বিলিয়নেয়ারের ছেঁড়া জিন্স। কিন্তু – এবং এই ‘কিন্তু’-টা বেশ জটিল - গবেষকরা খুব যত্ন করে দেখিয়েছেন কখন এই ম্যাজিক কাজ করে না। এক, যদি দর্শক জায়গাটাকে না চেনে (মানে নিয়মটাই যদি না জানে, তাহলে নিয়ম ভাঙাটা দেখবে কী করে?)। দুই, যদি মনে হয় লোকটা ইচ্ছে করে নয়, বেখেয়ালে ভুল করেছে। তিন, যদি সেখানে ফর্ম্যাল হবার কোন প্রত্যাশাই না থাকে।অর্থাৎ, নিয়ম ভাঙার লাইসেন্স পাওয়া যায় কেবল তখনই, যখন সবাই জানে যে আপনার নিয়ম মানার আর দরকার নেই। আমার মত লোক টি-শার্ট পরে গেলে কোন ফ্যাক্টরির গেটে হয়ত দাঁড় করিয়ে দেবে – আর মার্ক জুকারবার্গ হুডি পরে গেলে সেটা দর্শন।এ ব্যাপারটা আমাদের গ্রামের দিকে অন্য চেহারায় বহুদিন ধরে আছে। বড়লোক বড়ির কর্তা ময়লা ধুতি পরে বাজার করতে বেরুতে পারেন, তাতে কারো ভুল হয় না। ভুল হয় না কারণ সবাই জানে ধুতিটা কার। দারিদ্র্য আর সাদাসিধেপনার মধ্যে যে তফাৎ, সেটা কাপড়ে নয় – সেটা দর্শকের মাথায়।লিফটের পাশের আয়নাসমাজতত্ত্বে এই গোটা ব্যাপারটার একটা সুন্দর ব্যাখ্যা আছে, যেটা দিয়েছিলেন গ্রেগরি স্টোন, ১৯৬২ সালে। তাঁর মতে পোশাক দিয়ে পরিচয় তৈরী হয় দুটো ধাপে। প্রথম ধাপ – যাকে তিনি বলেছেন ‘প্রোগ্রাম’ – আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখি এবং ঠিক করি আমি কী বলতে চাইছি। দ্বিতীয় ধাপ – ‘রিভিউ’ – অন্যরা আমাকে দেখে এবং প্রতিক্রিয়া জানায়। দুটো যদি মিলে যায়, আমার ‘আমি’-টা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যদি না মেলে? তাহলে, স্টোন বলছেন, মানুষ নিজেকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে শুরু করে। ভাবলে বেশ ভজকট মনে হয়! মানে আমার নিজের সম্পর্কে ধারণাটা পুরোপুরি আমার নিজের হাতে নেই। ওটা একটা যৌথ প্রকল্প, যেখানে ভোট দেয় বাসের সহযাত্রী, অফিসের রিসেপশনিষ্ট, আর গেটের সিকিউরিটি ছেলেটি। সাংগঠনিক পোশাক নিয়ে কাজ করা এক গবেষকদলের একটা কথা মাথায় গেঁথে গেছে। তাঁরা বলছেন, অফিসের সবচেয়ে অবহেলিত অথচ সবচেয়ে ক্ষমতাশালী যন্ত্রটি হল আয়না এবং লক্ষ্য করুন, আয়নাগুলো সাধারণত বসানো থাকে লিফটের পাশে। কেন? কারণ ঠিক ওইখানেই দুটো জগতের সীমানা - ঘর আর অফিস, ব্যক্তিগত আর সরকারী। কলার ঠিক করে নেওয়া, চুলে হাত বুলিয়ে নেওয়া, শাড়ির আঁচলটা টেনে দেওয়া – ওটা প্রসাধন নয়। ওটা সীমান্তে পাসপোর্ট দেখানো। এবং একটা নতুন জামার গন্ধতাহলে কি দাঁড়ালো মোটের উপর? এত পরীক্ষা, এত পরিসংখ্যান, এত ব্যাখ্যা! কিন্তু আমাদের অনেকের মনে যে ছবিটা বা ছবিগুলো আসল হিসেবে গেঁথে থাকে, সেটা কোন জার্নালে ছাপা নেই।ছোটবেলায় বছরে জামা হত কটা? গোটা কয়েক এবং তাদের প্রায় সব কটাই কেনা হত দুর্গা পুজোয়। কেনা হত মাসখানেক আগে, তারপর আলমারীতে তোলা থাকত, প্লাষ্টিকের প্যাকেট সমেত। মাঝে মাঝে খুলে দেখা হত বাড়িতে কেউ এলে। শুঁকে দেখা হত। নতুন কাপড়ের সেই গন্ধ – একটু কড়া, একটু মিষ্টি, খানিকটা রঙ আর খানিকটা মাড় – ওটা আসলে গন্ধ ছিল না, ওটা ছিল একটা প্রতিশ্রুতি। পুজোর সকালে ওটা গায়ে চড়ালে আমি একটু অন্য মানুষ হয়ে যাব।এবং হতাম না কি আমরা? আমার তো মনে হয় সত্যিই হতাম এবং এখনো অনেকেই হয়। বুক চিতিয়ে হাঁটতাম, পাড়ার যে ছেলেটার সাথে ঝগড়া তার সামনে দিয়ে বার তিনেক ঘুরে আসতাম, আর মন্ডপে যে মেয়েটি প্রতি বছর আসত তার দিকে খানিকটা বেশী সাহস নিয়ে তাকাতাম। অ্যাডাম আর গ্যালিনস্কি এটার নাম দিয়েছেন এনক্লোদ্‌ড কগনিশন। আমরা নামটা জানতাম না, কিন্তু জিনিসটা জানতাম।তফাৎ শুধু এই যে তখন জামাটা ছিল একটা ঘটনা – বছরে একবার। আর এখন জামা একটা অবিরাম ব্যবস্থা। এখন কেউ আপনাকে প্রতিশ্রুতি বিক্রী করে না; বিক্রী করে একটা অভাববোধের সাবস্ক্রিপশন। লেগিংস কিনবেন যাতে ফিট মনে হয়, ফিট নন বলে জিমে যাবেন, জিমের জন্য আরো লেগিংস কিনবেন। স্যুট কিনবেন যাতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, তারপর দেখবেন সহকর্মীর স্যুটটা আরো ভালো।গবেষণাগুলো পড়ে আমি এই সিদ্ধান্তে আসিনি যে কাল থেকে টি-শার্ট পরে অফিস যাব – সেটাতে নতুন কিছু নেই, কারণ আমি ট-শার্ট আর জিন্স পরেই অফিস যাই। তাহলে এই বিষয়ের পেপারগুলো পড়ি কেন? আসলে ব্যাপারটা বুঝতে চাই – বুঝতে চাই মানুষের মনস্তত্ত্ব। তো যা বুঝলুম তার একটা দিক হল, সরল ভাবে বললে - সকালে একটা জামা বাছি যেটা পরে অফিসে যাব, আর সারাদিন ধরে অন্যের জামা দেখে তাদের বিচার করি। প্রথম কাজটা নিয়ে আমরা অনেক ভাবি, অনেক খরচ করি, অনেক দুশ্চিন্তা করি।দ্বিতীয় কাজটা নিয়ে আমরা কার্যত কিছুই ভাবি না। ওটা হয়ে যায়, আপনা আপনি, নিঃশব্দে, চোখের পলক পড়ার আগেই। ফরসাইথের ভিডিওতে আওয়াজ ছিল না – তবুও ১০৯ জন লোক দিব্যি বলে দিলেন কে চাকরীটা পাবার যোগ্য।আমার মনে হয়, বদলানোর জায়গাটা ওইখানে। নিজের জামাকাপড় নিয়ে যত মাথা ঘামাই, তার এক শতাংশও যদি অন্যের জামাকাপড় নিয়ে নিজের জাজমেন্ট-টাকে চ্যালেঞ্জ করার কাজে খরচ করতাম, তাহলে হয়ত সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নতি হবার ব্যাপারে আমার নিজের একটু অবদান থাকত! এখন প্রশ্ন হল, আজ সকালে আপনি যে পোষাকটা পরে বেরিয়েছেন – সেটা কে বেছেছে? আপনি? না কি আজ যাদের সাথে দেখা হবে, তারা?তথ্যসূত্র1) Adam, H., & Galinsky, A. D. (2012). Enclothed cognition. Journal of Experimental Social Psychology, 48(4), 918–925.2) Burns, D. M., Fox, E. L., Greenstein, M., Olbright, G., & Montgomery, D. (2019). An old task in new clothes: A preregistered direct replication attempt of enclothed cognition effects on Stroop performance. Journal of Experimental Social Psychology, 83, 150–156.3) Adam, H., & Galinsky, A. D. (2019). Reflections on enclothed cognition: Commentary on Burns et al. Journal of Experimental Social Psychology, 83, 157–159.4) Slepian, M. L., Ferber, S. N., Gold, J. M., & Rutchick, A. M. (2015). The cognitive consequences of formal clothing. Social Psychological and Personality Science, 6(6), 661–668.5) Forsythe, S. M. (1990). Effect of applicant's clothing on interviewer's decision to hire. Journal of Applied Social Psychology, 20(19), 1579–1595.6) Fredrickson, B. L., Roberts, T.-A., Noll, S. M., Quinn, D. M., & Twenge, J. M. (1998). That swimsuit becomes you: Sex differences in self-objectification, restrained eating, and math performance. Journal of Personality and Social Psychology, 75(1), 269–284.7) Lönnqvist, J.-E. (2017). Just because you look good, doesn't mean you're right. Personality and Individual Differences, 108, 133–135.8) Berggren, N., Jordahl, H., & Poutvaara, P. (2017). The right look: Conservative politicians look better and voters reward it. Journal of Public Economics, 146, 79–86.9) Hamermesh, D. S. (2011). Beauty Pays: Why Attractive People Are More Successful. Princeton University Press.10) Lipson, S. M., Stewart, S., & Griffiths, S. (2020). Athleisure: A qualitative investigation of a multi-billion-dollar clothing trend. Body Image, 32, 5–13.11) Gentile, E., & Imberman, S. A. (2012). Dressed for success? The effect of school uniforms on student achievement and behavior. Journal of Urban Economics, 71(1), 1–17.12) Bellezza, S., Gino, F., & Keinan, A. (2014). The red sneakers effect: Inferring status and competence from signals of nonconformity. Journal of Consumer Research, 41(1), 35–54.13) Johnson, K., Lennon, S. J., & Rudd, N. (2014). Dress, body and self: Research in the social psychology of dress. Fashion and Textiles, 1:20.14) Johnson, K. K. P., Yoo, J.-J., Kim, M., & Lennon, S. J. (2008). Dress and human behavior: A review and critique. Clothing and Textiles Research Journal, 26(1), 3–22.15) Lennon, S. J. (2012). Clothing and adornment: Social psychology perspectives. In Encyclopedia of Body Image and Human Appearance (pp. 321–327). Elsevier.16) Fredrickson, B. L., & Roberts, T.-A. (1997). Objectification theory: Toward understanding women's lived experiences and mental health risks. Psychology of Women Quarterly, 21(2), 173–206.17) Stone, G. P. (1962). Appearance and the self. In A. M. Rose (Ed.), Human Behavior and Social Processes. Houghton Mifflin.18) Sena, J. F. (2015). Presenting a professional image. In Conflict Management for Security Professionals (Ch. 4). Elsevier/Butterworth-Heinemann.19) Harding, N., & Tomkins, L. (2012/2013). 'Do I look right?' De-familiarizing the organizational fashioning of the body. European Management Journal (organizational dress and the mirror).20) Glick, P., Larsen, S., Johnson, C., & Branstiter, H. (2005). Evaluations of sexy women in low- and high-status jobs. Psychology of Women Quarterly, 29(4), 389–395.21) Morris, T. L., Gorham, J., Cohen, S. H., & Huffman, D. (1996). Fashion in the classroom: Effects of attire on student perceptions of instructors in college classes. Communication Education, 45(2), 135–148.22) Fortune Business Insights / Grand View Research (2026). Athleisure Market Size, Share & Growth Reports (global market estimates, 2025–2026). 
    এ্যাস্ট্রো ট্যুরিজম, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও রাত আকাশ । - Somnath mukhopadhyay | এ্যাস্ট্রো ট্যুরিজম, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও রাত আকাশ। ‘এ্যাস্ট্রো ট্যুরিজম’ ব্যাপারটা কি একদম নতুন ? অন্তত আমাদের দেশে? মোটেই তেমন নয় – এমনটাই জানালেন আমার এক বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদ বন্ধু। তবে রাত আকাশ পাঠের বহু পুরনো সাবেকি ব্যাপারটাকেই আপাদমস্তক বাণিজ্যিক মোড়কে মুড়ে পরিবেশনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে বিদেশের পাশাপাশি আমাদের দেশেও। একথা মানতেই হবে যে সারা দুনিয়া জুড়েই এখন পর্যটন শিল্পের রমরমা। এই ক্ষেত্রের উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ ঘটছে দেশে দেশে। দেশের মানচিত্র ঢুঁড়ে খুঁজে আনা হচ্ছে নিরিবিলি এবং অপরিচিত কোনো ঠিকানা, আর তারপরেই তড়িঘড়ি করে পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কার করা হচ্ছে যাতে র‌ইসদার পর্যটকদের বেড়াতে বেরিয়ে সামান্যতম অসুবিধা না হয়, ঘরের বাইরে বেরিয়েও তাঁরা যেন নিয়ত অনুভব করেন নিজেদের বাড়িতে থাকার অখণ্ড নিরাপত্তা ও আনন্দ, সুখ ও বিলাস। এটা তো গেল এই শিল্পের সাম্প্রতিক বিকাশধারার একটা দিক। আরও একটা দিক এর‌ই পাশাপাশি আলোচ্য, তা হলো পর্যটনের উদ্দেশ্যগত ভাবনার পরিবর্তন। কেমন ব্যাপারটা? একটু খুলেই বলি। ধরুন আপনি দিল্লি যাচ্ছেন ঘুরতে। কেন যাবেন দিল্লি ? আপনার সামনে অনেক অনেক পছন্দের জানালা খুলে যাবে – দেশের রাজধানী, ঐতিহাসিক স্থাপত্য দর্শন, পাশাপাশি আপনি ঘুরে আসতে পারেন দিল্লির যমুনা পাড়ের ঘিঞ্জি বস্তিতে, দেখে আসতে পারেন সেখানে থাকা সমাজের একেবারে প্রান্তিক স্তরের মানুষজনের নিবিড় লড়াকু জীবন যাপনের অমলিন ছবি। অনুভব করতে পারেন তাঁদের আশা -আকাঙ্খা, স্বপ্ন - ভবিষ্যতের খণ্ডচিত্রকে। অনেক অপশনের মধ্য থেকে আপনি আপনার পছন্দের একটিকে বেছে নিতে পারেন। অনেক কাল আগে শুনেছিলাম টেলর মেড ট্যুরিজমের কথা। এটা বোধহয় তেমনি একটা ব্যবস্থা। এভাবেই সময়ের হাত ধরে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বদলে বদলে যাচ্ছে দর্শনীয় বস্তুর অভিমুখ। আমাদের নিয়মের ঘোরাঘুরির চেনা ছন্দ – গেলাম - ঘুরলাম - দেখলাম- খেলাম- মস্তি করলাম গোছের ট্যুরিজম এখন অনেক বেশি করে বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক হয়ে উঠছে। যেমন ধরুন আপনি খুব কাছ থেকে পাখিদের দেখতে পছন্দ করেন বা রাত আকাশের তারাদের সঙ্গে পরিচিত হতে চান – সেই অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন আপনার বেড়ানোর জায়গাকে। আর এখান থেকেই উঠে আসছে পর্যটনের নতুন ধারনা বা কনসেপ্ট। এই পর্যন্ত করা আলোচনাকে এখানেই থুক করে রেখে, অন্য একটি বিষয় নিয়ে কথা কয়ে নিই। বছর কয়েক আগের কথা। খবরের শিরোনামে উঠে এলো এক নতুন ধারার খবর। লিওনয়েড মিটিওর শাওয়ার হবে ব্যাপক মাত্রায়। সহজ কথায় সিংহ রাশি থেকে উল্কা পাতের ঘটনা ঘটবে, প্রতি ঘন্টায় প্রায় পঁচিশটি করে। ব্যস্! লাগাতার প্রচারের ঠেলায় চেগে উঠলাম সকলে। অচিরেই টেলিভিশনের পর্দার দখল নিলেন এই ব্যাপারে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞেরা। এমন উল্কাপাতের ঘটনা আকাশমণ্ডলে নতুন নয়, তবে সেবার ছিল বিশেষ জো ! ধূলি ধূসরিত কলকাতার আকাশে সেই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ মিলবে না বুঝেই জনা কুড়ি ছাত্রকে বগলদাবা করে নিয়ে আমরা তিন মাস্টারমশাই ছুটলাম কলকাতা থেকে বেশ খানিকটা দূরে থাকা এক জনপদের উদ্দেশ্যে। সারারাত জেগে,সবাই আকাশের দিকে মাথা উঁচিয়ে থেকে ঘাড়ে ব্যাথা নিয়ে যখন ভোরের ট্রেনে বাড়ি ফিরে এলাম তখন সবার মুখেই ফ্লপ স্টার শো- এর কথা। সেবার সবথেকে হতাশার শিকার হয়েছিল টেলিমিডিয়ার মানুষজন। তবে রাত আকাশ পর্যবেক্ষণের একটা মানসিকতা রাতারাতি বেশ চাগিয়ে উঠেছিল আপামর জনসাধারণের মধ্যে। এটাও কিন্তু মোটেই কম পাওয়া নয়। যদিও সেই হুজুগ সুদূরপ্রসারী হয় নি। অথচ নিয়মিত রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের অভ্যাস বহু প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মধ্যে প্রচলিত আছে। রাতের আকাশে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান দেখেই মানুষ এককালে ঠিক করেছে স্থানান্তরে গমনের সঠিক কাল, কৃষির পত্তনের পর ফসল বোনার উপযুক্ত সময় এই সব। প্রাচীন ভারতীয়দের সাথে সাথে গ্রীক, রোম, মিশর, চিন প্রভৃতি দেশের মানুষের ভেতরে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের এক আশ্চর্য পরম্পরা গড়ে উঠেছিল। অসীম নিষ্ঠায় ও অন্তহীন ধৈর্য্য নিয়ে সেইসব নাম গোত্রহীন মানুষেরা একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন আকাশলিপির পরিচিতি। আজ‌ও সেই খোঁজার কাজ জারি রেখেছেন জ্যোতির্বিদরা।  আকাশচিত্র পাঠের কথাই যখন উঠে এলো তখন আমাদের ঠাকুর কবির বাল্য স্মৃতির কথা ভুলি কি করে? “ বয়স তখন হয়তো বারো হবে …. পিতৃদেবের সঙ্গে গিয়েছিলুম ড্যালহৌসি পাহাড়ে, সমস্ত দিন ঝাঁপানে করে গিয়ে সন্ধ্যাবেলায় পৌঁছুতুম ডাকবাংলায়। তিনি চৌকি আনিয়ে আঙিনায় বসতেন। দেখতে দেখতে, গিরি শৃঙ্গের বেড়া- দেওয়া নিবিড় নীল আকাশের স্বচ্ছ অন্ধকারে তারাগুলি যেন কাছে নেমে আসত। তিনি আমাকে নক্ষত্র চিনিয়ে দিতেন, গ্রহ চিনিয়ে দিতেন। শুধু চিনিয়ে দেওয়া নয়, সূর্য থেকে তাদের কক্ষচক্রের দূরত্বমাত্রা, প্রদক্ষিণের সময় এবং অন্যান্য বিবরণ আমাকে শুনিয়ে যেতেন।’’ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সখেদে বলেন শহরের রাত আকাশ চুরি হয়ে গেছে আলোকাসুরের দাপটে। রাতের আঁধার দূর করতে শহরে শহরে বৈদ্যুতিক আলো জ্বালাবার ধূম যত বেড়েছে তত‌ই আমাদের দৃষ্টি সীমার আড়ালে চলে গেছে দূরলোকের গ্রহ নক্ষত্রেরদল। এই সমস্যার কথা জানাতে গিয়ে লেখা হয়েছিল একটি বিশেষ নিবন্ধ – আলোয় দূষণ ভরা। আমাদের দেশে শহরবাসী মানুষেরা এই ব্যাপারে খুব একটা সচেতন না হলেও, বিদেশের মানুষজন কিন্তু এই বিষয়ে বেশ সচেতন। আর হয়তো এই অভাববোধ থেকেই খুব দ্রুত প্রসার লাভ করছে এ্যাস্ট্রো ট্যুরিজমের মতো পর্যটনের সম্পূর্ণ নতুন ধারনা। পকেটের পয়সা খরচ করে প্রাণ মন ভরে অপার বিস্ময়ে ভরা রাত আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য ছুটছে দূরে আরও দূরে। আর এই সূত্রেই বেড়ে চলেছে এ্যাস্ট্রো ট্যুরিজমের জনপ্রিয়তা। পর্যটনের এই বিশেষ ধারাটিকে ডার্ক স্কাই ট্যুরিজম বা আঁধার আকাশ পর্যটন নামেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দুনিয়া জুড়েই। আমাদের মাথার ওপর থাকা আকাশপটের দৃশ্য ক্ষণে ক্ষণেই যায় বদলে; ফলে তা সবসময়ই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে। সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের মতো মহাজাগতিক ঘটনা নিয়ে সচেতন, বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের চিরন্তন আগ্রহ ডার্ক স্কাই ট্যুরিজমকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে অতিমারির সময়ে মানসিক চাপ ও অবসন্নতাকে কাটাতে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানুষজন এ্যাস্ট্রো ট্যুরিজমের পথে হাঁটতে শুরু করেন অনেকটাই নিরুপায় হয়ে। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে রাত আকাশ পর্যবেক্ষণের প্রতি নতুন করে অনুরাগ জন্মায়। এঁরাই এই ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক হিসেবে মান্যতা পেয়েছেন পরবর্তীতে। এদেশে আকাশ পর্যবেক্ষণের পরম্পরা যে সুপ্রাচীন এবং গৌরবময় সে কথা আগেই বলেছি। যন্তর মন্তরের কথা চিন্তা করুন। সেই কবেই রীতিমতো রাজকীয় উদ্যোগে ‘খ’ শাস্ত্র চর্চার আয়োজন করা হয়েছিল আমাদের দেশে। রাজপুত রাজা সোয়াই জয় সিং ১৭৩৪ সালে এই মানমন্দির তৈরি করান। বর্তমানে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত এই মানমন্দিরটি হলো পজিশনাল অ্যাস্ট্রোনমি চর্চার এক‌ বিশিষ্ট কেন্দ্র। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সূর্যঘড়ি এখানেই স্থাপন করা হয়েছিল। যন্তর মন্তরের প্রতিষ্ঠা ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার এক‌ উজ্জ্বল স্মারক। ভারতে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার এক সুপ্রাচীন ও গৌরবময় পরম্পরা রয়েছে। দূরের আকাশকে নিয়ে ভারতীয়দের নিবিড় আগ্রহ ও চর্চার ইতিহাসতো সুপ্রাচীন। দলবেঁধে পর্যটনের সূত্রে আকাশ চর্চা নয়। নিজের ঘরে থেকেই খালি চোখে অথবা সামান্য কিছু উপকরণের সাহায্য নিয়ে চলেছে তাঁদের রাত আকাশ পাঠের নিমগ্ন সাধনা। এমনি একজন নিমগ্ন জ্যোতির্বিদ ছিলেন পাঠানি সামন্ত। আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার এক প্রত্যন্ত গ্রামে বসে তিনি আকাশকে তাঁর একান্ত গবেষণার বিষয় করে তুলেছিলেন। জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতির প্রচলিত সূত্রকে কাজে লাগিয়ে তিনি জ্যোতিষ্কদের দূরত্ব নির্ণয় করেছেন নিখুঁত ভাবে। বাঁশ আর কাঠের সাহায্যে তিনি তৈরি করেছিলেন বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র যা ছিল তাঁর নিমগ্ন সাধনার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সময় গণনার কাজের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন এক বিশেষ ধরনের সূর্যঘড়ি। নিজের আবিষ্কার ও সিদ্ধান্তের কথা তিনি লিখে গেছেন তাঁর লেখা সিদ্ধান্ত দর্পণ নামের বিখ্যাত গ্রন্থে। দেশ বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন অগণিত সংখ্যক নিভৃত জ্যোতির্বিদদের কথা বলতে গেলে এই নিবন্ধটির পরিসর অনেকটাই বেড়ে যাবে। তাই মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। কথা শুরু করেছিলাম এ্যাস্ট্রো ট্যুরিজমের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে। বিষয়টি এদেশে এখনও পর্যন্ত শৈশব অবস্থায় থাকলেও পশ্চিমি দেশগুলোতে এই নতুন নৈশ অভিযান রীতিমতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতে ট্যুর অপারেটররা ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গাকে বেছে নিয়েছেন রাত আকাশ পাঠের আসর বসানোর জন্য। যদিও এই তালিকা একেবারে সর্বসম্মত এমন নয়। পর্যটন শিল্পের মতো একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করে তুলতে সকলেই চাইবেন নতুন নতুন নিরিবিলি পরিবেশে এই রাত আসর পাততে। পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পছন্দের জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি জায়গার নাম। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এমন জায়গাগুলোর নাম। ১. স্পিতি উপত্যকা – এখানে পৌঁছনো বেশ কষ্টসাধ্য। তবে একবার এই আশ্চর্য উপত্যকায় পা রাখলে এক অপার্থিব অভিজ্ঞতা হবে রাত আকাশের সান্নিধ্যে। ২.চুমাথানজেরি – হিমালয়ের বুকে থাকা লাদাখের আরও এক আস্তানা যেখান থেকে রাত আকাশ দেখা এক অবিস্মরণীয় আনন্দের উৎস। ৩. সার্চু ক্যাম্প – একবার পৌঁছলে আর ফিরে দেখতে হবেনা। এটিও লাদাখে। ৪.ইয়েরকদ – দক্ষিণ ভারতের এখানে এলে রাত‌ আকাশকে হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেলবেন। ৫.লেহ্ – আবার সেই লাদাখেই ফিরতে হবে তারাদের তাড়নায়। ৬. মাহুলি – মহারাষ্ট্রের থানে জেলার অত্যন্ত পরিচিত এই জায়গায় বহু পর্যটকের নিয়মিত আনাগোনা হাইকিং এর উদ্দেশ্যে। ক্লান্ত শরীরে সন্ধ্যার পর ওপরের দিকে তাকালেই সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যাবে। ৭. কুর্গ – কুর্গের খ্যাতি খুব সুস্বাদু খাবার আর গার্ডেন ফ্রেশ কফির জন্য। সন্ধের পর আরাম কেদারায় শরীর এলিয়ে দিয়ে উপভোগ করতে পারবেন রাত সামিয়ানার সৌন্দর্য। ৮.রাজস্থান – বর্ষার মেঘের চাদর যখন ঢেকে দেয় ভারতের বাকি অংশের আকাশ, তখন পৌঁছে যান রাজপুতানায়। রাতের আকাশ আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। ৯.গোয়া – রাত আকাশের টানে একবার ঘুরেই আসা যায়। ১০. ভূপাল – ইতিহাস প্রসিদ্ধ ভূপালে এসে রাত আকাশ না দেখে যাবেন না। এখানেই তালিকায় ইতি এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। আরও অনেক জায়গায়, যেখানে এখনও আলোর দাপট সেভাবে নেই, রাত আকাশের অপার ঐশ্বর্যের শরিক হতে পারবেন আপনারা। কেবল একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, আর তা হলো এই বিষয়ে জানার ইচ্ছে ও আগ্রহ। আজ থেকে সাড়ে পাঁচ দশক আগে এমন‌ই ইচ্ছে আর আগ্রহে ভর করে আমরা হাজির হয়েছিলাম এক রাতের ক্লাসে। তখন আমাদের সপ্তাহে পাঁচদিন করে ক্লাস হতো, শনি আর রবিবার ছিল ছুটির দিন। একদিন শুক্রবার ক্লাস শেষের আগে আমাদের শনিবার বিকেলে হাজির হতে হবে। উপলক্ষ রাতের ক্লাস। স্কুল ছুটির পর হাজারো জল্পনা করতে করতে দলবেঁধে বাড়ি ফিরলাম আমরা। ….. বাতাসে এখন হালকা শীতের আমেজ। জল ঝরানোর পর্ব শেষ করে বর্ষা বিদায় নিয়েছে। মেঘমুক্ত আকাশ এখন মখমলি কিংখাবের মতোই উজ্জ্বল। অসংখ্য জ্যোতিষ্কের দ্যুতিতে আকাশ এখন দীপ্যমান। জলদগম্ভীর কন্ঠে হেডমাস্টার মশাই তার কথকতা শুরু করেন – “রাতের আকাশে তারা দেখা একটা সুন্দর খেয়ালী অভ্যাস। তারাদের সাথে পরিচয় হতে হতে অবাক বিস্ময়ে মন চলে যায় লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এক আশ্চর্য জগতে! ভাবতেও যেন কেমন শিহরণ জাগে শরীরে!...... আকাশে আমরা যে সব তারাদের খালি চোখে দেখতে পাই তাদের সংখ্যা দু- হাজারের মতো এবং সারা বছরে সব মিলিয়ে মোটামুটি পাঁচ থেকে ছয় হাজারের মতো তারা দেখা যায়।…. আজকে এই রাতের তারা দেখার আসরে তোমাদের ডেকে আনার উদ্দেশ্য‌ই হলো তোমাদের মধ্যে এই ইচ্ছে আর ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলা যাতে করে অনন্ত দূরত্বে থাকা ওই অগণিত জ্যোতিষ্কদের সাথে তোমরা আত্মার সম্পর্ক, আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পার।”  গুটিসুটি মেরে আমরা সকলেই গায়ে গা লাগিয়ে ঘন হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। সকলেই উৎসুক হেডমাস্টার মশাই এরপর কী বলেন তা শোনার জন্য।……এমন অভিজ্ঞতা উপস্থিত সকলের কাছেই একেবারে নতুন। হেডমাস্টার মশাইয়ের কন্ঠ আবার সরব হয়ে ওঠে। হাতের লম্বা টর্চটা জ্বালিয়ে আকাশপটে নিক্ষেপ করে তিনি নতুন করে কথা শুরু করেন – “অক্টোবর মাসের আকাশের পূর্ব দক্ষিণ ভাগ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিটাস বা জলদানব। এর পশ্চিমে দেখা যাচ্ছে কুম্ভ রাশিকে। উত্তর পশ্চিম আকাশে দেখতে পাবে হারকিউলিস নক্ষত্র মণ্ডলীকে। ড্রাকো বা ড্রাগনের মাথায় পা দিয়ে মহা যোদ্ধা হারকিউলিস দাঁড়িয়ে আছেন বিজয়ীর উদ্ধত ভঙ্গিমায়।” কথা বলতে বলতে হেডমাস্টার মশাই টর্চ নেড়ে আকাশপট উজ্জ্বল করে উদ্ভাসিত নক্ষত্রমন্ডলীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন আমাদের। আমাদের নজর এখন উত্তর পূর্ব আকাশে। সেখানে দিগন্তের সামান্য উপরে একখণ্ড হীরের দ্যুতিতে জ্বলজ্বল করে জ্বলছে ক্যাপিলা বা ব্রহ্মহৃদয়,অরিগা মণ্ডলীর সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার‌ই সামান্য কিছু দূরে আকাশের পূর্ব কোল ঘেঁষে একগুচ্ছ তারা ভিড় করে রয়েছে। এটিই হলো কৃত্তিকা নক্ষত্রমন্ডলী। ….. …… আমাদের কারো মুখে কোনো কথা নেই। অপলক দৃষ্টিতে ঘাড় উঁচিয়ে সুদূর জ্যোতিষ্কলোকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে চলেছি আমরা। এতোদিন ব‌ইয়ের পড়ায় মন আটকে ছিল আমাদের। রাতের এই ক্লাসের হাতধরে আমরা পৌঁছে গেলাম সুদূর জ্যোতিষ্কলোকের আঙিনায়। তারকা লেখনি পাঠ আমাদের কাছে এক নতুন অজানা জগতের দুয়ার খুলে দিল। কথায় কথায় রাত বেড়েছে, কঠিন হয়েছে হিমের কামড়। তবে এইসব চলতি অনুভবের সীমানা এড়িয়ে আমাদের মন তখন পৌঁছে গিয়েছে অন্য এক অনির্বচনীয় আনন্দের অনুভূতির জগতে। হুঁশ ফিরে এলো হেডমাস্টার মশাইয়ের কথাতে – “ আজকের এই রাতক্লাসে তোমাদের ডেকে এনেছি কেবলমাত্র একটা অচেনা, অজানা জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব বলে। …. কেবল ব‌ইয়ের পাতাতে নয়, এই বিপুলা পৃথিবীর সবকিছুর মধ্যেই ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র বিস্ময়। মনের ক্ষুদ্র সীমাকে টপকে এই অসীম জ্ঞানের জগতে ঢুকে পড়াই হলো মানুষের জীবন সাধনার মহত্তম লক্ষ্য। তোমাদের মন যাতে সেই অসীমের সাধনায় মগ্ন হবার জন্য উন্মুখ হয় সে জন্যই আমরা তোমাদের এই রাতের আসরে ডেকে এনেছি।” হেডমাস্টার মশাই তাঁর কথা শেষ করেন। তারপর এক সময় উদাত্ত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন –  আকাশ ভরা, সূর্য তারা, বিশ্ব ভরা প্রাণ তাহার‌ই মাঝখানে, আমি পেয়েছি মোর স্থান বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান …….. হেডমাস্টার মশাইয়ের সুরে সুর মেলাই আমরা সকলে। আমাদের মিলিত কন্ঠের সুর চেনা জগতের ব্যস্ত সীমানা ছাড়িয়ে দূর থেকে দূরান্তরে সেই সুদূর জ্যোতিষ্কলোকের আঙিনায় ছড়িয়ে পড়ে। হেডমাস্টার মশাইয়ের হাত ধরে, রাতের তারা দেখার ক্লাসের মধ্যে দিয়ে,জানার মাঝে অজানাকে খুঁজতে খুঁজতে আমরা সকলেই সুরলোকের দিশারী, সুদূরের পিয়াসী হয়ে উঠি।   ** এই নিবন্ধটি বন্ধুবর জ্যোতির্বিদ শ্রী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের করকমলে উৎসর্গ করা হলো। ** তথ্য সূত্রের জন্য ঋদ্ধি পত্রিকার “গ্রহ তারা” সংখ্যার সাহায্য নেওয়া হয়েছে। আমার ঋণ স্বীকার করছি বিনম্রতার সঙ্গে।   সোমনাথ মুখোপাধ্যায় জুলাই ১০.২০২৬.শুক্রবার।
  • জনতার খেরোর খাতা...
    মালিকানা - subhashis bhattacharya | মালিকানাশুভাশিস ভট্টাচার্যরাত নামে—লাঙলের ফলায়—সীতা আসে, সীতা যায়মালিকানা বদলায়লক্ষ্মীছাড়া অযোধ্যায়বিস্মিত চাঁদ, নতজানুচুমু, আলোকিত মেঘ,গণ্ডিবদ্ধ সীতা,সদ্য ফোটা কুঁড়ি—পসরায়—বিকিয়ে যায়।রাম আসে, রাম যায়—মালিকানা বদলায়কড়ায় গণ্ডায়।
    যে কথা না-বললেই নয় : ৫ - অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় | ২০০ পুলিশের এসকটের মধ্য দিয়ে ওই ছোকরাকে থানা থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মধ্যরাতে। এই বিশাল বাহিনীর মধ্য থেকে কেউ পালাবার চেষ্টা করবে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে তাঁকে পয়েন্ট ব্ল‍্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে এবং গুলি লেগেছে পিঠে। অর্থাৎ অতর্কিতে পিছন দিকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। অথচ এক শ্রেণির মিডিয়া বলছে অন্ধকারের মধ্যে পুলিশকর্মীর কী অব্যর্থ নিশানা! বীর উপাধি দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পিছনে গুলি করলে কারোকে বীর বলা যায় কি না জানা নেই। অভিযুক্তের সঙ্গে পুলিশের সংষর্ষ বা গুলি বিনিময় হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা নেই। তারপরেও প্রথম দিন থেকে উপর্যুপরি বলা হচ্ছে এনকাউন্টার। এই এনকাউন্টার শুনে অনেকেই আবার যারপরনাই খুশি, মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছে -- সকালে জমা বিকেলে খরচ। অথচ প্রমাণ হয়নি প্রভাস মণ্ডল প্রকৃত দোষী। তবুও বলা হচ্ছে মূল অভিযুক্ত। পাশাপাশি সে যে এ ঘটনার একমাত্র সাক্ষী ছিল, সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে গণপিটুনিতেতে ইন্দ্রজিৎকে বলা হচ্ছে নির্দোষ। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন। নির্দোষ কীভাবে প্রমাণ হল? ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ হলে প্রভাস নয় কেন? কারোর বিরুদ্ধেই তো দোষ প্রমাণ হয়নি। প্রভাস নিজের মুখে বলেছে আনন্দ মেয়েটার গলায় পা দিয়ে মেরে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। সেই আনন্দ কিন্তু এখনো "এনকাউন্টার" হয়নি। এনকাউন্টার হয়নি দিবাকরও। পুলিশ ফাঁড়িতে প্রভাস আর আনন্দের কথোপকথনে রাজা নামে এক টোটোচালকের নাম উঠে আসে। এই টোটোচালক রাজার ভূমিকা কী? যে মুসলিম ছেলেটিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ধরে এনেছে, তার নাম কিন্তু একবারের জন্যেও প্রভাসের মুখ থেকে শোনা যায়নি। যে ছেলেটি ঘটনায় জড়িত সবার নাম এক এক করে বলে দিচ্ছিল, তাকে খুন করা হল কার স্বার্থে? বারুইপুরের নাবালিকা কি তাহলে বিচার পেল না?
    গোয়ালঘরে বিভ্রান্তি - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | গোয়ালঘরে এত বিভ্রান্তির কী আছে জানিনা। আপনারা কি ভেবেছিলেন, এত কান্ড করে এসআইআর, নির্বাচন-কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এইসব দিয়ে ক্ষমতা দখল হল আপনাদের জন্য? আজ্ঞে না। বৃহত্তর স্বার্থ বলে একটা ব্যাপার আছে। বড় বড় পরিবারের বড়বড় ব্যাপার। বড়দার ছেলে টি-টোয়েন্টি চালায়, মেজদার ছেলে ই-টোয়েন্টি। সেজদা চালান এনটিএ, মানে নিট-টিট আরকি। বোম্বের বিগবসের ছেলে কোথায় যেন চিড়িয়াখানা চালায়। এই সমস্ত জমিদারিগুলো তো চিরস্থায়ী করতে হবে। ওদিকে এপস্টাইনও নাকি মাথার উপর ঝুলে, বিদেশে গিয়ে-টিয়ে সেটাও সামলাতে হবে। সেইজন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চাই, যাতে কেউ ট্যাঁফো না করতে পারে। তাই চাই সাংসদ। যেকোনো মূল্য। ওইটাই বৃহত্তর স্বার্থ। তাতে আপনারা ক্ষুব্ধ হলেন কি হলেন না, তাতে ঘন্টা। মনে রাখবেন, আপনাদের কিন্তু হাত-পা বাঁধা। তাই আপাতত বড়দাদের নির্দেশে কাজ করুন। গতকাল যাদের গরুচোর বলেছেন, তাদের নেতা হিসেবে গৈরিক অভিনন্দন জানান। বড়দা বলেছে বলে হকার উচ্ছেদ করুন। অন্নপূর্ণায় নাম কাটুন। ক্রমশ স্বাস্থ্যসাথী তুলে দেবার দিকে এগোন। সরকারের কাজ তো আর খয়রাতি নয়, বড়দারা বলে দিয়েছেন। হ্যাঁ, এর মধ্যে, পারলে একটু গুছিয়ে নিতে পারেন। তবে দেখবেন, নব্যরা ঠেঙিয়ে না দেয়। দু-একটা এনকাউন্টার করে দিতে পারেন। নেহরুকে দু-চারবার দোষ দিতে পারেন। এই যেমন, কলকাতায় জল জমছে কেন? নেহরুর দোষ। বা, এত হিংসা কেন? বিরোধীদের দোষ। কোনো সমস্যা নেই, ডিম্মিডিয়াকে সঙ্গে পাবেন। তবে এর বাইরে যাবার চেষ্টা করবেন না। কারণ ভেড়া লড়ে খুঁটির জোরে। আপনাদের খুঁটির নাম কেন্দ্র। ওটা না থাকলে, রাজ্য কেন, কোনো ক্লাবেও জিততে পারতেন না, চালানো তো পরের কথা। তাই বাহিনী রাজ্যে মজুদ থাকবে, বেশি ট্যাঁফোঁ করলে কিন্তু আপনার পিছনেও চলে আসতে পারে।
  • ভাট...
    commentb |
    সিনেমা :
    বহুদিন আগে বাংলাতেই বইটা পড়েছিলাম। আজ ইউটিউবে পেলাম।
    commentতরমুজ | দুটো সুন্দর গান শুনুন
     
     
     
     
    commentতরমুজ | এবার বিজেপির টার্গেট কি সুভাষ চন্দ্র বসু? শুধু বাঙালি নয়। ভারতীয় মনন থেকে সুভাষ বসুকে হঠানোর খেলা কি শুরু হয়ে গেল? এক সময় সুভাষ বসুকে "তোজোর কুকুর" বলা আরএসএস এর দালাল (স্বাধীনতার আগেকার দালাল। যে দালালি স্বাধিনতার পরেও অব্যাহত ছিল। এবং এখনো যা অটুট। ঐতিহ্যবাহি দালাল) বামপন্থীদের (ছিপিএম) ভূমিকাই বা কী? শেষ পর্যন্ত ভারতীয় জাতিয়তাবাদী মননকে কি কুসংস্কার আচ্ছন্ন আর্বান গুরুদেবদের দ্বারা রিপ্লেস করা হবে? এবং মার্কসের পাশে মা কালিকে বসিয়ে পুজো করার নতুন অধ্যায় শুরু হবে?
     
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত