এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই

  • তাজা বুলবুলভাজা...
    আশির আউনিবাউনি - স্মৃতি ভদ্র | ছবি: রমিতএকটা প্রকান্ড বরইগাছের তলায় দাঁড়ানো দোতলা টিনের ঘর। বহুদিনের রোদজলে টিনগুলোতে জং ধরা সময় এমনভাবে গেঁড়েগুড়ে বসে থাকতো যে তাকাতেই বহুবছরি জীবনের গল্প একদম রাখঢাক না করেই বলে দিতো বিনাদ্বিধায়। পিচঢালা পথ ছেড়ে কম করে হলে শ’কদম। মাটির, ছায়াঢাকা পথ। সে পথের দু’পাশে দেবদারু গাছের সবুজ প্রহরা। একটু কসরত করলেই ডানেবামে সেই নিছিদ্র প্রহরা অতিক্রম করে চোখ চলে যায় তাঁতঘরে। তবে সেসব তাঁতঘরে মাকুর আওয়াজ কমতে শুরু করে দিয়েছিলো ততদিনে। হাতে টানা তাঁতমাকুর নিরবচ্ছিন্ন ‘খটাস খটাস’ শব্দ বুজে আসা শুরু হলেও ভেতর বাড়ির উঠোনে তখনও অবশিষ্ট বনেদিয়ানা বিদ্যমান। উঠোনের রোদে তিল তিসির যুগলবন্ধন, ঢেঁকিপাড়ে তুলসীমালা চালের গুঁড়ো গুঁড়ো সময় আর কারণে অকারণে উনুনে পরবের পদ—সবই আসলে পুরোনোকে বহাল রাখার যথাযোগ্য চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে সময়ের গতি তো একমুখী। তাই পুরোনো যতই ধুয়েমুছে যত্ন করে রাখো না কেন নতুনের আছড়ে পড়া ঢেউকেও যে আপন করে নিতে হয়, এটা মনে হয় জীবনের স্বত:সিদ্ধ বোঝাপড়া। তাই উঠোনের অন্যপাশে প্রাচীন কতগুলো সারাবছরি আম গাছের বিসর্জন কালেই বাজনা বেজে উঠেছিলো ইমারত বোধনের। দিনক্ষণ দেখে সাহাপাড়ার গোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত তেল সিঁদুর মাখানো নারায়ণ শিলা যেদিন তুলসীতলায় রাখলো ঠিক সেদিনই উলুযোগারের আওয়াজে স্পষ্ট হয়েছিলো বাড়িতে লক্ষ্মীবরণের প্রস্তুতিও চলছে। তিনখানা সিমেন্টের ঘর। হালকা হলুদ রঙের দেওয়াল। নতুন আসবাব। শ্রাবণের মেঘে উড়ে এসেছিলো বারতা। বাঘকাকুর বিয়ে। পাশের পাড়ার সুতনূ কিশোরী আমার ছোট বৌমা হয়ে আসছে। সময়টা আশির প্রথমভাগ। দাদুর রেডিও তখনও কাঠের টেবিলে নিত্য পরিসেবারত। তবে ওই যে যুগের হাওয়া, যার টোকায় একটু একটু করে সামনে এগিয়ে যাবার নামই তো জীবন!ছোট বৌমা বাড়িতে এলো শ্রাবণের এক সন্ধ্যায়। আর তাকে বৌভাতের দিনে স্বয়ং বাঘকাকু উপহার দিলো নতুন এক অবাক বাকশো। সে বাকশো বাড়িতে ঢুকতেই সকলের ভেতর অস্ফুট শোরগোল। দত্ত স্টুডিও থেকে সাটার টানা ক্যামেরাও বাড়িতে এলো সময়কে কালো রিলে বন্দি করবে বলে। ঝলমলে ছোটবৌমা গা ভর্তি গহনা পড়ে দাঁড়িয়ে পড়লো সেই অবাক বাকশোর পাশে। ক্লিক…ক্লিক…ক্লিক…রিলে টানা সময়ের চালচিত্রে শুরু হলো বাড়ির উঠোনের এক নতুন গল্প।যদিও গল্পের মধ্যমণি যথারীতি সেই অবাক বাকশো। বিশ ইঞ্চির এক বড়সড় বাকশো। সামনে কাঁচ লাগানো আর কতগুলো রুপালী রঙের নব। সেসব নব ঘুরালে প্রথমে কাঁচের দেয়ালে সাদাকালো ঝিরঝির। এরপর উঠোনে বাঁশের মাথায় লাগানো এন্টেনার মাথা এদিক ওদিক ঘোরালে আস্তে আস্তে স্পষ্ট ছবি। সে ছবি হাসে, কাঁদে, গল্প বলে। আমাদের একান্ন উঠোনকে মাঝখানে রেখে চারপাশের ঘরগুলোর মধ্যে বড়ঘরই ছিল আমাদের অঘোষিত বৈঠকখানা। কেতাবিয়ানা ছিল না তাতে মোটেও। ঘরের মেঝেয় নেহাতই পাটি পেতে সকাল-সন্ধ্যায় চা মুড়ি খাওয়া অথবা জরুরি কোনো আলোচনার আটপৌরে আয়োজনে সে ঘরই ছিল আমাদের অব্যর্থ গন্তব্য। একখানা কালো রঙের নকশি কাঠের খাট, খুব সাধারণ একখানা টেবিলক্লথে ঢাকা টেবিল আর মাত্র একটা চেয়ার। সেই চেয়ার অবশ্য বাড়ির যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একমাত্র দাদুর দখলে থাকতো দায়িত্বশীলতার একমাত্র বাহক হয়ে। আর ছিল বারো ব্যান্ডের রেডিওখানা। যে সন্ধ্যা থেকে কুনকুন সুরে কখনো গাইতো কখনো গুরুগম্ভীর হয়ে পড়ে যেতো সন্ধ্যা সাতটার সংবাদ। তবুও বৈঠকখানার সাধারণ সংজ্ঞা হয়ে বড়ঘরই ছিল আমাদের সকল বিনোদনের একমাত্র অনুষঙ্গ। কিন্তু সেই অবাক বাকশো আমাদের বাড়িতে আসতে না আসতেই বদলে গেলো সন্ধ্যার সকল চিরচেনা হিসেবনিকেশ। একান্ন উঠোনের পশ্চিমপাশে তখন একহারা তিনটা ইটের ঘর। সদ্য মাথা তোলা সেই ঘরগুলোর একটিতে মহাসমারোহে স্থাপিত হয়েছিলো সেই বাকশো। বিকেল হতেই বাড়ির উনুন নিভে যেতো। মা বৌমারা গা ধুয়ে মাড় দেওয়া কড়কড়ে শাড়ি পড়ে যখন কপালে সিঁদুর আঁকতে বসতো তখন মনিপিসি ঘড়ি দেখে ঠিক পাঁচটায় পৌঁছে যেতো অদ্ভুত সেই বাকশের সামনে।নব ঘুরিয়ে এন্টেনা এদিকওদিক নাড়িয়ে নানা কসরতে যখন বাকশোতে ছবি স্পষ্ট করতো তখন সেখানে নেহাতই কোনো এক গুরুগম্ভীর আলোচনা কিংবা হাটেমাঠে কৃষি নিয়ে জরুরী কোনো বার্তালাপ। তবে এসবের মাঝেও মন খুশি হয়ে উঠতো যখন নিটোল মুখের অঞ্জলি মোস্তফা ঘোষণা করতো 'বি জে এন্ড দ্যা বিয়ার' উপস্থাপনার, তখন বেশ গেঁড়েগুড়ে বসতাম আমি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমার আশেপাশে আস্তে আস্তে ভিড় বাড়তো। মা কাকিদের কেউ কেউ সন্ধ্যার চায়ের পালা শেষ করেই এসে বসতো সেই অবাক বাকশের সামনে। তবে সপ্তাহের কোনো একদিন যখন রাত ন'টার পর সকাল-সন্ধ্যা নাটকের প্রারম্ভিক সুর বেজে উঠতো তখন বলতে গেলে সারা পাড়া হয়ে উঠতো আমাদের কুটুম। ঘর ছাড়িয়ে বারান্দা উঠোন থেকেও তখন একনিষ্ঠ নিবদ্ধ অসংখ্য চোখ সেই অবাক বাকশে। এরপর রাত পোহালেও সপ্তাহজুড়ে মা কাকিদের গল্পে থেকে যেতো সেই শিমু ভাবি কিংবা বুবলি। গল্প বদলে যায় বাড়ির। বদলে যায় বাড়ির সন্ধ্যা। মাটির কোলে, যদি কিছু মনে না করেন, এইসব দিনরাত্রি, ছায়াছন্দ, পূর্ণ দৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি, দ্যা বিল কসবি শো, মাটি ও মানুষ---আমরা বড়ঘরকে পেছনে ফেলে একটু একটু করে অভ্যস্ত হয়ে উঠছিলাম সেই অবাক সাদাকালো বাকশে। বড়ঘরের লালমেঝেয় পাতা পাটিকে একলা করে আমাদের চায়ের আড্ডা সীমিত হয়ে আসছিলো ঘড়ির কাঁটা সাতটার ঘরে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই।সাদাকালো অবাক বাকশো বদলে দিচ্ছিলো আমাদের বাড়ির একান্ন সময়ের গল্প। তবে সেই অবাক বাকশের সকল আকর্ষণ উপেক্ষা করে কাঠের টেবিলে কুনকুন করে বেজে চলা রেডিও তখনও দাদুর সামনে একাই বলিষ্ঠ হয়ে বলে চলতো,সন্ধ্যা সাতটা, আপনারা শুনছেন ভয়েস অফ আমেরিকা…দাদু ঘাড় গুঁজে মনোযোগ দিয়ে সেই রেডিওর সামনে বসে থাকতো রাত অবধি। কখনো ভাবগম্ভীর চেহারা কখনও উচ্ছল। আর কখনও গুনগুন সুর,চারিপাশে মোর উড়িছে কেবলশুকনো পাতা মলিন ফুল-দলবৃথাই কেন হায় তব আঁখিজলছিটাও অবিরল দিবস-যামীহারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে…আশির আউনিবাউনি তাই সেই শোলোক যা আওড়াতে আওড়াতে আমরা শুধু বড়ই হই না, বদলেও যাই একান্ন উঠোনের এক্কাদোক্কা সময়কে পাশ কাটিয়ে। আর সেই বদলই আমাদের হাত ধরে নিয়ে যায় কোনো এক একলা দিনের গান শোনাতে। চলবে...
    গুরুচণ্ডা৯-র গল্পপাঠ - গুরুচণ্ডা৯ | ছবি: রমিত‘পিরোবতির নাকছাবি’ গল্পটি শক্তি দত্ত রায়ের ‘পিরোবতি ও মুড়ির টিন’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। ‘হাজবপুরের কেচ্ছা' লেখকের 'অতিনাটকীয়’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। আজকের গল্প এস এস অরুন্ধতীর লেখা 'পাপ হে '। গল্পটি লেখকের 'চাঁপা ফুলের গন্ধে’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী। সুনাগরিক রঞ্জন দত্তর মৃত্যুর দিন - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পটি লেখকের 'ছয়ে রিপু’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।আজকের গল্প জয়ন্তী অধিকারীর 'না হাঁচিলে যারে'। গল্পটি লেখিকার 'কুমুদির রোমহর্ষক গল্পসমূহ’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত।অমর মিত্রের লেখা 'কাশী মথুরা বৃন্দাবন '। গল্পটি 'আমার ভয় করছে’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।প্রতিভা সরকারের লেখা 'তালাও গ্রামের রূপকথা'। গল্পটি 'হে চিরসারথী’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে সোহিনী সেনগুপ্ত।দময়ন্তীর লেখা 'দুষ্কালের পদধ্বনি'। গল্পটি 'দুষ্কালের আখ্যানমালা’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।উপল মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'তিলবাড়ি'। গল্পটি 'ম্যাকলাস্কিগঞ্জ’ বই থেকে নেওয়া। গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।মহারাজ মিত্রবর্মণের রাজ্যবিজয়, ঘেঁটুফুল ও ব্রহ্মকমলের গল্প, লিখেছেন রমিত চট্টোপাধ্যায়, পাঠ করেছেন অমিতাভ চক্রবর্তী।শক্তি দত্তরায়ের লেখা '৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড' বই থেকে নেওয়া ক্ষীরের পুতুল। গল্পপাঠে কেকে।স্মৃতি ভদ্রর লেখা 'রসুই ঘরের রোয়াক (দ্বিতীয় খণ্ড)' বই থেকে গল্পপাঠে পায়েল চ্যাটার্জী।চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস 'সীমানা' বই থেকে নেওয়া একটি পর্ব, নাম - দেশের কাজ। ২৫শে বৈশাখ পার হয়ে ১১ই জ্যৈষ্ঠ্যর এই বিশেষ সময়কালে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য, এই পর্বে ধরা হয়েছে সেই সময়ের দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের দেখা হওয়ার গল্প।গল্পপাঠে অমিতাভ চক্রবর্তী।চিত্র শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।অ্যাবনর্ম্যাল - লিখেছেন কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পপাঠ - সোহিনী সেনগুপ্ত।ফোটোগ্রাফ - ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক, গ্রাফিক শিল্পী - রমিত চট্টোপাধ্যায়, ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস।
    নজরুলের রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব - পারভেজ আলম | অলংকরণ: রমিত ১ মা ফাতেমা! কোন জন্নতে আছ? দুনিয়ার পানে চাহো,প্রার্থনা করো, দূর হোক ভায়ে ভায়ে বিদ্বেষ দাহ!- “মোহররম”, (অগ্নিবীণা) কাজী নজরুল ইসলাম কাজী নজরুল ইসলামের লেখালেখিতে ধর্ম এবং আধুনিকতার যেই বৈপরীত্য ও দ্বন্দ্ব দেখা যায় (যা নিয়ে আজো অনেক আলোচনা চলছে), তাকে আর বৈপরীত্য বা দ্বন্দ্ব মনে হবে না, যদি আমরা নজরুলের চিন্তায় উপস্থিত থাকা রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বকে (পলিটিকাল থিওলজি) আমলে নেই। নজরুল ছিলেন খুবই সহজাত একজন রাজনৈতিক ধর্মতাত্ত্বিক লেখক/ভাবুক। কিন্তু রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব বলতে কী বুঝাচ্ছি?রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব (পলিটিকাল থিওলজি) বিষয়ক সমকালীন তত্ত্বের সারকথা হলো যে আধুনিক যুগের অধিকাংশ রাজনৈতিক দার্শনিক তত্ত্ব আসলে সেকুলারাইজড ধর্মতত্ত্ব। বা বহু রাজনৈতিক দার্শনিক তত্ত্বেরই ধর্মতত্ত্বীয় পূর্বসূরী পাওয়া যাবে। যদিও রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব ধারণার এহেন সংজ্ঞায়নে কার্ল শ্মিটের ভূমিকাই সবচাইতে বেশি স্বীকৃতি পেয়ে থাকে, কিন্তু ধারণাটি তার আগে থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এবং কার্ল শ্মিটের সমকালীন ইহুদি মার্ক্সিস্ট দার্শনিক ও সংস্কৃতি বিচারক ওয়াল্টার বেনিয়ামিনও পলিটিকাল থিওলজি বিষয়ক সমকালীন তত্ত্ব নির্মাণে প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছেন। জার্মান ভাষায় ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন এনলাইটেনমেন্টের আমলের ইহুদি দার্শনিক সলমোন মাইমন। তিনি ধারণাটি নিয়েছেন স্পিনোজার বিখ্যাত বই পলিটিকাল থিওলজিকাল ট্রিটিজ থেকে। স্পিনোজার লেখায় পলিটিকাল থিওলজির অর্থ হলোঃ সেকুলার থিওলজি (বা পলিটিকাল ফিলোসফি)। যেহেতু তিনি পলিটিকাল এবং সেকুলার শব্দ দুইটিকে সমার্থক অর্থে ব্যবহার করেছেন। এক্ষণে স্মরণ করা যেতে পারে যে বাংলা ভাষায়ও উনবিংশ শতকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ধর্মতত্ত্ব ধারণাটির একটি সেকুলার ব্যাখ্যা (দ্বীজবর্ণের কালচার অর্থে) হাজির করেছিলেন, যেই ব্যাখ্যা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যারাডাইমের ভূমিকা রেখেছে। আমি এখানে রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব ধারণাটি ব্যবহার করছি মোটাদাগে ওয়াল্টার বেনিয়ামিনের অনুসরণে। বেনিয়ামিন আধুনিক বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্বের ধর্মতত্ত্বীয় কাঠামোকে অস্বীকার বা গোপন করার বদলে উন্মোচন করার পক্ষপাতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মার্ক্সিয় তত্ত্বচর্চা ও বিশ্লেষণে পলিটিকাল থিওলজিকাল বিভিন্ন বর্গ, তত্ত্ব ও ধারণার (যেমনঃ মেসিয়ানিজম) ব্যাবহারও করেছেন। কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় উপস্থিত থাকা রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব বোঝার জন্যেও মাহদিবাদ (মেসিয়ানিজম) গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে। এমনিতে নজরুলের বহু কবিতাতেই একধরণের সেকুলার মাহদিবাদ উপস্থিত আছে প্রচ্ছন্নভাবে। বিশেষ করে, নজরুলের অন্যতম দুই সমাজতন্ত্রী কিতাব সর্বহারা (২৯২৬) এবং সাম্যবাদী (১৯২৫) কে মার্ক্সিয় মাহদীয় ধারার কিতাব হিসাবে পাঠ করা সম্ভব। বিশেষ করে "মানুষ" (সাম্যবাদী) অথবা "ধূমকেতু"র (অগ্নিবীণা, ১৯২২) মতো কবিতাগুলিতে নজরুলের মাহদিয় চেতনা বেশ স্পষ্ট। চব্বিশের জুলাইয়ের দিনগুলিতেও, দেবাশিসের পোস্টারের স্লোগান হিসাবে ধূমকেতু কবিতার কিছু মাহদিয় পঙক্তি গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা জুগিয়েছিল। ২ বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই 'নবি'। কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!- কাজী নজরুল ইসলাম, "আমার কৈফিয়ত", সর্বহারা সর্বহারা (১৯২৬) নিখাদ কবিতার বই না। বইটাকে খুব সহজেই এক ধরণের সমাজতন্ত্রী মেনিফেস্টো বা অন্তত সমাজতন্ত্রী প্রোপাগান্ডা হিসাবে হিসাবে পাঠ করা যেতে পারে। বিশের দশকের নজরুল সমাজতন্ত্রী ভাবধারা প্রভাবিত বিদ্রোহী-বিপ্লবী ভাবের কবি এবং রাজনৈতিক কর্মী (একটিভিস্ট) ছিলেন। সেসময় মোল্লাদের সাথেও তিনি বড় ধরণের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কাফের ফতোয়া পেয়েছেন। আবার ফারসি শব্দ ব্যবহারের কারনে তৎকালীন হিন্দু পাঠক সমাজও তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল। "আমার কৈফিয়ত" কবিতায়, কবির ভাষায়ঃ "মৌ-লোভী যত মৌলবী আর 'মোল্-লারা কন হাত নেড়ে,'দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে!ফতোয়া দিলাম-কাফের কাজী ও,যদিও শহীদ হইতে রাজি ও!'আমপারা'-পড়া হাম্বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে!'হিন্দুরা ভাবে, পার্শি শব্দে কবিতা লেখে, ও পাত-নেড়ে!"আবার, কবিকুল ও সাহিত্য সমালোচকদেরকেও জবাব দিতে চেয়েছেন নজরুল, যারা হয়তো তার "অকবি"-সুলভ রাজনৈতিকতার কারনে তার কবিত্বকে খারিজ অথবা খাটো করতে চাইতেন। একটা রাজনৈতিক মেনিফেস্টো ধরণের বইয়ে "আমার কৈফিয়ত" কবিতাটি খুব সম্ভবত নজরুলের সবচাইতে ব্যক্তিগত কাব্য। অন্তত, যদি আমরা এই কবিতার বইয়ের অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার কথা মাথায় রাখি। কেননা, সর্বহারা বইটি হয়তো এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে সফল প্রোপাগান্ডাধর্মী বইগুলির একটি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে শুরু করে রাজনীতির জগতে বইটির বিভিন্ন কবিতা, রূপক ও ধারণা আজো প্রচন্ড রকম প্রভাবশালী।সর্বহারা বইটিতে যদিও নজরুলের সমকালীন সমাজতন্ত্রী পজিটিভিজমের (ইতিহাস অনিবার্যভাবে সাম্যবাদী বিপ্লবের দিকে আগাইয়া যাইতেছে) ছাপ দেখা যায়, কিন্ত কবি দিনশেষে নিজেকে পজিটিভিস্ট সমাজতন্ত্রীদের থেকে আলাদা রেখেছেন বলেই মনে হয়। তিনি পরিষ্কার করেই বলেছেন যে তিনি "নবী" নন। তিনি ভবিষ্যতবাণী করছেন না। বরং তিনি "বর্তমানের কবি"। তিনি, আমাদের "বর্তমানের" কবিও বটে। ইতিহাসের অনিবার্য নিয়মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একদিন সাম্যবাদী বিপ্লব ঘটবে, এমন ভবিষ্যতবাণী তিনি করছেন না আলোচ্য কবিতাটিতে। বরং, বর্তমানেই সাম্যবাদকে ধরে রাখতে চাচ্ছেন, সংগ্রাম ও কাব্যের মধ্যে। "আমার কৈফিয়ত" নামক আপাত ব্যক্তিগত কবিতাটিও এইদিক থেকে প্রচন্ড রাজনৈতিক, যেহেতু তা শেষ হয়েছে সর্বহারার পক্ষ থেকে প্রতিশোধের ঘোষণার মাধ্যমেঃ"পরোয়া করি না, বাঁচি বা না বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে।মাথার উপরে জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে।প্রার্থনা করো-যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!" ৩ "পুজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল !–মুর্খরা সব শোনোমানুষ এনেছে গ্রন্থ, – গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।" - মানুষ (সাম্যবাদী)বাংলাদেশের আধুনিকতাবাদী, সেকুলার, নাস্তিক ও বামপন্থীদের মধ্যে “মানুষ” নাম কবিতার এই দুই পঙক্তি অত্যন্ত জনপ্রিয়। নাস্তিক এবং বক-ধার্মিক, দুই পক্ষের কাছেই এই দুই লাইন নাস্তিকতাবাদী বক্তব্য হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু নজরুলের কবিতার প্রায় স্বতস্ফূর্ত রাজনৈতিক ধর্মতাত্ত্বিকতাকে আমলে নিলে এই দুই লাইনের একেবারেই ভিন্ন ব্যাখ্যা করা সম্ভব। কোন টেক্সট/বিধান বা এমনকি কোরানও যে নিজে থেকে কিছু বলতে পারে না, বরং মানুষকেই ব্যাখ্যার কর্তা হইতে হয় (বা মানুষই হলো জীবন্ত কোরান), এহেন ধারণা ইসলামী ঐতিহ্যে নতুন কিছু না। কিন্তু নজরুলের কবিতায় এই ধরণের চিন্তা ধর্মতত্ত্বের গন্ডি অতিক্রম করে আধুনিকতা ও সেকুলার রাজনৈতিকতার মোকামে উত্তীর্ণ হয়েছে, যা এই কবিতার আরো বহু বাক্য থেকেই স্পষ্ট। নজরুলের যেই আধুনিকতার মোকাম, বাঙালি রক্ষণশীল মুসলমানরা তাতে উঠতে পেরেছেন, তা বলা যাবে না। কিন্তু আধুনিকতাবাদীরাও তো নজরুলকে নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন। মানুষ কবিতাটিতে এমন অনেক লাইন আছে, যা তারা পাতে তুলতে রাজি নয়। যেমন, মানুষ কবিতাতে, উপরে উল্লেখিত পঙক্তিদ্বয়ের পরেই, নজরুল লিখেছেনঃ "আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম মোহাম্মদকৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর, - বিশ্বের সম্পদ।" এসব বাক্যকে বাঙলার বামপন্থীরা আধুনিকতার মোকামে (তারা মোকামটাকে যেভাবে চেনেন আর কী) প্রবেশ করতে দিতে চান না। তাই তাদের মুখস্ত দুই পঙক্তির পরেই যে এই দুইটা লাইন উপস্থিত আছে, তাও অনেকে জানেন না। এমনকি নজরুল যে আমাদের মধ্যে নবী রাসুল কিংবা কৃষ্ণ বুদ্ধদের এযুগের উত্তরসূরী হওয়ার সদা বিদ্যমান সম্ভাবনার কথা বর্ণনা করেছেন, তাও তাদের অনেকের জন্যেই অস্বস্তিকর। নজরুল হাসতে মানা করলেও, আজকালকার অনেক নাস্তিক নিচের লাইনগুলা পড়ে হাসতেও পারেনঃ "আমরা তাঁদেরি সন্তান, জ্ঞাতি, তাঁদেরি মতন দেহকে জানে কখন মোরাও অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ।হেস না বন্ধু! আমার আমি সে কত অতল অসীমআমিই কি জানি কে জানে কে আছে আমাতে মহামহিম।" উপরোক্ত পঙক্তিগুলোর মধ্যে একধরণের প্রচ্ছন্ন মাহদিয় ধর্মতত্ত্বের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়। কিন্তু এর পরের লাইনগুলিতে নজরুলের মাহদিয় তাত্ত্বিকতা বেশ স্পষ্ট ভাষাতেই উচ্চারিত হয়েছেঃ"হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি, তোমাতে মেহেদি ঈসা,কে জানে কাহার অন্ত ও আদি, কে পায় কাহার দিশা?" বাংলাদেশের ইতিহাসে (হয়তো আধুনিক মুসলমানদের ইতিহাসেও), নজরুলের হাত ধরেই মাহদি, মসিহ, কল্কি ইত্যাদি নামগুলো অনাগত কোন ব্যক্তির নাম নয়, বরং এমনকিছু ধারণায় পরিণত হয়েছে, যা বর্তমানেই উপস্থিত আছে, প্রভাবক সম্ভাবনা আকারে, আমাদের সকলের দেহের মধ্যেই। এমনিতে এধরণের মাহদিয় চিন্তারও পূর্বসূরী আছে সুফিতত্ত্বের মধ্যে (যেমন মাওলানা রুমির কবিতায়)। তবে যা বললাম আর কী, নজরুল ইসলামী ধর্মতত্ত্বের বহু ধারণাকেই আধুনিকতার মোকামে উত্তীর্ণ করেছেন। মাহদিবাদের ক্ষেত্রেও তা বলা যায়। এবং আমরা আধুনিক বাংলাদেশীরা (জনগণ হিসাবে) আজো নজরুলের আধুনিকতাবাদের মোকামে উত্তীর্ণ হইতে পারি নাই। ৪ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবী মুহুর্তে কাজী নজরুল ইসলামের বিশের দশকের কবিতার প্রভাব ও ব্যবহার দেখা যায়। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তা দেখা গেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখা দেবাশিস চক্রবর্তীর কিছু পোস্টার-আর্টে নজরুলের কবিতার যেই উপস্থিতি, তা আমাদের আলোচনার জন্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের বেশ কিছু পোস্টারে দেবাশিস গণঅভ্যুত্থানের মুহূর্তটিকে উপস্থাপন করেছেন ধূমকেতুর ছবির মাধ্যমে, এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরাসরি নজরুলের ধূমকেতু কবিতার পঙক্তি ব্যবহার করে। এই পোস্টারগুলোর মধ্যে সবচাইতে বিখ্যাত খুব সম্ভবত রক্তাক্ত জুলাই (Bloody July in Bangladesh) পোস্টারটি। কারফিউ, ইন্টারনেট ব্লাকআউট, আর বর্বর হত্যাযজ্ঞের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের মানুষ সে সময়টিতে যে প্রবল শক (shock) ও শোকে আক্রান্ত হয়েছিল, তার প্রকাশ দেখা যায় এই পোস্টারটিতে। জনগণ তখন শোকার্ত, ক্ষুদ্ধ, এবং হতবিহবল। জনগণের যৌথ চেতনা ও অচেতনে উপস্থিত অব্যক্ত ভাব প্রকাশের সক্ষমতার কারনেই পোস্টারটি তখন ভাইরাল হয়েছিল। লাল রঙের এই পোস্টারটিতে আমরা এক তরুণকে তার শহীদ সহযোদ্ধার লাশ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। আর তার পেছনের লাল দিগন্ত ফুড়ে খসে পড়ছে একটা ধূমকেতু। পরবর্তি কিছু পোস্টারে আমরা দেখি আসমানের দিকে ধেয়ে উঠতে থাকা এক অথবা বহু ধূমকেতুর দৃশ্য। জমিনে প্রতিবাদরত ছাত্র জনতা আর আসমানে ধেয়ে ছুটতে থাকা ধূমকেতুর এসব পোস্টার জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ইতিহাসের দিগন্ত ছাড়িয়ে উপস্থাপন করেছে এক মহাজাগতিক দিগন্তে। অথবা, বলা যায় যে, ঐতিহাসিক এবং মহাজাগতিক দিগন্ত এসব পোস্টারে একাকার হয়ে গেছে।এমনিতে নজরুলের প্রভাব দেবাশিসের উপর নতুন নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পূর্বেও নজরুলের বিভিন্ন কবিতার ব্যবহার দেখা যায় তার শিল্পে। কিন্তু তার আঁকা জুলাইয়ের পোস্টারগুলি যে বিশেষভাবে নজরুলের মাহদিয় চেতনা দ্বারা প্রভাবিত, তা বেশ পরিষ্কার। নজরুলের ধূমকেতু কবিতার দুইটি পঙক্তি (“আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু, এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু”) তিনি ব্যবহার করেছেন জুলাইয়ের দুটি পোস্টারে। ধূমকেতু হলো কলিযুগের (শেষ জমানার) মাহদিয় অবতার কল্কির প্রতীক। আর মহাকালতো দেবতা শিবেরই অপর নাম, যার তাণ্ডব নৃত্যে পুরাতন দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যায়, আর নতুন দুনিয়ার সুচনা ঘটে। নজরুল ও দেবাশিস যেই মাহদিয় সত্ত্বার উপস্থাপন করেছেন, তিনি কোন অনাগত ভবিষ্যতের মাহদি/কল্কি নন। বরং যিনি ইতিহাসে বারবার ফেরত আসেন, ধূমকেতুর মতো। যিনি ধূমকেতুর মতোই ফেরত এসেছিলেন জুলাইয়ের ওয়াক্তে। কিন্তু আবার ধূমকেতুর মতোই, দ্রুতই চোখের আড়াল হয়েছেন।
  • হরিদাস পালেরা...
    অমৃতকাল - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | মোট ১০ টা বিধানসভা কেন্দ্রের ৪০০০ ইভিএম পুড়ে গেল আলিপুরে। গুণে-গেঁথে ঠিক ৪০০০টাই ছিল কীকরে জানা গেল? জানা নেই। তবে নবনিযুক্ত দমকল মন্ত্রী কৌশিক চক্রবর্তী বলেছেন, ৩ এবং ৪ তলায় আগুন লাগে। সেখানে ইভিএম ছিলনা। তারপর সেই আগুন লাফিয়ে চলে যায়, ৭ এবং ৮ তলায়। সেখানেই ছিল ইভিএম। মাঝের কোনো তলায় কোনো আগুনের চিহ্ন নেই। আগুন কীকরে হনুমানের মতো লাফাল জানা নেই। কিন্তু সব ইভিএমই পুড়ে গেছে এটা জানা গেছে। মন্ত্রী বলেছেন। মন্ত্রী আরও বলেছেন, ব্যাপারটা খুব রহস্যজনক। কিন্তু খুব গরম হওয়ায় ফরেনসিক এখনও ঢুকতে পারেনি, তাই কিছু বলতে পারবেন না। আমাদেরও কারও কারো আপাতদৃষ্টিতে তাইই মনে হচ্ছে। কারণ ভোটের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, গণনাকেন্দ্রে গা-জোয়ারি এবং জালিয়াতি হয়েছে বলে। মামলা করবেনও বলেছিলেন। তারপর তো তাঁর পার্টিই লুঠ হয়ে গেল। মামলা করলে কিছু হত কিনা কেউ জানেনা, কিন্তু করার আগেই ৪০০০ ইভিএম পুড়ে গেল। আগুন যখন লাফাচ্ছিল, তখন নতুন প্রশাসনের দমকল কী করছিল জানা নেই। ঘটনাচক্রে নির্বাচন কমিশনের তৎকালীন মাথাই এখন মুখ্যসচিব। ওদিকে বাংলার সুবিখ্যাত সংবাদমাধ্যম, যারা তিল দেখতে না পেলেও তালগাছ বানিয়ে ফেলে থাকে, এই ভয়ানক ঘটনার বিবরণ, তাদের পাতায় বা পর্দায় খুঁজতে গেলে মাইক্রোস্কোপ, টেলিস্কোপ দুইই লাগবে। এবং কদিন বাদে হয়তো জানা যেতে পারে, গণনার ফুটেজও আইন মেনে মুছে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বেশ সন্দেহজনক লাগলেও, মনে রাখবেন, নতুন জমানা এসে গেছে। তাই পুরোটাই নিছকই দুর্ঘটনা, আর নেহাৎই কাকতালীয়ই হবে। এরকম কাকতালীয় ঘটনা অবশ্য একটা না। ঘটেই চলেছে। মীনাক্ষী নটরাজন এই দিনকতক আগে কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশে। মনোনয়ন গেল বাতিল হয়ে। বিজেপির দিক থেকে অভিযোগ ছিল, হলফনামায় তিনি তাঁর সম্পর্কে একটা এফআইআর বা কেস নাকি উল্লেখ করেননি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ওটা কোনো ক্রিমিনাল কেস ছিলনা, কেবলই একটা আইনী নোটিস পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু রিটার্নিং অফিসার সে কথায় কান দেননি। মীনাক্ষী সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এসব নির্বাচন কমিশনের আওতায়, তাদের এক্তিয়ারে না। সব মিলিয়ে বিজেপি তিনটি রাজ্যসভা আসনই জিতে নিয়েছে ওই রাজ্য থেকে। একটা, সংখ্যার হিসেবে তাদের জেতার কথা ছিলনা। ঘোড়া কেনাবেচা হতে পারে, এই আশঙ্কায় কংগ্রেস বিধায়কদের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল, তাতে বিজেপিকে আটকানো যায়না। এই যে, ঠিক সময়েই মীনাক্ষীর "ভুল" হল, মনোনয়ন বাতিল হল, এ সবই কাকতালীয় ঘটনা।এরও আগে সংসদে রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তাল পাঞ্জাবে আআপ সাংসদরা সদলবলে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। আপএর দুই-তৃতীয়াংশ নিয়েই যোগদান হয়েছিল, সম্পূর্ণ আইনসঙ্গতভাবে। এবং তার আগে অশোক মিত্তালের সম্পত্তিতে ইডি হানা হয়েছিল। সেটাও সম্পূর্ণ কাকতালীয়। তারপর, একদম সাম্প্রতিককালে তৃণমূলের অনেকেই নাকি বিদ্রোহী হয়েছেন শোনা যাচ্ছে। তাঁরা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন কিনা জানা নেই। এর আগে ট্রাইবুনালে ৩৫ লক্ষ নামকে ঝুলিয়ে রেখে পশ্চিমবঙ্গে অবাধ নির্বাচন হয়েছে, তাতে বিজেপি জিতেছে। তারপর তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেছেন, পুরোনো সাংসদদের চাপ দেওয়া হয়েছে নানাভাবে। এই সবই কাকতালীয়। এই সব কাকতালীয় ঘটনা যোগ করলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নির্বাচনে সংখালঘু থাকলেও নির্বাচনোত্তরপর্বে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। একবার হয়ে গেলে ডিলিমিটেশন সহ যা যা পাশ করাতে চায়, সবই টপাটপ পাশ করিয়ে ফেলতে পারবে। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটা বেশ সন্দেহজনক। কিন্তু আসলে তা নয়। আসল কথা হল, আচ্ছে-দিন টপকে এখন অমৃতকাল এসে গেছে। এইসব সময়ে এইসব কাকতালীয় ঘটনা ঘটে থাকে। নইলে তো সন্ধ্যেবেলার ঘন্টাখানেক মাছের বাজারে চুলচেরা বিশ্লেষণ দেখতে পেতেন, নাকি?
    ভাগবত পুরাণ - ১/৬ - Kishore Ghosal | এইখানে মহামতি ভীষ্ম হিন্দু ধর্মের অসাধারণ ভক্তিমার্গের দিশাটি ভক্তদের মনে জাগিয়ে তুললেন। ঈশ্বর তাঁর ভক্তদের নানারূপে দেখা দিতে পারেন। পরবর্তী কালে আমরা দেখব মাকালী কন্যারূপে ভক্তকবির ঘরের বেড়া বেঁধেছেন। কখনো অভিমানী ভক্তকবি গেয়েছেন, "মাগো, গেছিস কি তুই মরে, গয়া গিয়ে আসি গে তোর শ্রাদ্ধ-শান্তি করে", অথবা রবীন্দ্রনাথ গেয়েছেন, "তাই তোমার আনন্দ আমার পর, তুমি তাই এসেছ নীচে। আমায় নইলে, ত্রিভুবনেশ্বর, তোমার প্রেম হত যে মিছে"। হিন্দু ধর্মের ঈশ্বর সর্বদাই উদাসীন করুণাময় নয়, তিনি নিষ্ঠুর হাতে সর্বদা দণ্ড বিধান করেন না, তিনি ভক্তের মনে প্রিয়জন রূপে বিরাজও করেন।] "ভাগবত পুরাণ" প্রথম স্কন্ধ - পর্ব ৬ ভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/৬
    শুধু, একমুঠো নুনের জন্য ...... - Somnath mukhopadhyay | শুধু, এক মুঠো নুনের জন্য ..…… বছর কয়েক আগের কথা। হাওড়া থেকে চলতে শুরু করা আমাদের যন্ত্র শকটটি ইস্পাতের বাঁধা পথ ধরে গড়াতে গড়াতে একেবারে ভোররাতে এসে থেমেছে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে। সঙ্গে বিস্তর লটবহর, তার ওপর একেবারেই অচেনা নতুন জায়গা। লোকজনের ব্যস্ত ভিড়, কুলিদের হাকডাক, ঠেলাঠেলি - সবকিছু সামলে নিয়ে স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে আসি। সঙ্গে কন্যা। যাবে পুদুচেরি। উচ্চতর পাঠ নিতে। বাপ বেটিকে দেখে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসে অনেক মানুষ – কেউ অটোরিকশা চালক, কেউবা প্রাইভেট গাড়িচালক। সকলেই ব্যস্ত স‌ওয়ারি ধরতে। দেশের দক্ষিণে এলে মন খুলে কথা বলার ক্ষেত্রে ভাষা একটা বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। খানিকক্ষণ মূকাভিনয় করার পর জট ছাড়ানো গেল। বাপ বেটি দুজনে সমস্বরে কোয়াম্বাডু বাসস্ট্যান্ড যাবো বলাতে বেশ সুবিধা হয়। চেনা শব্দবন্ধের যাদুই যে এমন। খানিক সময় দরাদরি করে শেষমেশ এক অটোরিকশায় উঠে পড়ি দুজনে। ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়ল। কোয়াম্বাডু থেকে আমরা পুদুচেরী যাবার বাস ধরবো। সুবিশাল বাসস্ট্যান্ড। সামান্য খোঁজাখুঁজি করে নির্দিষ্ট বাসে উঠে পড়ি। কন্ডাক্টরের সহযোগী মানুষটি বেশ যত্ন করে আমাদের মালপত্র বাসের খোলে ঢুকিয়ে দেন। আমরা স্বস্তিতে গদিয়ান হ‌ই। বাসের চাকা সচল হয়। খিড়কি গলে আমাদের নজর তখন বাইরের দৃশ্যপট নয়নবন্দি করতে শুরু করে। বাস মামাল্লাপুরম ছাড়তেই বাইরের ছবিটা বেমালুম বদলে যায়। দূরে সমুদ্রের উপস্থিতির আভাস মেলে। অগভীর জলা জমির ওপর ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধবধবে সাদা রঙের ছোট ছোট টিলা সহজেই নজর পড়ে – ওগুলো সব নুনের টিলা। সমুদ্রের জলকে উপকূলের অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশে তুলে এনে ছোটো ছোটো আল বাঁধা জমিতে জমা করা হয়। সেই জল সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হলে, জলের সঙ্গে মিশে থাকা লবণ জমিতে বিছানো প্লাস্টিকের চাদরের ওপর থিতিয়ে পড়ে। সেই থিতিয়ে পড়া লবণকে পরিশোধন করার পর আমরা পাই ভক্ষ্য লবণ। কাজটা মোটেই সহজসাধ্য নয়, বরং অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। বর্ষার মাসগুলোকে‌ বাদ দিয়ে বাকি মাসগুলোতে চলে লবণ তৈরির কাজ। লবণ রোজকার খাবার পাতের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। লবণ ছাড়া আমাদের এক মুহুর্ত চলে না, অথচ এই সূক্ষ্ম দানাদার উপাদানটিকে আমাদের পাত অবধি পৌঁছে দেবার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের শ্রম, ঘাম,রক্ত,বঞ্চনা আর কান্না। কচ্ছের রন অঞ্চল – ভারতের বৃহত্তম লবণ উৎপাদন ক্ষেত্র। গুজরাটি শব্দ রন্ এবং সিন্ধ্রি শব্দ রিন্ – দুটির‌ই ব্যুৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ইরিন্ থেকে যার অর্থ হলো লবণাক্ত জলে ভরা অনুর্বর জমি। ঋগ্বেদ ও মহাভারতে এই সুবিস্তৃত জলাভূমির উল্লেখ পাওয়া যায়। অবস্থানগতভাবে উত্তরের বৃহৎ ভারতীয় মরুভূমি বা থর মরুভূমির দক্ষিণ সীমান্ত বরাবর অবস্থান করছে এই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অঞ্চলটি। গুজরাটের কচ্ছ জেলার প্রায় ২৬০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে রন্ অঞ্চলটি। বৃষ্টিহীন এই শুষ্ক অঞ্চলটিকে বিশেষজ্ঞরা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ লবণাক্ত মরুভূমি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গোটা এলাকাটিকে আবার দুটি অংশে ভাগ করা হয়েছে - বৃহৎ রন্ এর পরিসর ১০০০০বর্গ কিলোমিটার এবং প্রায় ৫০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বিশিষ্ট ক্ষুদ্র রন্ অঞ্চল। এই ক্ষুদ্র রনের লবণাক্ত জলাভূমিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ভারতের সবথেকে বড়ো লবণ উৎপাদক অঞ্চল।  রন্ অঞ্চলের উৎপত্তির ইতিহাস‌ও কম বৈচিত্র্যময় নয়। এই কাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন, জটিল ও প্রবল ভূকম্পনের ঘটনা এবং বদলে যাওয়া জলবায়ুর এক আশ্চর্য ইতিবৃত্ত। গবেষকরা জানিয়েছেন যে এক সময় বাণিজ্যপথ হিসেবে এই বৃহৎ ভূখণ্ডটিকে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা নিছকই একটি অনুর্বর বন্ধ্যা ভূমিতে পরিণত হয়েছে। জোয়ারের সময় ঢুকে পড়া সমুদ্রের লবণাক্ত জলকে ধরে রেখে তা থেকে উৎপাদন করা হয় আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লবণ। ভক্ষ্য লবণ সোডিয়াম ক্লোরাইডের পাশাপাশি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় আরও বেশ কিছু লবণের অন্যতম জোগানদার এই এলাকাটি। জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আরব সাগরের জোয়ারের জল গোটা রন্ অঞ্চলের সুবিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তার সাথে যুক্ত হয় বৃষ্টির জল। সেপ্টেম্বর মাসের পর দ্রুত জল নেমে যায়, গ্রীষ্মের চড়া রোদে জল বাষ্পীভূত হলে জলের দ্রবীভূত লবণ থিতিয়ে পড়ে। লবণের সূক্ষ্ম কেলাসের কণায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। এরপরের অংশটুকুতেই জড়িয়ে আছে এই এলাকার আবাসিক মানুষদের ঘাম রক্ত আর কঠোর কৃচ্ছতার কাহিনি। লবণের কথাই যখন এলো তখন ভারতবাসী হিসেবে পরাধীন ভারতে বিখ্যাত লবণ সত্যাগ্রহের কথা বিস্মৃত হ‌ই কী করে? ১৯৩০ সালে দমনমূলক বৃটিশ লবণ নীতির প্রতিবাদে গান্ধীজির নেতৃত্বে ৭৮ জন সত্যাগ্রহী পথযাত্রী এক ঐতিহাসিক পদযাত্রায় অংশ গ্রহণ করলেন। এক চিমটি লবণ ছাড়া যে খাবার মুখে রুচবেনা, অথচ তাকে নিয়েই এই অহেতুক আইন – ভারতীয়রা লবণ তৈরি করতে পারবে না। তাঁদের বৃটিশ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই লবণ কিনতে হবে। গর্জে উঠলেন গান্ধীজী। তিনি স্বয়ং প্রতিবাদে মুখর হলেন। সামিল হলেন এক প্রতিবাদী পদযাত্রায়। সবরমতী আশ্রম থেকে নভসারি বা ডান্ডি পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁরা পৌঁছলেন ডান্ডিতে। সেখানেই সমুদ্রের জল থেকে তৈরি করা হলো লবণ, ইংরেজ সরকারের ফরমানকে অস্বীকার করে। লবণের অধিকার ফিরে পাবার এই আন্দোলন পরবর্তী কালের বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল ; আর ঐতিহাসিক এই পদযাত্রা ইতিহাসে স্থায়ী আসন পেল ডান্ডি পদযাত্রা হিসেবে। প্রতিদিনের খাবার পাতে এক চিমটি লবণ পাওয়া যে আমাদের সকলের অধিকার, এই আন্দোলন তাকেই প্রতিষ্ঠিত করলো। এ বছর রোদ ভীষণ চড়া! এর মাঝেই কাজ করতে হয় লবণ তৈরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের। কাজের চাপ এতোটাই যে ঘরে ঢুকে একটুখানি সময় জিরিয়ে নেবার জো নেই। বর্ষার আগে আগেই জমে থাকা লবণের বোঝা খালাস করতে না পারলে, পুরোটাই বরবাদ হয়ে যাবে। এমন গরমের দাপটকে এড়িয়ে কাজ করাই যে অসাধ্য। অথচ তাকে অস্বীকার করার উপায়ও যে নেই। তাই গরমের মধ্যেই মুখ বুজে কাজ করে যাওয়াটাই যেন দস্তুর। গুজরাটের এই বিজন এলাকায় আট মাস ধরে লাগাতার হাড়ভাঙা খাটুনির পর্ব চলে প্রায় ৫০০০০ আবাসিক শ্রমজীবী মানুষের। একেক সময় মনে হয় এ যেন দেশের বাইরের এক এলাকা – ইলেক্ট্রিসিটি নেই, স্বাস্থ্য সুরক্ষার ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা নেই,প্রখর রোদে শুকিয়ে যাওয়া গলায় দু ঢোঁক জল ঢালতে গেলেও মানুষগুলোকে প্রতিপদে ভাবতে হয় মিঠা জলের গাড়ি আসার পঁচিশ দিন পূর্ণ হতে আর কতদিন বাকি? জমানো জল যে বাড়ন্ত! লিটিল রনের তাপমাত্রা এখন‌ই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমান্ত ছাড়িয়ে গেছে। পারদ চড়তে চড়তে শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আগাম আঁচ করা যে স্বয়ং বরুন দেবের পক্ষেও অসাধ্য।  এ কেমন বৈপরীত্য! যে উষ্ণতাকে গায়ে মেখে দু দণ্ড তিষ্টনো দায় তাই হলো লবণ তৈরির জন্য একেবারেই আদর্শ। আর এই বিশেষ সুবিধার দৌলতে, গুজরাত রাজ্য দেশের তিন চতুর্থাংশ লবণ উৎপাদন করে। সূর্য ওঠার আগে থেকেই কাজ শুরু করতে হয়। দুপুরে খানিকক্ষণ বিরতি। আবার সূর্য দেব অস্ত গেলে জমিতে নেমে পড়া। নেহাৎ দেশের একেবারে পশ্চিমা এলাকা,তাই সূর্যাস্তের পরেও কাজ চালিয়ে যাবার মতো আলো মেলে। এই সুযোগটুকুই তাদের কাছে পরম আশীর্বাদের মতো মনে হয়। রোদ জ্বলা দিনের হাত থেকে একটু স্বস্তির জন্য নিজেরাই অবশ্য তৈরি করে নিয়েছে কতগুলো অস্থায়ী আস্তানা। চারটে খুঁটির ওপর মোটা, হাতে বোনা কাপড়ের এক চিলতে ছাউনি, গাধার মলের সঙ্গে মাটি মিশিয়ে গড়া হয় চারপাশের দেওয়াল –খানিকক্ষণ বিশ্রামের পক্ষে অবশ্য এগুলো একদম আদর্শ আস্তানা। বাইরের চাঁদি ফাটা রোদ্দুরে এটাকেই মনে হয় বাতানুকুল আবাস। এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে ক্ষণিক স্বস্তি লাভের প্রচেষ্টা। ভাবনা, কাঞ্চন, পুর্নিমা কিংবা বাবুলালদের কাছে এটুকুই যে পরম পাওয়া। এর বেশি যে ওদের চাওয়ার নেই।  রৌদ্র দগ্ধ, লবণাক্ত মরুভূমি প্রায় এই জমিতে সবুজের প্রবেশের কোনো অধিকার নেই। থাকলে হয়তো অন্য এক স্বস্তি মিললেও মিলতে পারতো। সাদা লবণের চাদর থেকে ঠিকরে ওঠা আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেলেও যে নিস্তার নেই মানুষগুলোর। গরম থেকে বাঁচতে নিজেরাই কতক উপায় বেছে নিয়েছে – ভিজে মোটা কাপড়ে মোড়া জলের বোতলকে দড়ি দিয়ে বেঁধে সামনে ঝুলিয়ে রাখে। বাষ্পীভূত জলের ঠান্ডা আমেজ থেকে স্বস্তি বোধ করতে। এরফলে জলটাও বেশ ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কেউবা লিকার চা বানিয়ে পান করে যাতে খানিকটা গরমের অনুভূতি কম হয়, শরীরে বাড়তি স্ফূর্তি আসে। প্রাকৃতিক উপায়ে লবণাক্ত জল থেকে প্রয়োজনীয় লবণ তৈরির কাজটিও যে সহজে সেরে ফেলা যায় তেমন নয়। পাম্প চালিয়ে নোনা জল জমিতে ঢোকানো, তাকে রোদের তাপ আর বাতাসের স্পর্শে শুকিয়ে নেওয়া। লবণের কেলাসগুলোকে নেড়েচেড়ে সমানভাবে তৈরি হতে দেওয়া, তারপর সেই কেলাসিত উপকরণকে ঠিকমতো গুছিয়ে ছোট ছোট টিলার আকার দেওয়া। এরপর তাকে গাড়িতে করে কারখানায় পৌঁছনো – কাজ তো নেহাত কম নয়। আর এর সবটুকুই করতে হয় খোলা আকাশের নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে। এই বছর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী তাপ প্রবাহের দাপট আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে, যার অর্থ আমাদের সবার পাতে এক চিমটি লবণ পৌঁছে দিতে আরও অনেক অনেক ঘাম ঝরাতে হবে রনের লবণ তৈরির মেহনতী শ্রমিকদের।  কিছুদিন আগে পর্যন্ত ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের সাহায্যে সমুদ্রের জল তুলে জমিতে ফেলা হতো। এখন সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে পাম্প চালিয়ে জল তোলা হয়। এরফলে খরচে সাশ্রয় হয়, পোড়া ডিজেলের গন্ধে বাতাস ভারী হয়না তবে এখন শ্রমিকদের কাজ করতে হয় অনেকটা বাড়তি সময় ধরে। বর্ষা আগমনে আর খুব বেশি দেরি নেই,তাই এখন নোনা জমির ফসল ঘরে তুলতে সকলের ব্যস্ততা একেবারে তুঙ্গে। একটানা ছয় মাসের‌ও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ প্রাণহর একটা পরিবেশে কাজ করার ফলে শ্রমিকদের শরীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই উপেক্ষিত থেকে যায়। বিরামহীনভাবে কাজের ফলে শরীরে বাসা বাঁধে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা, নানারকম প্রাণঘাতী রোগ। এসবের পরিণতিতে অকালে ঝরে যায় কত তরতাজা প্রাণ। সমীক্ষা সূত্রে জানা গেছে যে শ্রমিকরা ডিহাইড্রেশন, হিট স্ট্রেস্ থেকে শুরু করে কিডনির কার্যকারিতার সমস্যায় আক্রান্ত হয়। জ্বর হলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ছাড়া অন্য কোনো ওষুধের পরিষেবা পায়না এখানকার শ্রমিকরা। দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘন লবণের দ্রবণের মধ্যে থেকে কাজ করার ফলে শরীরের চামড়া শক্ত হয়ে গিয়ে ফেটে যায়, রক্ত বেরিয়ে আসে। আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রে তাপের সহনশীলতার সর্বোচ্চ মান বেঁধে দেবার ব্যবস্থা নেই, অর্থাৎ তাপমাত্রা কতটা হলে তা শ্রমিকদের শরীর স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে তার কোনো আইনি বিধিনিষেধ নেই। এই ফাঁকটাকে কাজে লাগিয়ে অনেক সময়ই শ্রমিকদের অসহনীয় পরিবেশে কাজ করতে হয়। এক চিমটে নুন আমাদের খাবার পাতে তুলে দিতে গিয়ে এমন‌ই লড়াই করতে হয় লবণ ভাঁটির শ্রমিকদের। অবস্থা দিনদিন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় আকস্মিক আবহিক বিপর্যয়ের ফলে এই শিল্পের অস্তিত্বের সংকট বাড়ছে। হঠাৎ করে নেমে আসা বৃষ্টি বা ঝড়ের ফলে খোলা মাঠে জমিয়ে রাখা লবণ নষ্ট হয়ে গেলে লোকসানের মুখে পড়তে হয়, যার ঝাপটা এসে পড়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে। এই অনিশ্চয়তাকে সম্বল করেই বেঁচে থাকতে হয় দেশের লবণ শ্রমিকদের। প্রশ্ন করা হয়েছিল – এতো কষ্ট সয়ে আপনারা এই কাজ করেন কেন? অন্য কিছু করতে পারেন না? প্রশ্ন শুনে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে মানুষগুলো। বেশ কিছুটা সময় পরে শান্ত গলায় উত্তর দেয় – আমরা কাজ ছেড়ে দিলে আপনাদের খাবার যে বিস্বাদ লাগবে। আপনারা কি তাই চান? এবার নির্বাক হবার পালা আমাদের।   সোমনাথ মুখোপাধ্যায়।মে ২৪, ২০২৬.
  • জনতার খেরোর খাতা...
    ভাবুক মন, তোকে  - श्रीमल्लार | আমাকে আমার মতো ভাবতে ব'লে তুমি- গিয়েছ ঝড়ের মতো। আসবে না তুমি। এখন পাখিরা শুধু ফুল নিয়ে ভাবে-আয়ু তো আহাম্মক। বলাকা ভাবাবে। জীবন অচেনা। দেখি সমারোহ পাতার, বৃষ্টি আসে ক্ষত নিয়ে। অনন্যবারতার। গিয়েছ ঝড়ের মতো। মাধুর্যে থাকি।বিকেল সবুজে নীল। ব্যথাও একাকী।
    বেসরকারি হাসপাতালকে সরকারি রেফারাল সিস্টেমের আওতায় আনা  - upal mukhopadhyay | উডল্যান্ডের মতো কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া স্বাধীনতা র পর থেকেই কলকাতায় আদতে কোনো পুরো বেসরকারি হাসপাতাল নেই। সকল বেসরকারি হাসপাতাল এক টাকায় জমি পাওয়ায় সব্বার বোর্ডেই সরকারি প্রতিনিধি আছে। ওই জমি পাওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষের জন্য আসন সংরক্ষণ। নতুন সরকারের মাননীয় বিভাগীয় মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় মহোদয় জানিয়েছেন বেসরকারি হাসপাতালে ১০শতাংশ আসন সরকারি রেফারেল সিস্টেমের অর্ন্তভুক্ত হবে অর্থাৎ সিট না থাকলে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। এই ব্যবস্থা বহু প্রতিক্ষিত ও স্বাগত।স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন হয়নি কেন কে জানে!!
    ভূমি - Srimallar Speaks | তোমাকে ভালবেসে,সহসা কাছে এসে–বিপদে জ্ব’লে আছে, তেপান্তর...আমারই ভুল ছিল,হেরেছে কাক চিলও–এখন মন মানে, সততাজ্বর। কেটেছে সুখবায়ু,নিজের মুছে আয়ু–না জানি দিন কেন, মিলনছেদ...তোমাকে ভালবেসে,সহসা কাছে এসে–যাব না দূরে আর। এটাই জেদ...  
  • ভাট...
    comment | এ আর এক মর্কটপনা। বাঙালী হিঁদু মোচরমান মিলে দু - চারঘর যা খ্রীস্টান আছে তাদের পেছনে লাগলে বেশ হয়। হুই মাইথোলজি থেকে ধরতে হবে।
    commentManali Moulik | ডট দি, Ganymede অপহরণে তো আমি খুব ভুল কিছু দেখতে পেলাম না। বরং এইসময়ের প‍্যাগান culture যেটা পরে রোমানদের মধ‍্যে imbibed হয়েছে (সেখানে Zeus হয়েছেন জুপিটার) সেটা homosexuality কে একটা পজিটিভ ভিত্তি দিয়েছে। আমাদের কালচারেও এই সংযোগ কিন্তু আছে। লেসবিয়ানিজমের রূপকস্বরূপ মালবরাজের দুই রানীর উল্লেখ। তবে আপনি যেহেতু গ‍্যানিমেডের কথাটি উল্লেখ করলেন তাই বললাম, এটাকে পজিটিভ আঙ্গিকেও কিন্তু ancient culture এ homosexuality এর একটি সাপোর্টিভ অ‍্যাসেসমেন্ট হিসাবে দেখা যায়।
     
    নিম্নোক্ত অংশটি কবি ওভিড-এর লেখা থেকে তুলে দিলাম :
     
    The king of the gods was once fired with love for Phrygian Ganymede, and when that happened Jupiter found another shape preferable to his own. Wishing to turn himself into a bird, he nonetheless scorned to change into any save that which can carry his thunderbolts. Then without delay, beating the air on borrowed pinions, he snatched away the shepherd of Ilium, who even now mixes the winecups, and supplies Jove with nectar, to the annoyance of Juno.
    এছাড়া পড়ে দেখতে পারেন,
     
    Religious Fundamentalism,Right Wings Authoritarianism, and Hostility Towards Homosexuals in Non-Christian Religious Groups by Bruce Hansberger. পাবেন International Journal for psychology of religion এ। বললে লিঙ্ক প্রোভাইড করতে পারি।
     
    গুরুর বিভাগ 'অন‍্য যৌনতা' তেও পড়তে পারেন। আমার বেসিক‍্যালি প‍্যাগান গ্রিক ও পরবর্তী রোমান কালচারের যৌনতা বিষয়ক মুক্ত ভাবধারা যথেষ্ট ভালো ও উচ্চমানের মনে হয়। ক‍্যাথোলিক অর্থোডক্সির পর পঞ্চদশ শতকের রেঁনেসাস কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিলো যদিও।
    commentছবি অবিশ্বাস |
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত