বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : উড়ো খই ৪
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Somnath Sengupta
          IP Address : 236712.158.676712.226 (*)          Date:11 Aug 2019 -- 11:01 PM




Name:   Somnath Sengupta           

IP Address : 236712.158.676712.226 (*)          Date:11 Aug 2019 -- 11:03 PM

উড়োখৈ-৪

ভারতের রেজিস্ট্রারারের জন্মপঞ্জী সংক্রান্ত একটি রিপোর্টে দুটো বিপরীত মেরুর চিত্র পাওয়া গেছে। সন্তান উৎপাদনের উর্বরতার হার ২০১৬ সালে ২।৩ (২০১১ তে ছিল ২।৪) থেকে নেমে এসেছে ২।২তে- মাত্র দুবছরের মধ্যেই। সাধারণত, এব্যাপারে ২।১-কে “আদর্শ মান” ধরা হয়, যেহেতু, শিশু মৃত্যু ও অন্যান্য বিষয় বাদ দিলে, এই অনুপাত জনসংখ্যাকে মোটামুটি একই জায়গায় ধরে রাখে। তাই, আগে যে বলা হচ্ছিল ভারতের জনসংখ্যা চীনকে ২০২২ সালের মধ্যেই ছাড়িয়ে যাবে, বিশেষজ্ঞরা তা এখন পিছিয়ে ২০২৭ সাল করে দিয়েছেন। এটা ভালো খবর।
কিন্তু, এর আড়ালে আর একটি যে ভয়ংকর তথ্য উঠে আসছে তা হল পুত্রর তুলনায় কন্যাসন্তানের হার যেখানে ২০১১-১৩ তে ছিল হাজার পিছু মাত্র ৯০৯ জন, ১৬-১৮তে তা নেমে এসে হয়েছে মাত্র ৮৯৬ জন। অর্থাৎ, ভারতীয় বাবা- মায়েরা পুত্র সন্তানই চাইছেন। অবৈধ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও জন্মের আগে লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি এখনো যে পুরো মাত্রায় বর্তমান- এই পরিসংখ্যান তা চিৎকার করে বলতে চাইছে। কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় এই অনুপাত ৯৫০-৯৫৫ হওয়া উচিৎ ছিল। দেশের মধ্যে সবথেকে খারাপ অবস্থা হয়েছে তেলেঙ্গানায় , যেখানে মাত্র দুবছরের মধ্যে এই সংখ্যা নেমে গেছে ৯১৮ থেকে ৮৯৭তে। অন্য রাজ্যগুলোর মধ্যে এমনকি খোদ রাজধানী দিল্লী,শিক্ষিত কেরালা এবং নীতিশজীর বিহারে এই অনুপাত নেমে গেছে বেশ কয়েক শতাংশ।
গত ২০১৮-র আর্থিক সমীক্ষায় এনিয়ে একটি ভালো কাজ হয়েছিল, যেখানে Rাটী আট ঈড (R), অর্থাৎ, দম্পতিদের শেষ সন্তানের লিঙ্গ- পরিচয় নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছিল। এ নিয়ে দীর্ঘ একটি প্রবন্ধ ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম, পুরোন পাঠকদের মনে থাকতে পারে( যারা সেই লেখাটি পড়তে চান তাদের জন্য লিংক নীচে কমেন্ট বাক্সে দিলাম।) । সেখানে দেখা গিয়েছিল, পঞ্জাব ও হরিয়ানার মত রাজ্যে শেষ কন্যাসন্তানের গড় প্রতি ১০০০ জন পুত্র সন্তান পিছু মাত্র ৫০০জন। মানসিকতায় আমরা কতটুকু শিক্ষিত হতে পেরেছি? এব্যাপারে ধনী দরিদ্র সবই এক। সবাই কোলে একটি পুত্রসন্তান চায়, মেয়ে সন্তানকে জরায়ুতেই নিয়মিত বিসর্জন দেবার পরম্পরা এখনো চালু আছে। বরং এই তথ্য দেখলে বোঝা যায় যে এই শতাব্দীতে এসে হয়ত এই মানসিকতা আরো বাড়ছে। “বেটি বাঁচাও” গোছের প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প ও শ্লোগান, আর পাঁচটা শ্লোগান আর প্রতিশ্রুতির মত মিথ্যা সরকারী তথ্যেই রয়ে গেছে।

৬০-এর দশক থেকে শুরু করে ৮০-র দশক- এই দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর অপরাধের জগতে অন্যতম শীর্ষ স্থান অধিকার করত সোনা পাচার বা স্মাগলিং। হাজী মস্তান থেকে দাউদ ইব্রাহিম, অন্ধকার জগতের এই সব তারকারা যতদিন এই ব্যবসা লোভনীয় ছিল, ততদিন সোনা বিদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করে কোটি কোটি টাকা বানিয়ে ফেলেছে। পাশাপাশি, কাস্টমসের একশ্রেণীর অসাধু অফিসারদের “উপরি” আমদানি ছিল প্রচুর, বিশেষত যারা বিমানবন্দরে বা পশ্চিম সীমান্তের সমুদ্রতট পাহারায় নিযুক্ত থাকত। বলিউডের সিনেমার গল্পে একসময় এই সোনা পাচারের রোমহর্ষক গল্প খুবই জনপ্রিয় ছিল, যার প্রতিনিধিত্ব করবে অমিতাভ বচ্চন অভিনীত “দিওয়ার” ছবি (১৯৭৫)। তবে, সম্ভবত , সোনা পাচারের সুদিন আবার ফিরতে চলেছে, কেন্দ্রীয় বাজেটের কর বৃদ্ধির পর।
এই বাজেটে সোনার ওপর মোট কর বসেছে ১৫।৫% (১২।৫% আমদানী শুল্ক এবং ৩% জি এস টি সমেত )। করের হারের এই বৃদ্ধি সোনার স্মাগলিংকে উৎসাহিত করবে। দুর্মূল্য ডলার বাঁচাতে সোনার আমদানির ওপর সরকার রাশ টানতে চেয়েছে অনেকদিন ধরেই। কর বৃদ্ধি তারই একটা অংশ।কিন্তু, আগের ১০% আমদানী শুল্কের দরুণ গতবছরেই সোনার অবৈধ পাচার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ মেট্রিক টনের মত- একটি প্রাথমিক সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে এবছর সেটা ৩০০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আগের পুরনো মার্কেট দুবাই ছাড়াও, বর্তমানে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরও সোনা স্মাগলিং-এর পক্ষে স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি, ১৫।৫% কর এড়াতে “কালো” ব্যবসার সোনা ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে, “সাদা” ব্যবসার সোনার ব্যবসায়ীর চেয়ে। অনেক স্বর্ণ- ব্যবসায়ী যারা জি এস টি রেজিস্ট্রেশন নিয়ে এবং R্ট-র মাধ্যমে ‘সাদা” ব্যবসা করছিলেন ২০১৭-তে, গত পরশুর একটি সংবাদে পড়ছি, তারা অনেকেই ব্যবসা খাতায় কলমে তুলে নিচ্ছেন বা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু, এঁরা সবাই ব্যবসা গুটিয়ে বাড়ি চলে যাবেন এমন মনে করার কোন কারণ নেই- আসলে এঁরা “ভূমি অবতলগত” হবেন। “কালো” ব্যবসার বা স্মাগলড সোনার মূল্য এখন নাকি বৈধ সোনার বাজারদরের থেকে ৪ শতাংশ “ডিস্কাউন্ট” বা সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি, এর জন্য কালো টাকার যাতায়াত বাড়বে। আর, যেহেতু এই ব্যবসা হবে পুরোটাই নগদে তাই “হাওয়ালা” ব্যবসার রমরমা বাড়বে। ২ কোটির নগদ লেনদেনের ওপর্, ২ শতাংশ হারে ট্ট ( অশ ত্রন্স্তিওন টক্ষ) চাপিয়ে দেওয়ায় তা অগ্নিতে ঘৃতাহুতির কাজ করবে- সমান্তরাল অর্থনীতি ফুলে-ফেপে উঠবে আরো বেশী করে। এটা বোঝার জন্য খুব বড় বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই।
নির্মলা সীতারামনের বাজেট প্রস্তাবের পরে করাচীর “হোয়াইট হাউসে” যদি বড়সড় খুশীর পার্টি হয়ে থাকে, তাহলে আমি অন্তত আশ্চর্য হব না।

বাঘেরা সংখ্যায় নাকি বাড়ছে। এব্যাপারে, ‘ততুস ওফ টিগের্স, ও-প্রেদতোর্স, রেয় অন্দ থেইর অবিতত, ২০১৮’ নামের সরকারী সমীক্ষা ঘোষনার পর (এটির, মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে পাশে দাঁড় করিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করকমলে উদ্বোধন হয়েছে), প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ট্যুইট করেছেন “বাঘো মে বাহার হ্যায়”।এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে যে ২০১৪ সালে যেখানে বাঘের সংখ্যা ছিল ২২২৬ সেখানে ২০১৮তে তা দাঁড়িয়েছে ২৯৬৭ মানে প্রায় এক-তৃতীংশ বেশী। এমনকি ২০০৬ সালের তুলনায় এর বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় অবিশ্বাস্য ২১০ শতাংশ। এমনিতে, সরকারী তথ্যের ওপর ভরসা হারাচ্ছি নিয়মিত। বাস্তবের সাথে এত পরস্পরবিরোধী তথ্য ইদানীং প্রচার পাচ্ছে, সংখ্যা তত্ত্বের মূল সংজ্ঞাকে এড়িয়ে নিজেদের সুবিধা মত তথ্য সাজিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যে দিনে দিনে সরকারী সাইটগুলো দেখাই বন্ধ করে দিচ্ছি। তাই, বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর সঠিক কিনা কিম্বা যে ক্যামেরায় বন্দী হয়েছে এদের আনাগোনা- তার রেকর্ড কিভাবে দেখা হয়েছে আমি জানিনা। তাই এব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না। তবে বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই “আবিষ্কার” করেছেন, যেখানে ২০১৪ সালে দেড় বছরের নীচে ব্যাঘ্রশাবককে গুণতিতে ধরা হয়নি, ২০১৮-তে সংখ্যাটি কিছুটা বেশী দেখাতে, হিসেবকে নামিয়ে আনা হয়েছে ১ বছরের কম ব্যাঘ্রশাবককে। তাছাড়া, ক্যামেরায় বন্দি বাঘের ছবি দেখে এই সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে। কিন্তু, ২০১৪তে যেখানে মাত্র ৯৭৩৫টি ক্যামেরা ব্যবহার করা ছবি ধরে এই অনুমান করা হয়েছে, ২০১৮তে ২৬৮৩৮টি মানে আড়াই গুণ বেশী ক্যামেরা ব্যবহার করে পাওয়া গেছে। সেক্ষেত্রে , দুটো সমীক্ষা কি তুলনীয়?” ও মন্য তিগের্স অরে ইন থে ১২-১৮ মোন্থ অগে গ্রৌপ ইন থে পোপুলতিওন ওফ ২,৯৬৭?” এই সব অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তরে সংস্থার কর্তারা অবশ্য নীরব থেকেছেন।
তবে, বাঘের “ছোটভাই” চিতাবাঘের ওপর “ইল্দ্লিফে রোতে্তিওন ওিএত্য ওফ ঈন্দিঅ (ঈ) নামের একটি ণ –র সমীক্ষা কিন্তু ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। ভারতবর্ষে প্রতিদিন অন্তত একটি করে চিতাবাঘের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ২০১৯-এ প্রথম চারমাসে ইতিমধ্যেই ২১৮টি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে, যা এই সংখ্যাকে প্রায় ১।৮-র কাছাকাছি নিয়ে গেছে। এর মধ্যে, মানুষের সাথে সংঘর্ষে বা তাদের পেতে রাখা “লাইভ” ইলেকট্রিক তারে তড়িতাহত হয়ে মৃত্যু একটা বড় কারণ। এছাড়া চোরাচালানকারী এবং ট্রেনে বা রাস্তায় কাটা পড়ে মৃত্যুর সংখ্যায়ও খুব নগণ্য নয়।
“উল্নেরব্লে “ তালিকায় থাকা “অন্থের অর্দুস” (চিতাবাঘের বৈজ্ঞানিক নাম) , আন্তর্জাতিক মানে “লাল তালিকাভুক্ত” বা “এন্দঙ্গেরেদ” হবার ঠিক একধাপ আগে দাঁড়িয়ে আছে। এমনিতে চিতাবাঘের সংখ্যা অরণ্যের সাধারণ স্বাস্থ্যের দিকে দিকনির্দেশ করে, কারণ, চিতাবাঘ যখন তার প্রয়োজনীয় খাদ্য অরণ্যে পায় না তখনই সে লোকালয়ে আসতে বাধ্য হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে চিতাবাঘের মৃত্যুর হার বাড়তে থাকাকে “প্রাণী সংরক্ষণে যা পাঁচ বছরে মানে ২০২২’এ যে করার কথা ছিল তা ২০১৮-১৯এই করে ফেলেছি” গোছের সরকারী ঢক্কানিনাদকে অসার প্রমাণ করে।
এবং চিতাবাঘ নিয়ে সরকারী ভাষ্যের মিথ্যা বয়ান যথারীতি চালু আছে। ডিসেম্বর ২০১৮তে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে একটি তারকা- খচিত প্রশ্নের উত্তরে তখনকার পরিবেশ ও অরণ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা তথ্য দেন, ২০১৫ থেকে অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত মোট ২৬০টি চিতাবাঘ চোরাচালানকারীদের হাতে নিহত হয়েছে। এর মধ্যে, ২০১৫তে ৬৪টি, ২০১৬তে ৮৩টি , ২০১৭তে ৪৭টি এবং অক্টোবড় ১৮ পর্যন্ত ৬৬টি। কিন্তু, ওপরের এই সমীক্ষা জানাচ্ছে (বন কর্মীদের দেওয়া রিপোর্টগুলোকে একত্রিত করে) ২০১৫তে আদতে ১২৭টা, ২০১৬ ১৫৪টা এবং ২০১৭তে ১৫৯টা চিতাবাঘ চোরাচালানকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে।
এভাবে চলতে থাকলে “চিতাবাঘের সরু ঠ্যাং” আমরা শুধু শিশুপাঠ্য পুস্তকেই দেখতে পাব।


এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1