বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--5


           বিষয় : বন্দেমাতরম ও বর্ণহিন্দু জাতীয়তাবাদ
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Soumya Sahin
          IP Address : 236712.158.786712.127 (*)          Date:29 Jul 2019 -- 10:22 AM




Name:   Soumya Sahin           

IP Address : 236712.158.786712.127 (*)          Date:29 Jul 2019 -- 10:24 AM

ঐতিহাসিক গবেষণাও দিনের শেষে রাজনৈতিক।

সেই বঙ্কিমের আমল থেকে আমাদের রাজনৈতিক মনন এবং দিশা ঠিক করার দায় নিয়েছে চাটুজ্যে-বাড়ুজ্যে-মুখুজ্যেরা। স্বাভাবিক ভাবেই বাংলার নবজাগরণের নেতৃত্ব এই বাবুসমাজের হাতেই ছিলো।
( কম্যুনিস্ট আন্দোলনের ক্ষেত্রেও কজনই বা দলিত-আদিবাসী-সংখ্যালঘু তাত্ত্বিক দেখেছি?)

এভাবেই ব্রাহ্মন্যবাদী আধিপত্যবাদের দ্বারা এমনকি দেশের কনসেপ্টটাও যখন হাইজ্যাক হয়ে যায় (দেশমাতৃকা ব্লা ব্লা), সারে জাহা সে আচ্ছার কবি পরবর্তী কালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ইন্টেলেকচুয়াল ফাদার হয়ে ওঠেন, জিন্নার মত মেধাবী অসাম্প্রদায়িক কংগ্রেস নেতা নিজের রাস্তা আলাদা করে নেন। অপরাধ করেন। বিশ্বাসঘাতকতা করেন দেশের সাথে। তার ফল আজও উপমহাদেশের মানুষ ভুগে চলেছে। কিন্তু যারা প্ররোচিত করল, পায়ের তলা থেকে মাটি কেড়ে নিলো, ভারতবর্ষের মুসলমান সমাজকে অস্তিত্বের সংকটের দিকে ঠেলে দিলো, তাদের ভূমিকাটার পর্যালোচনা হবেনা?

ভারতীয় মুসলমানের, বিশেষত পূর্ব ভারতের মুসলমানের সিংহভাগের পূর্বপুরুষ নিম্নবর্ণের হিন্দু। ব্রাহ্মন্যবাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এঁরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। (পরবর্তীকালে নিজেদের অভিজ্ঞতার নিরিখে অনেকেই বুঝেছেন যে ইসলামের সাম্যের যে ধারণার কথা প্রচলিত তার অনেকটাই মিথ)।
বিংশ শতাব্দীতে মেইনস্ট্রিম মুক্তিকামী রাজনৈতিক ভাষ্যে আবারও সেই ব্রাহ্মন্যবাদের প্রাধান্য এই মানুষদের শঙ্কিত করেছিল।
ধরুন অনন্দমঠ উপন্যাসে যেভাবে দেশমাতৃকার বর্ণনা করা হয়েছে, সেটা বর্ণহিন্দু বাদে যেকোনো মানুষের চোখেই সম্পূর্ণ আরোপিত বলে মনে হবে। সেই আনন্দমঠ যখন স্বাধীনতা সংগ্রামের একটা পয়েন্ট অফ ইন্সপিরেশন হিসেবে রাজনৈতিক ভাবে চিহ্নিত হয় অথবা বন্দেমাতরম মন্ত্র আন্দোলনের একটা চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে, তখন এই মানুষগুলো সেই আন্দোলনের প্রতি বিমুখ হয়ে উঠবেন এটা কি খুব অস্বাভাবিক?

কলোনিয়াল শিক্ষায় শিক্ষিত বর্ণহিন্দু বাবুগণ ন্যাশনালিজমের যে প্যারাডাইম তৈরি করেছিলেন, তার ছত্রে ছত্রে ব্রাহ্মণ্যবাদের আধিপত্য স্পষ্ট। ক্লাসিক এক্সাম্পল বন্দেমাতরম। বঙ্কিমের সমগ্র সাহিত্যসৃষ্টি ইসলামবিদ্বেষ এবং ব্রিটিশ প্রভুদের প্রতি গদগদ আনুগত্যে ভরপুর। কলোনিয়াল ঐতিহাসিকদের এজেন্ডাই ছিলো মধ্যযুগকে অন্ধকারাচ্ছন্ন বলে প্রতিপন্ন করা এবং ব্রিটিশ শাসককে ভারতবর্ষের মানুষের মুক্তিদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ঠিক সেই কাজই করা হয়েছে আনন্দমঠ উপন্যাসের শেষ অংশে। অথচ কোনো এক অজ্ঞাত জাদুবলে সেই উপন্যাস হয়ে উঠলো স্বাধীনতার যুদ্ধের ইন্সপিরেশন। আর বন্দেমাতরম সঙ্গীত, যেখানে দেশমাতৃকা আর দেবী দুর্গা একাকার হয়ে যান লেখকের কল্পনায়, সেই বন্দেমাতরম মন্ত্রে সমগ্র জাতিকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা আসলে ভাঙ্গনের অন্যতম কারণ। এই ন্যারেটিভ চূড়ান্তভাবে এক্সক্লুসানারি। উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রাধান্যের কারণে জাতীয়তাবাদের এই যে কনসেপ্ট তৈরি হলো, তাতে নিম্নবর্ণের হিন্দু, দলিত ও মুসলমান সমাজ এক্সক্লুডেড বোধ করেছিল সঙ্গত কারণেই।

ব্রিটিশ প্রভুর থাবা থেকে বেরিয়ে ফের সেই বর্ণহিন্দুর আধিপত্যে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের সন্ত্রস্ত করেছিল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই মূলধারার স্বাধীনতার আন্দোলন মুখ্যত উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারাই পুরোপুরি ডমিনেটেড।

আজ যখন আমাদের কালেক্টিভ কনসায়েনস এর ওপর দিয়ে ন্যাশনালিজমের বুলডোজার চালিয়ে দিচ্ছে একটা আধা ফ্যাসিস্ট শক্তি, সেই চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ধারণার উৎসে ফিরে যাওয়া সময়ের দাবি।


Name:   Sumit Roy           

IP Address : 237812.69.453412.98 (*)          Date:31 Jul 2019 -- 11:05 AM

লেখাটি পড়ে ভাল লাগল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে উঠে এসেছে। "ব্রাহ্মন্যবাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এঁরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।" এই কথাটার প্রসঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই।

হেনরি বেভারলি ১৮৭২ সালে বাংলার আদমশুমারি এর রিপোর্ট তৈরি করেন। তিনি বলেছিলেন, হিন্দুদের অনন্য বর্ণপ্রথা “বাংলার প্রায়-উভচর (semi-amphibious) আদিবাসীদেরকে তাদের উচ্চ বর্ণের প্রভূগোষ্ঠী সেবার উদ্দেশ্যে কাঠুরে আর পানিবাহকে পরিণত করেছিল। এই প্রভুদের দৃষ্টিতে তারা ছিল নোংরা পশু, ঘৃণিত জীব মাত্ৰ।”। যুক্তি দেখানো হয় যে, এই বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত জনগোষ্ঠীর সামনে ইসলাম তুলে ধরেছিল ঈশ্বরের একত্ব ও মানুষের সাম্যের ধারণা, আর তারই জন্য নিম্নবর্ণের হিন্দুরা স্বাভাবিকভাবেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্রণোদিত হয়েছিল। কিন্তু অনুকল্প বা হাইপোথিসিজের এর বিরুদ্ধে কয়েকটি যুক্তি দাঁড়া করানো যায়:

১। রিচার্ড ইটন তার The Rise of Islam and the Bengal Frontier গ্রন্থে বলেন, মধ্যযুগের বাংলায় উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের মধ্যে শোষণের ধারণার অস্তিত্ব ছিল না। প্রাক-আধুনিক যুগে উচ্চ বর্ণের হিন্দু কর্তৃক নিম্ন-বর্ণের হিন্দুদের শোষণকে শোষণ হিসেবে দেখা হত না, বরং মনে করা হত এটি প্রাকৃতিক নিয়ম-রীতিরই অংশ। উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের ধারণা ইউরোপের আলোকিত যুগের (Enlightenment) ফসল। তাই এই অনুকল্পকে ইটনের “reading history backward” বা “উল্টো দিক থেকে ইতিহাস পাঠ” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

২। লক্ষ করা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অংশে উচ্চ বৰ্ণ কর্তৃক শোষণের ধারণার অস্তিত্ব থাকলেও বাংলায় সেভাবে তার অস্তিত্ব ছিল না। বাংলায় সমাজে ব্রাহ্মণদের কর্তৃত্ব এত দুর্বল ছিল যে, তাদের পক্ষে শোষণ চালানো সম্ভব ছিল না। বাংলায় অনেক ব্ৰাহ্মণ নিজেদেরকে ভেজাল ও দো-আশলা মনে করত। আর. সি. মজুমদার এর বাংলাদেশের ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ব্রাহ্মণদের শুদ্ধতা রক্ষার জন্য আদিশূরকে কণৌজ থেকে পাঁচজন ব্ৰাহ্মণ আমদানি করতে হয়েছিল। চট্টোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্যরা হচ্ছেন সেই আনু. একাদশ শতকের দিকে উত্তর ভারত থেকে আসা ৫টি কনৌজ বা কন্যকুব্জ বা কুলীন ব্রাহ্মণ, চক্রবর্তীরাও এই বাইরে থেকে এসেছিল দাবি করা হয়। এই ব্রাহ্মণদের সাথে ঘোষ, বসু, মিত্র, দত্ত প্রভৃতি কুলিন কায়স্থরাও এসেছিল। এরাই শুদ্ধ ব্রাহ্মণ ছিল বলে দাবি করা হয়। মূলত বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে বা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে এরা বেশি ছিল, সেখানে ইসলামে ধর্মান্তর তেমন হয়নি ও মুসলিম সংখ্যাধিক্য ছিল না। মুসলিম আধিক্য ও ধর্মান্তর ঘটে পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গে যেখানে এই “বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণরা” ছিলেন না।

কোষ্ঠী-তালিকার সাহিত্য হতে এও জানা যায় যে, সেন রাজা – বল্লাল সেন ও বর্মণ রাজা – শ্যামল বর্মা ব্রাহ্মণদেরকে বাংলার বাইরের অঞ্চল থেকে আমন্ত্রণ করে এনেছিলেন। হুলায়ূধ (১২শ শতাব্দী) উল্লেখ করেছেন যে, স্থায়ীয় ব্রাহ্মণরা বৈদিক ধৰ্মানুষ্ঠান পরিচালনায় সুশিক্ষিত ছিল না। বাংলার স্থানীয় ব্রাহ্মণরা প্রধানত দু’শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল : শ্রোত্রিয় ব্রাহ্মণ ও বর্ণ ব্রাহ্মণ। শ্রোত্রিয় ব্রাহ্মণরা বর্ণ ব্রাহ্মণদেরকে অস্পৃশ্য মনে করত এবং তাদের হাতের জল স্পর্শ করত না। বর্ণ ব্রাহ্মণদের নিজেদের মধ্যেও আবার বিভিন্ন ক্রমবিন্যাস ছিল। চাষী কৈবর্তদের পুজো-আচ্চা করে যে সব বৈদিক ব্রাহ্মণ- তারা পদমর্যাদায় এত নিচে যে, তাদের যজমানরাই তাদের বাড়িতে খাদ্য গ্রহণ করে না। অগ্ৰদানী ব্রাহ্মণরা মৃতের সংকার করে এবং মৃতের অর্ঘ্য গ্রহণ করে; তাদেরকে দুষিত মনে করা হয়। গ্রহ-বিপ্র বা আচার্য যারা গণক, হস্তরেখাবিদ, কোষ্ঠী-লেখক হিসেবে কাজ করত তাদেরকে ভেজাল ব্রাহ্মণ মনে করা হত। ভট্ট ব্রাহ্মণরা ধনী লোকদের গুণ-কীর্তন করে জীবিকা নির্বাহ করত। তারা ছিল মিশ্র বিবাহজাত সন্তান; তাদেরকে পতিত বলে গণ্য করা হত। Sir Herbert Risley তার The people of India গ্রন্থে লিখেছেন, বাংলার বর্ণ ব্রাহ্মণরা আর্য ছিল না, স্থানীয় দেবদেবীর গোষ্ঠী পুরোহিতকে ব্রাহ্মণ পদবী প্রদান করে স্থানীয়ভাবে একটি সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছিল এ রকম অনেক ব্রাহ্মণ”। (“manufactured on the spot by simple process of conferring the title of Brahman on the tribal priests of the local deities” – Sir Herbert Risley, 1915. The people of India. Page – 33)। বাংলায় অনেক ব্ৰাহ্মণ নিজেরাই নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মতো নিপীড়িত ছিল। ফলে এটি মেনে নেয়া কঠিন যে, বাংলায় ব্রাহ্মণদের অত্যাচার নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ইসলাম ধর্মের দিকে ঠেলে দেয়।

৩। নিচু বর্ণের ধর্মান্তরের অনুকল্প মধ্যযুগের বাংলায় ইসলামের সাম্য ধারণাকেও অতিরঞ্জিত করে। তাত্ত্বিকভাবে ইসলামের সকল অনুসারীরাই আল্লাহ ও তার নবীর চোখে সমান। তবে বাংলায় মুসলমানরা নিজেরাই হিন্দু বর্ণ প্রখা দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিল। বাংলায় মুসলমানদের দুটি প্রধান সামাজিক ভাগ ছিল: “আশরাফ” ও ‘আজলাফ’; বাংলায় বিকৃত হয়ে ‘আজলাফ’ শব্দটি ‘আতরাফ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যায়, বাংলায় উচ্চ বর্ণের হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত লোকজনকে বিদেশীদের-সন্দেহাতীত-বংশধরের সমকক্ষ বলে ধরে নেয়া হত এবং ‘আশরাফ’ বা সম্ভ্রান্ত বলে গণ্য করা হত। E. A. Gait তার ১৯০২ সালের ভারতের আদম শুমারির রিপোর্টে উল্লেখ করেন, “পেশাজীবীসহ নিচু শ্রেণী থেকে ধর্মান্তরিত অন্য সকল মুসলমানদের অবজ্ঞাপূর্ণ ভাষায় ‘আজলাফ’, ‘জঘন্য’ বা ‘ছোটলোক’ বলে অভিহিত করা হত। তাদেরকে ‘কামিনা’ বা ‘ইতর’ বা রাজেল-ও (রিজাল-এর বিকৃত রূপ, যার অর্থ “অকর্মণ্য”) বলা হত।”

তাই বলা যায়, নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে আপনাআপনি ভ্রাতৃত্বের জাতের সাম্যবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েনি। ধর্মান্তরের কারণে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এমনকি তাদের সামাজিক মর্যাদাও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি। বাস্তবিকপক্ষে, মুসলমান বাংলায় নিম্নতম বর্ণের থেকে ধর্মান্তরিত মুসলমানদের প্রতি অধিক বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে। গেইট উল্লেখ করেছেন যে, “কোনও কোনও ক্ষেত্রে তৃতীয় একটি শ্রেণী – আরজল বা ‘সর্বনিম্ন শ্রেণী’, এতে যুক্ত করা হয়। সবচেয়ে নিম্ন শ্রেণীর লোকজন – যেমন, হালালখোর, লালবেগী, আবদাল, বেদেরা এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের সাথে অন্য মুসলমানরা কোনও সম্পর্ক রাখত না; মসজিদে ঢোকা বারণ ছিল তাদের; সর্বসাধারণের কবরস্থানও তারা ব্যবহার করতে পারত না।” এ ধরনের বৈষম্যের কারণে এবং মুসলমানদের আদত আচরণ দেখে নিচু বর্ণের হিন্দুরা ধর্মান্তরিত হতে নিরুৎসাহিত বোধ করবে – এটিই স্বাভাবিক।

৪। ব্রাহ্মণদের অত্যাচার কোনওক্রমেই কেবল বাংলায় দেখা গেছে, এমন নয়। সমগ্র ভারতেই ব্রাহ্মণরা নিচু বর্ণের হিন্দুদেরকে অত্যাচার করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাদে দেখা যায় যে, ব্রাহ্মণরা উপমহাদেশের সর্বত্রই সমভাবে ঘৃণিত। ব্রাহ্মণদের সম্পর্কে বলা হয় যে, তারা “দেখতে সাধু কিন্তু অন্তরে কসাই।” নিম্নোক্ত প্রবাদটি ব্রাহ্মণদের প্রতি ঘৃণার প্রমাণ দেয় : “ইস দুনিয়া মে তিন কসাই, পিশু, খাটমল, ব্রাহ্মণ ভাই।”
(এই দুনিয়ায় আছে তিন রক্তচোষা/ ছাড়পোকা, ব্রাহ্মণ ভাই আর মশা)।
(“Is Duniya men tin Kasai/ Pishu, Khatmal, Brahman Bhai” (Blood suckers three on earth there be/ the bug, the Brahman and the flea – Sir Herbert Risley, 1915. The people of India.)।

বাস্তবে বাংলাকে জঘন্যতম ধরনের ব্রাহ্মণ্য অত্যাচার সহ্য করতে হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অংশে এধরনের অত্যাচার ছিল আরও তীব্র। উদাহরণস্বরপ, মাদ্রাজের কথা তুলে ধরা যায়; সেখানে ধরে নেয়া হয় যে, একজন নিম্ন বর্ণের অচ্ছুৎ যদি উচ্চ বর্ণের ব্রাহ্মণের যাট ফুটের মধ্যে ঢুকে যায় তবে তাকে অপবিত্র করা হয়। দক্ষিণ ভারতের কোনও কোনও এলাকায় “ব্রাহ্মণদের আসতে দেখলে” শূদ্রদের রাস্তা ছেড়ে দিতে হয়, অথবা মধ্যযুগে যুরোপে কুষ্ঠরোগীদেরকে যেমন বিশেষ এক ধরনের শব্দ করে তাদের আগমনের সংবাদ দিতে হত তেমনি শব্দ করে চলতে হয়। (Risley, 1915, একই গ্রন্থ)। এধরনের বৈষম্যের অস্তিত্ব বাংলায় ছিল না। নিম্নবর্ণের হিন্দুদের প্রতি ব্রাহ্মণ্যবাদী অত্যাচারের বিপরীতে ইসলামি সাম্যবাদ যদি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের প্রধান আকর্ষণ হত, তাহলে উপমহাদেশের অন্যান্য অংশে ইসলামের প্রসার অধিকতর লক্ষণীয় হত। কিন্তু ভারতবর্ষের অন্যান্য ব্রাহ্মণ দ্বারা নিপীড়িত অঞ্চলে মুসলমান সংখ্যাধিক্য দেখা যায় না।

এসব কারণে আমার মনে হয় বাংলার লোকেদের ধর্মান্তরের মূল কারণ ব্রাহ্মণদের অত্যাচার নয়, এখানে অন্য একটি মেজর ফ্যাক্টর কাজ করেছে। তা হল বাংলায় সুফি পীরদের প্রভাব।


Name:   Sumit Roy           

IP Address : 237812.69.453412.98 (*)          Date:31 Jul 2019 -- 11:09 AM

উল্লেখ্য যে, আমি উপরের মন্তব্যে এটি লিখেছিলাম, "চট্টোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্যরা হচ্ছেন সেই আনু. একাদশ শতকের দিকে উত্তর ভারত থেকে আসা ৫টি কনৌজ বা কন্যকুব্জ বা কুলীন ব্রাহ্মণ, চক্রবর্তীরাও এই বাইরে থেকে এসেছিল দাবি করা হয়। এই ব্রাহ্মণদের সাথে ঘোষ, বসু, মিত্র, দত্ত প্রভৃতি কুলিন কায়স্থরাও এসেছিল। এরাই শুদ্ধ ব্রাহ্মণ ছিল বলে দাবি করা হয়।" এগুলো বাংলার কুলজি গ্রন্থমালায় পাওয়া যায় যার কোন প্রমাণ নেই। নিহাররঞ্জন রায় বলেছিলেন, সম্ভবত বাংলার স্থানীয় লোকদেরকেই ব্রাহ্মণ বানানো হয়েছিল, আর ক্রমে ব্রাহ্মণেরা নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য এইসব কুলজি গ্রন্থমালা তৈরি করে নিজেদেরকে অন্যত্র থেকে আসা দাবি করেন। ডিরেক্ট এই কথাই বলেন নি, বিস্তারিত লেখায় এই ব্যাপারটা নিয়ে এসেছিলেন। সেটাও এখানে বলে রাখলাম।


Name:   Sumit Roy           

IP Address : 236712.158.786712.215 (*)          Date:31 Jul 2019 -- 11:30 AM

আর সুফিদের প্রভাব বলতে অনেকে যেমন সিলেটের শাহজালালের উদাহরণ দিয়ে দাবি করে সুফিরা তরবারির সাহায্যে ধর্মান্তর করেছিলেন, সেটা বলছিনা। মানুষ সুফিদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই তাদের শিষ্য হয়েছিল।


Name:  জামাল          

IP Address : 236712.158.780112.90 (*)          Date:01 Aug 2019 -- 10:06 AM

বিপিনচন্দ্র পাল প্রণীত "আমার জীবন ও সমকাল " বই থেকে -
"১৮৮০ কি ৮১ সালে জামাল-উদ-দীন, নিখিল ইসলাম আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসেন। দেশের মুসলমান নেতাদের সঙ্গে তিনি গোপনে পরামর্শ করেন। কলকাতায় এসে তিনি স্বর্গীয় নবাব আবদুল লতিফ ও তাঁর অনুগামী শিক্ষিত মুসলমানদের একটি ক্ষুদ্র দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই দলে স্বর্গীয় বিচারপতি আমীর আলিও ছিলেন। জামাল নিখিল ইসলামের বীজাণু এঁদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে যান। জামাল-উদ্‌-দীনের আগমনের আগে শিক্ষিত মুসলমানরা বিশেষতঃ বাংলা দেশের যাঁরা তাঁরা হিন্দুদের সঙ্গে জাতীয় রাজনৈতিক স্বার্থে অনুগত সহযোগিতা করে চলতেন। কিন্তু তারপর থেকে মুসলমানরা হিন্দুদের থেকে রাজনৈতিক ব্যাপারে দূরে সরে গেলেন।"



এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--5