বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : বৃত্ত
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Soumya Sahin
          IP Address : 124512.101.780112.71 (*)          Date:21 Jul 2019 -- 02:14 AM




Name:   Soumya Sahin           

IP Address : 124512.101.780112.71 (*)          Date:21 Jul 2019 -- 02:15 AM

উনপঞ্চাশ নম্বর ওভারের প্রথম বলটা পয়েন্টের ওপর দিয়ে উড়ে গেলো গ্যালারিতে। বাকি এগারো বলে চব্বিশ রান প্রয়োজন। টিভির সামনে বসে উত্তেজনায় দুহাতের আঙুলের নখ খেয়ে চলেছে আসমুদ্র হিমাচল। ঈশ্বর তখনো নির্বিকার। তাঁর মাথার কম্পিউটারে হিসেব হয়ে রয়েছে যে শেষ ওভারের আগেই চার বিশেষজ্ঞ বোলারের কোটা ফুরিয়ে যাওয়ায় ৫০ নম্বর ওভারটা করতে হবে জিমি নিশামকে। ফার্গুসনের দ্বিতীয় বল শর্ট অফ লেংথ। ফ্লিক করতে গিয়ে মিসটাইম হয়ে বল এবার স্কোয়ার লেগের দিকে চলে গেল। নিউজিল্যান্ডের সেরা ফিল্ডার গাপ্টিল বলটাকে তাড়া করেছে দেখেও স্ট্রাইক রাখার মরিয়া চেষ্টায় তিনি প্রাণপণে দৌড়লেন। কিন্তু জীবন মতি নন্দীর উপন্যাস নয়। পঁচিশ গজ দূর থেকে ছোড়া বলটা কেউটের ফণা হয়ে আছড়ে পড়ল উইকেটে- ক্রিজ থেকে ব্যাট তখনো কয়েক মিলিমিটার দূরে। গোটা মাঠ মুহূর্তে নিশ্চুপ, শুধু ইতিউতি দু চারজন কিউই সমর্থক পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার আশায় লম্ফঝম্প শুরু করেছে। সবার চোখ তৃতীয় আম্পায়ারের সংকেতের দিকে।

শুধু এই দিনটার জন্য গত চার বছর ধরে একটু একটু করে তিনি নিজেকে তৈরি রেখেছেন। আটত্রিশ গ্রীষ্ম পার করা এই শরীরটা মাঝেমাঝেই বিদ্রোহ করেছে, প্রতিদিন ওই এলার্ম ঘড়ির কর্কশ আওয়াজ আর ভালো লাগে না। মেয়েটার জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকা হয়নি, এখন তার বেড়ে ওঠার সময়টাও যদি নেট-জিম-হোটেল-ফ্লাইট এই দৈনন্দিন চক্রের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে মিস হয়ে যায়, তবে আফসোসের সীমা থাকবে না। ক্রিকেট মাঠে পাওয়ার আর বাকি কিছু নেইও। অধিনায়ক হিসেবে দুটো ফরম্যাটের বিশ্বকাপ, গোটা তিনেক আইপিএল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, টেস্টে এক নম্বর রেঙ্কিং- পাওনার খাতা উপচে পড়ছে। পঞ্চাশের ওপর গড়ে দশ হাজারের বেশি ওয়ান ডে রান তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফিনিশারের তকমা দিয়েছে। নিজেই নিজেকে বহুবার প্রশ্ন করেছেন- "তবে আর কেন?" যৌবনের সেই ক্ষিপ্রতা বহুদিন হল হারিয়েছেন, হাত আর চোখের সেই নিখুঁত সমন্বয়ও আর নেই। চার বছর আগে যে বলগুলোকে হেলায় স্টেডিয়ামের ছাদে পাঠাতেন হেলিকপ্টারের ছন্দে, আজ সেইসব লেংথ বল ডট হয়ে যাচ্ছে। সমালোচকদের দাঁত-নখ বেরিয়ে পড়েছে- বুক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হাঁকানো নান্টু থেকে টিভির পর্দা কাঁপানো বিশেষজ্ঞ আকাশ চোপড়া- প্রত্যেকে নিদান হেঁকেছে "মাহি ম্যাজিক শেষ।" বয়সের সঙ্গে একটা পর্যায় পর্যন্ত লড়াই করা যায়, আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের সাহায্যে থার্টি ফাইভ ইজ দ্য নিউ টোয়েন্টি ফাইভ। ফেডারার-নাদাল-রোনাল্ডো-মেসি-টাইগার উডসরা প্রত্যেক টুর্নামেন্টে এইকথা ধারাবাহিক ভাবে প্রমাণ করে চলেছেন। তাহলে তিনি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ব্যাকরণ বদলে দেওয়া মহাতারকা, পারবেন না কেন প্রমাণ করতে যে বয়স দিনের শেষে শুধুই একটা সংখ্যা?

তৃতীয় আম্পায়ারের কেবিন থেকে লাল সঙ্কেত আসা মাত্রই যবনিকা পড়ে গেল এক মহাকাব্যিক সম্ভাবনার। কয়েক মিলিমিটারের ব্যবধান হারিয়ে দিল একটা জীবন দর্শনকে- হার মানতে না শেখা এক খেলোয়াড় জীবনের শেষ ম্যাচে পরাজিতের দলে থেকে গেলেন। পিচ থেকে ড্রেসিংরুম, এই লম্বা জার্নিটার মধ্যে ক্যামেরা ক্লোজ আপে ধরেছিল ধোনির মুখ। শত হারজিতেও যে মুখটাতে কোন অনুভূতির রেখা দেখিনি, ২০১১র মুম্বইয়ের ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক ছয়ের পরেও যে মুখ ছিল নিতান্তই আবেগবর্জিত, আজ তার প্রতিটা রেখায় কি প্রচন্ড যন্ত্রণার ছাপ!

আজ ধোনির ব্যাটে জয় দেখতে চেয়েছিল কয়েক কোটি মানুষ, যাদের এই সমাজ প্রতিনিয়ত জাজ করে শুধুই সেইদিনের পারফরম্যান্সের নিক্তিতে। শুধুই আউটপুট সেখানে বিচাৰ্য্য- প্রোডাকশনের প্রসেসটার কথা জানতে কেউ উৎসাহী নয়। আসলে বাজার অর্থনীতির এটাই মজা, দিনের শেষে মানুষও কেবলই একটা পণ্য। আর সেখানে তার মূল্য নির্ধারিত হয় তার আজকের স্কোরের ভিত্তিতে- গতকালের হিসেব নিতে এখানে কেউ আগ্রহী নয়। ঠিক এভাবেই একদিন তরুণ ধোনির নেতৃত্বে সৌরভ-রাহুল-লক্ষণ-কুম্বলেরা পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও দল থেকে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন- অভিজ্ঞতার বিন্দুমাত্র মূল্য না দিয়ে সেদিন তারুণ্যের জয়গান গেয়েছিল তৎকালীন টিম ম্যানেজমেন্ট। ইতিহাস বৃত্তাকারে ফিরে আসে- এক যুগ পর আজ আবারও পুনরাবৃত্তি হল এক বিয়োগান্ত নাটকের- শুধু চরিত্রগুলোর নাম আর মুখ বদলে গেল- সেদিনের ধোনির জায়গায় আজকের কোহলি, গ্রেগ চ্যাপেলের জায়গায় রবি শাস্ত্রী। ভাগ্যের এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস, ধারাবিবরণী দিচ্ছেন তখন কোনো এক সৌরভ গাঙ্গুলি।

@ সৌম্য শাহীন

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1