বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : কেন এমন হয়
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :দ্যুতি
          IP Address : 237812.69.4556.110 (*)          Date:23 Jun 2019 -- 12:41 AM




Name:  দ্যুতি           

IP Address : 237812.69.4556.110 (*)          Date:23 Jun 2019 -- 12:43 AM

খবরের কাগজ পড়িনা, কিন্তু এখন মা বাবা এখানে, ওনাদের দিনে চারবার ডিডি বাংলার, সাতবার এবিপি সাথে সক্কাল সক্কাল এই খবরের কাগজ না পড়লে মনে হয় কলকাতা থেকে কত দূরে আছেন। তাই এই খবর টি সকাল থেকেই মা চারবার আওড়াচ্ছে, কাল টিভিতে দেখেছে শুনেছে, একটু বেলায় আমার ছিয়াশি বছরের মাসির সাথে ফোনেও শুনি সেই কথা, মাসি জুম লেন্স দিয়ে এসব পড়ে ফেলেছেন রোদ্দুরের কাছে কাগজ নিয়ে গিয়ে। তখন আর বসে থাকা গেল না ঠিক। মাসির সাথে একটু কথা বলে অবাক হলাম। এদের এখনো দুনিয়াদারি নিয়ে কি চিন্তা। সমাজ তার অবক্ষয়, অধপাত এসব নিয়ে কি ভাবনা। অথচ এই মাসির আমার আজ বিছানা সার জীবন। আমার এসব খবর ভালো লাগে না তাই রাখি না। কিন্তু ফেসবুক কিম্বা স্কুল গ্রুপ সবেতেই এই চর্চা, তাই আর পালাই কোথা!

খুব কঠিন সময়ে আমরা দাঁড়িয়ে। বড় দুঃখের খবর এসব। যে মা বাবার সন্তান গেল তাদের কি অবস্থা ভাবলে কেমন লাগে। কিন্তু তবু আমাদের বোধ আসে কি? কেন যে এগুলো হচ্ছে কে জানে! সন্তান ভালো করুক এ চাওয়া কি খারাপ? বাবা মা ছাড়া আর কে বুঝবে তাদের? আমার মা বাবা কি আমায় সেই বিঁধিয়ে কিছু বলেন নি? না আমি বলিনি ছেলেমেয়ে কে? আমি বলেছি কি বলিনি তা নিয়ে আমার ছানারা বলে আমি নাকি তাদের হাত ও তুলিনি। হ্যাঁ, হয়ত আমি আজকের দিনে সেইরকম এক আশ্চর্য মা। না, তবে আমার হাতে মেয়ে একবার মার খেয়েছিল, সে এক মজার ব্যাপার, সে বেচারি গান করতে বসেছে, আমি জোরে গা বলে মুখে এক থাপ্পড়, তার নড়া সামনের দাঁতখানা সোজা পেটে চলে যায় খুলে। সেই পাঁচ ছ বছরের মেয়ের সে মুখ ভাবলেই হাসি পায়। মায়ের মারের দুঃখ না দাঁত পেটে চলে যাবার হতাশা, যাইহোক, এটা ছাড়া তেমন কিল চড় গাঁট্টা দিই নি কাউকে। একে তো এই চেহারা ওই শীর্ণকায়দের উপর আস্ফালন করে কি হবে! এসব ভেবে খুব সামলে থেকেছি। এসব নিয়ে লোকে আমার ধৈর্য বাবাজীর গুণ গায় আর কি। তবে চিল্লাতাম খুব, একটু অন্যকিছু করলে বকা দিয়েছি। তবে ওই অন্তর টিপুনি না! কারণ আমার সে বোধ ছিল। আজও আছে। আর ওদের বাবা কিন্তু এমন কিছু বলেন, যাতে ওরা সে কথা জীবনে ভুলবে না হয়ত। বড় হতে গেলে লোকজন পরে বলে,' বাবার সেই কথাটাই কাজে দিয়েছিল সেদিন'। এবার সেরকম কথা যদি বার বার বলা হয় তবে কি তার মান থাকে? আমার ঠাকুমা বলতেন, ' মেরো না, মারলে মার ঘ্যাঁজড়া হবে ছেলে'। মানে ওই মার কে আর ভয় করবে না। কিন্তু মা অগুণতি বার ভাইকে ধোলাই দিয়েছে। আর আমায় বেশ কবার ধোলাই আর আরো বেশ কিছু ওই অন্তর টিপুনি। ধোলাই আপনি ভুলে যাবেন কিন্তু শালা ওই অন্তর টিপুনি সে যেই দিক ভুলবেন না এ জন্মে। হ্যাঁ, আমায় যে যে দিয়েছে সব মনে আছে।

এটাই হল ব্যাপার। এই যে অন্তর টিপুনি মনে আছে মানেই কোথাও ক্ষোভ, অভিযোগ এসব ও থাকবে। এই রসায়ন খুব তাল মিল মিলিয়ে গড়তে হয়। আমাদের সময় চারদিকে আরো বাবা মা দেখেছি, অনেক বুড়োবুড়ি দেখেছি, ছোট ছেলে মেয়ে দেখেছি। আজ তো ছানারা কাউকে সেভাবে দেখে না। কাউকে চেনে না। সব থেকে চেনে ওই নিজের বাবা আর মা কে। আর মা বাবা সব ভুলে চেনেন নিজের আত্মজ কে। আজ আমার পঁয়তাল্লিশেও মা বলে,' তোর শরীর নিয়ে চিন্তা হয়'! একটাই উত্তর, তোমার আর কিছু নেই চিন্তা করার। মানে বলতে চাইছি, একটা সময় এসে স্পেস দিন। ওদের একটা জগৎ হোক। একটু ভুল করতে দিন। সব ঠিক করলে জীবনটা না দেখাই থেকে যাবে।

সন্তান কোনো বাজার থেকে আনা প্রোডাক্ট নয়। ফ্রিজ,টিভি, গাড়ি কিনে ঝপাঝপ আপডেট দেবার মত তাদের আপডেট দেওয়াটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাবেন না। তাকে চব্বিশ ঘণ্টা ৯৯.৯৯% পাবার দিকে ঠেলে দেবেন না। এর পরিণতি এরকম করুণ হলে খুব ই হতাশার সেসব।

আমরা সবাই খুব সেন্সিটিভ হয়ে যাচ্ছি। ফেসবুকে সেদিন এই সা রে গা মা পা এর একটা ওই নোবেলের লিংক দেখছিলাম। আমাদের যা খুশি বলার স্বাধীনতা আছে তাই যেখানে যা মন চায় বলে দেবো, ভাষার একদম কদর্য রূপ দেখা যায় এসবে। ভালো টপিক হোক, রাজনীতি হোক লোকজন এরকম ভাষা যখন খুশি লেখেন। আর দৈনন্দিন জীবন দেখলে আমাদের ধৈর্য স্থৈর্য সব শেষ। আমাদের সব সময় এক্ষুনি চাই। সব টু মিনিট নুডলস কেস। কেউ কাউকে এক চুল ছাড়িনা। চারদিকে ছবি দিয়ে কত বাণী, লেখা শেয়ার করে সবাই রাতদিন, গুড মর্নিং গুড নাইটে রোজের কত ভালো ভালো কথা। কিন্তু বাস্তবে সেসব কোথায় মানি আমরা?

আজ মনে হয় সংযম ব্যাপারটা নিয়ে আরো ভাবতে হবে। নাহলে আজকের প্রজন্ম আমাদের দেখে এক উদ্ভ্রান্ত জীবন পাবে। তারা ওই টপ দেখার খেলায় সবাই মেতেছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আজ ডিপ্রেশন এ ভুগছে। এ কোন সমাজ আমরা তুলে দিচ্ছি তাদের?

ছোটদের সাথে রোজের ঘটা কিছু সাধারণ ব্যাপার আর সেই নিয়ে তাদের চাপ নিয়ে কিছু বলি। ধরা যাক, খাওয়া নিয়ে। দু চামচ বেশি খাওয়া নিয়ে ঘরে ঘরে কি প্রচন্ড যুদ্ধ চলে সবার জানা। টিফিন খেতেই হবে এটা নিয়ে কত বাচ্চা চাপ নেয়। টিফিন না খেয়ে ফেরত আনলে ঘরে যে অশান্তি তার থেকে ওরা ডগিকে টিফিন দেওয়াটাই সোজা পথ ভাবে। এই যে অস্বচ্ছ ব্যাপার, আপনার সাথে আপনার সন্তানের ওই ছোট থেকে শুরু হয় এগুলোই তো বাড়তে থাকে। সেই জায়গাটা করে দিন যে আপনাকে ও এসে বলবে, আজ ভালো লাগে নি তাই ডগিকে দিয়ে দিয়েছি টিফিন। আর সেটা শুনে আপনি রিয়াক্ট করবেন না। ঠান্ডা মাথায় নিন ব্যাপারটা, আপনার স্কুল জীবনটা ভাবুন। ওকে নিজের জীবনের কথা বলে অভয় দিন, যে এটা হতেই পারে, আপনার সাথেও হয়েছিল। আর মনে মনে গোছান ব্যাপারটা যে কেন টিফিন নাপসন্দ, সেটাই জিজ্ঞেস করে, কি দিলে ভালো লাগবে, বা কাল ডগিকে এটা দিও, আর তুমি এটা খেও এসবও বলতে পারেন। আসলে এত সময় নেই কারুর। কারুর সাথে কারুর কথা বলার ফুরসৎ নেই আজ। কি টিফিন নিল সন্তান আজ সেটাও অনেক মা জনেন না। বাবা তো দূর অস্ত। আয়াপিসি সেসব ভালো বোঝে। এভাবে ছোট ছোট গ্যাপ, ভ্যাকুউম তৈরি হচ্ছে। খাওয়ার পরে পড়া, কিছু বাচ্চা থাকে কথা বলায় অনীহা। ঈশারায় জগৎ মারে। তাদের কাছে ওই ওরাল, রিডিং, রিসাইটেশন বড্ড ফালতু ব্যাপার। এটা মা বাবা মানতে পারেন না। আমার ছেলেটিই এমন ছিলো। আমি দিন গুনতাম কবে সে সিনিয়র স্কুলে যাবে, ওসব বিষয় আর পরীক্ষা দিতে হবে না, দেখলাম সিনিয়রে এসে সে দিব্যি সবেতে ভালো করছে। কেউ কেউ অংকে কাঁচা। ব্যাস, আপনি সারাক্ষণ বলতে লাগলেন, জীবনে কিস্যু হবে না। মাথা ঠোকাঠুকি, রুলের বাড়ি আরো কত কি। শুধু ভাবুন, আজ ভাবাটা বড্ড দরকার। আমার মেয়ে একটা সোজা লাইন টানতে পারতো না। যখন ই কিছু ধরতো বেঁকিয়ে, বড় হয়ে ক্যামেরাতেও তাই হত। এগুলো নিয়ে খুব চাপ দিয়ে লাভ কিছু হয় না। হাসাহাসি করেও লাভ নেই। মেনে নিন। আপনার সন্তানকে সব পেরে আসতেই হবে এই ধারণাটা পাল্টান। এসব নিয়ে টেনশন না নিয়ে ওদের নিয়ে বেড়িয়ে আসুন, রোজ প্রকৃতির থেকে কিছু শিক্ষা দিন সেগুলো বেশি কাজে লাগবে। একটু সেবামূলক কাজ, মানুষের পাশে থাকা, মানুষের কথা ভাবাতে শেখান। আয়াপিসিকে ওর সামনে ঝাড়বেন না, কাজের মাসিকে ওদের সামনে টিক টিক করবেন না। আপনার বাবা মাদের নিয়ে ওদের সামনে আলোচনা করবেন না। ছোটদের মনে এসব খুব চাপ ফেলে। আজ এভাবে সন্তানরা নিজেদের জীবন থেকে অবসর নিয়ে নিলে সে খুব শোচনীয় ব্যাপার। তাই তাদের জন্য আমাদের দায়িত্ব বাড়ছে। তাদের জন্য আমরা একটু পাল্টাই এবার।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1