বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : এক শালিখ
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :দ্যুতি
          IP Address : 7845.29.4512.155 (*)          Date:04 Apr 2019 -- 04:47 AM




Name:  দ্যুতি          

IP Address : 7845.29.4512.155 (*)          Date:04 Apr 2019 -- 04:48 AM

গতকাল সকালে একটা এক শালিখ আমায় দেখছিল আর মাঝে মাঝে ডানা ঝাড়ছিল পেয়ারা গাছের নীচে। আমি মনে মনে ভাবছিলাম বেচারির দিন কেমন যাবে কে জানে! আর ওকে দেখে নিজে তলিয়ে যাচ্ছিলাম যে আজ কি কি শুভ অশুভ হতে পারে। হ্যাঁ, মাঝে মাঝে জ্যোতিষী হয়ে যাই এমন। কাল এমনিতেই জীবন তাড়াহুড়োর ছিল।বাড়িতে বসে খাই, তাই বলে কি তাড়াহুড়ো নেই? কাল এগারোটায় মিল কে ইসিজি করাতে নিয়ে যাবার কথা ছিল। তাই চটপট দু তিন পদ সেরে বেরুবো এসে ভাত করে নেবো। এই টার্গেটে রান করছিলাম। উচ্ছে চচ্চড়ি বসিয়ে একটু বেশি জল ঢেলে কড়ায় চানে গেলাম। কনফিডেন্স বুঝলেন কনফিডেন্স, তাই মনে হলেও মিল ফিল কাউকেই বলিনি বেড়োনোর আগে যেন গ্যাস অফ করি একটু মনে করাবেন। চান করে একটু সাজুগুজু করতেই এলো ড্রাইভার। ফিলকে মনে করে প্রেস্ক্রিপশন নেবার কথাও বলেছি। ড্রাইভার দেখে এদিকে মিল নিজেই এক পায়ে চটি পরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে উদ্যত। গিয়ে তাকে খপ করে ধরি, এসময় ওদিকে ফিলের আর্জি প্রেসক্রিপশন তাঁর কাছে নেই, ছেলে ওষুধ এনে ফেরত দেয় নি। আবার খানিক বাদে না পেয়েছি জানান। পারা একশো চার থেকে নব্বুইয়য়ে নামে, চাবি মেরে বেড়িয়ে মেন রোডে নামতে পোড়া গন্ধ ভেসে আসতেই মনে এলো গ্যাস জ্বলছে। নিজেই চমকে বলে উঠি, এই যাহ, গ্যাস অফ করা হলোনা। ভাগ্যিস বেশি জল দিয়েছিলাম। আর যতদূর মনে পরে কমানো ছিল গ্যাস। আহা এতকিছুর মাঝে সেই শালিখ আমার মনে তিড়িং তিড়িং লাফায়। আমি খালি ভাবি আহা তোর দিন কেমন কাটছে কে জানে। ফিলের এই মার্কেটে আসার কোনো দরকার ছিল না, বাড়িতে থাকলে ফোন করে বললে গ্যাস অফ করে উপকারে আসতেন, এসব ভাবতে ভাবতেই এসে গেল আবিষ্কার ডায়াগোনেস্টিক সেন্টার। কিছুই ভীড় নেই ইসিজিতে, টাকা মিটিয়ে যেতেই একজনের পর আমরা ঢুকলাম। আহা খামোকা শালিখ নিয়ে লোকে এটা ওটা বলে। নাজেহালের নাম বিরাট লাইন হতেই পারতো। মামুনির রাজ্যের পিটপিটানি, তাই একটা আলাদা মোছার টাওয়েল এনেছিলাম। ফিল কে বসিয়ে কাজ সেরে বেরিয়ে ফিলের পাশে বসি। রিপোর্ট দেখলাম। বুঝি না বুঝি এসব দেখতে হয়। মানুষের মন তো। একটু জল খেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে উঠে আবার গাড়ির দিকে যাই। শালিখ আমার ঘাপটি মেরে মজা দেখছিলো মনের কোণে। গাড়িতে বসে মোবাইল নিতে যাবো দেখি সেটি নেই। ড্রাইভারজীকে বললাম, গিয়ে দেখুন তো, ওই বেঞ্চেই রেখেছি। নাহ, সে গেল, কিন্তু ফিরছে না। নিজেই যাই, মনের যা ছিরি, হতে পারে কোথাও হাত গলে পরেছে। গিয়ে শুনি পাওয়া যায় নি। কেলো করেছে, সে কি। ড্রাইভারজীকে বলি ফোন করতে আমার নাম্বারে।মনটা নিমেষে পানসে হয়ে গেল। দুঃশালা, কি দরকার ছিল ওই শালিখের সাথে পাঙ্গা নেবার। জীবনে সব গেল গেল লাগছে। আবার রাস্তায় এলাম, নাহ, কোথাও সে নেই। থাকবে কি করে, ফোন পরে থাকবে? এ কি সত্য যুগ? গেছে গেছে, সে খোয়া গেছে। ভাবছি বরকে বাপীর ফোন থেকে ফোন করে বলি নাম্বারটা ব্লক করে দাও। ধুরবাবা, একটা কাজ ঠিক করে হয় না। ড্রাইভারটাও শুনিয়ে দিল এই মোওকায়, ম্যাডাম ফোন কোই এয়েসে ছোড়তে হ্যায়। খেলো যা, দুনিয়ার লোক তাহলে ফোন হারায় কি করে। এসব ভাবতে ভাবতে আবার সিঁড়ি দিয়ে উঠে সেন্টারে ঢুকছি। লোকজনের মুখগুলো কেমন হাসি হাসি। আমার ড্রাইভার, হ্যাঁ, ওই তো, দাঁত কেলাচ্ছে। বলে,মিল জায়গা ম্যাম, কোই উঠাকে লে গ্যায়া। ফোন পে বাত হুয়া। বোঝো, চিরকাল মনে হাজার তানা বানা। ছেলে মেয়েকে এসব আজগুবি জিনিস শেখাই নি। ওদের সামনে দু শালিখ দেখে ফেটে পরিনি, এক শালিখ দেখে হায় হায় করিনি। আমার মেয়ে একবার সকালে উঠে এক চোখ কচলাচ্ছে, শাশু মা বলছেন দু চোখ দেখাতে, সে বলছে, তুমি তো দুটো চোখই দেখছো আমার। বালিশ ফেটে যায় তাই বসতে বারণ, ফোঁড়া হবার কোনো সিন নেই তাতে।এন্তার ডিম, কলা খেয়ে টিফিনে নিয়ে যাতায়াত আমার সংসারে। বেড়াল রাস্তা কাটলে ঢিল ছুঁড়ি না, কেউ আসার জন্য অপেক্ষা করি না। সেই আমি শালিখ দেখে নাস্তানাবুদ হবো? হতেই পারে না। যাক, এক ভদ্রলোক মোবাইল নিয়ে হাজির, তিনি অফিসে জমা করতে যাচ্ছিলেন। দেখেই চিনলাম, উনিই তো আমাদের সামনের বেঞ্চে বসেছিলেন। এখানেরই স্টাফ, ভাগ্যিস তার হাতে পরেছিল, তাই পাওয়া গেল, আর কেউ নিলে পেতাম না এসব শুনছি। এসব পরিস্থিতিতে কি বলতে হয় জানা নেই আমার। থ্যানকু বলি বটে, মনে মনে সেই খুকির কাবলিওয়ালা হয়ে যাই। মন ভরে ওঠে হাজার দুয়ায়। যাক, এবার ফেরার পালা। কিছু খেতে খাওয়াতে মন করলেও সেই নিকুচির উচ্ছে চচ্চড়ি তাড়া মারছে মনে। আর শালিখটাও শেষ খেল দেখবে বলে বসে। ওরে পাগল, চচ্চড়িতে জলটা সেই আঞ্জাদেই (আন্দাজে) দিয়েছিলাম, আমি কি আমায় চিনি না কো! নাহ সারা দুপুর, সন্ধ্যে রাত শালিখ পাহারা দিল আমায়। হাসছিল মুচকি, রিপোর্ট, আসল রিপোর্ট -এই তো খেল। সব কারচুপি। নাহ, দু তিনজন ডক্টরের মাথা ধরিয়ে তবেই আজ লিখতে বসেছি। অল ইজ ওয়েল। কিন্তু আজ শালিখটাকে দেখিনি সকালে তার কেমন কাটলো কালকের দিন জানলে জানিও আমায়।


এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1