বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : একজন সাধারণ নাগরিকের চোখে হবু শিক্ষকদের আন্দোলন
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Rumjhum Bhattacharya
          IP Address : 342323.191.2356.48 (*)          Date:27 Mar 2019 -- 12:23 PM




Name:   Rumjhum Bhattacharya           

IP Address : 342323.191.2356.48 (*)          Date:27 Mar 2019 -- 12:26 PM

ক'দিন ধরেই মনের মধ্যে দোলাচল চলছিল। আসলে আমি একজন অত্যন্ত  সাধারণ ছাপোষা বাঙালি। কোনদিন কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ সেভাবে রাস্তায় নেমে করিনি। তাই বলে কি জীবনে অন্যায়ের মুখোমুখি হয় নি? নিশ্চয়ই হয়েছি তবে তাকে পাশ কাটিয়ে গিয়েও জীবন চলমান থেকেছে। অ এ অনশন আর আ এ আমরণ আমার জীবনের সহজপাঠে কোনদিন ছিল না। ডঃ পুণ্যব্রত গুণের জন্যই আমার রাস্তায় নেমে  আন্দোলনের হাতে খড়ি। শ্রমজীবি স্বাস্থ্য উদ্যোগে মনোবিদ হিসাবে কাজ করতে শুরু করে আমি নাগরিক হিসাবে নিজের অধিকার ও অন্যের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হওয়া ও সে বিষয়ে আওয়াজ তোলার পাঠ শিক্ষা করেছি। নিজের ক্ষুদ্র গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে মানুষের জন্য, মানুষের হয়ে কাজ করা কি জেনেছি। সেই জন্যই বোধহয় আজকাল কোথাও ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই চলছে শুনলে মনের মধ্যে এই দোলাচাল তৈরি হয়। আমার নাগরিক সত্ত্বা বারবার  চ্যালেঞ্জ করে আমার গা বাঁচিয়ে চলার প্রবৃত্তিকে। মনে হয় সেই প্রতিবাদ ও ন্যায্য দাবীদারদের পাশে না দাঁড়ানোটা আসলে ভীরুতা। আর সেই বোধ থেকেই কাল গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম ওদের পাশে। একটু দেরি হয়ে গেল তবু দাঁড়াতে পেরেছি গিয়ে। নিজের চোখে ওদের অবস্থা দেখে খালি মনে হয়েছে ওরা আসলে কয়েকজন এস এস সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, শিক্ষিত বেকার নন, ওরা আসলে আমার সমগ্র ভারতবর্ষের শিক্ষিত বেকার যুব শক্তির প্রতিভূ। যে দেশের যুব সমাজকে শিক্ষিত ও উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও রাস্তায় অনশনরত অবস্থায় পড়ে থেকে নিজেদের ন্যায্য পাওনার জন্য সময় ও শক্তি ক্ষয় করতে হয়
বিশ্বের দরবারে সে দেশের অবস্থান শেষের সারিতে হবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। হাজার এয়ারস্ট্রাইক করে কিম্বা কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর চমক  দেখিয়ে বাহবা কুড়োনো যায় কিন্তু দেশের সত্যকারের মঙ্গলসাধন তাতে হয়ে ওঠে না। হ্যাপিনেসের মার্কারে সে দেশ ক্রমাগত পিছোতে থাকে। আজ জাপানের মতো উন্নত দেশে যুব শক্তি প্রায় নেই বললেই চলে অথচ আমরা এই যুব শক্তির অপচয় করে চলেছি অনায়াসে। সাতাশ দিন অনাহারে পড়ে থাকা আমার যুবক ভারতবর্ষের মাথার ওপর থেকে ছাউনিটা পর্যন্ত কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্র আত্মপ্রসাদ লাভ করে।রাতের খোলা আকাশ, আর আশেপাশের গাছগুলো সাক্ষী কি অসম্ভব মনোবল আর প্রেষণা নিয়ে ওরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ওই নোংরা পরিবেশে পড়ে থেকে। শুধু ও আর এস এর জল খেয়ে বেশিরভাগেরই শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। একটা একটা করে দিন কেটে যাচ্ছে অথচ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটা আলোচনা করতে পর্যন্ত রাজি নয়। প্রশ্ন ওঠে কেন? কি এমন বাধ্যবাধকতা  আছে যার জন্য এই দাবী আলোচনার যোগ্য বলে মনে হচ্ছে না তাদের? উত্তর বুঝি চৈত্রের হাওয়ায় হাওয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওদের রাতে খাওয়ার জন্য ষাট লিটার ও আর এস প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন পুণ্যদা। আমাদের ডাক্তার আর চিকিৎসাকর্মী সারাক্ষণ ওদের পাশে থাকছে। একজন এসে জানতে চাইল গলায় খুব ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে আছে, শুধু পারাসিটামল খেলে কাজ হবে কিনা। তাকিয়ে একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল খোলা আকাশের নীচে শিশির পড়ছে তো তাই বোধহয়.....
ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে এল শহরের বুকে।আলোর আতিশয্যে ঝলমল করে উঠল গোটা শহর, শুধু প্রেস ক্লাবের নাকের ডগায় এক ফালি অন্ধকার আর আমার দেশের হবু শিক্ষককুল পড়ে রইল রাস্তায়, রাতভর কলকাতা তথা ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার কালিমালিপ্ত ইতিহাস রচনা করতে থাকবে বলে। বাড়ির পথে পা বাড়ালাম ভারাক্রান্ত মন নিয়ে।এটা শুধু আজকের কয়েকজন যুবক যুবতীর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। হয়তো ওদের আন্দোলন জয়ী হবে, কিন্তু সিস্টেম বদলাবে কি? লঞ্চে গঙ্গা পার হতে হতে বাতাসে, নদীর জলে, রাতের আকাশে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। ওসব কবির কাব্যেই মানায়। আসলে উত্তর গড়ে নিতে হয় আর তার জন্য চাই প্রতিবাদ, চাই আন্দোলন।


এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1