বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : দীপাবলীর সিনেমা ঃ গার্লফ্রেণ্ড , রেটিং ২/৫
          বিভাগ : সিনেমা
          শুরু করেছেন :Tollywood Reporter
          IP Address : 340112.44.785612.62 (*)          Date:06 Nov 2018 -- 11:07 AM




Name:  Tollywood Reporter          

IP Address : 340112.44.785612.62 (*)          Date:06 Nov 2018 -- 12:06 PM

https://twitter.com/SurinderFilms/status/1049898366505762816/photo/1
পুজোর ছ ছটা ছবি রিলিজের পর ৪ সপ্তাহ পুরো ফাঁকা মাঠ । বড় কোন হিন্দি ছবি নেই, এই ৪ সপ্তাহে কে কত ব্যবসা করল সেই হিসাব যখন চলছে তখনই খুব ছোটো ছবি " বাধাই হো" সব বাংলা ছবির হিসেব্নিকেশ উল্টে দিল, যখন মাল্টিপ্লেক্স কর্তারা এই সুজোগে বাংলা ছবিকে প্রোমোট করার চেষ্টা করল তখন ঐ "বাধাই হো" র জন্য অনেক বাংলা ছবির শো কমাতে বাধ্য হয়েছে, আর এই ৪ সপ্তাহের পর সব খেল খতম, সেই সময় কড়া নাড়াছে এক বিশাল ছবি " ঠগস অফ হিন্দাস্থান " ।
আর এই দীপাবলীতে চুপিসারে ঢুকে পড়ল একমাত্র বাংলা ছবি "গার্লফ্রেণ্ড" । এই ছবি হয়তো তথাকথিত শহুরে বা প্রায় এলিটবর্গের সিনেমা বলতে যা বোঝায় তার ব্যবসায় তেমন কিছু আঁচড় বসাতে পারবে না, কিন্তু সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যে ব্যবসা দিতে পারবে এই ছবি সেটা ঐ "ব্যোমকেশ " বা " এক যে ছিল রাজা"র মত ছবি পাত্তাও পাবে না ।
শুরুতেই বলে রাখা ভালো এই ছবি তেলেগু ছবি " চুপিস্থা মাবা " নামে ছবির রিমেক, অনেকেই একে হয়তে কপি ছবি বা টোকা ছবি বলে গাল পাড়বে, এই ছবি দেখা বা এই ছবির সংক্রান্ত কোন লেখা তাদের জন্য নয় ।
মূল ছবি আমার দেখা নেই । তাই ঐ সব ভ্যানতেরা ছেড়ে একটু ছবির দিকে তাকাই ।
পরিচালক রাজা চন্দ প্রথমেই একটা অন্যায় করেছেন, পোস্টার বা সিনেমার কোন অংশে উনি ঋণস্বীকার করেননি যে এ ছবির মূল লেখক কে ?
শুরুতেই হাসপাতালে টেনশনরত কাউকে দেখতে পেয়ে মনে হলে ভদ্রলোক খুব চাপে আছেন । হয়তো উনার কারো অবস্থা আশঙ্কাজনক । ভদ্রলোক এগোতে থাকে হাসপাতালে কেবিনের কাছে, না, ইনি সরকারী স্বাস্থ্য দপ্তরের এক হোমরা চোমরা লোক । চিকিৎসায় কেউ গাফিলতি করছে কিনা সরজমীনে দেখতে এসেছেন । এক ডাক্তার একই সূচ দিয়ে দুজন রোগীকে ইনজেক্শন দিতে গিয়ে ঐ হোমরা চোমরা লোকটি হাতে নাতে ধরে । তৎক্ষনাৎ ঐ ডাক্তারকে সাসপেণ্ড করে । তা ব্যাপরাটা শুনে যতই সিরিয়াস কেস মনে হোক, আসলে ব্যাপরটা পুরো ভাঁড়ামো ছাড়া আর কিছু না । সেই ডাক্তার সাসপেণ্ড হয়ে কোথায় হাত পা ধরবে তা না করে ইয়ার্কি ফাজলামো মারতে শুরু করল আর শেষে কিনা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বসল । কি চ্যালেঞ্জ সেটা ছবির শেষে গিয়ে জানা যাবে ।
এর পর বোঝাই গেলে এ ছবি পুরো মাত্রায় কমেডির দাওয়াই । যথা সময়ে নায়ক নায়িকার প্রবেশ । ছিটেল বাবার ( শঙ্কর চক্রবর্তী ) বছর বছর ফেল করা ছেলে ( বনি সেনগুপ্ত ) নায়িকাকে ( কৌশানী ) দেখে প্রেমে পড়ে, নায়িকা তো প্রথমে কথাই বলে না, প্রথমে মনে হল নায়িকা বোবা নয়তো ? একটা সময়ে নায়ক নায়িকার বাবাকে সটান গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয় । নায়িকার রাগী বাবা হবু জামাইকে অনেক শর্ত চাপিয়ে দেয় । নায়কও রাজী হয় আর শর্ত মানতে রাজী হয় ।
খুব সাধারণ গল্প , আর অন্তত গল্পের টানে এ ছবি কোন মাত্রায় খুব একটা উচু স্থানে যেতে পারবে না । এ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন এন কে সলিল । আঁতেল সিনেমা বা প্যারালাল সিনেমা , যে নামেই ডাকা হোক, এই ভদ্রলোক ঠিক তার উল্টোপথে হাঁটেন । " মারবো এখানে , লাশ পড়বে শ্বসানে" এর মত অনেক জনপ্রিয় সংলাপ আছে । তাই এন কে সলিল এর চিত্রনাট্যতে কিছু না কিছু অভিনবত্ব থাকে ।
খুব সাধারন আর সাদা মাটা ছবিতে ভালো লাগলো প্রত্যেকটা চরিত্রের নামকরণ । নায়কের নাম "উত্তম " আর নায়িকার নাম " সুচিত্রা " । তেমনি নায়িকার রাগী বাবার চরিত্রের নাম " কমল মিত্র " ( ভরত কল ), নায়কের মজাদার বাবার নাম " ভানু " আর মায়ের নাম " সন্ধ্যা রায় " । কমেডি চরিত্রের নাম " জহর রায় " ( কাঞ্চণ মল্লিক ), হাফ ছিটেল ডাক্তারের চরিত্রের নাম " উৎপল দত্ত " ( বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ) , নায়িকার বন্ধুদের নাম হয় সুলতা চৌধুরী বা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ।
পুরো ছবিতে চরিত্রের নামগুলো ই মজার । জিৎ গাঙ্গুলীর সুরে দু একটা গান মন্দ নয় ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1