বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : পুজোর সিনেমা ২ ঃ কিশোর কুমার জুনিয়র / রেটিং ২,৫ /৫
          বিভাগ : সিনেমা
          শুরু করেছেন :Tollywood reporter
          IP Address : 232312.163.5634.190 (*)          Date:13 Oct 2018 -- 02:40 PM




Name:  Tollywood reporter           

IP Address : 232312.163.5634.190 (*)          Date:13 Oct 2018 -- 03:41 PM

২০১৩ সালে " শব্দ " বানিয়েছিলেন । তার পর যে কি হল পুরো গেঁজিয়ে গেছেন । এক বছরে সর্বাধিক ছবি বানাবার রেকর্ড আছে এই বাংলায় । মনে হয় সেই রেকর্ড ভাঙতে চাইছেন । তাই কারখানার মালের মত একের পর একে ছবি বানিয়ে যাচ্ছেন । সব ছবির মধ্যে হাজার হাজার ঘাপলা।
এবারের ছবি " কিশোর কুমার জুনিয়র "। কিশোর কুমারকে ট্রিবিউট দেবার ধান্দা । ছবিটা কেমন ?
প্রথম সিনেই কিশোর কুমার জুনিয়র মানে আমাদের প্রসেনজিৎ মাঁচায় উঠে গান ধরলেন । তাও গলা অবদি পান করে । উদ্যোক্তাদের থেকে টাকা নিয়ে বাজনা বাদকদের পেমেন্ট করেন । টলতে টলতে বাড়ী ফেরে । বৌ ( অপরাজিতা আড্য ) দরজা খুলে দেয় । ছেলে ঋষি ( ঋতব্রত মুখার্জি ) সহ্য করতে পারে না । বাপ ছেলেকে " শুয়োরের বাচ্চা " বলে গালাগালি দেয় ।
পরের দিন লুঙ্গি পড়ে বাজার করতে বেরোয় । পাড়ার ছেলেরা খুব খাতির করে । চায়ের দোকানে বসে যখন " কি আশায় বাঁধি খেলাঘর " গায় তখন ভিড় জমে যায় ।
এর পর ? বাড়িতে মন্ত্রীর লোক , পুলিশ আসে । পুলিশ দেখে পাড়ার লোকেরা ঘাবড়ে যায় । আসল ঘটনা ভারত পাক সীমান্তে গানের জলসায় গান গাওয়ার নেমন্তন্ন । বাংলা থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ।
খুব ভালো । প্রব্লেম কোথায় । চিত্রনাট্যে ঘাপলা এবার আসবে । পাড়ার চায়ের দোকানের পর একটা সিন আসবে যাতে ঐ গানের জলসা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে । তারা ভারত পাকিস্তানের মৈত্রী নিয়ে কথা বলছে । সেই আলোচনায় গুলাম আলি, ফায়াদ খান এর কথা বলা হল ।
সেই জলসায় যোগ দিতে গিয়ে অপহরণ । জয়সলমীরে কোন এক জায়গায় রাখা হল । মাত্র দুজন ছিল, বাকিরা বাইরে পাহারা দিচ্ছে । এই অপহরণকাণ্ড দেখে ভাববেন না একটা " রোজা" টাইপের ছবি বা রামগোপাল বর্মার মত ছবি । না না, বরং ওখানে সবাই মিলে বেশ পিকনিক করা হল । আসল ব্যাপার হল কিশোর কুমার । এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করবে একমাত্র কিশোর কুমার , এটাই যদি ছবির গল্প হয়ে থাকে তবে আগে মাল খাওয়ার ড্রামাটা কেন করা হল ? যে লোকটা সকাল বিকাল মাল খায় অপহরণকারীদের কাছে বন্দী থাকাকালীন মালের কথাই বললেন না । যে মন্ত্রীর আদেশে এই জলসায় আয়োজন করা হল তাকে ছবিতে আনা হল মাত্র একবার । বন্দিদের উদ্ধার করার দায় কি সেই মন্ত্রীর ছিল না?
প্রেস মিডিয়া ঋষির পেছনে ধাওয়া ছাড়া কিছুই করল না ।
আর মেলোড্রামা ভরপুর মেশানো । কিশোর কুমারের গান শুনে এক উগ্রপন্থী তো কেঁদে ফেললেন । কৌশিক গাঙ্গুলির ছবিও তখন সেলুলয়েড যাত্রাপালা ।
চিত্রনাট্যে ঘাপলা গুলো কি বোঝা যাচ্ছে?
ঋষি, যে কিনা বাবাকে " কপি সিঙ্গার " বলে গালাগালি দেয় সে নাকি কোন ব্যাণ্ডে গান গায় , সে কি করে কিশোর কুমারকে অমর্যাদা করে ।
শেষ পর্যন্ত কিশোর কুমার কি ভাবে বাঁচালেন , ছবি শেষ হয় সেখানে ।
একদম শেষ দৃশ্য তো অতিশয় জোলো সমাপ্তি । ছবির শুরু যেমন ঘাপলা শেষটা আরো বড় ঘাপলা । বাবা ছেলের মিলন তো " হ্যাপি এণ্ডিঙ্গ " হতে পারত । বাপ ছেলে তো একসাথে কিশোর কুমারের গান গাইতে পারত ।
অপরাজিতা যে ভাবে ঘুমের অসুধ চুরি করলেন সেটি কি সত্যি হয় ।
বেশ ভালো লাগে কিশোর কুমারের গান গাইতে বললে যখন " আকাশ কেন ডাকে " গাইলে হিন্দি গানের অনুরোধ এলে সঙ্গে সঙ্গে ওটা হয়ে যায় " ইয়ে শাম মস্তানি " ।
"ওহ সাম কুছ অজীব সি " গানের দৃশ্য ভালো লাগে ।
ভালো লাগলো আপরাজিতা আঢ্যকে ।
ভালো প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জিকে । কিন্তু অধরা সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরষ্কার কি আসবে ?

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1