বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--4


           বিষয় : হারিয়ে যাওয়া গাছপত্তর
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :pi
          IP Address : 7845.29.6790012.226 (*)          Date:23 Sep 2018 -- 04:50 PM




Name:  pi          

IP Address : 7845.29.6790012.226 (*)          Date:23 Sep 2018 -- 04:52 PM

এখানে দেবল দেবের মত লোকজনের কাজকর্ম মাঝেসাঝে রেখে যাব। লোকজনও নিশ্চয় জুড়বেন অনেক কিছু।


বছর দুই আগে দেবল দেবের একটা লেখা,,

'বাঁকুড়া জেলার ছান্দারে একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া থানের জঙ্গলে ১৯৯৭ সালে একটি দুর্লভ গাছ নজরে পড়েছিল, বাস স্টপে দাঁড়িয়ে। গাছটির নাম কেউ বলতে পারল না। ১৯৯৮ সালে একসময় ওটার পাতা আর ফুল সংগ্রহ করে বোটানিক্যাল সার্ভে-তে পাঠিয়েছিলাম। স্থানীয় একজন ওটার নাম বলেছিলেন "ভাদু"। আট বছর পরে জানতে পারলাম ওটার বৈজ্ঞানিক গণ বা এনুস। আমার এক পরিচিত উদ্ভিদ্ বিজ্ঞানী অনেক কষ্টে প্রজাতির নামটিও উদ্ধার করলেন। কিন্তু একটু সংশয় ছিল। ঘটনাচক্রে ২০০৯ সালের অগাস্টে ইংলণ্ডের রয়াল বটানিক গার্ডেনে (বিশ্বের সর্ববৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহ যেখানে) আমি আমন্ত্রিত হয়েছিলাম একটি আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে। সেই সুযোগে কিউ-এর বিশাল হার্বেরিয়ম সংগ্রহে চার ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর, Rোক্ষ্বুর্ঘ-এর নিজের সংগ্রহ করা প্রজাতিটির নমুনা স্বচক্ষে দেখে (এবং স্বহস্তে ছুঁয়ে) ভাদু গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম নিশ্চিতভাবে জানলাম।
সেই ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত বাঁকুড়া, পঃ ও পূঃ মেদিনীপুর, পুরুলিয়া -সহ বাংলার ১১টি জেলা, ঝাড়খণ্ডের বোকারো, পূঃ সিংভূম ও রাঁচি জেলা, ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ ও বালেশ্বর জেলা, শেষে বাংলাদেশের যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় অনুসন্ধান করে ঐ গাছটির জুড়ি পাই নি। একাজে কোনও অর্থ সাহায্য পাই নি, তাই যখনই হাতে কিছু টাকা এসেছে, তখনই বেরিয়েছি সন্ধানে; বা ওড়িশা বা বাংলাদেশে কোনও কাজের ডাক এলেই, সেই সুযোগে ঐ গাছের খোঁজে ঘুরেছি। তার সঙ্গে ওসব অঞ্চলে আমার কিছু ছাত্রছাত্রী ও বন্ধুদেরও সাহায্য নিয়েছি। মোট ১০,০০০ বর্গ-কিমি অঞ্চল ঘুরে আমি নিশ্চিত, ভাদু গাছটির আর জুড়ি নেই গোটা পূর্বভারতে। প্রজাতিটির শেষ জীবিত নমুনা ঐ ছান্দারের গাছটি।
গাছটিকে কেটে ফেলার চেষ্টাও করেছিল স্থানীয় পঞ্চায়েত। আমি সব কাজ ফেলে গাছটিকে আগলাতে গেছি, আমার চেলা-বন্ধুদের নিয়ে। একবার আমাকে শারীরিক আক্রমণও করেছিলেন তৎকালীন পার্টির মাতব্বররা - আমি নাকি গরীবের পেটে লাথি মারছিলাম - গাছ কেটে বিক্রি করতে বাধা দিয়ে। গ্রামের মানুষদের অবশেষে বোঝাতে পেরেছিলাম, এটা এত দুষ্প্রাপ্য গাছ, গ্রামের একটা মহামূল্যবান সম্পদ, তাঁরা এতকাল রক্ষা করেছেন, আরও একশ বছর রক্ষা করাটা তাঁদের দায়িত্ব। অধ্যাপক অনিল গুপ্তকে এনে Rীটী-র তরফে গ্রামবাসীদেরকে "সংরক্ষক" সার্টিফিকেটও দিয়েছিলাম, একটা ছোট্ট অনুষ্ঠান করে।
আর এই ১৩ বছর ধরে অনেক চেষ্টা করে গেছি গাছটির বীজ থেকে চারা তৈরি করবার। বিফল হয়েছি। কারণ অন্য অনেক গাছের মতন, ঐ গাছটির ফল একটি বিশেষ জানোয়ার না খেলে, তার পেট থেকে বীজটি জারিত হয়ে না বেরলে অঙ্কুরোদ্গম হবে না। ব্যস্ত বাস রাস্তার ধারে অবস্থানের কারণে, সেই বিশেষ জানোয়ারটি হয়ত সেখানে আর থাকে না। হয়ত অবলুপ্ত হয়ে গেছে উন্নয়নের দাপটে।
একমাত্র উপায় টিস্যু কালচার। কিন্তু জাতীয় উদ্ভিদ সম্পদ ব্যুরো (ণR)-কে অনেকবার লিখে কোনও সাড়া পাই নি। পাঁচটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিস্যু কালচার বিভাগেও উপরোধ করেছিলাম। তাঁরা পেঁপে, কলা বা মূল্যবান ওষধির টিস্যু কালচারে মনোযোগী, ভাদুর মত অনর্থকরী (নঞ-অর্থকরী) উদ্ভিদের জন্য সময় অপচয়ে রাজি নন। এরকম অপচয়ী কাজ আর আর্থিক সঙ্গতিবিহীন গবেষণার দায় তাঁরা শুধু আমার জন্যই ছেড়ে রেখেছেন।
অবশেষে ২০১৪ সালে, বন্ধুবর অভীক সাহা আমাকে একটি ল্যাবরেটরি দান করলেন, যেখানে আমার বহুকালযাবৎ দেখা স্বপ্নগুলো বাস্তবে দেখতে পারি। আমার নিজের ল্যাবরেটরি কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হওয়া মাত্র ভাদু গাছের বীজ থেকে আর টিস্যু থেকে কালচার করতে শুরু করেছিলাম। অঙ্কুরোদ্গম হলেও, শিশুমৃত্যু রোধ করা যাচ্ছিল না। অবশেষে আমার গবেষক ছাত্র সঞ্জীবের অধ্যবসায়ে চারটি "টেস্ট টিউব" শিশুকে ল্যাবরেটরিতে অনেক তোয়াজে বাঁচানো গেল।
এবছরও আরও কিছু ফল আর কচি পাতা আনবার জোগাড় করছিলাম, এপ্রিল মাসে - যে সময় গাছটির ফুল আসে। তখন জানলাম, কোনও এক গ্রামবাসী গাছটিকে কেটে দিয়েছেন। গাছটির পাশে তাঁর দোকানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য। অতএব প্রজাতিটির একমাত্র প্রতিনিধিকেও বাংলা থেকে লোপাট করে দিতে পারল বাঙলার দুর্জয় ঘাঁটি। সাবাস প্রগতিশীল বাংলা! সাবাস বাঙ্গালীর ব্যবসাবুদ্ধি! আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র এই ব্যবসায়ী বাঙ্গালীদের দেখলে বাঙালীর ব্যবসা-বিমুখতা নিয়ে আর আক্ষেপ করতেন না।
হ্যাঁ - ঐ ভাদু-বীজ-অঙ্কুরোদ্গাতা জানোয়ারটিকেও চিহ্নিত করা গেছে - অল্ম িভেত, বাংলা নাম ভাম বা খাটাশ। কিন্তু এখন আর ভাম চিনে কী হবে, গাছটাই তো নিহত!
একটু সুখের কথা দিয়ে শেষ করি। আমার ল্যাবের দুটি "টেস্ট টিউব" শিশুকে মাটিতে স্থানান্তর করা হল এই মাসেই! আশা করি পরের মাসে তাদের কোনও একটি গ্রামে রোপণ করে দেব। আগে ভেবেছিলাম, বাঁকুড়াতে অন্তত একটা চারা লাগিয়ে দেব। সে প্রশ্ন আর ওঠে না। কোথায় লাগাব, এখনো স্থির করি নি। কিন্তু এটা অবশ্যই নিশ্চিত, বাংলার কোত্থাও নয়। বাংলার লুপ্ত ধানগুলো যেমন বাংলার বাইরে পরম আদরে চাষ হচ্ছে, ভাদু গাছটিও বাংলার বাইরেই সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে।'




Name:  pi          

IP Address : 7845.29.6790012.226 (*)          Date:23 Sep 2018 -- 05:26 PM

দু'বছর আগেই লিখেছিলেন, সীতাপত্র নিয়ে।

"
'বাঁকুড়া জেলার বনাঞ্চলে আর দুটি থানের জঙ্গলে কয়েকটি মাত্র সীতাপত্র গাছ অবশিষ্ট আছে। আগে অনেক ছিল, সবই গেছে ইউক্যালিপটাসের দাপটে, বা কাঠ চুরির প্রকোপে। বাকী গাছগুলিও আমাদের জীববৈচিত্র্যের অভিভাবক ও রক্ষক বনদপ্তর যেকোনো দিন কেটে ইউক্যালিপটাস লাগাতে পারে। তাই সীতাপত্রের একটি চারা আমি বসুধার বাগানে এনে অনেক চেষ্টায় বাঁচিয়েছিলাম, ২০০৩ সালে। আমি বাংলা ছেড়ে ওড়িশায় যাবার পরই মাস-খানেক পরেই, বসুধায় বজ্রপাত হয়, আর তাতে ঐ গাছটি মরে যায়।
সীতাপত্রের আর কয়েকটি গাছ দেখেছিলাম পঃ মেদিনীপুরের জাম্বনি এলাকায়। জানি না এখন সেগুলো বেঁচে আছে কিনা। আমার বাঙালী বন্ধুদের কেউ যদি বাঁকুড়া-মেদিনীপুরের বাইরে কোথাও এই গাছটি দেখে থাকেন, দয়া করে জানালে বাধিত থাকব।
সীতাপত্র গাছটির প্রচলিত নাম। বোটানিক্যাল নাম এখন জানাব না। স্থানীয় মানুষরা যদি গাছটি চেনেন, তাহলে সেটাই জানান।'



Name:  pi          

IP Address : 7845.29.6790012.226 (*)          Date:23 Sep 2018 -- 05:36 PM

আর এই সেদিন এটা লিখলেন। এত ভাল লাগছে। হারাতে হারাতেও হারাল না, কিছুতেই হার না মানা এই দেবল দেবের মত কিছু মানুষের জন্য।
এরকম কিছু নজরে এলে দেবল দেব কে জানানো যায়, অনেকে তো পড়েন সাইট, সেজন্যই তুলে রাখলাম এখানে। কার নজরে কখন কী পড়ে যায়!

---
"আবার সীতাপত্র নিয়ে লিখছি। যাঁরা এই গাছটি সম্পর্কে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, তাঁদের জ্ঞাতার্থে। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছি। Cordia macleodii. Cordia- এই গণ-টির মাত্র চারটি প্রজাতি প: বাংলায় আাছে, এই তথ্যও আমি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। এই সুবাদে দ: বাংলার সবকটা জেলা আবার পরিক্রমা করলাম, কতিপয় সহযোগী বন্ধু ও ছাত্রদের নিয়ে। গণ-টির কতগুলো গাছ আজো টিকে আছে, তাদের মাথা গুনতে। উত্তর বাংলার জেলাগুলোর হিসেব আগেই করা ছিল।
এযাবৎ Cordia macleodii প্রজাতিটির যত বিবরণ পাওয়া যায়, তাতে "সীতাপত্র" নামের উল্লেখ নেই। তদুপরি, এর চারটি বৈশিষ্ট্য কোথাও কেউ লিখে যান নি। এই নতুন বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা, বিশদ ছবি, ও প্রাপ্তিস্থানের মানচিত্র সমেত বাংলার সীতাপত্র এবার প্রকাশিত হল সম্প্রতি। Webbia Journal of Plant Taxonomy & Geography (ডিসেম্বর ২০১৭) সংখ্যা। https://doi.org/10.1080/00837792.2017.1415043
সীতাপত্রের চারা, ভাদুর চারা, আর রাইরুই (Ventilago madaras-patana, দুষ্প্রাপ্য একটি কাষ্ঠল লতা)-র একটি প্রতিনিধিকে বসুধায় বাঁচাবার চেষ্টা করছি। এরপর Tamilnadia uliginosa (বাঁকুড়ায় স্থানীয় নাম 'পিড্রা')-র একটি চারাও আনবার ইচ্ছে আছে। এসবগুলোই বাংলায় অতি দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। বন দপ্তর বা বোটানিকাল সার্ভে অব্ ইণ্ডিয়ার তথ্য নয়, আমার নিজের ২৫ বছরের সার্ভে থেকে পাওয়া তথ্য। এদের চিহ্ণিত করা, জেলায় জেলায় একটি-একটি করে প্রজাতিগুলোর মাথা গুণতি করা, তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা - কোনও কাজেই কোনও প্রতিষ্ঠানের সাহায্য পাই নি, পাবার আশাও রাখি না। বাংলার মানুষ এদের চেনবার পরেও যে বাঁচিয়ে রাখবে না, সে-প্রমাণ তো ভাদু গাছের ক্ষেত্রেই পেয়েছি। এখন শুধু আশা, এদের প্রজন্ম ওড়িশায় বসুধায় টিকে থাকবে, সুখে শান্তিতে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের কথাগুলো বললাম এই কারণে যে, বসুধায় হাজার জাতের লুপ্তপ্রায় ধানবীজ বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াসের কাহিনী সবাই জানেন, হাজার চাষীরা সেসব বীজ বিনামূল্যে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটাও জানেন অনেকে। কিন্তু বসুধা যে লুপ্তপ্রায় বৃক্ষ-লতাদের শেষ আশ্রয়, সেটা অনেকে জানেন না। বাংলায় যখন এসব উদ্ভিদ আর পাওয়া যাবে না, তখন বাংলার মানুষরা চাইলে বসুধায় এসে দেখতে পারবেন, বাংলা কত মণিমুক্তো হারিয়েছে, হারাচ্ছে।

****
This is in continuation of my previous posts on the rare, and hitherto unidentified 'Sitapatra' tree. (The vernacular name derives from a myth that the leaves of this tree was used by Sita to write her letters to Rama during her exile.) Many botanists, including those from Botanical Survey of India, failed to identify the species, chiefly because the specimens in Bankura never bore flowers over 14 years! Finally, when two mature trees in a forest patch in Bankura district blossomed in 2016, I was able to identify the species, with the help of my student, Dr. @Sanjib Chattopadhyay as Cordia macleodii. So this was the first report of the species identified in Bengal. 'Sitapatra' is never mentioned in any botanical publication on Bengal flora... I also surveyed in all districts of West Bengal, with the help of my friends and students, to record the exact number of mature individuals throughout the State. In my estimation, there are no more than 6 individuals surviving in the State. The identification with photographs and geographical distribution of the tree was finally published in the prestigious Webbia Journal of Plant Taxonomy and Geography in 2017: https://doi.org/10.1080/00837792.2017.1415043
Like the saplings of Bhadu tree (now extinct from Bengal), saplings of Sitapatra and Ventilago madaras-patana (a rare liana) are being conserved on Basudha campus. Also trying to save Tamilnadia uliginosa - another endangered tree. The fact that these species are rare and endangered is obtained from neither State Forest Department nor BSI, but from my own field survey over the past 25 years - never supported by any institution. I have no hope of receiving any assistance from people of Bengal, who demonstrated their apathy toward Critically Endangered trees (despite full knowledge of its rarity, they felled the last specimen of Bhadu tree in 2016.) My only hope is that a few specimens of these rare plants will survive in Odisha on Basudha farm.
I felt it necessary to write the second paragraph above because most people know that Basudha is home to 1300 evanescent folk rice varieties, some of which are already extinct from farmers' fields. Many also know that Basudha distributes the seeds of these varieties among thousands of farmers for free. However, the role of Basudha in rescuing rare and endangered plants is largely unknown. When these plants will disappear from eastern India, one may visit Basudha to see the live specimens, and realize what wealth our country has lost, and is in the process of losing. Maybe the posterity will discover certain unique - hitherto unknown - medicinal or commercial value in them, when I will not exist..."


Name:  দ          

IP Address : 2345.106.893423.207 (*)          Date:24 Sep 2018 -- 07:44 PM

এইটা অণুকে দেখাই। অণু বাংলাদেশের (সারা পৃথিবীরই( অনেক প্রত্যন্ত প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। যদিই পেয়ে যায়।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--4