বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : কেন এমন ঘটল ভাবতে হবে সেটাও
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :রানা
          IP Address : 57.15.43.142 (*)          Date:10 May 2018 -- 03:03 PM




Name:  রানা          

IP Address : 57.15.43.142 (*)          Date:10 May 2018 -- 03:04 PM

কেন এমন ঘটল, ভাবতে হবে সেটাও

গত তেসরা মে, ২০১৮, আনন্দবাজার পত্রিকাতে শ্রীমতী বাণী বসুর লেখা ‘কেন এমন ঘটল, ভাবতে হবে সেটাও’ শীর্ষক নিবন্ধটি পড়লাম। শ্রীমতি বসু সুলেখিকা। তিনি প্রথমেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘটনাটির নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন গনরোষের যে বহিঃপ্রকাশ সেদিন ঘটেছে তা একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁর নিবন্ধটি খুঁজতে চেয়েছে গনরোষের এরকম প্রকাশ আসলে কেন ঘটল, এবং তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, পাতাল রেলের কামরা বা শহরের কোথাও প্রকাশ্য আলিঙ্গন সমর্থনযোগ্য নয়। যুগলের ভালোবাসার এই বহিঃপ্রকাশ মূলত পাশ্চাত্য রীতি, প্রকাশ্য চুম্বন বা আলিঙ্গনের মাধ্যমে ছদ্ম আধুনিকতাই মূলত প্রকাশ পায়। লেখিকা আরো লিখেছেন যে তিনি নিয়মিত পাতাল রেলে চড়েন না, কিন্তু তাঁর পরিচিতজনের থেকে তিনি শুনেছেন যে, তাঁরা প্রায়শই পাতাল রেলে সমতুল্য ঘটনার সম্মুখীন হন এবং যে জন্য তাঁদের আজকাল পাতাল রেলে চড়তে ভালো লাগে না। তিনি সুলেখিকা, তাই তিনি তাঁর মার্জিত পরিশীলিত ভাষায় বক্তব্যটি পেশ করেছেন। আমাদের মতো আমজনতার ভাষায় লিখলে যা দাঁড়ায় তা হলো, 'নির্ঘাৎ ছেলেমেয়ে দুটো বাঁদরামি করছিলো, তাই আশপাশের জনগন উত্তেজিত হয়ে ঘা কতক লাগিয়ে দিয়েছে।'

প্রথমত, ঘটনাটি সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বয়ান এখনো সামনে আসেনি। যেটুকু জানা গেছে, তা হলো ছেলেটি এবং মেয়েটি ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার প্রতিবাদ হয় এবং বাদ প্রতিবাদ থেকে ক্রমশ অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে তা মারামারির পর্যায়ে নেমে আসে। কাজেই মূলে কি ঘটেছিল, ট্রেনের কামরায় ওই ছেলেটি বা মেয়েটি আদৌ আপত্তিজনক কিছু করেছিলেন কি না, সে সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, জনবহুল স্থানে ব্যক্তি আচরণের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ আপেক্ষিক। তার প্রেক্ষিতে জনসমষ্টির আচরণও সেই স্থানে উপস্থিত জনতার উপরে নির্ভরশীল। এর সঙ্গে প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যের কোনো সম্পর্ক টানা উচিত নয়। একটি ছেলে আর একটি মেয়ে হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে, বা ছেলেটি মেয়েটির কাঁধে বা কোমরে হাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, কিংবা কলেজের সামনে একটি মেয়ে একটি ছেলেকে জড়িয়ে ধরলো, এই দৃশ্যগুলি এক একজন এক এক রকম ভাবে অনুধাবন করেন। কারো কাছে এটি এমন কিছুই নয়, কারো কাছে তীব্র আদেখলাপনা। ব্যক্তি আচরণ সাধারণ পরিবেশে মূলত স্বতঃস্ফূর্তই থাকে। কাজেই ধরে নেওয়া যেতেই পারে, পাতাল রেলের ছেলেটি ও মেয়েটি তাঁদের সাধারণ আচরণই করছিলেন।

আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে মেয়েদের চাকরি করাটাকে সমাজ ভালো চোখে দেখতো না। আরো একশো বছর আগে সমাজের মূল ধারায় নারীশিক্ষা সম্পর্কে তীব্র অনীহা ছিল। আজ থেকে কুড়ি বছর আগের যোগাযোগ মাধ্যম দেখলে মনে হয় আমরা তখন আদিম যুগে ছিলাম। সেক্ষেত্রে আজ যদি আমরা বলি এগুলি পাশ্চাত্যের প্রভাব, এ দেশে মানায় না, তা কি যুক্তিযুক্ত হয়? সময়ের সাথে সাথে, আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে মানুষের আচরণ অভিযোজিত হয়। বিশ্বায়ন এবং তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির সুবাদে আজ আমরা বহির্বিশ্বের সঙ্গে অনেক বেশি সংযুক্ত। তার প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পড়বেই। আজ আমরা ভ্যালেন্টাইন ডেতে বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর নীতি পুলিশের ভূমিকা পালনের তীব্র নিন্দা করি অথচ যখন শ্রীমতি বসু লেখেন, "পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে এখানকার আচরণ বিধির যে ফারাক, সে দিকটা মাথায় রেখে না চলতে পারলে আগামী দিনে আমাদের সমস্যা আরও বাড়বে।" তাঁর গলাতেও প্রচ্ছন্ন ভাবে সেই একই সুর কি বেজে ওঠে না?

তৃতীয়ত, শ্রীমতি বসুর সাথে আমি একমত, যে যৌন স্বাধীনতা মানেই প্রগতিশীলতা নয়। কিন্তু প্রগতিশীলতার একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কিন্তু যৌন স্বাধীনতা আসতেই পারে। তবে যৌন স্বাধীনতা শব্দটির পরিসর অনেকটাই বড়। তা মুক্ত যৌনতাকে যেমন স্বীকৃতি দেয়, তেমনি গৌণ যৌনধর্মী মানুষদেরও স্বীকৃতি দেয়। কলকাতার মতো শহরে গড়পড়তা ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরাতে একটি ছেলে যদি একটি মেয়েকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে তা কি সত্যিই যৌন স্বাধীনতার পরিচায়ক? আমি মফস্বলের লোকাল ট্রেনের কামরাতে দেখেছি প্রচুর দম্পতিকে, কম বা বেশি বয়স নির্বিশেষে, পুরুষটি মহিলাটিকে জড়িয়ে ভিড় থেকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছেন। এটিও কি যৌন স্বাধীনতার প্রকাশ? আজ যদি পাতাল রেলের ছেলেটি এবং মেয়েটি বিবাহিত হতো, তাদের প্রতি উপস্থিত জনতার ব্যবহার কি একই রকম থাকতো? আমার তো মনে হয় না।

Informal আলিঙ্গন বা Formal আলিঙ্গন শব্দবন্ধ দুটি চোখে লাগলো। দুই দেশের রাষ্ট্রনায়ক হাত মেলালেন বা আলিঙ্গন করলেন, এটিকে আনুষ্ঠানিক আলিঙ্গন বলা যেতে পারে, কিন্তু পারিবারিক বা কোনো দম্পতি বা যুগলের আলিঙ্গন তো  লৌকিকতাবর্জিতই হবে। লেখিকা বোধ হয় শ্লীল এবং অশ্লীল শব্দদুটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

যদিও যে মূল বিষয়টি নিয়ে একদম কোনো কথাই হচ্ছেনা প্রায়, তা হলো, সুরক্ষার ক্ষেত্রে পাতাল রেল কর্তৃপক্ষের প্রবল অব্যবস্থা। আজকের দিনে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনস্থানে ন্যূনতম নিরাপত্তা কর্মীর অনুপস্থিতি এবং সি সি টিভি ক্যামেরার অনুপস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত আশ্চর্য্যজনক। এই বিষয়টিকে অবিলম্বে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1