বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--4


           বিষয় : জানালা পত্রিকা: চৈত্র সংখ্যা
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :অ
          IP Address : 52.110.134.31 (*)          Date:06 May 2018 -- 02:07 PM




Name:  অ          

IP Address : 52.110.134.31 (*)          Date:06 May 2018 -- 02:08 PM

এই গ্লেসিয়ারের নাম সিয়াচেন কেন? - সুবেদার বাহাদুর সিংহ প্রশ্ন করেন। তাঁর চাকরি জীবন আর মাত্রই ক'দিন। বাড়ি হরিয়ানায়, ছেলে ক্লাস এইটে পড়ে আর মেয়েটি বারো ক্লাস পাস করেছে, সুতরাং বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।

- পড়ে-লিখে আমার মেয়ে ত আর ব্যারিস্টার হবে না

অলোক বলে: সিয়াচেন একটা তিব্বতী শব্দ- যার অর্থ হচ্ছে গোলাপের বাগান।
" আসলে আকাশ থেকে এই হিমবাহের উঁচু-নীচু কালো বরফের টিলাগুলিকে গোলাপের পাপড়ির মত দেখায়।"

বাহাদুর সিংহ হেসে বলেন, তা ত বটেই, এইজন্যেই ত দু'দেশের বাবুরা আকাশ থেকে দেখে যায়, দিল্লী আর ইসলামাবাদে একের পর এক মিটিং করে, কোন সুরাহা হয় না- যুদ্ধ চলতে থাকে। মরছে ত সাধারণ সৈনিক,মরছে কিষাণের সন্তান...

সেদিনই গোলার আঘাতে বাহাদুর সিংহের মৃত্যু হয়েছিল। সাতফুট লম্বা লাশটিকে হেলিকপ্টারে ঢোকাবে কী করে, ঝুলতে-ঝুলতেই তিনি ফিরে গিয়েছিলেন।
সারারাত গোলার আওয়াজের ফাঁকে-ফাঁকে কাক ডাকছিল সেদিন।

" সুরিন্দর বলে, আমি বলিনি স্যার, এরা আসলে কাক নয়, এরা সব দুই দেশের সাধারণ দুঃস্থ সৈনিকের অতৃপ্ত আত্মা, বেঁচে থাকতে যারা সীমা পার করতে পারেনি, মরে গিয়েও তারা সেই সীমা খুঁজে না পেয়ে এই প্রবল শীতে ওড়াউড়ি করে। অন্যসময় একবারও ডাকে না, শুধু অহেতুক গোলাবর্ষণের প্রতিবাদে চীৎকার করে অদ্ভুত কাটা আওয়াজে ক্র‍্যাও-ও-ও -- গোলা থামাও -- ক্র‍্যাও-ও-ও, ক্র‍্যাও-ও-ও -- যুদ্ধ থামাও...!"
**

লাদাখ রেঞ্জ ও জাঁসকরের সীমান্তের ভয়ানক প্রতিকূল পরিবেশে প্রান হাতে গুলিগোলার বাণিজ্যবিপণনের ক্রুর ষড়যন্ত্রে বন্দী কিছু মানুষদের কাহিনী লিখেছিলেন ত্রিপুরার এক প্রাক্তন সৈনিক, সিয়াচেনে যুদ্ধ পরিস্থিতি পার করা এক বাঙালি - শ্যামল ভট্টাচার্য। উপন্যাসের নাম বুখারি। হিমশীতল মৃত্যুনগরের লম্বা রাতগুলোয় যে আগুনপাত্র ঘিরে সেনারা জীবনের আঁচ নিতেন, সেই নামে।

কাহিনীর অলোক চরিত্রে হয়ত আছেন শ্যামলবাবু নিজেই।

এই কাহিনী অভ্যস্ত যুদ্ধের গরিমা কিম্বা শৌর্যের গল্প নয়। রংহীনতা,কষ্ট, নৃশংসতা, নিরাসক্ত মৃত্যুকামনার গল্প। অপেক্ষার গল্প। এবং গল্প অতৃপ্ত মানবসত্তার।

**
এই আশ্চর্য উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে জানালা নামে এককপত্রের চৈত্র সংখ্যায়। করেছেন দেবাশিস তরফদার।

দেবাশিসবাবুর জানালা পত্রিকা প্রতি পাতায় মুগ্ধ করে। বিনম্রতা শেখায়। শেখায় ইতিহাসচলনের নিবিড় পাঠ।
প্রথম সংখ্যাও মুগ্ধ করেছিল। দ্বিতীয় পড়ে এইটা না লিখে পারলাম না।
দেশ বিদেশের নানা জরুরি সাহিত্যের অনুবাদ এবং আলোচনার পাশাপাশি জানালা ঘরের কথাকেও তুলে ধরতে চেয়েছে। জানালা বহুবচনে পরিণত হোক। জানালারা খোলা থাকুক।

প্রাপ্তিস্থান- ধ্যানবিন্দু
মুদ্রিত মুল্য- ৩০/-
এককপত্র জানালা
খোলা রেখেছেন- দেবাশিস তরফদার


Name:  সিকি          

IP Address : 158.168.40.123 (*)          Date:07 May 2018 -- 09:42 AM

উপন্যাসটি পড়তে চাই। কোথায় পাওয়া যাবে?


Name:  অ          

IP Address : 52.110.137.178 (*)          Date:08 May 2018 -- 04:01 PM

শ্যামলবাবুর এই উপন্যাস এখন আউট অফ প্রিন্ট। প্রকাশকের নাম জানি না। তবে ত্রিপুরার। সম্ভবত আগরতলার।


Name:  সৈকত          

IP Address : 113.99.156.98 (*)          Date:08 May 2018 -- 04:15 PM

এ তো বহুদিন আগের উপন্যাস। অন্তত বছর কুড়ি বা তার আশেপাশের সময়ের। প্রথম প্রকাশ দিবারাত্রির কাব্য প্রকাশনা থেকে। এখন আর পাওয়া যায় না মনে হয়, রিপ্রিন্ট হয়ে থাকতে পারে।

হ্যাঁ, বাঙালী ঔপন্যাসিকের অভিজ্ঞতার বিস্তার বটে উপন্যাসটি।



এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--4