বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : রবিশঙ্করের মুণিনাগ
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Kuloda Roy
          IP Address : 114.162.255.82 (*)          Date:10 Apr 2018 -- 09:09 PM




Name:   Kuloda Roy           

IP Address : 114.162.255.82 (*)          Date:10 Apr 2018 -- 09:09 PM

মুনিনাগ রবিশঙ্কর বলের বাড়ি। কিন্তু কখনো মুনিনাগ যাননি। বছর দুতিন আগে বরিশাল গিয়েছিলেন। সঙ্গে কথাসাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী। ইচ্ছে ছিল মুনিনাগে যাবেন। মুনিনাগ নামে একটি গ্রাম তারা খুজে পাননি।

তখন আমার রাত্রি নেমেছে। হাওয়া দিচ্ছে। বৃষ্টি হচ্ছে। শীত নেমেছে। গায়ের ভারী কোটটি খুলে বলি, মুনিনাগ গ্রাম খুজে পেতে হলে বরিশাল থেকে যেতে হবে স্বরূপকাঠীতে। বাসে করে মাধবপাশার দুর্গাসাগর পাশে রেখে হবে চাখার। তার আগে গুঠিয়ার বাজার। সেখানে গুড়ের সন্দেশ বিক্রি হয়। আরেকটু এগোলেই বানারীপাড়া। সন্ধ্যানদীর পশ্চিমপাড়ে বাইশারী গ্রামে। এখানে নট্টদের বাড়ি ছিল। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভিক্টোরিয়া গল্পে বাইশারী আছে। সেখানে কৃষ্ণ পালা হচ্ছিল। তার মধ্যে এক অভিনেতা শুনলেন তার স্ত্রী আরেকটি মেয়ে প্রসব করেছেন। ভেবেছিলেন ছেলে হবে। তখন মহারানী ভিক্টোরিয়া রাজত্ব করছেন। মাথায় হীরে জহরতের মুকুট। জগতের সকল সুখ তার চোখে মুখে।

কিন্তু শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভিক্টোরিয়ার দু:খের শেষ নেই। স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছে। সেজন্য ভাইয়ের কাছে চলে এসেছে। ভাই থাকে খুলনা শহরে। ততোদিনে ভিক্টোরিয়া কৃষ্ণের সন্ধানে চোখ আধার হয়ে গেছে। কৃষ্ণকে দিনের আলোতে পাওয়া যায় না। তাকে রাতে রাতে খুজতে হয়। কৃষ্ণ মানেই আধার। রাত্রি। দু:খময়।

রাত্রি বাড়ে। বাইরে এম্বুলেন্সের শব্দ ভেসে আসে। পেছনে পেছনে পুলিশের গাড়ি। আমার টেবিলে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় হাসি হাসি মুখ করে চেয়ে আছেন। মুখের বাদিকে ইংরেজিতে লেখা কুইন্স লাইব্রেরী, নিউ ইয়র্ক। এখান থেকে বাইশারী মেলা দূর। ঝিঝিট রাগে গান বাজে-- কিছুই তো হল না , সেই সব সেই সব হাহাকার রব।

এই হাহা রবে আবার যাত্রা করি। বানারীপাড়া থেকে মোড় ঘুরে জম্বুদ্বীপ। এইখানে নদী ভেঙ্গে গেছে। মাঠের মধ্যে দিয়ে নতুন পথ। সামনে শর্ষিণা। নেছারুদ্দিন পীরের মঞ্জিল। এই মঞ্জিলে একাত্তর সালে পাকবাহিনীর ঘাটি ছিল। এখানে মানুষ হত্যা করা হতো। সেসব চিহ্ন নেই। সেখানে এখন নেছারিয়া মাদ্রাসা। এখানে বড় লঞ্চ থেমে আছে। যাবে হুলারহাট। জলের শব্দ শোনা যায়।

শর্ষিণার পরে যোগ চিহ্নের মতো দুটি নদী চারটি বাজার গড়ে রেখেছে। একটি উত্তর পূবে স্বরূপকাঠি। উত্তর পুবে জগন্নাথকাঠি। ওপারে উত্তরে মিয়ারহাট। দক্ষিণে কৌড়িখাড়া। গ্রামটি জলে ভেসে গেছে। নামটি পাখির মতো এখনো লেগে আছে।


Name:  i          

IP Address : 147.157.8.253 (*)          Date:11 Apr 2018 -- 08:42 AM

কুলদাবাবু,
কতদিন পরে লিখলেন এখানে।
ছোট্টো লেখা। তবু এখানেও মায়া ও ম্যাজিক।


Name:   শিবাংশু           

IP Address : 55.249.72.232 (*)          Date:11 Apr 2018 -- 10:59 PM

উস্তাদদের ছাপ এরকমই....

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3