বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19] [20] [21] [22]     এই পাতায় আছে621--651


           বিষয় : MJAL (মনে যা আসে লেখো )
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :একক
          IP Address : 24.96.19.231 (*)          Date:08 May 2015 -- 07:33 PM




Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 9001212.30.8934.215 (*)          Date:25 Jul 2018 -- 10:39 PM

পরস্পর

অনুসন্ধান...
হোম কবিতা তীব্র ৩০ : আবুল হাসানের বাছাই কবিতা
কবিতা নির্বাচিত ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭ সম্পাদক
তীব্র ৩০ : আবুল হাসানের বাছাই কবিতা
তীব্র ৩০ : আবুল হাসানের বাছাই কবিতা
6.74K 0
REPORT THIS
50
ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয়, মেধাবী কবি-প্রতিভা আবুল হাসান। মাত্র ২৮ বছরের জীবনকাল। এর মধ্যে আমরা তার কাছ থেকে পেয়েছি তিনটি কাব্যগ্রন্থ ও অগ্রন্থিত বেশ কিছু কবিতা। এছাড়াও রয়েছে গল্প ও কাব্যনাটক। বহুলপঠিত এই কবির রচনা থেকে ৩০টি কবিতা আমরা উপস্থাপন করছি পরস্পরের পাঠকদের জন্য। কবিতাগুলির বিভিন্ন পাঠ-পাঠান্তর আছে, মুদ্রিত পাতায় আছে বিচিত্র মুদ্রণপ্রমাদ। সেসব মিলিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পাঠ তৈরির প্রয়াস এখানে লক্ষণীয়।
.
পরস্পর-এ আবুল হাসানের কবিতা প্রকাশের অনুমতি দেয়ার জন্য আমরা কবির পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে আবুল হাসানের ভগ্নিপতি কবি হাফিজুর রহমানের প্রতি আমাদের অনিঃশেষ ভালোবাসা।


সোহেল হাসান গালিব
রাজা যায় রাজা আসে
[প্রকাশ ১৯৭২]
আবুল হাসান
সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আর্দ্র,
মায়াবী করুণ
এটা সেই পাথরের নাম নাকি? এটা তাই?
এটা কি পাথর নাকি কোনো নদী? উপগ্রহ? কোনো রাজা?
পৃথিবীর তিনভাগ জলের সমান কারো কান্নাভেজা চোখ?
মহাকাশে ছড়ানো ছয়টি তারা? তীব্র তীক্ষ্ণ তমোহর
কী অর্থ বহন করে এই সব মিলিত অক্ষর?

আমি বহুদিন একা একা প্রশ্ন করে দেখেছি নিজেকে,
যারা খুব হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে, যারা এঘরে ওঘরে যায়
সময়ের সাহসী সন্তান যারা সভ্যতার সুন্দর প্রহরী
তারা কেউ কেউ বলেছে আমাকে—
এটা তোর জন্মদাতা জনকের জীবনের রুগ্‌ণ রূপান্তর,
একটি নামের মধ্যে নিজেরি বিস্তার ধরে রাখা,
তুই যার অনিচ্ছুক দাস!

হয়তো যুদ্ধের নাম, জ্যোৎস্নায় দুরন্ত চাঁদে ছুঁয়ে যাওয়া,
নীল দীর্ঘশ্বাস কোনো মানুষের!
সত্যিই কি মানুষের?

তবে কি সে মানুষের সাথে সম্পর্কিত ছিল, কোনোদিন
ভালোবেসেছিল সেও যুবতীর বামহাতে পাঁচটি আঙুল?
ভালোবেসেছিল ফুল, মোমবাতি, শিরস্ত্রাণ, আলোর ইশকুল?



পাখি হয়ে যায় প্রাণ
অবশেষে জেনেছি মানুষ একা!

জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!
দৃশ্যের বিপরীত সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনোদিন।

ফাতিমা ফুফুর প্রভাতকালীন কোরানের
মর্মায়িত গানের স্মরণে তাই কেন যেন আমি

চলে যাই আজও সেই বর্নির বাওড়ের বৈকালিক ভ্রমণের পথে,
যেখানে নদীর ভরা কান্না শোনা যেত মাঝে মাঝে
জনপদবালাদের স্ফুরিত সিনানের অন্তর্লীন শব্দে মেদুর!

মনে পড়ে সরজু দিদির কপালের লক্ষ্মী চাঁদ তারা
নরম যুঁইয়ের গন্ধ মেলার মতো চোখের মাথুর ভাষা আর
হরিকীর্তনের নদীভূত বোল!
বড় ভাই আসতেন মাঝরাতে মহকুমা শহরের যাত্রাগান শুনে,
সাইকেল বেজে উঠত ফেলে আসা শব্দে যখন,
নিদ্রার নেশায় উবু হয়ে শুনতাম, যেন শব্দে কান পেতে রেখে :
কেউ বলে যাচ্ছে যেন,
বাবলু তোমার নীল চোখের ভিতর এক সামুদ্রিক ঝড় কেন?
পিঠে অই সারসের মতো কী বেঁধে রেখেছ?

আসতেন পাখি শিকারের সূক্ষ্ম চোখ নিয়ে দুলাভাই!
ছোটবোন ঘরে বসে কেন যেন তখন কেমন
পানের পাতার মতো নমনীয় হতো ক্রমে ক্রমে!

আর অন্ধ লোকটাও সন্ধ্যায়, পাখিহীন দৃশ্য চোখে ভরে!
দিঘিতে ভাসত ঘনমেঘ, জল নিতে এসে
মেঘ হয়ে যেত লীলা বৌদি সেই গোধূলিবেলায়,
পাতা ঝরবার মতো শব্দ হতো জলে, ভাবতুম
এমন দিনে কি ওরে বলা যায়—?

স্মরণপ্রদেশ থেকে এক একটি নিবাস উঠে গেছে
সরজু দিদিরা ঐ বাংলায়, বড়ভাই নিরুদ্দিষ্ট,
সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি সাথে করে নিয়ে গেছে গাঁয়ের হালট!

একে একে নদীর ধারার মতো তারা বহুদূরে গত!
বদলপ্রয়াসী এই জীবনের জোয়ারে কেবল অন্তঃশীল একটি দ্বীপের মতো

সবার গোচরহীন আছি আজও সুদূরসন্ধানী!

দূরে বসে প্রবাহের অন্তর্গত আমি, তাই নিজেরই অচেনা নিজে
কেবল দিব্যতাদুষ্ট শোনিতের ভারা ভারা স্বপ্ন বোঝাই মাঠে দেখি,
সেখানেও বসে আছে বৃক্ষের মতন একা একজন লোক,
যাকে ঘিরে বিশজন দেবদূত গাইছে কেবলি
শতজীবনের শত কুহেলি ও কুয়াশার গান!

পাখি হয়ে যায় এ প্রাণ ঐ কুহেলি মাঠের প্রান্তরে হে দেবদূত!



উচ্চারণগুলি শোকের
লক্ষ্মী বউটিকে
আমি আজ আর কোথাও দেখি না,
হাঁটি হাঁটি শিশুটিকে
কোথাও দেখি না,
কতগুলি রাজহাঁস দেখি
নরম শরীর ভরা রাজহাঁস দেখি,
কতগুলি মুখস্থ মানুষ দেখি, বউটিকে কোথাও দেখি না
শিশুটিকে কোথাও দেখি না!

তবে কি বউটি রাজহাঁস?
তবে কি শিশুটি আজ
সবুজ মাঠের সূর্য, সবুজ আকাশ?

অনেক রক্ত যুদ্ধ গেল,
অনেক রক্ত গেল,
শিমুল তুলোর মতো
সোনারুপো ছড়াল বাতাস।

ছোট ভাইটিকে আমি
কোথাও দেখি না,
নরম নোলক পরা বোনটিকে
আজ আর কোথাও দেখি না!

কেবল পতাকা দেখি,
কেবল উৎসব দেখি,
স্বাধীনতা দেখি,

তবে কি আমার ভাই আজ
ঐ স্বাধীন পাতাকা?
তবে কি আমার বোন, তিমিরের বেদিতে উৎসব?



একলা বাতাস
নোখের ভিতর নষ্ট ময়লা,
চোখের ভিতর প্রেম,
চুলের কাছে ফেরার বাতাস
দেখেই শুধালেম,

এখন তুমি কোথায় যাবে?
কোন আঘাটার জল ঘোলাবে?
কোন আগুনের স্পর্শ নেবে
রক্তে কি প্রব্লেম?

হঠাৎ তাহার ছায়ায় আমি যেদিকে তাকালেম
তাহার শরীর মড়িয়ে দিয়ে
দিগন্তে দুই চক্ষু নিয়ে
আমার দিকে তাকিয়ে আমি আমাকে শুধালেম

এখন তুমি কোথায় যাবে?
কোন আঘাটার জল ঘোলাবে?
কোন আগুনের স্পর্শ নেবে
রক্তে কি প্রব্লেম?



বয়ঃসন্ধি
চিকন কঞ্চির মতো ছিপছিপে রোদের ভিতরে আসি
কে আমাকে নুইয়ে দেয় মা? আমার ভীষণ ভয় লাগে!

পানাপুকুরের পাড়ে জলের আয়না আছে, মুখ ধুই
আমি কাকে নুইয়ে দিই মা? আমার ভীষণ ভয় লাগে!

নাসারন্ধ্রে নিমের ফুলের ঘ্রাণ, খয়েরি দুপুরে আমি
আলোর আঁধারে কেন ভেসে যাই মা? আমার ভীষণ ভয় লাগে!

আমার সুন্দর হতে ভালোই লাগে না; আমি ভয় পাই!

আমার শরীরে এই অসহবিসহ আলো, বিচ্ছুরণ তেলেসমাতির খেল
আমার শরীরে এই সোনালি ত্বকের ছটা বুক জোড়া উঁচু শিহরন!

কোথায় লুকাব মা? ভয় লাগে, আমার ভীষণ ভয় লাগে!



প্রতীক্ষার শোকগাথা
তোমার চোখের মতো কয়েকটি চামচ পড়ে আছে দ্যাখো প্রশান্ত টেবিলে
আর আমার হাতঘড়ি
নীল ডায়ালের তারা জ্বলছে মৃদু আমারই কব্জিতে!

ট্যুরিস্টের মতো লাগছে দেখতে আমাকে
সাংবাদিকের মতো ভীষণ উৎসাহী

এ মুহূর্তে সিগ্রেটের ছাই থেকে
শিশিরের মতো নম্র অপেক্ষার কষ্টগুলি ঝেড়ে ফেলেছি কালো অ্যাসট্রেতে!

রেস্তোরাঁয় তুমি কি আসবে না আজ স্বাতী?

তোমার কথার মতো নরম সবুজ
কেকগুলি পড়ে আছে একটি পিরিচে

তোমার চোখের মতো কয়েকটি চামচ!

তোমার হাসির মতো উড়ছে চাইনিজ পর্দা রেস্তোরাঁয়
আর একটি অস্থির নীল প্রজাপতি পর্দার বুনট থেকে উড়ে এসে
ঢুকে গেছে আমার মাথায়!

রেস্তোরাঁয় তুমি কি আসছ না আজ স্বাতী?

রেস্তোরাঁয় তুমি কি আসবে না আর স্বাতী ?



স্রোতে রাজহাঁস আসছে
পুনর্বার স্রোতে ভাসছে হাঁস, ভাসতে দাও
কোমল জলের ঘ্রাণ মাখুক হাঁসেরা;
বহুদিন পর ওরা জলে নামছে, বহুদিন পর ওরা কাটছে সাঁতার
স্রোতে রাজহাঁস আসছে, আসতে দাও,

বহুদিন পর যেন রোদ আসছে, আসতে দাও
নত হতে দাও আকাশকে,
আর একটু নত হোক আলো
আর একটু নির্জন হোক অন্ধকার!

আর তুমি, পরে নাও তোমার গহনা, দুল
তোমার আঙুল হোক হেমন্তের ফুল,
আমি শুঁকি, শুঁকতে দাও!

বহুদিন পর যেন শুঁকছি বকুল!
বহুদিন তোমার ভিতরে যাই না, বহুদিন বকুল ফুলের ঘ্রাণ
পাই না এ মনে!

মনে করতে দাও তবু কোনখানে বকুলবাগান ছিল
গেরস্থের হাজারদুয়ারি ঘরবাড়ি
উঁচু আসন, সিংহাসন
মনে করো, মনে করে নাও
আমাদেরও সিংহাসন আছে আজও
আমাদের হাজারদুয়ারি বাড়ি আছে

মাটির ময়ূর, ঠোঁটে ঠোঁটে, ফুলে ফুলে
লুকোনো ডাকবাক্‌স আছে সবুজের কাছে
মনে করো আমাদেরও ভালোবাসা আছে
খাগের কলমে লেখা তাদের অক্ষরগুলি
ধানের শিষের মতো টলমলায় সেখানে শরীরে

তুমি মনে করো, মনে করে নাও
তোমার শরীরে শাড়ি,
গেরস্থের হাজারদুয়ারি ঘরবাড়ি
আলো আর অন্ধকার মনে করো, মনে করে নাও

আমরা নৌকার জলে ভাসতে ভাসতে যেন প্রতীকের হাঁস
ঐ রাজহাঁস
জল থেকে আরো জলে,
ঢেউ থেকে আরো ঢেউয়ে ছড়াতে ছড়াতে
পৌঁছে যাব আগে।

যে তুমি হরণ করো
[প্রকাশ ১৯৭৪]
কালো কৃষকের গান
দুঃখের এক ইঞ্চি জমিও আমি অনাবাদি রাখব না আর আমার ভেতর!

সেখানে বুনব আমি তিন সারি শুভ্র হাসি, ধৃতপঞ্চইন্দ্রিয়ের
সাক্ষাৎ আনন্দময়ী একগুচ্ছ নারী তারা কুয়াশার মতো ফের একপলক
তাকাবে এবং বলবে, তুমি না হোমার? অন্ধ কবি ছিলে? তবে কেন হলে
চক্ষুষ্মান এমন কৃষক আজ? বলি কী সংবাদ হে মর্মাহত রাজা?
এখানে আঁধার পাওয়া যায়? এখানে কি শিশু নারী কোলাহল আছে?
রূপশালী ধানের ধারণা আছে? এখানে কি মানুষেরা সমিতিতে মালা পেয়ে খুশি?

গ্রিসের নারীরা খুব সুন্দরের সর্বনাশ ছিল। তারা কত যে উল্লুক!
উরুভুরুশরীর দেখিয়ে এক অস্থির কুমারী কত সুপুরুষ যোদ্ধাকে তো খেলো!

আমার বুকের কাছে তাদেরও দুঃখ আছে, পূর্বজন্ম পরাজয় আছে
কিন্তু কবি তোমার কিসের দুঃখ? কিসের এ হিরন্ময় কৃষকতা আছে?
মাটির ভিতরে তুমি সুগোপন একটি স্বদেশ রেখে কেন কাঁদো
বৃক্ষ রেখে কেন কাঁদো? বীজ রেখে কেন কাঁদো? কেন তুমি কাঁদো?
নাকি এক অদেখা শিকড় যার শিকড়ত্ব নেই তাকে দেখে তুমি ভীত আজ?
ভীত আজ তোমার মানুষ বৃক্ষশিশু প্রেম নারী আর নগরের নাগরিক ভূমা?

বুঝি তাই দুঃখের এক ইঞ্চি জমিও তুমি অনাবাদি রাখবে না আর
এম্ফিথিয়েটার থেকে ফিরে এসে উষ্ণ চাষে হারাবে নিজেকে, বলবে
ও জল, ও বৃক্ষ, ও রক্তপাত, রাজনীতি ও নিভৃতি, হরিৎ নিভৃতি
পুনর্বার আমাকে হোমার করো, সুনীতিমূলক এক থরোথরো
দুঃখের জমিন আমি চাষ করি এদেশের অকর্ষিত অমা!



ভ্রমণযাত্রা
এইভাবে ভ্রমণে যাওয়া ঠিক হয় নি, আমি ভুল করেছিলাম!
করাতকলের কাছে কাঠচেরাইয়ের শব্দে জেগেছিল সম্ভোগের পিপাসা!
ইস্টিশানে গাড়ির বদলে ফরেস্ট সাহেবের বনবালাকে দেখে
বাড়িয়েছিলাম বুকের বনভূমি!

আমি কাঠ কাটতে গিয়ে কেটে ফেলেছিলাম আমার জন্মের আঙুল!
ঝর্নার জলের কাছে গিয়ে মনে পড়েছিল শহরে পানির কষ্ট!
স্রোতস্বিনী শব্দটি এত চঞ্চল কেন গবেষণায় মেতেছিলাম সারাদিন
ক্ষুধাতৃষ্ণা ভুলে!
আমি উপজাতি কুমারীর করুণ নশ্বর নম্র স্তনের অপার আঘ্রাণে
প্রাচীন অনাধুনিক হয়ে গিয়েছিলাম শিশুর মতো!
আমি ভুলে গিয়েছিলাম পৃথিবীতে তিন চতুর্থাংশ লোক এখনো ক্ষুধার্ত!

আমি ভুলে গিয়েছিলাম রাজনীতি একটি কালো হরিণের নাম!
আমি ভুলে গিয়েছিলাম সব কুমারীর কৌমার্য থাকে না, যেমন
সব করাতকলের কাছে কাঠমিস্ত্রির বাড়ি, সব বনভূমিতে
বিদ্যুৎবেগবতী বাঘিনী!
যেমন সব মানুষের ভিতরে এক টুকরো নীলরঙা অসীম মানুষ!

আমি ভুলে গিয়েছিলাম বজ্রপাতের দিনে বৃক্ষদের আরো বেশি
বৃক্ষস্বভাব!

যেমন আমি ভুলে গিয়েছিলাম সব যুদ্ধই আসলে অন্তহীন
জীবনের বীজকম্প্র, যৌবনের প্রতীক!

এইভাবে ভ্রমণে যাওয়া ঠিক হয় নি আমার হৃদয়ে হয়তো কিছু
ভুলভ্রান্তি ছিল,
আমি পুষ্পের বদলে হাতে তুলে নিয়েছিলাম পাথর!
আমি ঢুকে পড়েছিলাম একটি আলোর ভিতরে, সারাদিন আর
ফিরি নি!

অন্ধকারে আমি আলোর বদলে খুঁজেছিলাম আকাশের উদাসীনতা!
মধু-র বদলে আমি মানুষের জন্য কিনতে চেয়েছিলাম মৌমাছির
সংগঠনক্ষমতা!
পথের কাছে পাখিকে দেখে মনে পড়েছিল আমার হারানো কৈশোর!
পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল আমি আসলেই পথ হাঁটছি,
পথিক!

তবু ভ্রমণে আবার আমি ফিরে যাব, আমি ঠিকই পথ চিনে নেব!
অনন্তের পথিকের মতো ফের টের পাব
কে আসলে সত্যিই কুমারী, কে হরিণ কে রমণী কে-বা স্ত্রীলোক!
আর ঐ যে করাতকল, ওরা কেন সারারাত কাঠচেরাই করে!

আর ঐ যে অমৃত ঝর্না, ওকে কারা বুকে এনে এতটা স্বর্গীয় শব্দে
স্রোতস্বিনী ডাকে!



26036232_1704695332908914_1945774045_o

সেই মানবীর কণ্ঠ
প্রিয়তম পাতাগুলি ঝরে যাবে মনেও রাখবে না
আমি কে ছিলাম, কী ছিলাম—কেন আমি
সংসারী না হয়ে খুব রাগ করে হয়েছি সন্ন্যাসী
হয়েছি হিরণদাহ, হয়েছি বিজনব্যথা, হয়েছি আগুন!

আমি এ আঁধার স্পর্শ করে কেন তাকে বলেছি হৃদয়,
তৃষ্ণায় তাড়িত তবু কেন তাকে বলেছি ভিক্ষুক
আমি এ জলের পাত্রে জল চাই না, বিষ চাই বিষও তো পানীয়!

প্রিয়তম পাতাগুলি ঝরে যাবে মনেও রাখবে না
আমি কে ছিলাম, কী ছিলাম, কেন আমি
এ বুক স্পর্শ করে বলেছি একদিন গ্রিস, কলহাস্য, অদিতি-উৎসব!
আমি তাম্রলিপি আমি হরপ্পার যুগল মূর্তির কার কে?
কী আমার অনুভূতি? কোনোদিন কোনোই নারীকে
কেন আমি বলি নি মাতৃত্ব? কেন বলেছি নির্জন?

প্রিয়তম পাতাগুলি ঝরে যাবে মনেও রাখবে না
আমি কে ছিলাম, কী ছিলাম, সঙ্ঘমিত্রা নাকি সে সুদূর
সভ্যতাসন্ধির রানি, অন্য কোনো অশোকের বোন,

হয়েছি এখন আমি কেনবা এমন প্রবাহিত?



পরাজিত পদাবলি
আমার বাহু বকুল ভেবে গ্রীবায় পরেছিলে
মনে কি পড়ে প্রশ্নহীন রাতের অভিসার?
অন্ধকারে আড়াল পেয়ে ওষ্ঠে তুলে নিলে
হঠাৎ গাঢ় চুম্বনের তীব্র দহনগুলি?

মনে কি পড়ে বলেছিলে এ পোড়া দেশে যদি
বিরহ ছাড়া কিচ্ছুতে নেই ভালোবাসার বোধি—
রাজ্য জুড়ে রাজার মতো কে আর থাকে কার
রাতের পথে সহজ হবে দিনের অভিসার?

হৃদয় আজ কুপিয়ে দেই বিচ্ছেদের চারায়
দোলাই তাতে মন চেতনা মনস্তাপের ফুল!
তোমার ইন্দ্রিয়ে তার সৌরভেরা হারায়
যখন তুমি বাঁধতে বসো তোমার এলোচুল?

তোমার কাছে গিয়েছিলাম রাতে নদীর ঢেউ
তোমায় আমি পরিয়েছিলাম অঙ্গুরীয় মেয়ে

ভুল বুঝা সে মানুষ তাকে বোঝে নি আর কেউ
তুমি যেমন তোমার মতো বুঝতে চেয়েছিলে!



একজন ধর্মপ্রণেতা
(আশরাফুল আলমকে)
.
ছিলাম প্রথম ভ্রূণ খড়ের গাদায়, ছিলাম তপ্ত লোহা, তোমার জ্বলন্ত ধাতু
ছিলাম মাটির বাক্‌সে লুকানো মোহর, ছিলাম শিল্পের লিপ্সা
জটিল বন্ধন।
আমাকে সমুদ্রস্নানে নিয়ে যাওয়া হলো একদিন, অসতী নারীর সঙ্গে,
আমাকে অরণ্যে নিয়ে যাওয়া হলো একদিন অসতী আলোর সঙ্গে,

এক যুবতীর জলের উপরে আমাকে ভাসতে দেওয়া হলো একদিন।
আমাকে জলের অর্থ বলে দেওয়া হলো এক জেলেনির সঙ্গে শুতে দিয়ে।
আমাকে ঝর্নার নৃত্য, সীমাবদ্ধ সমুদ্র দেখতে নিয়ে যাওয়া হলো
মরূদ্যানে, হায়

আমি কত কমনীয় খর্জুরবৃক্ষ দেখলাম!
আরব্য রজনী, শাহি গণিকাদের গোলগাল নাভির অপেরা হাউস!

আমি নৃত্যপরা তাঁবুর ভিতরে কত দেখলাম ঘুঙ্গুরের ঝাঁঝট তরঙ্গ
কত দেখলাম দহনচুম্বনে বদ্ধ সিংহযূথ, নরনারী
শিশু ও লোবান আর মৃত্যু ও আতরদানি কত দেখলাম।

সার্কাসকুমারী ছিল একজন, সেইখানে তাঁবুর ভিতরে
সে আমার দিকে তার ছিন্ন ঘাগরার দ্যুতি ছুড়ে দিল,
নিদ্রার মিথুনমুদ্রা ছুড়ে দিল সেই প্রথম।

আমাকে মায়ের সঙ্গে পিতার কবর খুঁড়তে যেতে হলো, সেই প্রথম
গ্রীষ্মের ঝাপটলাগা রাত্রিতে একদিন,
শুক্লা দ্বাদশীর রাত্রে জ্যোৎস্নায় আমি মায়ের নারীত্ব ছুঁই সেই প্রথম।

আমি তার ভ্রূণের ভিতর হিংসা ভ্রাতৃহিংসা হেনে ফের
ভ্রাতৃহন্তাকারী হই, পরিব্রাজক হই
পায়ের ভিতরে আমি সেই প্রথম অনুভব দাবি করি আরো
অজস্র অজস্র পা আমার শরীরে

নৃত্য করছে নৃত্যপর—তারা
সেই প্রথম আমাকে বোঝালো,

এইসব তামসপ্রবাহে স্নিগ্ধ স্নান সেরে নাকি এক
বিলুপ্ত জাতির ফের জাগরণ হবে,
এক কান্তিমান নাকি ফিরে আসবে আবার উষ্ণীষে,
কিন্তু কই? আমি যতবার আসি
ততবার ওরা তো আমাকে আজও হত্যা করে!
হত্যা করে ফেলে!



নিঃসঙ্গতা
অতটুকু চায় নি বালিকা!
অত শোভা, অত স্বাধীনতা!
চেয়েছিল আরো কিছু কম,

আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে
বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিল
মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক!

অতটুকু চায় নি বালিকা!
অত হৈ রৈ লোক, অত ভিড়, অত সমাগম!
চেয়েছিল আরো কিছু কম!

একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিল

একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী!



তোমার চিবুক ছোঁব, কালিমা ছোঁব না
এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাব, তোমার ভিতরে এক অসম্পূর্ণ যাতনা আছেন,
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই শুদ্ধ হ’, শুদ্ধ হব
কালিমা রাখব না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাব; তোমার পায়ের নিচে পাহাড় আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই স্নান কর
পাথর সরিয়ে আমি ঝর্নার প্রথম জলে স্নান করব
কালিমা রাখব না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
এখন তোমার কাছে যাব
তোমার ভিতরে এক সাবলীল শুশ্রূষা আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই ক্ষত মোছ আকাশে তাকা—
আমি ক্ষত মুছে ফেলব আকাশে তাকাব
আমি আঁধার রাখব না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
যে সকল মৌমাছি, নেবুফুল গাভির দুধের সাদা হেলেঞ্চা শাকের ক্ষেতে
যে রাখাল আমি আজ কোথাও দেখি না—তোমার চিবুকে
তাঁরা নিশ্চয়ই আছেন!

তোমার চিবুকে সেই গাভির দুধের শাদা, সুবর্ণ রাখাল
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই কাছে আয় তৃণভূমি
কাছে আয় পুরনো রাখাল!
আমি কাছে যাব আমি তোমার চিবুক ছোঁব, কালিমা ছোঁব না!



গোলাপের নিচে নিহত হে কবি কিশোর
গোলাপের নিচে নিহত হে কবি কিশোর আমিও ভবঘুরেদের প্রধান ছিলাম।
জ্যোৎস্নায় ফেরা জাগুয়ার চাঁদ দাঁতে ফালা ফালা করেছে আমারও প্রেমিক হৃদয়!
আমিও আমার প্রেমহীনতায় গণিকালয়ের গণিকার কাছে ক্লান্তি সঁপেছি
বাঘিনীর মুখে চুমো খেয়ে আমি বলেছি আমাকে উদ্ধার দাও।
সক্রেটিসের হেমলক আমি মাথার খুলিতে ঢেলে তবে পান করেছি মৃত্যু
হে কবি কিশোর
আমারও অনেক স্বপ্ন শহিদ হয়েছে জীবনে কাঁটার আঘাত সয়েছি আমিও।
হৃদয়ে লুকানো লোহার আয়না ঘুরিয়ে সেখানে নিজেকে দেখেছি
পাণ্ডুর খুবই নিঃস্ব একাকী!
আমার পায়ের সমান পৃথিবী কোথাও পাই নি অভিমানে আমি
অভিমানে তাই
চক্ষু উপড়ে চড়ুইয়ের মতো মানুষের পাশে ঝরিয়েছি শাদা শুভ্র পালক!
হে কবি কিশোর নিহত ভাবুক, তোমার দুঃখ আমি কি বুঝি না?
আমি কি জানি না ফুটপাতে কারা করুণ শহর কাঁধে তুলে নেয়?
তোমার তৃষ্ণা তামার পাত্রে কোন কবিতার ঝিলকি রটায় আমি কি জানি না
তোমার গলায় কোন গান আজ প্রিয় আরাধ্য কোন করতলও হাতে লুকায়
আমি কি জানি না মাঝরাতে কারা মৃতের শহর কাঁধে তুলে নেয়?
আমারও ভ্রমণ পিপাসা আমাকে নারীর নাভিতে ঘুরিয়ে মেরেছে
আমিও প্রেমিক ত্রæবাদুর গান স্মৃতি সমুদ্রে একা শাম্পান হয়েছি আবার
সুন্দর জেনে সহোদরাকেও সঘন চুমোর আলুথালু করে খুঁজেছি শিল্প।
আমি তবু এর কিছুই তোমাকে দেবো না ভাবুক তুমি সেরে ওঠো
তুমি সেরে ওঠো তোমার পথেই আমাদের পথে কখনো এসো না,
আমাদের পথ
ভীষণ ব্যর্থ আমাদের পথ।

পৃথক পালঙ্ক
[প্রকাশ ১৯৭৫]
নচিকেতা
মারী ও বন্যায় যার মৃত্যু হয় হোক। আমি মরি নাই—শোনো
লেবুর কুঞ্জের শস্যে সংগৃহীত লেবুর আত্মার জিভে জিভ রেখে
শিশু যে আস্বাদ আর নারী যে গভীর স্বাদ
সংগোপন শিহরনে পায়—আমি তাই।

নতুন ধানের ঋতু বদলের পালা শেষে
শস্যিতা রৌদ্রের পাশে কিশোরীরা যে পার্বণে আজও হয়
পবিত্র কুমারী—শোনো, আমি তাতে আছি!

আর সব যুদ্ধের মৃত্যুর মুখে হঠাৎ হাসির মতো ফুটে ওঠা পদ্মহাঁস
সে আমার গোপন আরাধ্য অভিলাষ!

বহ্নিরচনার দ্বারা বৃক্ষে হয় ফুল;
ফুলে প্রকাশিকা মধুর মৃন্ময় অবদান শোনো,

ঝর্নার যে পাহাড়ি বঙ্কিম ছন্দ কবির শ্লোকের মতো স্বচ্ছ সুধাস্রোত
স্পেনের পর্বতপ্রস্তরপথে টগবগে রৌদ্রের যে সুগন্ধি কেশরকাঁপা
কর্ডোভার পথে বেদুইন!
লোর্কার বিষণ্ন জন্ম, মৃত্যু দিয়ে ভরা চাঁদ,
শুধু সবিতার শান্তি—আমি তাই!

হারানো পারের ঘাটে জেলেডিঙি, জাল-তোলা কুঁচো মাছে
কাঁচালি সৌরভ—শোনো
সেখানে সংগুপ্ত এক নদীর নির্মল ব্রিজে
বিশুদ্ধির বিরল উত্থানের মধ্যে আমি আছি

এ বাংলায় বারবার হাঁসের নরম পায়ে খঞ্জনার লোহার ক্ষরায়
বন্যার খুরের ধারে কেটে ফেলা মৃত্তিকার মলিন কাগজ

মাঝে মাঝে গলিত শুয়োরগন্ধ, ইঁদুরের বালখিল্য ভাড়াটে উৎপাত
অসুস্থতা, অসুস্থতা আর ক্ষত সারাদেশ জুড়ে হাহাকার

ধান বুনলে ধান হয় না, বীজ থেকে পুনরায় পল্লবিত হয় না পারুল
তবু রয়েছি আজও আমি আছি,
শেষ অঙ্কে প্রবাহিত শোনো তবে আমার বিনাশ নেই

যুগে যুগে প্রেমিকের চোখের কস্তুরীদৃষ্টি,
প্রেমিকার নত মুখে মধুর যন্ত্রণা,

আমি মরি না, মরি না কেউ কোনোদিন কোনো অস্ত্রে
আমার আত্মাকে দীর্ণ করতে পারবে না।



মোরগ
ঘুরে ঘুরে নাচিতেছে পণ্ডিতের মতো প্রাণে
রৌদ্রের উঠানে ঐ নাচিতেছে যন্ত্রণার শেষ অভিজ্ঞানে!

পাখা লাল, শরীর সমস্ত ঢাকা লোহুর কার্পেটে।

মাথা কেটে পড়ে আছে, যায় যায়, তবুও নর্তক
উদয়শঙ্কর যেন নাচিতেছে ভারতী মুদ্রায়!

এই মাত্র বিদ্ধ হলো বেদনায় চিকুন চাকুর ক্র‚রতায়!

এই মাত্র যন্ত্রণায় নাচ তার সিদ্ধ হলো, শিল্পীভ‚ত হলো;
খুনের ঝোরায় তার নৃত্য ভেসে নর্তকের নিদ্রা ফিরে পায়!
শান্ত হয় স্মৃতি স্নায়ু প্রকৃতি ও পরম আকৃতি!

এখন শান্তি শান্তি—অনুভূতি আহত পাখায়
ভেঙে পড়ে আছে পাখি, গৃহস্থের গরিব মোরগ!

একদিকে পুচ্ছ হায়—অন্যদিকে আমার ছায়ায়
মুখ গুঁজে শান্ত ঐ, শান্ত সে সমাহিত, এখন নিহত!!



কল্যাণ মাধুরী
যদি সে সুগন্ধি শিশি, তবে তাকে নিয়ে যাক অন্য প্রেমিক!
আতরের উষ্ণ ঘ্রাণে একটি মানুষ তবু ফিরে পাবে পুষ্পবোধ পুনঃ
কিছুক্ষণ শুভ্র এক স্নিগ্ধ গন্ধ স্বাস্থ্য ও প্রণয় দেবে তাঁকে।
একটি প্রেমিক খুশি হলে আমি হব নাকি আনন্দিত?

যদি সে পুকুর, এক টলটলে সদ্য খোঁড়া জলের অতল।
চাল ধুয়ে ফিরে যাক, দেহ ধুয়ে শুদ্ধি পাক স্মৃতিরা সবাই।
একটি অপার জাল, জলের ভিতর যদি ফিরে পায় মুগ্ধ মনোতল।
এবং গাছের ছায়া সেইখানে পড়ে, তবে আমি কি খুশি না?

যদি সে চৈত্রের মাঠ-মিলিত ফাটলে কিছু শুকনো পাতা তবে
পাতাকুড়োনিরা এসে নিয়ে যাক অন্য এক উর্বর আগুনে।
ফের সে আসুক ফিরে সেই মাঠে শস্যবীজে, বৃষ্টির ভিতরে।
একটি শুকনো মাঠ যদি ধরে শস্য তবে আমি লাভবান।

যদি সে সন্তানবতী, তবে তার সংসারের শুভ্র অধিকারে
তোমরা সহায় হও, তোমরা কেউ বাধা দিও না হে
শিশুর মুতের ঘ্রাণে মুগ্ধ কাঁথা ভিজুক বিজনে,
একটি সংসার যদি সুখী হয়, আমিও তো সুখী

আর যদি সে কিছু নয়, শুধু মারী, শুধু মহামারী!
ভালোবাসা দিতে গিয়ে দেয় শুধু ভুরুর অনল।
তোমরা কেউই আঘাত করো না তাকে, আহত করো না।
যদি সে কেবলি বিষ—ক্ষতি নেই—আমি তাকে বানাব অমৃত!



26036426_1704691816242599_342582988_o



নর্তকী ও মুদ্রাসঙ্কট
তুমি যখন নৃত্য করো মুদ্রাগুলি কাঁপে
তোমার হাতের মধ্যে তো নয় যেনবা কিংখাবে,
তলোয়ারের মতন তুমি তোমার দু’হাত তোলো,
চোখের নিচের নগ্নতাকে ছন্দ পেয়ে ভোলো।

আমি তখন আমার পোড়া দেশের পাপে মরি।
নিজের কাছে নিজের দেহ তীব্র তুলে ধরি।
তুমি তো নও আম্রপালী, বর্তমানের নারী
তোমার লাগে লিনোলিয়াম সিফনঘেরা শাড়ি
তোমার লাগে সাত প্রেমিকের সুলভ করতালি,
বাগান তুমি, যুবারা যেন তোমার কেনা মালি।

হাজার ফুলের মধ্যে দুটি ফুলের অনুতাপে
মর্মাহত মালিরা তবু তোমার বুকে কাঁপে।

কিন্তু বুকের কাছে কি আর সেই ফুলেরা আছে
দেবদাসীরা যখন পূজায় পুরোহিতের কাছে
রাখত জমা যাতনা আর জরার অভিমান
পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে বলত, হে সম্মান
আমাকে দাও শস্যকণা আমাকে দাও তীর
প্রাণের পাশে পরমায়ুর ঝর্না সুনিবিড়।

এখন শুধু হাতের কাঁপন, দিনযাপনের গ্লানি
মুদ্রা তুলে জাগাও তুমি অতনু একখানি
অনাশ্রয়ের অনিদ্রা আর অভিমানের গান :
যেখানে ভালোবাসারও নেই সুযোগ্য সম্মান।



ধরিত্রী
পাতাকুড়োনির মেয়ে তুমি কী কুড়োচ্ছ? ছায়া, আমি ছায়া কুড়োই!
পাখির ডানার সিক্ত সবুজ গাছের ছায়া, গভীর ছায়া, একলা মেঘে
কুড়োই, হাঁটি মেঘের পাশে মেঘের ছায়া—ছায়া কুড়োই।

পাতাকুড়োনির মেয়ে তুমি কী কুড়োচ্ছ? পাতা, আমি পাতা কুড়োই!
কয়টি মেয়ে ঝরাপাতা : ঝরছে কবে শহরতলায়,
শিরায় তাঁদের সূক্ষ্ম বালু,
পদদলিত হৃদয় ক’টি, বৃক্ষবিহীন ঝরাপাতা—
কুড়োই আমি তাদের কুড়োই!

পাতাকুড়োনির মেয়ে তুমি কী কুড়োচ্ছ? মানুষ, আমি মানুষ কুড়োই।
আহত আর নিহত সব মানুষ কারা বাক্‌স খুলে ঝরায় তাদের রাস্তাঘাটে।
পঙ্গু—তবু পুণ্যে ভরা পুষ্প : তাদের কুড়োই আমি, দুঃখ কুড়োই!

আর কিছু না? বটেই—আরো আছে অনেক রঙ-বেরঙের ঝরাপাতা,
আমার ঝাঁপি উল্টে পড়ে মন্বন্তরের মৃত্যুবীজে
লক্ষ্যবিহীন লাল খনিজে!

সবাই আমার স্বার্থে ভিজে সবটুকু হয় স্বার্থবিষয়
সবটুকু হয় শুদ্ধ ব্যথা
তাদের অন্য কুলোয়, তাদের ঝাড়ব আমি অন্য হাওয়ায়
যেমন করে শস্যভিটায় শস্য ঝাড়ার সময় এলে, শস্যে কুড়োই সচ্ছলতা,

এবার আমার ঝরাপাতার শস্য হবার দিন এসেছে
শস্য কুড়োই, শস্যমাতা!



যুগলসন্ধি
ছেলেটি খোঁড়ে নি মাটিতে মধুর জল!
মেয়েটি কখনো পরে নাই নাকছাবি।
ছেলেটি তবুও গায় জীবনের গান,
মেয়েটিকে দেখি একাকী আত্মহারা!

ছেলেটির চোখে দুর্ভিক্ষের দাহ,
মেয়েটির মুখে কত মায়া মৌনতা;
কত যুগ যায়, কত শতাব্দী যায়!
কত যুগ ধরে কত না সে বলিদান!

ছেলেটি খোঁড়ে নি মাটিতে মধুর জল,
মেয়েটি দেখে নি কখনো বকুল ফুল।
ছেলেটি তবুও প্রকৃতি-প্রতিনিধি;
মেয়েটি আবেগে উষ্ণ বকুলতলা!

ছেলেটি যখন যেতে চায় দক্ষিণে,
মেয়েটি তখনো ঝর্নার গান গায়;
মেয়েটির মুখে সূর্যাস্তের মায়া!
ছেলেটি দিনের ধাবমান রোদ্দুরে!

কত কাল ধরে কত না গোধূলিতলে,
ছেলেটি মেয়েটি এর ওর দিকে চায়!
কত বিচ্ছেদ কত না সে বলিদান!
কত যে আকাল শুভকাল পানে ধায়!

ছেলেটির গায়ে বেঁধে কত বল্লম;
মেয়েটির মনে কত মেয়ে মরে যায়!
ছেলেটি যদিও আঘাতে আহত তবু,
মেয়েটি আবার মেয়ে হয়ে হেসে ওঠে।

কত বিদ্রোহ, কত না সে বলিদান;
পার হয় ওরা কত না মহামারী!
ছেলেটির বুকে মেয়েটির বরাভয়;
মেয়েটির চোখে ছেলেটির ভালোবাসা!

একজন ফের উদ্যানে আনে ফুল,
একজন মাঠে ফলায় পরিশ্রম;
কত না রাত্রি কত না দিনের ডেরা,
কত না অশ্রু, কত না আলিঙ্গন!

ছেলেটি আবার খোঁড়ে মাটি খোঁড়ে জল!
মেয়েটি আবার নাকে পরে নাকছাবি,
ছেলেটির চোখে মেয়েটির বরাভয়;
মেয়েটিকে দেখি একাকী আত্মহারা!!



জরায়ু আমি জরায়ু ছিলাম
জরায়ু আমি জরায়ু ছিলাম, হয়ে গেলাম মানুষ, না হয়
সেইখানে তো ফুটতে ছিলাম
মায়ের ভ্রূণে গর্ভাশয়ে ফুলের মতো
অমল ধবল ফুটতে ছিলাম;

ছলছলানো জলের যোনি
ঘূর্ণি মেরে ফুটতে থাকা একলা খুনি
করাতধারে চিড়তে ছিলাম মাংস মায়ের
মাখতে ছিলাম ভেতরব্যাপী বৃত্তজুড়ে
মায়ের মধুর অন্তঃপুরে

কোন বিদেশি ডাকাত তাকে ছিঁড়তে গেল? ছিঁড়তে গেল?
টাকার মতো রুপোয় ঢাকা রাত্রি তাকে ছিঁড়তে গেল?
বাবা? নাকি অসম্ভবা জন্ম আমার?
কোন বিদেশি ধর্মাধর্ম ছিঁড়তে গেল? ছিঁড়তে গেল?
একলা একা শুয়ে থাকার, গন্ধ মাখার শান্তি অগাধ?

এখন আমার ক্লান্তি বড়, শরীর ভরা জড়োসড়ো,
ঘুণপোকা আর থোকাথোকা ঘামমলমূত্র বহন করি,
জখম করি নিজের জন্ম জখম করি, জখম করি,

ত্রিশূলবিদ্ধ শুয়ার যেমন, জখম করি নিজের দুয়ার
পেছন পাগল সকল আহার,
আত্মা থেকে অমল বাহার;
ফুলের মতো একলা থাকার গর্ব নিয়ে ফুটতে ছিলাম মায়ের ভ্রূণে,
কী কুক্ষণে ডাকাত বেনে, ছিঁড়তে গেল ছিঁড়তে গেল?



ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুজে মুক্তা ফলাও!



শেষ মনোহর
সে আমার পাশে শুয়েছিল, বাঁশির মতন বিবসনা!
তাকে আমি দেখেছিলুম কাঁদতে গুণীর হাতের বেহালার মতো

আর মাত্র কিছুক্ষণ : এর মধ্যে নক্ষত্র ফুরোবে :
এর মধ্যে শেষ হবে আমাদের আলিঙ্গন আমাদের অনিদ্র চুম্বন!

পাতলা ঝাউয়ের মতো কেঁপে উঠল কণ্ঠ তার
কেন তুমি এইভাবে, এরকম দিলে?

সন্তের শূন্যতা নিয়ে পাশ ফিরে শুই—একা শুই!

সে আমাকে হঠাৎ উন্নত স্বরে বলে ওঠে ‘অহিংস ঘাতক!’

বটেই তো, না হলে কি আমি আজ তার মতো কাঁদি?

অগ্রন্থিত কবিতা
[প্রকাশ ১৯৮৫]
আদিজ্ঞান
এতটা বয়স চলে গেল, তবু কী আশ্চর্য, আজও কি জানলাম,
বনভূমি কেন এত ভিন্ন ভিন্ন বৃক্ষ নিয়ে তবে বনভূমি?
জল কেন এত স্বচ্ছ স্রোত নিয়ে তবে স্রোতস্বিনী?
রক্ত কেন এত রক্তপাত নিয়ে তবে স্বাধীনতা?
এতটা বয়স চলে গেল, তবু কী আশ্চর্য, আজও কি জানলাম,
বনভূমি লোকালয় থেকে কেন এত দূরে থাকে?
কিশোরীরা কেন এত উদাসীন, কেন এত নির্জনতাপ্রিয়?
আর নদী কেন গভীরতা ছাড়া ঠিক ধারামতো চলতে পারে না?

এতটা বয়স চলে গেল, তবু কী আশ্চর্য, আজও কি জানলাম,
চড়ুইয়ের ঠোঁটে কেন এত তৃষ্ণা? খড়ের আত্মায় কেন এত অগ্নি, এতটা দহন?
গোলাপ নিজেই কেন এত কীট, এত মলিনতা নিয়ে তবুও গোলাপ?
এতটা বয়স চলে গেল, তবু কী আশ্চর্য, আজও কি জানলাম,
একটি শিশুর কেন এত নিদ্রা, এত গাঢ় ঘুম আর
তখন আমরা কেন তার মতো ঘুমুতে পারি না?

-আবুল হাসান- 🌷


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 9001212.30.8934.215 (*)          Date:25 Jul 2018 -- 10:43 PM

*ওপরের বাছাই কবিতাগুলো নেওয়া হয়েছে এই সুতো থেকেঃ

http://www.porospor.com/কবিতা/তীব্র-৩০-আবুল-হাসানের-বাছ/


Name:  কুশান          

IP Address : 340112.215.3456.239 (*)          Date:27 Jul 2018 -- 07:50 PM

              বল-ই উড

বালক, ভগ্নাংশ কষিতেছ? উৎপাদক-বিশ্লেষণের তবে কি হইবে?

লব বলিলে হর মনে আসিতে পারে। হর বলিলে পার্বতী কি অবধারিত? 'হর হর মহাদে..', কেন তবে, চুন চুনকে, অযথা পুকারে অই সাবেকী বল-ই-উড, গামবাটশিরোমণি, সানি দি ওল? দেওল, লিওন সানিমতে মিলিয়া গেলে, অতঃপর, ব্যাট লয়ে, কিছুবা আবাপ-মতে, আইস, এক্ষণে গাওস্কর-গাওস্কর খেলি। সানিমত, এমত আইডল।

লব বলিলে স্মিত হাসে কুশ। একই অণুর সফেদহলুদ ভগ্ন-অংশ,  বাল্মীকিউঠানে শিশু হরিণ। দ্যাখো, ফির, পুনরায়, কিরূপে, হরের কাছে রয়ে যায় ঋণ।

কূট তর্কে মেতে ওঠে নাদান বালক, ক্রোড়ে নবগণিতমুকুল: লবকে হর দিয়া, হরকে কুশ দিয়া, কুশকে লব দিয়া ভাগ করিলে ব্যা করিয়া উঠে করণ-অর্জুন, একই ডিম্বর ভগ্নাংশ। উহারাও মাখামাখি দোসর, হর-ই-হর আত্মা, খানখান, বলিউড বা , রাকেশ/রাজেশ, রোশন-মতে।

সকল খান্না রাজেশ না, সকল রাজেশও, খান্না না।

রাজেশ যদিও বা খান্না, কিন্তু, মরিলেও, খান না।

লব বলিলে যদি হর, পার্বতী তবে গৌরী হইলে, বাট কিন্তু হোয়াট হইল কি? 'হর কি গৌরী' বটে, গৌরী হরের?

গৌরীর পদবী কিন্তু এক্ষণে খান হইল, শাহরুখ খানে; খানসামা, সামাও সুহানা হইল ভবে।

বলই হউক, ব্যাটই হউক, সকলই আসলে উড, শেরউড বা তাইগা বনের। লবের অক্ষর উল্টাইয়া, দ্যাখো, বল-ই কি হইল না?

তাই, বলি, নির্ণেয় উৎপাদক=বল-ই উড....




Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:27 Jul 2018 -- 10:42 PM

শিরিরাম! 😂


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:27 Jul 2018 -- 10:42 PM

শিরিরাম! 😂


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 9001212.30.90034.249 (*)          Date:31 Jul 2018 -- 11:11 PM

ধর্ষিত ত্রিপুরা শিশুটির কাটা দুই হাত, ফালি করা কচি মাংসে এখনো নরভোজ! কোথা শান্তি? কোথা চুক্তি?
~
উজো, উজো, উজো!
👎


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 9001212.30.90034.249 (*)          Date:31 Jul 2018 -- 11:16 PM

আমার অফিস সিকিউরিটি পাঁচজন ত্রিপুরা ছেলে, তাদের বাড়িও খাগড়াছড়ি, আমাকে খুব মান্য করে।

আজ সকালে অফিসে ঢোকার পথে দলনেতা হেমন্ত ত্রিপুরা প্রটোকল ভেংগে শার্টের হাতা খামচে ছলছল চোখে বললো, স্যার, মেয়েটারে কি ভাবে মারলো! আমরা কি করছি?

আমি চশমা সামলে বাথরুমে গিয়ে চোখ ধুলাম। সব ভুলে কসাইয়ের মত নিউজ করলাম...

আর পারি না! 😥






Name:  বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:06 Aug 2018 -- 07:03 AM

দেখতে কেমন তুমি?
কি রকম পোশাক আশাক পরে করো চলাফেরা?
মাথায় আছে কি জটাজাল ?
পেছনে দেখাতে পারো জ্যোতিশ্চত্রু সন্তের মত?

টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবর জং ঢোলা
পায়জামা কামিজ গায়ে মগডালে একা শিস দাও?
পাখির মতই কিংবা চা খানায় বসো ছায়াছন্ন?

দেখতে কেমন তুমি?
অনেক প্রশ্ন করে,খুজে কুলিজি তোমার আতিপাতি!
তোমার সন্ধানে ঘোরে ঝানু গুপ্তচর,সৈন্য,পাড়ায় পাড়ায়।
তন্ন তন্ন করে খোঁজে প্রতি ঘর।
পারেলে নীলিমা চিরে বের করতো তোমাকে ওরা,
দিতো ডুব গহন পাতালে।

তুমি আর ভবিষ্যত যাচ্ছ হাত ধরে পরস্পর।
সর্বত্র তোমার পদধ্বনি শুনি,দুঃখ তাড়ানিয়া
তুমি তো আমার ভাই,হে নতুন,সন্তান আমার।

- গেরিলা / শামসুর রাহমান -


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:06 Aug 2018 -- 07:15 AM

অটোমেটিক লগ -অফ মানি না। :/


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:07 Aug 2018 -- 07:49 AM

তুমি গুজব, আমি গুজব, সব গুজব; ছাত্র পেটানো চার পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি, ইহা কিন্তু সত্যি!

https://www.thedailystar.net/news/country/4-top-police-officials-promo
ted-supernumerary-grade-1-posts-1616911?amp&__twitter_impression=true



Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:13 Aug 2018 -- 06:19 AM

তবু পিনাকীর বাক স্বাধীনতা চাই;
পুলিশরাজ নিপাত যাক!
~
👎


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 9001212.30.2334.89 (*)          Date:22 Aug 2018 -- 06:28 AM

আমার চোখের সামনে

আমার চোখের সামনে প’চে গ’লে নষ্ট হলো কতো শব্দ,
কিংবদন্তি, আদর্শ, বিশ্বাস । কতো রঙিন গোলাপ
কখনোবা ধীরে ধীরে, কখনো অত্যন্ত দ্রুত, পরিণত হলো ,নোংরা আবর্জনায়।

আমার বাল্যে “বিপ্লব” শব্দটি প্রগতির উথ্থান বোঝাতো ।
যৌবনে পা দিতে- না-দিতেই দেখলাম শব্দটি প’চে যাচ্ছে-
ষড়যন্ত্র, বুটের আওয়াজ,পেছনের দরোজা দিয়ে ,প্রতিক্রিয়ার প্রবেশ বোঝাচ্ছে।
“ সংঘ” শব্দটি গত এক দশকেই কেমন অশ্লীল হয়ে উঠেছে ।

এখন সংঘবদ্ধ দেখি নষ্টদের, ঘাতক ডাকাত ভন্ড আর
প্রতারকেরাই উদ্দীপনাভরে নিচ্ছে সংঘের শরণ । যারা
মানবিক, তারা কেমন নিঃসঙ্গ আর নিঃসংঘ ও
অসহায় উঠছে দিনদিন ।

আমার চোখর সামনে শহরের সবচেয়ে রূপসী মেয়েটি
প্রথমে অভিনেত্রী, তারপর রক্ষিতা, অবশেষে
বিখ্যাত পতিতা হয়ে উঠলো ।

এক দশকে যেতে- না যেতেই আমি দেখলাম
বাঙলার দিকে দিকে একদা মাথা- ছোঁয়া মুক্তিযোদ্ধারা
কী চমৎকার হয়ে উঠলো রাজাকার ।
আর আমার চোখের সামনেই রক্তের দাগ - লাগা সবুজ রঙের
বাংলাদেশ দিন দিন হয়ে উঠলো বাংলাস্তান ।"

---- হুমায়ুন আজাদ


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:26 Aug 2018 -- 08:15 AM

ফুলবাড়ি বিদ্রোহের নেপথ্য কথা নিয়ে হরিদাস পালে দু পয়সা দান করলাম।

অমনি নীল খাম নোটিশ করলো, "মতামত দিয়েছেন ১ জন!"

বাহ, বেশ তো! 💕


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:21 Sep 2018 -- 08:59 PM

আমার জন্মের সময় বাবা নকশাল বাড়ি কৃষক বিদ্রোহ করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন, তার জেল হয়েছিল। সেখানে তাকে প্রচুর টর্চার করা হয়। সে সময় তার টিবি হয়েছিল।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাবা জেল থেকে ছাড়া পান। সে সময় তিনি অনেক ভুগেছেন। হয়তো মরেই যেতেন, এমন দশা। পরে মার কাছে সেই গল্প শুনেছি।

অভাবের সংসারে বাবার অষুধপত্র, দুধ, ডিম, মাখন, ফলমূল ইত্যাদি পুষ্টি যোগাতে মাকে খুব হেনস্থা হতে হয়েছিল। আমরা ছোট ছোট পাঁচজন ভাইবোন।

সেই সময় মা নিজের সব গহনা বিক্রি করে খরচ জুগিয়েছেন। যুদ্ধের বাজারে তেমন দামও পাননি।

আরো পরে সাদাকালো ছবিতে মার সে সব পুরনো নকশার ভাড়ি ভাড়ি গহনা দেখেছি, যেন সুচিত্রা সেন!

আমার মা সারাজীবনে আর কখনও গহনা কিনতে পারেন নি।
ছেলেমেয়েদের বিয়েতেও কোন গহনা দিতে পারেননি। আহারে রেডিও অফিসের আপার ক্লার্ক মা জননী, আমার চির দুখী মা!

গহনা হারানো নিয়ে তার দুঃখের যেন সীমা ছিল না; বংশ পরম্পরায় পাওয়া সব গহনা। দেখ, "ছিল না" ই লিখলাম। কারণ মা এখন আর থেকেও যেন নেই, বছর দুয়েক হল পুরোপুরি স্মৃতিভ্রষ্ট, আলঝাইমার্স! 💔


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.74 (*)          Date:21 Sep 2018 -- 11:23 PM

"ভাবের বন্ধু চলে গেল
বাজার বলে টাটা লো টাটা
অখন আমি আগুড়কুনে
করি কাঁদাকাটা

কত ভাবব লো ধন
কত কাঁদব লো ধন

ভাবের বন্ধু চলে গেল
করি কি এখন..."

সান্তালদের করম পরবের গান।।


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.75 (*)          Date:13 Dec 2018 -- 09:38 PM

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ইলেকশন, অভাগা দেশে কোটি (০০) টাকার খেলা।

জানুয়ারিতে নতুন সরকার ( হাসিনা, পাওয়ার্ড় বাই সিয়াইএ+র) গঠন, রাজায় কইছে ইয়ের ভাই...

ফেব্রুয়ারির পহেলা কলকাতা বইমেলা (আসলে গুরুর স্টল) দেখতে আসতেছি।

২০০৩ সালে সর্বশেষ আসছিলাম, জিএমজি এয়ারের ফাস্ট ফ্লাইটে, দুইদিনের মামলা।

কলকাতার তেমন কিছুই ইয়াদ নাই, নন্দন, চ্যাপলিন সিনেমা, নিজাম, নিউমার্কেট, কফি হাউস আর লিন্ডেসে স্ট্রিট ছাড়া।

প্রেসক্লাবে একটু ক্ষণ দেখা, টিনের বাংলো, গেঁজেল সাংবাদিকদের ভীড়ে ডারাইছি গো!
লাল সুতার পাতার বিড়িতে আরাম পাইছিলাম। ত্রিশ বচ্ছর টানার পর তামুক ছাড়ছি, আমাদের পাহাড়ে "দাবা" কয়।


এখন কইলকাতা+ রায়গঞ্জ (উ.দিনাজপুর, অংকন, আদিবাসী এক্টিভিস্ট, বন্ধু) ৩+৪ মোট সাতদিনের থাকা খাওয়া/ আন্তঃজেলা+ রাজ্য পরিবহন খরচ কতো হইতে পারে?




Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.75 (*)          Date:13 Dec 2018 -- 09:43 PM

দুস্থ সাংবাদিক, পান্তা+ নুন দুইই বাড়ন্ত 😥

@Rukhsana Kajol আপারে কইয়া লাভ নাই, তিনি সেলিব্রিটি, এসি, ফ্যানের অভাব নাই।


আপারে কল দিসিলাম, অল্প টেকায় ইন্ডিয়া ভ্রমণের তরিকা জানতে, ম্যাডাম হাই ইস্কুলের (এইখানে কলেজ) ছাত্রীদের নিয়া দেয়াল পত্রিকা লিখতেসেন, টপ রাজাকারের তালিকা দিয়া তবেই উদ্ধার 😝😝😝

@Rukhsana Kajol আপারে দোষাই, সকাল বিকাল ইন্ডিয়া যান, আড়শি নগরের পড়শির খবর নিলেন না!


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 340112.231.126712.75 (*)          Date:13 Dec 2018 -- 09:45 PM

এই ইমো অনিবার্য নাকি?

🙊🙉🙈


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 340112.231.126712.75 (*)          Date:04 Mar 2019 -- 06:43 AM

ব্লগ একসিস হারিয়েছি। গুরুকে ইমেল করেও জবাব পাইনি। ব্লগ একসিসও নাই। কি নাকি টেকনিক্যাল সমস্যা।

সম্প্রতি কলকাতা বইমেলা সফর নিয়ে গুরুচন্ডালীর জন্য একটি ব্লগনোট লিখেছিলাম। সেটি আপাতত এই খোপে রেখে যাই।

নিবেদন ইতি।



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 340112.231.126712.75 (*)          Date:04 Mar 2019 -- 06:54 AM

হৃদয়ের শব্দহীন জোৎস্নার ভিতর
--বিপ্লব রহমান--

*এ কেমন রঙ্গযাদু?*

ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্ক শপিং মলের আন্ডারগাউন্ডে গিজগিজে মানুষ। ইন্ডিয়ার ভিসা প্রার্থীদের দীর্ঘতর লাইন। হাতে হাতে সবুজ পাসপোর্ট। লাইনে নানা বয়সী পুরুষেরাই শুধু। মেয়েরা এখানে সংখ্যালঘু, তাদের লাইন নাই। মেডিকেল ভিসা প্রার্থীদের আবার আলাদা খাতির। মোডে মোডে ওয়াকিটকি হাতে নিরাপত্তা রক্ষী। ব্যাগ ভেতরে যাবে না, ব্যাগ জমা দিয়ে টোকেন নিন‍ – নির্দেশ তাদের। বিশাল হল রুমে গোটা চল্লিশেক ডেস্ক। ওপাশে পেশাদার তরুণ-তরুণী। ভিসার ধরণ বুঝে টোকেন নিয়ে পাসপোর্ট জমা। স্লিপ হাতে নিতে না নিতেই মোবাইলে টেক্সট-- ভারত সরকারের ভিসা প্রক্রিয়াধীন, অপেক্ষা করিতে হইবে – ইত্যাদি।

সবখানে সুশৃংখল পেশাদারী হালচাল। আগের সেই বিস্তর ভোগান্তি আর নাই। দালালদের উৎপাত তো নাইই। এসি ফ্লোরের মোড়ে মোড়ে প্যাটিস-চা-কফির দোকান। স্ন্যাক্স খান, লাইন দিন, ভিসা নিন, ইন্ডিয়া যান-ভাবখানা এমন।

প্রতিদিন নাকি এইরকম ম্যালা লোকের মেলা বসে ইন্ডিয়া ভিসা অফিসে। সকাল ৯টা থেকে ৩টা আবেদন গ্রহণ। ভিসা প্রদান বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। এতো মানুষ ইন্ডিয়ায় যায় কেনো? জনে জনে জিজ্ঞাসা, ভাই কেনো যাইতেছেন? আপনাদেরও কী উঠলো বাই, তো বইমেলা যাই?

উবার মোটো (মোটরসাইকেল) ডেকে ঘন্টা খানেকের ভেতর আবার কর্মস্থল দেশটিভি। নিউজ বুলেটিনের ফাঁকে ফাঁকে ইন্ডিয়া ফেরৎ সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়। যেন দুরু দুরু বক্ষ, কাঁপে তাহার হিয়া। ভিসা দিবো তো? মোদি সরকার নাকি সাংবাদিক ডরায়? তায় নয়া পাসপোর্ট। আগের হাতের লেখা পাসপোর্ট বাতিল হইছে, তাই। নইলে কইলকাতা দুই-চাইরবার, আর ত্রিপুরা দুইবার দেখা হইছে। সেই সব সিল-ছাপ্পর থাকলে দেখানো যাইতো।

নিজস্ব ভিসা কনসাল্টেন্ট রতন সরকারকে ফোন, মামা, ভিসা পামু তো?

-ভিসা তো দিবোই মামা। সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসা একবছর দেয়। কিন্তু আপ্নেরে ১০-১৫ দিন, কি ছয় মাস দিতে পারে। পাসপোর্ট-ভিসা আবেদনে সাংবাদিক লেখা ঠিক হয় নাই।

না, মামা, এইটা ঠিক কও নাই। পেশা লুকানো যাইবো না। ধরা পড়লে আর কোনোদিন ইন্ডিয়া ঢুকতেই দিব না। সাংবাদিক আইন মাইনা চইলবো, এইটা সাংবাদিকতার এক নম্বর শর্ত। ...
দুইদিন পর পর ওয়েব সাইটে টোকাটুকি, ভিসা কি হইলো? হয় না কেরে! অন্যরা ভিসা পাইছে সাতদিনে। চণ্ডালরে ঘুরাইতেছে ক্যা? রুখসানা কাজল আপারে ফোন। আপা বলেন, আরে ধৈর্য ধরুন, বাচ্চাদের মতো করলে হয়? জানান, তারও ফেব্রুয়ারির পহেলাতেই কলকাতা নিমন্ত্রণ আছে। তারও ভিসা চাই। দেখা যাক, দুই চণ্ডাল এক সঙ্গে যাওয়া যায় কি না?

মেসেঞ্জারে জনে জনে উত্তেজনা ছড়ানো। কইলকাতা বইম্যালায় গুরুর স্টল দেখতে আইতেছি। প্যাঁচার কালা গেঞ্জি গিফট চাই। পাইদিদি আর বিনায়ক রকুর সঙ্গে সেল্ফি তুলুম। সৈকতদার গিটার না শুইনা যামু না। হি হি হি...

দু্ই সপ্তাহ পর প্রত্যুষে মোবাইলে টেস্কট, মান্যবর, আপনার ভিসা হইয়াছে, জলদি আসুন, খোদ ভারত সরকার আপনাকে ভিসা দিতে অপেক্ষায় – এইরকম।

ওই সকালেই অফিস ছুটি নিয়ে পাসপোর্ট-ভিসা সংগ্রহ। ছয় মাসের ভিসা দিয়ে আশোক স্তম্ভ সবুজ কালিতে লিখেছে – কেবলই বেড়াইবার জন্য, পেশাগত বা সাংবাদিকতার জন্য প্রযোজ্য নহে! বোঝ কাণ্ড!

অনলাইন পাঠ অভিজ্ঞতা বলছে, মাসখানেক আগে ধর্ণা না দিলে ট্রেনের আপ-ডাউন টিকিট মিলবে না, তাই। ব্যাংক থেকে জমানো ব্যাঙের আধুলি তুলে ডলার এন্ডোর্সমেন্ট। যানজট ধুলোর মহানগরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটোছুটিতে উবার মটোই ভরসা। এখন চালক-আরহী দুজনেরই হেলমেট আবশ্যক। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কিশোর বিদ্রোহের পর ট্রাফিক পুলিশও খুব কড়া। পান খেকে চুন খসলেই জরিমানা।

পরদিন সাত সকালে অফিস ডিউটির আগেই কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ধর্ণা। টিকিট কাউন্টার খোলার আগেই সেখানে ছোটখাট লাইন। কেউ ফিরবেন বলে টিকিট চান। কেউ ভ্রমণের তারিখ বদলাবেন। কারো আবার নতুন টিকিট চাই। কাউন্টারের ওপারে রেলের লোককে অবিরাম ‍“ভাইয়া, ভাইয়া“ সম্বোধন বুঝিয়ে দেয়, তারা কলকাতার মানুষ। নইলে ঢাকায় আ-প্রত্যয় বাহুল্য, শুধু ভাইই যথেষ্ট। অধমের পালা এলে জানা যায়, কাংখিত ১ ফেব্রুয়ারির আপ ট্রেন আছে, তবে ৬ ফেব্রুয়ারির ডাউন ট্রেনের টিকিট নাই।

তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, একযাত্রায় পৃথক ফল হবে কেন? বরং বাসেই হোক আসা-যাওয়া। ঢাকা-কক্সবাজার গ্রিন লাইনে লাগে ১৩-১৪ ঘন্টা। যানজটসহ ঢাকা-কলকাতাও তাই। রুখসানা আপার পরামর্শই তাই। তাছাড়া বাস ছাড়বে বাসার কাছ থেকেই।

কলকাতায় শীত কেমন? আর বোলপুর, শান্তিনিকেতনে? মেসেঞ্জারে প্রতিভাদি বলেন, কলকাতায় শীত প্রায় নেই। বোলপুরে ভালই ঠাণ্ডা এ সময়। কল্লোল দা বলেন, আমার তো একটি জ্যাকেটেই কাজ চলে যায়। পাইদি বলেন, আমি বলবো খুব শীত! কলকাতা কনসাল্টেন্ট তাপস দা হোয়াটস এপে বলেন, ধুর! শীত কোথায়?

এরই মধ্যে এক শুভাকাঙ্খী, শান্তিনিকেতনে গেস্ট হাউজ বুকিং করে দেন, দুদিন। মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত, চণ্ডালের দৌড় তেমন কলকাতা নিউ মার্কেট, সদর স্ট্রিট, সলভেশন আর্মি রেড শিল্ড গেস্ট হাউজ। গুগল মামা জানায়, বছর দশেক আগে কলকাতা সফরকালীন নিবাস গেস্ট হাউজটি সগর্বে এখনো বিদ্যমান। ক্যাথলিক ক্রিস্টান পরিচালিত গেস্ট হাইজটি আগের মতোই ঝকঝকে। শুধু নাম কাটছাঁট করে এখন -- রেড শিল্ড গেস্ট হাউজ। তখনই টেলিফোনে ডরমেটরিতে সহজেই বুকিং হয়ে যায়। বিকল্প হিসেবে পার্ক স্ট্রিটে আরেকজন আছে। পারমিতা দিদি, আরো দু-একজন দেন সৎ পরামর্শ। রুখসানা আপার শিডিউলের সঙ্গে মেলে না কিছুতেই। অগত্যা একলা চলো রে...।

*ফেব্রুয়ারি ইন যশোর রোড*

১ ফেব্রুয়ারি ঘড়ি ধরে রাত ১০টা ১০ এ কলাবাগান থেকে গ্রিন লাইনের সরাসরি বাস ছাড়ে। ভলবো বাসগুলোর সিট বেশ আরামদায়ক। আয়েশ করে পা ছড়িয়ে বসা যায়। ভাড়ি হ্যাভারশেক লকার বন্দি। সঙ্গে পাসপোর্ট-টিকিট ইত্যাদি বহনের জন্য ছোট একটি সাইড ব্যাগ মাত্র। দেশজুড়ে অসংখ্য বাস- মিনিবাস-ট্রেন ভ্রমণে এখনো ক্লান্তিহীন। সহযাত্রীদের অনেকেই ঘুমের আয়োজনে, বাকীরা ঘুমে ঢুলু ঢুলু। মোবাইল ফোন খুলে ইবুকে সন্দীপনের গল্পসমগ্র-১ পাঠ। কুইনি, টেলিফোন, ড. রণবীর পোদ্দারের আমেরিকা আবিস্কার, মাঝে মাঝে কার কাছে যাব, তৃতীয় চক্ষু, হৃদয়ের শব্দহীন জোৎস্নার ভিতর...ইত্যাদি। কিছু উপন্যাস অবশ্য আগেই পড়া। আর গুরুতে জানা গেছে-- সন্দীপনী করো না!

রাত্রি গভীর থেকে গভীরতর হয়। মাওয়া ফেরি পেরিয়ে ফরিদপুরে যাত্রা বিরতি। আবার বাস এগিয়ে চলে। রাত সাবধান!...

ভোরে যশোর বেনাপোল বর্ডারে বাস দাঁড়ালে রেঁস্তোরায় জলখাবার। কাস্টমস-ইমিগ্রশন অফিস খোলার অপেক্ষা। সকাল ৭টায় পেরুনো গেল এপার। ওপারে ইমিগ্রেশন অফিসার পাসপোর্ট-ভিসা দেখে ছবির সঙ্গে মুখোচ্ছবি মেলান খুঁটিয়ে। ডেস্কের খুপরি থেকে বেরিয়ে “ওয়েট প্লিজ“ বলে পাসপোর্ট নিয়ে উধাও। মিনিট পেরুতে থাকে। সহযাত্রীরা যার যার মতো সীমানা পেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর এক সৈনিক এসে নিয়ে যান সুপরিসর কক্ষে। “চিফ ইমিগ্রেশন অফিসার“ বোর্ড লাগানো দেখে মনে মনে- হালারপুত কী যাইতে দিব না? তাইলে এতো নাটক কইরা ভিসা দিলা ক্যা?...

নাম বিস্তৃত অফিসারটি অমায়িক, বাঙালি। দুকাপ চায়ের অর্ডার দিয়ে বলেন, আপনি সাংবাদিক দেখে মতামত নিতে ডাকলাম। বলুন, কেমন দেখলেন সব? কোনো যাত্রী হয়রানী?

মনে পড়ে, ১৯৯২-৯৩ সালের দিকের প্রথম কলকাতা সফরে সীমান্ত পেরুনোর ভয়ংকর অভিজ্ঞাতা। দুইপারে কাস্টমস-ইমিগ্রেশন অফিস বলতে দুই-একটি টিনশেডের বাংলো। আর কেঁচো-কেল্লোর মতো কিলবিলে ঘুষখোর-বদমাশ কাস্টমস-ইমিগ্রেশন-দালাল-টাউট-কুলি। প্রতি পদে পদে ধাপ্পাবাজি, ঘাটে ঘাটে টাকা আদায়। খাঁ খাঁ রোদ্দুরে শত শত আম জনতার সীমানা পেরুনোর অশেষ ভোগান্তি। সে তুলনাই সীমান্ত এখন অনেক পরিচ্ছন্ন। টাউট-দালাল-হয়রানী নাই, দুপারেই। অবশ্য লুঙ্গি পরা লোকজন পেলে কেমন আচরণ হয়, সেটি অজানা! হা হা হা ...

ইমিগ্রেশন পেরিয়ে ওপারে যেতেই উদ্বিগ্ন বাস চালক-সুপারভাইজারের শুকনো মুখ, আপনার এতো দেরি? আমরা ভাবলাম, আপনাকে বোধহয় আটকে দিয়েছে!

সাংবাদিক দেখে চা খেতে ডেকেছিলেন – শুনে তারা হাঁফ ছাড়েন।

বাস এগিয়ে চলে ১৯৭১ এর সেই যশোর রোড ধরে। এলেন্স গিনসবার্গের সেপ্টেম্বর ইন যশোর রোড, মৌসুমী ভৌমিকের গানে এখনো দৃশ্যমান। ১৯৯৯ সালের আরকে টুকরো স্মৃতি হানা দেয়, শ্যামলী পরিবহনের প্রথম ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিসের প্রথম ট্রায়াল রান। এনালগ থেকে ডিজাটাল যুগে উত্তোরণের কালে ওই ট্রিপে সাংবাদিক টিমে অংশগ্রহণ।

এপারে বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা চিত্রিত শ্যামলীর এসি বাস যখন ধীর গতিতে ওপারে (সেখানেও যশোর রোড, যশোর জেলা, কি আয়রনি!) পেট্রাপোল পৌছায়, তখন বিস্ময়ে পুরো বাস যাত্রীরা হতবাক। শত শত গ্রামের মানুষ পথ আটকে বসে আছেন রাস্তায়, শুধু এক নজর বাসটিকে দেখবেন বলে।

নানা বয়সী নারী-পুরুষে, ছেলেমেয়েতে হুলুস্থুল। বাড়ির বউরা শাঁখ বাজান, উলু ধ্বণী দেন, ঢাক-ঢোল-কাঁসর বাজতেই থাকে। স্কুলের ছেলেমেয়েরা বাসটিকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। অসংখ্য মানুষ ঘিরে ধরেন বাসটিকে। আরো দূরের যারা, তারাও কাছে আসার জন্য ঠেলাঠেলি করেন!

টিম লিডারকে বলে অভুতপূর্ব এই দৃশ্যবন্দী করতে বাস থেকে লাফিয়ে নামা। অলিম্পাস অটো এসেলার ক্যামেরায় একের পর এক ছবি উঠতে থাকে। খালি পা, সাদা মলিন থানের এক বৃদ্ধা বাসটিকে ছুঁয়ে হাউমাউ করে কাঁদেন। ঠাকুমা, কাঁদছেন কেন? হট্টগোল ছাপিয়ে বুড়ির মুখের কাছে কান পেতে শোনা যায়, একটি কথাই বারংবার, বাংলাদ্যাশের বাস! আমাগো বাংলাদ্যাশের বাস!

এক নিমিষে উন্মোচিত হয় মহাসত্য। এই বিশাল জনস্রোত আসলে দেশ বিভাগের শিকার জনগোষ্ঠী। তারা এখনো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধারণ করেন ফেলে আসা পূর্ববংলা। আর দেশবিভাগের গোপন শেল বিঁধে থাকে পরানের গহীনে।

*চমৎকার! ধরা যাক দু-একটি মাউস এবার! *

বাই লাইনে বলা যাক, গুরুচণ্ডা৯র বর্ণ পরিচয়। ২০০৬-৭ সালের দিকে সামরান হুদা, ওরফে শ্যাজাদি আর সুমেরু দা "কারুবাসনা" নামে এপারে দু-একটি সাইটে ব্লগিং করেন। তখন ব্লগ বারান্দায় পরিচয়, পরে ফেসবুক হয়ে বাস্তবে। তারাই গুরুর কথা প্রথমে বলেন। শুরুর দিকেই শুধুই লেখা পাঠ। মতামত, টই, বুলবুল ভাজা – সব কিছু প্রায় দুর্বোধ্য, বিষয়বস্তু অনেকটাই অচেনা। তায় বেশীরভাগই অজ্ঞাতনামা লেখক-পাঠক। তবু আস্তে আস্তে আলোচনা, টই, ভাট, বুবুভাতে ঢুকে যাওয়া। তখনো লগিন পদ্ধতি হয় নাই। হরিদাস পালও আসেন নাই। তবু সব সময় পুরো নাম, ইমেইল দিয়ে সবখানে দাঁত ফোটানোর আপ্রাণ চেষ্টা।

এই ইমেইলের সূত্রে একদা পাইদি, সৈকত দার ইমেল, গুরুতে লেখার নিমন্ত্রণ। ২০০৫ সাল থেকে বিডিনিউজে কাজ করা। আর ২০০৬ সাল থেকে বাংলা ব্লগিং। অনলাইনে লেখালেখির বাতিক থাকেই। এপারে তখন ব্লগ থেকে ব্লগে খুব অস্থিরতা। দলবাজি আর ভণ্ডায়তনের কেন্দ্র কারুবাসনা তোপ দাগান, ওইপারে থুতু টলমল। মুক্তমনা তখনো ব্লগ সাইট হয়নি, কেবলই অনলাইনপত্র মাত্র।

তাই লেখার নতুন মঞ্চ পেয়ে আঠা দিয়ে সেঁটে থাকা। শম্বুক গতির ইন্টারনেটই ভরসা। তখনো মোবাইল ভার্সন নাই। টু-জি ফোনে চোখের মাথা খেয়ে কখনো সাইট পড়া যায়। কখনো আবার তাও যায় না। বাংলাদেশের সমসাময়িক ঘটনা, আদিবাসী প্রসংগ নিয়ে লেখার চেষ্টা। এপারের কিছু কিছু লেখাপত্র প্রকাশের জন্য তাগাদা। কিছু কিছু লেখা সম্পাদনা করাও চলে। সব কিছুই হয়ে ওঠে খুব আনন্দময়। সে সময় একদিন পাইদির ফোন! উনি বোধহয় তখন বিদেশে। মানে ইন্ডিয়াও বিদেশ, কিন্তু আরো দূরের বিদেশে হয়তো! সেদিন বুঝি খুশীতে অনেকটা বাকবাকুম।

তারপর মুক্তমনা ব্লগ হলো, গুরুতেই হলো ব্লগ। হু হু বাবা, এ হলো ক্ষমতাহীনের মিডিয়া, ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়! হরিদাস পালও দু পয়সা দান করার হিম্মত রাখে!

এদিকে কলি বাস যাত্রা বিরতিতে কেনা গেছে এয়ারটেল ভারতীয় সিম। একমাসের আন লিমিটেড টক টাইম, আন লিমিটেড নেট, এইসব হাবিজাবি প্যাক। পথেই মেসেঞ্জারে জানা যায়, সৈকতদা কাজে আটকে গেছেন, বইমেলায় আসতে পারছেন না। প্রতীভা দি দুঃখ প্রকাশ করেন, তিনি কলকাতার বাইরে। বিনায়ক রুকুর স্পেশাল মম সুমন জানান, বুধবারের আগে তার সময় নাই। কি আর করা? না হয় পরের বার!

হোয়াটস এপে বার বার ফোন, টেক্সটে খবর নেন, তাপস দা, কলেজ স্ট্রিটের বন্ধু, গুরুচণ্ডা৯র পাঠক সুকান্ত। এখন কতদূর? বইমেলায় কখন? বিএড কোর্সের ছাত্র সুকান্ত পায়ের নখ উল্টে পড়ে আছেন। তাই চণ্ডালকেই যেতে হয় তার কাছে। পথেই এপারেরে উবার এপ (কলতায় অবশ্য- উবের) ফেলে দিয়ে ওপারের উবার এপ নতুন করে নেওয়া। দীর্ঘ রাতযাত্রায়, জাগরণে ক্লান্ত-বিদ্ধস্ত। দুপুর নাগাদ ডরমেটরিতে পৌঁছে বাথরুমে গরম পানির ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট। স্নানাহার সেরে তখনই উবার ডেকে বইমেলা হানা। শেয়ারের ট্যাক্সি এপে চলে দেখে খানিকটা বিস্ময়।

এক দশকে বেশ আধুনিক কলকাতা। অনেক উড়াল পথ। হলুদ ট্যাক্সি আর অটোর দেখা পাওয়া মুশকিল। জাপান-ভারত যৌথ প্রযোজনার প্রচুর ঝাঁ চকচকে গাড়ি। শহর অনেক পরিছন্ন। রাস্তার পাশে প্রচুর খাবারের দোকান; হরেক রকমের রোলের ছড়াছড়ি। গাড়িঘোড়ামানুষে পুরো শহরই যেন ঢাকার গুলিস্তান। মোড়ে মোড়ে হীরক রাণীর সচিত্র বাণী ঢাকার মতোই।

আগেই পণ ছিল, ভাষার মাসে সর্বত্রই বাংলা, ইংরেজী পারত পক্ষে নয়। হিন্দীভাষী হোটেল রিসেপশনিস্ট, রুম সার্ভিস, রেঁস্তোরা বয়, উবার ড্রাইভার, পুলিশ – সবাই বেশ বাংলা বোঝেন; তাইলে ইংরাজী কমু ক্যান?

*পাইদিদি সকাশে*

৬ নম্বর গেট দিয়ে এলে সোজা, ৯ নম্বর গেট দিয়ে এলেও সোজা, লিটিল ম্যাগ চত্বরের পাশে, ২৯৩ নম্বর গুরুর স্টল -- ইত্যাদি জপ করতে করতে সল্ট লেক সেন্ট্রাল পার্কে পৌঁছে হতচকিত। এ যেন ঢাকার বাণিজ্য মেলা! এতো বিশাল, এতো ভীড়, এতো স্টল, এতো পুলিশ, এতো আলো! অমর একুশের বইমেলার ফুরফুরে মেজাজ বা চরিত্র, কোনোটাই নাই – এক অগুনতি বইয়ের স্টল ছাড়া। তাও বিদেশী বইয়ের ছড়াছড়ি। ধুতি-পাঞ্জাবি, শাড়ি-চাদরে ষোলআনা বাঙালিআনা যেমন আছে, তেমনি হ্যাট-কোট, জিন্স-শার্ট পরা ঠাকুমাও কম নেই। মেশিনের চা, মেশিনের কফি, প্যাকেটজাত পানি মোড়ে। মঞ্চে বাউল গান, ইন্সুরেন্স কোং-এর স্টল ঘিরে কুইজের ভীড়, গিটারে দলছুট, মন্থর মিছিলে ম্যান্ডোলিন। তবে অনেকের হাতেই আছে বইয়ের প্যাকেট।

হোঁচট বা খাবি খেতে খেতে পৌনে এক ঘন্টা ম্যালা মচ্ছবের ছবি তোলা। গুরু, কিন্তু গুরুগম্ভীর নয় – শ্লোগানের উল্টোপাল্টা প্রতিষ্ঠানে অচেনা মানুষজনের ভীড়। ক্যাশ কাউন্টারে পারমিতা দিকে সনাক্তের পর পরিচয় দিতে তারও সহাস্য অভিবাদন। পরিচয় হয় রৌহিন দা, মারিয়া কোয়েল, একাদশের ছাত্র অরূপ এবং চিরতরুণ শেখর দার সাথে। শেখর দার প্রথম কথাই এরকম, প্যাঁচা গেঞ্জি দিতে পারছি না বলে দুঃখিত। আসলে একজনকে কয়েকটি গেঞ্জি বাংলাদেশে পৌঁছে দিতে বলা হয়েছিল। তিনি তা করেননি, পরে গেঞ্জিগুলোও উদ্ধার করা যায়নি।...

মেলা এক চক্কর ঘুরে আসেন তাপস দা। সবাই হৈ হৈ করে মেশিনের কফি খাওয়া হয়। কেউ পাইদির নামে এক বাক্স চাউমিন নিয়ে আসেন। কিন্তু প্রচার হলো- পাইদির (সম্ভবত দিল্লী) ফ্লাইট বিলম্বিত, তিনি সেদিন আসছেন না। শুনে কি একটু মন খারপ হয়? এদিকে পাইদির চাউমিন হাতে হাতে ঘুরতে ঘুরতে হাপিস।

খানিকটা বিরতি নিয়ে মেলার ভেতর এলোমেলো পরিভ্রমণ। গুরু স্টলের সীমানায় নীচু প্রাচীরে বসে গান করে একদল ছেলেমেয়ে। গিটার বাজান মাঝ বয়সী, গোল গলার গেঞ্জির, মাঝখানে সিঁথির এলোমেলো চুলের একজন। আপনি সৈকত দা? খপ করে ধরে ফেলা যায় তার কবজি। ভ্যাবাচ্যাকা দঙ্গল উঠে দাঁড়ায়। গিটারিস্টের বিচ্ছিরি কর্কশ কণ্ঠ ও মৃদূ ভুড়ির আভাসে ভাঙে ভ্রম।

ইয়ে, শেষে খাপ থেকে বের হয় ব্রহ্মাস্ত্র। কলি ছেড়ে পুরাই ঢাকার সদরঘাট। প্রচুর সরি-টরি কইয়া নিস্তার লাভ। দাদা, বাংলাদ্যাশ থিকা পৌনে দুই ট্যাকার সাংবাদিক আইছে। ক্যাবলাকান্ত হাসির লোক্টারে দ্যাখছেন? ইত্যাদি।

নাহ, এসব নিছকই দিবাস্বপ্ন। বাস্তবে এমন হলেও হতে পারতো, তবে হয় নাই। অবশ্য ওইরকম গানের দল, আর এলোমেলো চুলের দলনেতাকে দেখে এক সেকেন্ডের জন্য ব্যাটাকে সৈকত দাই মনে হয়েছিল।

দেড়দিন শান্তিনিকেতন ঘুরে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে আবার গুরুর স্টলে হানা (অফটপিকে: শান্তিনিকেতনে আসলে অন্তত দিনদশেক ঘোরা চাই। ঝটিকা সফরে দেখা হয় নাই তেমন কিছুই। তাই ওই পর্ব আপাতত উহ্য। শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, রবীন্দ্রনাথের হ্যান্ডল পেন, সিঁধু-কানহুর সাথে সেলফি ও ফুলডাঙার মোহন মুর্মূর অসুর পূজার পর্ব পরে হয়তো)।

দ্বিতীয় পর্বে মেলার মচ্ছব অনেকটাই সরগড়। গুরুর স্টলে প্রথমেই চোখে পড়ে ব্যস্ত-সমস্ত পাইদিকে। লাল শাড়ির আঁচলে ধ্যানী প্যাঁচাসমূহ সার দিয়ে উপবিষ্ট, যেন একেকজন তথাগত। তিনিই হাত বাড়িয়ে দেন, আরি ব্বাস! দেখা হলো তাহলে! হুম, বছর দশেক পর, তাই না? পাইদি এখন ভার্চুয়াল থেকে একচুয়াল! হাসতে হাসতে চোখের কোন কি ভিজে উঠলো? মনে কি পড়লো অহেতুক অভিজিৎ রায়? নিঃশঙ্ক চিত্তের চেয়ে জীবনে বড় কিছু নাই।...

একে একে আরো গুরুভ্রাতা ও ভগ্নিগণের আগমন। প্রচুর হাসিগান, খুচরো আড্ডা। ছবি, সেল্ফিবাজী, ভিডিওগ্রাফি। পাইদির সঙ্গে টুকরো আলাপচারিতার ভেতরেই হুটহাট করে ঢুকে পড়েন অনেকে। প্রচুর গুরুভক্ত ও গুরু পাঠক ঘিরে ধরেন তাকে। পাইদি জনে জনে পরিচয় করিয়ে দেন, উনি অমুক হন বাংলাদেশের বিরাট তালেবর, ইত্যাদি। দুজন ছাত্রকে মোবাইল খুলে গুরুর সাইট দেখান, লিখতে উৎসাহ দেন।

পরে রাত ৮টায় মেলার ঝাঁপ নামলে একে একে বিদায়। কলেজ স্ট্রিটের বন্ধু সুকান্তর ডিনার উইথ ম্যাজিক মোমেন্টের নিমন্ত্রণ রক্ষার তাড়া। পরদিন ভোরে আবার ঢাকার বাস। সেই চেনা পাষানপুরীতে কলম পেষা, নিউজ ক্লার্ক!

এই দেশেতে এই সুখ হইলো, আবার কোথায় যাই না জানি।...




Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 340112.231.126712.75 (*)          Date:04 Mar 2019 -- 07:07 AM

লেখাটি মুক্তমনাতে দিয়েছি।

https://blog.mukto-mona.com/2019/03/02/54592/


Name:  কান্তবাবু           

IP Address : 342323.186.893412.239 (*)          Date:04 Mar 2019 -- 07:34 PM

সন্ধ্যে হলো যেরকম হয়ে থাকে অনুষ্ঠানহীন
শালের ফলেরা পড়ে পথে, রাতের ফুলেরা কায়ক্লেশ
বড় বড় ট্রাকগাড়ি রাস্তা দাপিয়ে চলে
চালকেরা কেমন উদাস বোঝা যায়না বাইরে থেকে
খালাসীরা কি গান শুনেছে রেডিওতে
অথবা মত্লব ভাঁজে রাতের সড়কে ক্ষনিকের;
সড়কের ধারে ধারে সন্ধ্যে নামে জ্বলে ওঠে
ঝুপড়িতে কুপি, ধাবার তন্দুর, লাইন হোটেলের
ছোকরা চাকর চলে পা টেনে যেমন সন্ধ্যা নামে
আয়োজনহীন যেন এক টানে সময়ের খাঁজে ফাঁসা
মুহূর্ত চিবানো বাতিল
শহরে লোকেরা গুটি গুটি আপিসে কাছারি গেটে
যুবকের বিক্রী না হওয়া ক্রেডিট কার্ড ধুলো পড়া
অভিধান কাগজে পকেটে খুচরো ভাঁজ
কি হতো কি হলে লেখাজোকা।
পথে পথে ধুলোরা থিতিয়ে পড়ে রং লাগে
পরতে পরতে, যারা দেখে তারা
একদল। এইভাবে দেখা যায় মানবের দুই জাতি
যাদের সন্ধ্যেবেলা চোখে পড়ে মেঘেদের রং,
সন্ধ্যার রাগ, ঠিনঠিন পেয়ালার নিক্কন কানে আসে
এবং যাদের কাছে তেমনি আপদ যেমন সকালগুলি,
রাত্রি বা দুপুর, গোধুলি; যেমন
সাদা কাগজের গায়ে কালির ছিটেটি দেখে যারা দেখে
মেঘ ফুল মাছ প্রজাপতি আর যারা দেখে কাগজে
ধেবড়ে যাওয়া কালির আপদ।


Name:  কান্তবাবু          

IP Address : 342323.186.893412.239 (*)          Date:05 Mar 2019 -- 09:37 PM

গলায় যেন আটকে থাকে খাবার দাবার
তামাক পোড়া ঝিল্লীগুলি খকখকিয়ে
খোঁচার ব্যথায় গুণতে বসা বুকের কোথায়
যন্ত্রপাতি আসল জিনিস গভীর কত
কোন দরোজা কিসের ফাঁদে কেস খেয়েছে
টাটকা সবুজ ঘাসের মেজাজ বিষম তেজী
ধুমকি মাতাল কিন্তু নাড়ি টনটনে জ্ঞান
আটকে থাকে যেমন অনেক প্রাচীন খাতা
দেরাজ ঘেঁটে হস্তলিপি দড়াম করে
আটকে থাকে সালতামামির হিসাব কিতাব
দশক ভেঙে প্যালেট মেপে ইন্ফোগ্রাফিক
কদিন ছিল সঙ্গে এবং কবার দূরে
গরল ছিল কবের প্রেমে কবার বাতাস
দিচ্ছিল ঠিক লেক বাজারের কোনাচ ঘেঁষে।

এসব কি আর সেই যে কে গায় বেদম গীতি
একটি দুটি পাংক্চুয়েশন জায়গা মতন

গলায় যেন আটকে থাকে কমবয়সের
কষ্টগুলি, প্রাচীন হলে যেমন ফুটো
পয়সা যেমন প্রাচীন লোকের বাক্সে থাকে
যেমন করে আটকে থাকে বকম বকম

ফ্ল্যাটের খাঁজে পায়রা যেন বংশগত।

দশক ভেঙে শতক জুড়ে ত্রৈরাশিকের
হিসেব মতন ধাঁ করে দাও পদ্য লিখে
যে পদ্যটা গলার খাঁজে আটকে থাকে
যে পদ্যটা মধ্যরাতে আপদ বালাই।

যে পদ্যটা ছবির বইয়ের এক ফোঁটা জল
কিংবা ধুলো কিংবা ছেঁড়া যে পাতাটা
ডাইরিতে নেই; যে পদ্যটা আটকে থাকে বিকেলবেলা
নছোড়বান্দা বুকের গভীর তামাকপোড়া।


Name:  .          

IP Address : 238912.73.563423.51 (*)          Date:06 Mar 2019 -- 11:53 PM

সে নিশ্চয় এত দিনে আমাকে ভুলে গেছে, আমি তো পারছি না,


Name:  aranya          

IP Address : 3478.160.342312.238 (*)          Date:07 Mar 2019 -- 06:45 AM

বিপ্লবের কলিকাতা ভ্রমণ পাঠে খুবই আনন্দ লাভ করিলাম এবং লাইভ ভাটের আশায় রহিলাম :-)


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 9001212.30.5634.52 (*)          Date:07 Mar 2019 -- 02:09 PM

ধন্যবাদ অরণ্য। লাইভ ভাটের জন্য কোন সময়টা ভাল?



Name:  ~          

IP Address : 342323.186.0167.222 (*)          Date:07 Mar 2019 -- 05:38 PM

এমজাল টইয়ের গতিমুখ দেখে আমার মনে হয়, ঝোলাগুড় কিসে দেয়, সাবান না পটকা?


Name:  San          

IP Address : 015612.129.783423.147 (*)          Date:07 Mar 2019 -- 09:21 PM

নিবেদিতা লেন ধরে বহুদিন যাই না , তবু ভাবতাম একদিন নিশ্চই ফেরত যাব , আর গেলেই সব ঠিক আগের মত দেখব , সবাইকে হাসিমুখে ঃ(

এরকম অবাস্তব আশা কিকরে ছিল কেজানে !! কিন্তু ছিল -



Name:  dc          

IP Address : 127812.49.9006712.0 (*)          Date:07 Mar 2019 -- 11:39 PM

যাকলা এই টইটার এ কি অবস্থা হয়েছে? :d


Name:   বিপ্লব রহমান           

IP Address : 236712.158.566712.123 (*)          Date:21 Aug 2019 -- 08:56 PM

কি কাণ্ড! গুরুচণ্ডালী নাকি হ্যাক করার চেষ্টা হইছে! রীতিমতো চাড্ডি/ ছাগু বাহিনীর সাইবার এটাক! এত্তো বড় সাহস!!

হু হু বাবা, ঘুঘু দেখছো, ফাঁদ দেখ নাই।

আমরাও বর্ণ পরিচয়ের কিছুদিন পরেই ছয়টি সামরিক প্রবন্ধ পড়ছি। এই সব হাইকোর্ট দেখাও কারে? আঁ!? 😝


Name:  -)          

IP Address : 237812.68.124512.87 (*)          Date:25 Aug 2019 -- 04:34 AM

আচ্ছা, মোদির মা আর বৌ এক্সঙ্গে থাকেন্না কেনো? শচী আর বিষ্ণুপ্রিয়া তো একত্তরেই থাকতেন!

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19] [20] [21] [22]     এই পাতায় আছে621--651