আপনার মতামত         



রাজশ্রী চক্রবর্তী




টানেল

লম্বা গাছের মত জীবন
নীচে নদী আর বড় বড় নৌকোর ছবি
ক্যালেন্ডারের মতন দরকারি মানুষেরা বাজারের জন্য
                উদ্‌গ্রীব
থলে হাতে নিয়ে খুঁজছে আলুপটল
ভালবাসছে ছেলে-বৌকে
বৌ ভালবাসছে বাসনপত্তর গয়নাগাটি
কেবল তাদের ছেলেমেয়েগুলো পিছল জলে
                হাবুডুবু খাচ্ছে
বাপ মা তাদের বাঁচাতে না পেরে
                দার্শনিক হয়ে যাচ্ছে ...
যেন স্বয়ং বুদ্ধদেব
ডুবন্ত ছেলেমেয়েরা মাছের দেখা পাচ্ছে ...
দেখা পাচ্ছে কুমিরের
জল-অচল ভেদ করতে না পেরে হাঙরকেই বিশ্বাস করছে

জীবন একটা সরু টানেলের ছবি
একবার ঢুকলে বেরোনো যায় না
অন্ধকারে হাত পা ছুঁড়তে থাকা মানুশেরা চিৎকার করছে
ভাতের মাঝখানে ডাল-তরকারি মাখতে মাখতে
ওদের নিয়ে খুব মজা করছি আমরা

টেলিফোন

রাতের টেলিফোনে নিজেকে অনুবাদ করি
তুমি বাজি রেখে দান দাও ছক্কা পা¡র
উল্লাসে ফেটে পড়ে কিস্তিমাৎ
অপভ্রংশ লিটে নাও খুচরো ছড়িয়ে
গভীর স্তব্ধতায় আমি বারান্দায় এসে দাঁড়াই
তোমার টেলিফোন জোনাকির মত মিটমিট করে
প্রবল অনিচ্ছা ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারে আফটার সামটাইম ...


আমি

দশ বছর পর বাড়ি ফিরছি
আমায় দেখে চিনতে পারছে না কেউ
মানুষ জন গরম কড়াইএর মত ফুটছে
মানুশ জন তিতি বিরক্ত হয়ে উঠছে
দুধের মত উথলে উঠছে না কারো স্নেহ
ঠান্ডা জলের মত কেউ দিচ্ছে না স্নিগ্‌ধতা
তবে কি এটা আমার বাড়ি নয়?
এরা কি আমার কেউ নয়?
ধামা চাপা দেওয়া রহস্যের মত সবাই নিজেদের
ভুলে যাচ্ছে ...