আপনার মতামত         



তিস্তা মিত্র




ঘেন্না বিষয়ক

আমি এই নাছোড় অভ্যেসে
অহোরাত্রি হাবুডুবু, আর ...

কি ভাবে খন্ডাবো বল এই প্রত্ন-রোগ
উচিত তর্কের মত সহজাত দোষ!
কুলগ্না জাতক, নেহাত আনাড়ী মেয়ে
গুরুচন্ডালী দোষে একা

পোড়ামুখি তঞ্চকতা শিখিনি এখনও
তাই আজও অজ্ঞতা বশে
অকারণ শব্দের আয়ুব
ছুটে যায় ঈশাণ- নৈঋতে

ক্রোধের ক্ষরণে জ্বলে তোমাদের মুখ

বদ্ধভূমি করেছো প্রস্তুত
নিরুদ্দেশ ঘোষণায় ভেসে উঠলে
সন্ততির মুখ
সে বিষাদে
যৌনতা জাগে না "পুরুষ'।

খুন হওয়া মেয়েটিকে

প্রান্তিক বয়নকথা উড়ে আসে শাসক বাতাসে -
অকন্ঠ পিপাসা নিয়ে
গুমঘরে শুয়ে আছে যে মেয়ের
উলঙ্গ লাশ তার নাকি
ছিল কোন গূঢ় মনরোগ

মাথাময় ঝড় নিয়ে তবুও
সে ডুবে ছিল মুগ্ধ ঋতুস্নানে
তবুও সে লিখেছিল শস্যক্ষেত,
নদী আর ছন্দোময় তুমুল-পয়ার

বেভুলজন্মা মেয়ে, এ কোন মাটিতে
তুমি মেলেছিলে আয়ূর শেকড়!
কে তোমায় জড়াবে আদরে!
কে খরায় দেবে স্নেহ-জল!

তোমার শবের পাশে আমিও
একাকী এক বিদ্ধ্বস্ত জল
জন্ম জন্ম বয়ে যাব শোকের ফসল।


আত্মরতি -১

তুক বিদ্যা শিখেছি গোপনে
আমায় ভাসাবে ভেবে
ওপাড়ার ছেনাল বাতাস
ফাঁদ পেতে রেখেছে নিপুণ

কতটা মন্থন শেষে বিস্ফোরক
হয়ে ওঠে নদী!

বুক থেকে ঝরে গেলে প্রিয় সন্ততি
হে মগ্ন স্রোত, গূঢ় আত্মরতি
আয়ুধ-জনম তবে
কর আজ আমায় অর্পণ

উড়াল প্রস্তুতি নিয়ে
বসে আছে নিজের নির্জনে
আমি ই "আর্তেমিস'
পয়ার সাজাবো একা বিরোধী - আগুনে।


আত্মরতি - ২

অত:পর দুগ্ধ-আমি
ঢুকে পড়ি নিজের ভেতরে
হৃদয় চুম্বন করি,
হাত রাখি নিজেরই শিয়রে
বাইরে শমন খাড়া
ঘাটে ঘাটে অদৃশ্য বিষাদ
প্রেমবশে জড়াই নিজেকে
জানি শুধু সেই নিরাপদ

স্বপ্নে শ্বাপদ ঘোরে
দাঁতে নখে ক্রুরতা শানায়
জলজ মানুসি আমি ভয়ে স্থানু
জ্বর বাড়ে ক্রমশ শিরায়

নিজের চিবুক তুলে
স্পর্শ করি শোক,ব্যাকুলতা
প্রান্তিক হাওয়ায় ভাসে

শাপগ্রস্ত নদীজন্মকথা।