আপনার মতামত         


      তিনটি কবিতা

      বেদবতী দত্ত



    ওদিকে খাঁড়ির পাশে।

১।

সুইম সুটের দিনে আকাশের মুখ ছিল ভার। সহস্র দৃষ্টির সামনে হেঁটে গেছি বেলাভূমি ধরে, শরীরে নিয়েছি ধরে সেইসব রেখাচিত্র, জ্যোৎস্নাপুলক। ঝিম এসেছিল। সকল সম্বল অনর্গল ভিজেছিল ধারাবর্ষণে। ঢেউ ছিল, পাশে ছিল নুলিয়া যুবক, কি অসভ্য, বলেছি যাকে সব চুকেবুকে গেলে।

২।

মোবাইল মোবাইল। জানালায় জমে ওঠে ধুলো, দুইটি তিতির পাখি বসে থাকে বালুকাবেলায়। মসৃণ ত্বক নয়, সারিসারি মুখ দেখি স্লিভলেস পোশাকের নিচে। ফুঁড়ে দিয়ে অলক্ষ্যে দৃষ্টি চলে যায়, বিঁধে থাকে মেট্রোর সিটে। অবসাদে এভাবেও শেষ হয় বৃষ্টির দিন।আজকাল।

৩।

আজও তাই মাঝে মাঝে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসি নিচে। খাঁড়ি খুঁজি একা, কখনও মিলেও যায় দেহরক্ষী। ইতিহাস তোলপাড় করে খুঁজে চলি তামা ও পাথর। প্রত্নতত্ত্ব, পাখির পালক, ফেলে আসা পদচিহ্নলি, লোকাল ট্রেনের ভিড়ে চেনামুখ, চেনা আকুলতা। এখনও শরীর জাগে, দেহরক্ষী তল্লাশি নেয় আগাপাস্তালা, খাঁড়িবেয়ে নেমে আসে নিচে, আরও নিচে। নরম আলোয় আজও বুজে আসে চোখ, আবেশে। চুম্বন থাকে, ভালোবাসাবাসি। যুদ্ধ শেষে ভেবে দেখি, বোতাম ছুঁয়েছি শুধু ...

৪।

যাদুদন্ড খুঁজি তাই, ম্যাজিক বালক। পড়ে থাকে ট্যাবু ও টোটেম। পড়ে থাকে তাঁবু, শেষ আশ্রয়। অন্ধকারে পাকদন্ডী বেয়ে চলি। একা।




    হাইওয়ে

ধৈর্য ধর প্রেমিক প্রবর, তিষ্ঠ ক্ষণকাল। কোদন্ড নিয়েছি হাতে, টান টান ছিলা, লন্ডভন্ড হবে আজ। হাড়িকাঠে রাখো মাথা, হাতে নাও কোকের বোতল। নি:সঙ্গ নাভি দেখ, নিসর্গ শোভা, চুপচাপ পুষ্পবৃন্ত, দেখ তৃণভূমি। জানের পরোয়া কর? তুলে রাখো হাত মাথার উপর, প্রাণ নয়,কেড়ে নেব শুধু শেষ সম্বল।এই দেখ দুহাতে ধরেছি অরণ্য, মুঠোয় নিয়েছি যাদুকাঠি। ছিঁড়ে যাচ্ছে ছিলা, স্ট্র্যাপ, উড়ে যাচ্ছে দেশকাল পানপাত্রে শালুকের মতো। উল্টে যাচ্ছে যতিচিহ্ন ট্রাম আর শোভাবাজার অটো। আমার ঠোঁটের স্পর্শে জেগেছে ঘুমন্ত লাইটহাউস, ছিনিয়ে নিচ্ছি তার শেষ আলোটুকু, চুষে নিচ্ছি রক্তবিন্দু, ঝিম ধরা পাখির পালক।

প্রেম নয়, পুলিশি পীড়ন থেকে ছাড়া পাবে মুক্তিপণ দিলে।




    ধুলো জমে আছে

শরীরের খাঁজে আজ জমে আছে ধুলো, আয়নায় জমে আছে টিপ, জানালার কাচে নিসর্গ শোভা। ঢং ঢং ঘন্টা বাজে, শুরু হয় শেষ পিরিয়েড। অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে সূচিভেদ্য নীরবতা, সুপারহিট রজনী শেষে করতালি মেঘপুঞ্জ ছোঁয়। সিঁড়ি বেয়ে চলে আসি দোতলায়, মেক আপের নিচে দেখি পরিচিত তিল। অটোগ্রাফ নিয়ে যায় কিউট যুবক। উল্টে যায় পেন খাতা, বাহুবন্ধে কেটে যায় রুদ্ধশ্বাস রাত্রিদিন পেখমের মতো। ভোরের আলোয় দেখি ময়দান পার করে ডানা মেলে উড়ে যায় ট্রাম, পুবদিকে।

কৈশোরের প্যাকিং বাক্স খুলে দেখি, সারি সারি মুখও এইভাবে জমা হয়ে আছে।