আপনার মতামত         


জলসম্পদ -- কিছু ভাবনা
দ্বৈপায়ন বসু

কথায় বলে, "জলের মতন খরচ করা', অর্থাৎ কিনা মাত্রাহীন, আনলিমিটেড একটা ব্যপার। তো, আমাদের চেতনায় "জল' মানে একটা অফুরন্ত ব্যপার। আর কে না জানে পৃথিবীর তিনভাগ জল, একভাগ স্থল। এই স্থলেও মাটি খোঁড়ো, খোঁড়ো, কোথাও দশ ফুট, কোথাও দুশো ফুট, কোথাও বা আরো বেশী নীচে, জল পাবেই (আগামি বছর কুড়ি অন্তত পাবেই)। তা প্রচুর থাকলে লোকে যেমন "জলের মতন' খরচ করে, তেমনই জলও খরচ করতে করতে,আমরা প্রায় ফুরিয়ে এনেছি। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে natural resourceগুলোর ব্যবহার আজ আমাদের্কে খুব বড় একটা সমস্যার মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে।

আজ থেকে বছর পঞ্চাশ আগেও আমাদের দেশের ছবিটা ছিল অনেক আলাদা। সামান্য ডেটা ঘাঁটলে দেখতে পাবো আমরা যে ১৯৫১তে ভারতে পার ক্যাপিটা জলের availability ছিল ৩৪৫০ কিউবিক মিটার। এই সংখ্যাটা World bank World Development Report -র দেওয়া ১০০০ কিউবিক মিটারের থেকে অনেকটাই ওপোরে। World Bank-এর হিসেব মত কোনো দেশের ground water এর পরিমাণ যদি এর থেকে নেমে যায়, তবে সেই দেশকে water crisis গ্রুপে ফেলা হয়। তবে এই ব্যপারে কিছু তর্ক বিতর্ক অছে। IWMI এর মতে এই সংখ্যাটা হওয়া উচিৎ ১৭০০ কিউবিক মিটার। আর সখ্যাটা যদি ১০০০-এর নীচে নেমে যায় তবে সেটা হিউম্যান হেলথ হ্যাজার্ডস হিসেবে চিহ্নিত হয়। UN আবার এই ধরনের সংখ্যা দিয়ে ব্যপারটাকে মানতে নারাজ। UN (Raskin et el, 1997) ব্যপারটাকে হিসেব করে withdrawal/supply-এর অনুপাত দিয়ে। এই অনুপাত যদি কোনো দেশে ৪০% এর বেশী হয়ে যায়, তবে সেই দেশের সামনে দুর্দিন আসতে বেশি দেরী নেই। হঠাৎ এতগুলো থিওরি পড়ে সব কিছুকে স্প্যাগেটি মনে হতেই পারে, মনে হতেই পারে যে, এগুলো কোন কাজে লাগবে। আসলে আমার নিজের দেশের অবস্থা জানার পর আমি নিজেই বেশ কিছু থিওরি খোঁজার চেষ্টায় ছিলাম। যদি কোনোটা দিয়ে কিছুটা সান্ত্বনা পাওয়া যায়। কিন্তু না, সেটা হলো না। সমস্ত কটা থিওরি আমাকে জানালো যে খুব তাড়াতাড়ি আমরা একটা ভয়ঙ্কর দিনের মুখে পড়তে চলেছি।

অথচ গত শতকের মাঝামাঝি অবধি অন্তত আমাদের সেই চিন্তা ছিল না। সমস্যা শুরু হলো উত্তর ভারতের সেই নতুন সবুজ দিনগুলো থেকে; যা সবুজ বিপ্লব। বদলে গেলো পাঞ্জাব, হরিয়ানার মতন রাজ গুলি। আশির দশকে ভারতের উৎপাদিত শস্য ছিল ১৩১ মিলিয়ন টন। কৃষিজমি পিছু উৎপাদন বাড়লো প্রায় ৩০ %। Indian Council for Agricultural Research প্রথম বার আন্তর্জাতিক ছবিতে এলো নতুন প্রজাতির উচ্চফলশীল গম তৈরি করে।

নতুন ধরনের গম, দরকার প্রচুর জল, দরকার আরো বেশী সার। নতুন কারখানা তৈরি হতে লাগলো। জলের পাম্প তৈরির কারখানাগুলো ছড়াতে লাগলো। GDP বাড়তে লাগলো দেশে। আমরা স্বনির্ভর হলাম খাদ্যের দিক থেকে।

আশির দশকের মাঝামাঝি ভারতেই তৈরি হলো উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন পাম্প, যা পশ্চিমের রুক্ষ পাথুরে জমি থেকেও জল বার করে আনবে। সরকারও উদার হস্তে পাম্প বসানোর ব্যবস্থা করে দিতে লাগলো প্রতিটা ক্ষেতে। সাবসিডি দিতে লাগলো ডিজেল আর ইলেকট্রিকে। ভারত আরো সবুজ হলো। সরকারের ভোটব্যাঙ্ক আরো বাড়লো, শুধু ভেতরে ভেতরে ধুঁকতে লাগলো দেশ।

এই তাৎক্ষণিক সাফল্য আজ আমাদের্কে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে একটা বড় প্রশ্নের সামনে। যে দেশে একদিন জলের সত্যি কোনো অভাব ছিল না, আজ সেই দেশ সমস্ত কটা thresold পেরোবার মুখে। এই মুহুর্তে আমাদের per capita available জলের পরিমাণ মাত্র ১৮৮০ কিউবিক মিটার। এই বারে লক্ষ্য করুন আমার ওপরে দেওয়া সংখ্যাগুলো। ১৭০০ র প্রথম গন্ডিটা পেরোতে কিন্তু আমাদের আর বেশি দেরি নেই। WHO আর United Nations Children's Fund এর নতুন রিপোর্ট জানাচ্ছে ২০২৫ এ ভারত ভারত প্রথমবার জল অভাবে ভুগতে শুরু করবে। আর FAO বলছে আমরা ২০৫০ এই সংখ্যাটাকে দেখতে পাবো ৭৬০ এ নেমে যেতে। যা সরাসরি আমাদের সকল কে affect করবে। শুধু আমরাই না, আমাদের আশেপাশের দেশগুলো, যেমন পাকিস্তান, বাংলাদেশ সবাই পড়বে এই সমস্যার মুখে। অতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত জলের খরচ আজ দক্ষিণ পুর্ব এশিয়ায় সব কটা দেশের সামনে বড় সমস্যা। বর্তমান পরিস্থিতির একটা ছোট্ট গ্রাফ দিলাম এখানে।



আজকের এই পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী অনিয়ন্ত্রিত কৃষিকাজ। তারপরেই আসে industry আর domestic sector। শুধু গ্রাউন্ড ওয়াটার টেবিলকে ক্রমশ নীচে নিয়ে যাওয়া নয়, সমানভাবে সারফেস ওয়াটারকেও দূষিত করার দায় বর্তায় এদের ওপর। কটা ছোট্ট চার্ট দিলাম এখানে। যেখানে এই তিন সেক্টরে ব্যবহৃত জলের হিসেব দেয়া আছে।



৮৬ শতংশেরও বেশি জলের ব্যবহার হয় শুধু কৃষিতে। আসুন সবার আগে তাহলে এই জায়গাটা নিয়ে ভাবা যাক।

ভারতীয় কৃষি ব্যবস্থা
~~~~~~~~~~~~~
কৃষি, আমাদের দেশের সবচেয়ে sensitive sector বলতে মনে হয় এটাই। রাজনৈতিক দলগুলোর শ্লোগান থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের মুখ, সব কিছুই হলো কৃষি। 'জয় জওয়ান' এর পাশাপাশি কিষানদের নামেও জয়ধ্বনি শোনা যায়। কিন্তু ঠিক কী অবস্থা আমাদের কৃষিব্যবস্থার? বর্তমান পরিস্থিতি, খাদ্য উৎপাদন এসবের হিসেব দিতে পারবেন ইকনমিস্টরা। আমি বরং ভাবার চেষ্টা করি ভবিষ্যৎটা কি? এই "সুজলা' এবং "সুফলা' দেশের যে ছবিটা এখন দেখতে পাই, সেটা সব সময় পাবো তো!

সরকারি হিসেব, বা খাতায় কলমে এখনো ভারতের কৃষি ব্যবস্থা মুলত সরকারের তৈরি অজস্র সেচ বা খাল আর মনসুনের ওপোর নির্ভরশীল। কোনো এক যুগ আগে এটাই ছিল ধ্রুব সত্য। কিন্তু এই হিসেব গুলো পুরনো হয়ে গেছে অনেক দিন হলো। IWMI র একটা নতুন হিসেব বলছে, সেচ নয়, ground water ই হলো ভারতের কৃষি কাজের মূল, আর তা প্রায় ৬০% এরও ওপরে। নিচে একট ছোট্ট গ্রাফ দিছি, যা সত্তরের দশকের সাথে নব্বইএর দশকের তুলনা করবে।



ছবিটা থেকে বোঝা যায় যে কী ভয়ংকর ভাবে বেড়ে গেছে ground water exploitation। কারন খুঁজলে সবার আগে আসে 'water rights', অর্থাৎ জমি যার, জমির নীচের জলও তার। ফলে আমি যদি জমি কিনি, তবে জমির নীচের জল ইচ্ছে মতন ব্যবহার করার অধিকারও জন্মায় আমার। তাই আমার দরকার পড়লে আমি যত ইচ্ছে জল তুলবো মাটি থেকে। আমি ভুলে যাবো যে জল জিনিস টা হলো shared resource, আমার জমির গন্ডী ধরে মাটি থেকে জল উঠছে না, পুরো resource pool থেকে উঠে আসছে জিনিস টা।


তাই যথেচ্ছ ভাবে শ্যালো পাম্প ব্যবহার হচ্ছে সব জায়গায়। বিশেষ করে স্বল্পফসলী জমি, যে জমির নীচে ওয়াটার লেভেল এতদিন বেশ উঁচুতে ছিল, সেই জমিতে উচ্চ ফলনশীল বীজ, অতিরিক্ত সার আর অনিয়ন্ত্রিত জল ব্যবহার করে বছরে বহুবার চাষের চেষ্টা চলছে সারাক্ষণ।

IWMI র একটা সমীক্ষা বলছে দেশে শ্যালো পাম্প বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২ মিলিয়ন USD, যেখানে surface water irrigartion এর জন্য লাস্ট ৫০ বছরে খরচ হয়েছে ২০ মিলিয়ন USD। কী বিপুল পরিমাণ investment রয়েছে পাম্পের পেছনে। এর ফলে irrigated water আর used ground water এর অনুপাত ক্রমশ কমছে। যেখানে surface waterএ চাষের আওতায় পড়ছে ২১ মিলিয়ান হেক্টার জমি, সেখানে মাটি থেকে জল তুলে চাষ হচ্ছে ২৭ মিলিয়ান হেক্টার জমিতে। সত্তরের দশকের পর থেকে খুব দ্রুত বদলে গেছে এতদিনের সমস্ত হিসেব। মাটি থেকে জল তুলে চাষ বেড়েছে প্রায় ১০৫% যেখানে অন্যান্য ভাবে পাওয়া জলের মাধ্যমে কৃষি বেড়েছে মাত্র ২৮%। গত চল্লিশ বছরে প্রায় ১৯ মিলিয়ান টিউব ওয়েল খোঁড়া হয়েছে চাষের জন্য। কটা ছোট্ট ছবি দিলে মনে হয়, এতগুলো তথ্য পড়ার চাপ টা একটু কমবে।



হয়তো সবাই ভাবছেন যে, মাটির নীচে জল যদি বেশি থাকে, তাহলে সেটা তুলতে অসুবিধেটা কোথায়? যেখানে বেশি জল আছে, সেখানে তো মাটি থেকে জল তুলে চাষের কাজে লাগানো হবেই। কিন্তু এই সহজ সরল সুত্রটা আসলে এখানে একদমই খাটে না। আমাদের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে যাদের gound water এর পরিমাণ বেশ কম, সেখানেই সবচেয়ে বেশি জল পাম্প করে তোলা হচ্ছে। তামিল নাড়ু, উত্তর গুজরাট, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এই সমস্ত রাজ্যগুলো তো সবচেয়ে বেশী affected হচ্ছে। এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমীক্ষা বলছে পাঞ্জাবের ৯৮% জল ইতিমধ্যেই লাগিয়ে দেয়া হয়েছে কাজে, যার খুব সামান্য ফিরে গেছে মাটির নীচে (হয়তো সংখ্যাটা কিছু এদিক ওদিক হতে পারে, কিন্তু ৯০ বা ৮০ হলেও আমাদের হাঁফ ছেড়ে নিশ্বাস ফেলার সময় আসে না)। এইভাবে চলতে থাকলে খুব দেরি নেই, নতুন একটা রাজস্থান পেতে। শুধু উত্তর ভারতে প্রতি বছর ১ থেকে ৩ মিটার করে জলের লেভেল নামছে।

রাজ্য ভিত্তিতে গ্রাউন্ড ওয়াটারের ব্যবহার একটা চার্টে দেখানোর চেষ্টা করছি এখানে,



আজকে যে কৃষি নিয়ে আমরা গর্বিত, তার ভবিষ্যতের ব্যপারে যদি একটু ভাবি আমরা তো দেখতে পাবো যে একটা ইউটোপিয়াতে বাস করছি শুধু। জল যত কমবে তত বাড়তে থাকবে pumping এর খরচ। এদিকে জলের লেভেল নামতে থাকলে জলে আর্সেনিক জাতীয় দুষণও বাড়বে (এটাকে আপাতত এই আলোচনার বাইরে রাখছি, কারণ শুধু এটাই হয়তো একটা আলাদা টপিক হতে পারে)। শুধু মানুষের স্বাস্থ্য নয়, এই ধরনের দুষণ কমাবে ফসলের উৎপাদনও।

শেষ অবধি আমাদের সবুজ বিপ্লব পরিণত হবে একটা Boom and Burst এ , আর সেটা অল্প দিনের মধ্যেই। গ্রাউন্ড ওয়াটার নির্ভরশীল কৃষির Boom টা এতদিন দেখলাম আমরা। এবারে শুধু burst এর জন্য অপেক্ষা করুন।

world water forum এর কনফারেন্সে (২০০০, মার্চ) ঠিক এই আশঙ্কাটাই করেছিলেন তৎকালীন ডিরেক্টার D. Seckler,

“Many of the most populous countries of the world - China, India, Pakistan, Mexico, and nearly all of the countries of the Middle East and North Africa - have literally been having a free ride over the past two or three decades by depleting their groundwater resources. The penalty of mismanagement of this valuable resource is now coming due, and it is no exaggeration to say that the results could be catastrophic for these countries, and given their importance, for the world as a whole”

আমাদের শিল্প সংস্থা
~~~~~~~~~~~~~~

গ্রাউন্ড ওয়াটার ব্যবহারের দিক থেকে দেখতে গেলে ভারতীয় শিল্প সংস্থারা রীতিমতন পিছিয়ে আছে agricultural sector থেকে। শতকরা হার বলছে যে, এদের ওপর গ্রাউন্ড ওয়াটারের ব্যবহারের দায় বর্তায় মাত্র ৫%। তাই গ্রাফ বা চার্ট এঁকে এদের দিকে তাকাতে গেলে বেশ মুশকিলে পড়তে হবে। আমি বরং এখানে একটি বিখ্যাত শিলপ সংস্থার গ্রাউন্ড ওয়াটারের ব্যবহার হিসেব টা তুলে ধরি। সংস্থাটি হলো, আমাদের বহু পরিচিত কোকাকোলা সংস্থা। ঘটনাটিও হয়তো প্রায় সবার জানা, মেহেন্দিগঞ্জের কোকাকোলা ফ্যাক্টরির ঘটনা।

ভারতে কোকাকোলার প্রবেশ ১৯৯৩ তে, এর পাঁচ বছর আগে ভারতে আসে পেপসি। এই মুহুর্তে ভারতের সফট ড্রিঙ্কস ইন্ডাস্ট্রির ৯৫% আছে এদের হাতে। কোলা ড্রিংক্সের ৯২% শতাংশই হলো কারবনেটেড ওয়াটার। দেশ জুড়ে কোকা কোলার ৫২ আর পেপসির ৩৮ টা প্ল্যান্ট রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ লিটার জল এরা মাটি থেকে তোলে আর এর তিন ভাগের এক ভাগ জল বর্জ্য হিসেবে ফেরৎ পাঠায় মাটির নীচের জলের ভান্ডারে। শুধু জলের ভান্ডার খালি করাই নয়, অবশিষ্ট ভান্ডার দুষিত করাতেও পিছিয়ে নেই এরা। যে সমস্ত জায়গাতে এদের প্ল্যান্ট তৈরি হয়েছে সেই সমস্ত জায়গায় শুরু হয়ে গেছে জলের জন্য হাহাকার।

ঠিক এমনই একটি জায়গা হলো মেহেন্দিগঞ্জ, যা বারানসী থেকে ২০ কিমি দুরে অবস্থিত। ২০০০ সালে এখানে তৈরি হয় কোকাকোলা প্ল্যান্ট। প্রায় প্রতিদিন ৫ লাখ লিটার জল মাটির নীচ থেকে তুলে আনে এই প্ল্যান্ট, আর দৈনিক ২.৫ লাখ লিটার মতন সফট ড্রিঙ্কস তৈরি করে এরা। এর পর দেখা যাক, এই প্ল্যান্টের আশে পাশে থাকা মানুষদের জীবন কত টা প্রভাবিত হয়েছে এই প্ল্যান্টের জন্য। এই প্ল্যান্টের আশে পাশের গ্রাম গুলোর একটা লিস্ট দিচ্ছি এখানে,



২০০৬ সালে এই আটটা গ্রামের প্রায় ২২৩ টি খাবার জলের কুয়োর ওপর একটি সার্ভে চালিয়ে দেখা যায় যে ৪৪% কুয়ো শুকনো অথবা প্রায় শুকনো অবস্থায় পৌঁছে গেছে। ২৫% শুকিয়ে গেছে ২০০০ সালে কোকাকোলা প্ল্যান্ট তৈরি হওয়ার পর, যেখানে এর আগে মাত্র ৫% কুয়ো ছিল এই রকম অবস্থায়। কল্লিপুর এবং রাখোনা-তে এই হার যথাক্রমে ৭৫% এবং ৫০%। প্রায় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই জলের লেভেল নেমে গেছে অনেকটা। এক সময় যে অঞ্চলের প্রায় ৯০% শতাংশ খাবার জলের কুয়ো তে জলের লেভেল ছিল ৪০ ফুটের মতন, সেখানে ২০০৬ তে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০% এর কাছাকাছি। এর মধ্যে ১০% ক্ষেত্রে জলের লেভেল নেমে গেছে ৭০ ফুটের ও নীচে।

হ্যান্ড পাম্প গুলোর অবস্থা সেই এক রকম। এককালে এই অঞ্চলে ছিল ৪৫ টা মতন পাম্প, কিন্তু সেই সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে দাড়িয়েছে ২২০ তে। কিন্তু তাতেও জলের অভাব মেটে নি। ৪৩% হ্যান্ড পাম্প হয় অকেজো হয়ে গেছে, না হয় খুব অনিয়মিত ভাবে কাজ করে। ৭৩% পাম্প গ্রীষ্মকালে কাজ করতেই পারে না।


Central Ground Water Board এর মতে উত্তর প্রদেশের বহু ব্লকের জলাভাবের কারণ হলো, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাব। কিন্তু মেহেন্দিগঞ্জ বা তার আশেপাশের অঞ্চল এই ব্লকগুলোর মধ্যে পড়ে না। বরং যদি দুই দশকের হিসেব ধরা হয় তো দেখা যায় যে, যেখানে প্রথম দশকে ওয়াটার লেভেল নেমেছিল ১.৬ ফুট, সেখানে ২০০৬ তে এই লেভেল নেমে গেছে প্রায় ১৮ ফুট নীচে।


তবে শুধু কোকাকোলা বা পেপসিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এই একই ধরণের ছবি পাওয়া যায় যে কোনো ধরনের Industrial Hot spot এ। গুজরাটের জেটপুরে, যেখানে প্রায় ১২০০ কাপড়ের কারখানা আছে, সেই অঞ্চলের গ্রাউন্ড ওয়াটার প্রতিনিয়ত দুষিত হচ্ছে ক্যাডমিয়াম, মার্কারি, ক্রোমিয়াম আর জিঙ্কের প্রভাবে (Moench and Matzger, 1994)। আর এই ধরণের দুষণের সব চেয়ে বড় সমস্যা হলো যে গ্রাউন্ড ওয়াটার দুষিত করা ছাড়াও, সেই অঞ্চলের aquifer কে নষ্ট করে দেয় এই ধরনের রাসায়নিক। ফলে বাধা পড়তে থাকে গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জিংয়ে।

তাই সরকারী হিসেব মতন, দেশের গ্রাউন্ড ওয়াটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিল্প সংস্থা গুলোর অবদান মাত্র ৫% হলেও, খুব কাছ থেকে দেখলে ছবিটা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। যে অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে কিছু শিল্প সংস্থা, সেই অঞ্চলেই শুরু হয়ে গেছে অনিয়ন্ত্রিত জলের ব্যবহার আর বেড়ে গেছে দুষণের হার।

এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত জলের ব্যবহারের ফলে শুধু যে আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, এর প্রভাব পরছে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরেও। বাংলা দেশের water level এতটাই নেমে গেছে যে গরম কালে প্রচুর জায়গাতেই জলের অভাব দেখা যায় (Sadeque, 1996)। অথচ বাংলা দেশের গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৫০০ মিমি-র থেকেও বেশী।

শুধু যে কৃষি ভিত্তিক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, গাঙ্গেয় উপত্যকায় যে বিশাল অঞ্চল প্রাণীজ প্রোটিন হিসেবে মাছের ওপর নির্ভর করে, ক্ষতি হচ্ছে সেই দিকেও। মৎস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে প্রচন্ড ভাবে। UN র তথ্য বলছে এই কমে যাওয়ার হার ৬০% অব্দি হতে পারে।

এছাড়াও চাপ বাড়ছে ইলেক্ট্রিসিটির দিকেও। একে আমাদের দেশ ইলেকট্রিসিটির উৎপাদন আর বন্টনের দিকে বেশ কিছু টা পিছিয়ে আছে, তার ওপর ক্রমাগত নামতে থাকা ওয়াটার টেবলের জন্য বেড়ে চলেছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পের ব্যবহার। ৪০% এর ও বেশী ইলেকট্রিকসিটি ব্যবহার হচ্ছে কৃষিকাজে, হরিয়ানার মতন রাজ্যে এর পরিমান ৫০% এর বেশী। ফলে টান পড়ছে অন্যান্য দিক গুলোতে। এক বিশাল সমস্যা তৈরি হচ্ছে সমস্ত সেক্টরগুলোতে।

"দাও ফিরে সেই ...'
~~~~~~~~~~~~~

এতক্ষণ ধরে এই লেখা পড়ার পর, সবার মনে নিশ্চয় একটা প্রশ্ন অন্তত জেগেছে যে, এই সমস্যার সমাধান কি ভাবে সম্ভব? তাছাড়া ভারতের মতন দেশে, যেখানে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান অনেক বেশী, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতের একটা বিশাল জায়গা জুড়ে সারা বছর প্রায় অল্পবিস্তর বৃষ্টি হয়েই থাকে, সেখানে গ্রাউন্ড ওয়াটার এর অভাব হয় কি ভাবে? বৃষ্টি হওয়ার অর্থই তো আবার মাটির নীচের জলের ভান্ডার ভরে ওঠা। গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ হওয়া।

কথাটা পুরোপুরি মিথ্যে না, এবং বৃষ্টিবহুল দেশ হওয়ার কারণেই, একটা সময়ে এই দেশের গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করতো বৃষ্টির ওপরে। কিন্তু দিন বদলাবার সাথে সাথে পরিবর্তন হলো সেই হিসেবেও। ১৯৯২ এর তথ্য অনুসারে ভারতের ২০ টা নদী অববাহিকায়, বৃষ্টিপাতজনিত কারণে, গ্রউন্ড ওয়াটার রিচার্জের পরিমান কমে দাড়িয়েছে ১৫-২০%। কিছুটা অনুর্বর, মালভুমি অঞ্চলগুলোতে এর পরিমাণ মাত্র ৫-১০% (Athavale et al., 1992)।

ফলে আমাদের দেশে যেটা সবচেয়ে দরকার সেটা হলো কৃত্রিমভাবে মাটির নিচের এই বিশাল জলের ভান্ডারকে ফের আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। বেশ কিছু বছর ধরে ভারতের নানা দিকে শুরুও হয়েছে সেই কাজ। আপাতত একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক সেই দিকগুলোতে। আমরা কতটা সফল হয়েছি গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জে তারও যেমন একটা হিসেব আমরা পেয়ে যাবো, তেমনি জানার চেষ্টা করবো বিভিন্ন রিচার্জিং পদ্ধতিগুলোর ব্যপারে, আর জানবো সেগুলো সত্যি কতটা কার্যকর সেই ব্যপারে।

ইতিহাসের পথে
~~~~~~~~~~

আর্টিফিশিয়াল রিচার্জিং, কথাটা শুনতে যতই নতুন লাগুক, আমাদের দেশে এই ব্যপারটা খুব একটা নতুন নয়। বরং বলা যায় যে, সেই যেদিন থেকে আমাদের দেশে কৃষি কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় সেদিন থেকেই গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জিংএর কথা ভেবেছিল বেশ কিছু মানুষ। সেই প্রাচীন যুগ থেকে আজ অবধি, এই পুরো সময়টাকে আমরা যদি তিনটে ভাগে ভেঙে নিতে পারি, তাহলে হয়তো ছবিটা আমাদের কাছে পরিষ্কার হবে। প্রথম ভাগ টা হবে ভারতের Green Revolution এর আগে অব্দি সময়্‌টা, অর্থাৎ ১৯৬০ অব্দি। যে সময়ে মাটির নীচের জলের ভান্ডার ছিল পরিপুর্ণ। এর পরেই আসবে ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ অব্দি সময়টা, অর্থাৎ যখন এই বিপুল জলের ভান্ডারে হাত পড়েছে প্রচন্ডভাবে। শুরু হয়ে গেছে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জলের ব্যবহার। আর তৃতীয় ভাগ হলো ১৯৯০ থেকে শুরু করে আজকের সময় অব্দি, যখন চতুর্দিকে শুরু হয়ে গেছে জলের অভাব। ভারতের মতন বৃষ্টিবহুল দেশেও বেড়ে গেছে খরার পরিমাণ।
একটা সময় ছিল, যখন নিজেদের এলাকায় পুকুর বানিয়ে বৃষ্টির জল ধরে রাখাকে মানুষ নিজের দায়িত্ব বলে মনে করতো। সেই ধরে রাখা জলে রিচার্জ হতো আশেপাশের খাবার জলের কুয়োগুলো। এমনকি আজও দক্ষিণের উপকুলবর্তী অঞ্চলগুলো, যেখানে জল মোটামুটি লবণাক্ত, সেখানে দেখতে পাওয়া যায় এই পদ্ধতি (DHAN foundation, 2002)।

এছাড়া বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল ধরে নিয়ে, সেই জলকে মাটির নীচে জমা করে রাখতে দেখা যায় ভারতের অনেক জায়গায়। এও বহু বছর ধরে চলে আসা একটি প্রথা। উৎসাহীরা একবার উল্টে পাল্টে দেখতে পারেন Dying Wisdom বইটা (Agarwal and Narain, 2001)।
কিন্তু এই পুরো সময়টাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, সঠিক তথ্যের অভাব। সরকারী ভাবে কোনো চেষ্টা ছিল না। কোনো সংস্থা ছিল না যারা বিভিন্ন জয়গা ঘুরে সেখানকার মটির নিচের খবর এনে দেবে। এই পুরো সময়টাতে যেটুকু কাজ হয়েছে তার সবটাই হয়েছে খুব বিশৃঙ্খল ভাবে, শুধু মাত্র নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তি তে।

পরবর্তী ভাগ, অর্থাৎ ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ অব্দি সময় টা তে এই ছবি টা হঠাৎ করে বদলে যায়। আতিরিক্ত গ্রাউন্ড ওয়াটার ব্যবহার, বিশেষত অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শুরু হয়ে যায়। ফলে বিশাল এলাকা জুড়ে জলের অভাব শুরু হয়। টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। এগিয়ে আসে বিভিন্ন সংস্থাগুলো। NGRI, PRL, NEERI ইত্যাদি সংস্থাগুলো শুরু করে তথ্য সংগ্রহের কাজ। এই সময়টাতে দুটো খুব দরকারী কাজ হয় এই দেশে। Rajiv Gandhi National Drinking Water Mission তাদের রিসার্চ শুরু করে গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জিংএর ওপর। আর Bureau of Indian Standards তাদের গাইডলাইন তৈরি করে ফেলে, তখনো অবধি পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।

তৃতীয় ভাগ, অর্থাৎ ১৯৯০ এর পরের সময়টাতে দেখা যায় ক্রমশ নামতে থাকা গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেলের ছবি। বিভিন্ন রাজ্যে শুখা মরসুমে জলের জন্য হাহাকার। শুকিয়ে আসা বহু দিনের পুরনো খাবার জলের কুয়োগুলোর ছবি।

কিন্তু এই সময়টাতে তিনটে খুব বড় এবং আশাপ্রদ ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। প্রথমত সাধারণ মানুষের এগিয়ে আসা। গ্রামগুলোতে ছোট ছোট কমিউনিটি বানিয়ে বৃষ্টির জল ধরে রাখার চেষ্টা করা (Shah, 1998)। দ্বিতীয়ত সরকারীভাবে গ্রাউন্ড ওয়াটার সংরক্ষনের চেষ্টা করা। তামিলনাড়ু সরকারের Ground water regulation act চালু হয় এই সময়তেই। তৃতীয়ত বিভিন্ন NGO গুলো এগিয়ে আসে এই সময়ে, যারা সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গুজরাটে শুরু হয় 'নির্মল নীর' প্রকল্প। বৃষ্টির জল ধরে রেখে, তাই দিয়ে বিভিন্ন পুকুর এবং কুয়োগুলো ফের বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা দেখা যায় এই সময়ে। TBS এর চেষ্টায় রাজস্থানের আলওয়ার অঞ্চলে গড়ে ওঠে প্রায় ২০০ টি যোহাদ (বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের পুকুর)। মোটামুটি ভারত জুড়ে একটা চেষ্টা দেখা যায় গ্রাউন্ড ওয়াটার বাঁচিয়ে রাখার জন্য।

আর্টিফিশিয়াল রিচার্জিং পদ্ধতি
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ভরতের সাম্প্রতিক ছবিটা দেখার পর একবার ফিরে তাকানো যাক থিওরির দিকে। কবার দেখা যাক গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জের জন্য বিশ্ব জুড়ে কোন কোন পদ্ধতি অনুসরণ্‌করা হয়।

ডাইরেক্ট মেথড

সবচেয়ে সহজ আর বহুল প্রচারিত পদ্ধতি হলো এই ডাইরেক্ট মেথড। মাটির ওপরে জমা জলকে সরাসরি মাটির নীচের স্তরে পৌঁছে দেয়া হয় এই পদ্ধতি তে। মোটা মুটি তিনভাবে এই কাজ করা হয়।

১)যেখানে গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল মোটামুটি মাটির ওপর দিকে আছে, সেখানে কোনো বড় জায়গাকে প্লাবিত করে।
২)যেখনে গ্রাউন্ড ওয়াটার মাটির অনেক নীচে নেমে রয়েছে,, সেই সব জায়গায় রিচার্জিং চালানো হয় গভীর গর্ত বা কুয়ো খুঁড়ে তার পর সেগুলোতে জল ভরে।
৩)টিউব ওয়েল বা পাম্প দিয়ে সরাসরি গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেলে জল পাঠিয়ে।

এই তিনটির মধ্যে দ্বিতীয় পদ্ধতির ব্যবহার খুবই কম। আমাদের দেশে মোটামুটি ভাবে ব্যবহার করা হয় প্রথম পদ্ধতিটা। তবে কিছু ক্ষেত্রে কুয়ো বানিয়ে, তাতে জল জমাবার পদ্ধতিও দেখা গেছে। তবে ভারতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো recharge efficiency র তফাৎ। এই পার্থক্য অনেক জায়গায় ৩০% এর ওপর হয় যায়। ফলে কোনো একটি বিশেষ পদ্ধতি হয়তো ভারতের কোনো প্রান্তে খুব ফলপ্রসূ হলো, কিন্তু অন্য প্রান্তে সেই পদ্ধতি কাজে লাগানোই গেলো না।

ইনডাইরেক্ট মেথড

এই পদ্ধতিতে, কোনো বড় হ্রদ বা নদী থেকে জল পাম্প করে তুলে এনে, পাইপ লাইন ব্যবহার করে তাকে দূরে কোথাও পাঠানো হয় রিচার্জের জন্য। এই পদ্ধতিতে কোনো জায়গার অতিরিক্ত জলকে ব্যবহার করা হয় অন্য জায়গার জলাভাব মেটানোর জন্য। কিন্তু এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যে জলের পরিমাণ এবং জলের গুণমানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না।

ভারতে এই পদ্ধতির ব্যবহার বেশ কম। তবে মোটামুটো হাইব্রিড ভাবে ডিরেক্ট আর ইন্ডাইরেক্ট পদ্ধতি মিশিয়ে কাজ করার প্রবণতা বেশী দেখা যায় এ দেশে।

বিগত কয়েক দশক ধরে ক্রমশ বেড়েছে এই পদ্ধতিগুলোর চর্চা। ২০০৬ অব্দি ভারতে গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জের জন্য তৈরি কুয়োর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ মিলিয়ানে। Local water harvesting এর কাজে এগিয়ে এসেছে ছোট ছোট গ্রামগুলো। কিন্তু শুধু স্থানীয় ভাবে সমস্যা মেটালেই হবে না, দরকার পুরো এলাকা জুড়ে তথ্য সংগ্রহ আর তার ওপর ভিত্তি করে কাজ চালানো। যে ব্যপারে বেশ পিছিয়ে আছি আমরা। দরকার আরো অনেক systematic approach, দরকার আরো অনেক গবেষণা সর্বোপরি সরকারী সাহায্য। সরকার এক সময়ে কৃষকদের পাম্প কেনার জন্য সহজ সুদে টাকা ধার দিত, আজ তাদেরকেই জল বাঁচিয়ে রাখার জন্য এগিয়ে আসতে বলুক। যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান আমাদের করতেই হবে, নাহলে ভবিষ্যতে এক ভয়ঙ্কর দিনের মুখে দাঁড়াতে হবে আমাদেরকেই।


রেফারেন্স:

১। Rahul Nyar : Dry days ahead (2003)
২। World Development Report 1992, World bank World Development Report Series
৩। Lok Samiti Varanasi, To protect our right over our water- Story of the movement against Cocal-Cola in Mehndiganj, Varanasi U.P.
৪। National water policy (2002), Ministry of water resources.
৫। Ground Water Recharge Movement in India, Ramaswamy sakthivadivel, 2007
৬। Agarwal, A. and Narain, S, Dying Wisdom (2001)
৭। Central Ground Water Board, Manual on Artificial Recharge of Ground Water
৮। DHAN Foundation, Revisiting Tanks in India
৯। FAO Land and water development Division, Ground water management-The search for practical approaches (2003)
১০। Central Ground Water Board, Ground water resources of India, 1995
১১। T. Shah, Wells and Welfare in the Ganga Basin, 2001