আপনার মতামত         


দিনগুলি, রাতগুলি
বোধিসত্ব সেনগুপ্ত

শান্তিপর্ব
---------
তবে কি আমিই হারি? বারবার? শত্রুহীন এই পৃথিবীতে
ধর্মাধর্ম ভুলে গিয়ে মেতেছে উল্লাসে আজ আমাদের সেনা
আমি কেন পরাজিত তবে
মধ্য হেমন্তঋতু স্যমন্তপঞ্চকে?

নিজের ভায়ের রক্ত মেখে নিয়ে হাতের আঙুলে
পেয়েছি সমস্ত রত্ন, মুকুটের জয়ভাগ, রাত্রি
জুড়ে শহরের পথে পথে বিজয়মিছিল
আবির আবির
বাঘের চোখের মত জ্বলে ওঠা ধ্বজা
হুলুধ্বনি দেয় বরাঙ্গনা।
আধো অন্ধকারে,
হাসিমুখ দেবতার, পিতৃপুরুষের
উদ্যত হাতে আর স্বস্তিবচনে
আর কোন তর্ক নেই: বোঝে তারা আমি ধর্মরাজ,
পেয়ে গেছি অপ্রবাস আজ।

কি যেন সে জিতে গেল, মহাধুরন্ধর সেই অক্ষক্রীড়াবিদ
অষ্টাদশ দিন ধরে, নিপুণ ছলনা বুনে
নিয়ে গেল পলিমাটি, শিকড় বসানো ঘর, এখন অন্যদেশ
অন্য রং, মানচিত্রে আঁকা।
কবে দ্যূতক্রীড়া।
অন্য এক পরাজয়, অপমান, নিচু হাসি, ফুসফুসে নি:শব্দে
শ্বাসরুদ্ধ গর্জনের দিন
পাঞ্চালীর বসনের মধ্যে ছিল রক্তমাখা বীজ
(সমবেদনাও ছিল বন্ধুদের চাহনি ছাপিয়ে),
পথে হাঁটা, হাহাকার, মনের ভেতরে
ক্রোধ, ধুলোমাখা।

সেই সব চোখগুলি
আধবোজা রহস্যের মত অপলক
ধিক্কার, মমতা নয়
শুধু এক অন্তিম বিস্ময়
মেখে শুয়ে আছে আজ স্যমন্তপঞ্চকে।
বলে তারা, মূঢ় রাজা, সাফল্যই শেষ অভিশাপ
শান্ত শিশির লেখে আদিগন্ত অবিরত তার এপিটাফ


.
তাকে আমি পাবো না কখনো
রাত আসে, সন্ধ্যা যায়, বিদেশি বছর শেষ হয়
এমন বরফে ঢেকে শুয়ে থাকে মেঘ মাখা দিন
স্পৃহতাবিহীন
অ্যাসফল্টে বেজে ওঠে ভানুসিংহের
সে কিশোরি পদাবলি। জানি সে তো অন্যজনের।
ম্লান মুখে অভিমান, মানা
মরমে তাহারি পায়ে অন্যদ্যন্ত তুলসি ও তিল
বহুদূরে বসে থাকি, টের পাই শিরায় শিরায়
স্থবির রক্ত ঝরে, মূঢ়, মুঢ়, শোনো

.

যদি আর দেখা না-ই পাই তবে
কি হবে?
রুক্ষ ইটের মতো এই গলি
হিসাবে কিতাবে শস্তায় চলি
সকালে বাজার, দুপুরে অফিস
ভিড়ের বিকেল, রাতের বালিশ
তরকারি ভাত রুটিন যাপন
দৃষ্টি বধির, অন্ধ শ্রবণ
পেতে চায় জিভ সে হিরের স্বাদ
খিড়কি খোলেনা সমুদ্রে আজ

.

সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ, হাওয়া
অগোছালো অন্ধকার,
শেষ অক্টোবর।
স্বদেশরহিত
শূন্যতায় বুকের ভিতর
অবিরল, মসৃণ
পাতা ঝরার দিন

.

এইসব দিনগুলি অকিঞ্চন ভিখারি-র মত
লুব্ধ, নিরাশ।
গৌরী, সোনালি মুখ নিয়ে
সন্ন্যাসিনী ফিরে গেছে গভীর স্বদেশে
আমি এই মৌসুমি বারান্দার ধারে
ভিক্ষাপাত্রে ধরে রাখি অবশিষ্ট স্মৃতি।
সামনে সীমান্ত। কাঁটাতার, বালিয়াড়ি,
শাদা খুলি অপলক ডাকে। পিছনে তাকিয়ে দেখি
মুছে যায় শীৎকার, ঘনতর শ্বাস
অধুনা শূন্য ইতিহাস

.
(বুড়োর গল্প) উপসংহার
ও মানুষ হেরেছে কখন?
যদিও নিহত হাতে চুম্বনের ভান মাত্র রেখে
ছেনাল, পিচ্ছিল মাছ চলে গেছে
হাঙরের পেটে
মানুষের স্বপ্ন শোনে প্রান্তরের সিংহগর্জন।।