আপনার মতামত         


কবরে শুয়ে শুয়ে ভাবছি
ইমরুল হাসান

জীবিকা হাতড়ে এখনো যারা ঘুরে মরে
প্রতিদিন কবরে যেতে চায়, অন্তিম শুয়ে পড়বে বলে;
আবার উঠে আসে, পেতে দেয় বুক
উদগ্রীব অস্ত্রগুলির সামনে
আর কারবালার মাতম স্তব্ধ হয়ে গেলে,
সারা গায়ে ব্যান্ডেজ বাধা, ফিরে আসে ঘরে;
অন্ধকার মলিন গাঢ় সংসারে, ভাবে,
"কবরেই শুয়ে থাকি, রাত হলে, একটু থামি
সকাল হতেই জাহান্নামের আগুন, বাষ্পরুদ্ধ দিন'
এই করে পার করে যায় জীবন, দিনগণনা

তার পাশে বসে আমিও বুড়িয়ে আসি
দেখি যথার্থ কিশোর যে, তার স্থানচেতনায়
বন্দী সে, ঘুরপাক খেতে খেতে একই বৃত্তে,
শঙ্খের মতো করে আগাতে চায়
বাঁক ঘুরে দেখে, সান্ত্রী-সেপাই জগতের
বসিয়েছে পাহারা, চলে যাওয়ার প্রতিটি
পথের মুখে; দেখে সে ম্রিয়মাণ দরোজার ফাঁকে
উঁকি দিচ্ছে কত না মনোরম হাওয়াদের অলিগলি
পরশ এসে লাগে গায়ে; মনে হয় ঘুমিয়েই পড়ি
কবরে আবার; ঘুম ভেঙে শুরু করি দৌড়
যুদ্ধের ময়দানে, গিয়ে দেখি সমরাস্ত্র সমাবেশ
অপেক্ষা করে আছে সৈন্য - সামন্ত-রাজা- উজির
আর তার সামনে বুক পেতে বসে আছে অজস্র দীনহীন;
বলছে চীৎকার করে,"আজ মৃত্যুর দিন!
উৎসবে মৃত্যু হোক আমাদের, পরম আনন্দের!'

তাদেরই সাথে, প্রতিদিন এমনই মৃত্যুর বীজ নিয়ে
জেগে উঠি ঘুম থেকে, বেরিয়ে যাই, ফিরে আসি
আরো একটা দিন গেলো মৃত্যুর বোঝা নিয়ে
কবরে শুয়ে পড়ার আগে আরো একটা দিন
কী কী করে যে কেটে গেলো,
দিকভ্রান্ত, অন্বয়হীন, প্রতিটা দিনের মতই।

কথা বলা
------------
হায়রে কথা বলা, বিষাদগ্রস্ততা
ভার হয়ে উঠেছে অস্তিত্বে
কেবল, শুধু, একমাত্র... এইসব প্রান্তিকতায়
বিলীন হচ্ছে।

কথা বলা, অস্ফুট অবয়ব
মায়া-জাগানিয়া নৈ:শব্দের বিপরীত।

বহুত্ব
------
ইচ্ছা হয় গর্ত ছেড়ে বের হয়ে আসি
ইচ্ছা হয় গর্তের ভিতর কাটিয়ে দিই সারাটা জীবন


জীবনের বহুত্ব খোঁচাচ্ছে আমারে এখন।

ইতিহাস
------

ইতিহাস বর্ণনা করছি
বলছি প্রান্তিক আখ্যান
ঘটনার নির্মাণ, প্রাত্যহিকতা
যা কিছু আছে পৃথিবীর
অর্থাৎ যা বলছি
তার গুঢ় আর কোন তাৎপর্য নাই

বন্যা, ব্রীজ, তার ও লিফলেট....
এইসব বাতুলতা মাত্র


ঘুম
----
তোমার কী আছে আজ কিছু বলার?
ভাষা, অজ্ঞানতা....
শয়নের কালে উপবিষ্ট শেষ চিন্তার মতো?

ঘুমের অতল চিৎকার?


গাধা
-----

গাধা দিয়া হৈতেছে হালচাষ
বি.বাড়িয়া পরবর্তী অঞ্চল
চাষী বৃদ্ধ
সময় বিকালবেলা।

তার পাশে
দৃশ্যের বোঝা টানছি
আমি আরেক গাধা।

মাটির উর্বরতায় গেঁথে যাচ্ছে মন
দিগন্তব্যপী ফসলের মাঠ
দূরে দূরে এক একটি মানুষ।

গাধা ঘুরছে চক্রাকারে
ছোট্ট জমি, আয়তকার
তার চলাফেরায় চিরে যাচ্ছে
মাটি, মাতৃসম বসুন্ধরা।


চিন্তার ঘুণপোকা
------------------


চিন্তা মানে সঞ্চরণশীল একটি আধিপত্য কামনা। ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্যবোধ ও সময়ের তাড়না সংযুক্ত। ব্যক্তির চেতনা স্থানীয় একটি বিষয়। অথবা স্থান, যা থেকে ব্যক্তির চেতনা উদ্ভূত, তা ঘিরে রাখে তার চিন্তাসমূহকে। স্থানের চতুস্পার্শ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যে চেতনা, যে দাস, যে রাধা, দাসী সে শ্যামের, বস্তুবোধ থেকে সে চায় মুক্ত হতে, অর্থাৎ প্রবিষ্ট হতে, মিশে যেতে ভাবনায়, অন্তরীক্ষে, রাশি রাশি স্থানচেতনায়, বস্তুর মর্মমূলে। তারে বাঁচাও খড়কুটো জীবনের, প্রতিরক্ষা জীবের!