আপনার মতামত         


নেট বিষয়ে দুটি লেখা
সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়


এই দুটি লেখাই অসম্পূর্ণ। আকৃতিতে এরা ছোটো এবং এদের শিশুশরীরে বেড়ে ওঠার সম্পূর্ণ পোটেনশিয়াল আছে। প্রকৃতিতেও এরা সম্পূর্ণ বিপরীত। সেকারণেই এদের পাশাপাশি রাখা হল। একসাথে হাসতে খেলতে এবং ঝগড়া মারপিট করতে করতে এরা ক্রমশ: বড় হয়ে উঠবে, এই প্রত্যাশায়। -- লেখক

নেট, এক অতিকথা

পরীক্ষার খাতা হলে এই লেখা এই ভাবে শুরু করতে হত, যে বর্তমান যুগকে বলে তথ্যবিপ্লবের যুগ। কিন্তু এটা পরীক্ষার খাতা নয়, আর ইন্টারনেটও শুধুমাত্র তথ্যের বন্যা নয়। বিশেষ করে আমরা যারা নব্বইয়ের দশকের আগে একটু আধটু রাজনীতি/লেখালিখি/চিন্তাভাবনা করতাম, সোভিয়েত ব্লকের পতন, খোলা অর্থনীতি কেব্‌ল টিভি উইন্ডোজ নাইন্টিফাইভ পেরিয়ে ইন্টারনেট পর্যন্ত যাত্রা শেষে যারা উত্তর আধুনিকতার বিভিন্ন খোঁয়াড়ে আশ্রয় নিয়েছি, তাদের কাছে, ইন্টারনেট উত্তর আধুনিক দুনিয়ার বিজ্ঞাপনের এক আকর্ষণীয় মডেল সুন্দরী। অন্যান্য যেকোনো মডেলের মতই এই তন্বীও হাগেন-মোতেন না,শুধু শরীরের খাঁজের আড়ালে থাকা এমন এক অঞ্চলের স্বপ্ন দেখান, যেখানে হায়ারার্কির সমাধি হয়েছে। আপনি আমি এই গ্লোবাল দুনিয়ার লোকাল সন্তান,এক দশক ব্যাপী এই সুতীব্র রোলার কোস্টার জার্নি পার করে এসে আমাদের সমস্ত ঘেঁটে গেছে,বুদ্ধিহীন কবন্ধদের নিরবিচ্ছিন্ন মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান কারণ ইহা সত্য গোছের পেশীআস্ফালনে আমরা ক্লান্ত এবং আমাদের মূলত: কোনো অ্যাজেন্ডা নেই, ইন্টারনেট সুন্দরীর আমরাই হলাম এই মূহুর্তের টার্গেট মার্কেট সেগমেন্ট। চিন্তাজগতের মৌলবাদ আপনার অসহ্য লাগে, ইন্টারনেট আপনাকে প্লুরালিটির স্বপ্ন দেখাবে। যেকোনো আলোচনায়ই ব্যক্তি আপনাকে পিঠ পেতে নিতে হয় স্ট্যাম্প, হয় আপনি মোহনবাগান নয়তো সিপিএম, নিদেনপক্ষে ডিভোর্সি কিংবা কামুক, ইন্টারনেট আপনাকে অ্যাননিমাস হবার আশা দেখাবে। এ যেন নটা পনেরোর বনগাঁ লোকাল, আপনি আমার পা মাড়ালেন কেন দাদা -- পা কি কেউ জেনে বুঝে মাড়ায় ভাই -- একটা দশ পয়সা তিনটে চার আনা -- অতো অসুবিধে হলে প্রাইভেটে চলে যান --চারটে ডায়মন্ড -- হাত থাকতে মুখে কেন -- এই বহুস্বরের মাঝে আপনি ও ফেঁড়ে সিপিএমকে গালাগালি দিয়ে নেমে গেলেন, এর পরে অফিসে গিয়ে আপনি কো অর্ডিনেশন কমিটি করেন কিনা কেউ দেখতে যাচ্ছেনা। আপনার বাপ ঘটি বলে আপনিও মোহনবাগান,এই যৌক্তিক শৃঙ্খলার কারাগার থেকে ইন্টারনেট আপনাকে মুক্তি দিতে এসেছে। ইচ্ছা হলে আমেরিকার ইরাক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একখানা জ্বালাময়ী মেসেজ পোস্ট করে, তারপরেই এইচ ওয়ান বি ভিসার কোটা কমিয়ে দেবেননা স্যার বলে গণ পিটিশানে সই করতে পারেন, কেউ আপনাকে ক্যাঁক করে ধরবেনা। ব্যক্তি হিসাবে আপনি কিছুটা বিপ্লবী খানিকটা ক্রিকেট-বিশেষজ্ঞ, অর্ধেক বামপন্থী ও বাকি অর্ধেক গ্রহরত্নে বিশ্বাসী, আপনার গোটা সত্ত্বাকে সর্বক্ষণ বোতলবন্দী করে প্রগতিশীল স্ট্যাম্প মেরে জনসমক্ষে আনতে হয় যাতে লোকে খারাপ না ভাবে, আপনি ইস্কুল-কলেজের দিদিমনি হলে লুকিয়ে মদ খেতে হয়, ভদ্রলোক হলে ট্রামে বাসে ভিড়ের আড়াল নিয়ে ব্রা হীন বলাৎকারের সুতীব্র আকাঙ্খাকে প্রকাশ করতে হয়, ইন্টারনেট আপনাকে এই বিড়ম্বনার হাত থেকে মুক্তি দেবে। যাবতীয় তথাকথিত পরস্পরবিরোধিতা, দেখবেন, কি চমৎকারভাবে সিমলেসলি একে অপরের সঙ্গে সহাবস্থানে রত, যেন গণতন্ত্র, গণসংগ্রাম ও গণরিয়া একই মঞ্চে পাশাপাশি তিনটি আসন আলো করে বসে আছে, এবং সভাপতির ভাষণের সময়, একে অপরের সঙ্গে স্মিতহাস্যে বাক্যবিনিময়ও করে চলেছে। ফলে, মতাদর্শগত সংগ্রাম বলতে এতদিন যা বুঝতেন, যৌক্তিক শৃঙ্খলার সাথে সাথে তাও বেমালুম হাওয়া হয়ে গেছে, কারণ, এই জমায়েৎ কোনো শৌখিন বিতর্কসভা নয়, যেখানে প্রথমে আপনি বললেন পক্ষে, তারপর আমি বললাম বিপক্ষে এবং সঞ্চালক শেষমেষ সিন্থেসিস করে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। এ কোনো ঐক্যতান নয়,বরং এক ক্যাকোফনি,মঞ্চ ও দর্শকাসনের হায়ারার্কিকে যা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এখানে সকল শ্রোতাই বক্তা এবং সকল বক্তাই শ্রোতা,কারো মাথার পিছনে নেই কোনো অপার্থিব জ্যোতির্বলয়। এখানে সবাই গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ কেউ ই তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে সব মতাদর্শই মতামত, কেউ ই কারো চেয়ে উন্নততর নয়। এখানে কোনো শ্রদ্ধাভাজন অমুকদা নেই, যাকে দেখলেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে হয়, এখানে আমরা সবাই সমান। সোজা বাংলায় এ এক সাম্যের স্বপ্ন।

তো সুধীজন, বলার কথা এই, যে সাম্যের স্বপ্ন আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। সেই ফরাসি বিপ্লবের আমল থেকে কোনো না কোনো পশ্‌চিমী বড়দা এই স্বপ্ন আমাদের দেখিয়ে আসছেন, কিন্তু গুংগা নামক সেই লক্ষ্যটি, হায়, আজও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেল। ডেমোক্র্যাসিই বলুন আর সাম্যবাদ বা ক্রিশ্‌চিয়ানিটি,সব ব্যাটারাই, লক্ষ্য করে দেখবেন, বলে এসো বাছা তোমরা আমার সমান হও , অর্থাৎ কিনা, তোমরা ঠিক সমান নও, তোমাদের সমানত্বে উত্তীর্ণ করার মহান দয়িত্ব আমি পালন করলাম বলে আমাকে সশ্রদ্ধ চিত্তে আজীবন স্মরণ করিও। ছিলে হিদেন, এখন আমার কল্যাণে পরম পিতার সন্ধান পেয়ে ভাই হয়েছ, তবে ভুলিওনা আমার বাক্য অমান্য করলে এখনও তোমার অনন্ত নরক অনিবার্য। এ যেন বাড়ির কাজের লোককে আদব কায়দা শিখিয়ে আমার সমান করে তোলা-- আমি তার চেয়ে উন্নততর বলেই না তাকে শিখিয়ে পড়িয়ে আমার সমান করে তুলতে পারি। পশ্‌চিমী দাদারা চিরকালই এই খেলাটা খেলে আসছেন। যেখানেই পেরেছেন প্রথমে কামান বন্দুক তরোয়াল দিয়ে ঝেঁটিয়ে সাফ করেছেন রেড ইন্ডিয়ান বা মাওরি জাতীয় যাবতীয় আবর্জনা আগাছা জঞ্জাল, বাকি যেকটা বেঁচেছে তাদের দেওয়া হয়েছে পোষ মানার অব্যর্থ ট্রেনিং। আর ট্রেনিংএর পালা সাঙ্গ হলে তৃতীয় বিশ্ব নামক এক অভয়ারণ্যে তাদের অবাধে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যার পোশাকি নাম স্বাধীনতা। এখানে আপনি আমি ততটাই মুক্ত, যতোটা সবুজদ্বীপের জারোয়ারা। ওদের মতই আমাদের দেখতেও প্রথম বিশ্বের ট্যুরিস্ট আসে, আমাদের সভ্য শিক্ষিত উন্নততর করে তুলতে এইড পাঠায় পশ্‌চিমীরা, কোনো কোনো সেবাব্রতী আমাদের মুক্তির আলো দেখাতে জীবন পাত করে সন্ত উপাধি পান, এবং সর্বোপরি, আমরা প্রতিটি মূহুর্তেই আন্ডার ক্লোজ ওয়াচ। ফলে ওদের সাম্য আর আপনার সাম্য এক নয়। ওরা যা বলবে তাই হল বানী, আর আপনাকে সেই বাণী মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় উগরে দিয়ে নিজেকে ওদের সমান প্রমাণ করতে হবে। ওরা মতাদর্শের যেকটা খোপ বানিয়ে রেখেছে, তার কোনো একটাতে আপনাকে ঢুকতেই হবে, নচেৎ পরীক্ষায় ফেল, লোকলজ্জায় মুখ দেখাতে পারবেননা,গলায় দড়ি দিতে হবে। শহীদ হবার সুযোগটাও পাবেননা, আপনাকে স্রেফ ইগনোর করা হবে। আপনার সামনে ডান্ডা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাম্য, সমান আপনাকে হতেই হবে, নচেৎ পাবলিক গণধোলাই দেবে, পুলিশ পেঁদিয়ে বাপের নাম খগেন করে দেবে,বিস্মৃতির আড়ালে কোনো এক লাশকাটা ঘরে পড়ে থাকবে আপনার ছিন্নবিচ্ছিন্ন মানবশরীর। এই সাম্যে একদল ডিকটেট করবে এবং আপনি শুধু রিসিভিং এন্ডে বসে শুনবেন। এই সাম্য মূলত: একটি মিথ, আদতে একটি ভাঁওতা, যা অন্য সকল দাদার মত ইন্টারনেটও নতুন মোড়কে পরিবেশন করে থাকে। কেন্দ্রহীন যৌক্তিক শৃঙ্খলাহীন মুক্ত বাচনের ক্যাকোফনি আসলে একটি মার্কেটিং গিমিক, একটি সূক্ষতর পাওয়ার গেম। ইন্টারনেট আপনাকে এখনও পর্যন্ত কিছু ফ্রি বা সহজলভ্য স্পেস দেয় ঠিকই যেখানে আপনি যা প্রাণে চায় তাই এক্সপ্রেস করতে পারেন, কিন্তু সেটাও এই ভাঁওতারই অঙ্গ। কেন? খুব সহজ একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরা যাক আপনি নিজের একখানা সাইট বানিয়ে ফেলেছেন, এবার লোককে জানাবেন কি করে? নেট নিজেকে কেন্দ্রহীন বলে দাবী করে কারণ এর জন্য পয়সা খরচ করে অ্যাড-ট্যাড দিয়ে ঝিনচ্যাক করে শুরু করার কোনো দরকার নেই আপনার ভেঞ্চার,জাস্ট গুগল নামক সার্চ ইঞ্জিনটি আপনার সাইটটির সন্ধান দিলেই মার্কেটিংএর কাজ শেষ। আর প্রাচীন অরণ্যপ্রবাদ, যে গুগলে সবই পাওয়া যায়। সমস্ত সার্চ ইন্‌জিনের মধ্যে গুগলের অ্যালগরিদ্‌মই সবচেয়ে গণতান্ত্রিক এ বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই। গুগলের কাছে আপনার আনাড়ি সাইটটির যা মর্যাদা, আইটি জগতের একচেটিয়া অধীশ্বর মাইক্রোসফ্‌টের সাইটটির ও তাই। গুগলে পয়সা দিয়ে নাম রেজিস্টার করা যায়না, গুগল স্বয়ংক্রিয় ভাবেই নেট থেকে খুঁজে বার করে সাইট একটি বিশেষ অ্যালগরিদ্‌ম ব্যবহার করে, যাকে ওরা বলে ক্রলিং। ক্রলিং নিলে ডিটেলে জানতে হলে গুগলের সাইটে যেতে পারেন, কিন্তু মোদ্দা পদ্ধতিটা হল এই, যে গুগল সারা নেটে তাদের জানা থাকা সমস্ত পেজ পিরিয়ডিকালি খুঁজে দেখে, নতুন কোনো কনটেন্ট সেখানে যোগ করা হল কিনা। নতুন কোনো কনটেন্ট বলতে প্লেন টেক্সট এবং লিঙ্ক, দুই ই বোঝায়। এইভাবে সারা নেট খুঁজে যদি এমন কোনো সাইটের লিঙ্ক পাওয়া যায়, যা এখনো পর্যন্ত গুগলের লিস্টিতে নেই, তবে গুগল সেই নতুন সাইটটির ঠিকানা নিজের ডেটাবেসে ভরে নেয়। পরের বার থেকে সার্চ রেজাল্টে এই নতুন সাইটটি ও দেখা যাবে। আর সার্চ রেজাল্ট পেজে নতুন সাইটটির র‌্যাঙ্ক নির্ভর করবে কতগুলো পেজে আপনার সাইটের লিঙ্ক গুগল খুঁজে পেয়েছে, তার উপরে। অর্থাৎ ,যতো বেশি সাইট আপনার সাইটকে রেফার করবে, আপনার সাইটটি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

এই পদ্ধতিটি বেশ গণতান্ত্রিক হলেও, খেলাটা এখানেই। প্রথমত: যেকোনো সার্চ রেজাল্টেই গুরুত্বের বা হায়ারার্কির ধারণাটা এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছেনা। সকলেই জানেন, যে সার্চ রেজাল্টে র‌্যাঙ্কের ব্যাপারটা কি প্রচন্ড জরুরি। গুগল-সার্চের প্রথম তিনটি লিঙ্ক যে গুরুত্ব দাবী করে, বাকিরা তার থেকে অনেক পিছিয়ে থাকে। আর সার্চ রেজাল্টের প্রথম পাতায় যে সাইট জায়গা পায়না, তার থাকা না থাকা সমান। দ্বিতীয়ত: এর চেয়েও বড় ব্যাপারটা হল এখানে র‌্যাঙ্কিংএর পুরো ব্যাপারটাই আপনার হাতের একেবারে বাইরে। অর্থাৎ আপনার সাইট প্রকৃতপক্ষেই নেটে আছে না নেই, থাকলেও তার গুরুত্ব কতোটা, সেটা পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে, অন্যরা আপনাকে কতোটা রেকগনাইজ করল, তার উপরে। আর অন্যের রেকগনিশনের অর্থই হল,আপনাকে আগে প্রমাণ করতে হবে আপনি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং রেকগনিশানের যোগ্য। ফলে আমি আপনার পরীক্ষা নেব এবং আপনাকে সেই পরীক্ষায় পাশ করতে হবে, যদিও আপনি আমি সবাই সমান। এবং গুগলের এই র‌্যাঙ্কিং এটিপি র‌্যাঙ্কিংএর মতই মাসে মাসে পাল্টায়, ফলে এই পরীক্ষা আপনাকে দিয়েই চলতে হবে আজীবন। এই পরীক্ষা আপনি এড়িয়ে যেতে পারেন, সেই স্বাধীনতা আপনার আছে,কিন্তু তাহলে, আপনার উচ্চারণ নদীর ধারে জলের পাড়ে গাছের কাছে ফিসফিসিয়ে বলা কিছু অনুচ্চারিত কথার মতই উপেক্ষিত থেকে যাবে,আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে আপনার প্রবেশাধিকার থাকবেনা, রাস্তার ধারের ভিখিরির মত,উড়ালপুলের নিচে বসে থাকা পাগলের মত আপনাকে উপেক্ষা করে আমরা আমাদের দৈনন্দিন নেটচারণে ঢুকে যাব। আমরা সক্কলেই অ্যাননিমাস, কিন্তু যারা পরীক্ষায় পাশ করেছি, তাদের একটা স্ট্যাটাস সিম্বল থাকবে,আর আপনাকে কেউ পুঁছবেনা, আমরা সভ্য ও উচ্চশিক্ষিত আর আপনি ক্লাস ফোর ফেল, যদিও ভোটবাক্সে দুজনেই একটা করে ব্যালট দিই।

ফলে, যে কথা বলছিলাম, ইন্টারনেটে আপনি আর মাইক্রোসফ্‌ট একই মর্যাদা পাবেননা, পেতে পারেন না। কেন্দ্রহীন যৌক্তিক শৃঙ্খলাহীন মুক্ত বাচনের অঙ্গীকার আসলে একটি মার্কেটিং গিমিক, একটি সূক্ষতর পাওয়ার গেম। তবে এই পাওয়ার গেমের আড়ালেও যে কিছুই পেলেননা তা নয়, কেউ পড়ুক বা না পড়ুক সস্তায় বা বিনামূল্যে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য অঢেল জায়গা পেলেন, সেটাই বা কম কি? খেলায় যখন আপনাকে ঢুকতেই হচ্ছে, তখন যেটুকু পাওয়া যায় নিয়ে নিন, ঐ টুকু কুড়িয়ে বাড়িয়েই আমাদের প্রস্তুত হতে হবে অল্টারনেটিভ এক স্ট্র্যাটেজির জন্য, যেটা ঠিক কি এখনও আমাদের জানা নেই।





ই লেখা

সমস্ত শিল্পভাষার মতই নেটে লেখালিখিরও একটা নিজস্ব ভাষা আছে। শুধুমাত্র লিখিত ভাষাটি জানলাম আর লিখে নেটে তুলে দিলাম তা করলে যে চলেনা, তা প্রমাণিত। বেশ কিছু পাবলিশিং হাউস ডট কম বুমের সময় বিভিন্ন সদ্যপ্রকাশিত বইয়ের ই-সংস্করণ নেটে বিক্রি করছিল। সময়টা ভাল ছিল, বিক্রি ও হয়েছিল হটকেকের মত। তারপর ই-বই বিক্রির হার ঝপ করে পড়ে গেল। কারণটা সহজবোধ্য। স্রেফ ছাপা অক্ষর ই যদি টানা পড়ে চলতে হয়, তাহলে সেটা কম্পিউটারে পড়ার কোনো মানে হয়না, বিশেষ করে যদি দাম দিয়েই সেটা কিনতে হয়। বই পড়ার আরাম কম্পিউটার দিতে পারেনা। ব্যাপারটা হাস্যকর ও। আপনি সিনেমা হলের বা টিভি স্ক্রিনের পর্দায় কখনই পাতার পর পাতা বই দেখিয়ে চলেননা, দেখালে লোকে স্রেফ দেখবেনা, কারণ প্রতিটি মাধ্যমেরই নিজস্ব একটা ন্যারেটিভ ভঙ্গী বা ভাষা আছে। সে ভঙ্গীকে আপনি ভাঙতে পারেন, আবার মানতেও পারেন,তার কাছে সাবমিট করতে পারেন,বা রিভোল্ট করতে পারেন,কিন্তু কমিউনেকেশন যখন হচ্ছে,তখন আপনার অস্তিত্ব নিরপেক্ষ ভাবেই সে আছে। এই কথা সিনেমার ক্ষেত্রে যতটা সত্য, ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি বই কম নয়। প্লীজ ভুরু কোঁচকাবেননা, আমি দুটো মাধ্যমের তুলনা করছিনা, কারণ কোনো তুলনাই চলেনা। যদি দু একটা রেফারেন্স চলে আসে তবে অজ্ঞজনের বাগাড়ম্বর মনে করে নিজগুণে মার্জনা করবেন। তবে ই-ভঙ্গীর, যাকে এরপর থেকে ই-ভাষা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি মূল খুঁটি এক দুই তিন করে নিচে আলোচনা করা হচ্ছে, সেগুলোর প্রতি একটু মনোযোগ দিলে খুশি হব।

১। টেক্‌স্‌ট/এইচ-টি এম এল

কম্পিউটার প্রযুক্তির ভাষায় লিখিত অক্ষরমালার সারিকে বলা হয় টেক্সট বা প্লেন টেক্সট। এখানে অক্ষরমালার কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট নেই, সাদা কাগজের উপর একই সাইজের টানা গোটা গোটা কালো অক্ষর, যেমন টাইপরাইটারে হয়ে থাকে। নোটপ্যাডেও আমরা প্লেন টেক্সটই লিখে থাকি। এখানে অক্ষরগুলি শুধুই অক্ষর, তাদের সঙ্গে আর কোনো অতিরিক্ত গুণাবলী জড়িত নয়। এর পরের ধাপে আসে রিচ টেক্‌স্‌ট। এখানে অক্ষরমালার প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গেই আরো কিছু অতিরিক্ত গুণাবলী জড়িত আছে। যেমন, রং , সাইজ ইত্যাদি। এছাড়াও অক্ষরটি নর্মাল,বোল্ড বা ইটালিক্স হতে পারে। এগুলোতো গেল একটা অক্ষরের গুণ, কিন্তু গোটা টেক্সটটারও নিজস্ব কিছু গুণাবলী থাকতে পারে। অর্থাৎ, টেক্সট মানে আর শুধু লিখিত অক্ষরমালার সারি নয়, টেক্সটের মধ্যে থাকতে পারে ছবি, শব্দ এবং আরও অনেককিছু। যেকোনো অফিস সফ্‌টওয়্যারেই এই ধরণের টেক্সট লিখতে/পড়তে পারা যায়, এবং এই অনেককিছুর তালিকাটি খুবই দীর্ঘ। এর পরের ধাপেই আসে হাইপারটেক্সট, যার টেকনিকাল নাম এইচ টি এম এল। এইচ টি এম এল তার ঠিক আগের ধাপের রিচ টেক্সটের সমস্ত গুণাবলীই আত্মসাৎ করেছে, অর্থাৎ এই টেক্সটের মধ্যেও থাকতে পারে ছবি, চলমান ছবি, মুভি ক্লিপ,এবং আরও অনেককিছু, এবং এই অনেককিছুর তালিকায় প্রথমেই থাকবে বিশেষ একটি গুণ, যার নাম হাইপারলিঙ্ক। হাইপারলিঙ্ক নামক এই বিশেষ বস্তুটি একাই একটি বিপ্লব, যা একাই ই-টেক্সটকে কাগজে লিখিত টেক্সট থেকে আলাদা করেছে। ইন্টারনেট ছাড়া হাইপারলিঙ্কের অস্তিত্ব সম্ভব ছিলনা এবং ইন্টারনেট ফিলজফি বলে যদি কিছু থেকে থাকে তা এই বিশেষ বস্তুটির মধ্যে দিয়েই ই-টেক্সটে প্রকাশিত। কিভাবে? আপনি একটা লেখা পড়ে চলেছেন আপনার ব্রাউজার স্ক্রিনে, যার মধ্যের কোনো একটি বিশেষ লিঙ্ক আপনার ভালো লেগে গেল, আপনি ক্লিক করলেন, এবং চলে গেলেন অন্য একটি সাইটে, আবার সেখান থেকে আবার অন্য আরেকটি সাইটে, যাকে আমরা নেট সার্ফিং বলে থাকি, এবং এইভাবে শেষ পর্যন্ত এমন একটি জায়গায় পৌঁছলেন, যার সঙ্গে প্রথম লেখাটির একেবারেই কোনো সম্পর্ক নেই, বা থাকলেও খুবই ক্ষীণ। একটা বই তিন দিন ধরে টানা পড়ে চললাম, আর শেষ করার পর, তার রেফারেন্সে পড়তে শুরু করলাম আরেকটা বই, ইন্টারনেটে সেটা একেবারেই অবাস্তব। এখানে পড়ার ধরণটাই আলাদা, আপনি একটা বইএর শেষ,বা শুরু, বা মাঝখান যেকোনো জায়গা থেকে শুরু করতে পারেন, যেখানে সেখানে একটু খামচে খামচে পুরো বইটা র‌্যান্ডম অর্ডারে পড়ে ফেলতে পারেন, আবার দুপাতা পড়ে সম্পূর্ণ অন্য কোনো বইয়েও চলে যেতে পারেন। সত্যি কথা বলতে কি, বই ধারণাটাই ইন্টারনেটে অচল, কারণ বই পড়ার যে মনোলিথিক প্রথম থেকে শেষ অবধি পড়ে যাবার প্রকরণ, তাকে অস্বীকার করলে বই বলে আর কি ই বা পড়ে থাকে? ফলে জ্ঞানার্জনের যে আদি ও অকৃত্রিম পন্থা,মেথডিকালি পড় এবং বিষয়টাকে যে যুক্তিপরম্পরায় বিবৃত করা হয়েছে সেই যুক্তিপরম্পরাটিকে আয়ত্ত কর, তাকেই এটা অস্বীকার করে। হাইপারটেক্সট আপনাকে জানায়, মানুষ হিসাবে আপনি কোনো মনোলিথিক যুক্তিপরম্পরায় গাঁথা এলিমেন্ট নন, বরং বিচিত্র পরস্পরবিরোধী আইডিয়ার এক কোলাজ, আপনার আগ্রহও নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা কয়েকটি বিষয়ে আবদ্ধ নয়, বরং এতো অসংখ্য শাখাপ্রশাখায় পল্লবিত যা সম্পর্কে আপনি হয়তো সচেতন ভাবে অবহিতই নন। ফলে আপনার পাঠ মূলত: এই কোলাজাকীর্ণ বিচিত্র ভুবনের মধ্যে দিয়ে এক ব্যক্তিগত জার্নি,যার কাজ এই অজস্র ইন্টারেস্টকে খুঁজে নেওয়া। একে আপনি পল্লবগ্রাহীতা বলতে পারেন, কিন্তু গোটা ইন্টারনেট নামক স্পেসটির সঙ্গে এই ধারণাটি চমৎকার ম্যাচ করে যায়।

এক কথায়,ইন্টারনেট ন্যারেটিভের ইতি ঘোষণা করেছে, এবং হাইপারলিঙ্ক হাইপারটেক্সটে তার কংক্রিট ম্যানিফেস্টেশন। টেকনোলজিকাল কারণে এইচ টি এম এলই ইন্টারনেটের স্বীকৃত মার্ক আপ ল্যাঙ্গুয়েজ, ফলে হাইপারলিঙ্ক ও ইন্টারনেট অছেদ্য। আর হাইপারলিঙ্ক হাইপারটেক্সটের অংশ, ফলে হাইপারলিঙ্ককে বাদ দিয়ে ই-টেক্সট অসম্ভব। আপনি চেষ্টা করলে অবশ্য একে বাদ দিয়েও ই লেখা লিখতে পারেন,কিন্তু সে ক্ষেত্রে টেকনোলজি আপনার হাতে যে ক্ষমতাটা তুলে দিয়েছে, তাকেই অস্বীকার করা হয়, ঠিক যেমন ভাবে শট ডিভিশন সম্পূর্ণ বাদ দিয়েও ইচ্ছে করলে বানিয়ে ফেলা যায় আস্ত একটা ফিল্ম।

২।ওপেন এন্ডেড

এতক্ষণ আমরা যা আলোচনা করলাম, সেটা হাইপারটেক্সটের একটি বিশেষ গুণ মাত্র। কেউ যদি এম এস অফিস বা ওপেন অফিস ব্যবহার করেন, তাহলে তিনি জানেন, রিচ টেক্সটই কি প্রচন্ড শক্তিশালী। আর এইচ টি এম এল হল রিচ টেক্সটের একটি সুপারসেট। অর্থাৎ এর মধ্যে রিচ টেক্সটের যাবতীয় গুণাবলী ছাড়াও আছে আরো আরো অনেক কিছু। আগেই বলা হয়েছে, বস্তুত:শব্দ, ছবি, চলমান ছবি, ফ্ল্যাশ মুভি, এবং মুভি ক্লিপ সমস্ত কিছুকেই ঢুকিয়ে নেওয়া যায় এর মধ্যে। খেলার চলমান লিখিত ধারাবিবরণী এমনকি সরসরি সম্প্রচারও এখন দেখা যায় ইন্টারনেটে, যদি ঠিকঠাক ব্যান্ডউইড্‌থ থাকে। এ ছাড়াও আছে জাভা স্ক্রিপ্ট, যা পুরো ব্যাপারটায় একটা অন্য মাত্রা আনে। স্ক্রিপ্টিং নিয়ে আলোচনায় পরে আসছি, তার আগে যেটা বলার কথা সেটা হল,পৃথিবীর সবকটি শিল্প মাধ্যমের প্রকাশভঙ্গীই ই-বাচনের মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়া যায়। অবশ্যই এখানে নিছক এরিথ্‌মেটিক সামেশনের কথা বলা হচ্ছেনা। শুধু এইটুকুই বলা হচ্ছে, যে আপনি প্রয়োজনে এই সমস্ত শিল্পমাধ্যমগুলির প্রকাশভঙ্গীকে ব্যবহার করতে পারেন, আপনার ই-টেক্সটে, যেমন, দরকার হলে আপনার লেখার পিছনে জুড়ে দিলেন একটা ক্লাসিকাল মিউজিক পিস, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসাবে। অথবা সিনেমা নিয়ে হয়তো কিছু একট রেফারেন্স দিচ্ছেন, টুক করে সিনেমার আস্ত ক্লিপিং টাই গুঁজে দিলেন লেখার মধ্যে। আসলে আপনি ঠিক কি কি করতে পারেন এই ই ভাষায়, তার তালিকাটা খুবই বড়ো হলেও এখনও সম্পূর্ণ নয়। এইচ টি এম এল একটি ওপেন স্ট্যান্ডার্ড যা ক্রমশ বিবর্তিত হচ্ছে, নতুন নতুন টেকনিকাল ইনোভেশনের সঙ্গে। ফলে ই ভাষা, যদিও খুবই শক্তিশালী, কিন্তু তার ফর্ম ঠিক কি, এই নিয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনও আসেনি, সম্ভবত: কখনই আসবেনা, কারণ প্রতিটি টেকনোলজিকাল পরিবর্তনকেই এই বাচন নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে নেবার চেষ্টা করবে। এর শেষটা আপনি কখনই দেখতে পাবেননা, কখনই বলতে পারবেননা ই বাচনের সমস্ত কলাকৌশলগুলি আমার আয়ত্তে। ই বাচন কোনো স্থির ও অচঞ্চল ধ্রুবতারা নয়, বরং শিল্প ও টেকনোলজির মধ্যে দিয়ে এক বহুমাত্রিক যাত্রা, যার প্রতিটি পথের বাঁকেই লুকিয়ে থাকতে পারে বিস্ময়, প্রতিটি মোড়েই উন্মোচিত হতে পারে নতুন দিগন্ত। শিল্প বলতে আগামী পৃথিবী যদি কিছুটা স্পোর্টস, চিয়ার লিডারদের শরীর ঝাঁকানো, কিছুটা লেজার শো আর ফিল্ম ক্লিপিংস এর এক ম্যাজিকাল সমাহার বোঝে, তাহলে, ই বাচন তাকেও ধারণ করতে সক্ষম -- এই মাধ্যম ভীষণভাবেই শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক, প্রসারণক্ষম এবং শেষহীন, এবং এই সীমাহীনতা এই মাধ্যমের অন্তর্নিহিত সত্ত্বার অংশ।

ফলে, আপনি যদি একজন ই লেখক হন, লেখার পদ্ধতি আমি শিখে ফেলেছি, এই আত্মপ্রসাদ আপনাকে এখানে কখনই গ্রাস করতে পারেনা। প্রত্যেকটি পথের বাঁকে আপনার উপর এসে পড়বে নিজেকে প্রকাশ করার নতুন নতুন উপকরণ, যাকে আপনি উপেক্ষা করতে পারেননা। আপনাকে অবিরত শিখে চলতে হবে, প্রত্যেকটি দিন শুরু করতে হবে গোড়া থেকে, প্রতিটি মূহুর্তে আগের মূহুর্তের আমিকে ভাঙচুর করতে হবে, এবং নিজেকে নতুন করে প্রকাশ করার প্রকাশ ভঙ্গীকে শিখতে হবে। আপনাকে হতে হবে ততোটাই ওপেন এন্ডেড, যতোটা এই মাধ্যম।

৩। ইন্টার‌্যাক্টিভ

আগেই বলা হয়েছে, হাইপারটেক্সটের মধ্যে রিচ টেক্সটের যাবতীয় গুণাবলী ছাড়াও আছে আরো আরো অনেক কিছু। আমাদের আলোচনার এই তৃতীয় ও সর্বশেষ গুণটি সেই আরও অনেক কিছু শ্রেণীভুক্ত। এই মাধ্যম মূলত: ইন্টার‌্যাকটিভ। একজন লিখছেন বা সৃষ্টি করছেন, এবং বাকিরা তা উপভোগ করছে, ---- লেখক পাঠক, প্রোডিউসার উপভোক্তা এই একমুখী একমাত্রিক যান্ত্রিক সম্পর্ককে সংজ্ঞাগত ভাবেই ভেঙ্গে ফেলেছে এইচ টি এম এল। আপনার সৃষ্টির মধ্যে আপনি রাখতে পারেন বাট্‌ন, ড্রপ ডাউন লিস্ট ইত্যাদি যাবতীয় উইন্ডোজ কন্টোল, যা ব্যবহার করে পাঠকের সঙ্গে আপনি সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। তদুপরি এইচ টি এম এল মানেই তার সঙ্গে আছে জাভা স্ক্রিপ্টিং ,যা দিয়ে ব্রাউজারকে যে কোনো ভাবেই ম্যানিপুলেট করা যেতে পারে। জাভা স্ক্রিপ্ট, এই মূহুর্তে, একটি ফুল ফ্লেজেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের চেয়ে কিছু কম শক্তিশালী নয়। সব মিলিয়ে, স্ক্রিপ্ট এবং এইচ টি এম এল ব্যবহার করে আপনার পেজকে, যদি আপনি চান, করে তুলতে পারেন যেকোনো ভিডিও বা কম্পিউটার গেমের মতই ইন্টার‌্যাকটিভ, আকর্ষণীয় ও ম্যাজিকাল। ফলে ই ভাষা আপনার শিল্পভাষার সামনে রাখছে ওপেন চ্যালেন্‌জ -- যে তুলে দিলাম তোমার হাতে যাদুদন্ড, প্রোগ্রাম কর, ম্যাজিক বানাও ,এবং এদেরকে ইনকর্পোরেট কর তোমার শিল্পভাষায়। অল্টারনেটিভ বাচনভঙ্গী দীর্ঘ দিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছে, এমন এক পরশপাথর, যা ডাইরেক্ট ফিল্মের চেয়েও বেশি ইন্টার‌্যাকটিভ, যা এতই ফ্লেক্সিব্‌ল যে দর্শককে প্রয়োজনে নিয়োজিত করতে পারে সরাসরি ডায়ালগে, প্রয়োজনে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে এক যাদুজাগতিক উপস্থাপনায়। ই-ভাষা আপনার সামনে তেমনই একটি সম্ভাবনা তুলে ধরছে,যা এখনও এক্সপ্লোরেশনের অপেক্ষায়।