• বুলবুলভাজা : নববর্ষ ইস্পেশাল ২০১৩
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
  • পাতা : 1
  • হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ

    - ইন্দ্রনীল ঘোষদস্তিদার
    বুলবুলভাজা | ২৯ এপ্রিল ২০১৩ | মন্তব্য : ২৩, লিখছেন (ব, Jayanta, minakshi ray)

    এর থেকে মনে হয়, হাসাকে যতটা সুখী ভাবতাম-মানে এখন ভাবছি বসে- ততটা সুখী নিশ্চয় সে ছিল না। শাশুড়ী ও পোড়া রুটি প্রসঙ্গে তার অত খচে যাওয়ারই বা কি ছিল, সেসব কি তার দুর্বল পয়েন্ট, অ্যাকিলিসের হিল? আর বনিতা, সে-ই কি সার্থক সুখী ছিল?  নাকি সুখের কল্পনা করে রস পেত এত?সে কি হাসা'র নাম করে নিজের ভবিষ্যৎজীবনের সুখের ছড়াই বানাত বসে বসে?  এমন বনিতা , যার পায়ে সোনার নূপুর, যার শাশুড়ী পালিয়ে বেঁচেছে, এবং যে দিনান্তে পেট ভরে রুটিটা - পোড়া হোক যাই হোক-অন্ততঃ খেতে পায় ! এইরকম সব প্রশ্ন পায় এখন ভাবতে বসলে। হাসা ও বনিতাকে পেলে খুঁটিয়ে জেনে নেওয়া যেত। কিন্তু তাদের পেলে তবে তো ! আমারও বয়স বাড়লো, আর দুজনেই  এক এক করে- না,  যা ভাবছেন তা নয়, একসঙ্গে   নয়- যে যার মত আলাদা আলাদা কোথায় যে খসে পড়লো, কে জানে। আর তাদের খুঁজে পাওয়া গেল না।

  • সিলেবাসের মেয়েরা

    - সুমেরু মুখোপাধ্যায়
    বুলবুলভাজা | ২৯ এপ্রিল ২০১৩ | মন্তব্য : ২৪, লিখছেন (বিপ্লব রহমান, তালিব বাশার নয়ন (লেকক ছদ্ম নাম, তালিব বাশার নয়ন - ছদ্ম নাম নয়ন)

    মরা মাছের চোখের মত তা ছিল ক্ষুদ্র ও নিষ্প্রভ, আমাদের স্কুল জীবন বা মফস্বল। মরা মাছের চোখ যায় যত দূরে, সাইকেল বুঝি কখনো অপেক্ষা করত ঠিক ততটা দূরে পার্শ্ববর্তী স্কুলের শেষ ঘন্টাটি শোনার জন্য। কার জন্য, আজও জানি না। তবে, রবিবারে ক্ষমাদি আসতেন সেতার শিখতে পাশের বাড়িটিতে, তার শাড়ি বা সালোয়ার মিশে থাকত তার পেলব ত্বকে, আজ যদি বলি সে’ই ছিল সেতার আর হাসলে ঝালা বাজত দুই বাড়ির সীমানায় থাকা কাঞ্চন ফুলের গাছে, তাহলে আজ সেই শহরের অনেকেই মেনে নেবেন, সেই ছিল আমাদের মধুবালা টু সুচিত্রা সেন। মাধ্যমিকের পর জেনেছিলাম ক্ষমাদির ছেলে পড়ে আমার থেকে এক ক্লাস নীচুতে, কাজেই দলে ভারী হওয়ারই সম্ভাবনা। গুপী ডাক্তারের মেয়ে মহাশ্বেতা ছিল আমার থেকে দুই বছরের ছোট। শান্ত মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে তর্ক করত নাওয়া-খাওয়া ভুলে, সেই JNU যাওয়ার আগে পর্যন্ত। কানগুলো লাল হতে হতে কখন যে ঝান্ডা হয়ে পতপত করে উড়ত টের পেতাম না। ভাবতাম বুঝি ম্যাজিক দেখছি, সে যে শুধু আমিই দেখতাম না তা নয়, বিজনজেঠুকে সাইকেলে নিয়ে তাদের বাড়ি যাওয়া সূত্রে; বিজনজেঠুই দেখতে পেত সকলের আগে। আমি কি ছাই সে বয়সে অত কিছু দেখতে পেতাম, আজও হয়ত পাইনে, কিন্তু মহাশ্বেতা উফফ সে এক প্রকাণ্ড কাণ্ড বটে, বিজনজেঠুর সঙ্গে তর্ক করত বেদ-উপনিষদ নিয়ে যার বিন্দুমাত্র বুঝতাম না আমি, নির্ঘাত সেসব বেদ-উপনিষদ ফ্রেঞ্চ নতুবা জার্মান ভাষার। টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আমাদের পাশের কোয়ার্টারের গায়েনকাকুর ছিল তিন মেয়ে শাশ্বতী, মহুয়া আর কাকলি। ছোটটি আমার সমবয়সি গানের গলা ছিল তারাপদ রায়ের মত। মেজটি একবছর অন্তর ফেল করে সমক্লাসী হয়েছিল, একদা। বড় মেয়ে সারা জীবনে একটা ছবিই নিদেন পক্ষে দশ হাজারবার এঁকে ছিল গুচ্ছের মোম ও জলরঙ নষ্ট করে। একটা বাঁশ যার মাথাটা মানুষের। কম্পিটিশনে-টনে ‘একটি গ্রামের দৃশ্য’ বা ‘বাংলার উৎসব’ বিষয় দেওয়া থাকলেও সে সেই হাইফান্ডার ছবিটিই আঁকত, ফলের আশা না করে। তার দেখাদেখি মেজ মেয়েটিও যখন ওই একই ছবি সকাল বিকেল প্র্যাকটিশ করতে শুরু করে সেই সময়ে আমরা কোয়ার্টার ছেড়ে অন্যত্র চলে যাই। আমাদের একরত্তি মফস্বলে রুমঝুম মিত্র সম্ভবত বিখ্যাত ছিল অনেক কারণেই। প্রয়াগে যেমন গঙ্গা আর যমুনাকে রঙের তারতম্যে চেনা যায় তেমনি ছিল রুমঝুমের অন্তঃ ও বহিঃবাসের তফাত। অন্তঃ বলে কিছু আদিতে থাকলেও অন্তে থাকত না। অতএব সে ছিল ডাকাবুকো। প্রেম করত তারক নামের এক মোটর মেকানিক বা গ্যারেজের মালিকের সঙ্গে। মাধ্যমিকের পর তিনমাসের ছুটির অবকাশে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়েটা সেরে ফেলে। আমি আমার উচ্চ-মাধ্যমিকের পর দেখেছি রুমঝুম বাচ্চা কোলে নিয়ে এক হাতে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে। নিশ্চিত বুক ফুলিয়েই, বাচ্চার আড়াল থাকায় ততটা টের পাই নাই, মাইরি। আমাদের স্কুলের পাশেই গঙ্গা বরাবর হুগলি মহসীন কলেজে আমরা ক্লাস করতে যেতাম, উঁহু কোন জয়-জয়ন্তীর অপর্ণা সেন গোছের দিদিমণির জন্য নয়, সামান্য এক ছাত্রীর জন্য। ফলে ক্লাসের বিষয় ছিল গৌণ, চিত্রোপমা সেনগুপ্ত ঢের ঘটনাপ্রবণ, ফলে সব ক্লাসই ছিল দর্শনের। স্কুলের ব্যাগে একটা টি-শার্ট ভরা থাকত টানা বছর খানেক, দর্শন-শাস্ত্রে অনার্স পড়ার মামুলি পাসপোর্ট। স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখার চাইতে অন্য সিনেমায় প্রবেশ করতাম আমরা, আদি বাংলায় যার নাম ঝারি। এক ফুল দো মালি, মেনলি দুই বন্ধুর অভিপ্রায় বদবুদ, তার নামটা আর কবরস্থানে উল্লেখ করলাম না চারপাশে অশান্তির সংসারে বোঝা না বাড়ানই শ্রেয়, আজকাল সমতলেও ল্যান্ড স্লাইড ঘটছে ঘনঘন, ললিতা রায় বলে দিয়াছে গোরস্থানে সাবধান। ইউনিফর্ম বদলে সোজা কলেজ। এটা ছিল বেশ নিয়মিত ব্যপার, একজন অধ্যাপক আমাকে নামেও চিনতেন মনে আছে। সেই চিত্রোপমার নামডাক ছিল প্রেম ভাঙতে, সিওওওওওওওওওর শট। আভিজিৎ-মৌসুমীর তিন বছরের জমাট প্রেম ভাঙ্গতে সে সময় নিয়েছিল সাড়ে তিন মিনিট, মাত্র একটি চুম্বন। হায় তখন আমাদের জমাটি প্রেম নাই, ভাঙাভাঙিও নাই, শুধু হতাশা। ইংলিশ অনার্সে পড়ত রানু। রানু চক্রবর্তী। বিটিপিএস থেকে আসত। বন্ধু প্রতনুর তখন প্লে টাইম। আরেক সহপাঠী মিত্রার সঙ্গে লুকিয়ে চুটিয়ে প্রেম করায় রানুর কাছে আমি গেছি মাঝে মাঝে প্রক্সি দিতে, ডিস্ট্যান্ট প্রক্সিমিটি। ইংলিশ অনার্স পড়া রানু আমার সেকেন্ড পেপারের রিয়েল আনালিসিসের ক্লাস নোট সুন্দর করে ফেয়ার করে দিত, পাছে আমার একটু লেখাপড়ায় মন বসে। হা হতোস্মি, কাকস্যপরিবেদনা। না আমার কিস্যু পরিবর্তন হয়নি তাতে, বোঝে না সে বোঝে না। পরে, বছর ৫/৬ পরে শুনেছিলাম রানু বাড়ি থেকে পালিয়েছে শীতে কাশ্মীর থেকে আসা এক শাল-ওয়ালার সঙ্গে। কাজেই অকরিতকর্মা হিসাবে যেমন পেকে ঝানু হচ্ছিলাম দিনকেদিন, তেমনই পালাচ্ছিলাম সেই ছেঁড়া গার্ডারের মত নদীটির পাশে পড়ে থাকা চেনা মফস্বল ছেড়ে, কোন উপসিদ্ধান্তে আসাটা জরুরি নয় জেনেও। জানালার বাইরে তখন প্রবল ঝড়। মন অশান্ত। ঝান্ডা, মায়া, ভাষা সব সুনির্দিষ্ট অলৌকিকতার বশবর্তী ছিল না। অতঃপর আখ্যান আরম্ভ।

  • কাব্যি

    নববর্ষ ইস্পেশাল ২০১৩ | ২৪ এপ্রিল ২০১৩ | মন্তব্য : ৩, লিখছেন (sosen, nina, ধুরন্ধর ঝাঁট)

    গাজন - সোমনাথ রায়

    লিটলমেঘ মেলা - শুভ্রনীল সাগর                 

    গণেশ পাইনের রানি - শিবাংশু দে

    না-হওয়া কথারা -সোনালি সেনগুপ্ত

    দৃষ্টিকোণ  - শান্তনু রায়

    মামুলি কথা -মলয় ভট্টাচার্য

    মুকুর - শ্ব 

    মর্স কোড - অধীশা সরকার

    গুহালিপি - চিরন্তন কুণ্ডু 

    মনান্তর - নিশান চ্যাটার্জী

    স্বগতভাষণ - সুমন মান্না 

    ফেরা - মিঠুন ভৌমিক  

     

     

  • স্কুলের পথে

    - শঙ্খ কর ভৌমিক
    নববর্ষ ইস্পেশাল ২০১৩ | ১৭ এপ্রিল ২০১৩ | মন্তব্য : ১৯, লিখছেন (keu na, সুকি, nina)

    নতুন ছেলেটা খুব বকবক করছে। মেয়েটা খুব হাসছে। প্রথম ছেলেটার মুখে ক্ষুণ্ণ ভাব। হঠাৎ খেয়াল করে টিনের বাক্সটা এখনো তার হাতে। বাক্সটা মেয়েটাকে ফেরত দেয়। মেয়েটা এর হাত থেকে বাক্সটা নিয়ে অম্লানবদনে অন্য ছেলেটার হাতে ধরিয়ে দিল। তাতে প্রথমজনের মুখের ক্ষুণ্ণ ভাবটা আরো বেড়ে গেল।

    একটু পরে পথের ধারে একটা খারাপ হয়ে যাওয়া রোড রোলার। প্রথম ছেলেটা হাঁচোড়পাচোড় করে ড্রাইভারের সিটে ওঠার চেষ্টা করে। ইতিমধ্যে সঙ্গীরা অনেকটা এগিয়ে গেছে দেখে হাল ছেড়ে দিয়ে আবার হাঁটা লাগায়।

    স্কুল মনে হয় আর বেশি দূরে নয়। রাস্তায় এদের মতই রংজ্বলা নীল হাফপ্যান্ট অথবা স্কার্ট পরা কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে দেখা যাচ্ছে এবার।

  • কাঠপাতার ঘর

    - কুলদা রায়
    নববর্ষ ইস্পেশাল ২০১৩ | ১৭ এপ্রিল ২০১৩ | মন্তব্য : ১২, লিখছেন (de, nina, vikram)

    বাড়ির পেছন দিকে ছিল একটা এঁদো ডোবা। আর ঘন ঘাস। এই ঘাস শুকিয়ে হয়েছিল আমাদের প্রিয় বিছানা। এই নরম গরম বিছানায় আমরা জড়াজড়ি ঘুমাতাম। আবার ঘুমের মধ্যে স্বপ্নও দেখতাম। সে সময় আমাদের একটি ছোটো বোন আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল। ও স্বপ্ন দেখতে জানত না।

  • নিদ্রাকাল

    - পাপড়ি রহমান
    নববর্ষ ইস্পেশাল ২০১৩ | ১৭ এপ্রিল ২০১৩ | মন্তব্য : ১, লিখছেন (বিপ্লব রহমান)

    বাদুরে খেয়ে ফেলা লিচুর খোসার মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অন্ধকারে ফচকাটা ঝলসে ওঠে! রাত্তির সবে গভীর হতে শুরু করেছে। ঘন-দুধের সর হয়ে তখনো তা পুরু হতে পারে নাই! অথচ শলাগুলোর তীক্ষ্ণ আগা আয়শা খাতুনের দিকে তাক করা! খানিক পরই তা ধাই করে বুকে বিঁধে যাবে। একেবারে বাম পার্শ্বে। বাম পাশ, না ডান? ডান পাশ, না বাম? যেনো ভয়ানক তাল-বেতালের ভেতর পড়ে আয়শা খাতুন উদ্দিশ করতে পারে না! কিন্তু সে নিশ্চিত জানে তাক করে থাকা ফচকাটা তাকে বিদ্ধ করবে। করবেই। ফচকার ধারালো শলা বুকের মাংসপেশিতে ঠিক ইঞ্চি তিনেক গেঁথে যাবে। মুহূর্তে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটবে। আর আয়শা খাতুন তখন আর্তনাদ করে উঠবে। তীব্র-তীক্ষ্ণ আর্তনাদ। অতঃপর মরিয়া হয়ে সুইচ বোর্ড হাতড়াবে। কাঠের বোর্ডটা হাতে ঠেকলে খুট করে সুইচ জ্বালাবে। 

    এই পর্যন্তই।

    তারপর সবকিছু শান্ত। স্থির। নিরব। নির্জন। নিথর। একেবারে গোরস্থানের মতো থই থই নির্জনতায় ভরে যাবে ঘরখানা। আয়শা খাতুন ধীরে সুস্থে এই নির্জনতায় পা ডুবাবে। বালিশের কাছে রাখা চশমাটা চোখে পড়বে। চশমা চোখে নিজের বুক-পেট ভালো করে দেখবে। হাতিয়ে হাতিয়ে রক্তচিহ্ন খুঁজবে। অতঃপর ফচকার তীক্ষ্ণধার শলাগুলো খুঁজবে। কিন্তু কোথাও কিনা ওইসবের আলামত নাই! সব যেন ভোজবাজির মতো মিলিয়ে গেছে!

    আয়শা খাতুন চোখ থেকে চশমা খুলে ফেলবে। আঁচলের কোণা দিয়ে ভালো করে মুছে-টুছে ফের পড়বে। এবং পুনরায় দেখার চেষ্টা করবে। কোথায় সেই ক্ষত? কোথায় রক্তের প্রপাত? ঝলসে ওঠা ফচকা? এই সবের চিহ্নও কোথাও নাই!

    এই রকম অযাচিত বিপদে আয়শা খাতুন কালে-ভদ্রে পড়েছে। অবশ্য এ বিষয়টাও তো নিশ্চিত নয়। জীবন যদি মস্তক হয় তাহলে তার লেজ হলো বিপদ! ফলে যতদিন জীবন ততদিন বিপদ। ধড় থেকে লেজ আলাদা করা যায় না। জীবন আর বিপদ তাই আষ্টে-পৃষ্টে বাধা থাকে!

  • চিহ্ন

    - মাজুল হাসান
    নববর্ষ ইস্পেশাল ২০১৩ | ১৭ এপ্রিল ২০১৩ | মন্তব্য : ৭, লিখছেন (সিদ্ধার্থ, যশোধরা, দীপ)

    আমার মা ফার্মগেট চিহ্নিত করে রাখে একটা ব্যানার দিয়ে। যাতে লেখা ‘গরু-ছাগলের বিরাট হাট’। পাশ দিয়ে দুইটা বড় বিল্ডিং, তারপর টুকরি-মাথায় কয়টা বেঞ্চি, কিছু গাছ, হ্যাঁ পার্ক, তারপরেই চক্ষু হাসপাতাল। মায়ের চোখে সমস্যা। মা আমাকে চিনতে পারো তো মা? মা-মা! বারবার বলার পরও তার এই বাতিক যায় না। আরে বাবা, অই ব্যানার যে আজীবন থাকবে না—এই জানা কথা তারে কে বোঝায়? এমন তো হইতে পারে একদিন দেখা গেল—সামনে দিয়ে কালো বিড়াল পথ কেটে যায়নি, বাম চোখ সকাল থেকে থেকে-থেকে নাচেনি, আমার মা যাকে বলে চৌখ নাচানি, বলে ডাইন চৌখ নাচলে সুসংবাদ আর বাম চৌখ নাচিলে তোর কপালোত শনি। এমন তো হতে পারে সব পূর্বাভাসের দেবতারা, চিহ্নগুলো উধাও হয়ে গেছে! তখন? মা তারপরেও নাখালপাড়াকে চিনে রাখে ‘এইখানে ভাল হাতের কাজ করা হয়’, ইন্দিরা রোডকে ‘বনসাই প্রশিক্ষণ’ আর নিজের বাসাকে চিনে রাখে তিন রোড আগে একটা মস্ত বড় খাড্ডা দিয়ে। আমার ভয় করে। মা আমাকে চিনতে পারো তো মা? আমি তোমার লাল, মা, আমি তোমার লাল, লাল পান্না। আমি বলি মা পান্নাতো সবুজ। তবু মা টাকা জমায়, বুড়া বয়সে তাকে কে দেখবে? কে? এর কাছ থেকে চেয়ে, আধিয়ারের কাছে তিন ছটাক ধানের প্রাপ্য বুঝে নিয়ে, বাপের পকেট কেটে, আমাদের গিফটের টাকা জমানোর নাম করে, আমার সুন্নতের কচকচি নতুন ২ টাকার বান্ডিলের কথা এইমাত্র মনে পড়ল, এইভাবে নিজের পাত থেকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য সরিয়ে রাখে মা। ‘মা আমি তো আছি’—বলতে পারি না। বলতে পারি না, মা এক ভয়ানক রূপসীর হাত থেকে পালিয়ে আছি, ওরা আমাকে মিষ্টি খাওয়াইতে চায়। মা সুরা পড়ে, ফুঁ দেয়, আমার চোখে মুখে লেপ্টে যায় বর্ণমালা। মা আমার হাতে লেখে ‘পুত্র’, চোখে লেখে ‘নীল’, হাতে-পায়ে ফোঁড়ার দাগের একটু নিচে লিখে দেয়— ‘৮ সোনারগাঁও জনপথ রোড, উত্তরা, মাস্কট প্লাজা থেকে সোজা পশ্চিমে একটা ৪ রাস্তা, তারপরে আরেকটা ৪ রাস্তা, দুই তিনটা বাড়ির পর একটা তিন ডাবগাছঅলা বাড়ি’—যাতে লোকে জিজ্ঞেস করলে বলতে পারি এই আমার বাড়ির ঠিকানা।

  • জ্যোৎস্নায় জোনাকি

    - অরূপা কলিতা পতঙ্গিয়া (অনুবাদঃ নন্দিতা ভট্টাচার্য)
    নববর্ষ ইস্পেশাল ২০১৩ | ১৭ এপ্রিল ২০১৩ |

    জোনাকির গ্রামে আজ পর্যন্ত বাসের রাস্তা তৈরি হয়নি। কোথাও যেতে হলে  বেশ খানিকটা  হেটে বড় রাস্তায় এসে বাসের জন্যে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। ধুলো ও বর্ষার কাদামাখা পা খানা বট গাছের তলায় চাপা কলের জলে ধুতে ধুতে বার বার ঘাড় উঁচু করে দেখতে হয় জোনালি নামে গুয়াহাটি যাওয়ার বাসটা আসছে কি না ! কোন কারনে জোনালি এসে না পৌঁছালে ম্লানমুখে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। বাসে বসার কথা কেউ ভাবে না। হাঁস-মুরগি,শুকনো মাছ ,মাগুর-কই মাছের টিন, শুকনো পাটের দম বন্ধ করা বাসে দাঁড়াতে পারাটাই পরম সৌভাগ্যের বিষয়। অবশ্য বিশেষ কাজ না থাকলে কেউ ই গ্রামের বাইরে যাওয়ার কথা চিন্তাও করে না।

  • না হাঁচিলে যারে

    - জয়ন্তী অধিকারী
    বুলবুলভাজা | ১৭ এপ্রিল ২০১৩ | মন্তব্য : ৯৮, লিখছেন (ranjan roy, pi, শ)

    এক যে ছিল ভীষণ কেবলী মেয়ে , টিঙটিঙে রোগা,থাকার মধ্যে মাথায় ঘন চুল,মুখচোরা আর প্র্যাকটিকালে ভয়।কেমিস্ট্রী ছাড়া সবকিছু পড়তে ভালবাসে, পাকপাড়া থেকে বেলগাছিয়া  এসে  ট্রামে করে কলেজ যায়।
    আর ছিল এক ডাক্তারীর ছাত্র,বেজায় গম্ভীর, নেহাত দরকার না পড়লে কথাটথা কয় না, সবসময়  রামগরুড় মুখ করে ঘোরে কিন্তু পেটে শয়তানি বুদ্ধি গিসগিস করে।
     সেদিন ডিসেম্বর মাস,অসময়ে প্রবল বৃষ্টি।
    হাঁচতে হাঁচতে কেবলী কলেজে চলেচে, বগলে তিনটে প্র্যাকটিকাল খাতা, এক হাতে তোয়ালেরুমাল,অন্য হাতে বাসের রড, কাঁধে ঝোলা  ব্যাগ ।

  • শ্যামাপোকা

    - রূপঙ্কর সরকার
    নববর্ষ ইস্পেশাল ২০১৩ | ১৭ এপ্রিল ২০১৩ | ১ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ২৫৭, লিখছেন (রূপঙ্কর সরকার, শুদ্ধ, র)

    - এক থাপ্পড় লাগাব অসভ্য মেয়ে, সিনিয়ারদের সঙ্গে কিভাবে কথা বলতে হয় জাননা ?
    - যাব্বাবা, আমি কোথায় ভাল মনে বলতে গেলাম, তোমার জীন্‌সটা ফ্যান্টা, আর তুমি চমকে দিলে ? দেখ, সিনিয়ার বলে অত এয়ার নিওনা, মোটে তো দুবছরের বড় –
    - চমকে দিলাম আবার কী ভাষা, ঠিক করে কথা বল। আমাকে কী বলে ডাকলে তুমি ? আমার নাম শুচিস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ছোট করে, স্মিতা। বুঝলে ?
    - কী করে জানব দিদিভাই, দুনিয়ার লোক তোমায় শ্যামা বলে ডাকে শুনি, তাই আমিও বললাম, শ্যামাদি। খুব অন্যায় করেছি না? পায়ে ফায়ে ধরতে হবে নাকি?

  • পাতা : 1
  • হরিদাসের বুলবুলভাজা : সর্বশেষ লেখাগুলি
  • মিষ্টিমহলের আনাচে কানাচে - দ্বিতীয় পর্ব
    (লিখছেন... দীপক দাস , দীপক দাস , দীপক)
    মিষ্টিমহলের আনাচেকানাচে
    (লিখছেন... দীপক, J, দীপক)
    অচিন্ত্যনীয় লাঞ্চনা
    (লিখছেন... বিপ্লব রহমান, সে)
    রাজনীতির জয়- পরাজয় আপাতত এক বিরাট মানবিক উদযাপনের মুখোমুখি
    (লিখছেন... g, Sarbani, Supriya Roy Chowdhury)
    আফজল গুরু – বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে?
    (লিখছেন... Du, Du, দোবরু পান্না)
  • টইপত্তর : সর্বশেষ লেখাগুলি
  • কাগজ আমরা লুকাবো না
    (লিখছেন... Sibajyoti Bardhan, দোবরু পান্না, Du)
    NRC-NPR-CAA : প্রতিবাদের ছবি
    (লিখছেন... pi, এবার? )
    নিমো গ্রামের গল্প
    (লিখছেন... )
    গুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিতব্য বইএর জন্য দত্তকের আহ্বান
    (লিখছেন... গুরুচণ্ডা৯, Guruchandali, গুরুচণ্ডা৯)
    ঐতিহ্যমন্ডিত বাংলা চটি সিরিজ
    (লিখছেন... )
  • হরিদাস পালেরা : যাঁরা সম্প্রতি লিখেছেন
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    (লিখছেন... খ, 2024, রৌহিন)
    গুরুচণ্ডা৯‘র ঢাকা অ্যাটক!
    (লিখছেন... aranya, বিপ্লব রহমান, রৌহিন)
    কৈলাসে কেলেঙ্কারি
    (লিখছেন... দোবরু পান্না)
    ইরানে - নীলাঞ্জন হাজরা
    (লিখছেন... বিপ্লব রহমান , Nilanjan, বিপ্লব রহমান)
    কাজুতন্ত্র ও সুফিবাদ
    (লিখছেন... দ, de, J)
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তত্ক্ষণাত্ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ যে কেউ যেকোনো বিষয়ে লিখতে পারেন, মতামত দিতে পারেন৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
  • যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত