• বুলবুলভাজা : মোচ্ছব
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
  • পাতা : 4 | 3 | 2 | 1
  • সূচীপত্র

    - বছর শুরুর গুরুচন্ডা৯
    মোচ্ছব | ০৫ জানুয়ারি ২০২০ | ৫৩ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) |

    সূচীপত্র

  • টারজন

    - সাদিক হোসেন
    মোচ্ছব | ০৪ জানুয়ারি ২০২০ | ৭ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) |

    অণুগল্প - ধরা যাক, আকাশে চাঁদ ফুটে আছে। কদমগাছের তলায় সেই আলো ডাবের শাঁসের মত ঘন। অদূরে ঝোপঝাড়। সেইখানে জোনাকির আলো। জ্বলছে, নিভছে। পাশেই ঝিল। চাঁদের আলোয় তা চকচকে। হাওয়া দিলে ঢ্যামনা সাপের মত জলের উপরিতল নড়ে। হাওয়া দিচ্ছে। নিঃশব্দে লক্ষ্মী পেঁচা উড়ছে। ইঁদুরেরা গর্তে ঢুকে যাচ্ছে। আরও ধরে নেওয়া যায়, ঐখানে, চাঁদের ঐ গোলাকার থালা দেখে মানবেতর প্রাণীটি আবাক, আশ্চর্য্য হয়েছে।

  • অবন্তিকাবানুর জন্য প্রেমের কবিতা এবং

    - মলয় রায়চৌধুরী
    মোচ্ছব | ০৪ জানুয়ারি ২০২০ | ৪ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ২, লিখছেন (r2h, বিপ্লব রহমান )

    বললুম : এরকম মানে ? 

    এরকম মানে কেমন যেন বাউল বাউল
    দেহতত্ব তোমার কবিতা জুড়ে
    রসে-রসে টুপটুপে
    সেই প্রথম থেকেই লিখছ এই রকম কবিতা
    কেন গো ?
    জিগ্যেস করল তরুণী 

  • সময় অসময়ের কবিতা

    - চৈতালী চট্টোপাধ্যায়
    মোচ্ছব | ০৪ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ১, লিখছেন (বিপ্লব রহমান )

    সতীন

    পদ্মপাতায় জল -
    জল, তুমি কার?ওর না আমার?
    কলহে ব্যাপৃত হয়ে পড়ি।
    কাঁচা ইলিশের ঝোল পুড়ে যায়।
    চোখের নাগাল ছুঁয়ে নীলকন্ঠপাখি ঘুরে যায়।
    ফুলের আঘ্রাণ উড়ে যায়।
    কালো চাদরের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে জগৎসংসার।
    অজ্ঞান। দেখতে পাই না।আর,
    সেই অবসরে
    পদ্মপাতার থেকে জল খসে পড়ে

    উইমেন্স লিব্

    মাঝরাতে আলো জ্বেলে রাখতে ভালোই লাগে।
    আলমারি খুলি।
    কাপড়ের ভাঁজ ভেঙে ডানাদুটো বের করে এনে
    মেঝেয় বিছোই।
    মোমের পালিশ ঘষি।
    ফের তুলে রাখি।

    একদিন উড়ে যাব বলে

  • খুলো না ওর হাতের দড়ি

    - সোমনাথ রায়
    মোচ্ছব | ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৩ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ৪, লিখছেন (Kushan, শিবাংশু , রৌহিন)

    বিশ্বরূপে মোহিত হলে মাটি খাবে ঘরের ছেলে
    খুলো না ওর হাতের দড়ি আটকে রাখো রান্নাশালে
    কোন্‌ মথুরায় চলে যাবে এইবার যদি সুযোগ মেলে
    তখন দেখবে নন্দরানি শূন্য যে ঘর রাত পোহালে-

    বলে দিও দিব্যি কেটে ঐ যমুনা আর না পেরোয়
    পাড়ার মাঠেই খেলুক ঘুরুক নিজের পাঠে বসুক ভোরে
    ননীর অঙ্গে ছপটি মেরো বকলে যদি না করে ভয়
    যার অন্তরে জগৎ কাঁদে কাঁদাও তাকেই শাসন করে

  • দূরের জানালা দিয়ে যে মেয়েটিকে দেখা যায়, তার মন এবং

    - মণিশংকর বিশ্বাস
    মোচ্ছব | ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৩৬ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ৩, লিখছেন (Prativa Sarker, সুকি, গুরুচণ্ডা৯)

    যাইনি কখনো ও বাড়িতে
    চানঘরে দেখিনি কখনো জল পড়ে যায়—
    অথচ শরীর ভেজেনি একটুও
    শুনিনি রবি ঠাকুরের গান বসবার ঘরে বসে
    শুধু দেখেছি সিঁড়ি ঘরে আলো—
    সিঁড়ি চলে গেছে
    উড়ন্ত পর্দা সরিয়ে
    ঘরের ভিতর
    আমি
    আর হিমরাত শুধু
    অন্ধকারে চোরের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছি
    তোমার সুগন্ধের পাশে।

  • রোধসূত্র এবং

    - তাপসী লাহা
    মোচ্ছব | ০৩ জানুয়ারি ২০২০ |

    রোধ নিভছে।
    পোড়া পায়ে তাকতবর মাটি 
    আহা,
    কষ্ট আছে
    দরকারে নরম চটির আংটায়
     লুকিয়ে রাখলে 
    গোপন কথারাও 
    ...

  • নগিনা বাগ আর মেহর আলি

    - শিবাংশু দে
    মোচ্ছব | ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ২, লিখছেন (অরিন, সুকি)

    বারো বছর কাটার পর হঠাৎ একদিন গভীর রাতে সুলতান দেখেন তাঁর শোবার ঘরে দুজন অতি সুন্দর যুবক এসে পরিচয় দিলেন রামোজি আর লক্ষ্মোজি নামে। তাঁরা রামদাসের মুক্তিপণ হিসেবে ছ'লক্ষ টাকার সোনার মোহর আর সুদ হিসেবে ছ'লক্ষ টাকার রূপোর মোহর নিয়ে এসেছেন। মোহরগুলিতে রামচন্দ্রের নিজের নাম ছাপা আছে। সুলতানের তো চক্ষু চড়কগাছ। এভাবে মাঝরাতে তাঁর শোবার ঘরে দুজন ঢুকলো কী করে? অন্যদিকে তিনি এই দুজন আগন্তুকের ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ। সুলতান রামদাসের মুক্তি পরওয়ানা স্বাক্ষর করে দিলেন। সেই রাতেই ঐ দুই যুবক কারাধ্যক্ষকে ফরমান দেখিয়ে রামদাসকে মুক্ত করে দিলেন।

    পরদিন সকালে হইহই ব্যাপার রইরই কাণ্ড। সুলতান ও রামদাস দুজনেই বুঝতে পেরেছেন ঐ দুজন যুবক কে ছিলেন? রাজা তো চমৎকৃত। আর রামদাসের বিলাপ বাধা মানেনা। তিনি বারবার বলছেন, রামলক্ষ্মণ ভক্তকে দর্শন না দিয়ে কেন যবন রাজাকে করুণা করলেন?

  • মনে পড়ে, পম্পেই?

    - সুপর্ণা দেব  
    মোচ্ছব | ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ২ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ৫, লিখছেন (PM, de, দ)

    বড়বড় ধনীদের তো কথাই নেই। আয়েশে আমোদে দিন কাটত। গ্রানাইট পাথরে বাঁধানো রাস্তা। রাস্তার মধ্যে রথের চাকা যাবার জন্য সমান্তরাল ভাবে ও সমান দূরত্বে উঁচু করে দেওয়া আছে। ফুটপাথ ও জলের লেড পাইপ। আর রোমান বাথ। রোমানরা কী নাইতে ভালোবাসে ! পাবলিক বাথ। ঠাণ্ডা জল, গরম জল। গরম বাষ্প। সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যাবে স্টাবিয়ান বাথে। মাঝে মাঝে সারনো নদীর জল উঠে আসতো শহরে। ওই জলে একবার পা পিছলে গ্রানাইট পাথরের পথে পিছলে গেছিলাম। রুটির বাস্কেট হাত থেকে পড়ে গেছিল। আমার মনিবের কাছে কী মারটাই খেয়েছিলাম, মনে আছে।

    আভেন থেকে গরম রুটি আর মাছের আচার গারুম, খুব লোভনীয়। গরম গরম রুটি, তাজা ফল রোমানদের চাইই চাই। বন্দর আর সমুদ্র এই শহরকে কত বৈচিত্র্য দিয়েছে। কত রকম লোক দেখতে পেতাম। ফোরামের বাজার ভরে থাকতো রাশি রাশি জিনিশে। মন্দ ব্যাপারও কম ছিল না। আমার বরাত ভালো রুটির বেকারিতে কাজ করতাম। মারধোর খেতাম।সেটাও ভালো ছিল কারণ বেশীর ভাগ ক্রিতদাসীরা ভিনদেশি বণিক আর রোমানদের সঙ্গিনী হত। সেই সব ঘরের ধ্বংসাবশেষ পম্পেই তে আছে । ভাল্লাগে না দেখতে ! যে দেশে এতো ধনী আর এতো ব্যাবসায়ী ছিল, মেয়েরা তো সেখানে প্রমোদের উপকরণ মাত্র।

  • দাক্ষিণাত্যের পালমিরা, বিজাপুর

    - স্বাতী রায়
    মোচ্ছব | ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৬১ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ৪, লিখছেন (সুকি, দ, স্বাতী রায়)

    আঁকা বাঁকা সরু সরু রাস্তা দিয়ে চলেছি। পুরোন শহর। ঝাঁ চকচকে নয় মোটেই। বরং একটু ধুলোভরা, অগোছালো – পথের পাশের বেআব্রু দারিদ্রে একটু যেন আবছা মত। পথের বাঁক ঘুরলে হঠাৎ হঠাৎ চোখে ভেসে ওঠে এক একটা পাথরে গড়া মায়া – কালের প্রলেপে ধুসর তাদের রং। ট্যুরিস্ট নেই মোটেই – শুধু পাড়ার দু চার জন লোকের ইতস্তত ঘোরাফেরা, নতুন লোক দেখে একবার তাকিয়ে দেখা – ব্যস ওইটুকুই। অটো নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে থামছে, ড্রাইভার শুধু জায়গার নামটা বলে দিচ্ছেন। বেশি কথাবার্তা হচ্ছে না, দুপক্ষেরই ভাষাজ্ঞানে ঘাটতি হচ্ছে। এরই মধ্যে দেখে নেওয়া গেল ইব্রাহিম রোজা। দ্বিতীয় ইব্রাহিম আদিল শাহের স্ত্রী তাজ সুলতানার সমাধি, সুলতানেরও। পাথরের দৃঢ়তার সঙ্গে অলংকরণের সূক্ষ্মতার আর আর্চের পেলবতার মিশেলে তৈরি একটা ছবি।

  • দক্ষিণাবর্ত

    - রৌহিন ব্যানার্জি
    মোচ্ছব | ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৪ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ৭, লিখছেন (রৌহিন, সুকি, স্বাতী রায়)

    এর ঠিক দুদিন পরেই এসে পড়ল সেই অভিশপ্ত দিন, ৬ই ডিসেম্বর। তারপর সারা ভারত জুড়ে তাণ্ডব – এমন কি এই কলকাতা শহরেও আমার জীবনের সেই প্রথম কার্ফিউ দেখা। সুমনের বসে আঁকো তখনও বেরোয়নি – মগজে কারফিউ শব্দবন্ধ তখনো অচেনা, শহরে কারফিউ চিনে ফেললাম। কিন্তু দাঙ্গা হল না পশ্চিমবঙ্গে। রাজাবাজার, খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, কোথাও না। আস্তে আস্তে আবার স্বাভাবিক হয়ে এল শহর – কিন্তু মনের কালো ছায়াটা সরছিল না কিছুতেই। উত্তর ভারত জুড়ে চলমান অশান্তি – আদবানীর গ্রেপ্তারী, খবর আসছিল সবই, যদিও খবরের কাগজই ছিল আমাদের প্রধান ভরসা – আর ডিডি ওয়ান এর সংবাদ। আর এসবের মধ্যেই ১৯ তারীখে এসে পড়ল বাবা, মা, বোন – কুচবিহার থেকে। তিনদিন গজল্লা পাড়ার পরে ২১শে সন্ধেবেলা ট্যাক্সি ধরে সোজা হাওড়া - রাতে ম্যাড্রাস মেল সাড়ে দশটায়। স্লিপার থ্রি-টায়ার। থ্রি-এসি তখনো ভবিষ্যতের গর্ভে, এসি কামরা বিরাট বড়লোকেদের ব্যাপার।

  • বছর শুরুর গুরুচন্ডা৯

    - গুরুচন্ডা৯
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ৮ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ১, লিখছেন (.)

    এ বড় সুখের সময় নয়। ঘাড়ের উপর এনআরসি, মাথার উপর ক্যা। আসামে বাংলা কোনঠাসা, উত্তরপ্রদেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। কাশ্মীর এখনও অবরুদ্ধ, নাগাল্যান্ডে বুটের শব্দ। এখনও পর্যন্ত  ১১ টি রাজ্য এনপিআর মানবেনা জানিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার অনমনীয়। দেশভাগের পর গত সত্তর বছরে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয় ইউনিয়নের সামনে এত বড় সংকট আর আসেনি। এ ঠিক উৎসবের সময় নয়।

    সেই জন্যই এ সময় উৎসবেরও। রাষ্ট্র যখন পিটিয়ে সমস্ত বহুত্বকে সমতল করে দিতে চায়, তখনই তো সময় বহুত্বকে উদযাপন করার। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন কিচ্ছু বদলাতে পারেনা দেখিয়ে দেবার। সংকটের মধ্যেই জন্ম হয় নতুন উচ্চারণের, স্ফুরণ হয় নতুন শব্দ, নতুন চিৎকারের, নতুন সৃজনের।

    এ সময় উৎসবেরও। উৎসব সংখ্যার।

  • বৌঠানের ছাদ 

    - ইন্দ্রাণী
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ৪ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ৭, লিখছেন (খ, একক, i)

    টাকার চিন্তায় যখন পাগল পাগল লাগে, তখন মনে হয়, আমি বোধ হয় কাকীদিদা হয়ে যাচ্ছি। কাকীদিদা আমার মায়ের কাকীমা - প্রথমদিকে সত্যি টাকার দরকার ছিল, পরের দিকে ছেলেমেয়েরা প্রতিষ্ঠিত, মা কে তারা দিব্যি যত্নেই রেখেছে - তখনও দুপুরবেলায় বেরিয়ে পড়ত কাকীদিদা - বাসে চেপে, রিক্সায় এর বাড়ি তার বাড়ি- 'দিবি রে পঞ্চাশটা টাকা? খুব দরকার। সামনের মাসেই দিয়ে দেব'। অদ্ভূতভাবে মারা গিয়েছিল। কাকীদিদার ছোটো বাড়ি - একতলাই ছিল, বহুবছর পরে ছাদে একখানা ঘর তুলেছিল। বড়মেয়ের বিয়ে হচ্ছিল সেই ছাদে ; কে যেন বলেছিল, মেয়ের বিয়ে দেখতে নেই না কি -কাকীদিদা  তাই ছাদের লাগোয়া ঘরেই বসে ছিল , ছাদের দিকে দুটো জানলায় পর্দা টানা। ওদিকে বিয়ের আসরে মালাবদল, শুভদৃষ্টির সময় ছবি তুলছে সবাই; হঠাৎই কাকীদিদার এক বোনপো 'একি একি মেজমাসি জানলায় উঠে কী করছ' বলে চেঁচিয়ে উঠতে কাকীদিদা জানলার রড ছেড়ে  ঘরের মেঝেয় ধড়াম করে পড়ল।

  • কিংবদন্তীর আড়ালে যা কিছু থাকতে পারে

    - বিপুল দাস
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ |

    কখনও পূর্ণচাঁদের আলোয়, কখনও সন্ধ্যার প্রায়ান্ধকারে একটা ঘোড়া ছুটে যায়। ঘোড়ার পিঠে দীর্ঘকায় এক পুরুষ। তার হাতে বন্দুক, আর তার কোলে নাকি এক সুন্দরী নারী বসে থাকে। ঘোড়াছুটেযাওয়া ওই পথের দুপাশ জুড়ে ছড়িয়ে যায় জমাটবাঁধা অসংখ্য ধূলিপিন্ড। প্রতিটি খন্ডের ভেতরে গল্প শোনা যায়। সেই গল্প কাঁধে তুলে নেয় কোনও পাগল কিংবা প্রেমিক। লোকজীবনের হাটেমাঠে, সিদলমাখা গরম ভাতের সঙ্গে, পালাগানের আসরে সেই গল্প শোনে জাপান ঘোষ, পূর্ণিমা বর্মন, ইছুপ মন্ডল।

  • বিবাহ

    - প্রতিভা সরকার
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ১ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ১০, লিখছেন (স্বাতী রায়, দ, রঞ্জন)

    ঠিক তখনই মেঘ ফেটে যায় দুভাগে। ঝলমলিয়ে চাঁদ ওঠে আর দৃশ্যমান হয় সারা জগত, কাঁসাইয়ের ধারের প্রাচীন মন্দির, সাদা ফেনার হুল্লোড়, ধানের ক্ষেত আর বাতাসে মাথা নাড়ানো গাছের দল। কালো পর্দা সরিয়ে হঠাতই আবির্ভূত হয় এইসব আর রহস্যময় শতাব্দী প্রাচীন রূপের মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে চরাচর। কানু বৌকে ডাকতে ভুলে যায়, হয়তো ভুলেই থাকতো যদি না তার চোখে পড়তো নদীর মাঝখানে সাদা চরের কালো পলিথিন কুঁড়ের সামনে কার যেন আবছা ছায়া। প্রথমেই সে ভাবলো মাছচোর। বাবা ভৈঁরোনাথের দিব্বি, আজ ওকে ধরবই, এ কথা ভাবতেই লাঠিটা ঘরে রেখে এসেছে বলে দারুণ দুঃখ হলো কানুর। তবু হেই হেই থাম থাম চিৎকারে সাজোয়ান পা-জোড়া ছুটে চললো এক পাথর থেকে আর এক পাথরে, পড়তে গিয়ে টাল সামলে নিলো কতোবার।

  • বুড়ো ঝিনঝিনতলা

    - সায়ন্তন চৌধুরী
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ৪ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ৫, লিখছেন (দ, সায়ন্তন চৌধুরী, গুরুচণ্ডা৯)

    আজকের সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের আলো অনেক বাদামি মিহি ধুলো-ধুলো হয়ে একদিন ছিল পুরোনো পৃথিবীর গায়ে, যখন এই এলাকায় কয়লার একটা খনি বেরিয়ে পড়ে, আর সেকারণেই গুরুত্বপূর্ণ যেদুটো মূল রেললাইন তার মাত্র কয়েকবছর আগেই পাতা হয়েছিল পুবে বকুলপুর আর পশ্চিমে গড়ানডাঙা দিয়ে, ব্রিটিশ সাহেবরা তাদেরকে জুড়ে দেয় একটা মিটারগেজ লাইনের সাহায্যে এবং ঝিনঝিনতলার উত্তরদিকে নদীর তীরে একটা বাংলোও বানানো হয় তখন। কিন্তু এখানকার কয়লা এত নিম্নমানের যে কিছুদিনের মধ্যেই সেই হুজুগ একদম ফুরিয়ে যায়, পরে স্মরণযোগ্য কালের ভেতর আর মাত্র একবারই ঐ মিটারগেজ লাইনটা ব্যবহার করা হয়েছিল যখন একটা ৪-৬-০ ইঞ্জিনে চড়ে ম্যাকফার্লঙ সাহেব এসে পৌঁছান এই বুড়ো ঝিনঝিনতলায়; অবশ্য তখনও বুড়ো ঝিনঝিনতলার নাম ঝিনঝিনতলা হয়নি, সে বুড়োও হয়নি। কোনো একদিন যখন বিকেলের হাওয়া খেতে বুড়ো ঝিনঝিনতলার কানাসাদা মেঘগুলো নদীর ওপর গিয়ে জমা হয়েছিল দলে দলে, সেরকম সময়ে সাহেব এসে পৌঁছেছিলেন এই অক্ষাংশে, দ্রাঘিমার পাড়ে, যেন এইসব পথে, পথের বাতাসে উত্তরসাগরের লবণাক্ত স্বাদ নিয়ে এলেন তিনি, আর নদীর ধারের বাংলোটা তখন জায়গায় জায়গায় একটু জীর্ণ হয়ে গেলেও দিব্যি বাসযোগ্য, সেইখানের নির্জনতা ম্যাকফার্লঙ সাহেবকে মুগ্ধ করল।

  • একটি পাকা চাকুরির গল্প

    - জয়ন্তী অধিকারী
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ২ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ১৪, লিখছেন (anandaB, Amit, Titir)

    রাস্তায় এক অদৃষ্টপুর্ব দৃশ্য দেখে সে বিস্ময়ে স্থাণু হয়ে গেল।

    “গ্রে এ এ এ ট পামেলা সারকাস,গ্রে এ এ এ ট পামেলা সারকাস-----”  রিকশায় বসে মুখে মাইক ধরে খুব হাসি হাসি মুখে এইরকম বলতে বলতে  সিড়িঙ্গে রোগা কিন্তু এই মোটা গোঁপওলা একটা কাকু  যাচ্ছে। তার লাল নীল বেগুনী সবুজ হলুদ খয়েরী জামাটা দেখে কুমু মোহিত না হয়ে পারল না,হ্যাঁ ,জামা হবে এইরকম। তার বাবা কাকাদের  সাদা নীল ছাই ইত্যাদি  বিচ্ছিরি রঙের ওগুলো আবার জামা নাকি? কাকুর পাশে জায়গা থাকলেও দুটো প্যাংলা মত ছেলে রিকশার পেছনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চলেছে,কাকুর জামার ঘাড়ের কাছে  একতাড়া পাতলা কাগজ গোঁজা,সেই কাগজ থেকে  একটা দুটো টেনে টেনে নিচ্ছে আর রাস্তার লোকদের হাতে দিচ্ছে ।

  • এক্সপেরিমেন্ট

    - ফ্রেডরিক ব্রাউন - অনুবাদ দেবাশিস ভট্টাচার্য
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ২ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ১, লিখছেন (Paathok )

    এটা কিন্তু প্রথম টাইম মেশিন, হ্যাঁ মশায় ।” প্রোফেসর জনসন বেশ একটু গর্বের সঙ্গে তাঁর দুই সহকর্মীকে বললেন, “মডেলটা একটু ছোট করেই বানালাম, যদিও । তিন পাউন্ড পাঁচ আউন্সের বেশি ভারি জিনিসের ওপর এ পরীক্ষা চলবে না, আর অতীত বা ভবিষ্যতে বারো মিনিটের বেশি দূরে পাঠানোও যাবে না । তবে, এতে সত্যিই কাজ হয় ।”

    ছোট্ট জিনিসটা দেখতে অনেকটা ডাকঘরের সেই চিঠি ওজন করার যন্ত্রের মতন, তফাত শুধু এই যে, এক্ষেত্রে ওজন করার পাটাতনের নিচের অংশে খান দুই ডায়াল আছে ।

    প্রোফেসর জনসন ধাতুর তৈরি একটা ছোট্ট ঘনক হাতে তুলে নিলেন । “একটা পেতলের ঘনক, এর ওজন এক পাউন্ড এবং  দুই দশমিক তিন আউন্স । আমাদের পরীক্ষাটা হবে এর ওপরেই, প্রথমে আমি একে পাঁচ মিনিট ভবিষ্যতে পাঠিয়ে দেখাব ।”

  • মিগুয়েলের গপ্প

    - শঙ্খ শুভ্র ঘোষ
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ১ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ১, লিখছেন (.)

    ওরা থাকাকালীন শেষের দিকে প্রায় প্রতিরাতে শোনা যেত চেঁচামেচি। ওর বউয়ের অভিশাপ, মেয়ের অভিযোগ, কান্না। সেই সব অসুখী উচ্চারণে বাইরের স্ট্রিটল্যাম্পের পান্ডুর আলোয় রাত গ্রাউল করে, শ্বাপদের মত। মিগুয়েলের বিরুদ্ধে খুব সম্ভবতঃ এই পৃথিবীর সব আক্রোশ জমা হয়ে আছে তাদের। একসময়ে ভালো না বাসলে এই রকম ঘেন্নাও করা যায়না।

  • ব্রজঠাকুরের বোধোদয়

    - দীপ্তেন
    মোচ্ছব | ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ৩ বার পঠিত (১৩ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে) | মন্তব্য : ৩, লিখছেন (দ, de, একক)

    ব্রজঠাকুর তো ঈশ্বরচিন্তায় ডুবে থাকেন। সামান্য জমি জিরেত। কিছু ফলের গাছ। দোকানটা চালায় ভাগ্নে মোহন, আর সংসার চালায় মোহনের বিধবা মা শান্তি। শান্তিবালা আর ছেলে মোহন, বড়ো ভালো মানুষ ওরা। তবে এও ঠিক কোন অকূলে ভেসে যেতো যদি ব্রজগোপাল ঠাঁই না দিতো। তা ব্রজঠাকুরেরও তো বয়স হল। কে দেখে সংসার?

    হাঁপানি আর ভগবানের চিন্তা -এই নিয়েই জীবন। ব্রজঠাকুর বলেন তাঁর অলৌকিক দর্শনের কথা, চুপচাপ শুনে যান শান্তি।

    তাঁর মাথার উপর ছাদ।  ছেলেটার খাওয়া দাওয়ার কষ্ট নেই। ব্রজঠাকুর বেলাবেলি খেয়ে শুয়ে পড়েন। বলেন আমি যোগনিদ্রা দেই। তো বেশ। দুপুরে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে বাড়ী আসে মোহন। মায়ে পোয়ে খায়। জীবনে এতো শান্তি কখনো পায় নি শান্তিবালা।
    স্বামী ঘর থেকে বার করে দিলে ছোটো ছেলে নিয়ে লোকের বাড়ী বাস। এর বাড়ী, তার বাড়ী। বারবার ঠাঁই বদল। আশ্রিতের জীবন। অনিশ্চয়। দুর্ভাবনা আর অপমান।

  • পাতা : 4 | 3 | 2 | 1
  • হরিদাসের বুলবুলভাজা : সর্বশেষ লেখাগুলি
  • মিষ্টিমহলের আনাচে কানাচে - দ্বিতীয় পর্ব
    (লিখছেন... দীপক দাস , দীপক দাস , দীপক)
    মিষ্টিমহলের আনাচেকানাচে
    (লিখছেন... দীপক, J, দীপক)
    অচিন্ত্যনীয় লাঞ্চনা
    (লিখছেন... বিপ্লব রহমান, সে)
    রাজনীতির জয়- পরাজয় আপাতত এক বিরাট মানবিক উদযাপনের মুখোমুখি
    (লিখছেন... g, Sarbani, Supriya Roy Chowdhury)
    আফজল গুরু – বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে?
    (লিখছেন... Du, Du, দোবরু পান্না)
  • টইপত্তর : সর্বশেষ লেখাগুলি
  • কাগজ আমরা লুকাবো না
    (লিখছেন... দোবরু পান্না, Du, a)
    NRC-NPR-CAA : প্রতিবাদের ছবি
    (লিখছেন... pi, এবার? )
    নিমো গ্রামের গল্প
    (লিখছেন... )
    গুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিতব্য বইএর জন্য দত্তকের আহ্বান
    (লিখছেন... গুরুচণ্ডা৯, Guruchandali, গুরুচণ্ডা৯)
    ঐতিহ্যমন্ডিত বাংলা চটি সিরিজ
    (লিখছেন... )
  • হরিদাস পালেরা : যাঁরা সম্প্রতি লিখেছেন
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    (লিখছেন... খ, 2024, রৌহিন)
    গুরুচণ্ডা৯‘র ঢাকা অ্যাটক!
    (লিখছেন... aranya, বিপ্লব রহমান, রৌহিন)
    কৈলাসে কেলেঙ্কারি
    (লিখছেন... দোবরু পান্না)
    ইরানে - নীলাঞ্জন হাজরা
    (লিখছেন... বিপ্লব রহমান , Nilanjan, বিপ্লব রহমান)
    কাজুতন্ত্র ও সুফিবাদ
    (লিখছেন... দ, de, J)
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তত্ক্ষণাত্ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ যে কেউ যেকোনো বিষয়ে লিখতে পারেন, মতামত দিতে পারেন৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
  • যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত