বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4]     এই পাতায় আছে88--118


           বিষয় : নিমো গ্রামের গল্প
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :সুকান্ত ঘোষ
          IP Address : 90045.205.012323.46 (*)          Date:14 Feb 2019 -- 08:24 PM




Name:  Titir          

IP Address : 892312.210.780112.27 (*)          Date:15 May 2019 -- 12:23 AM

সেদিন এই নিমো নামটা কিছুতেই মনে পড়ছিল না। তারপরে মনে করার চেষ্টা করলাম ডিজনির মুভি দিয়ে। পেয়ে গেলাম ফাইন্ডিং নিমো। বেঁচে থাক নিমো গ্রাম তার সব কিছু নিয়ে।


Name:  সুকি           

IP Address : 90045.205.232323.195 (*)          Date:19 May 2019 -- 08:20 AM

ইউ টেল মি
--------------------

কিছুদিন আগে লিখেছিলাম যে আমাদের নিমো গ্রামের ঘোষ পাড়ার শিবে জ্যাঠা আমার মেমারী ইস্কুলে ফার্ষ্ট হবার কথা শুনে কি কষ্ট পেয়েছিল। মানে কষ্ট ঠিক আমার ফার্ষ্ট হবার জন্য নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নীচে নামতে নামতে কোথায় গ্যাছে যে আমি পর্যন্ত ফার্ষ্ট হচ্ছি – এই ভাবনাতেই যা কষ্ট আর কি। আমি এও বলেছিলাম যে আমার ইংল্যান্ডে পড়তে যাওয়া দেখে সাহেবদের দেশেও শিক্ষা ব্যবস্থার কি হাল হয়েছে তা অনুভবের আগেই জ্যাঠা পরলোক গমন করে। তাই ভাবলাম যে জ্যাঠা বেঁচে থাকলে কি কি কারণে আরো বেশী কষ্ট পেত আমার পি এইচ ডি করা দেখে সেটাও লিখে রাখি। অনেকে ভাবতে পারেন যে আমি নিজেই নিজেকে গ্যাস দেবার জন্য এবং বার খাওয়াবার জন্য এই সব লিখছি। তবে এতদিনে নিশ্চয়ই আমার অ্যাকাডেমিক এলেম নিয়ে আপনাদের একটা হালকা ধরণা হয়ে গ্যাছে – সেই অনুযায়ী আপনারা এক চিমটি গন্ধক লবণ সহকারে আমার বিলেতের বাতেলায় ডুবে যান।

প্রচুর পাবলিক যেমন দাবি করে রবি ঠাকুর নাকি বাঙালীর জন্য সবকিছুই লিখে রেখে গ্যাছে – তেমনি আমি ভেবে দেখলাম, আমার নিজের কথা আমি নিজেই অনেক আগে ভাগে এদিক ওদিক বলে ফেলেছি। যেমন বলেছি যে সাবজেক্ট হিসাবে মেটালার্জি জিনিসটা অনেকটা হোমিওপ্যাথির মত – ওই বিশ্বাস, ঘোড়ার ল্যাজের চুল, তিনবার ঝাঁকানো, শনিবারে টক না খাওয়া, এই সব মিলিয়ে মিশিয়ে তৈরী। এই ব্যাপারটা ধরতে আমার ফার্ষ্ট এবং সেকেন্ড ইয়ার লেগেছিল – এবং ধরতে পাবার পর বললে বিশ্বাস করবেন না থার্ড-ফোর্থ ইয়ার, মাষ্টার্স এবং পি এইচ ডি করাকালীন আমার থেকে বেশী নাম্বার পেয়েছে কোন সাবজেক্টে আমার ক্লাসের অন্য কেউ, সেটা প্রায় হয় নি বললেই চলে। ইংল্যান্ডে গিয়ে বুঝতে পারলুম ইঞ্জিনিয়ারিং পি এইচ ডি জিনিসটা অনেকটা মেটালার্জীর মত। মানে একটা ডিপারমেন্ট থাকবে, প্রোফেসর থাকবে, একটা ল্যাব, কিছু মেশিনপত্র – মাঝে মাঝে কনফারেন্স ইত্যাদি মিলিয়ে মিশিয়ে। কিন্তু সবার উপরে থাকতে হবে বিশ্বাস!

শুরু করার দুই-তিন মাসের মধ্যে একটা রিসার্চ পরিকল্পনা খাড়া করে সুপারভাইজারের কাছে গেলাম – সব শুনিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “কি বলেন”? তিনি মুচকি হেসে বললেন, “ইউ টেল মি”! আমি যা বলার বললাম – তিনি বললেন আরো একটু ভাবো। আমি রসিকতা করলাম, “ভাবা প্র্যাক্টিস শুরু করব কি”? তিনি বললেন, “হোয়াট”? আমি বললাম, “কিছু না – দেশীয় প্রবাদ বাক্য”। কিছু দিন পরে আবার দুই একটা এক্সট্রা জিনিস যোগ করে নিয়ে গিয়ে বললাম, “এবার কেমন লাগছে?” তিনি আবার চেয়ারের পিছনের দিকে হেলে গিয়ে বললেন, “ইউ টেল মি”! আমার তো এবার নিমোর বাড়িতে বাঁকুর বউয়ের কুমড়ো কিনতে আসার কথা মনে পড়ে গেল। বাবা দাম কত দেবে জিজ্ঞেস করলেই যে বলত, “দাদা, আপনি বলেন”। আমার সুপারভাইজার আবার কেমব্রীজে আগাগোড়া পড়াশুনা করা – সাবজেক্ট জগতে নাম আছে, ফান্ডাও আছে বেসিক জিনিসপত্রে – তবে কিনা সেই কবে ঘি খেয়েছে,আর এখনো আঙুল শুঁকছে এমন টাইপের। যা বোঝার বুঝে গেলাম – নিমো বটতলায় হোমিওপ্যাথির বিখ্যাত নারাণ ডাক্তার কি করত এমন অবস্থায় আমি ভেবে নিলাম। সুপারভাইজারকে বললাম, “নো ওরি, আই উইল টেল ইউ লেটার”। সেই ‘লেটার’ জিনিসটা আমি খুব কম এনেছিলাম পি এইচ ডি-র বাকি সময়টায়। নিজের মনেই এটা সেটা করতে লাগলাম। আমাদের পাড়ার হাজরাদের বদে-কাকা যেমন তার ভাইপো বাণীব্রত সমন্ধে বলেছিল, “এ ছেলে কিছু একটা হবে বুঝলি – এই সাপ কাটছে, এই ব্যাঙ কাটছে ঘরে”। আমার অবস্থা তখন সেই বাণীব্রত-র মত – এটা মেশাচ্ছি, সেটা মেশাচ্ছি। বাণীব্রত যেমন পরে কিছু একটা হয়েছিল, মানে মেমারী-তে ‘আবাকাস’ ইস্কুলের ফ্র্যাঞ্চাইজ নিয়ে ছিল – তেমনি আমি বছর খানেক পরে একটা রিসার্চ রিপোর্ট জমা দিলাম স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এ।

রিসার্চ রিপোর্ট জমা দিয়ে আবার এটা সেটা মিশিয়ে, এর সাথে সেটা জুড়ে এক্সপেরিমেন্ট করে, বাচ্ছা গুলোর মাঝে মাঝে ল্যাব ক্লাস নিয়ে বেশ কাটাচ্ছিলাম। একদিন দেখলাম মেল এসেছে একটা ডিপারমেন্ট সেক্রেটারী অ্যান-এর কাছ থেকে যে অমুক দিনে সন্ধ্যাবেলা পুরষ্কার প্রদান, চলে এসো। আমি উত্তর দিলাম যে, মনে হচ্ছে অ্যান তুমি ভুল করে আমাকে মেল পাঠিয়েছো, এটা অন্য কেউ হবে। অ্যান বলল, না ওটা তোমারই পুরষ্কার! অবাক হয়ে এবার অ্যান-কে ফোন – যা বুঝতে পারলাম যে সেই বছরে গোটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টিতে আমার রিসার্চ রিপোর্ট নাকি আউটস্ট্যান্ডিং হয়েছে এবং তাই আমি একটা পুরষ্কার পাব কোন এক প্রাক্তনীর স্মরণে! খবরটা বুঝতে পারার পরেই আমার চোখের সামনে শিবে জ্যাঠার মুখটা ভেসে উঠল। টয়লেটে গিয়ে মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে নিজের মনেই বললাম, “বিশ্বাস কর জ্যাঠা, এতটা কষ্ট তোমায় আমি দিতে চাই নি!”

ফার্ষ্ট ফরোয়ার্ড প্রাইজ নেবার দিন – কলেজের অডিটোরিয়ামে পুরষ্কার দেওয়া হবে, সঙ্গে দুজন গেষ্ট নিয়ে যাওয়া যাবে, ডিনার আছে। আমার সাথে আর কে যাবে! যাকেই জিজ্ঞেস করি, সেই বিজি – আর কেই বা বন্ধুর পুরষ্কার নেওয়া দেখতে যেতে চায়! সে যতই ডিনারের লোভ দেখানো যায়। শেষ পর্যন্ত মনে হয় যোসেফ আমার সাথে যেতে রাজী হল। আমরা ল্যাব শেষে ময়লা জিন্স, জামায় স্যাম্পেল পলিশের দাগ, হাতের নখের ফাঁকে ল্যাব জাত ময়লা নিয়ে গিয়ে হাজির হলাম পুরষ্কার প্রদানে। গিয়ে তো আমাদের ইয়ে ট্যাঁকে উঠে গেল। ইংরেজ জাত – সব টাই-ফাই পরে চলে এসেছে। যারা পুরষ্কার পাবে তাদের বাপ মা-ও জম্পেস ড্রেস লাগিয়ে এসেছে। আমাদের দেখে সবাই কেমন আড়চোখে তাকাচ্ছে – ভাবছে সিওর এরা ফ্রী ডিনারের লোভে এসেছে। আমি আর কি করি, চুপিচুপি গিয়ে পিছনের বেঞ্চে বসলাম। এক সময় ডাক এল স্টেজে, পারলে প্রায় বুকে হেঁটে গিয়ে নিই এমন ভাবে নিশ্চুপে গেলাম। সার্টিফিকেট নিয়ে চলে আসছি, বলল, “আরে দাঁড়াও চেকটা নিয়ে যাও!” আমি তো ফ্রী খাবার আর সার্টিফিকেট পেয়েই খুশী – তার উপর আবার চেক দিচ্ছে! বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি এবং আরো একবার মেটালার্জী-কে ভালোবেসে ফেললাম। সীটে ফিরে টুক করে চেক-এর অঙ্কটা দেখে মন আরো খুশ! আমার মাসিক স্কলারশিপের প্রায় চারগুণ! বেশ কিছুদিন ধরে ল্যাপটপ কেনার জন্য টাকা জমাচ্ছিলুম – দুঃখ ছিল যে পি এইচ ডি শেষ হবার আগে সেই ল্যাপটপের টাকা জমবে না বলে। এবার সব সুরাহা হয়ে গেল – এতো আনন্দ পেলাম যে ওই পোষাক পরেই সাহেবদের গা ঘেঁষাঘেঁষি করে প্রচুর ডিনারে খাওয়া হয়ে গেল। দু একবার তো একটা সাহেবকে হালকা পুস-ও করে দিলাম ডেজার্টের জায়গা থেকে। তার পরের দিনই আহসান-কে সঙ্গে নিয়ে ‘জন লুইস’ ডিপারমেন্ট স্টোরে গিয়ে সোনি ল্যাপটপ কেনা – সেই সোনি আমাকে অনেক দিন বিশ্বস্ত ভাবে সঙ্গ দিয়ে গ্যাছে।

এই ভাবেই চলছিল – আমার সুপারভাইজার দুই জন প্রায় সব ব্যাপারেই মাইডিয়ার টাইপের লোক। আমিও আজ আমেরিকা, কাল সুইজারল্যান্ড, পরশু ফ্রান্স – নানা ল্যাব ঘুরে এক্সপেরিমেন্ট এবং কনফারেন্স করে সময় কাটাচ্ছিলুম। খুব রেয়ার সুপারভাইজারের ঘরে গিয়ে আলোচনা এবং “ইউ টেল মি” শোনা। সে এক বিশাল মস্তির টাইম। দেখতে দেখতে বছর দুই হয়ে গেল – এবার একটা রিসার্চ রিপোর্ট জমা দিলাম “ইউ কে ইন্সটিটিউট অব করোশন” অথোরিটি কে। আবার একবার শিবেজ্যাঠাকে দুঃখ দিলাম – সেবার পুরষ্কার নিতে ডাকল ম্যানচেষ্টারে। হোটেল, ভালো খাওয়া দাওয়া সবই দিল। পুরষ্কার নিতে উঠে শুধু একটা সার্টিফিকেট পেলাম। ততদিনে আমার লোভ বেড়ে গ্যাছে – শালা চেক নেই কেন? আমি গিয়ে ধরলাম চেয়ারম্যান প্রোফেসর স্টুয়ার্ট-কে – বললাম, “পয়সা দেবেন না”? বলল, “আরে আমাদের ফাইন্যান্সে কি একটা হালকা ইস্যু হয়েছে, তুমি চিন্তা করো না, আমি পাঠিয়ে দেব চেক তোমার ইউনিভার্সিটি ঠিকানায়”। আমি সাহেবের কথায় বিশ্বাস করে চলে এলাম – বেশ কিছু সপ্তাহ হয়ে গেল চেক আর আসে না। আমি তখন মাঝে মাঝেই স্টুয়ার্ট-কে মেল করা শুরু করলাম, চেক কোথায় বলে। শুক্রবার বিকেল – বুধবার সকাল – কোন টাইমের ঠিক নেই। হাতে বেশী কাজ না থাকলেই আমি মেল করতাম। এক সময় বিরক্ত হয়েই মনে হয় প্রোফেসর স্টুয়ার্ট বলল, “আমি তোমাকে আমার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে চেক দিচ্ছি, পরে ইনস্টিটিউটের সিষ্টেম ঠিক হলে আমি অ্যাডজাষ্ট করে নেব”। এই ভাবে সেই বছরের দূর্গাপুজায় বাড়ি ফেরার প্লেন ভাড়াটা ম্যানেজ হয়ে গেল!

পি এইচ ডি শেষের দিকে এগুলে চাকুরী খুঁজতে শুরু করা। আমার কাজ তো করোশন নিয়ে, আমাদের রোল সেই ডাক্তারদের মত। রোগ বাড়লে চাহিদা বেশী। সেই বছরে বলতে নেই এদিক ওদিক পাইপ লাইন, ভেসেল ফাটল নানা কোম্পানীর – আমাদের চাহিদা হয়ে গেল বেশ ভালো। খুব কম সময়ের মধ্যে গোটা পাঁচেক চাকুরীর অফার পাওয়া গেল – আমষ্টারডামে আমার এখনকার কোম্পানীতে জয়েন করব ঠিক করলাম। পি এইচ ডি মোটামুটি আমাদের গ্রুপ থেকে রেকর্ড সময়ে জমা দিয়ে নিমো ফিরে মাস খানেক সময় কাটিয়ে চাকুরী জয়েন করলাম।

চাকুরী করার কিছুদিন পর ভাইভার ডেট পেলাম – আমষ্টারডাম থেকে বন্ধুদের জন্য একগুচ্ছ স্ত্রুপওয়াফেল এবং ডাচ বিস্কুট নিয়ে বার্মিংহাম এয়ারপোর্টে নামলাম। এমন নয় যে বার্মিংহাম এয়ার পোর্ট থেকে এই প্রথম – কিন্তু এই বার আমার হাতে একগাদা স্ত্রুপওয়াফেল, কেক, পেষ্ট্রি দেখে এবং তদোপরি আমষ্টারডাম থেকে এসেছি বলে ইমিগ্রেশন এবং কাষ্টমস বাবুদের চোখ টেরিয়ে গেল। একটা কুত্তা লেলিয়ে দিল – সেই কুত্তা এসে আমার ব্যাগ, গা, পোঁদের ফাঁক সব শুঁকলো মন দিয়ে – তারপর আমি কুত্তার ক্লিয়ারেন্স পেলাম। কিন্তু মানুষ কাষ্টমস তখনো বাকি, তেনার বদ্ধ ধারণা হয়েছে যে আমার কেস পেষ্ট্রিতে গাঁজা ভরা আছে। আমি বলছি, দেখুন এগুলো আমার বন্ধুদের জন্য নিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু কে শোনে! দেখলাম, ব্যাটা অফিসারটা হাতে গ্লাভস পড়ছে। আমার দেখে হয়ে গেল – একটা টিভি সিরিজ দেখতাম যেখানে কাষ্টমস অফিসাররা হাতে গ্লাভস পরে পোঁদের ভিতর চেক করত। ওখানে ড্রাগস নাকি অনেক পাবলিক লুকিয়ে চালান করত! আমার তো হয়ে গেল দেখে – কাল বাদে পরশু ভাইভা, অন্তত সোজা হয়ে হেঁটে ঘরে ঢুকতে হবে তো! তারপর আমাকে মানসিক শান্তি দিয়ে দেখলাম সেই অফিসার হাতে গ্লাভস দিয়ে কেক-পেষ্ট্রি থেকে কি যেন স্যাম্পেল করে একটা মেশিনে ঢোকালো। আমার তখন পেছন মারা যাবার ভয় থেকে মুক্তি পেয়ে প্রবল উচ্ছলতা হয়েছে – আমি কায়দা করে অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা, এটা কি আপনি রামন স্পেক্টোস্ক্রোস্পি করছেন”? অফিসার বলল, “তুমি চুপচাপ বস, তা না হলে পিছনে ওই রামন না কি বলছ, সেটা ঢুকবে”।

তো যাই হোক কেক-পেষ্ট্রি নিয়ে বন্ধুদের কাছে পোঁছলাম। যা হয় আর কি, কয়েক মাস পর দেখা হলে রাত ভর পার্টির আয়োজন। ভোর চারটের সময় ওলা বলল, “সুকি, তুই শুতে যা এবার – আমাদেরই টেনশন হচ্ছে তোর জন্য, কাল সকাল আটটায় তোর ভাইভা”। আমি আর মাতাল ওলাকে মেটালার্জী এবং হোমিওপ্যাথির ব্যাখা দিলুম না – কেবল কেত নিয়ে বললাম, “ও আমি ম্যানেজ করে নেব – এত বছর জিনিসটা রগরেছি, কিছু তো ডিফিউশন হয়েছে”।

পরের দিন ভাইভা দিতে গেলাম – এক্সটারনাল এক্সজামিনার দেখলাম স্যুট পড়ে এসেছেন আর আমার টাই পর্যন্ত নেই! মুখ দেখে মনে হল এমন চীজ তিনি এক্সপেক্ট করেন নি। আমি দেখলাম তাঁর হাতে আমার থিসিস এর জমা দেওয়া এক কপি – প্রচুর পাতায় স্টিকি দিয়ে মার্ক করা রয়েছে। তবে মেটালার্জী নিয়ে ঘাবড়াবার ছেলে আমি নই – তিনি প্রশ্ন শুরু করলেন, আমি জবাব দিচ্ছি। খানিক পরে তিনি প্রায় কনফিউজড চোখে আমার সুপারভাইজারকে বললেন, “যাই জিজ্ঞেস করছি তাই তো দেখছি এ জবাব দিচ্ছে! এতো ‘জন লুইসের’ সেলসম্যান-গুলোর উপর দিয়ে যায়! কি বলছে আমি অবশ্য সব ঠিক বুঝতে পারছি না – যেভাবে বলছে তাতে করে মনে হচ্ছে পুরোপুরি ভুল নয়। কিন্তু ঠিক কিনা সেটাই এক্ষুণি যাচাই করা শক্ত”। এবার আমার দিকে তাকালেন, “চাকরি পেয়েছ”? আমি হ্যাঁ বললাম। তিনি আমার সুপারভাইজারকে বললেন, “বেচারী অনেক দূর দেশ থেকে পড়তে এসেছে, তার উপর কষ্ট করে একটা চাকুরীও জোগাড় করেছে। একে ফেল করিয়ে আর কি হবে। আর তা ছাড়া এ তোমার গ্রুপে বেশী দিন থাকলে করোশন কতটা শিখবে তোমার স্কলাররা সেটা বলতে পারব না, কিন্তু সুপার মার্কেটের সেলসম্যান হবার ট্রেনিং পেতে থাকবে এর কাছ থেকে”। আমার সুপারভাইজার দেখলাম স্পষ্ট ভয় খেয়ে গেল – ফট করে অ্যাসেসমেন্ট শীট-টা কাছে টেনে নিয়ে চট করে সাইন করে দিয়ে বলল, “কনগ্রাটস ডঃ”।

তো এই হল গিয়ে পি এইচ ডি লাভের গল্প। শিবে জ্যাঠা বেঁচে থাকলে সেলসম্যানের উপমা শুনে খুশী হত – কারণ জ্যাঠা আমাকে সেই কবেই ফ্যামিলি ব্যবসায় নেমে যেতে বলেছিল পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে! জ্যাঠার অ্যাসেসমেন্ট আফটার অল খুব একটা খারাপ ছিল না আমার স্ট্রেন্থ নিয়ে!

মেমারী ইস্কুলের বাঙলার স্যার দূর্গা কুন্ডু বলেছিল আমায়, “যা লেখার লিখবি, কিন্তু শেষে একটা সামারি দিবি”। তা এই লেখার সামারি হলঃ

১। ইঞ্জিনিয়ারিং পি এইচ ডি বিষয়টা অনেকটা মেটালার্জীর মত – আর মেটালার্জী বিষয়টা প্রায় হোমিওপ্যাথির মত।

২। মেটালার্জী পড়ার জন্য কোন পূর্ব বিদ্যা আবশ্যক নয়। যে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড (হয়ত কেবল মাত্র সংস্কৃত বা পালি ছাড়া) থেকে গিয়ে মেটালার্জী পড়া যায়।

৩। হাত পা ছড়িয়ে এবং নরম ভাবে টেনশন না নিয়ে পি এইচ ডি করতে চাইলে আপনার একমাত্র গন্তব্য স্থান হল ইংল্যান্ড।

৪। অ্যাকাডেমিক্যালি পুরো অকুতভয় থাকুন। আজকের যুগে যেটাকে ম্যানেজমেন্টিয় ভাষায় ‘সেলফ কনফিডেন্স’ বলা হয়, সেটা আমাদের বিহার, ইউ পি তে বহুযুগ থেকে চলে আসছে “তো কেয়া হুয়া” স্বরূপ। [এটা আমাকে সেদিন আমার শ্রদ্ধেয় ভারত বিষয়ক পণ্ডিত শিবাংশু-দা প্রাঞ্জল করে বুঝিয়ে দিলেন]। পি এইচ ডি ভাইভায় যদি আপনার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলে এক্সজামিনার, তাহলে ‘তো কেয়া হুয়া’ ব্যবহার করুন। দেখবেন আর কোনো প্রবলেমই হবে না ভাইভায় উতরোতে।


Name:   ন্যাড়া           

IP Address : 1278.202.5634.85 (*)          Date:19 May 2019 -- 08:54 AM

মেটালার্জির কথায় মনে পড়ল, আমাদের মেটিরিয়াল সায়েন্স পড়তে হত দু সেমেস্টার, থার্ড ইয়ারে বোধহয়। ফার্স্ট সেমেস্টারে ডঃ বোস পড়িয়েছিলেন। অসাধারণ। মানে আমিও বুঝতে পেরেছিলাম। পরের সেমেস্টারে বিই কলেজের ডাকসাইটে প্রফেসর ডঃ শীল পড়িয়েছিলেন ভিজিটিং হিসেবে। সেরকম জমেনি।

যাকগে যে কারণে মেটেরিয়াল সায়েন্সের কথা মনে পড়ল - মেটেরিয়াল সায়েন্স বললেই টেন্সাইল স্ট্রেংথ-ফেংথের কথা মনে পড়ে। সেই থেকে মনে আসে হুকস ল'র কথাঃ স্ট্রেন ইজ ডাইরেক্টলি প্রোপোরশনাল টু দা স্ট্রেস অ্যাপ্লায়েড। ফার্স্ট ইয়ার ফিজিক্স পড়াতে এসেছিলেন সদ্য এমএ পাশ সুন্দরী অমুকদি। প্রথম দিনই, নার্ভাসনেসে কাঁপতে কাঁপতে, সবে হুকস ল'টি বোর্ডে লিখেছেন কি লেখেন নি, পেছনের বেঞ্চি থেকে আওয়াজ এল, "ম্যাডাম, একটু স্ট্রেস দিয়ে লিখুন, চোখে খুব স্ট্রেন পড়ছে।"


Name:  সুকি          

IP Address : 90045.205.232323.195 (*)          Date:19 May 2019 -- 08:59 AM

ন্যাড়দা,
আহা কি সব দিন ছিল সব। এখন ওসব করলে হ্যারাসমেন্ট হিসাবে নেওয়া হবে এবং তত সহ আরো অনেক কিছু। ভালোই করেছ মেটারিয়াল সায়েন্স মাত্র দু-সেমিষ্টারের মধ্যেই আবদ্ধ রেখে।


Name:  সুকি          

IP Address : 90045.205.232323.195 (*)          Date:19 May 2019 -- 09:00 AM

এই রে - ন্যাড়াদার নামের 'আ' গেল কোথায় আগের পোষ্টে!


Name:   ন্যাড়া           

IP Address : 1278.202.5634.85 (*)          Date:19 May 2019 -- 09:03 AM

তব, সুকিভাই, তুম তো ছুপা রুস্তম নিকলা পড়াশুনো কি বারে মে।

নিমোগ্রামের কন্টেন্ট আমি বুক করলাম। বই করব।


Name:  সুকি          

IP Address : 348912.82.3423.63 (*)          Date:28 Jun 2019 -- 06:48 AM

বাবুর বিয়ে, বরযাত্রী এবং
---------------------------------

আমার ভাই, মানে কাকার ছেলে বাবু-র বিয়ে দিয়ে এই ফিরলাম নিমো থেকে। সেই নিজের বিয়ে খাবার পর আর বাঙালী বিয়ে, বিশেষ করে নিমো গ্রামে কারো বিয়ে খাওয়া হয়ে ওঠে নি। আর কত দিন পর যে বরযাত্রী গেলাম সেকথা আর কি বলব! বিয়ের দিন বিকেল বেলা থেকে টেনশন – ঠিক সময়ে বরযাত্রী বেরোতে পারব তো? আমাদের ঘোষ পরিবার লতায় পাতায় এতই বড় যে সবাইকে ডেকে ডুকে গাড়িতে তোলাই ইটসেলফ একটা মেজর প্রোজেক্ট। দেরী করে বরযাত্রী পৌঁছবার মূল প্রবলেম হল মেয়ের বাড়িতে দেওয়া টিফিনটা ঠিকমত এনজয় করা হয় না। টিফিন শেষ হবার কিছু পর থেকেই রাতের মূল খাবার খেতে যাবার ডাক পড়তে থাকে।

তো এই সব পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকার জন্য আমি বাড়িতে সবাইকে তাড়া দিতে থাকি বেরোবার জন্য। বিয়ে হচ্ছে হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনের দেবীপুর স্টেশনে নেমে আরো খানিকটা ভিতরের গ্রামে। টাটা সুমো করে রওনা দেওয়া গেল – বর্ষাকাল বলে বৃষ্টি চলে এল বিকেলের দিকে, আর সেই বৃষ্টিতে বিয়ে করতে যাবার ফুল দিয়ে সাজানো গাড়ির ফুলের কারুকাজ গেল কিছু খুলে। ঠিক হল যে মেমারীর উপর দিয়ে যাবার সময় ফুলের দোকানে দাঁড়িয়ে সেই কারুকাজ আবার ঠিক করে নিলেই হবে। আমার এই প্রস্তাব একদম পছন্দ হল না – রাস্তায় দাঁড়ানো মানেই আবার সেই সময় নষ্ট, আবার সেই টিফিন খাওয়া পিছিয়ে যাওয়া। কিন্তু বাবু বলল ফুল দিয়ে গাড়ি না সাজিয়ে সে বিয়ে করতে যাবার কথা ভাবতেই পারছে না। ফলে কি আর করা, দাঁড়াতে হল মেমারীতে ফুলের দোকানে। আমি এদিকে টিফিনের জন্য উসখুশ করছি, পাশে বসা ডাক্তারদের গৌরদা বলল, “তুই যে এত টিফিন খাব খাব করছিস, তোর মনে আছে টিফিনে কি দেয়? আর তা ছাড়া আদৌ টিফিন দেবে কিনা?” আমি বললাম, “বল কি গো, কি বাড়িতে বিয়ের ঠিক করেছ যে টিফিন দেবে না খাবার আগে?” গৌরদা আবার জিজ্ঞেস করল, “কি দেবে টিফিনে মনে হয়”? বললাম, “কি আবার দেবে, আমাদের সময়ে যা দিত তাই দেবে – নিদেন পক্ষে গুটকে কচুরী আর বালুসাই বা খাস্তা গজা তো থাকবেই”।

বললে বিশ্বাস করবেন না গিয়ে দেখলাম টিফিনে দেওয়া চারটে আইটেমের মধ্যে আমার প্রেডিক্ট করা দুটো আইটেম মিলে গেল! বুঝলাম, পরিবর্তন যা কিছু হয়েছে তা কেবল ওই নীল-সাদা রঙে – বিয়ের জগতে তেমন কিছু পরিবর্তন হয় নি। গুটকে কচুরী আর বাসি খাস্তা গজা খেয়ে এক পেট জল খেয়ে নিলাম – দিয়েই খানিক পরে এক বিশাল চোঁয়া ঢেঁকুর। গ্রামের ভিতরের দিকে বিয়ে – রাস্তায় জেনারেটরের আলোয় কিছু কিছু জায়গা আলোকিত – এক আলো – আঁধারি পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে বেশ এক রোমান্স এবং ভৌতিক ব্যাপার দাঁড়িয়েছে। আমি আর পিন্টু রাস্তা দিয়ে এদিক ওদিক হাঁটতে লাগলাম – আমি খিদে বাড়াবার জন্য আর পিন্টু আমাকে সঙ্গ দেবার জন্য। ওদিকে বাবু বরের বসার সে বরাসন টাইপের হয়েছে সেটা আলো করে বসে আছে। আমি আর পিন্টু হাঁটতে হাঁটতে বাবুর শ্বশুরবাড়ির একটু পাশেই দেখলাম এক বিশাল আমড়া গাছ – ভাই কি বলব, এতো আমড়া গাছে ধরেছে যে চোখ ফেরানো যায় না। ডাল প্রায় নুয়ে ভেঙে যাবার মতন হয়েছে আমড়ার ভারে – কিন্তু সবই হাতের নাগালের বাইরে। মানে পারতে গেলে একটু গাছে উঠতে হবে।

পায়চারী করতে করতে ভাবছি কি করে আমড়া গাছ থেকে পাড়া যায়। এমনটা নয় যে আমড়া খুব মহার্ঘ্য কিছু এবং তার জন্য রাতের বেলা গাছে উঠতে হবে – কিন্তু ব্যাপারটা অর্থিক নয়, আদপে মনস্তাত্ত্বিক। যারা এর ওর গাছে উঠে মাল সটকেছেন তারাই জানে যে হাতের গোড়ায় পেড়ে নেবার মতন লকলকে ফল দেখে নিজেকে সামলানো খুব মুশকিল। আমি দোটানায় পড়লাম – না, সেটা বিবেকের দংশনের জন্য নয়, বরং নিজের ডিজাইনার পাঞ্জাবীর জন্য। অমৃতা নিজের শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে ট্র্যাঙ্গুলার পার্কের পিছনে গলি তস্য গলি দিয়ে গিয়ে কোন এক ডিজাইনারের কাছ থেকে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে ছিল। সে বোকাচোদা পাঞ্জাবীর ঝুল এত দিয়েছিল যে আর দুই মিলিমিটার লম্বা এবং সাদা রঙের হলে আরবদেশের শেখ বলে চালিয়ে দেওয়া যেত আমাকে। আর সেই গরমে আমাকে তার তলায় কিছু পরতেও হত না! সেই সব কিছু সামলে সবে মাত্র গাছে উঠেছি এমন সময় হই হই করতে তিন চার জন ওই গ্রামের লোক ছুটে এল – কোথায় ছিল মালগুলো কে জানে! একজন বলল,

“এ্যাই বাঁড়া, আবার গাছে উঠেছিস মাল সরাতে এত সাহস, তাও আবার দেখছিস পাশের বাড়িতেই বিয়ে হচ্ছে, লোকজনের আনাগোণা”।

আমি ভাবছি ‘আবার’ এখানে কি অর্থে ব্যবহার হয়েছে। তখনি পাশের একজন বলে উঠল,

“তোদের অবস্থা এত খারাপ আজকাল? আগে তাও না হয় রাতের বেলা বাইরের উঠোনে পড়ে থাকা অ্যালুমিনিয়ামের থালা বাটি সরাতিস ছিঁচকে চুরি করে। কিন্তু তা বলে আমড়া চুরি করতে শুরু করেছিস?”

আমি কেস বুঝতে পারলাম – এবং প্রতিবাদ জানালাম, “দেখুন, আমরা ছিঁচকে চোর নই”।

তারা বলল, “ধরা পড়লে সবাই ওমন বলে, তা এই গ্রামের ছেলে তো তুই নয়, এত রাতে এখানে কি করছিস?”।

আমার মাথায় তখনো প্রবল ঝোলা পাঞ্জাবীর কথা মাথায় ঘুরছে – বললাম,

“আরে আপনার কোনদিন পাঞ্জাবী পরা ছিঁচকে চোর দেখেছেন? তাও আবার এতো ঝুল দেওয়া? আমি ছুটতে পারব তাড়া করলে?”

আমার কথার এফেক্ট পড়তে দেখলাম ওদের মুখে – এর ওর দিকে চাইতে লাগল – কথায় বিশাল যুক্তি ছিল আমার। সিচ্যুয়েশন পুরো নিজের কন্ট্রোলে নেবার জন্য বললাম, “আমরা বরযাত্রী এসেছি এই পাশের বিয়ে বাড়িতে”।

ওদের চোখে সন্দেহ ঘন হচ্ছে – একজন বিজবিজ করল, “বরযাত্রী এসে কেউ আমড়া পাড়তে উঠেছে গাছে রাতের বেলা এমন তো বাপের জন্মে শুনি নি”!

আমি আর কি বলি! মনে মনে ভাবলাম, সেই যে সেলিমদার বিয়েতে বরযাত্রী গিয়ে যে আলমের পিসির ছেলের পোঁদ মেরে দিল দিনের বেলা গামা ভুঁয়ে নিয়ে গিয়ে গ্রামের জনা তিনেক ছেলে জমিতে জল দেবার পাম্পের পোড়া মোবিল দিয়ে – সেই বা কে শুনেছিল আগে! আমি তাদের উদ্দেশ্যে বললাম,

“দেখুন আপনাদের হোনেবালা জামাই বসে আছে বর বসার জায়গায়, আপনার কেউ একজন গিয়ে জিজ্ঞেস করে আসুন যে নীল পাঞ্জাবী পরা একজন রাতের বেলা আমড়া গাছে উঠতে যাচ্ছে সেটা তার দাদা কিনা”।

একজন প্রায় ছুটে গিয়ে বাবু-কে জিজ্ঞেস করে এসে কনফার্ম করল যে আমিই তার দাদা। আমরা ছাড়া পেয়ে সেখান থেকে গুটি গুটি পায়ে এগুচ্ছি এমন ভাব নিয়ে যেন কিছুই হয় নি। শুনতে পেলাম কে যেন বলছে,

“কি গো নবাদা, বিয়ে ঠিক করে এসে খুব যে বললে ছেলের ফ্যামিলি নাকি খুব ভালো, ছেলের দাদা বিদেশে থাকে – ডক্টর না কি যেন! ঠিক ঠাক খোঁজ নিয়ে বিয়ে দিচ্ছ তো, নাকি পলু-কে জলে ফেলে দিলে”।

তার পর জানি না কি আলোচনা করল তারা। তবে ফুলশয্যার দিন দেখলাম মিষ্টি ইত্যাদি তত্ত্বের সাথে এক ডাল ভরা আমড়া পাঠিয়েছে মেয়ের বাড়ির লোকেরা। তার পরের দিন গেঁজে যাওয়া রসগোল্লার রস দিয়ে সেই আমড়ার চাটনী আর বেঁচে যাওয়া খাসির মাংস সহযোগে দুপুরের লাঞ্চ করে বিকেলের ফ্লাইট ধরলাম ঢেঁকুর তুলতে তুলতে।


Name:  Amit          

IP Address : 340123.0.34.2 (*)          Date:28 Jun 2019 -- 07:23 AM

এটা প্রায় বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের "বরযাত্রী ও বাসর" এর কাছাকাছি চলে গেছে। তবে শেষে ভোগান্তি টা ওই লেভেল এর হয়নি ভাগ্যিস। তবে পাকা আমড়ার চাটনি দুর্দান্ত খেতে। পুরো জিভে জল আনা।

:) :)


Name:  রঞ্জন          

IP Address : 124512.101.6778.225 (*)          Date:30 Jun 2019 -- 12:17 AM

সুকিভাই,
তুমি নিমো গ্রামকে বাংলা সাহিত্যে অমর করে দিলে। ন্যাড়াবাবু এটা বই করলে অন্ততঃ এক প্রজন্ম বাংলার গ্রাম বলতে নিশ্চিন্দিপুরের পরে নিমোর কথাই ভাববে।
আচ্ছা, মেমারিতে দিলীপ দাস বলে সম্পন্ন ভূস্বামী পরিবারের কাউকে চিনতে কি ? ফর্সা, বেঁটে আজকে সত্তর বছর বয়েস হবে? এমনই কৌতুহল্‌ ।া
আর 'সেলিমদার বিয়েতে---' লাইনটা পড়ে খুক খুক করে হেসেই যাচ্ছি। গিন্নি কারণ জিগাইলে বলতেও পারছি না । কি গেরো!


Name:  একক          

IP Address : 236712.158.015612.123 (*)          Date:30 Jun 2019 -- 06:41 AM

উফফ -খাসা হৈছে !!:)

কলেজ লাইফের পর ফল পারতে গাছে চড়িনি , কারণ বছরে দুমাস মামাবাড়িতে কাটানোর সুযোগ আর ছিল না । কিন্তু যারা রেগুলার গাছের ফল পেরেছে তার নিকটতম নিদর্শন আমার খুব কাছেই আছেন : আমার মা । কীরকম একটা ইনস্টিংক্টের ভেতর ঢুকে যাওয়া চুলকানি । ডিএনে লেভেলে , কিছু হয় ফয় বোধয় :))

লুরুতে একদিন পাড়ায় হাঁটছি , একটা সজনে গাছ রাস্তার ধারে । মায়ের হাঁটার গতি শ্লথ হয়ে এলো , কীরকম চকচকে চোখে তাকিয়ে বললেন : দেখো কত কচি কচি সজনে হয়েছে !! আমি শক্ত করে হাত ধরে বললুম : সজনে তো প্রায়ই আনি বাজার থেকে ? !

- ওগুলো সজনে নাকি ? দারোগার লাঠি তো ! নাজনে ওগুলো -সজনে বলে বেচে দেয় তোমাকে !!

বলে আবার দাঁড়িয়ে , সজনে গাছের দিকে লোলুপ দৃষ্টি । "একটা আঁকশি থাকলে .........."

আমি আর কথা বাড়ালুম না । নাজনে ও সজনের পেডিগ্রির পার্থক্য নিয়েও না । অভিজ্ঞতা বলে এ বড় বিপদকাল । একরকম টেনে টুনে বাড়ি চলে এলুম । পঁয়ষট্টি-উর্ধ মানুষটিও সঙ্গ নিলেন; যেভাবে নার্সারির বাচ্ছাকে ঝাল লজেন্স কিনে না দিলে বিরস বদনে , অনিচ্ছায় ।




Name:  Du          

IP Address : 237812.69.90067.69 (*)          Date:30 Jun 2019 -- 07:52 AM

গল্প ও এককের কমেন্ট ঃ)))))


Name:  সুকি          

IP Address : 237812.68.786712.75 (*)          Date:30 Jun 2019 -- 09:56 AM

অমিতাভদা,
অনেকদিন বাদ বিভূতি মুখো-র কথা মনে পড়িয়ে দিলে! সেই মনে পড়ে গেল যে মেমারী গ্রামীণ লাইব্রেরীতে ক্লাস সেভেনে নিজের কার্ড করার পর প্রথম পড়া রচনাবলী এই এনারই!

রঞ্জনদা,
ধন্যবাদ - মেমারী তো আসলে অনেক বড় আর তারপর অনেক দিন বাইরে। দিলীপ দাস বলে এই মুহুর্তে আমার নিজের কাউকে মনে পড়ছে না। জ্যাঠারা হয়ত চিনতে পারে।

একক,
ঠিক বলেছ - বললাম না যে যারা গাছে ওঠে তাদের মধ্যে একটা রিফ্লেক্স এর ব্যাপার থাকে গাছ দেখলেই। তোমার গলপটা খুব এনজয় করলাম, মাসিমাকে প্রণাম।

দু- ধন্যবাদ।




Name:  সুকি           

IP Address : 237812.68.786712.75 (*)          Date:30 Jun 2019 -- 10:01 AM

বাবুর বিয়ে, রান্না-বান্না, মিষ্টির ভিয়েন এবং
----------------------------------------------------

বাবুর বিয়েতে আমি বাড়িতে সাকুল্যে পাঁচদিন ছিলাম – বিয়ের তিন দিন আর আগু-পিছু একদিন করে। এই পাঁচদিনে এত মিষ্টি খেয়েছি যে ফিরে এসে দেখলাম আমার ওজন ৬৫৩ গ্রাম বেড়ে গ্যাছে! ভাই আমার বিষয়ী ছেলে। বলল, “বুঝলি দাদা, ফুল ক্যাটারিং এ ফালতু বেশী খরচা হয়, তার থেকে বাড়িতে রাঁধুনি এনে রান্না হবে এবং বাড়িতে মিষ্টির ভিয়েনও বসানো হবে”। আমি ভাবলাম অতি উত্তম, অনেক দিন গরম গরম রসগোল্লা কড়াই থেকে নামছে এমন খাওয়া হয় না, তা এই বিয়ে উপলক্ষ্যে সাঁটাবো। আর সেই সাঁটাতে গিয়েই আমার ৬৫৩ গ্রাম প্রাপ্তি।

আসলে ফুল ক্যাটারিং না দেবার বাহানা খরচ নয়, তার কারন অন্য। যদি রাঁধা এবং খাওয়ানোর সব দায়িত্ব ক্যাটারিং-এর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তা হলে আমাদের ঘোষ গুষ্টির বিশাল সিনিয়ার সিটিজেন সম্প্রদায় বিয়ে বাড়িতে কি করবে সেটা ঠাওড় করে উঠতে পারে না। সাধারণত বিয়ের তিনদিন রাঁধুনির পোঁদের গোড়ায় বসে থেকে বকবক করতে করতে এবং তাকে যাচিত-অযাচিত উপদেশ প্রদান করে আমার গোটা চারেক কাকা-জ্যাঠা টাইম পাস করে। আর তা ছাড়া যুবক সম্প্রদায়ের কাজও থাকে – সকালে মাছ, কাঁচা বাজার শেওড়াফুলি থেকে, মাংসের ব্যবস্থা করা – এই সব নিয়েও বেশ কিছু দাদা-ভাই আমার ব্যস্ত থাকে। আর এদের কাজে ব্যস্ত না রাখলে পুরো বাড়ি সিপিএম কংগ্রেস তৃণমূল (এবারে আবার বিজেপি ঢুকেছে আলোচনায়) গুলতানি করে চিৎকারে বাড়ি ভর্তি করে রাখবে।

আমাদের ঘোষ বাড়ির ক্লাসিক বাঁধা রাঁধুনি ছিল বিশে ঠাকুর – সে মারা যাবার পর তার যে চেলা ছিল, সেই ঈশ্বর-দা আমাদের উদ্ধার কর্তা হয়েছে। এবার ব্যাপার হল ঈশ্বরদা অফসিজেনে মেমারী জিটি রোডের ধারে চকদিঘী মোড়ে লজেন্স বিক্রী করে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে। আর ছোট বেলা থেকে তাকে আমাদের বাড়ির সিনিয়ররা বিশে ঠাকুরের জোগাড়ে হিসাবে দেখছে বলে, সে ঠিক ঠাক রাঁধুনির মর্যাদা আর আমাদের বাড়িতে পেল না। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে আমাকে আপনারা অথেন্টিক এক্সপার্ট ধরে নিতে পারেন। সেই আমি বলছি, ঈশ্বর-দা কিছু রান্না খারাপ করে না, মানে রীতিমত ভালো রান্না করে। কিন্তু শুধু ঈশ্বরদার উপর বাবুও ঠিক ভারসা করতে পারল না – বিয়ের আগের দিন থেকে বিয়ের পরের দিন পর্যন্ত ঈশ্বর-দা রান্না করল, শুধু রিসেপশনের দিন (আমাদের দিকে ওটা ফুলশয্যা বলে) রাতের মূল খাবারটা রাঁধল চন্দননগরের রাঁধুনি। কেন জানি না আমাদের দিকে চন্দননগরের রাঁধুনি নিয়ে একটা ফ্যাসিনেশনের ব্যাপার আছে। তবে বাবুর বিয়েতে যে চন্দননগরের রাঁধুনি গুলো এসেছিল, তারা পুরো ঝুল মাল – প্রায় বর্ডার লাইন ঘেঁষা বালের রাঁধুনি। তাদের থেকে ঈশ্বর-দা অনেক ভালো রাঁধে। বাবু-কে সামনা সামনি ফীডব্যাক দেওয়া হয় নি মনে কষ্ট পাবে বলে, এখন এই ফেসবুক পড়ে জেনে নেবে। তবে সেই ঝুলত্ব নিয়ে পরে আসছি।

রাঁধুনির সাথে আমার মেজো জ্যাঠার চিরকালীন ফাইটের বিষয় ছিল মূলত পাঁচটা – ১) ফ্রায়েড রাইসের চাল কত নেওয়া হবে (কত কিলো চাল লোক অনুযায়ী), ২) সেই রাইসে চিনি কি পরিমাণ দেওয়া হবে, ৩) এক কিলো ছানায় কতপিস রসগোল্লা বানানো হবে, ৪) এক কিলো ছানায় চিনি কত দেওয়া হবে এবং ৫) রসগোল্লা পাতলা নাকি মোটা রসে বানানো হবে। এই দৃশ্য প্রায়ই দেখা গ্যাছে অতীতে যে বিশে-ঠাকুর বলছে, “তা হলে তুমিই রাঁধো মেজদা, আমাকে আর দরকার নেই” – দিয়ে বিশে ঠাকুর রাগ মাগ করে বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে চলে গেল – নিমো শিবতলা থেকে তাকে আবার ধরে আনা। আবার ধরুণ বিশে ঠাকুর বলল, “বুঝলে মেজদা, তাহলে তিরিশ কিলো চাল-ই নিই ফ্রায়েড রাইসে, কি বলো?” জ্যাঠু হাঁ হাঁ করে উঠল, “তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গ্যাছে নাকি বিশে? আর্ধেক লোক তো না খেতে পেয়ে বাড়ি যাবে! আমাদের গোপাল-ই তো পৌনে এক বালতি ফ্রায়েড রাইস খাবে, তুই কি সেটা ভুলে গেলি নাকি” – তো চাল আবার বাড়লো! রাইসে মিষ্টিত্ব দেওয়া নিয়েও তেমন মান-অভিমান, শেষ পর্যন্ত বিশে ঠাকুর আর মেজো জ্যাঠার মাঝামাঝি পরিমাণে রফা হত। গোপালদার কথায় পরের পর্বে।

তো তৃতীয় বিষয়টা নিয়ে আমিও এবার মাথা ঘামালাম – কিলো প্রতি ছানায় কত পিস রসগোল্লা নামানো হবে। আমি ছেলের দাদা বলে কথা – কিছু একটা দায়িত্ব তো নিতে হবে, তা না হলে খারাপ দেখায়। বিয়ে বাড়িতে সবাই কাজ করছে আর ছেলের দাদা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াচ্ছে, জিনিসটা দৃশ্যত সুখপ্রদ নয়। তবে ভাই আমার একাই একশো – নিজের বিয়েতে নিজেই সব করেছে। আমার কাকা ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত – এই সব বিয়ের ঝামেলাতে তিনি নেই – গোটা বিয়েতে তিনি কাজ বলতে একটাই করেছেন – ছোট পিসির বাড়ি গিয়ে পিসিকে নিয়ে আসা। এমনকি বিয়ের দিন সকালেও দোকান খুলতে যাচ্ছিল – বলল, “বরযাত্রী যাওয়া তো সেই বিকেলে, এতক্ষণ বাড়িতে থাকে আর কি করব”। কাকিমা রাগারাগি করলে তবে থামল। আর ওদিকে বাবুর ব্যস্ততা চরমে – সকালে গায়ে হলুদ হচ্ছে – বাবু গায়ে গামছা দিয়ে মাদুরে বসেছে সোনা মুখ করে। আমাদের পারিবারিক কুলপুরোহিত বড়বামুন কি সব মন্ত্র-তন্ত্র বলছে। বড়বামুনের বয়সের গাছ পাথর নেই – কানেও শুনতে পায় না। আর কি কাজে কি মন্ত্র বলে সেটাও কেউ জানে না! সরস্বতী পুজোয় দূর্গা পুজোর মন্ত্র, অন্নপ্রাশনের সময় বিয়ের মন্ত্র – এমন কনফিউশন মাঝে মাঝেই হয়।

বড় বামুন অং-বং মন্ত্র বলছে – এতো সকালে এসেছে যে তখনো ক্যামেরা ম্যান হাজির হয় নি – আমিই দায়িত্ব নিলাম ছবি তোলার। আমি কাছে গিয়ে বলছি, “দাদু, একটু মুখ তুলুন, ছবি তুলব”, “দাদু, ফুলটা বাবুর মাথায় ধরে একটু পজ দিন, ছবি তুলব একটা” – কিন্তু কে শোনে কার কথা! অগত্যা আমাকেই ঘুরে ঘুরে ছবি তুলতে হল দাদুর বগলের ফাঁক দিয়ে – যেমন ছবি ওঠার তেমনি উঠেছে ফলে! গায়ে হলুদের মন্ত্র পড়ার মাঝ খানে সুবল-কাকার ফোন চলে এল। সুবল-কাকা সেই ভোর ভোর গ্যাছে কমল-দাকে নিয়ে কাঁচা সব্জি বাজার করতে। দুপুরে হবার কথা ছিল এঁচোড় চিংড়ি – চিঙড়ি তো পাওয়া গ্যাছে, কিন্তু বাজারে এঁচোড় নেই! বাবুর হয়ে গেল টেনশন – বলল, “দাদু এখন মন্ত্র থামান, বিশাল সমস্যা – কুইক ডিসিশন নিয়ে হবে”। বাবু ডান হাত দিয়ে বামুন-দাদুর হাত আটকে বাঁহাতে মোবাইলে ডিসিশন নিচ্ছে – বাজারে আর কি আছে? ভালো পটল উঠেছে শোনা গেল – ডিসিশন হয়ে গেল বাবুর, এঁচোড় চিঙড়ির বদলে পটল চিঙড়ি। দিয়ে বলল, “নিন দাদু, শুরু করুন কি বাকি আছে”।

আমি দাদা হিসাবে বাবুকে জিজ্ঞেস করলাম কত ছানা বলেছিস – বলল ৬০ কেজি বলেছি। সাত কেজি বিয়ের আগের দিন রসগোল্লা বানানো হবে শুধু বাড়িতে জলখেতে দেবার জন্য – আর ফুলশয্যার আগের দিন রাতে দশ কেজি ছানার সন্দেশ, আর বাকি ছানার (৪৩ কেজি) রসগোল্লা। খাসির মাংস আছে ১৪০ কিলো, মুরগী ৩৫ কিলো। আমি একটু জ্ঞান ফলালাম যদিও মাংসের ডিপারমেন্ট নেপাল-দার। বললাম, “দেখ ৭০০ লোকে ১৪০ কিলো মাংস খেতে পারবে না আজকের দিনে। এখন পাবলিক অনেক কম খায়। ফালতু নষ্ট হবে”। মাংস দেবে গফুর – যেখানে রান্না হচ্ছে প্যান্ডেলে মোড়লদের বাগানে সেই বাগানেরই এক কোনে ছাগল কাটা হবে। নেপাল-দা দেখে নেবে যে মাংস যেন খাসিরই হয় – ধাড়ির মাংস একদম নো নো। আর ছাগলের ওজন দশ কিলোর বেশী হলে হবে না। তবে দেখলাম বাবু আমার কথা শুনলো, মাংস কমিয়ে ১২০ কিলো করে দিল – মাথা, ভুঁড়ি বাদে। ব্যাস মাংসের ব্যাপারে আমার ইনপুট শেষ। মাংসের ব্যাপারে ধাড়ি/খাসি ফাইট ছাড়াও আর একটা ফাইট আছে যে কিলো প্রতি মাংসেয় ওরা কর করে জল ঢোকাবে। না দেখে নিলে আপনাকে কিলোতে ২৫০ গ্রাম জল ঢুকিয়ে দেবে মাংসে। নেপালদার মূল লক্ষ্য সেই জল যেন কিলো প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম এর বেশী না হয়।

আমি দেখলাম ভিয়েনের দিকটা – মেজো জ্যাঠার শরীর খারাপ বলে সেদিন ভিয়েনের কাছে ছিল না। আমিই গিয়ে ঈশ্বর-দা জিজ্ঞেস করলাম – “কিলোয় কটা করে পিস করছ গো”? আমাকে বলল কিলোয় ৮০ টা! আমার শুনে বিচী ট্যাঁকে উঠে গেল – কিলোয় আশিটা পিস মানে সেতো ঘুঘুর ডিম! আমাদের ছোটবেলায় কিলোয় ৬৫টা করে হত। আমাকে বলা হল যে আজকাল গ্রামের দিকের পাবলিকও মিষ্টী তেমন খায় না। ছোট কাকু দেখলাম আমাকে সমর্থন করল – বলল, “আরে বাবা লোকের পাতে দিতে হবে তো নাকি মিষ্টিটা? এত ছোট করলে কি করে হবে”? দরাদরির পর মোটামুটি ৭০ পিস করে হবে ধার্য হল। এর পর আলোচনা মিষ্টী মোটা নাকি পাতলা রসে হবে – আমি পাতলা রসের দলে। ঈশ্বর-দা বলল, “দ্যাখো, বিয়ের আগের দিনের মিষ্টিটা আমি মোটা রসে করছি, কারণ বিয়ের তিনদিন তো থাকতে হবে তো মালটাকে! আর ফুলশয্যার আগের দিন মালগুলো আমি পাতল রসের করছি”। ভালো কথা – মিষ্টি হচ্ছে, আর ঈশ্বর-দা বলছে, “ভাই, খেয়ে দেখ গরম গরম কেমন হচ্ছে। আর একটু ঠান্ডা হলে কচকচে ভাবটা আসবে”। আমি গরম ঠান্ডা রসগোল্লা দেদার খাচ্ছি – যার ফলত ওই ৬৫৩ গ্রাম প্রাপ্তি।

শেষে বলি ওই চন্দননগরের রাঁধুনি-র কথা। বাবু মনে কষ্ট পেলেও আমাকে সত্যের খাতিরে লিখতে হবেই। ওই যে রাঁধুনি-গুলো এসেছিল সেগুলো পুরো ক্ষ্যাপাচোদা। আমার মনে হচ্ছে যে মেন রাঁধুনি, মানে যার সাথে মেন কনট্রাক্ট হয়েছিল এবং যে ফর্দ করেছিল, সে ওই দিন অন্য বিয়ে বাড়িতে রাঁধতে চলে গিয়েছিল। আর আমাদের বাড়িতে এসেছিল কল্পিত চন্দননগরের রাঁধুনি। আজকাল বলছে নাকি চিকেন এবং পনীর ‘স্যাতে’ বলে কি জিনিস চালু হয়েছে। তা যা ব্যবস্থা দেখলাম, মূল চিকেন স্যাতে যেখানে হয় সেই ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার পাবলিক চিকেন স্যাতের এই ইজ্জতহানী দেখলে সরমে মুখ লুকোবে। ক্ষ্যাপাচোদা রাঁধুনি গুলো এমন পনীরের এষ্টিমেট দিয়েছে যে প্রায় ১৩ কিলো পনীর বেড়ে গেল। আমি বসে বসে দেখছি কি বানায় ওরা পনীর স্যাতে। দেখলাম ওরা কিউব করে কাটল, মাঝে পেঁয়াজ এবং ক্যাপ্সিকাম দিয়ে কাঠিতে গাঁথল – বাঃ খুব ভালো ব্যাপার – ঠিক ঠাক দিকেই এগুচ্ছে। তার পর দেখলাম একি পাগলামো – সেই কাঠিতে গাঁথা মালগুলো বেসনে ডুবিয়ে ভাজছে! আমার কান্না পাচ্ছে দেখে – কিন্তু কি আর বলি! আমাকে জানানো হল একেই বলে পনীর স্যাতে! তার পর আসি গিয়ে ‘নান-পুরী’ – এ যে কি হাইব্রীড জিনিস বুঝতে পারলাম না। এ তো যাকে বলে সোনার পাথর বাটির মত অবস্থা। মূল রাঁধুনি দেখলাম ফর্দ-য় লিখেছে দু-ট্রে ডিম। ভালো কথা – সেই ডিম নিয়ে নান-পুরীর ময়দা মাখা হবে বুঝলাম। কিন্তু এই পাদের রাঁধুনি গুলো জানেই না সেই ব্যাপার! ডিম পরে রইল যেমন কে তেমন! দেখলাম কৌসুরি মেথির প্যাকেট গুলোয় পড়ে রয়েছে – মালগুলো জানে না কিসে দিতে হবে – মনে হয় চিলি চিকেনে কৌসুরি মেথি দিতে গিয়েছিল, কেউ আটকেছে।

চন্দননগরের রাঁধুনিরা রাঁধছে – ডাক্তারদের গৌরদা তত্ত্বাবধানে। গৌরদা দেখি এক রাঁধুনিকে বলছে, “এ্যাই তোকে চেনা চেনা লাগছে না! তোর বাড়ির ছিনুই না? (ছিনুই আমাদের নিমোর পাশের গ্রাম) তুই আবার কবে থেকে চন্দননগরের রাঁধুনি হলি”! যা বুঝলুম এই এই ক্ষেত্রে চন্দননগরের রাঁধুনি হচ্ছে ওই ইংল্যান্ডের ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্টের মত – নাম কার আর রাঁধছে কে!

তবে চন্দননগরের রাঁধুনির নাম শুনে সামনা সামনি আর কেউ সমালোচনা করল না। সবাই খুব ভালো খুব ভালো বলতে বলতে খেয়ে দেয়ে বাড়ি ফিরল – নিমোর পাবলিক খেলেও বটে! তেমন কিছু মাল বাড়ল না – কেবল এক ডেক রসগোল্লা ছাড়া – এখনো সেই রসগোল্লা ফ্রীজে আছে!

সঙ্গের ছবি গুলো ভিয়েনের সময় –ঈশ্বর-দা রসগোল্লা আর ঈশ্বরদার ছেলে সন্দেশ বানাচ্ছে।


https://i.postimg.cc/fL1bhmBk/IMG-3341.jpg


https://i.postimg.cc/C5DxM5Q7/IMG-3344.jpg


https://i.postimg.cc/zXCG9LWX/IMG-3349.jpg


https://i.postimg.cc/vmB8g3Kc/IMG-3346.jpg


https://i.postimg.cc/zvnqZMyP/IMG-3347.jpg




Name:  Ela          

IP Address : 237812.69.453412.38 (*)          Date:30 Jun 2019 -- 04:22 PM

ইসসস, এইরকম একটা ভিয়েনওলা বিয়েবাড়ি সদ্য মিস করেছি ছাতার চাকরির চোটে। সুকির পেটখারাপ হোক।

তবে লেখা বরাবরের মতো সুস্বাদু ও দারুণ!


Name:  Amit          

IP Address : 237812.68.6789.27 (*)          Date:01 Jul 2019 -- 05:27 AM

বাপরে, ওজন কি ল্যাব স্কেল বা সোনার দোকানে নিয়েছিলে ? একেবারে ৬৫৩ গ্রাম ? ডেসিমাল ছিল কোনো ?


Name:  সুকি           

IP Address : 237812.68.786712.15 (*)          Date:27 Jul 2019 -- 01:35 PM

বাবুর বিয়েতে জগা
---------------------------

বাবুর বিয়েতে বরযাত্রী গিয়ে আমড়া পাড়ার ব্যাপারটা তো আগের বার বুঝিয়ে লিখলাম, কিন্তু তার আগে খেতে বসে যে জিনিসটা হয়েছিল সেটাও মনে হয় লিখে রাখা দরকার। তো হয়েছে কি গুটকে কচুরী দিয়ে টিফিন সাঁটিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে তো খিদে বাড়াচ্ছিলাম। এই করতে করতে এক সময় খাবার ডাক এল প্যান্ডালে। “গণেশ জননী ক্যাটারার” ছিল দায়িত্বে, ওলাইচণ্ডিতলা, শুঁড়েদূর্গাপুর নাকি কোনদিক থেকে আগত। পিছনের দিকে লাগানো ব্যানার দেখে সেরকমই মালুম পেলাম।

গুটিগুটি পায়ে সাইডের দিকে একটা টেবিলে গিয়ে ঠাঁই নিলাম – চার জনের টেবিল, আমার সাথে টেবিলে ছিল পিসির ছেলে জগা। জুত করে বসে জল দিয়ে প্লেট ধুয়ে ভেজিটেবল চপের জন্য ওয়েট করছি। ব্যাপার হল আমি তখনও মেনু কার্ড দেখি নি, কিন্তু যে বিয়ে বাড়িতে টিফিনে গুটকে কচুরী খাওয়ানো হয়েছে, সেই বিয়ে বাড়িতে প্রথম পাতে ভেজিটেবল চপ আসবে না এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার। এক চামচ কাসুন্দী ঢেলে দিয়ে গেল পাতে কালো জামা পরা ক্যাটারিং ছোকরা। তার পরে এল বহু প্রতীক্ষিত সেই চপ। তবে মাল ততক্ষণে ঠান্ডা হয়ে গ্যাছে – এবং দরকোঁচা মেরে ওভাল আকৃতি দেখতে হয়ে গ্যাছে প্রায় লাল-মুখো ধেড়ে বাঁদর গুলোর বীচির মত। এখন মনযোগী পাঠক প্রশ্ন তুলতে পারেন যে লাল-মুখো বাঁদরের বীচি কেমন দেখতে হয় কেমন করে জানলাম বা সেই জিনিস নিয়ে নাড়াঘাঁটা করেছি কি? এই প্রসঙ্গে বলে রাখি আমি সত্যিই কিন্তু দীর্ঘদিন বাঁদর-দের কাছাকাছি ছিলাম ব্রুনাই -এ। বার বার তাদের তাড়া খেয়ে এবং বাড়ির বারান্দা, বাগান থেকে বাঁদর খেদিয়ে বাঁদর বিষয়ক সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট। কোন বাঁদর অ্যাগ্রেসীভ, কোন বাঁদর শান্ত, কার বীচি কেত বড়, কি রঙের হতে পারে, সে সব দূর থেকেই বলে দিতে পারি আজকাল। তবে বাঁদর বিষয়ক গল্প অন্য কোন সময়।

সেই ঠান্ডা ভেজিটেবল চপে কামড় দিয়ে জগাকে বললাম, “কি রে, বিয়ে-থা কর এবার একটা”। জগা সেই কবে মাষ্টার্স ডিগ্রী কমপ্লিট করে এখন কাপড়ের ব্যবসা সামলাচ্ছে। প্রশ্ন করেই বুঝতে পারলাম, খুব সেন্সিটিভ জায়গায় হাত দিয়ে ফেলেছি। জগা বলল, “আর বলো না সুকান-দা, বিয়ে যে করব মেয়ে কোথায়?” আলোচনায় যা বুঝতে পারলাম, সে বড় করুণ অবস্থা গ্রামে গঞ্জে – চাকুরী না করলে মেয়েরা বিয়ে করতে রাজী হচ্ছে না, আর সরকারী চাকুরী না করলে মেয়ের বাবারা বিয়ে দিতে রাজী হচ্ছে না। আগে থেকে প্রেমে জড়িয়ে না পড়লে ব্যবসা করছে এমন ছেলের বিয়ে হওয়া প্রায় অসম্ভব।

আর সেই অসম্ভব কেই সম্ভব করে নিয়মিতই আমার পিসতুতো বৌদি। আমার আরেক পিসির ছেলে সুবু-দার বৌ। এই যে বাবু-র বিয়ে খাচ্ছি, এই বিয়েও সম্ভব হয়েছিল বৌদির জন্য। না হলে বাবু-ও ব্যবসা করে – সূত্র মেনে বাবুর-ও বিয়ে হওয়া চাপের ছিল। বিয়ের সমন্ধ করে বেড়ানো বৌদি-র এখন হবি হয়ে গ্যাছে প্রায়। অবিবাহিত ভাই, দেওর ইত্যাদি ইত্যাদি দের বিয়ে দেবার পণ নিয়েছে বৌদি।
আমার আর জগার আলোচনা চলছে রাধাবল্লভী দিয়ে ঘুঘনী খেতে খেতে – এমন সময় দেখি বৌদি হন্তদন্ত হয়ে প্যান্ডেলে ঢুকছে একটা লোকের সাথে। আমাদের দিকেই এগিয়ে আসতে লাগল – একেবারে আমাদের টেবিলের কাছে এসে জগা-কে বৌদি বলল, “এই জগা, চট করে একটু উঠে দাঁড়াও তো”। জগাও দেখি প্রশ্ন শুনেই তথমত খেতে তড়াং করে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ালো সেই যেমন সিনেমায় আমেরিকার সৈন্য গুলো ‘ইয়েস স্যার’ বলে ঠুকে দাঁড়ায় তেমন। এবার সেই তড়াং করে উঠে দাঁড়ানোয় টেবিল গ্যাছে নড়ে, প্লাষ্টিকের জলের গ্লাস গ্যাছে উলটে আমার থালায় যেখানে তখনো ঘুঘনী উদরস্থ হবার জন্য ওয়েট করছিল। সেই ঘন ঘুঘনী ডায়লিউট হয়ে তুরন্ত টেবিল দিয়ে গড়িয়ে ডিজাইনার পাঞ্জাবীর কোলে। পাঞ্জাবী সামলাতে সামলাতে শুনলাম বৌদি লোকটাকে বলছে, “দেখে নিন তা হলে ভালো করে”। আড়চোখে দেখলাম লোকটা জগা-কে আগাপাস্তালা দেখে নিচ্ছে। আর জগাও হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে। কেস কিছুই বুঝতে পারছি না – একটা লোক রাতের বেলায় দুম করে একটা একটা ছেলে চেয়ে চেয়ে দেখবে কেন, আর সেই ছেলেই বা হাসি হাসি মুখে থাকবে কেন। প্রায় ৪০ সেকেন্ড মত দেখাদেখি শেষে বৌদি আর সেই লোকটা পিছু ফিরে চলে গেল। যেতে যেতে গুনি বৌদি বলছে, “দেখে নিলেন তো সব ঠিক ঠাক, বলেছিলাম না আমার সব দেওর-রাই লম্বা চওড়া, সেই নিয়ে আপনাকে কিছু চিন্তা করতে হবে না! তা হলে হয়ে যাবে তো?”

জগা-কে বললাম, “এ্যাই খ্যাপাচোদা, বৌদি দাঁড়াতে বলল, আর তুই আগাপাস্তালা না দেখে হুড়ুম করে দাঁড়িয়ে গেলি? ব্যাপারটা কি?” জগা বলল সে নিজের স্বার্থেই দাঁড়িয়েছে, ওই লোকটা ঘটক। বরযাত্রী আসার আগে বৌদির সাথে কথা হয়ে গিয়েছিল যে বিয়ে বাড়িতে ভালো মেয়ে দেখলেই যেন সমন্ধ চালু হয়ে যায়। বাবুর বৌ-এর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি-মেয়েকে বৌদি অলরেডি স্পট করে ফেলেছে – চেষ্টা চালাচ্ছে মোবাইল নাম্বার হাতানোর জন্য। হাতাতে পারলেই জগা-কে ট্রান্সফার করবে সেই নাম্বার এবং তারপর জগার নিজের ক্যালি। তবে সোনায় সোহাগার মতন সেই বিয়ে বাড়িতেই বৌদির দেখা হয়ে যায় চেনাশুনা এক ঘটকের সাথে। মেয়ে খোঁজার নেটওয়ার্ক আরো বাড়াবার জন্য বৌদি সেই ঘটকের সাথে কথা বলে নেয় এবং ফলত ঘটক নিজের আঁখো দেখা ছেলে যাচাই করতে আসে খাবার প্যান্ডেলে।

আমি তাও জগা-কে বললাম, “সে ঘটক ঠিক আছে, কিন্তু তাবলে তুই এমন ভাবে নিজেকে দেখাবি? মান সম্মান নেই নাকি তোর?” জগা বলল, “তোমার আর কি? গোপাল ভাঁড় পড় নি? - গরু-হারালে এমনই হয় মা”।

ফেরার সময় গাড়িতে জিজ্ঞেস করলাম – “বৌদি, তাহলে জগা-র হয়ে যাবে তো কনফার্মড?” বৌদি বলল, “হবে না মানে, স্পট করে ফেলেছি তা কটা সুন্দর মেয়েকে। তুমি তো জানো না, অমৃতা-কেও তো আমি একটা বিয়ে বাড়িতে এমন ভাবেই স্পট করেছিলাম। গিয়েই বড়-মামাকে (আমার বাবা) বলেছিলাম যে মানানসই মেয়ে পাওয়া গ্যাছে। বড়-মামা তখন বলেছিল, আমি সুকানকে ঘাঁটাতে পরব না, ইংল্যান্ডে কি একটা করছে এখন!”

আমি আর কিছু জিঞ্জেস করলাম না – আবার কি গল্প বেরিয়ে পরে বৌদির ঝুলি থেকে! তবে মনে হচ্ছে জগার গতি হয়ে যাবে - বৌদি যেমন ভাবে উঠে পরে লেগেছে! এই বছর শেষের আগেই মনে হচ্ছে ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে আবার।


Name:  সুকি           

IP Address : 237812.68.345623.184 (*)          Date:30 Aug 2019 -- 07:55 AM

বাবুলাল
------------------------------

যখন মনে হয় জীবনটা খুবই একঘেয়ে হয়ে আসছে বা পানসে মেরে যাচ্ছে আশপাশ – বা মনে হচ্ছে চাকুরী সূত্রে বোরিং কাজ কর্ম করতে করতে আমি প্রচন্ড বোর হয়ে যাচ্ছি, তখন আমি বাবুলালের কথা ভাবি। বাবুলাল আমাকে অনুপ্রেরণা যোগায়।

বাবুলালের কথা শুনি বড় জ্যাঠার কাছ থেকে। মেমারী স্টেশন বাজারে জ্যাঠার ছিট কাপড়ের তথা টেলারিং-এর দোকান ছিল এককালে। ছিট কাপড় কিনতে তাই প্রতি সপ্তাহে জ্যাঠাকে কলকাতার বড়বাজারে যেতে হত ওই এক মারোয়ারী মহাজনের কাছে। বড়বাজারের সেকালের ট্রাডিশন মেনে সেই মহাজন তক্তায় বসে বালিশে হেলান দিয়েই ব্যবসা পত্র সামলাতেন। জ্যাঠা গেলেই – “আরে ঘোষ বাবু, এই গরীবকে তো ভুলেই গেলেন” ইত্যাদি ইত্যাদি। এটাও সবার জানা যে মারোয়ারীদের এমনটা বলাই বিজনেসের স্টাইল। আমার জ্যাঠাকে হাজার বার কিনে বেচে দেবার ক্ষমতা রাখে সেই মারোয়ারী ব্যবসায়ী – কিন্তু তবুও ওমন করে বলবে (জ্যাঠা অবশ্য ভাবত সত্যি করেই মারোয়ারীর ব্যবসা ডুবে যাবে জ্যাঠা মাল না কিনলে!)।

তো যাই হোক, প্রথম প্রথম কদিন গিয়ে জ্যাঠা অবাক হয়েছিল একটা লোককে দেখে – সেই রোগা মত লোকটা তক্তার পাশে একটা টুলে চুপ করে বসে থাকে। জ্যাঠা বেশ কিছু দিন ঠাওড় করতে পারছিল না, এর কাজটা কি! চা এনে দেবার অন্য লোক আছে, হিসেব করার অন্য লোক, ঝাঁট দেবার অন্য লোক। বেশী কিছু না বুঝলেও জ্যাঠা এটা জানত যে বিনা কারণে লোক পোষার বান্দা মারোয়ারী ব্যবসায়ী নয়। তাই কৌতূহল তুঙ্গে, কিন্তু মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করতে পারছে না। একদিন সেই মহেন্দ্রক্ষণ এসে গেল যেদিন মহাজন হাঁক দিলেন, “বাবুলাল – বাবুলাল”। জ্যাঠা দেখল সেই রোগা লোকটা টুল থেকে উঠল – আচ্ছা, এর নাম তা হলে বাবুলাল! বাবুলাল এগিয়ে তক্তার কাছে গিয়ে মারোয়ারী মহাজনের একদিকের পাছাটা তুলে ধরল। পাছা তক্তার মাদুর থেকে একটু উপরে উঠলে – তিনি দিলেন বিশাল এক পাদ। যতক্ষণ পাদলেন, বাবুলাল ততক্ষন পাছা তুলে ধরে রাখল। পাদ শেষ হলে পাছা নামিয়ে বাবুলাল টুলে ফিরে গিয়ে বসে পড়ল – যতক্ষণ না আবার ডাক আসে!

হয়েছে কি, সেই মারোয়ারী মহাজন বিশাল মোটা – মানে এতটাই মোটা যে নিজে পাছা তুলে পাদার ক্ষমতাও নেই। আর যতই পাদ পাক, পাছা কিছুতে চেপে থাকলে পাদার যে কি কষ্ট সেটা নিশ্চয়ই বিস্তারে কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবে না। সেই পাছা তুলে ধরার জন্যই বাবুলালের নিয়োগ। তেনার পাদ পেলেই, ‘বাবুলাল’ বলে হাঁক এবং বাবুলাল দ্বারা পাছা উত্তলন এবং তার পর পাদ।
যখনই ‘বোর হচ্ছি’ বলে ভাবনারা ডালপালা মেলার উপক্রম করে, আমি তখনি বাবুলালের কথা ভাবি। সেকালে মোবাইলও ছিল না – বিনা মোবাইলে, বিনা হেডফোনে বাবুলাল টুলে বলে আছে কখন তার বাবুর পাদ পাবে সেই অপেক্ষায়!

বাবুলাল আমাকে অনুপ্ররণা যোগায়। পেটের দায়ে করা কোন কাজ বোরিং লাগলে বাবুলালের কথা ভাবুন, আপনিও অনুপ্রেরণা পাবেন।



Name:  Ela          

IP Address : 236712.158.566712.123 (*)          Date:30 Aug 2019 -- 11:17 AM

হাহাচেথেছিটকেপগে।


Name:  b          

IP Address : 237812.68.674512.61 (*)          Date:30 Aug 2019 -- 11:24 AM

খ্যা খ্যা। অষ্টম হেনরীর নাকি ওরকম একজন পোষা ডিউক ছিলেন, তিনি বড় কর্মের পরে সম্রাটের *** মুছে দিতেন।খুব গুরুত্বপূর্ণ আর সম্মানীয় পদ।


Name:  Amit           

IP Address : 237812.68.455623.240 (*)          Date:30 Aug 2019 -- 12:40 PM

যাতা


Name:  সুকি           

IP Address : 236712.158.676712.36 (*)          Date:31 Aug 2019 -- 08:36 AM

শ্রীদূর্গা টেলার্স
--------------------------

বড় জ্যাঠার ব্যাপারটা তা হলে একটু খোলসা করেই বলি। মেমারী স্টেশন বাজারে জ্যাঠার দোকান ছিল কাপড়ের ছিটের তথা টেলারিং-এর সেটা আগেই বলেছি – দোকানের নাম ছিল ‘শ্রী-দূর্গা’ টেলার্স। তার পাশেই আমাদের ঔষুধের দোকান ‘শ্রী-দূর্গা মেডিক্যাল হল’। বাড়িতে দূর্গা পুজো হয় বলে এবং মনে হয় কুলোদেবী দূর্গা – সেই কারণেই আমাদের সব ব্যবসাতেই দূর্গা নামের ছড়াছড়ি। বড় জ্যাঠার দোকান কি করে যে চলত সেটাই আমার রহস্য – অথচ এক কালে বেশ রমরমিয়ে চলত। তিন জন যে সেলাই করার কর্মচারী ছিল তার মধ্যে জ্যাঠার ডান হাত ছিল সাগর। আমরা বলতাম সাগর জ্যেঠু। ব্যবসা ক্রমশ পড়তির দিকে এলে, বাকি কর্মচারীরা বিদায় নেয় – কিন্তু সাগর জ্যেঠু থেকে যায়। বলত, “এই বয়সে আর কোথায় গিয়ে কাজ করব – বড়দার সাথে গল্প গুজব করে কাটিয়ে দিই দিন কটা”। সাগর জ্যেঠু, আমার জ্যেঠুকে বড়দা বলত, যেমনটা বলত আমার বাবা কাকারা।

ব্যবসা পড়তি হয়ে আসছে – কিন্তু বড় জ্যেঠুর সে নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। আমি দেখছি যে খদ্দের ছিট কিনতে এসেছে, বড় জ্যাঠার উত্তর হল,
“তোদের আর ছিট কেনার সময় হয় না? দেখছিস না যে বিশ্বাসের সাথে গল্প করছি! পরে আসবি – এখন যা”।


বিশ্বাস হল গিয়ে জ্যাঠার ভাই কাম দোস্ত। বিশ্বাস মেমারী মার্কেটের নাম করা ডাক্তার ছিল তখন – একটা নার্সিংহোম ও চালাত নিজের বাড়ির পাশেই। তাই সেই ডাক্তার সকাল দশটার আপ ট্রেনে মেমারী থেকে বর্ধমান যেত মেডিক্যাল কলেজে। সকাল সাড়ে আট-টার সময় বিশ্বাস ডাক্তার জ্যাঠার দোকানে চলে আসত – সে না যাওয়া পর্যন্ত বেচাকেনা বন্ধ। এগারোটার পর আবার জ্যাঠার খিদে পেয়ে যেত, আমাদের মাল রাখার গুদামে গিয়ে আয়েশ করে জ্যাঠা খেত প্রায় একটা পর্যন্ত। খেয়েদেয়ে দোকানে ফিরে এসে ঝাঁপ বন্ধ করে চারটে পর্যন্ত ঘুম। যুক্তি ছিল গরমে আর কে খদ্দের আসবে! জ্যাঠা ঘুমাচ্ছে – কর্মচারী ঘুমাচ্ছে, উঁচু সিলিংয়ের দোকান – পুরানো দিনের ফ্যান ঘুরছে – মেঝেতে ঠান্ডা চ্যাটাই-য়ের মত পাতা – সেই বড় সুখের সময়।

ঘুম থেকে উঠেই জ্যাঠা চা খাবে না – বিশ্বাস-এর জন্য ওয়েট করবে। পাঁচটার ট্রেনে বিশ্বাস ফিরবে বর্ধমান থেকে – আবার গুলতানি সেই সন্ধ্যে পর্যন্ত। আবার খদ্দের এল, জ্যাঠা বলছে,

- “তোকে আবার এখনি আসতে হল, দুপুরের দিকে আসতে কি হয়, ফাঁকা থাকে তখন”?

- দোকানের পাল্লা তো বন্ধ ছিল দেখলাম তখন

- তা ডাকতে পারিস নি? জানিস তো ভিতরে আছি

- পাগল, তোমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি, আর তুমি জুতো নিয়ে আমাকে মেমারী বাজারে তাড়া কর!

আর একটু সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলে, মাছের ব্যবসা সামলাতে উদয় হবে মেজো জ্যাঠা। তার পর দুই ভাই মিলে কালুর দোকানে চপ দিয়ে মুড়ি। খদ্দের এলে যুক্তি ছিল,

“তোর জামা প্যান্টের মাপটা কোন হাত দিয়ে নেব? দেখতে পাচ্ছিস না দু-টো হাতই জোড়া এখন – পরে আয়”।

তবুও ব্যবসা চলছিল। বড় জ্যাঠার টেলারিং ক্ষমতার প্রতি আমাদের বাড়ির কারো বিশ্বাস ছিল না তেমন – বাড়ির কেউ কাটাত না জামা কাপড় জ্যেঠুর কাছে। একবার পুজোর সময় বাবা বলল, “চল, এবার বড়দার কাছ থেকেই জামা – প্যান্ট বানিয়ে দিই তোদের”। আমি প্রায় কাঁদো কাঁদো, গোঁ ধরে আছি, জামা প্যান্ট আমি কাটাবো প্যারাগন নয়ত জয় টেলার্সে। গোঁ ধরে বাপকে কায়দা করা আমার ক্ষমতায় কুলায় নি কোন দিন। সেবার প্রথম জ্যাঠার দোকানে জামা কাপড় হল।

ফাষ্ট ফরোয়ার্ড - পুজোর কয়দিন আগে অনেকে অনেক বার তাগাদা দেবার পর জ্যাঠা মাল ডেলিভারী দিল। বাড়িতে এনে ট্রায়াল দেবার জন্য সেই জামা প্যান্ট পরে বাবার সামনে এলে বাবা বুঝতে পারল কি ঐতিহাসিক ভুলটা হয়েছে বড় জ্যাঠার কাছে গিয়ে! বাঁ দিকে প্যান্টের ঝুল আর ডান দিকে প্যান্টের ঝুলের মধ্যে প্রায় দেড় ইঞ্চির মত পার্থক্য। প্যান্টের ঝুল বাঁ পায়ে গোড়ালির অনেক আগেই শেষ হয়ে গ্যাছে, আর ডান পায়ের ঝুল মাটিতে লুটাচ্ছে। অনুরূপ হল জামার হাতার কেস। ডান হাতের জামার ঝুল আমি যতই টানি, কিছুতেই কব্জি পেরুচ্ছে না!

পরের দিন বাবা দোকানে গিয়ে সাগর জ্যেঠুকে প্রথমে ধরল

- সাগরদা, এটা তুমি কি জামা – প্যান্ট বানিয়েছ সুকানের?

- কেন কি হল আবার?

- আরে হাত পায়ের ঝুলের মাপ তো কিছুই ঠিক নেই

- তা আমি কি করব, বড়দা যে মাপ আমাকে দিয়েছে, সেটাই আমি সেলাই করেছি!

এবার বাবা ধরল বড় জ্যাঠাকে

- বড়দা, তুমি সুকানের কি মাপ নিলে যে প্যান্টের ঝুল দুপায়ে সমান হল না?

- সুকান যদি সোজা হয়ে না দাঁড়ায় তো আমি কি করব?

- সে কি গো, এত বেঁকে দাঁড়িয়ে ছিল যে ইঞ্চি দুয়েকের তফাত!

- যাক গে, ঠিক করে দেব। তা জামাটা কেমন কেটেছি বল?

- জামাতেও ওই একই করেছ তুমি – ডান হাতা কব্জি পেরুচ্ছে না।

- তাই নাকি? আচ্ছা, ওটাও ঠিক করে দেব।

- আচ্ছা বড়দা, সুকান না হয় সোজা হয়ে দাঁড়ায় নি। কিন্তু তুমি কি বলে জামার ডানদিকে ছটা বোতাম বসালে আর বাঁদিকে ঘর করলে সাতটা বোতামের? কোন বোতাম কি ঘরে লাগাবে সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না!

সেই একবারই – এতেই নতুন জামা কাপড় কাটার শেষ বড় জ্যাঠার কাছে। আমার সেই জামা – প্যান্ট আর ঠিক করতে পারে নি জ্যাঠা। ঝুল কিছুতেই সমান হয় না দু দিকে। শেষে জ্যাঠা প্রস্তাব দিল, “তাহলে প্যান্টটা কেটে ফেলে বরং বাজার করার ব্যাগ বানিয়ে দিয়”। তাই হল শেষে, আমার পুজোর প্যান্টের কাপড় দিয়ে দু-টো বাজার করার ব্যাগ।

আরো পরিষ্কার হল যে থানের ছিট থেকে কিছু বানানোর শিক্ষায় জ্যাঠার এবং সাগর জ্যেঠুর কিছু খামতি আছে – ইমাজিন করতে পারে না মনে হয় কি জিনিস দাঁড়াবে। কিন্তু একবার জামা বা প্যান্ট বানানো হয়ে গেলে তাকে সাইজ করে অন্য কিছু বানাতে তেনারা পারদর্শী।

এর পর থেকে পুরানো প্যান্ট কেটে বাজারের ব্যাগ বা বড়-দের বেশীবার না পরা প্যান্ট কাটিয়ে ছোটদের প্যান্ট বানানো – এর মধ্যেই জ্যাঠার কার্যকলাপ সীমাবদ্ধা রাখা হত। সেই প্রাগঐতিহাসিক ব্যাগ মনে হয় আজও বাড়ির কোথাও একটা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। জ্যাঠার দোকান আজ আর নেই – সেই ব্যাগ গুলোই রয়ে গ্যাছে জ্যাঠার কারিগরী নিদর্শন হিসাবে।


Name:  সুকি          

IP Address : 237812.68.454512.144 (*)          Date:04 Sep 2019 -- 06:42 AM

এই বয়সে মনে হচ্ছে আবার নতুন করে বাংলা ছড়া শিখতে হবে। মেহুল আজকাল কিছু ইংরাজী ছড়া শিখেছে আর শিখেছে দু চার কলি রবি ঠাকুরের গান। সেদিন আবার নতুন শেখা বাংলায় ‘হাট্টি মা টিম টিম’ শোনালো! এই পর্যন্ত গল্প ঠিক আছে, তারপর বলে আমাকে একটা ছড়া শোনাতে! ব্যাস আমি পড়লাম ফাঁপড়ে – বাংলা ছোটদের ছড়া আমি কোথা থেকে জানব!

জয়েন্ট ফ্যামিলিতে হই হই করে বড় হবার সময় কে যে আমাদের ছড়া শেখাবে সেটা ঠিক ডেফিনেটিভ ছিল না। এ ভাবছিল ওর দায়িত্ব, সে ভাবছিল তার – এই করে করে আর ছড়া কিছুই শেখা হল না। এই গ্যাপটা যখন ধরা পড়ল, তখন নিজে হাতে আমাদের ছড়া শেখাবার দায়িত্ব তুলে নিল সেজকাকু। সে এক শিখিয়েছিল বটে – এমন শিখেছিলাম এই আজও মনে আছে। সেজকাকুর শেখানো প্রথম ছড়াটা নিম্নরূপঃ

“ল্যাংচা রে ল্যাংচা, তোর বাপকে গিয়ে ভ্যেংচা
লুঙ্গি খুলে পর গামছা
তোর বড় ছেলে বাজারেতে ফুলুরি ভাজে
তোর ছোট ছেলে কলেজ স্ট্রীটে লাইন মারে
এই তো তোদের বংশ, বাপের অন্ন করিস ধ্বংস (২ বার)
ল্যাংচা রে ল্যাংচা…”

কালের সময় মেনে একসময় “নিমো উন্নত অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এ ভর্তি হলাম। ইস্কুল চালু হবার পর একদিন ক্লাসে সিরাজ মাষ্টার আমাদের ছড়া শোনাতে বলল। অন্য ছেলেরা “আতা গাছে তোতা পাখি” ইত্যাদি ইত্যাদি আউড়ালো পটাপট। আমার টার্ন এলে যথারীতি সেজকাকার কাছে শেখা টাটকা সেই ছড়াটা আমি শোনালাম, ‘ল্যাংচা রে ল্যাংচা’। সেই ছড়া শুনতে শুনতে সিরাজ মাষ্টারের চোখ কপালে উঠে গেল – কেন গেল সেটা বুঝতে পারলাম না। একটুও না আটকে গলা কাঁপিয়ে শোনালাম – মনে রাখতে হবে সেজকাকা যাত্রা করত, তাই কেমন করে ছড়া ডেলিভারী হবে সেটাও আমাদের ভালো করে শিখিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিরাজ মাষ্টারের ছড়ির উদুম প্যাঁদানি খেলাম।

বাড়ি ফিরে এসে সেই ঘটনা বলতে সেজকাকা সবার কাছে বকুনি খেল আমাদের ছড়া শেখানোর জন্য। এতে কি ভুল ছিল আমি তখন তা বুঝতে পারি নি! আমার খুব মনের মত ছিল ল্যাংচা ছড়াটা। সিরাজ মাষ্টার প্যাঁদাবার পর থেকে সেজকাকা আর ছড়া শেখায় নি – লাইফে একটা বড় ফাঁক রয়ে গ্যাছে সেটা এখন টের পাচ্ছি।


Name:  সুকি          

IP Address : 236712.158.566712.143 (*)          Date:04 Sep 2019 -- 06:43 AM

ভোলা পাইকের সেবার খুব সকাল সকাল রেজাক-কাকার বাড়িতে গিয়ে হাজির। রেজাককা তখন সবে চা টা খেয়ে বর্তমান কাগজটা নিয়ে বাইরের দুয়ারে বসতে আসার তোড়জোড় করছে। ভোলা পাইকের গিয়ে হাঁক দিল

- ও মাষ্টার, মাষ্টার

- কে রে? ও ভোলা – কি চাই এত সকাল সকাল কি চাই? এখন গরু নেই

- আরে না গরু না, ফরম নেবার জন্য এসেছি

- কিসের ফর্ম?

- আরে ওই যে পঞ্চায়েতে যাদের বাড়িতে এঁড়ে বাছুর হলে ভাতা পাবার দরখাস্ত করার ফরম

- কিসের ফর্ম?

রেজাক কাকা পড়ল আকাশ থেকে। রেজাককা মাষ্টারি করত নিমোর পাশের গ্রাম কাঁঠালগাছি প্রাইমারী ইস্কুলে – আর সেই ইস্কুলের পাশের ভোলা পাইকেরের বাড়ি। সেই সূত্র ধরেই কাঁঠাল গাছির লোকেরা রেজাক-কাকাকে মাষ্টার বলে ডাকত। আর ভোলা ছিল আমাদের নিমো গ্রামে মেজরিটি ডিল করতে থাকা গরু পাইকের। গরু মর মর হচ্ছে, নতুন গরু কিনতে হবে , চাষের বলদ – সবের মুসকিল আসান।

ভোলা-কে নিমোর সিনিয়র পাবলিক ভালোবাসত কারণ গরু বিষয়ক অগত্যার গতি ছিল সে। আর ছেলেছোকরা-রা ভোলাকে খুব একটা পছন্দ না করলেও তার চার চার খানা সুন্দরী মেয়ের মুখ চেয়ে মানিয়ে নিয়েছিল। ভোলা তার চার মেয়েকে নিয়ে নিমোর ভিতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে দুপুর এগারোটা চল্লিশের ট্রেনে সিনেমা দেখতে নিয়ে যাচ্ছে সে এক দেখার মত দৃশ্য ছিল। তবে সেই গল্প পরে হবে – এখন জানাবার এটুকুই যে টাকা পয়সার হিসাবে ভোলা এতই পোক্ত ছিল যে মেয়েদের জানিয়ে রেখেছিল তাদের বিয়েতে এক পয়সাও সে খরচ করতে পারবে না। মেয়েদের পরিপূর্ণ ফ্রীডম ছিল নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে করে ফেলার – ভোলাকে পয়সা খরচ না করতে পারলেই সে খুশী। এই কথা জানাজানি হবার পর বলাই বাহুল্য ভোলার মেয়েদের প্রেমিকের অভাব হয় নি। যত দূর মনে পড়ছে প্রথম দুজনের সাথে বিয়ে হয়ে গেল শীতকালে কাশ্মীর থেকে শাল বিক্রি করতে আসা দুই ব্যবসায়ী কাশ্মীরি ছোকরার।

তো যাই হোক, সে দিনের ঘটনায় ফিরে আসি। যেদিক ভোলা রেজাক মাষ্টারের বাড়িতে এসেছে তার আগের দিন নিমোর রাস্তায় ভোলার সাথে দেখা হয়ে যায় মঙ্গল-কাকার। মঙ্গল-কাকাকে আমরা মঙলা-কা বলেই ডাকতাম। মঙলাকা ভোলাকে ডেকে বলে

- এই ভোলা, তুই রেজাকের কাছ থেকে ফর্ম নিয়েছিস ?

- কিসের ফর্ম গো মঙলা-দা?

- দেখেচিস, শালা রেজাক সব নিজে তলে তলে মেরে দেবার ধান্দা। তোদের কাউকে জানায় নি পর্যন্ত

- কি জানায় নি?

- তুই শুনিস নি যে পঞ্চায়েত থেকে টাকা দেবে বলেছে যাদের বাড়িতে এঁড়ে বাছুর বিইয়েছে?

- না শুনি নি তো! আমার বাড়িতেই তো গত দু সপ্তাহে তিনটে এঁড়ে বাচ্ছা বিইয়েছে

- আরে এঁড়ে বাছুরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলেই তো তাদের ঠিক ঠাক দেখভাল করার জন্য পঞ্চায়েত থেকে টাকা দেবে। সবাইকে যাতে পঞ্চায়েতে এসে ভিড় না করতে হয়, তাই গ্রামের ইস্কুল থেকেই ফর্ম বিলি করতে দিয়েছে পঞ্চায়েত। সাথে করে এঁড়ে বাচ্ছা নিয়ে গিয়ে ফর্ম তুলতে হবে – পরে ভর্তি করে জমা দিলেই হবে

- কই, আমাদের তো রেজাক মাষ্টার কিছু বলে নি!

- বলবে কেন! শালা রেজাক দেখছে যে ফর্ম কেউ না তুললে পুরো টাকাটাই নিয়ে গাপ করে দেবে!

- তাই নাকি? আচ্ছা আমি মাষ্টারের কাছে যাচ্ছি

পরের দিন ইস্কুল খোলা পর্যন্ত তড় সয় নি ভোলার – সকাল হতেই তিনটে এঁড়ে বাছুর সাথে করে নিয়ে হাজির হয়েছে রেজাক-কাকার বাড়িতে। সব কথা শুনে তো রেজাক-কা আকাশ থেকে পড়ল

- ভোলা, সকাল সকাল পাগলামি করিস নি! এঁড়ে বাছুরের জন্য এমন কোন ফর্ম পঞ্চায়েত বিলি করে নি

- সে তো তুমি বলবেই মাষ্টার – কেউ টাকা না দাবী করলে, সবটাই হাপিস হয়ে যাবে!

সে এক তুল-কালাম কান্ড রেজাক-কাকার বাড়ির সামনে। এঁড়ে বাছুর তিনটে কি করবে বুঝতে না পেরে ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে – পুরো খিচুরী কেস।

এ যুগে যারা ইমাম ভাতা, পুরোহিত ভাতা, কন্যাশ্রী, সাইকেল দেওয়া, দু-টাকার চাল ইত্যাদি নিয়ে মাথা ঘামান, তাঁরা ভুলে যান সেযুগে এঁড়ে বাছুর বিয়োলে ভাতা প্রদানের কথা। মানুষের স্মৃতি শক্তি বড়ই দূর্বল! এই যেমন আমি ভুলে গেছি সেবার কত টাকা করে দেওয়া হয়েছিল এঁড়ে বাছুর বাবদ!


Name:  debu          

IP Address : 237812.68.343412.35 (*)          Date:06 Sep 2019 -- 04:11 AM

পাচালি টা ছাপান , ভাল হোচ্ছে


Name:  রঞ্জন          

IP Address : 236712.158.895612.202 (*)          Date:10 Sep 2019 -- 03:17 PM

ভাল বোলে ভাল! হাসতে হাসতে পেটে খিল।
ল্যাংচা রে ল্যাংচা!


Name:  সুকি           

IP Address : 236712.158.676712.162 (*)          Date:21 Sep 2019 -- 08:29 AM

আজকাল ইস্কুলে চাকুরী পেতে হলে কি না কি বেগ পেতে হচ্ছে বঙ্গে – প্রকৃত শিক্ষিত ছেলেরা তাদের প্রাপ্য চাকুরী পাচ্ছে না। চাকুরীর পরীক্ষা দেবে, তেমন পরীক্ষাও নাকি বহুদিন নেওয়া হয় নি। ঘুষ দিয়েও কাজ হচ্ছে না – কত ছেলে পুলে জমি জায়গা বিক্রী করে এখানে সেখানে ঘুষ গুঁজে বসে আছে – কিন্তু সেই টাকা কোথায় গেছে তাই ট্রেস করা যাচ্ছে না – প্রকৃত সত্য একটাই, আর তা হল চাকুরী নেই ইস্কুলে।

এই সব অরাজকতা দেখে আমার সেই কংগ্রেসী পিরিওডের কথা মনে পড়ে গেল – কংগ্রেসী প্রদীপ তখন নিভে আসছে। যারা ফ্রন্টলাইন কর্মী, তারা ব্যাপারটা টের পাচ্ছে তলে তলে। এমন সময় একদিন ভ্যাঁটা আমার জ্যাঠা-কে বলল, “গুরু, কংগ্রেস তো মনে হচ্ছে গুটিয়ে আসছে। পার্টি করে তো আর বেশী দিন সংসার চলবে না। তা বুড়ো বয়সে খাব কি বউ নিয়ে? তুমি একটা চাকুরীর ব্যবস্থা করে দাও”। জ্যাঠা এ হেন প্রস্তাব শুনে খুবই অবাক হল এবং দু:খ পেল – মনে হল যেন পিছন থেকে যেন কেউ ছুরি বসিয়ে দিয়েছে। কোনক্রমে বলতে পারল, “ইউ টু ব্রুটাস!” ভ্যাঁটা শুনল জ্যাঠা জিজ্ঞেস করছে, “শেষে তুইও চাকরী করবি ভ্যাঁটা”? তাই উত্তর দিল, “গুরু, বাড়িতে বউ টিকতে দিচ্ছে না – জান নিয়ে টানাটানি, তুমি একটা চাকুরীর ব্যবস্থা করে দাও”। জ্যাঠা কি করা যায় দেখা যাক বলে ভ্যাঁটাকে আস্বত্ব করল।

বেশ কিছুদিন কেটে গ্যাছে ভ্যাঁটার চাকুরী রিকোয়েষ্টের পর। একদিন জ্যাঠা দোকানে বসে আছে – সকাল সকাল হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ভ্যাঁটা এসে হাজির – নেশায় চুড়। “গুরু, সর্বনাশ হয়ে গ্যাছে – তুমি বাঁচাও আমাকে”। জ্যাঠা অবাক – কংগ্রেস পিরিওডে ভ্যাঁটার সর্বনাশ করবে তেমন আবার হয় নাকি? তেমন জোর কার আছে! ভ্যাঁটার কান্না আর থামে না। খানিক বুঝিয়ে বাঝিয়ে যা বোঝা গেল, সর্বনাশটা নাকি জ্যাঠাই করেছে। ভ্যাঁটার চাকুরীর অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার চলে এসেছে! সে তো ভালো কথা, এতে সর্বনাশের কি হল? ভ্যাঁটা এবার মুখ খুলল, “গুরু, তা বলে গন্তার হাই ইস্কুলের হেড মাষ্টারের পোষ্ট? আমি তো কোন মতে নাম সই তো করতে পারি!” জ্যাঠা বলছে, “ এই বললি চাকরী করবি, আবার এখন এসে নাকে কাঁদছিস!” ভ্যাঁটা জানালো সে ওই হেডমাষ্টারের চাকুরী হারগিস করবে না। বলল, “গুরু, তুমি এমন একটা চাকুরী করে দাও – যেখানে আমাকে কাজ করতে হবে না। ফোর্থ ক্লাস স্টাফ হলেও হবে”। অনেক ভেবেচিন্তে ভ্যাঁটার চাকুরী করে দেওয়া হল মেমারী সেটেলমেন্ট অফিসে। সেই সেটেলমেন্ট অফিস তখন মেমারী স্টেশন বাজারের আমাদের দোকানের সামনের বিল্ডিং টায় তিন তলায় ছিল।

চাকুরী শুরু করার পর বেশ কিছুদিন পর ভ্যাঁটা প্রথম বারের জন্য অফিসের ভিতরে ঢুকেছে – বড়বাবু নাকি বলেছে, “ভ্যাঁটা বাবু, আপনাকে তো অফিসে দেখিই না – অফিস আসতে হবে বৈকী মাঝে মাঝে”। ভ্যাঁটা অবাক হল – অফিসে যে মাঝে মাঝে আসতে হবে সেটাই তার কাছে নতুন ইনফো। তবে ভ্যাঁটা পরের দিন গেল অফিসে মদের নেশায় চূড় হয়ে। বড়বাবু আবার বললেন, “ভ্যাঁটা বাবু, মদ খেয়ে তো অফিস আসা যাবে না”! এবার গেল বিশাল খচে ভ্যাঁটা – “বাঁড়া অফিস আসতে হবে, কিন্তু মদ খাওয়া যাবে না! মামদো বাজি হচ্ছে নাকি? যে কোন একটা আপনাকে বেছে নিতে হবে, নয় আমি অফিস আসব না আর এলে মদ খেয়ে আসব”। বড়বাবু নাকি ভ্যাঁটার না অফিস আসাটাই চ্যুজ করেছিলেন।

এই ভাবে প্রথম মাস কেটে গেল – মাইনের দিন হাজির। সেকালে নাকি এক দুই পাঁচ দশ টাকার খুচড়ো নোটে মাইনে দেওয়া হত ক্যাশ। ভ্যাঁটার সাথে তার বউ এসেছে মাইনের টাকা পাহারা দিতে – যাতে ভ্যাঁটা সব টাকা নিয়ে ফুর্তি করতে না পালিয়ে যায়। ভ্যাঁটা গেল তিন তলায় মাইনে আনতে – ভ্যাঁটার বউ আমাদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে। মাইনে নিয়ে ভ্যাঁটা নেমে আসছে সিঁড়ি দিয়ে – আর বাঈজী বাড়িতে যেমন নোটের তাড়া থেকে আঙুল দিয়ে টাকা ওড়ায়, তেমন ভাবেই টাকা ওড়াতে ওড়াতে ভ্যাঁটা বলতে বলতে আসছে “গুরু মাইনে পেয়েছি, মাইনে পেয়েছি”। এই ভাবে সে যখন নীচের তলায় বউয়ের সামনে পৌঁছালো, তখন তার হাতে মাত্র কয়েকটা নোট পড়ে আছে। ভ্যাঁটার বউ আবার গিয়ে সিঁড়ি থেকে নোট গুলো কুড়িয়ে আনল।

এর পর ভ্যাঁটা অনেক দিন চাকুরী করেছিল খাতায় কলমে কংগ্রেস পিরিওড পেরিয়ে যাবার পরেও। ভ্যাঁটা এক লেজেন্ডের নাম – আর লেজেন্ডদের চাকুরী এমন ভাবেই হওয়া উচিত, ফালতু পরীক্ষা দিয়ে নয়!

ভ্যাঁটার আরো গল্প অন্য কোন সময়।


Name:  সুকি           

IP Address : 236712.158.676712.124 (*)          Date:21 Sep 2019 -- 08:39 AM

ডি-কে ড্যান্স অ্যাকাডেমি
----------------------------------

আর এক মাস বাদে দুর্গা পুজো – মাঝে মাঝে আমার চিন্তা হয় আজকাল নিমো বারোয়ারী তলার দুর্গা পুজোর বিসর্জনের সময় নাচবে কে? “ ডি-কে ড্যান্স অ্যাকাডেমি” – তো আজকে আর নেই!

আমাদের ব্যাচের ছেলেরা তো প্রায় বুড়ো হতে চলল – কোমর ঘোরে না আর অনেকেরই। আমাদের পরের ব্যাচের ছেলেরা অনেক দিন টেনেছিল – আজকাল শুনছি তাদেরও সব বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, নতুন বিয়ে করা আনা বউ এবং পুজো দেখতে আসা শালি-শাশুড়ির সামনে নাচতে লজ্জা পাচ্ছে। আর তার পরের ব্যাচের কথা নাই বা বললাম – মোবাইল এসে সব শেষ করে দিয়েছে। তেনাদের না সময় আছে ক্রিকেট খেলায় – নিমোর ক্রিকেট টিম তো প্রায় উঠেই গেল। আর না সময় আছে বিসর্জনের সময় নাচা-র। তেনারা আবার ধেনো ইত্যাদি খান না, শুনলাম পাবলিক নাকি আজকাল পালাপর্বণে বিয়ার এনে খাচ্ছে! বুঝে গেলাম প্রায় সব শেষের পথে। আমাদের ট্রাডিশনের এখানেই ইতি। এবার থেকে শুধু তাসা, জগধম্পা বা কাড়াদগড় নয়, তার সাথে নাচার জন্য ছেলেও ভাড়া করতে হবে! কি অধপতন আমাদের হল কে জানে!

আমার শেষ আশা ছিল হাজরাদের ভুলু। খুব রিসেন্টলি বিয়ে করে আনল – কিন্তু প্রেম করে বিয়ে, তাও আবার পাশের গ্রামের মেয়ে বলে আমার জোরালো ধারণা ছিল যে নাচের ট্রাডিশনটা ভুলু বজায় রাখবে – কারণ বিয়ের পর বউ-কে ইমপ্রেস করার কোন ব্যাপার এর মধ্যে ছিল না। কিন্তু বিধি বাদ সেধেছে – আগের বার গাজনের সময় নিমো গিয়ে দেখলাম যে ভুলু ইনজিওরড। লিগামেন্ট নাকি কি ছিঁড়ে বসে আছে – হাঁটুর অবস্থা বাজে। মেমারীর কুলদীপ ডাক্তারের বেড়িয়ে ফিরলে তার কাছে অপারেশন হবে তার জন্য ওয়েট হচ্ছে।

তাহলে বাকি রইল আমার সেই ন্যাংটো বেলার দোস্ত দিবাকর, মানে দিবাকর কর্মকার। সংক্ষেপে ডি-কে, যার নামেই “ডি-কে ড্যান্স অ্যাকাডেমি”। বন্ধুদের মধ্যে পিন্টু আর দিবাকরই যা চেহারা ধরে রেখেছে এখনো – পিন্টুর দ্বারা নাচ হবার নয় বলে, দিবাকরের উপরেই ভরসা। তবে দিবাকরের ড্যান্সের উপর ঝোঁক সেই ছোটবেলা থেকেই। আমাদের গ্রামে ড্যান্স নামক আর্ট-টার মেটামরফসিস ঘটায় রেল স্টেশনের পাশের কেবিন পাড়ার সুধীর – তাকে নিমো গ্রামের ড্যান্সিং লেজেন্ড বলা যেতে পারে। পপ সংগীত জগতে মাইকেল জ্যাকসনের যা অবদান, আমাদের গ্রামের নাচের জগতে সুধীরের অবদান তার থেকে কোন অংশে কম নয়।

তাসার বাজনার মাঝখানে হাত তুলে তুলে উদ্দাম নাচের গতানুগতিক প্রচলনের বাইরে বেরিয়ে সম্পূর্ণ নতুন জিনিস আমদানী করেছিল সুধীর। সে শুধু নিমো গ্রাম নয় – তার আশেপাশের গ্রামের নাচের ইতিহাসও বদলে দিয়েছিল। ওর জন্যই মূলত চালু হয়ে গিয়েছিল নানাবিধ ড্যান্স কম্পিটিশন। এবং বললে বিশ্বাস করবেন না – সুধীরের নাচ দেখতে পালা-পর্বণে আমাদের গ্রামে বাইরে থেকে লোক আসত। কথিত আছে সুধীর নাকি কলকাতার টলিউডে গিয়েও যে ভীড়ের নাচ বা এক্সর্টা যাদের বলা হয়, তাদের সাথে নেচেছিল কোন এক সিনেমার শুটিংয়ে প্রসেনজিতের সঙ্গে। সেই সুধীরেরও এক সময় বিয়ে হয়ে গেল – নাচ ছেড়ে নিমো স্টেশনে সাইকেল স্ট্যান্ডের ব্যবসায় মনোনিবেশ করল। তবে যাবার আগে সে নাচের ব্যাটন-টা হ্যান্ড ওভার করে দিয়ে গিয়েছিল দিবাকরের হাতে।

দিবাকর সুধীরের কাছে নাচ শিখেছিল – এবং পরে নিজে নিজেই ড্যান্স ইস্কুল খোলে। “ডি-কে ড্যান্স আকাডেমী” – নিমো ভারত সমাজ ক্লাবের নীচের তলায় কোনের দিকে যে ঘরটা খালি আছে – যেখানে এককালে শোনপাপড়ির কারখানা ছিল, সেখানেই ডি-কে ড্যান্স আকাডেমী চালু হয়। বাই দি ওয়ে নাচের জগতে দিবাকর কর্মকার তখন ডি-কে হয়ে গ্যাছে! দিবাকর অবশ্য শুধু নাচ নয়, গানের জগতেও প্রবল ইন্টারেষ্ট নিয়েছিল। এত দিন পর ভাবি যে দিবাকরের গান নিয়ে নিয়ে বেশীর ভাগ সময়েই ঠাট্টা ইয়ার্কি করে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও হয়ত আমরা তাকে দিই নি। সে তখন কাজ করত রেলের কনট্রাকটরের আন্ডারে – সারাদিন সে প্রবল গরমে রেল লাইনে কাজ করে, রাতের বেলা টিমের সাথে গান প্র্যাক্টিস করত। আবার রাতের বেলায় ফাংশন থাকলে সারারাত বাইরে থেকে গান-টান করে বাড়ি ফিরে সকাল সকাল কাজে যাওয়া। আমি যেখানে ল্যাবে দু-চারটে এক্সপেরিমেন্ট করেই সন্ধ্যেবেলা ‘টায়ার্ড’ হয়ে ঘরে ল্যাদ খাচ্ছি – সেই মুহুর্তে দিবাকর পৃথিবীর অন্য প্রান্তে রাতের বেলা গান প্র্যাকটিশ করছে সারাদিন হায়ে গতরে খেটে এসে।

কিন্তু কথায় বলে গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না – আমাদের গ্রামে তখন নানা পার্বণ উপলক্ষ্যে ফাংশন দেওয়া চালু হয়ে গ্যাছে। যাত্রা – নাটক করার আর লোক নেই – তাই বাইরে থেকে পার্টি এনে ফাংশন। দিবাকর আমাদের নিমো ভারত সমাজের মিটিং-য়ে কতবার বলত, “আমাকে তোরা শুধু গানের টিম আনার দায়িত্ব দে – দেখিয়ে দেব ফাংশন কাকে বলে”। ক্লাব সেক্রেটারী ঘোষের লাল্টু হয়ত বলল, “তুই বাঁড়া চুপ করে বসে থাক – তোর টিমের বালের গান শুনলে আমরা ক্যালানী খেয়ে যাব – আর কেউ চাঁদাও দেবে না কোনদিন”। দিবাকর আর কারো সমর্থন পায় না। আমাকে বলত, “সুকান, তোকে একদিন আমার টিমের প্র্যাক্টিস দেখতে নিয়ে যাব”। আমি তখন নিমোতে থাকতাম না – খুব কম দিনের জন্য বাড়ি যেতাম বলে দিবাকরের টিমের গান আর শোনা হয় নি কোনদিন।

এর বেশ কিছুদিন পরে একবার নিমো শিবতলায় কি একটা সভা না ছোট ফাংশন কি হচ্ছিল – সেবার দিবাকর অনেক অনুরোধের পর একটা গান করার সুযোগ পেয়েছিল – শুনলাম মিউজিক ট্র্যাক চালিয়ে সে কিশোর কুমারের গান গাইছে। ও যদি নিমো গ্রামের ছেলে না হত, তাহলে আমরা সেই গান হয়ত পয়সা দিয়েই শুনতে যেতাম।

যাই হোক, ফিরে আসি ডি-কে এর প্রথম ভালোবাসা নাচে। এই নাচতে গিয়েই এক মেয়ের সাথে আলাপ, পরে যে দিবাকরের বউ হয়। বিয়ের পর সেই মেয়ে নাচ ছেড়ে যায় – দিবাকর একটু হতাশ হয়েছিল। আমাদের বলেছিল, মেয়েকে দেখবি নাচ শেখাবো কেমন। সে কথা রেখেছিল – তার মেয়েও খুব সুন্দর নাচত। অডিশন দিয়ে “ড্যান্স বাংলা ড্যান্স” তেও চান্স পেয়েছিল, কিন্তু কতৃপক্ষ অনেক টাকা চায় টিভিতে চান্স দেবার জন্য। সেই টাকা দেওয়ার ক্ষমতা বলাই বাহুল্য দিবাকরের ছিল না। তাই ডি-কে র সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয় নি। ওর মেয়ে নাচত আশে পাশের গ্রামের ফাংশানে বা অনেক হায়ার করা টিমের। কিন্তু গ্রাম বাংলায় যা হয় আর কি – মেয়ে একটু বড় হয়ে গেলে রাতের বেলা ফাংশানে নাচতে নিয়ে যাওয়া আর তার পর পাহারা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনা চাপের হয়ে যাচ্ছিল। এক সময় দিবাকরের মেয়েও নাচে ইতি দেয় – আরেক সম্ভাবনার পরিসমাপ্তি।

ডি-কে ড্যান্স একাডেমিতে বেশ অনেক ছেলে মেয়ে নাচ শিখতে আসত। চলেও বেশ কিছু দিন – কিন্তু কালের নিয়মেই সেই নাচের ইস্কুল বন্ধ হয়ে যায়। ক্লাবের ঘরটা আবার খালি হয়ে গিয়ে আমাদের ফিষ্টি করার জায়গা হয়ে যায়। এখনো নিমো গেলে ডি-কে দেখা করে যায় – কাজে যাবার আগে, বা কাজ থেকে ফিরে। নিমো স্টেশনে বসে গল্প হয় – স্টেশন থেকে আমাদের ক্লাব ঘর দেখা যায়, আর দেখা যায় এক কালের ডি-কে ড্যান্স অ্যাকাডেমির বন্ধ জানালাটাও। আমরা দুজনে পুরানো দিনের কথা বলাবলি করি।

আজ থেকে এগারো বছর আগের দুর্গা পুজোয় বিসর্জনের সময় নিমো গ্রামের শিবতলায় তোলা কিছু ছবি। সাদা গেঞ্জী পরে দিবাকর - সবুজ গেঞ্জীতে ভুলু। বাকিরাও কোন না কোন সময় দিবাকরের কাছ থেকে নাচের ট্রেনিং নিয়েছিল


https://i.postimg.cc/8PcRrjkC/DSCN0102.jpg


https://i.postimg.cc/0jq4y71r/DSC2883.jpg


https://i.postimg.cc/GhTBCYhv/DSCN0095.jpg


https://i.postimg.cc/cJF1Y4Ls/DSCN0085.jpg



Name:  সুকি           

IP Address : 236712.158.676712.124 (*)          Date:21 Sep 2019 -- 08:41 AM

তান্ত্রিক তপু
-------------------

এই তো গেল বার নিমো গিয়ে একদিন রেলগেটটা পেরুচ্ছি জি টি রোডের ধারে নিমো বটতলায় নকু-র দোকানে চিকেন পকোড়া খেতে যাব বলে, হঠ করে দেখি একটা মারুতি আর্টিগা আমার পাশে ক্যাঁচ করে ব্রেক কষে দাঁড়ালো। মুখ তুলে দেখলাম গাড়ি ভর্তি সব ফ্যামিলি টাইপের লোকজন, মেয়েরা শাড়ি গহনা পরে আছে। দেখেই বুঝে নিলাম ছেলে বা মেয়ে দেখতে এসেছে আমাদের গ্রামে। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে প্রশ্ন এল, “এ ভাই, তুমি তান্ত্রিক বাবার বাড়িটা কোনদিকে বলতে পারবে?” আমি বেশ ভালোই অবাক হলাম, নিমোতে আবার তান্ত্রিক কোথা থেকে এল! আমাকে চুপ থাকতে দেখে রেলগেটের পাশে নারান জামাইয়ের চায়ের দোকানে বসে থাকা সোনা-কাকা জিজ্ঞেস করল, “কি রে সুকান কি হল?” আমি বললাম, “কাকা এঁরা ভুল করে নিমোতে এসে তান্ত্রিক বাবা খুঁজছেন”। সোনাকাকা বলল, “না রে ভুল নয়, ওরা তোদের পাড়ার তপুর বাড়ি যাবে – তপু এখন বিরাট তান্ত্রিক হয়েছে তুই শুনিস নি?”।

ভেবে দেখলাম ভুল আমারই – আমি শুনেছিলাম বৈকি, কিন্তু এমন হঠ করে বাইরের লোকের প্রশ্ন শুনে ঘাবড়ে গেছি। আমার মনের মধ্যে তখন নকুর চিকেন পকোড়া ঘুরছিল। তবে এর জন্য তপু-দা নিজেও দায়ী – তান্ত্রিক হয়েছে, কিন্তু অ্যাপিয়ারেন্সের কোন চেঞ্জ আনে নি। তার উপর সেই দিন সকালেই আমাদের খামারে দেখা হল – তপুদা লাল গামছাটা পরে মুখে নিমের দাঁতন দিয়ে আমাদের পুকুরের পাশের মাঠটায় হাগতে যাচ্ছিল। আমি গিয়েছিলাম খামারের নারকেল গাছ গুলোয় কেমন ডাব হয়েছে দেখতে। তান্ত্রিকতা করে করে তপুদার এখন বার বাড়ন্ত – পয়সায় ওই গই নেই। হাই ফাই সব ক্লায়েন্ট – থানার বড়বাবু থেকে শুরু করে, পায়ে বাত ধরা বড়বাবুর শালি পর্যন্ত। তিন তলা বাড়ি হাঁকিয়েছে, কিন্তু পায়খানা সেই খোলা মাঠে করা চাই!

এই খোলা মাঠে পায়খানা করার ব্যাপারটা একটু সাইকোলজিক্যাল – যাঁরা মাঠে পায়খানা না করেছেন তাঁরা এটা ঠিক বুঝতে পারবেন না। সেই যে গোপালদার বিয়ের পর প্রথম বার শ্বশুর এসেছে – একদিন আমাদের সাথে শ্বশুর মশাইয়ের সাথে দেখা, ষষ্ঠি ডাঙা মাঠের দিক থেকে দেখি একা একা আসছে। জিজ্ঞেস করলাম, “কি ব্যাপার, আপনি একা একা মাঠের দিকে কোথায় গিয়েছিলেন?” উনি বললেন, “এই বাবা, একটু বাহ্যি বসতে গিয়েছিলাম মাঠে”। বললাম, “সেকি বাড়িতে তো পায়খানা রয়েছে – খুব জোর পেয়ে গিয়েছিল নাকি?” গোপালদার শ্বশুর তারকেশ্বরের গ্রামের দিকের সরল লোক, বললেন, “না বাবারা, তোমাদের ওই পাকা পায়খানায় আমার ঠিক পোষায় না – চার দেওয়ালের মধ্যে কেমন বন্ধ বন্ধ লাগে – একটু খোলা হাওয়া না পেলে ঠিক পায়খানা হয় না”।

নিমোর ছেলেদের প্রধান প্রবলেম হচ্ছে কোথায় কি বলতে হবে তাল জ্ঞান থাকে না মাঝে মাঝে, এই জন্য কত প্রেম অঙ্কুরেই শেষ হয়ে গ্যাছে কি বলব! আমি কিছু বলার আগেই কে পাশ থেকে ফুট কেটে উঠল, “শুধু খোলা হাওয়া নাকি ঘাসের সুড়সুড়িও লাগে ভালো ভাবে পায়খানা ক্লিয়ার করতে?” আমি কোনক্রমে তাকে চুপ করালাম। তবুও আবার একজন পরামর্শ দিল, “তবে বলছিলাম কি আপনি কালকে ওই ষষ্ঠি ডাঙা মাঠের দিকে যাবেন না, ওদিক টায় বেশ সাপের উপদ্রব আছে। আপনি বরং বামুন দের বাঁশ ঝাড়ের পাশটায় যাবেন”। পরের দিক আবার দেখা শ্বশুর মশাইয়ের সাথে – বামুনের বাঁশ বাগানের দিক থেকে ফিরছেন – গায়ে হাতে কাদা। কি হল জিজ্ঞেস করতে বললেন, “এ্যাই তোমরা কালকে এটা তো বল নি যে বাঁশ বাগানের দিকে কে শুয়োর পুষেছে, সেগুলো ওখানে ঘুরে বেরায়? আমার পায়খানা শেষ হয়নি তখনো, কোথা থেকে উদয় হয়ে গুঁতিয়ে ফেলে দিল গু খাবে বলে। পায়খানা শেষ করার তর সয় নি! এই দ্যাখো না কাদায় উলটে গিয়ে কি অবস্থা”। বটম লাইম, শুয়োর আর সাপের ভয় ছাড়া মাঠে পায়খানা স্বর্গসুখ।

এই দ্যাখো ডাইভার্ট করে যাচ্ছি – তপুদার ব্যাপারে ফিরি। আমার মনে রাখা উচিত ছিল যে তান্ত্রিক মানে নিমোতে আজকাল তপুদাকেই বলা হচ্ছে। আগে আমাদের গ্রামে তান্ত্রিক ইত্যাদি তেমন কেউ ছিল না – কেবল জল পোড়া, বাণ মারা, বাটি চালা এই সব আমার বাল্যবন্ধু আলমের দাদু পচা মোড়লই করত। তবে পচা মোড়ল মানুষের কেস বেশী পেত না। সন্ধ্যের দিকে মানিক-কা হন্ত দন্ত হয়ত গিয়ে বলল, “ও পচাদা, কালো বাছুরটা তো এখনো বাড়ি ফিরল না। এদিক ওদিক খুঁজেও পেলাম না – তুমি একবার চট করে বাটি চেলে বলে দাও বাছুরটা কোন দিকে গ্যাছে”। তবে মানুষের কেস একেবারেই আসত না বললে ভুল হবে – কামারদের সাধনের ছেলে বাপন প্রায়ই বাড়ি থেকে পালাত – কোনবার বোম্বেতে সিনেমায় নামবে বলে, কোন বার যাত্রা দলের সাথে রান্না করতে – তা সাধনের বউ তাই ছিল পচা মোড়লের বাঁধা কাষ্টমার।

সেই দিনটার কথা মনে পড়ে গেল যেদিন প্রথম জানতে পারলাম তপুদা তন্ত্রের দিকে এগুচ্ছে। সেদিন একটু রাতের দিকে নিমোর শুভ ঠাকুরের তলায় সব বসে বসে গ্যাঁজাচ্ছি। দেখি তপুদা টলমল করতে করতে সাইকেল নিয়ে এসে মন্দিরের সামনে রাস্তার ওদিকে জেলেদের দিলীপ-দার গোয়ালের বাইরে গোবর ডাঁই করা ছিল, সেখানে এসে সাইকেল নিয়ে গুঁজরে পড়ল। আমি গেছি ঘাবড়ে – যা শালা কি হল! ফাঁকা রাস্তায় গুঁজরে পরার কারণ কি! মুকুল-দা বলে উঠল, “ওফহ, আজকে আবার!” বুঝলুম এর হিষ্ট্রি আছে। তপুদা দেখলাম নিজের গোবরের গাদা থেকে উঠল, সাইকেলটাও টেনে তুলল। দিয়ে সাইকেলের পাশে অদৃশ্য কেউ দাঁড়িয়ে আছে এমন ভাবে তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করল,

“চাঁপি, তোর এত সাহস, তুই আমাকে ঠেলে ফেলি দিলি! তুই জানিস না তুই কার সাথে পাঙ্গা নিচ্ছিস। আর যদি কোন দিন আমার সাথে ফাজলামি করবি তো তোর একদিন কি আমার একদিন। নিমো গ্রামে ঢোকা তোর বন্ধ করে দেব আমি – জানিস যে ক্ষমতা আমার আছে?”

এই সব বলতে বলতে তপুদা সাইকেল ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে চলে গেল। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না! আমি তো কাউকেই দেখতে পেলাম না তপুদার পাশে – আর চাঁপি ই বা এল কোথা থেকে এর মধ্যে। যা বুঝতে পারলাম, তপুদার দাবি হচ্ছে তার পড়ে যাবার সাথে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে সাইকেল চালাবার কোন সম্পর্ক নেই। এই শুভর তলায় এলেই নাকি চাঁপি তাকে ঠেলে ফেলে দেয়। চাঁপি হল গিয়ে ময়রাদের বাঁকুর বউ চাঁপার ডাকনাম। তা সে চাঁপি তো আত্মহত্যা করেছে মাস ছয়েক হল! তপুদার মতে চাঁপির আত্মা নিমো ছেড়ে বিশেষ করে ওর বাড়ির চত্তর ছেড়ে মুক্তি পাচ্ছে না। তাই তপুদাকে ভয় খাওয়ায় সাইকেল থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে – যদি তপুদা তন্ত্র ইত্যাদি করে চাঁপির আত্মাকে মুক্তি দিয়ে দেয়! সে গ্রাম ছেড়ে যেতে চাইছে না – রাগের মাথায় সুইসাইড করে ফেলেছে।

তবে তপুদা অমায়িক লোক – কি ভাবে বলতে পারব না, তপুদার প্রসার বাড়তে শুরু করে। নিমোর খুব বেশী কাষ্টমার ছিল না – আমাদের শিল্পপতি রাজু কুমারের হাতের আটটা আঙটির মধ্যে অবশ্য তিনটে তপুদা দিয়েছিল। রাজু ব্যবসায়ী মানুষ – ব্যবসা করতে গেলে পাথর-আঙটি পরতে হয়। নিজের লক্ষ্মী লাভের সাথে সাথে বাড়িতে বড় করে লক্ষ্মী পুজো করা শুরু করল তপুদা। আমাদের বাড়িতেও নিমন্ত্রণ করত – সাথে পাড়ার সবাইকে। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা আগেও বলত আর এখনো বলে তপুদা।

এই সেদিন আমাদের বাড়ি এসেছিল মায়ের কাছে অনুমতি নিতে যে ছেলের বিয়েতে আমাদের খামারে প্যান্ডেল করবে – এটা একটা কার্টসির ব্যাপার আর কি। মা জানাল সেদিন চা খেতে খেতে তপু অনেক গল্প করল। বলল, “বুঝলেন কাকিমা, ঠাকুরের কৃপায় করে খাচ্ছি। না হলে তো আপনার জানেন সেই মেমারীর বামুন পাড়ায় খালের মিষ্টির দোকানের সামনের মসলার দোকান টার কোণে লটারী বিক্রী করতাম – তার পর এল আই সি ও করেছি। তারপর একদিন ঠাকুরের স্বপ্নাদেশ পেয়ে গিয়েই তো আজকে আমার এই বাড় বাড়ন্ত”। তপুদা নাকি ভর পেয়েছিল তার বাড়ির পিছনে একটা ডুমুর না ছাতিম কি গাছ আছে তার তলায় একদিন পেচ্ছাব করতে গিয়ে সন্ধ্যাবেলা।

তপুদার সাথে চেনাশুনা আছে, তদোপরি পাড়ার লোক – আপনাদের কারো দরকার হলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন – বিনা কমিশনে আসল জিনিসের কাছে পৌঁছে দেব আপনাদের – গ্যারান্টি সহকারে। কাজ না হলে ফেসবুকে গালাগাল করতে পারেন আমাকে।


Name:  সুকি          

IP Address : 236712.158.676712.124 (*)          Date:21 Sep 2019 -- 08:41 AM

আলম এবং বড়-ভাই
--------------------------

মেমারী আনন্দম সিনেমা হলে বাহুবলী সিনেমা এসেছে – দিনের পর দিন উত্তাল করা ভীড়। টিকিট পাওয়া দুষ্কর, শেষবার এমন ক্রেজ দেখা গিয়েছিল ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ সিনেমার সময়, যখন আনন্দম সিনেমা হলের আশে পাশে তাঁবু খাটিয়ে লোকে থাকতে শুরু করে দিয়েছিল দূর দূর থেকে এসে। কিন্তু তা বলে আজকালকার এই মোবাইল ইন্টারনেটের যুগে বাহুবলীর টিকিট পাওয়া যাবে না এবং সেই টিকিটের জন্য অনির্দিষ্ট কালের জন্য লাইন লাগাতে হবে এটা নিমোর ছেলেরা মেনে নিতে পারছিল না। কলকাতার লোকেরা যেমন আমাদের মত গ্রামের পাবলিকদের নিয়ে মাঝে মাঝে খিল্লি করেন, আমরাও তেমনি আমাদের থেকে বেশী গভীর গ্রামের লোকেদের নিয়ে টিকা-টিপ্পনী কাটি। আমরা নিজেরা চাষা হয়ে আক্ষেপ করতাম এই বলে যে, শালা উত্তরের চাষাগুলো সব শেষ করে দিল।

সেদিন তাপস আর সৈকতের বাহুবলী দেখতে যাবার শখ হল দুপুরের দিকে – কিন্তু ততক্ষণে কি আর টিকিট পাওয়া যাবে? অগত্যার গতি আলম যার সাথে আনন্দম সিনেমা হলের মালিক-দের চেনা আছে। আসলে হয়েছে কি আলম যে ইমিটেশনের দোকানটা চালায়, সেই ঘরের মালিক হচ্ছে আনন্দম সিনেমার মালিক রামকৃষ্ণ এবং তার ভাই কাঞ্চন। দোকান হল গিয়ে রামকৃষ্ণের বাড়ির নীচে মেমারী স্টেশনের বাজারের হাজির দোকান আর পান-ওলার দোকানের মাঝের গলিটা দিয়ে গেলেই। আলম রামকৃষ্ণকে বলত বড়বাবু এবং কাঞ্চন-কে ছোটবাবু।

এমনিতে আলমের মতন অভিনেতা খুব একটা খুঁজে পাওয়া যাবে না – একদিন গিয়ে রামকৃষ্ণের কাছে পড়ল, “বড় বাবু, আপনার নীচের একটা দোকান ঘর তো খালি হয়েছে – যদি এই গরীবকে দেন, তাহলে ছেলে বউ নিয়ে খেয়ে বাঁচি আর কি”। সেই কথা শুনে রামকৃষ্ণ গেল গেল – ফলে ঘরের সেলামী না নিয়ে শুরু মাস ভাড়ার ভিত্তিতে আলম শুরু করল তার ইমিটেশনের ব্যবসা। আরে ওইখানে কি দোকান চলে নাকি? – আগে চলত, কিন্তু আলমের খামখেয়ালীপনার জন্য মার্কেট নিজের হারাল। সে দোকান খোলা রাখবে কি – আর্ধেক সময় দোকান বন্ধ করে মাছ বাজারের ভিতর বা টিকিট কাউন্টারের সামনের বটতলায় তাস/জুয়া নিয়ে ব্যস্ত। রামকৃষ্ণ বাড়ি থেকে বেরুবার সময় এবং বাড়ি ঢোকার সময় আলম নিজের দোকান ঘুলে রাখত।

সিনেমার টিকিটের জন্য তাপস আর সৈকত গিয়ে হাজির হল আলমের দোকানে – যাথারীতি দোকান বন্ধ, কিন্তু ওরা জানত কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে মালটাকে। সেই তাসের আসরে গিয়ে হাজির হল ওরা দুজন –

- এ আলম, দুটো টিকিটের ব্যবস্থা করে দে না তোর বাবুদের বলে
- (তাস হাতে, মুখে বিড়ি নিয়ে) এখন বকাস না, দেখছিস না প্রচুর ব্যস্ত? কোথাও উঠে যেতে পারব না আমি এখন
- আরে তোকে যেতে হবে না, একটা ফোন-টন করে দেখ না
- তোরা এত জ্বালাস না – আমার পকেট থেকে ফোনটা বের করে ছোট বাবুকে লাগা।

তাপস ফোনটা আলামের পকেট থেকে বের করে ডায়াল করে আলমের কানের কাছে ধরল। আলমের দুহাত জোড়া – ফোন লাগলে, আলম বললঃ

“ছোট বাবু, আমি আলম বলছি। বলছি কি একটা খুব বাজে কাজ করে ফেলেছি। গ্রামের ছোট ছেলে গুলো বলছিল সিনেমা দেখতে যাবে বাহুবলী – আমি তো আর বেশী কিছু না ভেবে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেব বলে কথা দিয়ে ফেলেছি। সকালে আপনাকে তাড়াতাড়ি করে বেরোতে দেখে আর বলতে সাহস করি নি। এদিকে তো এখন আমার দোকানে নিমোর বাচ্ছা গুলো এসে হাজির। টিকিট করতে পারি নি বলে খুব কান্না কাটি করছে দোকানের সামনে, আপনার বাড়ির ঠিক তলায়। বলছি, কোন ভাবেই কি কিছু করা যাবে ছোটবাবু - ”

এর পর কিছু হ্যাঁ হুঁ শোনা গেল আলমের – দিয়ে কল শেষ হয়ে গেলে বলল, “যা ব্যবস্থা হয়ে গ্যাছে টিকিটের – এখন আর বিরক্ত করিসনি তাস খেলার সময়। তাপস বলল, “ওই আলম, তা কার কাছে গিয়ে টিকিট চাইব”?
উত্তর এল, “গিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবি কাউন্টারের সামনে। ফার্ষ্ট বেল পড়ে যাবার পর দেখবি একজন এসে ‘আলমের লোক কে আছ’ বলে জানতে চাইবে। তাকে পয়সা দিয়ে টিকিট নিয়ে নিবি। এখন ভাগ”

বাপের জমি জায়গা থেকে খাবার অভাব হত না আলমের – আর তাই দোকানে মন না দিয়ে তাস/জুয়া খেলেই কাটাচ্ছিল। সে যে কিছুই পারে না তা নয় – তার এই ইমিটেশনের ব্যবসার আগে সেই ওই বড়বাবুদেরই বাজারে, তার পাশের ‘বড় ভাই’ এর টেলারিং এর দোকানে কাজ করত। জামা কাপড় সেলাই করত – নিজেও টুকটাক কাটত নিজের বাড়িতে, মানে নিমোতে। কিন্তু বেশী কুঁড়ে হলে যা হয় আর কি। প্যান্ট সেলাই করে প্রতি পিস ৭০ টাকা করে পেত তখন – দুটো প্যান্ট সেলাই হয়ে গেলেই আলম খুশী বড়ভাইও খুশী।

অনেক দিন টেলারিং এ গিয়ে জামা কাপড় কাটানো হয় না – তা সেবার পুজোর সময় গিয়ে ভাবলাম একটা জামা কাটাবো। সাথে ছিল ইন্দোনেশীয়ার বানডুং নামক জায়গা থেকে কেনা খুব দামী একটা ওদের হাতে বানানো স্পেশাল বাটিক কাজের ছিট। আমি নিমো এসে আলম-কে বললাম তুই আমার জামাটা কেটে দে – এই পুজোর সময় আর কোন দোকানে যাব কাটাতে। ছিটটা হাতে নিয়ে আলম বলল বিদেশী ছিট মনে হচ্ছে তো রে – আর কত নিয়েছে? দাম শুনে বলল,

“তোর বাঁড়া মাথা খারাপ হয়ে গ্যাছে সুকান, এই ছিট আমি কাটব? কালকে তুই আমার সাথে যাবি, বড়-ভাইকে বলব জামা কেটে দেবে। এমন জামা বানিয়ে দেবে তোর ওই বিদেশীদের চোখ টেরিয়ে যাবে”

পরের দিন আই আলমের সাথে গেলাম বড়-ভাইয়ের কাছে জামার মাপ দিতে। দোকানে মাপ দেবার জন্য লাইনে ছিল জনা তিনেক। আলম গিয়ে তাদের সাইডে করে দিল এই বলে যে, “তোদের বাঁড়া টাইমের কি দাম আছে? আগে সুকান-কে ছেড়ে দে, তোদের পরে হবে। সুকান-কে চিনিস? চিনিস না তো? ভালো জিনিস কবে আর চিনতে শিখলি! এই দ্যাখ বিদেশে থাকে কিন্তু পায়ে খাদিমের চটি পরে ঘোরে নিমো এলে। আর তোরা বাঁড়া মকদম মার্কেট থেকে এখানে সাইকেলে করে আসবি পায়ে পাম-শু মারিয়ে!”। দিয়ে ছিটটা ওদের দেখালো, “এ সব ছিট দেখেছিস কোনদিন? ভাগ্য ভালো এখনই সুকান এল। নে, একবার হাত বুলিয়ে নে ছিটটায়”।

বড়-ভাইয়ের ব্যাপারটা আর একটু খোলসা করা যাক। ‘বড়-ভাই’ আমাদের দিকের খ্যাতনামা কারিগর। বড়-ভাই ই একমাত্র আমার দেখা টেলর যে দূর্গা-পূজার সময়েও ওভারটাইম করত না, সন্ধ্যে সাতটাতেই কারবার খতম। হাতের কাজের খ্যাতির জন্য অনেক উঠতি ছেলে পুলে নতুন কিছু স্টাইলে বানাবার জন্য আসত তার দোকানে। পরে যখন আলম বড়-ভাইয়ের কাছে কাজ করতে ঢুকল, তখন জানতে পারলাম যে, দিনে পাঁচ -টা প্যান্ট কাটা হচ্ছে বড় ভাইয়ের লাইফের মন্ত্র। ফলে অনেকে লাইন দিয়েও প্যান্ট কাটাতে পারত না। একবার এক উঠতি ছেলে কিভাবে যেন বড়-ভাইকে পটিয়ে ফেলে নতুন স্টাইলে প্যান্ট কেটে দেবার জন্য। এবার ফার্ষ্ট ফরোয়ার্ড প্যান্ট ডেলিভারী নেবার দিন। সেই ছেলে খালি বলে বড়-ভাইকে, “এই খানে প্লেট ঠিক আসে নি, এই খানে আরো দুটো ফলস্ বোতাম লাগানোর কথা ছিল”। বড়-ভাই শান্ত মনে সব কিছু শুনল, দিয়ে জানতে চাইল, ‘তুই প্যান্টের ছিটটা কোথা থেকে কিনেছিলি”। ছেলে বলে, “ওই তো সুধীর বস্ত্রালয় থেকে ১৭০ টাকা দিয়ে”। বড়-ভাই আলতো করে টেবিলের উপর থেকে কাঁচিটা তুলে নিয়ে প্যান্টটা কুচি কুচি করে কেটে দিল। সেই ছেলের মুখ হাঁ হয়ে গ্যাছে। বড়-ভাই আরো শান্ত ভাবে ড্রয়ার থেকে ১৭০ টাকা বের করে ছেলেটিকে কুচো প্যাণ্টের সাথে দিয়ে বলল, “যা, অন্য কোথা থেকে মন মত কাটিয়ে নিবি”।

তো বলতে নেই, জামা বড় চমৎকার কেটে দিয়েছিল বড়-ভাই। এখনো আছে সেই জামা। আগের বারে নিমো থেকে শেওড়াফুলি আসব বলে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি, দেখি আলম কোথায় যাচ্ছে হাতে ভাতের ব্যাগ নিয়ে। আমি বললাম, “কিরে আলম, এই ট্রেনে কোথায়?” বলল, “আরে তোকে তো বলা হয় নি সুকান, এখন চুঁচড়োতে লজেন্স কারখানায় কাজ করতে ঢুকেছি”। জানতে চাইলাম, “তা হলে তোর ইমিটেশনের দোকান কি হল?”। “ওই দোকানের বিক্রী কোথায়? জুয়া খেলাটা একটু কনট্রোলে আনতে চাইছি – এই তোর গা ছুঁয়ে বলছি অনেক দিন জুয়া খেলি নি। ছোট বাবুকে বলেছি – দোকানটা এখন তবে ছাড়ছি না। ছেলেটা একটু বড় হলেই ওখানে লাগিয়ে দেব – ভালো জায়গায় ঘর ওমন বিনা পয়সায় আর কোথায় পাব”।

এক কামরেতেই উঠলাম – নিমো থেকে চুঁচড়ো প্রায় এক ঘন্টা ১০ মিনিটের ধাক্কা। বাকি যারা লজেন্স কারখানা বা দিল্লী রোডের অন্য কারখানায় কাজ করতে যায়, সেই ডেলি প্যাসেঞ্জাদের সাথেও আলাপ হয়ে গেল। অনেক ভিতরের খবর জানতে পারলাম। আপনারা দারুণ দারুণ বলে যে লজেন্স/চকোলেট খান, সেগুলো কি ভাবে তৈরী হচ্ছে তার ভিতরের খবরও জানলাম। তবে সে গল্প আপনাদের না শোনাই ভালো – কথায় বলে না, রেষ্টুরান্টের হেঁসেলে ঢুকতে নেই!


Name:  সুকি           

IP Address : 236712.158.676712.124 (*)          Date:21 Sep 2019 -- 08:42 AM

রোড সেফটি
-------------------

আমার কোম্পানীতে হেলথ-সেফটি-এনভায়রনমেন্ট এই নিয়ে প্রচুর কড়াকড়ি, এর মধ্যে আবার বিশেষ জোর দেওয়া হয় রোড সেফটি নিয়ে। এর চক্করে পড়ে আমাকে ‘ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং’ নামক একটা কোর্স করতে হয়েছিল প্রথম বারের মতন যখন ব্রুনাই-য়ে থাকতাম।

ট্রেনিং প্র্যাকটিক্যাল শুরু হবার আগে থিওরী করতে হয় – তা সেই ক্লাস চলছে। ক্লাস এইট পাশ টাইপের লোকাল ছেলে ভরবেগ সংক্রান্ত লেকচার দিচ্ছে, হাফ এম ভি স্কোয়ার এই সব কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। তবে সে যা ব্যখ্যা করল ভরবেগের, তার থেকে প্রাচীন ভারতে প্লাষ্টিক সার্জারী চালু ছিল তা বেশী বিশ্বাস যোগ্য। হাসি হাসি মুখে বসে আছি – কি আর করব। লোকাল লোক, গালাগাল বা শক্ত কিছুও বলতে পারছি না। এক সময় বলল, “এবার আমরা দেখব যে ঘন্টা প্রতি ৬০ কিমি গতিবেগে গেলে ব্রেক মারা থেকে পুরোপুরি রুখতে কতখানি পথ অতিক্রম হয়”। আমি বুঝলাম পেচ্ছাপ বসতে যাবার সময় হয়ে গ্যাছে – এ জিনিস আঁক কষে বার করতে গেলে তুমি বাপ আর ডিফেন্সিভ ট্রেনিং সেন্টারে ঝুলে থাকতে না! ভাগ্য ভালো যে তার ফিজেক্সের জ্ঞান আতসবাজীর মতন ফুস করে ফুরিয়ে গেল খুব তাড়াতাড়ি।

এরপর বলা হল তোমরা নিজেদের জীবন থেকে এমন একটা ঘটনা শেয়ার কর যার থেকে রোড সেফটি সচেতনতা যে জরুরী তা বুঝতে শুরু করেছিলে। সবাই এক এক করে রোমহর্ষক ঘটনা বলতে শুরু করল – তারা বাস্তবের নাকি ফাষ্ট এ্যাণ্ড ফিউরিয়াস সিনেমা থেকে ধার করা তা যাচাই করে নেবার চেষ্টা করছি – সাতটা সিনেমা মনে করে ক্রশ চেক করা মুখের কথা নয়! ভাবতে ভাবতে খেয়াল ছিল না আমার পালা চলে এসেছে কতক্ষণ, গল্প যে আমাকেও বানাতে হবে সেটা মনে ছিল না!

তবে এই সব সন্ধিক্ষণে আমাকে উদ্ধারের জন্য সর্বদা হাত বাড়িয়ে দেয় নিমো গ্রাম। আমাদের গ্রামে ঘটে নি এমন ঘটনা যার সাথে বাস্তব জীবনের কিছু না কিছুর রেফারেন্স টানা যাবে না এমনটা হতেই পারে না। সেই যাত্রায় আমাকে উদ্ধার করল কালামকাকা।

আমাদের পাড়ার মোটা শৈলেনের সমন্ধী বাবু তখন দিদির বাড়ি মানে আমাদের পাড়াতেই থাকত। চুটিয়ে প্রেম করছে সেই সময় কামাড়পাড়ার মেয়েটার সাথে। বাবুর বাইক চালানো বিখ্যাত ছিল – মানে এত জোরে গ্রামের ভিতর দিয়ে প্যাঁচালো রাস্তা দিয়ে হিরো হোন্ডা চালাতো যে ভয় হত এই বুঝি কেউ চাপা পড়ল। একদিন তেমনি জোরে নিমো ভারত সমাজের সামনে দিয়ে বাবুকে বাইক চালিয়ে আসতে দেখল কালাম-কাকা। সাহেবের বাড়ির সামনে রাস্তার মাঝে খানে দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে পড়ল কালামকা।

“বাবু দাঁড়া, দাঁড়া – কথা আছে”।

বাবু ক্যাঁচ করে ব্রেক কষে দাঁড়ালো প্রায় পায়ের গোড়ায় এসে। কালাম-কা বলল,

“আচ্ছা বাবু, তুই যে এত জোরে গাড়ি চালাস, যদি কোন দিন অ্যাক্সিডেন্ট করিস, তোর বডি-র পিসগুলো ঝুড়ি করে কুড়াতে তো করিম-কে ডাকতে হবে রে!”

গল্প এখানেই শেষ – বাবু বলল, “কাকা এটা তো আমি ভেবে দেখি নি!” কালাম-কার মত এত ইমপ্যাক্ট ফুল রোড সেফটি নিয়ে ডায়লগ আমি আর কোন দিন শুনি নি।

যারা ঝুড়ি করে কুড়ানোর রেফারেন্স জানেন না তাদের জন্য ফুটনোটে ব্যাখ্যাঃ

নিমোতে তখন মাঝে মাঝেই রেল-লাইনে অ্যাক্সিডেন্ট হত। রেলে মাথা দিত অনেকে – মানে আত্মহত্যা করত। আত্মহত্যা করার জায়গা হিসাবে নিমো স্টেশনের আপ প্লাটফর্মের কাছে বেল-তলাটা এত বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল যে আশে পাশের এলাকা থেকেও অনেক পাবলিক সুইসাইড করতে আসত নিমোতে। সেই গল্প অন্যদিন হবে।

যাঁরা রেলে অ্যাক্সিডেন্ট দেখেছেন তাঁরা হয়ত জানেন, রেল লাইনে মাথা দেওয়া তো আর গিলোটিনে গলা বাড়িয়ে দেওয়া নয় যে চুক করে মাথা একদিকে আর বডি একদিকে হয়ে গেল স্মুথলি। ঠিক মত বডি রেলে ফেলতে না পাড়লে সেই ট্রেনের সামনের জালতির পাল্লায় পরে বডি অনেক দূর টেনে হিঁচড়ে চলে যায়। এখানে কব্জি, সেখানে থাই, ওদিকে প-এর টুকরো – এমনটা হামেশাই হত। রেলে লাইন হল গিয়ে জি আর পি-র এলাকা – এখানে মারা গেলে সেই জি আর পি এসে বডি নিয়ে পোষ্টমর্টেম ইত্যাদি করবে – ফালতু ঝামেলা অনেক। তাই গ্রামের কেউ ট্রেনে সুইসাইড করলে তার বডি নিয়ে গিয়ে গ্রামের পাশের শ্মশানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হত – পুলিশে খবর দেওয়া বাদ দিয়ে। ওই যে আগে বললাম, বডি মানে তো মাথা আর ধর দুপিস নয়! এইখানেই করিম-কার কেরামতি – স্টেশনের পাশে চায়ের দোকান করিম-কার। সে ঝুড়ি নিয়ে এসে বডি পার্টস কুড়িয়ে জড়ো করত – ভলেন্টারী সার্ভিস।

এই ব্যাকগ্রাউন্ডটাও সেই দিন ট্রেনিং-এ বুঝিয়ে বলতে হয়েছিল কালামকার ডায়লগের ইম্প্যাক্ট বোঝাতে। শুনে সবাই একমত হল যে কালাম-কার ডায়লগ সত্যিই ইমপ্যাক্টফুল ছিল।


Name:  Ela          

IP Address : 236712.158.782323.63 (*)          Date:21 Sep 2019 -- 11:24 AM

জমজমাট!

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4]     এই পাতায় আছে88--118