বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

একটি পুরোনো ছবি, নোবেলজয়ী কবির কবিতা আর আমাদের কেটে-যাওয়া সময়

বিষাণ বসু

আসুন, একখানা কবিতা পড়া যাক।

 

"আমি স্বপ্নে যখন আমার ফাইনাল পরীক্ষাকে দেখি -

দেখি, দুটো বাঁদর, জানালায় বসে, তাদের শেকলটা মেঝের সাথে আটকানো

তাদের পেছনে ডানা ঝাপটাচ্ছে আকাশ

আর সমুদ্র সেরে নিচ্ছে স্নান

 

পরীক্ষার বিষয়, মানবজাতির ইতিহাস

আমি তোতলাচ্ছি, ভাসা ভাসা উত্তর দিচ্ছি

 

একটি বাঁদর তাকিয়ে আছে, শুনছে শ্লেষমাখা বিরক্তি নিয়ে

আরেকটি অন্যমনস্ক, হয়ত স্বপ্নে বিভোর

কিন্তু, যখন এটা বোঝা-ই গেল যে আমি কী বলব জানি না

সে তার শেকলে ছোট্ট একটা ঝাঁকুনি দিয়ে

সঠিক উত্তরটির আভাস দেয়" 

 

##############

 

পিটার ব্রুগেল (দ্য এল্ডার) ষোড়শ শতকের শিল্পী। বেলজিয়ামের, ফ্লেমিশ শিল্পী। মুখ্যত বড় বড় আকারের সূক্ষ্ম ডিটেইলসভরা কাজের সুবাদে তাঁর শিল্পী পরিচয় হলেও - আশ্চর্য কিছু ছোট ছবিও তিনি এঁকেছেন।

যেমন এই ছবি। টু মাংকিজ। পিটার ব্রুগেলের আঁকা ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট কয়েকটি ছবির একটা। আনুমানিক ১৫৬২ সালে আঁকা।

দুখানা বাঁদর। শেকল দিয়ে বাঁধা। শেকলের এক প্রান্ত আটকানো মেঝের সাথে। বাঁদরগুলো বসে আছে একখানা ছোট জানালার ওপরে। সম্ভবত জেলখানার কুঠুরি - অন্তত জানালার ধাঁচ তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাঁদরগুলো যেখানে বসে, সেই জানালায় ইতস্তত ছড়িয়ে আছে বেশ কিছু বাদামের খোলা - বাঁদরগুলো বাদাম খাচ্ছিল।

আমি ছবিটা দেখছি এই জেলখানার কুঠুরির মধ্যে দাঁড়িয়ে। একখানা বাঁদর তাকিয়ে আছে আমার দিকে। বিষণ্ণ, সম্ভবত - অবশ্য সে আমার ভুলও হতে পারে। আরেকটি অন্যমনস্ক - মাথা ঝুঁকিয়ে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে - আমার সাথে চোখাচোখি হতে পারছে না তেমন একটা।  

বাঁদরগুলোর পাশ দিয়ে আমি দেখতে পাচ্ছি বাইরের আকাশ - অ্যান্টওয়ার্পের সূর্যকরোজ্জ্বল সমুদ্র - উজ্জ্বল আকাশ - বন্দরে নোঙর ফেলা পালতোলা জাহাজ।   

বাইরে মুক্ত বিশ্ব। বাঁদরদুটো বাঁধা। বাইরের মুক্তির দিকে তাকিয়ে তারা কী ভাবছে? শৃঙ্খলিত তারা কি ছুঁড়ে দেওয়া বাদামের মধ্যে ভুলে থাকতে পারছে মুক্তি হারানোর যন্ত্রণা? নাকি, ওই বাদামের লোভেই তারা বাঁধা পড়েছে - যেখান থেকে ছুটি নেই। 

#############

 

কবিতাটা উইজলয়া জিমবরস্কা-র লেখা। পোল্যান্ডের কবি। ব্রুগেলের ছবিখানা নিয়েই লেখা এই কবিতা। 

প্রাথমিকভাবে কবি হিসেবে পরিচিত থেকেই নোবেল সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, সংখ্যাটা খুব বেশী নয় - মহিলা কবিদের ক্ষেত্রে তো সংখ্যাটা আরো কম। জিমবরস্কা তাঁদেরই একজন।

তাঁর কবিতা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা এই লেখার উদ্দেশ্য নয় (তেমন এলেমও আমার নেই) - আমি শুধু ভাবতে চাইছি, একখানা ছোট্ট ছবি থেকে ঠিক কোন পথে এলো এই কবিতা!! শিল্পী এঁকেছিলেন ১৫৬২ সালে - তার প্রায় চারশ বছর বাদে এই কবিতার প্রকাশকাল - কবিতাটি পোল্যান্ডের একটি ছোট পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। যদি মেনে নিই, এমনকি কালোত্তীর্ণ শিল্পকৃতির ক্ষেত্রেও, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীর মনোজগতে গভীর ছায়া ফেলে সমকাল - তাহলে, ঠিক কী মুহূর্তে জিমবরস্কা লিখলেন এই কবিতা?

হ্যাঁ, ব্রুগেলের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য পাওয়া মুশকিল - কাজেই, ছবিটির পেছনে লুকিয়ে থাকা ভাবনার আঁচ পাওয়া দুষ্কর - অতএব, আপাতত ছবি ছেড়ে কবিতাতেই থাকি। কবির মনে সমকালীন কোনো বিশেষ ঘটনাক্রম কি এমন করে নাড়া দিয়েছিল, যার প্রকাশ উঠে এল এই ছবিতে? ছবি সেইখানে স্রেফ উপলক্ষ মাত্র?

নাকি, এই ছবিটিই কবিকে সদ্য ঘটে যাওয়া কোনো একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে, চটজলদি উত্তেজনা বা আচমকা প্রতিক্রিয়ার বাইরে গিয়ে গভীর অনুসন্ধান শেখাল?

##########################

 

শেষমেশ ছবিখানা কী বলে?

সামান্য ক'টা বাদামের লোভে বাঁদরেরা নিজেদের স্বাধীনতা বিসর্জন দেয়? মানুষও কী আলাদা কিছু?

নাকি, বাদামের টোপ দিয়ে মানুষ কিনে নেয় অন্য প্রাণীর স্বাধীনতা? বিশেষ কারণ ছাড়াই, সামান্য জিনিসের প্রলোভন দেখিয়ে, মানুষ শেকলে আটকে রাখে অন্য প্রাণীকে - আর সেই সাথে বাঁধা পড়ে যায় নিজেও - এমন স্পিরিচুয়াল ভাবনাও কি ছিল শিল্পীর মনে?   

অথবা, পছন্দের খাবারের লোভে, বা তেমনই তুচ্ছ কিছুর আকর্ষণে মানুষ শেষমেশ দাস হয়ে যায় - না হয়ে উপায় থাকে না - স্বতন্ত্র অস্তিত্ব লোপ পায়, চুলোয় যায় স্বাধীনতা। শেকলের দিকে তাকিয়ে অনুভব করা যায় সেই দাসত্বের নিগড় - বাইরের মুক্ত দুনিয়ার দিকে তাকিয়ে টের পাওয়া যায় পরাধীনতার জ্বালা, হতাশা। 

একের হাতে বাঁধা থাকে অপরের স্বাধীনতা - কখনও বা জোর করে, আর বেশীরভাগ সময়েই সামান্য কিছুর লোভ দেখিয়ে কিনে নেওয়া হয় সে স্বাধীনতা - সে লোভ ব্যক্তিমানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের বা কোনো মহান আদর্শের - ধর্মের কিম্বা রাজনৈতিক মতবাদের, এমনকি অর্থনৈতিক মতবাদেরও - লোভে আত্মবিস্মৃতির ইতিহাস তো সভ্যতার আদিকাল থেকেই - যে অপরকে অধীন করে রাখল, সেও তো লোভেরই অধীন - লোভ আর দাসত্ব আর পরাধীনতা আর অসহায় বিষণ্ণতা - মানবজাতির ইতিহাস তো এছাড়া ভিন্ন কিছু নয়। এই কথাই কি বলতে চেয়েছিলেন ব্রুগেল?

কেননা, জিমবরস্কার কবিতায় পরীক্ষার বিষয় ছিল, মানবজাতির ইতিহাস - আর খেই-হারানো কবিকে উত্তরের আভাস দেয় ছবির বাঁদরটিই - শিকলে ঝাঁকুনি দিয়ে।

##########################

 

ব্রুগেল যেসময় ছবিটি আঁকেন, সেইসময় বা তার ঠিক আগের তিনটি দশককে অ্যান্টওয়ার্প শহরের গৌরবের সময় হিসেবে দেখা যেতে পারে। স্পেনের হবসবার্গ রাজত্বের সময় সেটা - বাণিজ্যিক আর আর্থিক লেনাদেনার এক কেন্দ্র হয়ে ওঠে অ্যান্টওয়ার্প শহর। তার ঠিক আগের অর্ধশতাব্দীর মধ্যে জনসংখ্যা বেড়ে হয় দ্বিগুণ, বাড়ির সংখ্যাও বাড়ে সেই অনুপাতে - রাস্তাঘাটও - বেড়ে চলে বিলাস-ব্যসন। সারা দুনিয়া থেকে আমদানি হতে থাকে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় বিলাসসামগ্রী। সম্ভবত, সেইভাবেই আফ্রিকা থেকে আসতে থাকে পশুপাখি - বাঁদরও হয়ত, যা এঁকেছিলেন ব্রুগেল।

আর, এই আর্থিক রমরমার উল্টোপিঠেই বেড়ে চলে অসাম্য - ধনীরা হতে থাকেন আরো ধনী, গরীব মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলে তদনুপাতেই। নামমাত্র দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে খাটিয়ে নেওয়া বাড়তে থাকে - গিল্ড ব্যবস্থা মজবুত হয়ে শোষণ হয় লাগামছাড়া - প্রতিবাদ ছিল, ছিল ক্ষোভও - কিন্তু, সংগঠিত শ্রমিকবিক্ষোভের দিন তখনও সেখানে আসে নি।

না, ছবির সময় নিয়ে সবটুকু ঠিক বললাম না। অ্যান্টওয়ার্প শহরের সেই তথাকথিত সোনার দিন - মানে, আমরাও তো আর্থিক অসাম্যকে অগ্রাহ্য করে মুষ্টিমেয় মানুষের সম্পদ বৃদ্ধিকেই চূড়ান্ত গৌরব বলে বুঝতে শিখেছি - সেই উজ্জ্বল দিন শেষ হয়ে যায় ১৫৫৭ সালে - আচমকা দেউলিয়া হয়ে যায় স্পেনের রাজত্ব - অ্যান্টওয়ার্প শহরের সেই ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসেনি আর - হ্যাঁ, ব্রুগেল ছবিটি আঁকেন তার পাঁচ বছর বাদে, ১৫৬২ সালে - হয়ত, ইতিহাসকে ফিরে দেখতে চেয়ে - নাকি, এসবই আমাদের নিজস্ব ভাবনার সাথে ছবি আর তার শিল্পীর ভাবনাকে মিলিয়ে দেখতে চাওয়া, যে চাওয়া ভুলও হতে পারে!!

#########################

 

এসবের চারশো বছর বাদে - জিমবরস্কার দেশ পোল্যান্ডে, সেদেশের পজনান শহরে দানা বাঁধে এক ঐতিহাসিক বিক্ষোভ। সেদেশে তখন কমিউনিস্ট শাসন।

স্তালিনের মৃত্যুর ঠিক পরেপরেই - ক্রুশ্চেভের শাসন। আদর্শ, শাসনব্যবস্থা, রাজনীতিতে ব্যক্তির গুরুত্ব সবকিছু নিয়ে তৈরী হতে থাকে একেবারে মূলগত কিছু প্রশ্ন। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সংশয় - অসন্তোষ। অন্ধভাবে সোভিয়েত মডেল অনুসরণ করার চাইতে গুরুত্ব পাক দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুসারী সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা - দাবীটা জোরালো হতে থাকে - সাথে সাথে দানা বাঁধতে থাকে কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভও - দেশের জনগণের স্বচ্ছলতা নিয়ে সরকারের দাবীর সাথে নিজেদের মেলাতে পারছিলেন না অনেকেই - বাড়তে থাকে বিক্ষোভ।

পোল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল পজনানে সংগঠিত হয় শ্রমিকবিক্ষোভ। বুদ্ধিজীবীরা মুখে বলছিলেন, লিখছিলেন - শ্রমিকেরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামেন। 

জুন মাসের শেষ সপ্তাহ। স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদে সামিল হন শ্রমিকেরা - শুরু হয় হরতাল - জমে ওঠে শ্রমিকমিছিল - সংখ্যাটা লক্ষাধিক - আনুমানিক - মিছিল এগোতে থাকে কমিউনিস্ট পার্টির সদর দফতরের দিকে - রাষ্ট্রীয় গুপ্তচরবাহিনীর হেড-অফিসের দিকে।  

এমতাবস্থায়, পজনান শ্রমিকবিদ্রোহের উপর নেমে আসে রাষ্ট্র - সামরিক বাহিনী - পজননের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে থাকে সাঁজোয়া গাড়ি - শেষমেশ মৃতের সংখ্যা কত, জানা যায় না - সাতান্ন থেকে একশো, অনুমানটা এই দুটো সংখ্যার মধ্যে ঘোরাফেরা করে - গ্রেফতার আর অত্যাচারিত হওয়ার সংখ্যাটা তার চাইতে অনেক বেশী।

এই ঘটনা ১৯৫৬ সালে, জুন মাস।   

জিমবরস্কার কবিতাটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৫৭ সালে, জুলাই মাসে।

##########################

 

ঠিক এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই কি লেখা হয়েছিল এই কবিতা? না, জানা সম্ভব হয় না।

ব্যক্তিস্বাধীনতার জয়গান করা কবি এই কবিতা লেখার পরেও একটি দশক ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যা। তাঁর কবিতার উপর নেমে আসেনি কোনো নিষেধাজ্ঞা - না, এমনকি ১৯৬৬ সালে তিনি যখন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংস্রব ত্যাগ করেন, তখনও না। ঐতিহাসিক অনিবার্যতার তত্ত্বের বিপক্ষে গিয়ে রাষ্ট্রকে সর্বদাই সংশয়ের চোখে দেখাই ছিল তাঁর পছন্দ - ব্যক্তি হয়ে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিজস্ব ভাবনার দীপটি জ্বালিয়ে রাখা ছিল তাঁর একান্ত যাপন।

"আমি বিশ্বাস করি অংশগ্রহণে অস্বীকার করাতে।

আমি বিশ্বাস করি ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়া কেরিয়ারে।

আমি বিশ্বাস করি অপচয় করা লেখালেখির বছরগুলোতে।

আমি বিশ্বাস করি সাথে কবরে নিয়ে যাওয়া গোপনীয়তায়।

কোনো বাস্তব উদাহরণের সহায়তা ছাড়াই এই কথাগুলো আমার কাছে সব নিয়মের উর্দ্ধে।

আমার বিশ্বাসগুলো দৃঢ়, অন্ধ, আর ভিত্তিহীন।"

হ্যাঁ, জিমবরস্কার লেখা।

########################

 

আরেকটু বিলাসী জীবন, আরেকটু ভালো থাকা, আরেকটু দামী গাড়ি, আরেকটু নামী ব্র‍্যান্ডের পোশাক, আরেকটু বাড়তি উপার্জন, আরেকটু ভালো বেড়াতে যাওয়া - কত অজস্র বাদামের খোলা আমাদের এই প্রাত্যহিক যাপনে - এই ক্লান্তিহীন দৌড়ের সীমা নির্দিষ্ট করা রয়েছে কোন অদৃশ্য শেকলে!!!

পড়শীকে শত্রু ভেবে নিরন্তর লড়ে যাওয়া, আমাদের আত্মরতিসর্বস্ব যাপন থেকে মিলিয়ে যাচ্ছে কর্মহীন-বস্ত্রহীন-আশ্রয়হীন অনাহারী মানুষের ভিড়, ধর্ম ঈর্ষা আর হিংসা মিলে আমার আর আপনার মধ্যে তুলে রাখছে আপাত-অলঙ্ঘ্য দেওয়াল - আমাদের স্বপ্নের সীমানা বেঁধে দিচ্ছে যে সিস্টেম, সে যে শেকলের অংশ, এই বোধ জাগবে কবে!!

ষোড়শ শতকের রাজতন্ত্রের বাঁদর, গত শতকের কমিউনিস্ট শাসন তথা সমাজতন্ত্র পার হয়ে, এই বিশ্বায়নের অবাধ গণতন্ত্রে পৌঁছেও বাদামের লোভে কি একইভাবে বাঁধা পড়ে আছে?

না, উত্তর পাওয়া মুশকিল। পরীক্ষার টেবিলে, কবির মতোই, আমরাও তোতলাচ্ছি। ফারাক একটাই, শেকলে ঝাঁকুনি দিয়ে উত্তর বলে দেওয়ার জন্যে ঘরপোড়া বাঁদরটিকে খুঁজে পাওয়া ক্রমশই মুশকিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে - কেননা, সুকৌশলে, আয়নাটুকু স্রেফ ভ্যানিশ - তাই না?     

সঙ্গের ছবি -

১. টু মাংকিজ - পিটার ব্রুগেল (এল্ডার)

২. উইজলয়া জিমবরস্কা

৩. পজনান শ্রমিকবিক্ষোভ - পোলিশ গুপ্তচরসংস্থার তোলা ছবি। ব্যানারে স্লোগান - আমাদের দাবী রুটির

৪. পজনানে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ



638 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ আলোচনা  বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: i

Re: একটি পুরোনো ছবি, নোবেলজয়ী কবির কবিতা আর আমাদের কেটে-যাওয়া সময়

বিষাণ বসুর লেখা যথারীতি আরো অনেক অনেক পড়ার ইচ্ছে উস্কে দিল। এক জীবনে আর কত জানা যায়, কত পড়া যায়। এই সব লেখা পড়ে মনে হয় কিস্যুই জানি না-
জানি না বলেই কোনো আলোচনাই করতে পারলাম না।
লেখাটির জন্য শুধুই ধন্যবাদ জানালাম।
Avatar: রঞ্জন

Re: একটি পুরোনো ছবি, নোবেলজয়ী কবির কবিতা আর আমাদের কেটে-যাওয়া সময়

একই কথা আমারও; তাই শুধু ধন্যবাদ।
Avatar: খ

Re: একটি পুরোনো ছবি, নোবেলজয়ী কবির কবিতা আর আমাদের কেটে-যাওয়া সময়



অনেক ধন্যবাদ লেখক কে।

অনেক আগ্রহ বেড়ে গেল। আমি এই কবিতা গুলি পড়িনি। এই কবি সম্পর্কেও কিছুই জানি না।

আমার একটা কথা মনে হয়। স্তালিন তো কত লোককেই মেরে ফেলেছিলেন বা সাইবেরিয়া পাঠিয়েছিলেন। শস্তাকোভিচ আর বুলগাকোভ বাঁচলেন কি করে। মানে গ্রোসমান আর ইলিয়া এরেনবুর্গ তো না হয় ক্রুশচেভীয় "থ" এর সুযোগ কিছুটা পাচ্ছেন, প্লাস তাঁদের নাজীবিরোধী পিতৃভূমির যুদ্ধে ভূমিকা অনস্বীকার্য্য, তাঁদের আগের প্রজন্মের তো তা না। এবং অন্যত্র ঠিক এক ই ভাবে ইশমাইল কাদারে বা আরেকটু পরে বহুমিল হ্রাবাল বাঁচলেন কি করে। মানে এটা অসম্ভব, জিমবর্স্কা , বা একটু পরে কাদারে হ্রাবাল রা নিজ নিজ দেশে আনডার্গ্রাউন্ড প্রেসে কবিতা গল্প ছাপাছিলেন আর পার্টি কিসু টি জানতে পারছিল না।

বিধাতারা এত দয়ালু হলেন কি করে। বোঝে নি একটা হতে পারে, বা আরো বড় বিপদ কেউ ছিল সেটাও হতে পারে। এই যেমন মান্ডেলস্টাম খুন হলেন কিন্তু পাস্তেরনাক, শস্তাকোভিচ আর বুল্গাকোভ বেঁচে গেলেন।

জানি না কি করে, আমাদের পরম সৌভাগ্য বিধাতাদের আংগুল গলে এঁরা টিঁকে গেছেন।
Avatar: খ

Re: একটি পুরোনো ছবি, নোবেলজয়ী কবির কবিতা আর আমাদের কেটে-যাওয়া সময়

পোলান্ড থেকে গোম্ব্রো-উইচ চলে যাচ্ছেন আর্জেনটিনায়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে বা অল্প পরে। কিন্তু কেন যাচ্ছেন টা ক্লিয়ার না। মানে রাশিয়া র সিকিউরিটি জোনে থাকাটা পোসাচ্ছে না বলে, নাকি আর্জেনটিনা তে একটা নতুন স্বাধীন ও শ্বেতাংগ বসুন্ধরা র নিরিবিলি কোণ গড়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে বলে। জানি না। এ শালা কিছুই জানি না। একেকটা এমন লেখক একেক জন কে পড়তেই জীবন শেষ, তার উপরে কনটেক্স্ট জানতে গেলে আরো অশান্তি। এ ভাবে হয় না। কিসুই লেখা পড়া করা হল না লাইফে। ধুর।

আবারো অনেক ধন্যবাদ লেখক কে। এই কবি কে যতক্ষন একটু না পড়ি শান্তি নাই ঃ-)))))


Avatar: এটা পোড়ো

Re: একটি পুরোনো ছবি, নোবেলজয়ী কবির কবিতা আর আমাদের কেটে-যাওয়া সময়

অদ্ভুত সুন্দর লিখেছেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন