বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দাগী আসামীর নোবেলজয়

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল জেতার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়। তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানা যাচ্ছে নানা অজানা কথা। নোবেল পুরষ্কার ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই দেশপ্রেমী নেতা দিলীপ ঘোষ জানান, অভিজিৎ আসলে আধা-বাঙালি। অর্থাৎ বাঙালিদের এত ফুর্তির কিছু হয়নি। এই তথ্যটি আগে কারো জানা ছিলনা, যেমন জানা ছিলনা দিলীপবাবু আসলে শখের নৃতত্ববিদ। কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করলে ভক্তদের পক্ষ থেকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানানো হয়, এর জন্য নৃতত্বের ডিগ্রি লাগেনা। এন-আর-সি করে করে দিলীপবাবু এমনই পোক্ত হয়ে গেছেন, যে, দেখলেই বলে দিতে পারেন, কে কত ইঞ্চি বাঙালি, কত ফুট অনুপ্রবেশকারী, কত কিলো ভারতীয় আর কত পাউন্ড দেশদ্রোহী। 

দিলীপবাবুর বক্তব্য আরও পোক্ত হয়, যখন এক ভক্ত আচমকাই আবিষ্কার করে ফেলেন, অভিজিৎ আসলে জে-এন-ইউ পাশ। অর্থাৎ কানহাইয়া কুমারের সহপাঠী। এই খবরটিও আগে কারও জানা ছিলনা। ইউটিউব দেখে জানা যায় অভিজিৎ পরিষ্কার বাংলায় মোদী সরকারের সমালোচনা করছেন, মানে, জাতে আধা হলে কী হবে, তালে পুরো বাঙালি।  গুগল সার্চে এও দেখা যায় যে তিনি এমন এক ল্যাব খুলেছেন, যার নাম 'আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি ল্যাব'। পুরোটাই সৌদির প্রভাব। দেশদ্রোহী, অনুপ্রবেশকারী এবং জিহাদি এই নিয়ে আর কোনো সন্দেহ থাকেনা। আধা বাঙালি ব্যাপারটাও এতে পরিষ্কার হয়ে যায়, অর্থাৎ কিনা ভদ্রলোক অর্ধেক জে-এন-ইউ, অর্ধেক দেশদ্রোহী, আধা বাঙালি এবং বাকিটা বাংলাদেশী। বাংলাদেশীরা বাংলায় কথা বললেও আসলে যে সৌদির দালাল এবং একেবারেই বাঙালি নয়, এই নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথাই নয়। 

কলম্বাসের এই নতুন করে আমেরিকা আবিষ্কার (মনে রাখতে হবে অভিজিৎবাবু আমেরিকা-নিবাসী) এ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। কিন্তু গোলমাল বেধে যায় তৃণমূলের এক কাউন্সিলারের কান্ডে। কোথাও কিছু নেই তিনি ফেসবুকে হঠাৎ লেখেন 'এক রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছজন নোবেল জয়ী। অন্য এক রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছজন চোর, যারা দেশের টাকা মেরে বিদেশে পালিয়েছে'। এই সস্তা রসিকতায় সাড়ে তিনশোর বেশি লাইক পড়েনি। কিন্তু সমস্যা হল কিছু পুরোনো বামও শত্রুতা ভুলে সেই সঙ্গে হ্যাহ্যা করতে শুরু করে। সংখ্যায় সাত হলে কী হবে, ধানি লঙ্কার তেজ বেশি। বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে যাদবপুরে বামদের দুর্ব্যবহার ভক্তরা ভোলেননি। ফলে রাজ্যে লঙ্কাকান্ড বেধে যায়। হনুমানরা ল্যাজে আগুন লাগিয়ে কলকাতা শহরে দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেন। এক ভক্ত স্লোগান দেন,'জেনু-ম্যান নেহি হনুমান চাহিয়ে'। স্লোগানটি ভাইরাল হয়ে যায়। সঙ্গে পুরোনো স্লোগান 'হার্ভার্ড নেহি হার্ডওয়ার্ক চাহিয়ে' তো ছিলই। সব মিলিয়ে সামাজিক মাধ্যম দাপাদাপিতে বানরের বারানসী হয়ে ওঠে। 

এর পরে রাম-রাবনে যুদ্ধ লাগতেই পারত, কিন্তু তৃণমূল-সিপিএমের মুখ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, এক প্রখ্যাত দেশপ্রেমী সাংবাদিকের দুর্দান্ত আবিষ্কারে। তিনি এর আগে টাকার নোটে জিপিএস চিপ আবিষ্কার করেছিলেন, এবার আবিষ্কার করেন, যে, অভি ব্যানার্জি আসলে মমতা ব্যানার্জির ভাইপো। মমতার কুকীর্তির কোনো শেষ নেই। তিনি মাথায় চাদর জড়িয়ে মমতাজ বেগম হয়েছেন, দুর্গাপুজোয় আজানের সাউন্ড দিয়েছেন, কাজি নজরুল ইসলামকে দিয়ে শ্যামাসঙ্গীত লিখিয়েছেন, এবার ভোটার লিস্টে কারচুপি করে অভিজিৎকে অভিষেক করে দেওয়া আর এমন কী। শুধু নাগরিকপঞ্জি নয়, একমাত্র নতুন নাগরিক বিল আনলেই এই ছদ্মনামে লুকিয়ে থাকা ছুপা ইসলামী সন্ত্রাসীদের সপরিবারে তাড়ানো সম্ভব। 

এই বৈপ্লবিক বক্তব্যে সামান্য আপত্তি উঠলেও ভক্তরা সেসব দাবড়ে থামিয়ে দেন। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, এই লোকটির গুরুর তিনটে বিয়ে, এঁর দুটো। নোয়াখালিতে যখন গণহত্যা হচ্ছিল তখন দুজনে হার্ভার্ডে বসে বেহালা বাজাচ্ছিলেন, জে-এন-ইউতে স্লোগান ঝাড়ছিলেন, নির্ঘাত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তান জিতলে মেটিয়াবুরুজে গিয়ে বাজিও পোড়ান। বিধর্মী হবার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে? কোন দেশপ্রেমী ব্রাহ্মণ হিন্দু-কন্যাদের ত্যাগ করে ম্লেচ্ছ বিয়ে করে? 

এই ভাবে সমালোচনায় নারীর দৃষ্টিকোণ চলে আসে এবং বিতর্ক অভূতপূর্ব মোড় নেয়। নারীদরদীরা সমালোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং আপামর বঙ্গজাতিকেই নারীবিরোধী আখ্যা দেন, কারণ ভদ্রলোকের ফরাসী বৌকে নিয়ে কেউ লাফাচ্ছেনা। কেউ কেউ একে 'গৃহহিংসার জাতিগত  অবচেতন' ও আখ্যা দেন। কিন্তু কথাটি অভিজিতের বইয়ের মতোই খটোমটো হওয়ায় তেমন জনপ্রিয় হয়নি। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, দিলীপ ঘোষই আসলে ঠিক বলেছেন। আধা-বাঙালিকে স্রেফ পিতৃপরিচয়ের কারণেই পুরো বাঙালি বানিয়ে দেওয়ার চেয়ে বড় পিতৃতান্ত্রিক ব্যাপার আর অন্য কিছু হতে পারেনা। এক বিখ্যাত কবি তো জ্বালাময়ী কবিতাই লিখে ফেলেনঃ 
অবলা কেন সদাই পুরুষরথের তলায় পড়বে? 
সেই রথেরই মাথায় কেন নোবেল প্রাসাদ গড়বে?  
কবিতাটি হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিটি শিক্ষিত বাঙালির কাছে ছড়িয়ে পড়ে। মনুবাদ বিরোধীরাও সঙ্গে খাপ খুলে ফেলেন।  নোবেল জয়ী হিন্দু-বাঙালিরা সবাই কেন উচ্চবর্ণের হবেন, এই নিয়ে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। নোবেল কমিটি ক্ষমা চাওয়া না পর্যন্ত এই আন্দোলন চলছে চলবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

এতেও হয়তো সমালোচনার ঝড় কমে যত। কিন্তু ঠিক এই সময়েই খবর আসে, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু মানব ও মানবী জাতির শত্রু, একাধারে ছুপা ইসলামী ও উচ্চবর্ণের হিন্দুই নন, জেলখাটা দাগী আসামীও বটে। যে সে জেল নয়, রীতিমতো তিহার। কোন এক কাগজে সেটা তিনি স্বীকারও করেছেন। তিহার গমনের কারণ আরও ভয়ঙ্কর। দেশদ্রোহী কানহাইয়া কুমারের মতো তিনিও জে-এন-ইউতে স্লোগান দিচ্ছিলেন, কারো জন্য আজাদি চাইতে গিয়েই হবে, এমন সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরে দেয়। বামৈস্লামিক কানেকশানে মুক্তি পেয়ে তিনি সিধে আমেরিকা পালান। এই খবরের পর আর দেশদ্রোহিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকেনা। দেশে আন্দোলনের ঝড় বইতে শুরু করে। 

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী সুইডেনের নোবেল কমিটি এই সর্বাত্মক নোবেল বিরোধিতায় খুবই বিব্রত। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভারতীয়ত্বের এই হঠাৎ উত্থানে এমআইটিতে বসে থরথর করে কাঁপছেন। আর দ্বিতীয়বার নোবেল পাওয়ার সাহস তাঁর হবেনা, এমনকি একবার পাওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েও নিতে পারেন বলেই ওয়াকিবহাল মহল আশাবাদী। 



3519 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  কূটকচালি 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 21 -- 40
Avatar: S

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

হিলারী ট্রাম্পের থেকে ৩ মিলিয়ন ভোট বেশি পেয়েছিল। ২০১৮র মিড টার্ম হাউস ইলেকশনেও ডেমরা রিপাব্লিকানদের থেকে বেশি ভোট আর সীট পেয়েছে।
Avatar: দ

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

ট্রাম্প আর মোদীর মধ্যে আমার মতে সবচেয়ে বড় পার্থক্য যেটা সেটা হল ট্রাম্প এখনো কোন জেনোসাইড ঘটিয়ে উঠতে পারে নি।
Avatar: sm

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

ট্রাম্প হিলারির চেয়ে সংখ্যায় একটু কম ভোট পেয়েছিলো।
ট্রাম্প যে অত্যন্ত জঘণ্য ব্যক্তি নিশ্চয় এই তিন বছরের মধ্যে সক্কলে জেনে গেছে।
কিন্তু ট্রাম্প আবার জিতবে।মানে ভালো সম্ভাবনা আছে।তো তখন কি সিদ্ধান্তে আসবেন?

Avatar: শঙ্খ

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

ফেবুতে কৌশিকের ওয়াল থেকেঃ

আচ্ছা, তুলি বৌদিকে নিয়ে এই যে আপনাদের এত, এত্ত কন্সার্ন - সেটা এতদিন কোথায় ছিলো একটু বলবেন?
কী বললেন? আগে নাম জানতেন না? স্বাভাবিক! যে লোকটার নাম এই তিনদিন আগেও জানতেন না (আমি শিওর, আপনি জানতেন না!)তার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর নামও যে জানবেন না - সেটাই স্বাভাবিক।
আর হ্যাঁ, ভদ্রমহিলার যে ছবিটা আপনারা ছড়িয়েছেন, সেটা ওঁনার অনুমতি নিয়ে ছড়িয়েছেন তো? না? তবে আর কি বলবো, তবু একটা কথা বলি। চারিদিকে পড়ে যা বুঝলাম, ভদ্রমহিলা একজন ইন্দেপেন্দেন্ত, েল্ল এদুতেদ এবং দিগ্নিফিএদ মহিলা। আপনাদের এই সস্তা কাঁদুনির ওঁনার কোনো প্রয়োজন নেই।

শেষ একটা কথা শুনুন। অভিজীৎ বাবু বেস্ট হাজব্যান্ড বা বেস্ট ড্যাড -এর পুরস্কার পাননি। ঊর োনোমি্স বইটার প্দ্ফ পাওয়া যাচ্ছে। বিনি পয়সায়। চলুন না, সবাই মিলে অন্তত একটা হলেও চ্যাপটার পড়ে কিছুটা পাপ স্খলন করি!
Avatar:  দ

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

"রিপোর্টার খুব চেষ্টা করল নির্মলা ব্যানার্জির ভেতর থেকে তেলে ঝোলে স্নেহে মাখোমাখো বাঙালি মাতৃত্ব জাগিয়ে তুলতে। পারল না কিছুতেই। এই মা রাঁধে না, ছেলেকে দেখতে আকুল হয় না, ছেলেকে নিজের মতো করে বড় হতে দেয়, মা কী রেঁধে খাওয়ায় জিজ্ঞেস করলে বলে ছেলে নিজেই অনেক ভালো রাঁধে। 😂"
তৃষিয়া লিখেছেন।,

ইন্টারভিউটা দেখে দিব্বি লাগল

https://m.youtube.com/watch?v=6K44digNZLQ&feature=youtu.be&fbc
lid=IwAR3wz0wmCoj0E0acgf6iUmAG_NnbrGevNX35tt8JWH40b_AOPevm22iCVKU

Avatar: দ

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

আরো যেটা ভাল্লাগল সাংবাদিক ড্যুফলোর কথাটা কাটিয়ে দিয়েছিল, উনিই বললেন আমার ছেলে বৌ দুজনেই পেয়েছে আমি খুশী।
Avatar: r2h

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

হাহাহা, দারুন লাগলো! ছবি নিয়ে বসে থাকার মা নই, আমরা দু'জন মিলে কেক করতাম - এইগুলো চমৎকার।
মায়ের হাতের রান্না আর হলুদ মাখা আঁচল এইসবের বাইরে যেন কোন অস্তিত্বই নেই।
Avatar: অর্জুন

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়


গত দুদিন ধরে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনচর্চা অনেক বেশী খোরাকের তাঁর গবেষণার কাজের চাইতে। হয়ত এটাই স্বাভাবিক। গবেষণার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটা সারটেন এক্সপারটিজ, মেধা এবং ইন্টারেস্ট লাগে।

অভিজিৎ বিনায়ক বাবুর প্রথম স্ত্রী অরুন্ধতী তুলি বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে এখনও অবধি একটি বাক্যও আসেনি। তিনি মিডিয়াতেও কিছু বলেছেন বলে জানা যাচ্ছেনা। সবটাই ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনাটা যেটুকু জানা যাচ্ছে সেটা টেরিবলি আনফরচুনেট, বিশেষ করে পুত্র কবীরের মৃত্যু। কিন্তু সেটা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার তাঁদের দুজনের।

অরুন্ধতী তুলি বন্দ্যোপাধ্যায় নামটি গুগলে সার্চ দিলেই তাঁর সম্পর্কে জানা যায়। সেখানে তিনি যে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সেটার উল্লেখও নেই। উল্লেখ আছে তাঁদের এক সঙ্গে একটি ডকুমেন্টরি ফিল্ম বানানোর তথ্য। পরিচয়াবদ্ধ হয়ে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে যেতে চান ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের এইঅধ্যাপিকা। বর্তমানে পড়াচ্ছেন ইংল্যান্ডের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কলকাতার টেলিগ্রাফে শুধু এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।

Abhijit has two children now and on Monday evening amid the joy and euphoria, mother Nirmala remembered a grandchild she lost three years ago. “Abhijit had a child from his earlier marriage who is no more… it is something sad for the family.”

Abhijit had met his first wife, Arundhati Tuli Banerjee, at South Point. She is the senior director of MIT’s Office of Global Initiatives and a lecturer in Studies in International Literatures and Cultures.

Arundhati had co-directed a documentary film titled The Name of the Disease (2006) about health care in India with Abhijit.

অভিজিৎ র মিডল নেম 'বিনায়ক' নিয়েও এক বিজেপি রাজনীতিবিদ যাচ্ছেতাই শুরু করেছে বলেও পড়লাম।

নবনীতা দেবসেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবসময়েই খোলামেলা এবং তাঁর মত লেখিকাই বোধহয় প্রাক্তন স্বামীর নোবেল জয় নিয়ে লিখতে পারেন 'জারা হটকে, জারা লটকে ইয়ে নোবেল মেরি জান' বা 'সেদিন দুজনে' র মত লেখা।

২০১৯ এ তাঁর একটা ইন্টার্ভিউ নেবার সময়েও একবার বললেন 'আমার বিয়েটাও ভাঙল, আর ঠিক করে রাখা গবেষণাটাও হল না' বলতে শুনেছি।

অনেক ব্যাপারেই আমাদের ডিগনিটি দেখাতে হয় যেটা আমরা পারিনা বা জানিই না।



Avatar: অর্জুন

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়


না এই বয়েসে আনন্দে নাচা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়, তিনি খুব খুশী, এর ভাইতে বেশী আর কি করবেন? ছেলে দুর্দান্ত রান্না করলেও মা ছেলেকে বিশেষ রান্না কিছু শেখাননি, শুধু ছেলে যখন ছোট তখন দুজনে একসঙ্গে কেক বানাতেন। পুত্র বা পুত্রবধূ একজন নোবেল পেলে তাঁর মনটা একটু খারাপ হত কারণ গবেষণাটা খাটাখাটনি করে দুজনেই করেছেন।

ছেলে ভাল ভাবে পাশ করে যেত এর বাইরে খুঁটিনাটি আর কিছু তিনি জানতেন না ছেলের ব্যাপারে কারণ তিনি তাঁর কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

অমর্ত্য সেনের সঙ্গে পারিবারিক বন্ধুত্বের ব্যাপারেও খুব নির্লিপ্ত নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়।



https://www.youtube.com/watch?v=6K44digNZLQ
Avatar: Amit

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

তবে অভিজিৎ ব্যানার্জী কে নিয়ে গুচ্ছের স্ল্যান্ডারিং হোয়াটস্যাপ পোস্ট এ বিজেপির নোংরামি একেবারে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবারে।

ভালোই হয়েছে অবশ্য, লোকের চোখ খুলুক। যদি খোলার ইচ্ছে থাকে।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

একে ম্লেচ্ছ বিয়া করা হেন্দু, তায় অভিজিৎ ওইপারের মাল। আর নাস্তিক বলাগার অভিজিৎ মার্ডার কেস নিয়া হের বাপেরই এখন উৎসাহ নাই।

তাই এপারে অভিজিতের বেল নাই, নো-বেল! এমনকি জেমসের কপি-পেস্ট, জি বাংলার মাল নোবেলও এখন এইখানে নো-বেল!

আমরা এখন যুবলীগের ক্যাসিনো কেলেংকারী, বুয়েট ছাত্র আবরার খুন, ইত্যাদি ইস্যু পর ইন্ডিয়ায় এলপি গ্যাস রপ্তানি, ত্রিপুরায় ফেনি নদীর পানি পাচার, পেঁয়াজের অগ্নিমূল্য ইত্যাদি নিয়া এট্টু বিজি আছি। নতুন আরেকখান ইস্যু আইলো প্রায়।...
🙉🙈🙊
~
অ/টঃ অভিজিৎ রায় কেস আপডেট এইখানে

https://m.bdnews24.com/amp/bn/detail/bangladesh/1677427
Avatar: এরা

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

লেখা মন্তব্য নাপড়ে কমেন্ট করতে চলে আসে কেন? নিজের নাম নেটে দেখার লোভে? লেখাটা অভিজিৎ ব্যানার্জির জয় রাতের জন্য নয়। ইভিজিতের মায়ের ইন্টারভিউএর লিংক অও উপরে দিয়েছে একজন। একজন রায়কে নিয়ে লিখে গেল আরেকজন দেওয়া ভিডিও আবার দিয়ে গেল। নিজের নাম টয়িয়ে ছাপার কি নেশা।
Avatar: অর্জুন

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়


এই নিক গুলো থেকে সাপ, ব্যাঙের মত কতগুলো জীব যে যেখানে সেখানে আগাছার মত ঢুকে পড়ে, এগুলো আদপে কে বা কারা কে জানে? যদি বেকার হন, তাহলে অবিলম্বে চাকরির সন্ধান করুন, ছাত্র বা গবেষক হলে অধ্যয়নে মন দিন আর চাকরিজীবি হলে কাজে মন দিন। যত অকর্মণ্য হয়ে বসে থাকবেন তত কে কোথায় কি মন্তব্য করল কেন করল এসব মাথায় আসে?

মন্তব্যটা আপনাকে করিনি। পোস্টে প্রেক্ষিতে করছি। প্রয়োজনে আবার করব। আমার নিজের নাম ছাপা দেখতে যদি ভাল লাগে, সেটা আমার ব্যাপার। ইনফ্যাক্ট আপনি ছিদ্রান্বেষীর মত ছুঁচোর ন্যায় যে আলটপকা মন্তব্য করছেন সেটার মত বদ নেশা ও অভ্যাস খুব খারাপ।

কাজ কর্ম না থাকলে নতুন কিছু করার ক্ষমতায় না কুলোলে চুপচাপ বসে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
Avatar: দ

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

অসম্ভব জোরালো ঠিকঠাক লেখা


http://www.epaper.eisamay.com/Epaperimages/18102019/18102019-md-em-10/
38450.jpg


Avatar: রিভু

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

খুবই ভালো লেখা। এটা শুধু ইকন নয়, অন্য পেশার জন্যেও প্রযোজ্য। ডেভেলপার কনফারেন্স এ এই নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছে।

এলিস এর পেপারটা পড়লাম। ইকোনজবরিউমার এ মাঝে মাঝে যাই, পেপারটার কথা জানা ছিল, কিন্তু বাংলা কাগজে রেফার হবে ভাবিনি। আন্ডার গ্র্যাড থিসিস এর জন্যে নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। এখানে দিয়ে দিলাম যদি কেউ পড়ে দেখতে চান (রিভাইসড কপি পেওয়ালে)

https://growthecon.com/assets/Wu_EJMR_paper.pdf

পুনশ্চ: মেথডোলজি নিয়ে একটু আমার একটু আপত্তি আছে কিন্তু যেটা দেখে সবচেয়ে অবাক হলাম যে কম সাইন্স আর ইকন এর লোকেরা টেক্সট মাইনিঙ এর ক্ষেত্রে কতটা আলাদা এপ্রোচ নেয়!

Avatar: S

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

আমিও একসময় ইকোনজবরিউমারে নিয়মিত যেতাম।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

“Comment from এরা on 18 October 2019 06:48:05 IST 237812.69.563412.81 (*) #

লেখা মন্তব্য নাপড়ে কমেন্ট করতে চলে আসে কেন? নিজের নাম নেটে দেখার লোভে? লেখাটা অভিজিৎ ব্যানার্জির জয় রাতের জন্য নয়। ইভিজিতের মায়ের ইন্টারভিউএর লিংক অও উপরে দিয়েছে একজন। একজন রায়কে নিয়ে লিখে গেল আরেকজন দেওয়া ভিডিও আবার দিয়ে গেল। নিজের নাম টয়িয়ে ছাপার কি নেশা।”

#
কে কি মন্তব্য করবে, তা-ও আপনার মর্জি মতো হতে হবে বুঝি?

হা হা প গে... :D

Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

পুনশ্চ :

অভিজিৎ ব্যানার্জীর মা নির্মলা দেবীর সাক্ষাৎকারও বেশ লাগলো। বিশেষ করে, ছেলের ছবি কোলে করে বসে থাকার মতো মা তিনি নন- এ কথাটি। আর মনে হলো, কিছুটা বিরক্ত হয়ে তিনি সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তার ব্যক্তিত্বের কাছে স্মার্ট রিপোর্টারের গৎ বাধা প্রশ্নও খুব বোকা বোকা শোনায়।

লিংকের জন্য অর্জুনকে ধন্যবাদ।


Avatar: S

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

Avatar: গুরুভাই

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

সত্যি বিজেপি সমর্থক দের নোংরামি অতি বিরক্তিকর ও বিবমিষা জাগায়।
অবশ্য গুরুতে পরিচিত বামপন্থী ও লেখক শাক্যজিত ভট্টাচার্য তাদের কেও ছাপিয়ে গেছে - "তবে অরুন্ধতী তুলি ডবকা দেখতে। দুফ্ল কাঠ কাঠ"।
প্রমাণ রয়েছে, স্ক্রিনশট দিলাম না রুচি তে বাঁধে।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 21 -- 40


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন