বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দাগী আসামীর নোবেলজয়

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল জেতার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়। তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানা যাচ্ছে নানা অজানা কথা। নোবেল পুরষ্কার ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই দেশপ্রেমী নেতা দিলীপ ঘোষ জানান, অভিজিৎ আসলে আধা-বাঙালি। অর্থাৎ বাঙালিদের এত ফুর্তির কিছু হয়নি। এই তথ্যটি আগে কারো জানা ছিলনা, যেমন জানা ছিলনা দিলীপবাবু আসলে শখের নৃতত্ববিদ। কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করলে ভক্তদের পক্ষ থেকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানানো হয়, এর জন্য নৃতত্বের ডিগ্রি লাগেনা। এন-আর-সি করে করে দিলীপবাবু এমনই পোক্ত হয়ে গেছেন, যে, দেখলেই বলে দিতে পারেন, কে কত ইঞ্চি বাঙালি, কত ফুট অনুপ্রবেশকারী, কত কিলো ভারতীয় আর কত পাউন্ড দেশদ্রোহী। 

দিলীপবাবুর বক্তব্য আরও পোক্ত হয়, যখন এক ভক্ত আচমকাই আবিষ্কার করে ফেলেন, অভিজিৎ আসলে জে-এন-ইউ পাশ। অর্থাৎ কানহাইয়া কুমারের সহপাঠী। এই খবরটিও আগে কারও জানা ছিলনা। ইউটিউব দেখে জানা যায় অভিজিৎ পরিষ্কার বাংলায় মোদী সরকারের সমালোচনা করছেন, মানে, জাতে আধা হলে কী হবে, তালে পুরো বাঙালি।  গুগল সার্চে এও দেখা যায় যে তিনি এমন এক ল্যাব খুলেছেন, যার নাম 'আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি ল্যাব'। পুরোটাই সৌদির প্রভাব। দেশদ্রোহী, অনুপ্রবেশকারী এবং জিহাদি এই নিয়ে আর কোনো সন্দেহ থাকেনা। আধা বাঙালি ব্যাপারটাও এতে পরিষ্কার হয়ে যায়, অর্থাৎ কিনা ভদ্রলোক অর্ধেক জে-এন-ইউ, অর্ধেক দেশদ্রোহী, আধা বাঙালি এবং বাকিটা বাংলাদেশী। বাংলাদেশীরা বাংলায় কথা বললেও আসলে যে সৌদির দালাল এবং একেবারেই বাঙালি নয়, এই নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথাই নয়। 

কলম্বাসের এই নতুন করে আমেরিকা আবিষ্কার (মনে রাখতে হবে অভিজিৎবাবু আমেরিকা-নিবাসী) এ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। কিন্তু গোলমাল বেধে যায় তৃণমূলের এক কাউন্সিলারের কান্ডে। কোথাও কিছু নেই তিনি ফেসবুকে হঠাৎ লেখেন 'এক রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছজন নোবেল জয়ী। অন্য এক রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছজন চোর, যারা দেশের টাকা মেরে বিদেশে পালিয়েছে'। এই সস্তা রসিকতায় সাড়ে তিনশোর বেশি লাইক পড়েনি। কিন্তু সমস্যা হল কিছু পুরোনো বামও শত্রুতা ভুলে সেই সঙ্গে হ্যাহ্যা করতে শুরু করে। সংখ্যায় সাত হলে কী হবে, ধানি লঙ্কার তেজ বেশি। বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে যাদবপুরে বামদের দুর্ব্যবহার ভক্তরা ভোলেননি। ফলে রাজ্যে লঙ্কাকান্ড বেধে যায়। হনুমানরা ল্যাজে আগুন লাগিয়ে কলকাতা শহরে দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেন। এক ভক্ত স্লোগান দেন,'জেনু-ম্যান নেহি হনুমান চাহিয়ে'। স্লোগানটি ভাইরাল হয়ে যায়। সঙ্গে পুরোনো স্লোগান 'হার্ভার্ড নেহি হার্ডওয়ার্ক চাহিয়ে' তো ছিলই। সব মিলিয়ে সামাজিক মাধ্যম দাপাদাপিতে বানরের বারানসী হয়ে ওঠে। 

এর পরে রাম-রাবনে যুদ্ধ লাগতেই পারত, কিন্তু তৃণমূল-সিপিএমের মুখ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, এক প্রখ্যাত দেশপ্রেমী সাংবাদিকের দুর্দান্ত আবিষ্কারে। তিনি এর আগে টাকার নোটে জিপিএস চিপ আবিষ্কার করেছিলেন, এবার আবিষ্কার করেন, যে, অভি ব্যানার্জি আসলে মমতা ব্যানার্জির ভাইপো। মমতার কুকীর্তির কোনো শেষ নেই। তিনি মাথায় চাদর জড়িয়ে মমতাজ বেগম হয়েছেন, দুর্গাপুজোয় আজানের সাউন্ড দিয়েছেন, কাজি নজরুল ইসলামকে দিয়ে শ্যামাসঙ্গীত লিখিয়েছেন, এবার ভোটার লিস্টে কারচুপি করে অভিজিৎকে অভিষেক করে দেওয়া আর এমন কী। শুধু নাগরিকপঞ্জি নয়, একমাত্র নতুন নাগরিক বিল আনলেই এই ছদ্মনামে লুকিয়ে থাকা ছুপা ইসলামী সন্ত্রাসীদের সপরিবারে তাড়ানো সম্ভব। 

এই বৈপ্লবিক বক্তব্যে সামান্য আপত্তি উঠলেও ভক্তরা সেসব দাবড়ে থামিয়ে দেন। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, এই লোকটির গুরুর তিনটে বিয়ে, এঁর দুটো। নোয়াখালিতে যখন গণহত্যা হচ্ছিল তখন দুজনে হার্ভার্ডে বসে বেহালা বাজাচ্ছিলেন, জে-এন-ইউতে স্লোগান ঝাড়ছিলেন, নির্ঘাত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তান জিতলে মেটিয়াবুরুজে গিয়ে বাজিও পোড়ান। বিধর্মী হবার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে? কোন দেশপ্রেমী ব্রাহ্মণ হিন্দু-কন্যাদের ত্যাগ করে ম্লেচ্ছ বিয়ে করে? 

এই ভাবে সমালোচনায় নারীর দৃষ্টিকোণ চলে আসে এবং বিতর্ক অভূতপূর্ব মোড় নেয়। নারীদরদীরা সমালোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং আপামর বঙ্গজাতিকেই নারীবিরোধী আখ্যা দেন, কারণ ভদ্রলোকের ফরাসী বৌকে নিয়ে কেউ লাফাচ্ছেনা। কেউ কেউ একে 'গৃহহিংসার জাতিগত  অবচেতন' ও আখ্যা দেন। কিন্তু কথাটি অভিজিতের বইয়ের মতোই খটোমটো হওয়ায় তেমন জনপ্রিয় হয়নি। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, দিলীপ ঘোষই আসলে ঠিক বলেছেন। আধা-বাঙালিকে স্রেফ পিতৃপরিচয়ের কারণেই পুরো বাঙালি বানিয়ে দেওয়ার চেয়ে বড় পিতৃতান্ত্রিক ব্যাপার আর অন্য কিছু হতে পারেনা। এক বিখ্যাত কবি তো জ্বালাময়ী কবিতাই লিখে ফেলেনঃ 
অবলা কেন সদাই পুরুষরথের তলায় পড়বে? 
সেই রথেরই মাথায় কেন নোবেল প্রাসাদ গড়বে?  
কবিতাটি হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিটি শিক্ষিত বাঙালির কাছে ছড়িয়ে পড়ে। মনুবাদ বিরোধীরাও সঙ্গে খাপ খুলে ফেলেন।  নোবেল জয়ী হিন্দু-বাঙালিরা সবাই কেন উচ্চবর্ণের হবেন, এই নিয়ে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। নোবেল কমিটি ক্ষমা চাওয়া না পর্যন্ত এই আন্দোলন চলছে চলবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

এতেও হয়তো সমালোচনার ঝড় কমে যত। কিন্তু ঠিক এই সময়েই খবর আসে, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু মানব ও মানবী জাতির শত্রু, একাধারে ছুপা ইসলামী ও উচ্চবর্ণের হিন্দুই নন, জেলখাটা দাগী আসামীও বটে। যে সে জেল নয়, রীতিমতো তিহার। কোন এক কাগজে সেটা তিনি স্বীকারও করেছেন। তিহার গমনের কারণ আরও ভয়ঙ্কর। দেশদ্রোহী কানহাইয়া কুমারের মতো তিনিও জে-এন-ইউতে স্লোগান দিচ্ছিলেন, কারো জন্য আজাদি চাইতে গিয়েই হবে, এমন সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরে দেয়। বামৈস্লামিক কানেকশানে মুক্তি পেয়ে তিনি সিধে আমেরিকা পালান। এই খবরের পর আর দেশদ্রোহিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকেনা। দেশে আন্দোলনের ঝড় বইতে শুরু করে। 

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী সুইডেনের নোবেল কমিটি এই সর্বাত্মক নোবেল বিরোধিতায় খুবই বিব্রত। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভারতীয়ত্বের এই হঠাৎ উত্থানে এমআইটিতে বসে থরথর করে কাঁপছেন। আর দ্বিতীয়বার নোবেল পাওয়ার সাহস তাঁর হবেনা, এমনকি একবার পাওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েও নিতে পারেন বলেই ওয়াকিবহাল মহল আশাবাদী। 



3520 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  কূটকচালি 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: সংকেত ধর

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

অসামান্য লেখা। এককথায় এমন প্রতিবেদন খুব কম পড়তে মেলে।
Avatar: টিটিদাদা

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

এসব বামৈস্লামিক লেখক ষড়যন্ত্রকারীদের জন্যই আচ্ছে দিন উলটে একশো তিন হয়ে গেল। যত্ত দেশদ্রোহী
Avatar: S

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

আমাকে একজন জানালেন যে এইসব বামপন্থী জে-এন-ইউর বাঙালী ইকনমিস্টরাই শুধুমাত্র নোবেল পায় কারণ অমর্ত্য সেন ওখানে বসে নোবেল বিলোচ্ছেন।
Avatar: এলেবেলে

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

যেহেতু অমর্ত্য সেনের সময়েই একচোট বলে নেওয়া গেছে যে অর্থনীতিতে নোবেল আসলে সহি নোবেল নহে, তাই মিত্রোঁওওওরা এ বার সেই ব্যাপারে আর উচ্চবাচ্য করছেন না। তবে এই বাজারে হঠাৎই মনমোহন সিংকে তাঁদের অর্থনীতিবিদ বলে মনে হচ্ছে এবং সুব্রহ্মণ্যম স্বামী না পাওয়ায় তাঁরা প্রবল ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে তাঁরা বীর সাভারকরকে ভারতরত্নে ভূষিত করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর।
Avatar: কমল কুমার দাশ

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

অনবদ্য লেখা।পাহাড়ের ছেঁদা খোজার স্বভাব আর গেল না,,
Avatar: খ

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

😊😊😊😊😊সত্যি মাইরি সারা দেশ আশ্চর্য উন্মাদে ভরে গেল।
Avatar: Kaushik

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

এক ঘর!
Avatar: চেখর

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

চরম।
Avatar: সঞ্জীব চক্রবর্তী

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

# যত দোষ দিলীপ ঘোষ #

আরে ভাই কোন অভিজিতে নোবেল জিতল, দিলীপবাবু খেলেন চাপ। বেচারা কিচ্ছুটি না করা সত্বেও পাইকারি হারে সব ওনাকে ঝাড়তে শুরু করেছে। কি করেছেন উনি, অভিজিতের নোবেল চুরি করেছেন? হাফ কবি (মুছলমান দ্যাশের জাত-ইয়ো সঙ-গিত গাঁওয়ার জন্যে) রবি থাকরের নবেল চোর ধরা পড়লে তারও এই হাল হত কিনা কে জানে।

অথচ দেখুন 'দাবাং দিলীপ' সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যাপ্টেন কুলের মত কি প্রশংসাটাই না করলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়ের। এক বারেও দাঁত খিচিয়ে বলেছেন যে কোন বন্দোপাধ্যায়ই উপযুক্ত হতে পারে না? দিলীপবাবু কি একবারও বলেছেন যে হাবার্ট হল কুঁড়েদের আস্তানা আর ওখানে এক নোবেলজয়ী অভিজ্ঞ ব্যভিচারীর কাছে ওই অভিজিৎ কেবল বহু বিবাহের ট্রেনিং নিত? এক বারের জন্যেও বলেননি যে সুইস রয়াল অ্যাকাডেমী আদতে ভগবান শ্রী রামের ডাংগুলি খেলার জায়গা এবং সেটা ফেরত চাই, আর তা না পেলে কয়েক ট্রাক লোক নিয়ে গিয়ে তিনি সেটা বাবরি মসজিদ বানিয়ে ছাড়বেন? অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হলেও তিনি একবারের জন্যেও এই প্রশ্ন তোলেননি যে ওই অভিজিতের কাজ মাটি খুঁড়তে কি কাজে লাগবে? এমনিতেই এর আগে তিনি আইনস্টাইনের মাধ্যাকর্ষণ খুঁজতে গিয়ে বহু জমি কর্ষণ করে বিফল হয়েছেন। তাই এই নোবেলওয়ালারা যে ফালতু খাটায় আর ভুলভাল বকে তা উনি বহু আগে থেকেই জানেন। এমনকি জিব নিশপিশ করলেও এই বিদেশি নাগরিক বাঙালিটিকে একবারের জন্যেও বলেননি যে ঘুসপেটিয়াটিকে তিনি ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়ে জীবনভর সিনেমার টিকিট থেকে দেশের গ্রোথ পরিমাপের সূত্র মুখস্ত করাবেন। তবে শুধু শুধু দিলীপবাবুর পেছনে লাগা কেন? ভদ্রলোক বলেননি পর্যন্ত যে জেএনইউ-এর "টুকরে টুকরে গ্যাং" এর পান্ডা অভিজিৎ বি মুখুজ্জে আদতে জেল খাটা কয়েদি।

আপনারাই বলুন হক কথা হলেও স্রেফ বিনয়ী বলে এই অসপিসিয়াস ডে তে সাসপিসিয়াস প্রশ্নগুলি তোলেননি তিনি যে, ডিমনিটাইজেশন এর মত আশ্চর্য পদ্ধতি দ্বারা দেশের সমস্ত কালাধন নিমেষে ফটফটে করে তোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করলেও, টিকিটের গ্রোথ থেকে জিডিপি গ্রোথ আবিস্কারের পরেও, জিএসটি-র মত কাঁঠালের আমসত্ত্ব রচনার পরেও অর্থনীতিতে কেন তাদের মন্ত্রীদের প্রত্যেককে নোবেল দেওয়া হবে না?

তিনি কি একবারের জন্যেও বলেছেন যে সাহিত্যে ওনাকে নোবেল দেওয়া উচিত কারণ উনি বাংলা ভাষাটাকে হিন্দি মিশিয়ে পুরো গুবলেট করে দিয়ে ভোজপুরি হিংলায় পরিণত করেছেন?

সবাই জানা সত্বেও তিনি বহু ক্ষেত্রে নোবেল দাবি করেননি। এই ধরুন মেডিসিনে বা জীবনবিজ্ঞানে একবারও বলেননি যে গরুর নিঃশ্বাস থেকে অক্সিজেন প্রস্তুত করেও, গরুর পিঠে চাপ দিয়ে রক্ত চাপ কমিয়েও, চুনা নামক হেলথড্রিঙ্ক প্রস্তুত করে, চোখের জল থেকে সন্তান জন্ম দিয়ে, বিবর্তনকে সম্পূর্ন পরিবর্তন করে প্যারাস্যুটে মানব আবির্ভাবের যুগান্তকারী আবিস্কারের পরেও তাদের মন্ত্রীদের কেন নোবেল দেওয়া হল না?

ভাবুনতো একবার দিলীপবাবু কি এক বারেও বলেছেন যে নোবেল কেন অঙ্কে দেওয়া হয় না? আর দেওয়া যখন হয় না তখন পদার্থ বিজ্ঞানের অপদার্থদের নোবেল না দিয়ে (a+b) এর গর্তের বর্গ বের করার পদ্ধতি আবিষ্কার করা বিজ্ঞকে সেটা দেওয়া দরকার? কই উনিতো মেঘ দিয়ে রাডার ঢাকার জন্যেও পুরস্কার চেয়ে বসেননি।

ভারতমেড আমেরিকান অভি যেন আমেরিকান মেড ভারতীয় সমরাস্ত্রের পাল্টা জবাব। দিলীপবাবু সব জেনেও টু শব্দটি করেননি শুধু ভাম (ভারত-আমেরিকা) সম্পর্কের কথা ভেবে। নইলে তিনি প্রশ্ন করতেই পারতেন যে আমাদের এনআরআই প্রধান মন্ত্রী নিজের দেশকে ডকে তুলে সারা বিশ্বের রাষ্ট্র প্রধানদের চা বানানো শিখিয়ে বেড়ালেও তাকে শান্তি পুরস্কার কেন দেওয়া হচ্ছে না? ভদ্রলোক পরিষ্কার সমুদ্রতটে নোংরা ফেলিয়ে তা পরিষ্কার করে বেড়াচ্ছেন বিশ্বের পরিবেশ রক্ষার তাগিদে তাও কি নোবেল আসে? কেন আসে না? আর যদি ওই ছাতার নোবেল না আসে তবে গো মাতার ঘুটে দিয়ে প্রস্তুত পবিত্র নোবেল যার একপাশে গান্ধী, আরেক পাশে গডসের ছবি আঁকা, সেটা তো আছেই।

দিলীপবাবু কিছু বলেননি, তবু যে কেন লোকে এসব বলে। যত দোষ দিলীপ ঘোষ!

Avatar: সঞ্জীব চক্রবর্তী

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

# যত দোষ দিলীপ ঘোষ #

আরে ভাই কোন অভিজিতে নোবেল জিতল, দিলীপবাবু খেলেন চাপ। বেচারা কিচ্ছুটি না করা সত্বেও পাইকারি হারে সব ওনাকে ঝাড়তে শুরু করেছে। কি করেছেন উনি, অভিজিতের নোবেল চুরি করেছেন? হাফ কবি (মুছলমান দ্যাশের জাত-ইয়ো সঙ-গিত গাঁওয়ার জন্যে) রবি থাকরের নবেল চোর ধরা পড়লে তারও এই হাল হত কিনা কে জানে।

অথচ দেখুন 'দাবাং দিলীপ' সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যাপ্টেন কুলের মত কি প্রশংসাটাই না করলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়ের। এক বারেও দাঁত খিচিয়ে বলেছেন যে কোন বন্দোপাধ্যায়ই উপযুক্ত হতে পারে না? দিলীপবাবু কি একবারও বলেছেন যে হাবার্ট হল কুঁড়েদের আস্তানা আর ওখানে এক নোবেলজয়ী অভিজ্ঞ ব্যভিচারীর কাছে ওই অভিজিৎ কেবল বহু বিবাহের ট্রেনিং নিত? এক বারের জন্যেও বলেননি যে সুইস রয়াল অ্যাকাডেমী আদতে ভগবান শ্রী রামের ডাংগুলি খেলার জায়গা এবং সেটা ফেরত চাই, আর তা না পেলে কয়েক ট্রাক লোক নিয়ে গিয়ে তিনি সেটা বাবরি মসজিদ বানিয়ে ছাড়বেন? অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হলেও তিনি একবারের জন্যেও এই প্রশ্ন তোলেননি যে ওই অভিজিতের কাজ মাটি খুঁড়তে কি কাজে লাগবে? এমনিতেই এর আগে তিনি আইনস্টাইনের মাধ্যাকর্ষণ খুঁজতে গিয়ে বহু জমি কর্ষণ করে বিফল হয়েছেন। তাই এই নোবেলওয়ালারা যে ফালতু খাটায় আর ভুলভাল বকে তা উনি বহু আগে থেকেই জানেন। এমনকি জিব নিশপিশ করলেও এই বিদেশি নাগরিক বাঙালিটিকে একবারের জন্যেও বলেননি যে ঘুসপেটিয়াটিকে তিনি ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়ে জীবনভর সিনেমার টিকিট থেকে দেশের গ্রোথ পরিমাপের সূত্র মুখস্ত করাবেন। তবে শুধু শুধু দিলীপবাবুর পেছনে লাগা কেন? ভদ্রলোক বলেননি পর্যন্ত যে জেএনইউ-এর "টুকরে টুকরে গ্যাং" এর পান্ডা অভিজিৎ বি মুখুজ্জে আদতে জেল খাটা কয়েদি।

আপনারাই বলুন হক কথা হলেও স্রেফ বিনয়ী বলে এই অসপিসিয়াস ডে তে সাসপিসিয়াস প্রশ্নগুলি তোলেননি তিনি যে, ডিমনিটাইজেশন এর মত আশ্চর্য পদ্ধতি দ্বারা দেশের সমস্ত কালাধন নিমেষে ফটফটে করে তোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করলেও, টিকিটের গ্রোথ থেকে জিডিপি গ্রোথ আবিস্কারের পরেও, জিএসটি-র মত কাঁঠালের আমসত্ত্ব রচনার পরেও অর্থনীতিতে কেন তাদের মন্ত্রীদের প্রত্যেককে নোবেল দেওয়া হবে না?

তিনি কি একবারের জন্যেও বলেছেন যে সাহিত্যে ওনাকে নোবেল দেওয়া উচিত কারণ উনি বাংলা ভাষাটাকে হিন্দি মিশিয়ে পুরো গুবলেট করে দিয়ে ভোজপুরি হিংলায় পরিণত করেছেন?

সবাই জানা সত্বেও তিনি বহু ক্ষেত্রে নোবেল দাবি করেননি। এই ধরুন মেডিসিনে বা জীবনবিজ্ঞানে একবারও বলেননি যে গরুর নিঃশ্বাস থেকে অক্সিজেন প্রস্তুত করেও, গরুর পিঠে চাপ দিয়ে রক্ত চাপ কমিয়েও, চুনা নামক হেলথড্রিঙ্ক প্রস্তুত করে, চোখের জল থেকে সন্তান জন্ম দিয়ে, বিবর্তনকে সম্পূর্ন পরিবর্তন করে প্যারাস্যুটে মানব আবির্ভাবের যুগান্তকারী আবিস্কারের পরেও তাদের মন্ত্রীদের কেন নোবেল দেওয়া হল না?

ভাবুনতো একবার দিলীপবাবু কি এক বারেও বলেছেন যে নোবেল কেন অঙ্কে দেওয়া হয় না? আর দেওয়া যখন হয় না তখন পদার্থ বিজ্ঞানের অপদার্থদের নোবেল না দিয়ে (a+b) এর গর্তের বর্গ বের করার পদ্ধতি আবিষ্কার করা বিজ্ঞকে সেটা দেওয়া দরকার? কই উনিতো মেঘ দিয়ে রাডার ঢাকার জন্যেও পুরস্কার চেয়ে বসেননি।

ভারতমেড আমেরিকান অভি যেন আমেরিকান মেড ভারতীয় সমরাস্ত্রের পাল্টা জবাব। দিলীপবাবু সব জেনেও টু শব্দটি করেননি শুধু ভাম (ভারত-আমেরিকা) সম্পর্কের কথা ভেবে। নইলে তিনি প্রশ্ন করতেই পারতেন যে আমাদের এনআরআই প্রধান মন্ত্রী নিজের দেশকে ডকে তুলে সারা বিশ্বের রাষ্ট্র প্রধানদের চা বানানো শিখিয়ে বেড়ালেও তাকে শান্তি পুরস্কার কেন দেওয়া হচ্ছে না? ভদ্রলোক পরিষ্কার সমুদ্রতটে নোংরা ফেলিয়ে তা পরিষ্কার করে বেড়াচ্ছেন বিশ্বের পরিবেশ রক্ষার তাগিদে তাও কি নোবেল আসে? কেন আসে না? আর যদি ওই ছাতার নোবেল না আসে তবে গো মাতার ঘুটে দিয়ে প্রস্তুত পবিত্র নোবেল যার একপাশে গান্ধী, আরেক পাশে গডসের ছবি আঁকা, সেটা তো আছেই।

দিলীপবাবু কিছু বলেননি, তবু যে কেন লোকে এসব বলে। যত দোষ দিলীপ ঘোষ!

Avatar: শিবাংশু

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

খাসা লেখা।
কিন্তু এই পর্যায়ের সূক্ষ্মতা কি গোমূত্রে বুদবুদ তুলতে পারবে?
Avatar: ব

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

চাবুক লেখা। কিন্তু যাঁদের উদ্দেশ্য লেখা, তাদের বোধদয় হবে কি?
Avatar: রঞ্জন

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

্দুটো লেখাই খাসা।
ছত্তিশগড়ের এক শহরের বাঙালি হোয়া গ্রুপের সঙ্গে কিঞ্চিৎ তিক্ততা হোল ওই ভাইরাল পোস্টটি সার্কুলেট করায় আমার প্রতিবাদে। বিশেষ করে 'লম্পট' শব্দটি নিয়ে ।
বললাম এক্সট্রা মারিটাল রিলেশন ( দুই প্রাপ্তবয়স্কের কন্সেন্সুয়াল ইত্যাদি) অপরাধ নয় , লাম্পট্য নয় ।
তাহলে মহানায়ক , রবিশংকর , সমরেশ বসু, মামীর সাথে পরেম করা কৃষ্ণ সবাইকে বাদ দিতে হয় । এমনকি শিবপুরাণের শিবকেও। এবং নির্দোষ সীতাকে দু দুবার আগুনে নামানো এবং গর্ভবতী অবস্থায় বনে পাঠানো রামচন্দ্রকেও।
দরকার অভিজিতের বরোদা, হরিয়ানা, দিল্লিতে 'প্রথম' নামের এনজিও র সঙ্গে করা কাজগুলো নিয়ে কথা বলা এবং পুওর ইকনমিক্স পড়া।
আরও বললাম যে কারও প্রাইভেট স্পেসে উঁকি মারা !
এবং যে প্রথম স্ত্রীর দুঃখ এবং সহানুভূতি নিয়ে কথা হচ্ছে উনি কি অনুমতি দিয়েছেন যে পাবলিক ফোরামে তাঁর ব্যক্তিগত 'আঘাত' নিয়ে কাঁটাছেঁড়া হবে ?
জবাবএ শুনলাম নেহরু ভারত ভাগের জন্যে দায়ী। প্রমাণ হিসেবে এল একটি ভিডিও যাতে জনৈক রসিয়ে রসিয়ে বলছেন যে নেহেরু রাতে এডুইনার সাথে শুতেন , একদিনের জন্যেও মাউন্টব্যাটেন বেডরুমে যান নি । সাংঘাতিক মহিলাটি জিন্না এবং নেহরুকে খেলিয়ে রেষারেষি করিয়ে ভারত ভাগ করালেন। এটা নাকি পিয়ারেলাল গান্ধীজিকে আন অফিসিয়ালি বলেছেন।
ভিডিওর বাচক আমার আদ্দেক বয়েসি।
আমি এমন ভালগার ডকু দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের প্রশ্নের সরল সমাধান করা দেখে হতভম্ব।
তখন একজন এসে বললেন যে এইসব ফালতু ফেক ভিডিও নিয়ে তর্কাতর্কি না করে ইগ্নোর করতে ;সেটাই প্রতিবাদ।
তাঁকে ধন্যবাদ দিলাম।
এই গ্রুপটি আগে নোবেল খবরটি নিইয়ে কোন উচ্চবাচ্য করছিল না । আমি তোলায় এল ওই ভাইরালটি।

Avatar: ব

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

আরে রঞ্জন দা যে!! কেমন আছো? অনেকদিন ব্যাটে বলে হয় নি। গুছিয়ে আড্ডা পেন্ডিং স্যার।
Avatar: sm

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

আশ্চর্য্য।ওনার প্রথম স্ত্রী এর কোন বক্তব্য কোথাও পেলাম না।
নবনীতা দে সে,কিন্তু বেশ খোলা মেলা ছিলেন এ ব্যাপারে।
Avatar: রঞ্জন

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

ব্রতীন,
বইমেলায় আসছি। চুটিয়ে আড্ডা দেব। আপাততঃ গুরুগ্রামে। ভাল থেক।
এস এম,
সেটাই তো কথা ! আম্মাদের কারও অধিকার নেই কোন মহিলার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলাপাতায় আহা রে করে তাঁকে ছোট করার। অন্ততঃ তিনি আগ্রহী না হলে, অনুমতি না দিলে।
এই প্রাইভেট স্পেসের ব্যাপারটা বাঙালিদের নেই , আমরা ভীষণ জাজমেন্টাল ।
Avatar: S

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

রঞ্জনদা, কিচ্ছু করার নেই। এখন এইটাই বাস্তব। লোকে ট্রাম্প আর মোদির মধ্যে মিল দেখে বটে। কিন্তু প্রচুর পার্থক্য। আম্রিগার ইয়ং জেনারেশন ট্রাম্পকে দুচক্ষে দেখতে পায়্না। ভারতের যুবকদের কাছে মোদিই ভগমান।
Avatar: রঞ্জন

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

এস,
হ্যাঁ, এর মধ্যেই বেঁচে থাকব। কিন্তু চুপ করব না । ঢের হয়েছে।


' বোল কি লব আজাদ হ্যায় তেরে , বোল ইয়ে সবা তেরা হ্যায়!'


Avatar: sm

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

আমেরিকার ইয়াং জেনারেশন দুচক্ষে দেখতে পারে না।তাহলে বয়স্ক লোকজন নিশ্চয় পছন্দ করে।
অভিজ্ঞ লোকজন ট্রাম্প কে ভোট দিচ্ছে কেন?
আগের ডেমোক্রেট নেতাগণ নিশ্চয় বিস্তর ঢপ দিয়েছেন,তাই লোকজন ট্রাম্প কে পছন্দ করে ভোট দিয়েছে বা দেবেও।
Avatar: রঞ্জন

Re: দাগী আসামীর নোবেলজয়

@ এস এম,
্ট্রাম্প কি মোদীর মত একতরফা জিতেছেন?
নাকি প্রায় সমানে সমানে ছিল? জানতে চাই ।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন