বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

তবরেজ আনসারি নির্দোষ প্রকল্প

তনুজ সরকার

তবরেজ আনসারি নির্দোষ প্রকল্পে
আমরা মনে করছি
তার অনুপস্থিতিটাই একটা বড় সূত্র।

সেই সূত্র ধরে শহরের উপান্তে পৌঁছলে,
আমাদের মধ্যে কেউ বলে উঠল

আঠেরো ঘন্টার জন্য কোনো পরীক্ষাগার
ভাড়া করে তবরেজ আনসারি নির্দোষ প্রকল্পটির
আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হোক।

আমরা ভাবলাম,সে এমন কি,আর যদি এই ব্যাপার,
বেকার কিছু বাচ্চা বাচ্চা গিনিপিগ ও
হাতেগোণা দুয়েকটা প্রৌঢ় এ্যালবিনো ইঁদুরের নজরানা দিয়ে
খামোখা তদন্তের প্রতিভা নষ্ট করতে যাব কেন

ঠিক হল,আমাদের মধ্যে যে তবরেজ আনসারি,
সেই তবে বিনাবাক্যে বেরিয়ে আসবে গর্ত থেকে।

বলা হয়নি,নির্বাচিত পাঁচজনের এই কমিশন
এখন সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে
ল্যাবের তন্নতন্ন মেঝেতে
গরমাগরম আলোর নিচে
আগামী আঠেরো ঘন্টা ধরে
যে হবে বৃক্ককার তবরেজ আনসারি,
তাকে বাদ দিলে আমরা চারজন,টারজন হয়ে থাকব।

বলা হয়নি,ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তদন্ত,তফতিশ।

প্রধান উপাচার হিসেবে তার মুখে পড়ানো হল লিপপ্লাগ।
ব্যবহারকারীরা বলে থাকেন মুখে লিপপ্লাগ পড়া থাকলে
অযথা আমার কিছুই বলার নেই,আমারও কিছু বলার নেই ধরনের
মোটাদাগের কথা,মূলত বার্তা সহজে এড়ানো যায়।

কে না জানে,আমরা চাই ফ্রি ফান্ডের শান্তি,
দিনকে আমরা সফল দুটো রাতে ভাগ করেছি।

কিন্তু সমস্যা শুরু হল যখন প্রথম তিন ঘন্টাতেই আমাদের আপতকালীন
তবরেজ আনসারির একনিষ্ঠ ঘিলু ছেৎরে পড়ল চেয়ারের চতুর্থ কোণায়;

যখন তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করতে
মেঝেতে মক্কামুখি বসিয়ে তার মুখের দেরাজে
আমরা চারজোড়া কাঠের পা চালালাম,ধীরে

যখন মুখের দেরাজ ভেঙে রক্ত বেরিয়ে এলো,আরো ধীরে

যখন বেঁচে থাকা টানা বারো ঘন্টা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে

ঠিক হল,আমাদের মধ্যে যে সুস্থ এবং তবরেজ আনসারি,
সেই তবে বিনাবাক্যে বেরিয়ে আসবে গর্ত থেকে।

এভাবে তিন ঘন্টা,তারপর আবার প্রয়োজন
হল একজন পেশাদার তবরেজ আনসারির;

কেননা তাকে মেঝেতে মক্কামুখি বসাতেই আমাদের
চারজোড়া কাঠের পায়ে সঞ্চারিত হয়ে যাচ্ছে
প্রত্যন্ত কোনো পৃথিবীর আহ্নিক গতি।

আমাদের মনে পড়তে থাকল,তবরেজ আনসারি নির্দোষ প্রকল্পে
তার অনুপস্থিতিই একমাত্র সূত্র।

নিজেদের মহামাংসে,নগরপালিকায়,অরণ্যে,কান্ডে,
স্বভাব বিকিরণ দূরে আমরা সবাই কী
কোথাও তবে তবরেজ আনসারি?

তিনে তিনে আরো ছয়;তার অনুপস্থিতির সূত্র ধরে
আমরা পাঁচজন এরমধ্যে হয়ে গেছি একপ্রকার তবরেজ আনসারি

অথচ তিনঘন্টা বাকি;তৈরি হল নতুন কমিশন।

ল্যাবের পরিত্যক্ত অন্ধকার থেকে বিচারক বললেন

যেহেতু তোমাদের কাছে আছে গতরাতের চারজোড়া কাঠের পা,
তোমরা বরং উদার হও,মনে রেখো তবরেজ আনসারি ছাড়া
অন্যান্য তবরেজ আনসারিরাও যথেষ্ট নির্দোষ,
এই প্রকল্পের সাহায্যে তাদের ঘরেও
তোমরা পৌঁছে দিতে পারো সহস্র ক্রমিক নম্বর।

ঠিক হল,আমাদের মধ্যে যারা দলিত,
আদিবাসী ও তবরেজ আনসারি,
তারা বিনাবাক্যে বেরিয়ে আসবে গর্ত থেকে।

বলা হয়নি, পরিত্যক্ত অন্ধকার ছেড়ে বিচারক
এবার বেরিয়ে আসছেন মেঝের ওপর
ঝুলতে থাকা পরিত্যক্ত আলোর শতাব্দীতে।

তার শরীর জুড়ে ঠিকরে বেরোতে থাকে কিছু একটা;
যার ভেতর দিয়ে অনুপস্থিত আমরা সবাই দেখতে পেলাম

অনেক বাচ্চা বাচ্চা গিনিপিগ আর কয়েকটা
প্রৌঢ় এ্যালবিনো ইঁদুর কান ঢাকতে গিয়ে বেমানান
চোখে হাত রেখে,চোখ ঢাকতে গিয়ে কানে হাত শক্ত করে বসিয়ে,
সরে সরে যাচ্ছে সীমিত টানেলের আরো অর্ন্তলীন ছররা ছ্যাঁক ছ্যাঁকে।



133 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: তবরেজ আনসারি নির্দোষ প্রকল্প

"ঠিক হল,আমাদের মধ্যে যারা দলিত,
আদিবাসী ও তবরেজ আনসারি,
তারা বিনাবাক্যে বেরিয়ে আসবে গর্ত থেকে।"...

প্রকল্প চরম নিষ্ঠুর ও বাস্তব। আর লেখাটি গুরুতর।।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন