বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কী করবি বই পড়ে

ফয়েজ আহমেদ

ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, আর বাউন্ডুলে ফ্রান্স গেলেও ঘুরেই বেড়ায়। আমারও তাই দশা। ছুটিছাটা পেলেই প্যারিসের লং ডিসটেন্স বাস ডিপো থেকে কোনো একটা বসে উঠে অজানা জায়গায় যাই। কদিন আরামে নিজের সাথে কাটিয়ে আবার ফিরে আসি। এবারে ভাবলুম, ট্রেন ব্যবহার করি। বাসওয়ালাগুলোও বোধয় এতো দিনে চিনে গেছে আমাকে। তাছাড়া ট্রেনের ভাড়া বাসের থেকে বেশ কম শুনেছি। আমার তখন সম্বল বলতে ফ্রান্স সরকারের দেওয়া কটা ইউরো আর এক বাংলাদেশী মাইয়ারে বাংলা পড়াইয়া যা কিছু পাই, তাই। তার অর্ধেক তো চলে যাই ওরই বাপের রেস্তোরাঁতে ইলিশ ভাত, মাংস ভাত খেতে। কত আর পাউরুটি চিবোবো।

বইটি হস্তগত করে, একটা ছোট ব্যাগ নিয়ে দুগ্গা দুগ্গা বলে বেরিয়ে পড়লুম। দেখি চোখ কোন দিকে যায়, আমিও সেই দিকগামী হবো। তবে দুগ্গার কৃপাকে এইভাবে abuse করলে মাও যে আর বেশিদিন রক্ষে করবেননে সেটা বুঝি।

কোথায় যাচ্ছি ঠিক করার একটা দারুন উপায় মাথায় এলো। ট্রেন স্টেশনে মানচিত্র দেখে যে অজানা নামটা বেশ সুন্দর লাগলো, সেটার একটা টিকেট কেটে উঠে বসলাম।

আরও পড়ুন...

‘পাইয়া ফিরিঙ্গ ডর’—একটি বহুকৌণিক ঐতিহাসিক আখ্যান

শৌভ চট্টোপাধ্যায়

রসগ্রাহী পাঠকমাত্রেই জানেন, ঐতিহাসিক উপন্যাসকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে গেলে, তথ্যের খুঁটিনাটি ও সত্যতা-সম্পর্কে লেখককে কতখানি নিষ্ঠাবান হতে হয়। আমি আমার ক্ষুদ্রবুদ্ধিতে যতটুকু বুঝি, রাজর্ষি এই কাজে সম্পূর্ণ সফল। সপ্তদশ শতকের বাংলা, বিশেষ করে, সমতটের বাকলা-বাখরগঞ্জ থেকে, সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম হয়ে, আরাকান বা রাখান-দেশ অবধি বিস্তৃত ভূখণ্ডের ভুগোল ও ইতিহাস, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চিত্রিত হয়েছে এই উপন্যাসে। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক আচার-ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস, বাচনভঙ্গী, এমনকী নৌবিদ্যার খুঁটিনাটি বর্ণনাতেও, লেখকের মনোযোগ ও যত্নের ছাপ সুস্পষ্ট। অথচ, তথ্যের এমত প্রাচুর্য কখনও বাহুল্য হয়ে ওঠেনি। বরং, পটভূমির বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে, গল্পের চরিত্রগুলিকেও আরো বেশি রক্তমাংসের বলে মনে হয়েছে।

আরও পড়ুন...

Soy Mi cuerpo আমি হলাম আমার শরীর

খাইমে সাবিনেস (Jaime Sabines) - অনুবাদ জয়া চৌধুরী

জয়া চৌধুরী অনুদিত মেক্সিকোর কবি খাইমে সাবিনেসের কবিতা।

আরও পড়ুন...

ক্ষমা করো (অনুবাদ কবিতা)

নন্দিনী সেনগুপ্ত

গের্ট্রুড কোলমার রচিত ‘ফেরগিব’ কবিতা অবলম্বনে লেখা।
কোলমারের জন্ম মধ্যবিত্ত ইহুদী পরিবারে ১৮৯৪ সালে বার্লিনে। ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই। ১৯২০ সালের পর থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে তার কবিতা। সমালোচকরা বলেছিলেন যে গের্ট্রুড সম্ভবত ইহুদীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জার্মান ভাষার লেখিকা। ত্রিশের দশকের শেষ দিক থেকে যখন নাৎসিবাহিনীর অত্যাচার জোরদার হতে থাকে ইহুদীদের উপর, গের্ট্রুডের বহু কবিতার বই নষ্ট করে ফেলা হয়। নিজের বাসস্থান ছেড়ে বারবার স্থানান্তরিত হতে হয় নাৎসিবাহিনীর হাত থেকে বাঁচবার জন্য। ১৯৪৩ সালের মার্চ মাসের পরে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় না। কার্যকারণ, সূত্র সবই বলছে সম্ভবত, ঐ সময় তিনি আউসভিৎসে খুন হয়ে যান ।

আরও পড়ুন...

কোকিল

অমর মিত্র

বাড়ি কোথায়? অচিন্ত্য জল ঢকঢক করে খেয়ে গৌরের দিকে তাকায়।

আঁজ্ঞে কাছেই, মাঠেমাঠে হেটি গেলি সাত মাইল, পুরন্দরপুর, থানা মগরাহাট।

হেটে আসা হয় ? হ্যহ। বর্ষাকালে একটু অসুবিধে হবে। গৌর মিদ্যের মুখে যেন হাসি ধরে না।
তা চাকরিটা পেলি কী করে ? অচিন্ত্য আর তুমি বলার প্রয়ােজন বােধ করে না, এ বেটা খাঁটি চাষা, হাল দিয়ে যেন মাঠ থেকে উঠে এসেছে সরকারি অফিসে।
গৌর বলল, আঁজ্ঞে সার, মধুবাবু করি দেছেন।
কে মধুবাবু ? অচিন্ত্য খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করে।
অজ্ঞে মধুসূদন ঘােষ, যাঁর ছেলে বিকাশদা, ব্যাঙ্কে চাকরি করে, পঞ্চাতে মেম্বার হলাে ওর পরের ভাই বিমলদা, মটোর সাইকেলে নেচে বেড়ায়।
চেনে না অচিন্ত্য বােস। এ থানার লােক নয়। তবে ইনফ্লুয়েন্সিয়াল নিশ্চয়ই। এ বাজারে পিয়নের চাকরিরও কম দাম নয়। জেনে নেওয়া ভাল কার লােক এই গৌর মিদ্যে, সেইমত কাজে লাগাতে হবে। না হলে হঠাৎ যদি ফোঁস করে পার্টির জোরে।
কত টাকা লাগল চাকরি পেতে?
মাথা নাড়ে গৌর, ‘আঁজ্ঞে লাগেনি, তিনি খুব ভালমানুষ, আমরা তাঁর সাতপুরুষের ভাগচাষী’।

আরও পড়ুন...

কাব্যে উপেক্ষিত

স্বাতী রায়

তবে ঘোরতর অবাক লাগে শাহুর ১৯১৯-২০ সালে আনা খান-কতক আইনে। ব্রাহ্মণ্যবাদের – তথা – বর্ণভেদ প্রথার যে সব থেকে বড় সামাজিক প্রয়োগ, সেই বিয়ে ব্যাপারটার গোড়া ধরে টান মারলেন। এর আগে ১৯১৭ সালে নিজ রাজ্যে বিধবা বিয়েকে আইনতঃ সিদ্ধ বলে আইন চালু করেছেন। এবার এক কলমের খোঁচায় অসবর্ণ বিবাহ এমনকি আন্তঃধর্ম বিবাহকে আইনসিদ্ধ করে দিলেন। আর যেহেতু অসবর্ণ বিয়ে তখন ধর্মমতে করানো দুস্কর, তাই বিবাহ রেজিস্ট্রেসনের ব্যবস্থা করলেন। ভাবা যায়! যদিও ভারতে আন্তঃবর্ণ বিয়ে সমর্থন করে আইন হয়েছে ১৮৭২ সালে, তবু তার ১৩০ বছর পরে ২০০৫-০৬ সালের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের থেকে জানা যাচ্ছে যে গোটা ভারতে অসবর্ণ বিয়ের ঘটনা মাত্র ১১% সেখানে মহারাষ্ট্রে অসবর্ণ বিয়ের ঘটনা ১৭%। সহজেই অনুমেয় যে শাহু মহারাজের এর পিছনে দুই সেন্ট হলেও অবদান আছে। এই আইনে তিনি আরো বললেন যে বিয়ে করতে হলে মেয়ের বয়েস ১৪ বা তার বেশি হতেই হবে – গোটা ব্রিটিশ ভারতে তখন বিয়ের বয়স কিন্তু ১২। ১২ র থেকে ১৬ হতে আরো প্রায় তিরিশ বছর অপেক্ষা করতে হবে। মনুস্মৃতির নারীর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব না থাকার বিধান উড়িয়ে দিয়ে বললেন যে মেয়ের ১৮ বছর হয়ে গেলে বিয়ের জন্য কারোর অনুমতি লাগবে না। ডানা মেলল স্বাধীনতা। এই আইনের আর একটা ইন্টারেস্টিং দিক হল এখানে সম্পর্ক-বিচ্ছিন্ন বা একপক্ষের মৃত্যুর আগেই বিবাহ করলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ধরা আছে। যেহেতু এই মূল গেজেটগুলির ইংরাজী আন্তর্জাল ভার্সন অমিল, তাই বোঝা যায় নি এই মোনোগ্যামির ধারাটা কি ছেলে মেয়ে দুই এর জন্যেই প্রযোজ্য কি না। এই আইন যত না মেয়েদের উপকারের জন্য, তার থেকে অনেক বেশি অবশ্য ব্রাহ্মণ্যবাদকে আঘাত করার জন্য। তবু মেয়েদের স্বাধীনতাকে তিনি বেশ অনেকটা জায়গা করে দিলেন।

আরও পড়ুন...

“আয়ুষ্মান ভারত” – ভারতীয় জনতা কি আয়ুষ্মান হবে?

জয়ন্ত ভট্টাচার্য

এবারেরে বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন স্বাস্থ্য নিয়ে প্রায় কোন উল্লেখই করেননি। কেবলমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে স্বাস্থ্যবান সমাজের কথা উল্লেখ করেছেন, উল্লেখ করেছেন আয়ুষ্মান ভারতের কথা বা যাকে আরও ব্যাখ্যা করে বললে আয়ুষ্মান ভারত–প্রধান মন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বা AB-PMJAY বলা হচ্ছে (আমরা এরপরে এ প্রবন্ধে আয়ুষ্মান ভারত বা AB-PMJAY বলে উল্লেখ করবো)। উল্লেখ করেছেন সুপুষ্ট শিশু এবং মায়েদের কথা। New England Journal of Medicine (NEJM)-এ ২৩ মে, ২০১৯, সংখ্যায় “Getting Coverage Right for 500 Million Indians” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী ভারতে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যে সংস্কার করা হয়েছে তার দুটি স্তম্ভ – (১) দরিদ্রতম (আগেকার অবস্থা যাই থাকুকনা কেন) ৫০ কোটি ভারতবাসীর জন্য স্বাস্থ্য বীমা যার পরিমাণ প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রতিবছর ৭,০০০ ডলার বা ৫০০,০০০ টাকা, (২) যেসব সুযোগ-সুবিধে বর্তমানে রয়েছে সেসবের রূপান্তর ঘটিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যের জন্য পুনর্বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যার নতুন পোষাকি নাম হচ্ছে “Health and Wellness Centers” (HWC) তথা স্বাস্থ্য ও সুস্থতার কেন্দ্র। ১,৫০,০০০ HWC খোলা হবে ভারত জুড়ে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য যেসব সাবসেন্টার বা SC ছিলো সেগুলোকে HWC-র স্তরে উন্নীত করা হবে।

আরও পড়ুন...

ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার বা সবার জন্য স্বাস্থ্য এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন

অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইনের পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণদর্পণ আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় ড. পুণ্যব্রত গুণের বক্তব্য

পৃথিবীর অনেক দেশে সরকার নাগরিকের স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব নিলেও আমাদের দেশে তেমনটা নয়। 2010 সালে তৎকালীন যোজনা কমিশন সবার জন্য স্বাস্থ্যের লক্ষ্যে এক উচ্চস্তরীয় বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করে, এই দলের কাজ ছিল সরকার কিভাবে সমস্ত নাগরিকের স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব নিতে পারে সেই সম্পর্কে সুপারিশ করা।
ডা শ্রীনাথ রেড্ডির নেতৃত্বাধীন এই বিশেষজ্ঞ দল হিসেব করে দেখায় সরকার যদি জিডিপির 2.5 শতাংশ 2017 এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে খরচ করে এবং 3 শতাংশ 2022 এর মধ্যে খরচ করে তাহলে সরকারি পরিকাঠামো এমন ভাবে গড়ে তোলা সম্ভব যা দিয়ে নাগরিকের প্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যক প্রাথমিক স্তরের পরিষেবা, দ্বিতীয় স্তরের পরিষেবা এবং তৃতীয় স্তরের পরিষেবা দেওয়া যায়। তাদের সুপারিশ ছিল কোন ক্ষেত্রে সরকারি পরিকাঠামো যদি তৈরি না থাকে তাহলে বেসরকারি হাসপাতালের কাছ থেকে পরিষেবা কেনা যেতে পারে, তবে বর্তমানের মত সেই পরিষেবা ব্যক্তি রোগী কিনবেন না, কিনবে সরকার নিয়োজিত এক স্বায়ত্তশাসিত কমিটি।

আরও পড়ুন...

Kolkata Metro -- কলকাতা মেট্রোর মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

কলকাতা মেট্রো এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল আজ। দুর্ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্য়ে পৌনে সাতটা নাগাদ। কসবা এলাকার এক বাসিন্দা সজল কাঞ্জিলালের হাত মেট্রোর একটি ট্রেনের দরজায় আটকে যায়। সাধারণ অবস্থায় এরকম আটকে যাওয়া সম্ভব নয়। দরজা এই অবস্থায় বন্ধই হয়না। কিন্তু যান্ত্রিক গোলমালের জন্য়ই এমন হয় বলে আন্দাজ করা হচ্ছে। চালক কিছু টের পেয়েছিলেন কিনা জানা যায়নি। কিন্তু ওই অবস্থাতেই ট্রেন চলতে শুরু করে। যাত্রীটিকে ট্রেন ছ্য়াঁচড়াতে ছ্য়াঁচড়াতে নিয়ে চলে বহুদূর। তিনি গুরুতর ভাবে আহত হন। পরে মারা যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন কিনা জানা যায়নি।

আরও পড়ুন...

হাইওয়ে ব্লুজ - ৪

বেবী সাউ

একা মানুষের শত্রু হচ্ছে সে নিজে। তার একলা মন চাইবে পথে এসে মিশুক অন্য কেউ... হাত ধরুক... পায়ে পায়ে জুতো লেগে গতি হোক ধীর, মৃদু... অথচ কেউ আসে না, কেউ আসবে না হয়ত কখনো, কোনদিন, শুধু একটা দমকা বাতাস সবসময় ভিজিয়ে রাখবে তোমাকে... অধীর করে তুলবে... আর এই একলা জার্নি যোগ হবে দু'টো শালিকের শান্ত চেহারা। মন্দ ভেবে, আড়াল ভেবে যতই তাকে এড়িয়ে যাওয়া না কেন, ঠিক এসে ভাব জমাবে তোমাকে সঙ্গে।

আরও পড়ুন...

ফাদার অফ পাবলিক হেলথ - ৪

ঐন্দ্রিল ভৌমিক

ঘোর কাটল আমার গবেষণা পত্রের প্রস্তাব এথিকাল কমিটিতে পাশ করানোর সময়। দুই রাত্রি জেগে বেশ জম্পেশ করে থিসিসের প্রপোজাল তৈরি করলাম। জমাও দিলাম। পত্রপাঠ এথিকাল কমিটি আমার প্রস্তাব বাতিল করল।

আমার থিসিসের এক জায়গায় ছিল রোগীদের ঠোঁট থেকে লালা গ্রন্থির বায়োপসি করতে হবে। এথিকাল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনও ভাবে ওই বায়োপসি ব্যাপারটাকে বাতিল করা যায়। কারণ এতে রোগীদের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কি কেলেঙ্কারি কাণ্ড। থিসিস ‘জোগরেন সিন্ড্রোম’ নিয়ে। মাইনর স্যালাইভারি গ্লান্ডের বায়োপ্সি করে তাতে শ্বেত রক্ত কণিকার ঝাঁক খুঁজতে হবে। বায়োপ্সি ছাড়া কিভাবে ‘জোগরেন সিন্ড্রোম’ নির্ণয় করা সম্ভব?

সে কথা লিখলাম। কিন্ত থিসিস আবার বাতিল হল। এবার এথিকাল কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘জোগরেন সিন্ড্রোম একটি বিরল রোগ। ঐ রোগ নির্ণয় করে এমন কি মহাভারত শুদ্ধ হবে?’

আরও পড়ুন...

ক্লিশিতে শান্ত দিন (কোয়ায়েট্‌ ডেইজ ইন ক্লিশি) - পর্ব - ৫

হেনরি মিলার :: ভাষান্তর : অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

ভদ্রলোক হচ্ছেন কোলেতের লিগাল গার্ডিয়ান। কোলেতের যখন পনেরো, এরকম সময়ে ও বাড়ি থেকে হঠাৎ পালিয়ে যায়। সে যাই হোক, উনি বললেন যে, উনি যদি আমায় কোর্টে নিয়ে যান তাহলে দশ বছরের জেল আমার পাকা। জিগ্যেস করলেন, সেটা আমার জানা আছে কিনা। বললাম হ্যাঁ। আমার মনে হয় উনি বেশ অবাক হয়েছেন দেখে যে আমি নিজেকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টাই করছি না। কিন্তু যেটা দেখে উনি সবথেকে বেশি অবাক হয়েছেন তা হল, আমরা দুজনেই লেখক। তুমি জানো লেখকদের প্রতি ফরাসিদের একটা বিরাট সম্মান আছে। একজন লেখক কখনও একটা ছিঁচকে গুন্ডা হতে পারে না। আমার মনে হয় উনি বোধহয় ভেবেছিলেন দুজন পাতি রেড ইন্ডিয়ান বা ব্ল্যাকমেলার দেখবেন এখানে এসে। কিন্তু তোমাকে দেখার পর ওর ভাবনা পালটাল। পরে আমাকে জিগ্যেস করছিল তুমি কী ধরনের বই লেখো, সেগুলোর মধ্যে কিছু অনুবাদ হয়েছে কিনা। আমি বলেছি তুমি একজন দার্শনিক, সেজন্যেই তোমার লেখা অনুবাদ করাটা বেশ কঠিন...

আরও পড়ুন...

আর্টিকল ১৫ ও আমরা

ফরিদা

অনুভব সিনহা র সিনেমাটির শুরুতে কৃতজ্ঞতা স্বীকারের তালিকায় সবার প্রথমে নাম উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর। "সব চরিত্র কাল্পনিক" বলে দেওয়াও আছে। দেখতে দেখতে অনেকবার মনে হবে - এই রকম সিনেমা ছাড়পত্র পেল কীভাবে? সরকার কি এতই প্রগতিশীল যে সিনেমায় খুল্লামখুল্লা সরকারী কর্মচারীদের মধ্যেও জাতপাতের নোংরামি দেখাতে দিচ্ছে। তারপর অবশ্য বোধদয় হয়। আজকাল এইসব সিনেমা সমুদ্রে এক বোতল বিসলেরি ঢেলে তাকে পেয় জল বানানোর চেষ্টার মতো। ২৮ শে জুন মুক্তি পাওয়া সিনেমা ৬ই জুলাই শনিবারের সন্ধ্যায় ফরিদাবাদের মাত্র তিনটে হলে চলছে। যেটায় আমরা গেলাম তাতে টিকিটের জন্য ৩০০ টাকা চাইল। এত দাম কেন জানতে চাইলে জবাব এল - গোল্ড ক্লাস।

আরও পড়ুন...

প্রমীলা নজরুল ইসলাম – স্মৃতিতে...

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

ঘনঘন কান্দিরপাড়ে বসবাসের মধ্যেই নজরুল-আশালতা তীব্র এক সম্পর্কের কুঁড়ি। ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস। গোমতীর তীরে দুজন মানুষ মানুষী। প্রকাশ্যে চলে এল প্রেম। অন্যরকম বিরজাসুন্দরী, সাহসিনী তেজস্বিনী মায়ের মতো এই নারী নজরুলের পাশে থাকলেন না। সামাজিকতার বেড়াজাল। ছোবল। গিরিবালা একা। সঙ্গে মেয়ে। অপমান। বাড়ি থেকে পালিয়ে বাপের বাড়ি বিহারের সমস্তিপুরে চলে এলেন মা-মেয়ে। অন্যদিকে ব্যস্ত নজরুল আশালতার সঙ্গে ভালবাসছেন দেশকে। ধূমকেতু। নিষিদ্ধ দিওয়ালি সংখ্যায় ‘ম্যায় ভুখা হু’- মতো প্রবন্ধ লিখে ফেরার। ব্রিটিশ রোষে। একটা সময়ে কুমিল্লায় গ্রেপ্তার। ক্রমশ আলিপুর সেন্ট্রাল জেল এবং কুখ্যাত হুগলী জেল – অনশন। ‘দোলনচাঁপা’ কাব্যগ্রন্থ। যার দোলন খোদ দুলি অর্থাৎ আশালতা। একটা সময়ে মুক্ত নজরুল সমস্তিপুর থেকে কলকাতায় নিয়ে এলেন গিরিবালা-আশালতাকে। বিয়ের সিদ্ধান্ত। তীব্র বিরোধিতা উগ্র মুসলিম সমাজ থেকে। স্বামী ইন্দ্রকুমারের অসম্মতি – উপায়ান্তর না দেখে প্রকৃতই পাশে থাকলেন না বিরজাও। ‘প্রবাসী’ পত্রিকার দপ্তরের প্রকারান্তরে ‘হিন্দু’ হয়ে পড়া ব্রাহ্মদের থেকেও ক্ষোভের শিকার। প্রবাসীতে নজরুলের লেখা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। বিয়ের দিন।

আরও পড়ুন...

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থাঃ কিছু প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ

পুণ্যব্রত গুণ

কি রকম বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে পশ্চিমবঙ্গে আজ? ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে বললেন, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে হবে, কিন্তু হয়তো তিন মাস পরে। অপারেশনে কোন ইমপ্ল্যান্ট লাগবে, সেই ইমপ্ল্যান্ট ডাক্তার বাইরে থেকে কেনাতে পারবেন না, এক মাস বাদে ইমপ্ল্যান্ট সরবরাহ হলে অপারেশন হবে। তবু বিনামূল্যে চিকিৎসা র সুবিধা পাচ্ছেন অনেক গরিব মানুষই।
আমার মূল ক্লিনিক হাওড়া জেলার উলুবেরিয়া মহকুমায়, রোগীরা প্রায় সবাই শ্রমজীবী মানুষ।১৯৯৫ থেকে ২০১৪ অব্দি আমার মাত্র দুজন রোগী হার্টের অপারেশন করাতে পেরেছিলেন, বাকিদের ওষুধ পত্র দিয়ে চালিয়ে যেতে হয়েছে। ২০১৪র পরে যাদের প্রয়োজন তাঁদের মেডিকেল কলেজে পাঠালে এনজিওপ্লাস্টি হয়েছে, জনা দুয়েকের বাইপাস অপারেশন ও।

আরও পড়ুন...

সাম্প্রতিক জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলন ও সরকারী পরিষেবা - প্রথম পর্ব

সিদ্ধার্থ গুপ্ত

বহু প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে ঘটনার ধারা বিবরণী আপনারা ইতিমধ্যেই বহুবার পড়েছেন। সেই নিয়ে চর্বিতচর্বণ করার পরিবর্তে এই ঘটনার উৎস সন্ধানের চেষ্টা বোধ করি বর্তমান অবস্থায় এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বেশী প্রয়োজনীয়। সিনিয়র এবং জুনিয়র ডাক্তারদের বিভিন্ন সংগঠন জনিয়েছেন, চিকিৎসকদের উপর লাগাতার হামলা বিশেষত গত আড়াই বছর ২৩০ টি এই ধরণের ঘটনা বহুবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সরকার কার্যত ডাক্তারদের কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন নি এবং অপরাধীরা কোনো শাস্তিও পান নি। সরকারি ডাক্তারদের সঙ্গে সরকারের আচরণ চূড়ান্ত অমানবিক। এমনকি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত চিকিৎসককেও স্বেচ্ছাবসরের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে কর্তৃপক্ষের হুমকি, অন্যদিকে বিভিন্ন পার্টি আশ্রিত কুকৃতিদের হামলায় ডাক্তাররা চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে তাদের পক্ষে এন আর এসের এই ঘটনা 'উটের পিঠে শেষ কুটো'র মত ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার ৮০ শতাংশ শিক্ষানবিশ বলে চিন্হিত জুনিয়র ডাক্তারদের ঘাড় দিয়ে চলে। কিন্তু তারাও ধারাবাহিক লান্ছনার শিকার। যে কোনো রোগীর মৃত্যু হলেই অবহেলা এবং হামলার অভিযোগ ওঠে। অপর পক্ষে কান পাতলেই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে যার মধ্যে অনেকটাই সত্য।

আরও পড়ুন...

২০১৯ ভোট পরবর্তী দু একটি বোঝাপড়া - এক আধটি প্রস্তাব

শুভ্রনীল

বিজেপির ‘ভারতীয় মানব’ নির্মাণের বিপরীতে আমাদের দেশের বুর্জোয়া লিবারেল, সরকারী বাম, অনগ্রসরদের প্রতিনিধি সকল পার্টিই মনে করেছিলেন ‘সংবিধান’ হবে একটি সমকক্ষ ভাবনা। ‘সংবিধান’ অর্থাৎ “আম্বেদকর এবং তাঁর রচনা করা আধুনিক, ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল, সামাজিক ন্যায় সুরক্ষিত করা রাষ্ট্রকাঠামোটিই শেষ হয়ে যাবে বিজেপির হাতে”, এই ছিল তাদের বয়ান এবং প্রধান বয়ান। অর্থাৎ এর মধ্যে দিয়ে যাকে উঁচুতে তুলে ধরা হয় তা হল আধুনিক ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং তার ভাবনা। বলা বাহুল্য এই আইডিয়াটির গায়ে এখনো পর্যন্ত যতটা পরিমাণ আমদানি করা মালের গন্ধ লেগে আছে এবং ভারতের সিংহভাগ জনমানসে এটা এখন পর্যন্ত এতটাই অসম্পৃক্ত যে, এটার মধ্যে দিয়ে কখনই বিজেপির সাধারণীকৃত ভারতীয়ত্বের ভাবনাটিকে প্রতিহত করা যায় না। এর জন্য ভারতীয় সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য এবং ভারতবর্ষে বিকৃত এবং অসম পুঁজিবাদী উন্নয়নের ইতিহাস একান্তভাবে দায়ী। বরং বলা যায়, এই সংবিধান যে বিষয়টিকে ভারতবাসীর মনে এবং আর্থ-রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জগদ্দল পাথরের মতন অপরিহার্য করে তুলেছে তা হল সংসদীয় গণতন্ত্র।

আরও পড়ুন...