বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শেষের সেদিন

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

আমার স্মৃতিশক্তি খুব ভালো বলে আমি কিচ্ছু ভুলিনা। রবীন্দ্র রচনাবলীর কোন খণ্ডে কথা ও কাহিনী, বাড়ির কোথায় ঝুলঝাড়া, কোন ড্রয়ারে মাংস কাটার ছুরি, আমার সব মনে থাকে। ফ্রিজারের পিছন থেকে এক চান্সে থান ইটের মতো পাঁঠার মাংস বার করে ধপ করে রান্নাঘরের সিমেন্টের স্ল্যাবে ফেলে কাটারির সাইজের ছুরি বাগিয়ে তরীকে বলি, আজকে মাংস করব বলেছিলাম না? কেমন মনে রেখেছি অ্যাঁ? হ্যাঁ, স্ল্যাবের উপর ফেলার আগে পাতলা প্লাস্টিক বিছিয়ে নিতেও আমি একদম ভুলিনি। মাংস ঠান্ডা হোক কি গরম, কাটলে রক্ত বেরোবেই। রক্তারক্তি আমি একদম পছন্দ করিনা।
তরী ডান হাতের নখে ফু দিতে-দিতে গা ঘেঁষে এসে বলে, কীসের মাংস? এর মধ্যেই ভুলে গেছে। তরী আমার ঠিক উল্টো। কিচ্ছু মনে রাখতে পারেনা। চেষ্টাও নেই কোনো। তাকিয়ে দেখি নখ আবার টকটকে লাল। অনেকবার বলেছি লাল রঙ দেখলেই আমার রক্তারক্তির কথা মনে পড়ে। রক্ত দেখলেই বিচ্ছিরি লাগে। এটা অবশ্য রক্ত নয়, নেলপালিশ, তাও। তরী লম্বা নখ রাখে। টকটকে লাল লিপস্টিক দেয়। তাও আমি কিচ্ছু বলিনা। কারণ মধ্যরাতে জানলা দিয়ে দিয়ে ঘরে যখন রাস্তার আলো-আঁধারি ঢুকে পড়ে, নখ আর ঠোঁট সমেত তরী আমার বুকের উপর উঠে বসে বলে, এবার তবে রক্ত খাই? ফ্যানের হাওয়ায় ওর চুল শনশন করে ওড়ে। আমি ভয় পেয়ে বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে বোঁটা চুষি। সেটা দারুন লাগে। আমি তরীর শরীর ভালোবাসি। যৌনতা ভালোবাসি। ভয় পেতে ভালোবাসি। সেইজন্য নখে লাল রঙ দিলেও কিচ্ছু বলিনা। কিন্তু তরী যে আমার কথায় পাত্তা দেয়না সেটা আমি জানি। আমি কিচ্ছু ভুলিনা।
ডানদিকের তাকের পিছন দিক থেকে ডেকচি নামাতে নামাতে বলি, কালই তো বলেছিলাম।
ডেকচি টা ওখানে ছিল?
ওখানেই তো। গতমাসে রেখেছিলাম। আঠারো তারিখ।
বাবা। আঠারো তারিখ? ঢেউ খেলিয়ে হাসতে হাসতে বলে তরী। আমার জামার বোতামে হাত রাখে, যাতে নখটা দেখতে পাই। আমি কিন্তু লক্ষ্য করতে ভুলিনা, যে, তরী মাংসের কথায় আর কান দিচ্ছেনা। একবার প্রশ্ন করেই খালাস। আঠারো তারিখের কথাটাও সিরিয়াসলি নিচ্ছেনা। তরী আমার কথায় পাত্তা দেয়না। কোথায় কী রাখি কিচ্ছু জানেনা। কবে মাংস করব শোনেনা। মনে রাখবে কীকরে। এমনকি আমি যে ভুরু কুঁচকে রেখেছি সেটাও দেখছেনা। সবই আমি লক্ষ্য করি। কোনোকিছুই আমার নজর এড়ায়না। আমি কিচ্ছু ভুলিনা।
পছন্দ? তরী বলে।
কী?
নেলপালিশ?
আমি লক্ষ্য করতে ভুলিনা, যে, আমার যে দিনের বেলায় লাল রঙ দেখলে গা গুলোয় সেটাও মনে রাখেনি। কিন্তু আমার মাথা খুব ঠাণ্ডা বলে তরীকে কিচ্ছু বলিনা। শুধু দুই হাতে তুলে ধপ করে পাথরের পিঁড়ির উপরে বসিয়ে দিই। কী করো, আস্তে। বলে তরী। আমি আস্তে আস্তে ডেকচিতে জল ভরি। গ্যাসে বসিয়ে দিই। সিমেন্টের স্ল্যাবে পিঁড়ি। তার উপরে তরী। গ্যাসের উপর জল। গরম হলে স্ল্যাব থেকে মাংসটা জলে চোবাতে হবে। ধাপগুলোতে একটুও গোলমাল হলে থান ইটের মতো ওই জিনিস আর কাটা যাবেনা। তরী হলে গুলিয়ে ফেলত। কিন্তু আমার স্মৃতিশক্তি খুব ভালো বলে আমি কিচ্ছু ভুলিনা।
এবার কী? স্ল্যাবের উপর বসে ঠ্যাং দোলাতে দোলাতে বলে তরী বলে।
গরম করতে হবে। মাংস শক্ত আছে।
মাংস গরম হবে? শক্ত হবে? তরী আবার হাসতে হাসতে বলে। আমি আশ্চর্য হয়ে দেখি সত্যি সত্যিই একদম প্রাথমিক জিনিসগুলোও মনে রাখেনি। কোনো চেষ্টাও নেই। এ তো খুব সোজা জিনিস। স্ল্যাবের উপর তরী। ডেকচিতে জল। গরম হলে দিয়ে দিতে হবে। তারপর ছুরি দিয়ে কাটতে হবে। না মনে রাখার তো কিছু নেই। বিরক্তি লাগে। কিন্তু কিছু বলিনা। কারণ তরী ঠ্যাং দোলায়, আর বাড়িতে পরা স্কার্টের ভিতর থেকে মাংসল উরু বেরিয়ে আসে। আমি তরীর উরু ভালোবাসি। রাতে যখন জানলা দিয়ে দখিনা হাওয়া আসে, তখন তরী খোলা উরু নিয়ে আমার বুকে চেপে বসে। দুই উরুর মাঝে নিকষ কালো অন্ধকার দেখা যায়, আমার ভয় করে। দম বন্ধ হয়ে আসে বলে আমি উরুতে মুখ গুঁজে দিই। আমি তরীর শরীর ভালোবাসি। যৌনতা ভালোবাসি। দম বন্ধ হয়ে যাওয়া ভালোবাসি। সেইজন্য কিচ্ছু বলিনা। কিন্তু তরী যে আমার কথায় পাত্তা দেয়না সেটা আমি জানি। আমি কিচ্ছু ভুলিনা।
তরী দুই পা বাড়িয়ে আমার পাছায় ঠেকায় তারপর সামনে টেনে নেয়। আমি স্ল্যাবের সামনে চলে আসি। পায়ে ঠান্ডা সিমেন্ট লাগে। পেটে তরীর উরুসন্ধি। জামার নিচ দিয়ে তরী হাত ঢুকিয়ে দেয়। লম্বা নখ দিয়ে তলপেটে আঙুল বোলায় নাভির চারপাশে।
ছুরিটা আবার কখন নিলে?
ডেকচি গ্যাসের উপর রেখেই হাতে ছুরি নিয়েছি আমি জানি। সব স্টেপ বাই স্টেপ কাজ আমার। আমি কিচ্ছু ভুলিনা। তরী সেসব দেখেনি।
এই মাত্র। বলি আমি।
কী করবে?
গরম হোক।
তারপর? নাভিতে হাত বোলাতে বোলাতে তরী বলে।
আমার লিঙ্গ নড়াচড়া করছে, টের পাই। ঠান্ডা স্ল্যাবে ঠেকে যায়। তরী হাসতে হাসতে বলে, তারপর?
এইবার আমার সত্যিই খুব বিরক্ত লাগে। ঠক করে ছুরিটা উল্টো দিকে ডেকচির মধ্যে রেখে দিই। জল গরম হবে। ডেকচির মধ্যে ছুরি দিতে হবে। তন্বীর নিচে স্ল্যাব। স্ল্যাব গরম হলেই রান্না করে ফেলতে হবে। এই তো ব্যাপার। এতবার জিজ্ঞাসা করার কী আছে? আমি তো একবারেই মনে রেখেছি। কিন্তু আমি কিছু বলিনা। কারণ তরী আমার দিকে ঝুঁকে আসে। আমি তরীর কাঁধ ভালোবাসি। যখন রাত হয়, কোন বাড়ির বাগান থেকে বেলফুলের গন্ধ আসে, তখন তরী আমার বুকে চেপে বসে। তারপর শুয়ে পড়ে ধপধপে সাদা কাঁধ আমার মুখের উপর পেতে দেয়। আমি কাঁধে কামড়ে দিই। দাঁত বসাতে ভালোবাসি। যেমন ভালোবাসি চুয়িংগাম। আমি চিবিয়ে চিবিয়ে খাই। নেশার মতো লাগে।
তারপর? তরী এক ঠেলা মারে। সরিয়ে দেয়। মাংস গরম হলে?
উফ। বারবার একই কথা বলে। এই প্রথম আমি বিরক্তি দেখিয়ে ফেলি। এই সোজা জিনিস না বোঝার কী আছে। ফ্রিজ থেকে ছুরি বার করে গ্যাসে গরম হচ্ছে। মাংস তাক থেকে তোলা হয়ে গেছে। ছুরি গরম হলেই রান্না করে ফেলতে হবে।
তরী লাফ মেরে স্ল্যাব থেকে নামে। ঠিক বললে কি?
আমারও একটু সন্দেহ হয়। কিন্তু এতে ঠিক বেঠিকের আছে টা কি? খুবই সহজ ব্যাপার তো। ডেকচিতে ফ্রিজ ছিল। না না, ফ্রিজে ডেকচি। কী হচ্ছে আমার?
আরেকবার বলো তো। চোখ মেরে তরী বলে। ওর হাত আমার তলপেটে নেমে আসে।
কিছু একটা গোলমাল হচ্ছে আমি টের পাই। কিন্তু গম্ভীর ভাবে কথা বলি। এমনিতেই পাত্তা দেয়না। এরপর গুলিয়ে ফেলেছি বললে আরও হাসবে। বিরক্তির একশেষ হবে। তাছাড়া ব্যাপারটা তো খুবই সোজা। ফ্রিজে ডেকচি ছিল। তাকে মাংস। স্ল্যাবে ছুরি ছিল।
ঠিক করে বলো। তরী ঢেউ খেলিয়ে হেসে নিচু হয়ে আমার সামনে বসে। তারপর মুঠো করে লিঙ্গ চেপে ধরে। আমার খুবই উত্তেজনা হয়। বলব আর কী, আমি স্পষ্ট বুঝতে পারি এ সবই আমাকে ঘেঁটে দেবার পদ্ধতি। আমাকে পাত্তা না দেওয়া। প্রচন্ড বিরক্তি হয়, কিন্তু কিছু বলিনা। কারণ লিঙ্গে তরীর ছোঁয়া আমি ভালোবাসি। মধ্যরাতে যখন সব নিস্তব্ধ হয়ে আসে, ঘড়ির কাঁটার টিকটিক এত জোরে হয়ে যায়, যে কানে ড্রামের মতো বাজতে থাকে, সেই শব্দে আমার ভয় করে। তরী তখন খোলা বুক, খোলা উরু নিয়ে আমার বুকে চেপে বসে। তারপর সরসরিয়ে নিচে নেমে এসে লিঙ্গ মুঠোয় নিলে আমার সমস্ত ভয় চলে যায়। আমি তখন দুই পা দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরি। আমি তরীর শরীর ভালোবাসি। যৌনতা ভালোবাসি। লিঙ্গে ওর স্পর্শ ভালোবাসি। সেইজন্য কিচ্ছু বলিনা। নইলে এ সবই কৌশলে আমাকে পাত্তা না দেবার চেষ্টা সে আমি জানি।
আমি চুপচাপ সব কিছু মনে করার চেষ্টা করতে থাকি। তরী আমার পাজামা নামিয়ে দেয়। ঠোঁট দেয়। তারপর সরসরিয়ে উঠে আসে উপরে। আমি মনে করার চেষ্টা করি, কী যেন ব্যাপারটা? ফ্রিজে ছুরি ছিল। কাল বলেছিলাম ডেকচি রান্না করব। তারপর? তরী আমাকে জাপটে ধরে। আমি ওর বুকে হাত দিই। তরী অস্ফুট আর্তনাদ করে। হ্যাঁ রান্না করার কথা। ডেকচি ছিল তাকে। ছুরি ড্রয়ারে। মনে করার চেষ্টায় আমার ভুরু কুঁচকে যায়, আমি হাঁফাতে থাকি। তরী লাফ মেরে আমার কোলে উঠে পড়ে। আমি জাপটে ধরে ওকে ধপ করে বসিয়ে দিই স্ল্যাবে। দুই পা ছড়িয়ে দিই দুদিকে। তরী কী করো? আস্তে। আর কীকরে কে জানে, সেটা শুনেই আমার মনে পড়ে যায় সবটা। ব্যাপারটা আসলে খুবই সোজা। ড্রয়্যার থেকে বার করা আছে ছুরি। স্ল্যাবের উপর তরী। এই ব্যাপারটা শেষ হলেই ওকে ছুরি দিয়ে কুচিকুচি করে কেটে ফেলতে হবে। তাতে সমস্যা কিছু নেই, কারণ রক্তারক্তি যাতে না হয়, সেইজন্যই তরীর নিচে পাতা আছে প্লাস্টিক, যার উপর শুয়ে তরী অস্ফুট আর্তনাদ করছে এখন। আমারও ভারি আরাম হচ্ছে। কিন্তু তাতে আমি ভুলিনি যে ব্যাপারটা আসলে আমাকে পাত্তা না দেবার চেষ্টা। আমি কিচ্ছু ভুলিনা কারণ আমার স্মরণশক্তি খুব ভালো।



509 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ গপ্পো  বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: San

Re: শেষের সেদিন

বাঃ এটাও ভাল্লাগল ।
Avatar: AP

Re: শেষের সেদিন

গল্পটা ভালো কিন্তু পড়তে পড়তে ভীষণভাবেই তারাপদ রায় এর ঐ 'কারণ আমি কোনো রিস্ক নিই না' মনে পড়ে যাবে, কিচ্ছু করার নেই। WA এ কল্যাণে গত কয়েকবছর ধরে ঐ গল্প বহুবার বিভিন্ন ফোরামে শেয়ার হয়েছে। আশাকরি লেখক ব্যাপারটা খেয়াল রাখবেন।
Avatar: AP

Re: শেষের সেদিন

গল্পটা ভালো কিন্তু পড়তে পড়তে ভীষণভাবেই তারাপদ রায় এর ঐ 'কারণ আমি কোনো রিস্ক নিই না' মনে পড়ে যাবে, কিচ্ছু করার নেই। WA এ কল্যাণে গত কয়েকবছর ধরে ঐ গল্প বহুবার বিভিন্ন ফোরামে শেয়ার হয়েছে। আশাকরি লেখক ব্যাপারটা খেয়াল রাখবেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন