বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সব আর কি ...

অচল সিকি

ফরিদা আমাকে মাঝেমধ্যেই ফোন করে, আমার আর কাউকেই করে ওঠা হয় না। কী এক অদ্ভূত সমস্যা হয়েছে আমার, কারুর সাথেই কথা বলতে ইচ্ছে করে না। নিকটজন, প্রিয়জন, ক্যাজুয়াল কলীগ – কারুর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। অথচ প্রফেশনাল জগতে আমার কাজটাই কথা বলার। কোচিং, ফেসিলিটেশন, গ্রুমিং, মেন্টরিং – এর বাইরেও বিভিন্ন লেভেলের ম্যানেজমেন্ট, প্রজেক্ট, পোর্টফোলিও, ডেলিভারি।

ফরিদা সেদিনও ফোন করেছিল। একথা সেকথা বলার পরে আমাকে বলল, সিকি, তুমি ব্যাটা বড্ড বেশি পলিটিকাল জিনিসপত্রে ইনভলভড হয়ে যাচ্ছো। দুনিয়ার আর কিচ্ছুতে তোমার নজর পড়ছে না, খেয়াল করে দেখেছো?

ইন্ট্রোস্পেকশন। নিজে নিজে হয় তো হয়ে উঠছিল না, ফরিদাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল – তোমার ফেসবুকের টাইমলাইন জুড়ে দ্যাখো, পর পর পলিটিকাল মেসেজ, এবং প্রতিটাই বেশ জোরদার মেসেজ, কখনও সারকাস্টিক টোনে, কখনও সিরিয়াস টোনে, তোমার নিজের লেখা, নিজের মতন লেখা যে আমরা খুব মিস করছি, সেটা ভেবে দেখেছো কখনও? ততদিনে আমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে পিনাকী আর সৈকতের পিং এসে গেছে, সিকি, ভোটের জন্য কিছু লিখতে পারবে? আমি বলেছি, পারব না। সময়ের অভাব। মিথ্যে বলি নি। অফিসের চাপ ভয়ঙ্কর চলছে, এবং চলছেই। সকাল সোয়া আটটায় বেরোই, বাড়ি ফেরার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই, বিকেল বা সন্ধ্যের দিকে কোনওক্রমে আধঘণ্টার ব্রেক পেলেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ি, বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে পরের কলের সময় হয়ে যায়। চলে রাত সাড়ে নটা, দশটা, এগারোটা। এমনও হয়েছে, আলু পেঁয়াজ ফুরিয়ে গেছে ঘরে, জানার পরেও পরপর তিনদিন আমি অফিস থেকে ফেরার পথে আলু পেঁয়াজ কিনে আনার মতও সময় পাই নি।

না, অজুহাত দেবার জন্য গপ্পো ফেঁদে বসি নি। সারাদিনে যতটুকু সময় জোটে, সেই ভাবে কোনও সৃষ্টিমূলক কাজে লাগাতে পারি না, চটজলদি হোয়াটস্যাপ মেসেজ আর ফেসবুক টাইমলাইনে চোখ বুলিয়ে দু চারটে কমেন্ট আর একটা দুটো পোস্ট করার বেশি কিছু করেও ওঠা হয় না। তবু কি পরিবর্তন টের পাই না?

ফরিদা যেটা বলছিল, সেটা আমি নিজেও খেয়াল করছিলাম কদিন। হেট মেসেজ, উগ্র ন্যাশনালিজম আর ফেক জিনিসপত্রের কাউন্টার করতে করতে কখন যেন আমি নিজেও ইতরদের ঘেন্নার রাজনীতির অংশ হয়ে গেছি। আমি তাদের টার্মেই খেলছি। বিজেপি বা আরেসেসের সঙ্গে সামান্যতম সম্পর্ক আছে, বা তাদের প্রতি সামান্যতম দুর্বলতা আছে, এমন লোক দেখতে পেলেই তাদের ব্লক করছি। কী যেন একটা অশান্তি ভেতর থেকে আমাকে কুরে কুরে খেয়ে নিচ্ছে। চারপাশে যে ধরণের মাইন্ডসেট, যে সব কথাবার্তা দেখছি, শুনছি, পড়ছি – আরও আরও বেশি নিরাশ হয়ে পড়ছি। শুধু কথা বলাই নয়, আমার আর গান শুনতে ইচ্ছে করে না, বই পড়তে ইচ্ছে করে না, সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করে না, সৃষ্টিশীল কিছু লিখতে ইচ্ছে করে না, ভোররাতে বেরিয়ে পড়ার ডাক আর শুনতে পাই না, জগতের কোনওকিছুতেই আর আসক্তি খুঁজে পাই না। ভুল করেও যদি কখনও ব্যতিক্রমী একটা দুটো ঘণ্টা পেয়ে যাই, আমার, একলার, নিজের মত – থম হয়ে বসে থাকি ঘরের বিছানায়। কিছু করতে ইচ্ছে করে না। কুমুদির ফোনের উত্তর দেব ভেবেও দেওয়া হয় না, পিনাকীর মেল পড়ে থাকে ইনবক্সে তার নিজের মত, উত্তর দিতে ইচ্ছে হয় না। ... এরা তো বাইরের লোক, এই লেখাটা, আজ নয়ই এপ্রিল লেখার সময়, মনে করে দেখলাম, গত দু সপ্তাহ আমার বাবা-মাকে ফোন করা হয়ে ওঠে নি।

ইচ্ছে করে না।

সেই ইচ্ছে করে না-র কারণেই বলেছিলাম, কিছু লিখব না। কিন্তু লিখব না বললেই কি মন মানে? অন্ধকার ঘরে, যখন সবাই ঘুমের অতলে, আমি জেগে শুয়ে থাকি, মাথায় এতোল বেতোল লেখারা ঘোরাঘুরি করে। লাইনের সাথে লাইন জুড়বার চেষ্টা করি, প্যারাগ্রাফের শেপ আন্দাজ করার চেষ্টা করি অন্ধকারের গভীরে, তারা জুড়তে চায় না। তারা ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়।

তিন বছর আগে কেমন একটা ঘোরের বশে পর পর তিন পর্বে লিখে গেছিলাম মন কি বাত, এক দেশদ্রোহীর জবানবন্দী। অনেকবার ভেবেছি, ঐ শিরোনামেই কিছু লিখি আবার, চতুর্থ পর্ব নাম দিয়ে। ইচ্ছে করে নি। একটা একটা করে ঘটনা ঘটেছে, ভেবেছি, এইবারে লিখব। ডিমনিটাইজেশন এল, এদিক ওদিক খিল্লি করেছি, প্যারডি মীম সব বানিয়েছি, লিখি নি। কত লোক মরল গরুর নামে, ধর্মের নামে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একদিন গুনতি শেষ করে জানাল – যত নোট বাতিল হয়েছিল, তার প্রায় সবটাই ফিরে এসেছে ব্যাঙ্কের ঝুলিতে, কালো টাকার সন্ধান পাওয়া যায় নি। লাল পতাকা নিয়ে কৃষকরা মার্চ করে গেলেন মহারাষ্ট্রে, রাজস্থানে, দিল্লি এলেন, আমি যাবার সময় করে উঠতে পারি নি। ঘোরের মধ্যে চলছিলাম। সকালে অফিস, সন্ধ্যেয় অফিস, মাঝরাতে অফিস, শেষরাতে অফিস, ফাঁকে ফাঁকে ফেসবুক আর হোয়াটস্যাপ। ঘরে বসে সংক্ষিপ্ত সময়ের পরিসরে যতটুকু বিপ্লব করা যায়, ততটুকুর বেশি করার সাধ্য আমার ছিল না – আজও নেই হয় তো।

উত্তরপ্রদেশে পালাবদল হল, অজয় সিংহ বিস্ট ওরফে যোগী আদিত্যনাথ নামক ক্রিমিনালটি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এলেন, তার পরের কয়েকদিন ঝড় বয়ে গেল আমাদের পাড়ার মাছমাংসের বাজারটির ওপর দিয়ে। ছুটকোছাটকা কয়েক প্যারাগ্রাফ লিখেছিলাম বটে, কিন্তু সেভাবে লেখা হয়ে ওঠে নি। ভেবেছিলাম, এখনও সময় হয় নি লেখার। লিখব, যখন মন থেকে ডাক আসবে। অক্ষরেরা, শব্দেরা তখনও জমাট বাঁধছিল না একলা সময়ের মুহূর্তগুলোতে। অক্ষমতা রাগ হয়ে ফুটে বেরোত আমার র‍্যান্ডম পোস্টে, হয় তো বা কখনও আমার ব্যবহারেও।

পুলওয়ামার ঘটনা ঘটল এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। জাতীয়তাবাদের ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখলাম আমার পাড়ায়, হাউজিং সোসাইটিতে, অফিসের ডেস্কের আড্ডায়। অফিসে আমি শুধু এবং শুধুমাত্র কাজ করি, কোনও রকমের রাজনৈতিক তরজায় অংশ নিই না, শুধু কানদুটো খোলা রাখি। তর্কে অংশ নিলে মজা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

নয় নয় করে ষোল বছর হয়ে গেল দিল্লিবাসের। কম দিন তো দেখছি না এই সুবিশাল শহরের লোকগুলোকে, তাদের একজন হয়ে উঠতে পারি নি অবশ্য আজও। কখনও রাজনৈতিক আলোচনা, পাবলিক পরিসরে এ শহরের মানুষকে করতে দেখি নি। এ অঞ্চলের গয়নার ডিজাইন বা মিষ্টির কোয়ালিটির মতই এদের রাজনৈতিক বোধও খুবই মোটাদাগের লাগে, অন্তত আমার কাছে। এদের কাছে আগে রাজনীতির কোনও ডেফিনিশনই ছিল না। কমিউনিস্ট মানে ছিল নকশালী মাওবাদী, আর তার বাইরে ভাজপা / বিজেপি এবং কংগ্রেস ছাড়া আর কারুর অস্তিত্বই ছিল না। ভোটের দিন এ শহর সপরিবারে ছুটি কাটাতে যেত। অফিসে রাজনীতির আলোচনা বা মেরুকরণের প্রক্রিয়া, কখনও দেখি নি।

যতদিন না ২০১৪ এল।

বদল একটু একটু করে দেখতে পাচ্ছিলাম। প্রথমে ২০১২র নির্ভয়া কাণ্ড, তার হাত ধরে তুমুল বিক্ষোভ দিল্লি জুড়ে, ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের বদল এবং শীলা দীক্ষিতের অসহায়তার মধ্যে থেকেই ধীরে ধীরে মাথা তুলছিল লোকপালের দাবিতে আর “ভ্রষ্টাচার” হটানোর দাবিতে আন্না হাজারের অনশন, সাথে একটা দুটো চারটে নতুন নাম – অরবিন্দ কেজরিওয়াল, যোগেন্দ্র যাদব, মনীশ সিসোদিয়া, প্রশান্ত ভূষণ। ততদিন পর্যন্ত ঠেঁট দিল্লিওয়ালা একটাদুটো কথার পরেই তৃতীয় বাক্যে চলে যেত প্রপার্টি সংক্রান্ত আলোচনায়।

সেই সময় থেকে মেনস্ট্রিম আলোচনায় চলে এল পলিটিক্স। কেজরিওয়াল। আম আদমি পার্টি। কংগ্রেসের প্রতি বিদ্রূপ শুরু হল। শীলা দীক্ষিত নিজে তার জন্য অনেকাংশেই দায়ী ছিলেন, দুর্নীতির বটগাছ গজিয়ে তুলেছিলেন তিনি নিজের রাজত্বে, অবশ্য কাজও হয়েছিল প্রচুর। সিএনজি বাস ট্যাক্সি, দিল্লি মেট্রো তার মধ্যে একটা দুটো। কিন্তু সত্তর বছরের ডাইন্যাস্টি পলিটিক্সের ন্যারেটিভ তখনও শুরু হয় নি।

শুরু হল ২০১৪ সালে।

ছাপ্পান্ন ইঞ্চির বিকাশপুরুষ দিল্লির মসনদে বসার পর থেকেই খুব তাড়াতাড়ি বদলে যেতে থাকল আমাদের চারপাশ, আমাদের চেতনা। ইনভিজিবল রাজনীতি ভিজিবল হয়ে দেখা দিল আমার চোখে। দিল্লিতে দেওয়াল লিখন হয় না, পতাকা কাঁধে মিটিং মিছিল হয় না, চৌরাস্তার মোড়ে মাইক বেঁধে জ্বালাময়ী বক্তৃতাও হয় না। কিন্তু বদলে গেল ২০১৪র পর থেকে। বদলে যাচ্ছিলাম আমিও। চিরদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকা আমি উন্মাদের মত ছুটে গেলাম, মিছিলে পা মেলালাম জীবনে প্রথমবার, কানহাইয়া তখন জেলে, মাত্র দুদিন আগে আদালত চত্বরে উকিলের বেশধারী কিছু গুণ্ডা তাকে নির্মমভাবে মেরেছে। দিল্লি এনসিআরে লাল পতাকার মিছিল আমি কখনও দেখি নি, যা পশ্চিমবঙ্গে আমার ছোট্ট থেকে বেড়ে ওঠার দৃশ্যকল্পের এক নিয়মিত অংশ ছিল। সেদিন দেখলাম। বিভিন্ন নাম লেখা পতাকা হাতে হাজারে হাজারে ছেলেমেয়ের দল বারাখাম্বা রোডের ওপর আছড়াচ্ছে, গজরাচ্ছে, চীৎকার করছে। আশপাশের লোকজন আমার মতই হতভম্ব, এ জিনিস বোধ হয় দিল্লি কখনও দেখে নি। শ্লোগান দিতে গিয়েই আমি ভিড়ে গেলাম দলে। সেদিন প্রথম ভেতর দিয়ে অনুভব করলাম, অরাজনৈতিক বলে এ জগতে কিচ্ছু হয় না। আমার চাল ডালের দাম, আমার প্রেম, আমার গান, আমার বই – সব, সবকিছুই রাজনীতির অংশ হয়, হতে পারে।

ততদিনে আখলাক খুন হয়েছেন। জেনেছি, ফ্রীজের খাবারও রাজনীতির অংশ হতে পারে।

স্মৃতিচারণ থাক। এ বছরেই ফিরে আসি। প্রথমে পুলওয়ামা, তারপরে সার্জিকাল স্ট্রাইক এবং সেই সংক্রান্ত জাতীয়তাবাদের ঢল, ইতিউতি শুনতে পাওয়া অমুকের চাকরি চলে গেছে “শহীদ” নিয়ে কমেন্ট করার জন্য, তমুক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিপরীত মত পোষণ করার জন্য, অমুকের বাড়ি গিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে “ভারত মাতা কি জয়” বলতে, কারণ তিনি সার্জিকাল স্ট্রাইকের সত্যতায় সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

রাতারাতি অফিসে ক্যাফেটেরিয়ায় সক্কলে কী বিষম লেভেলের বিশেষজ্ঞ হয়ে গেল। সকাল সকাল অফিস গিয়ে শুনি ছাপ্পান্ন ইঞ্চির প্রশংসা, অ্যায়সা হি হোনা চাহিয়ে পাকিস্তান কে সাথ। প্রতিবার পাকিস্তান শব্দটা বলার সাথে সাথে সেই রকমের ঘেন্না বেরিয়ে আসছিল, যেমন ঘেন্না বেরোয় বাংলাদেশের উগ্র ধর্মান্ধের মুখে “নাস্তিক” শব্দ উচ্চারণে বা কোনও আম দিল্লিওয়ালার মুখে “কমিউনিস্ট” শব্দের উচ্চারণে। খাবার টেবিলে শুনছি বিশেষজ্ঞের ডিবেট চলছে – কার্পেট বম্বিং না রকেট লঞ্চার – কোনটা বেশি এফেক্টিভ হতে পারে পাকিস্তানকে “মু-তোড়” জবাব দেবার জন্য।

সেদিন সন্ধের মুখে অভিনন্দন বর্তমানের ধরা পড়ার খবরটা কনফার্মড হল। ততক্ষণে আমি অফিস থেকে চলে এসেছি। পরদিন অফিসে পৌঁছে দেখি জাতীয়তাবাদের জোয়ার প্রায় পুরোপুরিই স্তিমিত, রাতারাতি সক্কলে কার্পেট বম্বিং এক্সপার্ট থেকে বদলে হয়ে গেছে জেনিভা কনভেনশন এক্সপার্ট।

অভিনন্দন চা খেয়ে ভারতে ফিরে এলেন, ন্যারেটিভ কিন্তু বদল হল না। ভক্তের দল একটিবারের জন্যেও সেই প্রশ্নগুলো তুলল না, যেগুলো তোলা আদতে দরকার ছিল। কী করে পুলওয়ামার ঘটনা ঘটতে পারল, কেন জওয়ানদের প্লেনে বা হেলিকপ্টারে শিফট করা গেল না, কেন ইনটেলিজেন্সের কাছে খবর থাকা সত্ত্বেও কিছু আটকানো গেল না, কোনও প্রশ্ন নেই। চুয়াল্লিশটা প্রাণ চলে গেল, ছাপ্পান্ন ইঞ্চির তরফে অ্যাঙ্গার বিল্ড আপ করা হল দেশজুড়ে, এবং সার্জিকাল স্ট্রাইক। তাতে এফ সিক্সটিন মরেছিল না কাক, তাই নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা এখনও কাটে নি।

এ সব আর নতুন কিছু নয়। আপনারাও জানেন, তাই আলাদা করে আর কিছু লিখি নি। নিজের ফেসবুক টাইমলাইনের দিকে তাকিয়ে এখন সত্যিই আমার খারাপ লাগছে, সত্যিই তো, আমিও তা হলে ওদের ঐ ঘেন্নার রাজনীতির অংশ বনে গেলাম।

না, যেটুকু বদল চোখে দেখা যায়, যেটুকু বদল ফেসবুকের টাইমলাইনে দেখা যায়, শুধু সেইটুকু বদলই আমার হয় নি। ছোট থেকে আমি রাজনীতির থেকে দূরে থাকা মানুষ ছিলাম। কলেজে কোনও পার্টি ইউনিয়ন ছিল না, চাকরি করতে ঢুকেও কখনও ভোট দেবার কথা মাথাতেই আসে নি। কী হবে দিয়ে, সবই তো ইয়ের এপিঠ আর ওপিঠ, দেখলাম তো, বুঝলাম তো – এই রকমের মাইন্ডসেট ছিল আমার। ভোটার কার্ডই বানাই নি। একটা ভোটের কতটা মূল্য, সত্যি বুঝি নি কোনওদিন।

এই পাঁচটা বছর বুঝিয়ে দিল। বদলে দিল। বিজেপি যখন ঘরের দোরগোড়ায় চলে এল, তখন বুঝলাম গণতন্ত্রকে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অবজ্ঞা করার ফল কতটা ভয়ানক হতে পারে। এই পাঁচটা বছরের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। এই পাঁচটা বছর আমাকে রাজনীতি চেনাল, আমি জানলাম রাজনীতির বাইরে কিছু হয় না, কিচ্ছু হয় না। আমি জানলাম, আমার চারপাশে কত ক্লোজেট থেকে বেরনো লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছেন, উচ্চশিক্ষিত, সাদা কলারের লোকজন, যাঁরা সব দেখেশুনেও অন্ধভাবে সাপোর্ট করেন যোগীকে, ছাপ্পান্ন ইঞ্চিকে। মনে করেন এঁরাই আচ্ছে দিন আনবেন, এখনও, মনে করেন, এঁরাই বিকাশ আনবেন। এঁরা মনে করেন, মুসলমানরা তো “ওরকমই”। নিচু জাতকে তো “পায়ের তলাতেই” রাখতে হয়, নইলে মাথায় চড়ে বসে। “ওদের” সাথে তো “ওদের” ভাষাতেই কথা বলতে হয়। “ওরা” তো আমাদের থেকে আলাদাই, ওরা শুধু জুতোয় সোজা।

এই পাঁচটা বছরে কত মানুষকে চিনলাম। লিবারালিজমেরও কত শেড চিনলাম। রাস্তায় নামলাম, মিছিলে পা মেলালাম, সামনে থেকে শুনলাম যোগেন্দ্র যাদব, কানহাইয়া কুমার, সীতারাম ইয়েচুরির বক্তৃতা। মুগ্ধ হয়ে শুনেছিলাম শেহলা রশিদকে – সে মুগ্ধতাও অবশ্য কেটে গেছে বেশ কিছুকাল আগেই।

এই পাঁচটা বছর আরেকটা কাজ করিয়ে নিল আমাকে দিয়ে। জীবনে প্রথমবারের জন্য, আমি ভোটার কার্ড বানিয়েছি। জীবনে প্রথমবারের জন্য, আমি ভোট দেব। ফেসবুকে নিজের ইন্ট্রোতে নিজেকে দেশদ্রোহী হিসেবে ঘোষিত করে রেখেও, দিনের শেষে, একলা, নির্জনে, এই দেশটাকে যে আমি কতটা ভালোবাসি, তা অনুভব করতে পেরেছি। সেই ভালোবাসার দাগ আমি নিয়ে আসব নিজের আঙুলে, স্বেচ্ছায়। এই দেশকে ফ্যাসিবাদের চারণভূমি আমি হতে দেব না। কিছুতেই না।

আর দুটি রাত পোয়ালেই ভোট। সক্কাল সক্কাল চলে যাব বুথে। আপনারাও যাবেন তো সব, যারা দেশে আছেন?

মনে রাখবেন, লোকসভা নির্বাচন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন নয়। এটি আপনার এলাকার, আপনার লোকসভা ক্ষেত্রের প্রতিনিধির নির্বাচন। দল না দেখে, কাজ দেখুন। কে ঘেন্না ছড়ায় না, কে বিদ্বেষের বীজ বোনে না, সেই মানুষটিকে বাছুন।

রাষ্ট্রকে ভালো না বেসেও দেশকে ভালোবাসা যায়। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি রেখেও দেশপ্রেমিক হওয়া যায়। ওরা এটাকেই গুলিয়ে দিতে চাইছে। ওরা যুগে যুগে তাইই চায়। উনিশশো তিরিশের দশকের জার্মানিতে, দু হাজার দুইয়ের গুজরাতে, দুহাজার চোদ্দ-পরবর্তী ভারতে। প্যাটার্নটা চিনতে শিখুন। রাইখস্ট্যাগের আগুন, গোধরার দুর্ঘটনা আর পুলওয়ামার বিস্ফোরণের মধ্যে প্যাটার্নের একটা মিল আছে। ভোট দিতে যাবার আগে সেই প্যাটার্নের মিলটা বুঝে নেবার চেষ্টা করুন।

খুব কঠিন নয় কিন্তু।



পুনশ্চঃ লেখা শেষ করতে গিয়ে মনে পড়ল এখনকার হাল হকিকত নিয়েই কিছু লেখা হল না।

বাড়ির কাছে মেট্রো স্টেশনের সামনে রোজ সকাল আটটা থেকে একগুচ্ছ লোক (আট থেকে ন জন) দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে। হাতে লম্বা লম্বা খেঁটো লাঠি, চার পাঁচজনের পরণে সাদা শার্ট আর সেই বিখ্যাত হাফপ্যান্ট – আরএসএস। বাকিরা সাধারণ পোশাকে, হাতে বিজেপির পতাকা। কালও দেখেছিলাম। আজও দেখলাম। হয় তো আজই শেষ, কারণ পরশুই ভোট।

ন্যাশনাল হাইওয়ে চওড়া হচ্ছে। যানজট, ডাইভার্সন। তার মাঝে চোখ মেলে দেখলাম ছাপ্পান্ন ইঞ্চির বিশাল বড় মুখওলা বিলবোর্ড, তাতে লেখা, আতঙ্কবাদীওঁ কো ঘর পর ঘুষকে মারা – ভাজপা কো ভোট দেঁ।

নয়ডা শহরের মধ্যে এদিক ওদিক অনেক ছোট ছোট গ্রাম আছে। গ্রেটার নয়ডাতেও। তাদের বেশির ভাগই রীতিমত ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছে গ্রামে ঢোকার রাস্তায় – বিজেপির “প্রত্যাশী” মহেশ শর্মা যেন এই গ্রামে না ঢোকেন।

মহেশ শর্মা এখন সেক্টর সাতাত্তর আটাত্তরের বড়লোকি সোসাইটিগুলোতে ঘুরে বেড়িয়ে নিজের বেস বাড়াচ্ছেন। সোসাইটিগুলোর একটার নাম, মহাগুণ মডার্ণ। এই মুহূর্তে সেটা আরএসএসের স্ট্রংহোল্ড। রামমন্দির তৈরি হচ্ছে সোসাইটির মধ্যে।



1572 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: ফরিদা

Re: এই সব আর কি ...

জ্জিও সিকি....

এফসি নিও
Avatar: dc

Re: এই সব আর কি ...

লেখাটা ভালো লাগলো, কিছু মিলও খুঁজে পেলাম, কিছু অমিলও।

শুরুতেই মিল - আমারও কারুর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করেনা, কারুর সাথে ইন্টার‌্যাক্ট করতে ইচ্ছে করে না। কেউ ফোন করলে ধরতে ইচ্ছে করে না, ধরলেও মনে হয় কতক্ষনে কথা শেষ হবে। আর কাজের চাপে সব্জি কিনতে তো আমিও ভুলে যাই, তার জন্যে স্ত্রীর সাথে ঝগড়াও হয় ঃ( কিন্তু অমিল হলো, বই, গান সিনেমা - এসব কিন্তু এখনও সরাক্ষন পড়তে, শুনতে, দেখতে ইচ্ছে করে। সময় পেলেই বই পড়ি, সিনেমা দেখি - পুরনো, নতুন, সব রকম। বোর্ন আইডেন্টিটির পাতা এখনও মাঝে মাঝে উল্টে দেখি, কবেকার পুরনো হয়ে যাওয়া টিওয়ানের শেষ সিন এখনও বারবার দেখি। আবার নেটফ্লিক্সে হাইওয়েমেনও সেদিন দেখে ফেল্লাম (গুরুর লোকজনেরই রেকোতে), অপেক্ষা করে আছি আভাটার টু কবে বেরোবে, হলে গিয়ে দেখব।

আর হ্যাঁ, ২০১৪ র পর থেকে যেভাবে বিষ ছড়ানো হচ্ছে তাতে আমারও ভয়ানক ভয় হয়। গোরুর নাম করে যা হচ্ছে, যেভাবে গৌরী লংকেশকে খুন করা হলো, এসব দেখে গা জ্বলে যায়। মুসলমানদের যেভাবে আমাদের দেশে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ভীষন খারাপ লাগে। এর পরিনতি কি হবে জানিনা।

আমি পলিটিক্সের ধারেকাছে থাকিনা। কলেজে স্টুডেন্ট ইউনিয়নের কাছ দিয়েও কখনো যাইনি, আজ অবধি কখনো মিছিলে হাঁটিনি, হাঁটবোও না। বাড়ির পাশ দিয়ে মিছিল গেলেও বেরোব না। এমনকি অনলাইনেও রাজনীতির থেকে দূরে থাকি। লাইফে আজ অবধি বোধায় তিন চারবার ভোট দিয়েছি, লাস্ট ভোট দিয়েছিলাম ২০১১ তে সিপিএমকে, চেয়েছিলাম বুদ্ধবাবু ফিরে এসে সিঙ্গুরের কারখানা চালু করুন। তবে এবার ভোট দেবো, ডিএমকে কে। তার কারন স্ট্যালিন বলেছে এবার সরকার গড়লে মেট্রো রেল শ্রীপেরুমবুদুর অবধি এক্সটেন্ড করবে, আর ওই রাস্তায় আমার একটা ফ্ল্যাট আছে, তাহলে আমার সুবিধে হবে। এমনিতেও অবশ্য এবার ডিএমকেই জিতবে, তাও এবার ভোটটা দিতে যাবো। স্ট্যালিন মেট্রো রেলের ব্যাপারটা না বললে এবারেও যেতাম না, বাড়ির সবাই মিলে লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়তাম।
Avatar: খ

Re: এই সব আর কি ...

শোন ওদের যতটা পাওয়া র ফুল মনে হচ্ছে ওরা ততটা পাওয়া র ফুল না। রাজনৈতিক পারসিকিউশন ম‍্যানিয়া অতি কঠিন কল , তুমি হয়তো সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশি সেন্সিটিভ তাই কষ্ট পাচ্ছো, কিন্তু ভারতের মানুষ গভীর ভাবে ভাবে বিশ্বাসী কিন্তু ঢ‍্যামনামো বেশি দিন সহ‍্য করবে না।
Avatar: খ

Re: এই সব আর কি ...

আরেকটা কথা আছে, গুরু। তুমি প্রচন্ড ট্যালেন্টেড এবং পাওয়ারফুল রাইটার বলেই বলছি। আমি কেন অনেক তাবড় পোবোন্দো রাইটার তোমার মত সহজে ইম্প্যাক্ট তৈরী করতে পারবে না, কারণ তোমার প্রতিটা কথাই জীবনের অভিজ্ঞতা প্রসূত এবং সরাসরি বলা।

এইখানে তোমার লেখায় একটা ইমপ্লিসিট অর্থ আছে, যেটা কে তুমি ই ভেবে দেখো, রাজনৈতিক ঘটনাবলীর এভিডেন্স দিয়ে সমর্থন করতে পারো কিনা। উত্তর ভারত (তথাকথিত ভারতীয় 'নেশন' এর তথাকথিত ইম্পেরিয়াল কেন্দ্রে ফ্যাসিস্ট দের রাইজ টা সবচেয়ে বেশি এবং সে কারণে তোমার হতাশা সেখানে বেশি। আমি সরাসরি বিরোধিতা করে বলছি, তোমার দিল্লী আবিষ্কারের পর্বের মতই এটাও খানিকটা বেশি উৎঅসাহের পরিবর্তে বেশি হতাশা। সেটা হয়তো তোমার স্বচ্ছতা এবং বাংলা হনেস্টির সঙ্গে যায়, কিন্তু আমি বলছি এটার কোন ভিত্তি নেই। প্রথমে সাংগঠনিক দিক থেকে দেখো, আর এস এস এর প্রভাব এ হোক, অন্য কোন কারণে হোক তথাকথিত বিন্ধ্যাচল/দাক্ষিনাত্যের কনজারভেটিজম এর প্রভাব আর এস এস এ আছে। তার ক্যাডার এর উচ্চতম পদে মহারাষ্ট্র এর লোকের প্রভাব বেশি। এবং এর একট হিনুদ মহাসভা বনাম ভারতীয় পোলিটিকাল হিন্দুত্ত্বের পাওয়ার স্ট্রাগল এর ইতিহাস আছে। এটা সাংগঠনিক দিক গেল। এবার দেখো রাজনৈতিক কর্মকান্ডের দিক। মানে দাংগা বাধানোর উৎঅকর্ষে, কর্ণাটক এবং ওড়িশা পিছিয়ে নেই অনেকদিন হল।দুটো ই তোমার পুরোনো ইম্পেরিয়াল ভারতের কেন্দ্রের বাইরে (যেটা আমাদের ফউন্ডেশন মিথ গুলো র সঙ্গে যুক্ত) এর পরে ফাইনালি তথাকথিত পূর্বাঞ্চলের পেরিফেরাল স্টেট গুলোর যে ক্ষমতাসীন রেসিজম, সেটার সঙ্গে নানা ধরণের অ্যাডজাস্টমেন্ট করে যত দ্রুত ধর্মীয় দক্ষিনপন্থী রা এগোচ্ছেন বা এগোনোর আর্জেন্সি দেখাচ্ছেন, সেটা কিন্তু ইম্পেরিয়াল সেন্টার গুলো তে পেচোছেন বলেই। আসামে অর্থনৈতিক দাবী দাওয়াও আসলে এথিনিক বিশুদ্ধতার দাবী দাওয়ার সঙ্গে মেশানো হয়েছে, বহুদিন ধরে। তো এই কথা গুলো মাথায় রেখে তুমি দিল্লী তে থাকা টাকে অল্প সহনীয় বলে মনে করতে পারো। চল্লিশ লক্ষ দিল্লীর লোককে এক কলমের আঁচড়ে কিন্তু ডিসএন্ফ্রানচাইজ হতে হয় নি, এমনকি কাশ্মীরেও বহিরাগত সন্ত্রাসবাদী রাই এমনকি কনজারভেটিভ ন্যারেটিভ এও একটা বড় পিভট ছিল।

হতাশ আমারো লাগে, কার লাগে না, একটা দেশ কে, একটা পাড়া কে, একটা রাজ্য কে, কারো কারো ক্ষেত্রে একটা পরিবার কে অচেনা লাগার মত একটা সময় এসেছে, কিন্তু দক্ষিনপন্থী দের যত শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে, তারা সামাজিক ভাবে শক্তিশালী বলে ভয় করছে, রাজনৈতিক ভাবে ততটা শক্তিশালী, বিশেষত তোমার উত্তর মধ্য ভারতে আর কিনা, ভেবে দেখো। তাদের কনফ্লিক্টিং অ্যাডজাস্টমেন্ট তো করতে হচ্চ্ছে, আমি বলছি না, তাই বলে ঐ স্ক্রোল এর প্রাবন্ধিকের মত ছাগল হতে হবে, কিন্তু গভীর বিষদের কারণ পাচ্ছি না। মাইরি। রেজিস্টান্স নেই? ইল্লি নাকি? ডিবেট এর সেন্টারস্টেজ এর লড়াই টা কঠিন হয়েছে, তো কবে আর সমাজ বদল সোজা ছিল, নোবডি সেড ইট ওয়াজ ইজি, সেই জে কোল্ড প্লে র গান ঃ-)))) খ
Avatar: সিকি

Re: এই সব আর কি ...

দিল্লিতে থাকলেও অতটা অসহনীয় লাগত না, মাইরি বলছি, আমি থাকি ভৌগোলিকভাবে উত্তরপ্রদেশে। চাপটা সেইজন্য আরও বেশি। এবং ঘা-টা অনেক গভীর - সেসব কথা আমি কোনওদিনও লিখতে পারব না।

ডিসি - একটা কোট পড়েছিলাম - ব্রেখটের।

The worst illiterate is the political illiterate, he doesn’t hear, doesn’t speak, nor participates in the political events. He doesn’t know the cost of life, the price of the bean, of the fish, of the flour, of the rent, of the shoes and of the medicine, all depends on political decisions. The political illiterate is so stupid that he is proud and swells his chest saying that he hates politics. The imbecile doesn’t know that, from his political ignorance is born the prostitute, the abandoned child, and the worst thieves of all, the bad politician, corrupted and flunky of the national and multinational companies.

আপনার জীবনচর্যা অবশ্যই আপনার প্রায়োরিটি, কিন্তু আপনার মতই আমিও একদিন ভাবতাম। সেইখান থেকে মতাদর্শটা পরিবর্তন করেছি ধীরে ধীরে। আপনার অবস্থানটা আমি তাই অনুভব করতে পারছি, কিন্তু সমর্থন করতে পারছি না একেবারেই।
Avatar: dc

Re: এই সব আর কি ...

সিকি, ব্রেখটের এই কোটটা আমিও পড়েছি, ধন্যবাদ। তবে আমি ঠিক পলিটিকালি ইল্লিটারেট না, মানে আমার মনে হয় পলিটিকালি ইল্লিটারেট হওয়া আর পলিটিক্স থেকে দূরে থাকা এই দুটো আলাদা। অবশ্যই আমি ভুল হতে পারি। বেসিকালি আমার ফিলোজফি হলো গিয়ে ইন্ডিভিজুয়ালিজম, নিজেকে নিয়ে খুশী থাকা। তবে এটাকেই কি ব্রেখট পলিটিকাল ইল্লিটারেসি বলেছেন? কি জানি।
Avatar: খ

Re: এই সব আর কি ...

কিন্তু মুশকিল হল সিকি যদি বিপ্লবী হত, তাহলে তার সংশয় হতাশা থাকত না, থাগলেও সেটা পার্টি বুঝত, কিন্তু ন‍্যায় চাওয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টেলেকচুয়ালের এসব ঝক্কি থাকবে। তাই আপাতত ডিসি আর সিকির পজিশনে বিশেষ বিরোধ দেখছি না, ব্রেখট টা একটু পরে দেখছি, এই মাইনেতে এর চেয়ে বেশি হবেনা😊😊😊😊
Avatar: sswarnendu

Re: এই সব আর কি ...

ভীষণ ভাল লাগল লেখাটা! হিন্দি হার্টল্যান্ডে থাকলে কেমন লাগত কল্পনাও করে উঠতে পারি না, নেটে দেখেই কি প্রবল ডিপ্রেসিং লাগে। অথচ ফেসবুকটা বন্ধ করে দিলেই এসবের থেকে শতহস্ত দূরে থাকতে পারি, তবু সেটাও পারি না। আর ক্রমশই বেশী বেশী করে হতাশ লাগতে থাকে।
Avatar: dc

Re: এই সব আর কি ...

আমি ফেসবুক একেবারেই ইউস করি না। শুধু দুয়েক সময়ে সিকির সাথে একটু কথাবার্তা হয় :d
Avatar: Amit

Re: এই সব আর কি ...

২০১৪ থেকে আরো একটা জিনিস দেখেছি, কি ভাবে চেনা লোক অচেনা হয়ে যায়। আগে পলিটিকাল ঝগড়া হলে আলোচনার স্পেস থাকতো, সিপিএম কংগ্রেস বা তিনো যাই হোক না কেন। এখন ভক্তের দোল সেই আলোচনার স্পেস টাকেই কেড়ে নিচ্ছে, ফেকু যাই করুক সেটাকে সমালোচনা করা মানেই দেশদ্রোহী, এই জিনিস আগে দেখিনি অন্তত। হয়তো ৭৫-৭৬ এ ইন্দিরা কে নিয়েও ইটা হতো, তবে তখন বোঝার বয়স হয়নি, তাই এই অগ্গ্রেসিভনেস তা নতুন করে দেখা হলো।

আরো একটা জিনিস মনে হলো এই ক বছরে, দেশ ভাগের জন্য ব্রিটিশ দের গালাগাল দিয়ে কোনো লাভ নেই, যে পরিমান ঘৃণা জমে আছে সবার মধ্যে এখনো , তাতে ব্রিটিশ গেলো কি না গেলো কিচ্ছু না, দেশভাগ হতোই এক না এক দিন , হয়তো আরো অনেক বেশি রক্তারক্তির মধ্যে দিয়ে হতো।
Avatar: একক

Re: এই সব আর কি ...

@সিকি, মেডিটেশন এর সাহায্য নিয়ে দেখতে পারো । তাতে অবসসই তোমার চারপাশের রিয়ালিটি বদলে যাবে না , মাথার পেছনেও কোনো আলো ফলো দেখা দেবে না : জাস্ট ,সমস্ত রিয়ালিটিকে পাসিং ফেজ হিসেবে দেখার শক্তিটা ফিরে পাবে :) ক্লস্ট্রোফোবিক ফিলিংটা কেটে যাবে ।

তাতে সুবিধে এই যে , লড়াই করার ক্ষমতা ফিরে আসবে । সামনের দিন আরও জটিল , সরকারে যেই থাকুক । তাই , ড্রেইনড আউট না হওয়াটা জরুরি এজ আ থিংকিং পার্সন ।
Avatar: খ

Re: এই সব আর কি ...

৪২ এবং ৬২ দুটো সময়েই বামপন্থী দের প্রচুর অ্যাগ্রেসন সহ্য করতে হয়েছে , দেশদ্রোহী তকমা দিয়ে ৬২ র পরে, বম্বে তে পার্টি অফিস ভাঙা পোড়ানো ইত্যাদি করেই শিব সেনার উত্থান। ৬৫ র যুদ্ধে র সময়ে সম্ভবত , যতটুকু শোনা যায় অফ অল পিপল মুজতবা আলি কে এত পাকিস্তানের চর গোছের গুজবের শিকার হতে হয়েছিল, ভদ্রলোক জন্মের মত শান্তিনিকেতন ছাড়েন। ৭১ এও তাই, দেশ প্রেম এর অজুহাত দেখিয়ে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের সমালোচনা যেই করবে সেই দেশবিরোধী গদ্দার।তখন এসব কংগ্রেস করত, আহা সে এক দিন ছিল। এবং কংগ্রেস এর সেই সব পাপ দেখিয়েই আজ বিজেপির সংসার চলছে। ১৯৭৫-৭৫ এর এমারজেন্সীর কথা তো ছেড়েই দিলাম, চুড়ান্ত অত্যাচার করেছে সঞ্জয় গান্ধী র চ্যালারা।

এখন এই কাজটা বিজেপি করছে, ৯০ এ কংগ্রেস এর ফোকাস বদলেছে। এটা জেনেরালি ইন্টারেস্টিং যে সব সময়েই মোটামুটি সেন লোকেরা আক্রান্ত হয়। কিন্তু ঘটনা এটা এমারজেন্সীর পরে ইন্দিরা কে ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল। ৮৪ র গ্লানি আজ ও কংগ্রেস পুরো মুছতে পারে নি, পাঞ্জাবে সাফ হয়ে গেছিলো এক সময়ে, অকালি দল প্রচন্ড খেয়ো খেয়ি না করলে , আর কোরাপশন ড্রাগ্স ইত্যাদি না থাকলে , ক্যাপটেন জিততো না, তো তার আবার দেশ প্রেম তো বিজেপি গোত্রের ই, তবে সে আর্মি কে সেকুলার রাখার প্রচেষ্টা র সঙ্গেই থাকবে বলে মনে হয়। এই সব ন্যাশনালিজম এর নানা কল, এগুলো তে এত বিচলিত হলে হবে না।
নাদিন গর্ডিমার এর একটা কথা আছে বলে শোনা যায়, কিন্তু ভালো অরে অ্যাট্রিবিউট করতে পারিনি, অয়্পারথাইডের সময়ে সব চেয়ে ঝাড় ছিল অত্যন্ত কছের লোক দের সঙ্গে দূরত্ত্ব তৈরী হওয়া, তো প্রয়োজনে দুরত্ত্ব হবে। কিসু করার নেই, বেচে যাওআ যাবে না। ফাইট ইজ অন। এবং সেটা আমরা ব্যক্তিগত ভাবে করছি না মানুষ ই করছে, যতবার বিজেপি কে নান গুপি করতে হচ্ছে তত বার ই মানুষ ই জিতছে, আপাত বিজয়ী দের পক্ষেও বিজয় সোজা হচ্ছে না।
Avatar: র২হ

Re: এই সব আর কি ...

এখানে আমার ছোটবেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে, সে ভয়ানক চাড্ডি। গরমের ছুটিতে তার স্ত্রী ও ছেলেরা কলকাতা যায়, তখন আমরা এ ওর বাড়ি ঘাঁটি করি, এই বছর আমার বাড়ি।
তো রোজ রাতে কয়েক পাত্র হুইস্কি সহযোগে তর্ক, ঝগড়া, গালাগাল চ্যাঁচামেচি ইত্যাদি করে আমরা তপ্ত মেজাজ ও স্খলিত পায়ে ঘুমোতে যাই।

তা, আমার সিদ্ধান্ত হলো, এরকম চাড্ডি বন্ধু থাকা ভালো। দুনিয়ার সব চাড্ডিদের ওপর খার রিলিজ করার একটা জায়গা পাওয়া যায়।
Avatar: Du

Re: এই সব আর কি ...

সিকি তো লড়াই করছেই। হাজার কথার থেকে দামী একটা ভোট, জোঁকের মুখে নুন। সাবাশ সিকি। আপনারা সবাই ভোট দিন।
Avatar: খ

Re: এই সব আর কি ...

ইয়েস।
Avatar: দ

Re: এই সব আর কি ...

এই সুমন বা শমীকের লেখা পড়তে পড়তে মনে হল এরা বোধহয় নিজেদের সার্কলের বাইরে খুব বেশী মেলামেশা করে না। সবাই ভক্ত সবাই ডিসেন্টের নামেই খিঁচিয়ে ওঠে -- এ কেমন অবিশ্বাস্য। আমার এখানে যেমন ভক্ত প্রচুর তেমনি বিরোধী, টিটকিরি দেওয়া পাবলিকও আছে। ইন ফ্যাক্ট অফিসেই আছে।
দিল্লি এন সি আর নিয়ে শ্রাবণী, রাজদীপ বা স্বাতী লিখলে মনে হয় একটু অন্য কিছুও পাওয়া যেত।

Avatar: hu

Re: এই সব আর কি ...

লাগে রহো সিকি
Avatar: PM

Re: এই সব আর কি ...

সিকির মানসিক সমস্যা বুঝ্তে পারি।

সামনে আশার কোনো আলো দেখতে না পাওয়াটাইবামপন্থী বোধ হয় এর জন্যে দায়ী । বামপন্থী প্রতিরোধ ছন্নছারা হয়ে যাওয়া বোধ হয় অরেকটা কারন
Avatar: pagla dashu

Re: এই সব আর কি ...

এই টা কি লিখলেন? রাজনীতি চিন্তা করতে শেখায়, খারাপ কি? মত জানানোর, তর্ক করার সাধীনতা, মানুষ এর অধিকার। ভাষা র প্রয়োজন ফুরায় নয়তো। জরুরি নয় সব কথা, সব প্রেক্ষিত আপনার ভালো লাগবে। আপনার পছন্দ সবার পছন্দ নাও হতে পারে। এই রকম সব টানা পড়েন এর সামাল দেওয়াই তো বেঁচে থাকার আনন্দ। কেউ যদি চিন্তা ভাবনা করে ঠিক করে ধর্মে র লড়াই তাই ভালো, সে তার সিদ্ধান্ত। কেউ যদি মনে করে অতি বাম এই মোক্ষ, তো বেশ তো। যারা মাঝামাঝি কোথাও একটা, তাও বেশ। এই মাঝামাঝি রাই যেদিক এ ঝোল সেদিক এ দৌড়োয়, তাতেও ক্ষতি কিছু দেখি না।

মানুষ এতো বোকা নয়, দুটো পোস্ট দেখে বদলে যাবে। ভোট দিয়েছেন, খুব ভালো করেছেন, কাজের কাজ করেছেন।

এই বার একটা টই খুলুন - কি মোটর সাইকেল পাহাড় এ বরফ এ নিয়ে যাবেন এর পর। এখন যেটা চালান, আর ওরকম জিনিসপত্র পিছন এ বেঁধে, আবার বেরোনো টা ঠিক হবে? নতুন কিনুন একটা। না কিনুন আলোচনা শুরু করুন, আমার পড়েই আনন্দ।

নমস্কার


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন