বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

স্বাস্থ্যলক্ষ্মীর ব্রতকথা

ডাঃ শর্মিষ্ঠা দাস

স্বাস্থ্যলক্ষ্মীর কথা

লক্ষীদেবী নারদেরে শুধালেন আজ।
কহ বঙ্গনারীদের কুশল সংবাদ।।
নারদ কহিল কী বলিব জননী।
রক্তাল্প শীর্ণকায় দেখি তো সকলি।।
কেহ কেহ অতি স্থূল জাঙ্কফুড খায়।
সুষম খাদ্যের কথা কে বোঝাবে তায়।।
লক্ষ্মীদেবী শুনি তাহা করিলেন রোষ।
নিজ স্বাস্থ্য অবহেলা এতো বড় দোষ।।
যাও মর্ত্যে নারীদের বুঝাইয়া বোলো।
সুস্বাস্থ্য থাকিলে হবে পূর্ণ কলা ষোলো।।
নারদ কহিলা মাগো ইদানিং দেখি।
ঘরে ঘরে ক্যানসার স্ত্রী রোগ এসব কী!
লক্ষ্মী কহেন এই কুস্বাস্থ্যের মূল।
অসুস্থ অভ্যাস আর শিক্ষাগুলি ভুল।।
আজ হইতে শুনে রাখো আমার আশয়।
ঋতুকথা নহে আর লজ্জার বিষয়।।
ঋতুকালে ‘বস্ত্রখণ্ড’ নাহি নিও কভু।
তব সুস্থতা লাগি দিয়াছেন প্রভু।।
‘স্যানিটারি ন্যাপকিন’ মূল্য নহে বেশি।
স্ত্রীরোগকে দূরে রাখে দৃঢ় থাকে পেশী।।
পেশী দৃঢ় থাকে যদি জানো কি তখন।
প্রতিরোধ করা যায় জরায়ু স্খলন।।
অপরিচ্ছন্ন বস্ত্রখণ্ড রোগ আনে শত।
শতরোগে জীর্ণ নারী কষ্ট পাবে কত।।
আরো বলি শরীরের পরিণতি হলে।
তবেই কন্যারে নিও বিবাহের স্থলে।।
বিবাহ করিবে যবে হবে অষ্টাদশী।
দু’বৎসর পতিসহ থাকো হাসিখুশি।।
সন্তান ধারণ নারী-ভাবিও তারপর।
তবে গর্ভের শিশু হবে সুস্থ সবল।।
দেহ তব পরিণত নহে যতক্ষণ।
সন্তানধারনে তাহা নহে গো সক্ষম।।
সুসন্তান খুশি আনে জেনো গো অপার।
তাগাতাবিজ নাহি পর দেখায়ো ডাক্তার।।
নানাজনে নানাকথা কবে নারী তবু।
পুত্র বা কন্যা না জানিতে চেয়ো কভু।।
যাহা হোক তাহা ভালো আনন্দ অবাধ।
ভ্রূণলিঙ্গ জানা জেনো গুরু অপরাধ।।
টিটেনাস সূঁই আর ভিটামিন বড়ি।
নিতে তুমি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেও তাড়াতাড়ি।।
রক্তপরীক্ষা যা যা বলেন ডাক্তার।
ঠিকঠাক করালে সুস্থ শিশু হয় তার।।
গুরুজন স্বজনেরে সুনজরে দেখো।
উপদেশে উপবাস তুমি কোরো নাকো।।
‘গ্রহণে ভোজন মানা’ মানিবার তরে।
গর্ভের শিশু জেনো থাকে অনাহারে।।
গর্ভকালে পুষ্টি নারী অতি প্রয়োজন।
একদিন নয় রোজ হোক সাধ ভক্ষণ।।
মনের সাধেতে তুমি লক্ষ্মীর পিতিম।
খাবে ফল তরকারি হরেক কিসিম।।
মাছ ডিম দুধ ছানা পাতে সাথে রেখো।
‘ক্ষুধা সওয়া’ অনাচার এও জানোনাকো।।
‘আগে পতি পরে নারী’ আহারের রীতি।
মহাভুল মহাভুল - জেনো এই নীতি।।
দোঁহে মিলি কর কাজ দোঁহেতে ভোজন।
পতিপত্নীর সুখে তুষ্ট লক্ষ্মী নারায়ণ।।
গৃহে কভু না হয় যেন সন্তান প্রসব।
প্রসবকালে হাসপাতালে যেও সবান্ধব।।
‘প্রসব পরে পরিচ্ছন্ন’ যে নারী মানে।
প্রসবজনিত রোগ নাহি ছোঁবে তারে।।
প্রথমঘন্টায় মাতৃস্তনে আসে যে দুধ।
অতি উপকারী শিশুর সারায় অসুখ।।
স্নানের লাগি নাহি যাও পুষ্করিণী।
স্ত্রীরোগ দূরে রবে ওগো নারায়ণী।।
লক্ষ্মী তুমি চিরকাল বুদ্ধিমতী নারী।
শিশুকে সব টিকা দিও তাড়াতাড়ি।।
মাতৃদুগ্ধ জেনো মা গো অমৃতসমান।
সন্তানে সদা মাতঃ করো স্তন্যদান।।
ছয় মাসে পা দেবে যবে সোনামণি।
দুগ্ধসাথে স্বল্প খাদ্য দিও গো তখনি।।
পাকা কলা ভাত সুজি ডাল আলু আর।
গাজর আপেল বীন সুপক্ক আহার।।
প্রথম সন্তান ও দ্বিতীয়তে ব্যবধান চাই।
গর্ভনিরোধক বড়ি খেয়ো গো সদাই।।
তৃতীয় সন্তান যেন কখনো না আসে।
দেখো তবে সংসার কত সুখে হাসে।।
স্তন ক্যান্সার নারীদের বড় বেশি হয়।
নিয়মিত পরীক্ষা করায়ো নিশ্চয়।।
নিজ স্বাস্থ্যে থাকো যদি সদা সচেতন।
তবেই করিতে পারো সবার যতন।।
শর্মিষ্ঠা দাস কহে শুনে নারীগণ।
এত বলি স্বাস্থ্য কথা হইল সমাপন।।

গুরুচণ্ডা৯ থেকে বইমেলা ২০১৯ এ প্রকাশিত 'লক্ষ্মীর পাঁচা৯' সংকলন থেকে।

986 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ কাব্যি  বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: Arpita

Re: স্বাস্থ্যলক্ষ্মীর ব্রতকথা

অসাধারণ।
Avatar: Mahua

Re: স্বাস্থ্যলক্ষ্মীর ব্রতকথা

ভারী সুন্দর। চমৎকার লাগলো। এইটে যদি সত্যি মেয়েদের কণ্ঠস্থ করানো যায় তবে একটা কাজের কাজ হবে।
Avatar: Ram Sankar

Re: স্বাস্থ্যলক্ষ্মীর ব্রতকথা

ভারি সুন্দর ব্রতকথা।+++++
Avatar: pi

Re: স্বাস্থ্যলক্ষ্মীর ব্রতকথা

আজ তো পড়লে এই ব্রতকথা পড়ব ঃঃ)


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন