বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বস্টনে বং-গেঃ পর্ব সাত

বর্ন ফ্রি

আগের পর্বের পর

বৃষ্টি বরসাত

 
নীলনবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে,
ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।
কালিমাখা মেঘে ওপারে আঁধার ঘনিয়েছে, দেখ চাহি রে,
ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।
 
আমি যেখানে এখন থাকি সেখানে আকাশ জুড়ে বর্ষা নেমেছে। না, এই মুহূর্তের লেখাটা বস্টনে বসে লিখছি না, লিখছি ভারতেরই এক প্রান্তে বসে। এখানে পাহাড় ঘিরে জমে উঠেছে কালো মেঘ, সময়ে সময়ে অঝোর ধারায় নেমে আসছে বৃষ্টিবিন্দু। কখনো কখনো মনে হচ্ছে, উফ এই বৃষ্টি কি আর থামবে না?
 
আমার মা, আর সব মায়ের মতই এই প্রায় চল্লিশ দামড়াকে মনে করে পাঁচ বছরের শিশু। তাই সারাক্ষণ চিন্তিত থাকে, এই বুঝি ঠাণ্ডা লেগে গেল, এই বুঝি ছেলেধরা ধরে নিয়ে গেল। তাই এই বৃষ্টি বাদলার দিনে আমি কাজকম্মো ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে বসে থাকলে মা সব থেকে খুশি, আর যাই হোক, ঠাণ্ডা তো আর লাগবে না। গৃহের মত নিরাপদ আশ্রয় আর কোথায়?
 
তবু ঘরের বাইরে বের হতে হয়। তারপর বদায়ুঁর অথবা কামদুনির মেয়েদের মত কেউ কেউ আর ঘরে ফেরে না। বৃষ্টিতে ডুবে যায় তাদের কবরস্থল। তবু স্কুলে যেতে হয়, আর তারপর ব্যাঙ্গালোরের ছোট্ট শিশুটির মত কেউ কেউ চরম বিস্ময়ে আবিস্কার করে, ইস্কুলও নিরাপদ নয়। আর এই সব কিছুর মাঝে আমাদের মা হাতে বিপদনাশিনীর লাল তাগা বেঁধে দিয়ে আশা করে, ঘরের ছেলেমেয়েরা অন্ততপক্ষে অক্ষতদেহে ঘরে ফিরে আসবে।
 
গাজার মায়েরা বোধহয় এই কথা ভাবেন না। কেননা তাঁরা জানেন, ঘরের লক্ষ্মণরেখাও তাঁদের চুন্নি মুন্নিগুলোকে বাঁচাতে পারবে না। যেকোনও সময় বৃষ্টির মত নেমে আসা মারণাস্ত্র তাদের ঘরকে ওই চুন্নু-মুন্নু সমেত নিশ্চিহ্ন করে দেবে। শুরু হওয়ার আগেই মুছে যাবে আরো একটা জীবন।
 
যখন এই লেখা লিখছি তখন গাজাতে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। খবরের কাগজের পাতা থেকে শুকনো রক্তের গন্ধ এসে লাগছে নাকে, টিভির স্ক্রিন থেকে রক্ত চুঁইয়ে নামছে মাটিতে। আর তার মাঝে বসে আমরা গরম সিঙ্গাড়ায় কামড় দিতে দিতে বোঝার চেষ্টা করছি, দোষটা কার বেশি, ইজরায়েলের না হামাসের। আর যেই বাচ্চাটা ঝলসে গেল, এক্কেবারে মরে গেল, তার কতটা দোষ ছিল? আহা, সে তো কোল্যাটারাল ড্যামেজ। আতঙ্কবাদের বিরূদ্ধে লড়তে গেলে কয়েকশ বাচ্চা তো মারা যাবেই। কেন, ইরাকে যায় নি? আফগানিস্থানে যায় নি? যেমন মাওবাদীদের শায়েস্তা করতে গেলে বিনায়ক সেনকে জেলে পুরতেই হবে, সোনি সুরির যৌনাঙ্গে ধারালো পাথর পুরে দিতেই হবে ওদের সবক শেখানোর জন্য, উন্নয়নের জন্য  উচ্ছেদ হতে হবে বনবাসীদের, শহরে আলো দেওয়ার জন্য ডুবিয়ে দিতে হবে গ্রাম কে গ্রাম, ঠিক তেমনি বিশ্বজুড়ে শান্তিকল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য শেষ করে দিতে হবে পরবর্তী প্যালেস্তাইনি প্রজন্ম, হত্যা করতে হবে উত্তরকালের গর্ভস্থ পরীক্ষিতকে।
 
তাই গাজার আকাশজুড়ে এখন বর্ষা নেমেছে। মিসাইলের বর্ষা ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসছে ভাবীকালকে লক্ষ্য করে। বর্তমানের ভূমি সিঞ্চিত হচ্ছে ভবিষ্যতের রক্তে। কালিমাখা মেঘে ওপারে আঁধার ঘনায়েছে দেখ চাহি রে।
 
এই অনিয়মিত ক্যুইর কলামের সাথে গাজার কী সম্পর্ক? সম্পর্ক মৃত্যুতে, সম্পর্ক হত্যায়, সম্পর্ক নিরাপত্তাহীনতায় আর সম্পর্ক অনিয়ন্ত্রিত ঘৃণায়। সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাসহীনতায়। সম্পর্ক দমন ও পীড়নকেই একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নেওয়ায়। সম্পর্ক কখনও পররাষ্ট্র, কখনও স্বরাষ্ট্র নামক সর্বশক্তিমানের আঘাত থেকে সন্তানকে বাঁচানোর জন্য টেনে রাখা ফলহীন লক্ষ্মণরেখায়। সম্পর্ক ভবিষ্যত প্রজন্মের সুরক্ষাকামনায়।
 
মেরে লালা, আজ না যাইয়ো, যমুনার পার।
অধীর বিজুরিয়া, গগন ঝম্পিয়া
দশদিশ হইল আন্ধার।
মেরে লালা, আজ না যাইয়ো, যমুনার পার।

 



262 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ অন্য যৌনতা 
শেয়ার করুন


Avatar: dc

Re: বস্টনে বং-গেঃ পর্ব সাত

গাজার আকাশে বর্ষা নেমেছে ইজরাইলি মিসাইলের, আর ইজরায়েলের আকাশে বর্ষা নেমেছে হামাসের মিসাইলের। বর্ষা দুদিকেই, রক্তও দুদিকেই।
Avatar: সে

Re: বস্টনে বং-গেঃ পর্ব সাত

"এই অনিয়মিত ক্যুইর কলামের সাথে গাজার কী সম্পর্ক? সম্পর্ক মৃত্যুতে, সম্পর্ক হত্যায়, সম্পর্ক নিরাপত্তাহীনতায় আর সম্পর্ক অনিয়ন্ত্রিত ঘৃণায়। সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাসহীনতায়। " --ঠিক ঠিক ঠিক।

Avatar: kihim

Re: বস্টনে বং-গেঃ পর্ব সাত

lekhaaTaa bhaalo, aage o pare kabitaar bJabahaar du:kha dila. maanushher praaN sa`MkaTe takhano ki aamaraa kaabJ naa kare nijeder baktabJa pesh karate paari naa? ei marmaantik hatJaaleelaar samayeo ki kabitaa ke chhuTi deyaa Jaay na!
Avatar: kihim

Re: বস্টনে বং-গেঃ পর্ব সাত

লেখাটা ভালো, আগে ও পরে কবিতার ব্যবহার দুঃখ দিল। মানুষের প্রাণ সঙ্কটে তখনো কি আমরা কাব্য না করে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে পারি না? এই মর্মান্তিক হত্যালীলার সময়েও কি কবিতা কে ছুটি দেয়া যায় ন!

*আগের লেখাটা হঠাৎ ভোল পাল্টে ইংরেজি হয়ে গেল, তাই আবার পোস্ট করতে হল - দুঃখিত।
Avatar: kaushik

Re: বস্টনে বং-গেঃ পর্ব সাত

আগে কখনো বলা হয়নি - দারুন লেখা। চালিয়ে যান।
Avatar: s

Re: বস্টনে বং-গেঃ পর্ব সাত

পরের পর্ব কই?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন