বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

মুকুল সিনহা

১৫ই জুন ২০০৪ সালের এক ভোরবেলা আমেদাবাদের রাস্তায় এনকাউন্টারে খুন হায় চার যুবক যুবতী। জীশান, আহমেদ, জাভেদ আর ইশরাত জাহান। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানায়, তারা সন্ত্রাসবাদী। নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে তারা আমেদাবাদে এসেছিল।

মূলত ইশরাতের মায়ের চাপে, অনেক পরে সিবিআই এই এনকাউন্টারের তদন্তভার হাতে নেয়। উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আমরা একটু দেখে নিই ঘটনাগুলো।

১৫ জুন, ২০০৪এর এক ভোরবেলা জীশান, আহমেদ, জাভেদ আর ইশরাত নামে চারজনকে খুন করার দায়ে অভিযুক্ত ৮ জন গুজরাত পুলিশের কর্মচারীর বিরুদ্ধে চার্জ তৈরি করার জন্য সিবিআই ১৭৯ জন সাক্ষীর তালিকা বানিয়েছিল। এই ৮ জন পুলিশ হলেন, অতিরিক্ত ডিজিপি - পি পি পান্ডে (নিখোঁজ), ডিআইজি - ডি জি বানজারা, এসপি - জি এল সিঙ্ঘল, ডেপুটি এস পি - এন কে আমিন, ডেপুটি এসপি - টি এ বারোত, কম্যান্ডো অনুজ চৌধরি, এবং অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি এসপি - জে জি পারমার। এই ৮ জনের মধ্যে পান্ডে এবং বানজারা বাদে বাকি সকলেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। গুজরাত পুলিশের ফাইল করা মূল এফআইআরে এই আটজনেরই নাম ছিল যাঁরা গুলি করে মেরেছেন ঐ ৪ "সন্ত্রাসবাদী"কে। পান্ডে আর বানজারার নামও ছিল।

এখন, প্রশ্ন উঠতেই পারে, এফআইআরে যদি নাম আছেই, তা হলে আর তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্য সিবিআইকে ১৭৯জন সাক্ষীর ব্যবস্থা কেন করতে হল! সিবিআইয়ের বর্তমান চার্জশীটে এই এনকাউন্টারকে আইবি আর গুজরাত পুলিশের যৌথ অপারেশন বলে বিবৃত করা হয়েছে, এবং এতে রাজিন্দর কুমার সমেত চারজন আইবি অফিসারের নামও দেওয়া রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবেই কোনও আইবি অফিসারকেই হত্যার ষড়যন্ত্র, অপহরণ ইত্যাদি সম্ভাব্য কোনও ধারাতেই অভিযুক্ত করা হয় নি। এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডটি ঘটাবার পেছনে এতগুলো পুলিশ অফিসার এবং আইবি অফিসারদের আসল উদ্দেশ্য, বা মোটিভ কী ছিল, এই সম্বন্ধে কোনও কথাই বলা হয় নি। এটাও ব্যাখ্যা করা হয় নি কেন এই চারজনকে তিনটে আলাদা আলাদা জায়গা থেকে তুলে আনা হল আর কেনই বা তাদের আমেদাবাদের একটা রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে মেরে ফেলা হল। চার্জশীটে যা লেখা আছে, তার থেকে অনেক বেশি কিছু লেখা নেই।

এই রহস্যের জট খুলতে গেলে, ৯ই জুলাই ২০১৩তে আহমেদাবাদে গোপীনাথন পিল্লাইয়ের বক্তব্যে গুরুত্ব দিতে হবে। অসংখ্য সাংবাদিকদের সামনে গোপীনাথন ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে যা জানান, তা হল, ২০০৪এর ৯ই জুন, জাভেদ খুন হবার ঠিক ছদিন আগে, তাঁকে ফোন করে জানায়, কিছু পুলিশ অফিসারের নির্দেশে সে আহমেদাবাদ যাচ্ছে। জাভেদের সাথে তাঁর শেষ কথোপকথন অনুযায়ী তিনি জানতে পারেন যে গুজরাতের কিছু প্রভাবশালী পুলিশ অফিসারের সাথে জাভেদের আলাপ হয়েছে যাঁরা জাভেদকে তার ব্যবসার কাজে সাহায্য করবেন। এই প্রভাবশালী পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে জাভেদের সম্পর্কের বিষয়টা জানা গেলে হয় তো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেত।

গুজরাত পুলিশের বানানো প্রথম রিপোর্ট যেটা পরীক্ষিতা গুর্জর বানিয়েছিলেন, তাতে স্পষ্ট লেখা আছে যে জাভেদ আর ইশরাত ইব্রাহিমপুর গেছিল এবং সেখানে তেসরা মে থেকে সতেরোই মে-র মধ্যে তারা অন্তত দুবার সালিম ওরফে আমজাদ আলির সাথে দেখা করেছিল। সেই রিপোর্টেই এটাও লেখা আছে যে ২৪শে মে পুণেতে জাভেদের বাড়িতে আমজাদ আলিকে দেখা যায় এবং একটা গাড়ির গ্যারেজেও দেখা যায়, যেখানে আমজাদ আলি একটা নীল ইন্ডিকা গাড়ি কিনছিল। ২৫ এবং ২৭শে মে-র মধ্যে ইশরাত আর জাভেদকে আহমেদাবাদে দেখা যায়, এটাও লেখা আছে সেই রিপোর্টে। এদিকে সিবিআইয়ের বর্তমান রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২৬শে মে ২০০৪এ আমেদাবাদে আমজাদ আলিকে অপহরণ করা হয়।  এখন, তারিখগুলো পরপর দেখলেই বোঝা যায় জাভেদ প্রথমে সালিমের সাথে পরিচিত হয় মে-র প্রথম সপ্তাহে, তারপরে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়, তারপরে সালিমকে তার পুণের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে ২৪শে মে। সম্ভবত এটা ঘটে সেই "প্রভাবশালী পুলিশ অফিসার"এর সাহায্যেই। ২৪শে মে জাভেদ গাড়ি কেনে এবং সেই গাড়িতে জাভেদ, ইশরাত এবং আমজাদ আমেদাবাদ যায়, যেখানে সেই "প্রভাবশালী পুলিশ অফিসার" আমজাদকে অপহরণ করে। অর্থাৎ, ২৬শে মে নাগাদ পুলিশের হাতে এমন দু জন এসে গেছিল, যাদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে সাজানো যায়, আইবি এই সন্ত্রাসবাদীর চরিত্রে সাজাবার জন্য মনোনীত করে জীশান আর আমজাদ আলিকে। জাভেদ কিছু না জেনেই আমজাদকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়, এর পরে ইশরাত আর জাভেদ য়ামেদাবাদ থেকে চলে আসে, এবং সেখান থেকে জাভেদ তার স্ত্রী ও তিন সন্তান সমেত গাড়ি করে সোজা কেরালার বাড়িতে চলে আসে।

এর পর নিউ চ্যানেলের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, জাভেদ যখন কর্ণাটকের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল, তখন, ৬ই জুন ২০০৪ রাত ১১:০৮ নাগাদ তার মোবাইলে একটা ফোন আসে গান্ধীনগরের কোনও এক ফোন বুথ থেকে। আরও জানা যায়, সেই একই ফোন বুথ থেকে ১১:১৪ আর ১১:২৮ নাগাদ দুটি ফোন যায় রাজিন্দার কুমারের কাছে, যিনি ছিলেন তৎকালীন এসআইবি চিফ।

এর পরে, গোপীনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, ৯ তারিখ সকালে তাঁর কাছে জাভেদের ফোন আসে, কোনও একজন বড়মাপের পুলিশ অফিসার তাকে আমেদাবাদে ফিরতে নির্দেশ দিয়েছেন। সন্দেহের কোনও অবকাশই থাকে না ৬ তারিখ রাতে জাভেদের কাছে ফোনে কী নির্দেশ গিয়েছিল। সেই ফোনের আগে পরে রাজিন্দার কুমারকে করা দুটি ফোন কল থেকে এটাও বোঝা যায় কার নির্দেশে জাভেদকে এই কল করা হয়েছিল এবং কল করার পর কাকে কনফার্মেশন দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করে নেওয়া যায় ইনিই সেই বড় পুলিশ অফিসার, জাভেদ যার কথা বলেছিল।

ইশরাতের মা শামীমা কওসরের বয়ান অনুযায়ী, ইশরাত ১১ তারিখ ভোরবেলায় তাদের মুম্ভরার বাড়ি থেকে চলে যায় এবং নাসিক থেকে ফোন করে। শাজিদা, জাভেদের স্ত্রীও জানান যে ১১ তারিখ সকাল ১০টা নাগাদ জাভেদ খুব তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যায় এবং নাসিকে ইশরাতের সঙ্গে দেখা করে। নাসিক আমেদাবাদ যাবার রাস্তাতেই পড়ে। রিপোর্ট থেকে বোঝা যায় নাসিক থেকেই তারা নজরবন্দী হয়ে গেছিল। চার্জশীটে লেখা আছে যে তরুণ বারোট, এন কে আমিন এবং অন্যান্য আইবি অফিসাররা আনন্দের কাছে ভাসাড নামক জায়গা থেকে তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে আমেদাবাদের খোদিয়ার ফার্মে নিয়ে গিয়ে রাখে।

পুলিশ কেন জাভেদ আর ইশরাতকে আবার নিয়ে এল, তাদের যখন ছেড়েই দিয়েছিল ২৭শে মে-তে? জানা যায় যে মে-র প্রথম সপ্তাহেই জীশান আর আমজাদকে এনকাউন্টার করে মেরে ফেলার প্ল্যান ছকে ফেলা হয়েছিল। আমজাদ ২৬শে মে পুলিশের হাতে আসে, জীশান এপ্রিলের শেষ থেকেই পুলিশের কাছে ছিল। এর পর তা হলে প্রশ্ন আসে, জাভেদ আর ইশরাতকে নিয়ে কী করা হবে, যারা নিজেদের অজ্ঞাতসারেই আমজাদকে পুলিশের হাতে মরবার জন্য তুলে দিয়েছিল? তারা তো সাক্ষী থেকে গেল! অতএব, তাদেরও মেরে ফেলা দরকার। অতএব, গান্ধীনগরের ফোন বুথ থেকে তাদের ফোন করে আবার আমেদাবাদে ডেকে আনার একটা সূত্র পাওয়া যায়।

ইশরাত জাহান এনকাউন্টার কেসে গুজরাত পুলিশের করা এফআইআরের বয়ান অনুযায়ী, জঙ্গীরা যে ইন্ডিকা গাড়িতে করে যাচ্ছিল, তাতে বিস্ফোরক পাওয়া গেছে, যা নাকি তারা নরেন্দ্র মোদীর ওপর আত্মঘাতী হামলা করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। এই "বিস্ফোরক" পরে ফরেনসিক টিম পরীক্ষা করে দেখে এবং এতে কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া যায় নি।

গুজরাত হাইকোর্টে পেশ করা এসআইটির এফআইআরের অংশ নিচে তুলে দেওয়া গেলঃ (নম্বর DCB PS I CR No. 8 of 2004)

প্যারা 8.5: গাড়ি থেকে একটা ১৭ কেজি ওজনের হলুদ পাউডার সমেত বন্দুকের ব্যাগ পাওয়া গেছে। গান্ধীনগরের ডিরেক্টরেট ফরেনসিক সায়েন্স এবং ভদোদরার ডেপুটি চিফ কন্ট্রোলার অফ এক্সপ্লোসিভস সেটির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেন এবং জানান যে হলুদ রঙের সেই কেমিকাল মিশ্রণটি কোনওমতেই বিস্ফোরক ছিল না।

গুজরাত পুলিশ, এমনকি, সঠিক বিস্ফোরকও রাখতে পারে নি ফেক এনকাউন্টারের জায়গায়। মজার ব্যাপার হল, তিরিশখানা শুকনো নারকোলও পাওয়া যায় গাড়ির ছাদ থেকে যেগুলোকে বোমা বলে চালানোর চেষ্টা করে পুলিশ। পরে জানা যায় নারকোলগুলি জাভেদের বাবা তাঁর কেরালার বাড়ি থেকে পাঠিয়েছিলেন, নাতিকে উপহার দেবার জন্য।

 

সম্পাদনা ও অনুবাদ - শমীক মুখোপাধ্যায়

(আগামী পর্বে সমাপ্য)



878 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 22 -- 41
Avatar: bb

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

তাতিন - কেউ সেটা অস্বীকার করে না। কিন্তু হেড্লী বা স্বাধ্ভী ঋতম্বরাকে নিয়ে বামেদের একলাইন ও লিখতে দেখি না ।
সংখ্যালঘুদের নিরপত্তার দায়িত্ব সংখ্যাগুরুদের এইটা যদি মুদ্রার একপিঠ হয় তবে অন্যপিঠ হচ্ছে সংখ্যালঘুদেরও কিছু দায়িত্ব আছে।
আপনি সৌদি আরবিয়া বা নেদারল্যান্ডে গিয়ে ঐদেশীয় সরকারের নিয়ম মানতে বাধ্য থাকেন।
অনেকে আমেরিকার সিটিজেনসিপ নিতে গিয়ে কমুনিজিমের প্রশ্নে না লিখে আসেন, যদিও দেশে তার নকশাল ছিলেন, কিন্তু তখন তাদের নিয়ম মানতে দেখা যায় না। তারাই আবার
সরকারকে সত্যের পথে চলার জ্ঞান দেয়
Avatar: Rivu

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

আরে দাদা এর মধ্যে হঠাত বাটলা হাউস এলো কদ্দিয়ে? কথা তো হচ্ছে ইশরাত কে নিয়ে।
Avatar: D

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

বিপের সঙ্গে একটা ব্যাপারে একমত - হিন্দু বা ইসলামিক জঙ্গী দলগুলির ইন্টেলেকচুয়াল সেল আছে, আর তারা ইন্টার্নেটে অত্যন্ত সক্রিয়।যেকোন ঘটনা ঘটার পর এদের কাজ হলো নানারকমভাবে প্রমাণ করা যে হিন্দু বা ইসলামিক সন্ত্রাস বলে কিছু হয়্না, সবটাই সরকারের সাজানো।ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ঘটনা আসলে আমেরিকান সরকারই ঘটিয়েছে, এর স্বপক্ষএ এরা ভূরি ভূরি প্রমাণ হাজির করে, আবার গোধরা কান্ডে মোদীকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আরেসেস নিরন্তর প্রচেস্টা চালাচ্ছে। তাছাড়া রাজনীতির চাল তো আছেই। বাট্লা কান্ডে দিগ্বিজয় মুখ পুড়িয়েছে, কিছুদিন পর ইস্রাত জাহান কান্ডেও যদি কংগ্রেসের নাম বেরিয়ে আসে তো অবাক হবোনা।
Avatar: Sk Younus

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

Bah.,.., Mukul Sinhar sob blog guloi pora ache.,,.., tarpor banglai pore bes valo laglo .,.,. thanx a lot .,
Avatar: ques

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

চারজোনের মধ্যে দুজোন, ইশরাত, জভেদ, পরিবার, ঠিকানা ইত্যাদি পাওয়া জাচ্ছে, বাকি দুজোন, জিশান এবো~ন আহমেদ কোথাকার, এদের বাডির লোক্জন কোনো নিখোজ ডায়রি ইত্যদি কোরোচে কি, কয়েক দিন আগে সিবিআই এজোন্যো পেপারে বিগ্যপন দিয়েচে,
এরা কোথাকার কি পরিচয় এখোনো কিচু জানা আছে?
Avatar: উৎসব

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

'উকি বলছে এফ বি আই বলছে-রেফারেন্স ও আছে। দেখে নাও

http://en.wikipedia.org/wiki/Death_of_Ishrat_Jahan '

ওই উইকি লিঙ্ক থেকে - ' In 2010, some media outlets reported that the convicted terrorist David Headley had implicated Ishrat in terrorist activities in a statement given to the National Investigation Agency (NIA).[8] However, the NIA called these reports as "baseless",[9] and the CBI suspects that this input was fabricated by the IPS officer Rajendra Kumar, who is a suspect in the fake encounter case.[10] '
......
'The news channel also produced the letter of IB chief to CBI director, in which he said that David Headley also revealed that Ishrat Jahan was an LeT operative. However, Headley's confession to the FBI had already been dismissed as hearsay by the NIA [50][51]'

বিপ্লব, লিঙ্কের কন্টেন্ট না পড়ে লিঙ্ক পোস্ট করবার অরকুটের সেই পুরনো অভ্যেস আপনার এখনো যায়নি দেখছি। আর নাহলে আপনি সত্যি ভবিষ্যৎ মানবসভ্যতার দার্শনিক, নিজের বক্তব্যের বিপক্ষে নিজেই তথ্য দিয়ে আমাদেরকে ডায়ালেকটিক্স শেখাচ্ছেন।
Avatar: আবার!

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি!

পুলিশ ইয়াসিন ভটকল নামে একজনকে ধরেছে বলছে, কিন্তু আসলে সে অন্য লোক! মহম্ম্দ আমেদ নামের এক্জনকে ধরে তাকে ইয়াসিন ভটকল নামে চালিয়ে দেবার চেষ্টা! এই দেখুনঃ

http://www.ndtv.com/article/india/yasin-bhatkal-this-isn-t-him-says-hi
s-lawyer-in-delhi-court-412368?pfrom=home-lateststories


তাছাড়া লোকটি যদি ইয়াসিন ভটকল হয়ও, তাতেই বা কি? ওনার নামে অভিযোগের কোন ভিত্তি আছে কি? সমাজবাদি পার্টির নেতা কামাল ফারুকি আসল তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন! ইয়াসিনের গ্রেপ্তার অপরাধের ভিত্তিতে, না ধর্মের ভিত্তিতে, সেই প্রশ্ন তুলেছেনঃ

http://timesofindia.indiatimes.com/india/Probe-if-Yasin-Bhatkals-arres
t-is-based-on-crime-or-religion-SP-leader-Kamaal-Farooqi-says/articles
how/22163620.cms


কিছুদিন বাদে যদি শুনি ইয়াসিনকেও এনকাউন্টার করে দেওয়া হয়েছে, বা আফ্জলের মতো এক সকালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাহলে অবাক হবোনা! ছি ছি!
Avatar: শ্রী সদা

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

বাঃ চোথা কমন পড়ে গেছে দেখছি।

Avatar: উপকারিতা

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

চোথা কমনই হোক বা আনকমন, ঘ্টনার গুরুত্ব অস্বীকার করবেন না স্যর!

পুলিশ যে একটি বিশেষ ধর্মের মতাবলম্বীদের ধরপাকড় করে, এনকাউন্টার করে, ফাঁসি দেয়, সেতো গুরুর নানান টইতেই বলা হয়েছে! তাছাড়া কেসটা যে সাজানো, তা তো বিহার পুলিশের আচরণ দেখলেই বোঝা যায়! ওরা জানে গন্ডগোল আছে, তাই নিজেরা কিছু করেনি। কিছুদিন পরে দেখবেন, কোন সাংবাদিক আসল তথ্য ঠিক খুঁজে বার করবে!

আর ওদিকে দেখুন, আশারামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অথ্চ দিব্যি উল্টোপাল্টা কথা বলে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে! চোথার কি উপকারিতা দেখেছেন?
Avatar: শ্রী সদা

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

আচ্ছা সন্ত্রাসবাদী বলে আদৌ কিসু হয় কি ? এখন মনে হচ্ছে পুরোটাই সরকারী প্রোপাগান্ডা।
তবে আশারাম বাপু টাইপ লুজ ক্যারেকটার ভন্ড সাধু আর একজন ইন্টারন্যাশনাল টেররিস্ট (ইয়ে, মানে সরকারী মতে) যে একই গোত্রের ক্রিমিন্যাল সেটা জেনে পোবোল আনন্দ পেলাম।

Avatar: ধামাচাপা

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

স্যর কি আশারাম টাইপের লুজ ক্যারেকটার ভন্ড সাধুর অপরাধ লঘু করে দেখাতে চাইছেন? লোকটার বিরুদ্ধে কিন্তু আগেও অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু পুলিশ ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে! এই টাইপের লোক্গুলো লাখ লাখ লোকের মগজ ধোলাই করছে, নিজের ব্যব্সা বাড়াচ্ছে, সেটা কিছু না স্যর?

আর ওদিকে সরকার প্রোপাগান্ডা করে এক্দ্ল লোককে 'টেররিষ্ট' নাম দেবে, বোমা ফাটানোর মিথ্যে অভিযোগ আনবে, তার বিরুদ্ধে বলা যাবেনা?
Avatar: কীর্তিমান

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

আশারামের কীর্তি!

http://ibnlive.in.com/news/sexual-assault-murder-land-grab-charges-on-
asaram-over-the-years/418325-3.html


মহম্ম্দ আমেদের বিরুদ্ধে এরকম একটাও অভিযোগ আনা গেছে?
Avatar: সিকি

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

আজকের হিন্দুস্তান টাইমসের পেপার থেকেঃ সিবিআইয়ের ফাইনাল রায়।

Ishrat was just an employee, had no terror links: CBI

The agency is likely to include this finding in its supplementary charge sheet —focusing on the conspiracy angle of the case — that is ready and awaiting CBI director Ranjit Sinha’s sanction.

The CBI has already stated in its first charge sheet in July that Ishrat, a 19-year-old college girl from Mumbai, and Javed were killed along with two others — Jeeshan Johar and Amjad Ali Rana — in a fake encounter in Ahmedabad on June 15, 2004.

The Gujarat Police had then alleged that Johar and Rana were Pakistanis who had come to India to kill chief minister Narendra Modi, and that Javed and Ishrat were their Indian associates.

“About Jeeshan Johar and Amjad Ali Rana, the CBI is still not sure about their nationalities or their linkages with the Lashkar-e-Taiba,” said the source.

Avatar: π

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

Avatar: জিগীষা

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

বেশ লাগল। দরকারি লেখা, পরেরটা তাড়াতাড়ি আসুক :)
Avatar: সিকি

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

Avatar: LT

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

Avatar: pi

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

এই লেখাগুলো আবার পড়ছিলাম। মুকুল সিনহা আর নেই। কিন্তু যে কাজগুলো করে গেছেন, তার জন্য কোন প্রশংসাই কম। আর অপূরণীয় ক্ষতিও হয়ে গেল, এই ইশ্যুগুলো নিয়ে আর এভাবে নাড়াচাড়া করা হবে কি ?
Avatar: deposition

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

Avatar: হ্যাঁ

Re: ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

ইশরাত জাহানকে নিয়ে এই লেখাদুটো বঙ্গানুবাদ করে গুরুর পাতায় দেওয়া হয়েছিল, আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে। এর পরের পর্বটা বেরোবার সময় হয়ে এসেছে। একটা দিন সময় দিন - এর তৃতীয় পর্ব ঠিক আসবে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 22 -- 41


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন