বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

তিরিশ বছর পর নেলী

দেবর্ষি দাস

আসামে যা ঘটে গেল তা আমাদের কাছে কেমন এক হঠাৎ হিংসার মতো চমক নিয়ে এলো। আদতে শুধু আসাম নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত সম্পর্কেই দেশের বাকি অংশ বড়ো কম জানে, জানতে চায়। সাম্প্রতিক হিংসার প্রেক্ষাপটে অপার বাংলার  এই  অংশটি নিয়ে এবারের বুলবুলভাজায় রইল এক গুচ্ছ লেখা।

 


 

 

বহুদিন ধরে নেলীর সাথে বসবাস করছি। ঝাপসা মনে পড়ে আসাম ট্রিবিউনের প্রথম পাতায় ছাপা নেলীর সাদা কালো ছবি। তখনকার দিনের খবরের কাগজের ছবি যেরকম হত, কনট্রাস্ট বেশি, অস্পষ্ট। ছবির বিষয়বস্তু হল শীতের ধানখেতে সারি সারি লাশ।

সে ছিল ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। গোটা রাজ্য তিন বছরের বেশি ধরে বিক্ষোভ, বনধ, হত্যা, কার্ফিউয়ের ঘুর্ণীতে লাট খেয়ে যাচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধীর কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে ফেব্রুয়ারিতে একসাথে বিধানসভা আর লোকসভা নির্বাচন করতে হবে। অসমিয়া জাতীয়তাবাদী সংগঠণ আসু (All Assam Students’ Union), অসম গণসংগ্রাম পরিষদ (All Assam Gana Sangram Parishad) আসাম আন্দোলনে (১৯৭৯-১৯৮৫) নেতৃত্ব দিচ্ছিল, তারা ভোট বয়কটের ডাক দিল। কারণ ভোটার লিস্টে নাকি বহু অবৈধ বিদেশী নাগরিক রয়েছে। ইতিমধ্যে ১৯৮০ সালে একই বিবাদের ফলে আসামে লোকসভা নির্বাচন করানো যায় নি। ভারতের কোনো রাজ্যের পক্ষে এরকম প্রথম ঘটনা। ১৯৮৩-র ভোটকে অন্যান্য দলগুলো কিন্তু স্বাগত জানিয়েছিল, কিছু বাঙালি ও বোড়ো গোষ্ঠীও। ফেব্রুয়ারির আগেই রাজ্যজুড়ে সংঘাতের ঘটনা আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল। ফ্রেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে।


 
আসামের ট্রিবিউনের কথায় খবরের কাগজের কথা মনে পড়ল। খবরের কাগজ পাওয়া তখন রীতিমত ঝকমারির ব্যাপার। চার-পাঁচ দিনের কাগজ হয়তো এক লপ্তে শহরে এলো। কার্ফিউ চলত যখন লোকজন বিকেলের কার্ফিউ রিল্যাক্সেশনের সময় বেরুত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্তর চাল, ডাল, ডিম, দুধ কিনতে। আর তখন কাগজ নিয়ে আসত। খবরের আর বিশেষ উৎস ছিল না, রেডিও সিগন্যাল ভয়ানক বিচ্ছিরি, টিভি বিরল। কার্ফিউ রিল্যাক্সেশনের জিনিসপত্তর কেনা নিতান্ত সহজ ছিল না। কার্ফিউ আর বনধ সাধারনত একসাথে হয়; যখন রাজনৈতিক দল বনধ ডাকে ঝামেলার আশঙ্কায় প্রশাসন কার্ফিউ ঘোষণা করে দেয়। বনধের দিনে যদি দোকান খোলা রাখেন দোকানের সুরক্ষার গ্যারান্টি কেউ দেবে না। আমাদের চৌমাথার বাজারের দোকানদাররা মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছিল। দোকানের পাট নামিয়ে ভেতরে নিঃশব্দে বসে থাকত, গ্রাহক পাশের ছোট্ট দরজাতে টোকা দিলে সন্তর্পনে মাল বেচাকেনা চলত।